প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানের প্রস্তাব দিতে পেরে সন্তুষ্ট। খবর বাসসের।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালীন হোটেলে বৃহস্পতিবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চস্তরের পলিসি গোলটেবিলে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগনীতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অবকাশ, রয়্যালটির রেমিট্যান্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থাননীতি এবং পুরোপুরি প্রস্থানের সময় লভ্যাংশ ও মূলধন নিয়ে যাওয়ার সুবিধা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) এবং বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৬ লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য। তিনি বলেন, ‘তা ছাড়া, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এমনকি যদি প্রয়োজন হয়, আমরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের” প্রস্তাব করতে পারলে খুশি হব।’ তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার অভূতপূর্ব সম্ভাবনা প্রদান করেছে।
ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ৪০০ কোটি মানুষের সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হচ্ছে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হয়েছে। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবেশী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যাবে। আমরা ক্রমাগত আমাদের ভৌত, আইনি ও আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করছি এবং দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উভয়ই উন্নত করেছে, যেখানে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রুত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা যোগ করবে।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি মর্যাদা থেকে স্নাতক হতে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাস্কেট বাড়ানোর জন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।’
বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ায় এটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন গত বৃহস্পতিবার রাতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মত হন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বৈঠকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান। হুন সেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, আসিয়ানের সভাপতি দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
আইওএম মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) কার্যকর সুপারিশমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে। এসব দেশ মহামারি করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানা সমস্যা মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালীন হোটেলে আইওএম মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ভুক্তভোগীদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএমকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধীরে ধীরে মিয়ানমারের নতুন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার হোটেলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টে ভাষণ দেয়ার সময় বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকাজের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মিয়ানমারকে আসিয়ানের পাঁচ-দফা ঐকমত্যের অধীনে তার অঙ্গীকার মেনে চলার জন্য জোর দিয়ে মিয়ানমার যাতে বাধাহীন মানবিক অ্যাক্সেস দিতে সম্মত হয় সে জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ করেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ছবিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়’ বলে দাবি করেন সেই নেতা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খু'নি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘন্টাও লাগবেনা লন্ডনে পালাতে” ক্যাপশনে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত ভিডিয়োর কমেন্টে ওই ছবি শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ। এতে ইবির বৈবিছাআ'র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মুখে একটি মাদক সেবনের দ্রব্য, হাতে লাইটার ও কাগজ দেখা যায়।
ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন,‘খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি’
এনিয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Mehedi Hasan Hafiz, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/mdmehedihasan.hafiz/about থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, Shahin Alam, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/shahun.alam-375745/about থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Sabbir Khan, যাহার লিংক- https://www.facebook.com/Khansabbiro1/about থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, “২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।”
জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, “ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
কিশোরগঞ্জে দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে এক রঙমিস্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজার বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত নিহতের নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম মিয়া (৪০) কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রঙমিস্ত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিংকন হোসাইন (৩৫) একই এলাকার সুলতানের ছেলে এবং নিহতের সম্পর্কে ভাতিজা। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সামনে একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শামীম ও লিংকনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে শামীম ওই দোকানের ভাড়াটিয়া মো. রাকিব চৌধুরীর কাছে মালিকানা দাবি করে ভাড়া চান। পরে ভাড়াটিয়া বিষয়টি লিংকনকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে শামীমের ঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা শামীমকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারায়নগঞ্জে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। একই দিন দুপুরের দিকে ৩০০ ফিটের জলসিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-কলেজছাত্র রিফাত হাসান (১৯) ও সাব্বির আহমেদ (১৮)।
নিহত রিফাত হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেকেরকান্দী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এবং সাব্বির আহমেদ একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তারা স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের জলসিঁড়ি চত্বরে ঢাকাগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল ৬৮-৩৭৩৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর ঢাকাগামী প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো গ ১৬-০৬৩৬) পেছন থেকে ধাক্কা দিলে দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু রিফাত হাসান ও সাব্বির আহমেদ ছিটকে সড়কের উপর পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সর্বশেষ সন্ধ্যার দিকে রিফাত হাসান এবং রাত সোয়া ৭টার দিকে সাব্বির আহমেদ মারা যায়। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, এদিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে পড়ে শর্ট সার্কিটে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার মাছ মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার রায়পুরে অবস্থিত শৈবাল মৎস্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের একটি খুটি থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার ছিড়ে পানিতে পড়ে। এতে ২০-২৫ মন মাছ মরে যায়। মার্চ মাসের ১৯ তারিখে একই ঘটনায় প্রায় ২০০ মন মাছ মরে যায়। সবশেষ সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে তার ছিড়ে পড়লে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০মন মাছ মারা যায়। এসকল মাছের বাজার মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রজেক্টের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। পঁচা মাছে দুগন্ধ ছড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রজেক্টের বিভিন্নস্থানে রুই, কারফু, কাতল, গ্লাসকাপ, মৃগেল, সিলভার ও বিগেট প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। কিছু মাছ মরে পঁচে গেছে। কিছু আবার অর্ধমৃত অবস্থায় পরে আছে। আশেপাশে মরা মাছে দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। আর তার উপর দিয়ে চলেগেছে বিদ্যুতের লাইন। রয়েছে পুরাতন খুটি।
শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম বলেন, গভীররাতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়লে পুরো প্রজেক্টের মাছ লাফালাফি শুরু করে। পরে বিদ্যু অফিসকে জানালে লাইন অফ করে। এই ১৫-২০ মিনিট সময়ের মধ্যেই অনেক মাছ মরে গেছে। প্রজেক্টের চারিপাশে মাছ মরে ভেসে উঠছে ।
শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, এই নিয়ে তিনবার বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে আমার মাছের প্রজেক্টের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। বিদ্যুৎ অফিসকে জানালে তার লাগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫/৩০ বছরের পুরাতন তার ও জরাজীর্ণ খুটিগুলো পরিবর্তন করা হয়না। যার কারনে বার বার তার ছিড়ে পড়ে আর প্রজেক্টের মাছ মরে যায়। আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমার এই ক্ষতি পূরণ এখন কে দিবে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে লোক পাঠিয়েছি। এবং মেরামত করি। পুরাতন খুটি স্থানে নতুন খুটি বসানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, প্রজেক্টের উপর দিয়ে যাওয়া খুটির উপরে চিল, ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মাছ শিকার করার জন্য বসে। তখন দুটি তারের শর্ট সার্কিট ঘটে এবং একটি তার নিচে পড়ে যায়। তখনই মাছ মরে যায়। আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের টেকনিকেল টিম ঘটনাস্থলে আছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মেহেরপুরের গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ ভাঙচুর করা হয়েছে সখের ব্যাবহৃত মোটরসাইকেল ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে৷
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফজলু শাহ-র ছেলে জীবনের কাছে টাকা পায় ওই গ্রামের রবি৷
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে রবি তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে জীবনের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়৷
এসময় জীবন ও শীলন দুই ভাই রবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে৷ এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রবির পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে জীবনের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে পুলিশ৷
এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে৷ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মারামারির ঘটনায় আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে সামায়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার, কলেজ শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে পড়ে। সেটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘খাল ও নদী–নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি, যে কারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করব। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’
তিনি মনে করেন, খাল খনন কর্মসূচি এ অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ—যা যা প্রয়োজন, অবকাঠামোর সব ধরনের উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।
শনিবার বিকালে ফরিদপুর-২ আসনের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত সরকার উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসাব আমরা করি না। কে কোন দল করে, তা–ও আমরা দেখব না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত–নির্বিশেষে আমরা সবার জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাকে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলাগুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবশত কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।
সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন জনগণের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের ওপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নেব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, পুলিশ প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে থাকবে।
‘যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে, তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় নয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; সে যে দলেরই হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ার করে দেন শামা ওবায়েদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তিন বিভাগে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও ফেনী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ দেশের কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।
তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের সব কিছু এখন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। একটি জামদানি শাড়ি পাওয়ারলুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) আগে উৎপাদন খরচ হতো ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেটা ডিজেল চালিত জেনারেটরে খরচ বেড়ে চারগুণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শাড়ি তৈরিতে জ্বালানি খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে তাঁতশিল্পে হাহাকার শুরু হয়েছে। কথাগুলো এভাবেই হতাশার সুরে বলেছেন কয়েক যুগ ধরে তাঁত ব্যবসার সাথে যুক্ত খামারগ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ আফজাল হোসেন লাভলু।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে বেলকুচি উপজেলার জামান টেক্সটাইলের তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুম মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকরা বাহিরে বসে লুডু খেলছে। অনেকে মোবাইলে গান শুনছে, আবার কেউ অলস সময় কাটাচ্ছে।
শেরনগর গ্রামেন তাঁত শ্রমিক মহির উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে কাপড় তৈরি করতে পারছি না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কাজ না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেনা করে চলতে হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক সাজেদুল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ, ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না তাই মেশিন বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে লুডু খেলে সময় পার করছি।
এদিকে তাত মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও চাহিদামতো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের কাপড় উৎপাদন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই পেশা বদল করছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁত কল। কেউ কেউ ব্যাংক লোন নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁত কুঞ্জ ব্র্যান্ডিং জেলা সিরাজগঞ্জ। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল। তবে অব্যাহত লোডশেডিং ও জালানি সংকটসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত সমস্যার কারণে ইতোমধ্যে বহু তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে জ্বালানি খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার বসে থাকছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আলহাজ আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘বড় বড় তাঁত কারখানা মালিকরা চড়া দামে ডিজেল কিনে চারগুণ খরচ বৃদ্ধি করে কাপড় তৈরি করছে। বাজারে টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে প্রান্তিক তাঁতিরা, যাদের ৫-১০ তাঁত তারা বিপাকে পড়ে তাঁতকল বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫ লাখের মধ্যে জেনারেটর (ডিজেল চালিত) ও হস্তচালিত দুই লাখ বাদে বাকি তাঁতকল বন্ধ হবার পথে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত সকল সংকট ও সমস্যা নিরসন করতে হবে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।’
ঢাকায় ফেরার পথে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
নিখোঁজ হওয়া ওই কাস্টমস কর্মকর্তার নাম বুলেট বৈরাগী (৩৫)। নিহত বুলেট কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণের উদ্দেশে চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনও হদিস না পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার জিডি করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে হকারদের জন্য দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।
এছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
দেখতে নান্দনিক, মনোরম পরিবেশে, অনেকখানি জায়গাজুড়ে নির্মিত ভবনটিতে আলো, হাওয়ার খেলা সারাক্ষণ। এটি নির্মাণে সরকারের ব্যয়ও হয়েছে প্রচুর। সবে হস্তান্তর করা হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার। অথচ হস্তান্তরের আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিম্নমানের কাজ দেখে শুরুতেই অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় আছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস থেকে জানা যায়, বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহিতি অ্যান্ড জেডএইচডি (জেবি)। কাজটি করেন সুন্দরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বরে কাজ শুরু হয়ে এটি শেষে করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ১৯ জুন। সেই কাজ শেষ করা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয় চলতি মাসের ১৪ তারিখে। কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬২ টাকা।
সরেজমিন দেখা গেছে, সুদৃশ্য একটি তিনতলা ভবন। ওঠানামা করার জন্য সিঁড়ি আছে দুটি। একটি র্যাম্প, আরেকটি স্বাভাবিক সিঁড়ি। র্যাম্পটা নিচ থেকে একবারে বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা পর্যন্ত সংযুক্ত। সেই র্যাম্পে অসংখ্য ফাটল। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে র্যাম্পের মুখে তালা দিয়ে এতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ২৪৯ জন শিশুর পড়াশোনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বিল্ডিংয়ের পলেস্তারা ফেটে চৌচির। বিশাল ফাটল দেখা গেছে পানির টাংকিতেও। বিদ্যুতের লাইনগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বোর্ডে সুইচের স্থানগুলো ফাঁকা রয়েছে। অসাবধানতাবশত যে কেউ হাত দিলে বিদ্যুৎ শক খেতে পারে। আর এ ফাটলগুলো বিল্ডিং হস্তান্তরের আগেই দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটা কেবল বিদ্যালয় নয়। বন্যার সময় এ অঞ্চলের মানুষজন এর নিচ তলায় আশ্রয় নেবে। আশ্রয় নেবে গবাদিপশুও। বানভাসি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ আশ্রয়কেন্দ্রটি। কিন্তু এটাতে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের টাকাগুলো বানের জলে ভেসে যাবে।
তারা আরও জানান, শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজনদের এখানে আসতে তেমন একটা দেখেননি। সে কারণে অনিয়মের কথাগুলো ঠিকাদারের লোকজনকে বলেছিলেন। তারা উল্টো স্থানীয়দের ধমক দেন।
রামডাকুয়া গ্রামের মো. আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মো. রমজান আলী (৪৫) বলেন, ‘এই স্কুলে আমার ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমি তারে নিয়া র্যাম্প দিয়া ওপরে ওঠার সময় দেখি ফাটা। তারপরও ভয়ে ভয়ে ওপরে উঠি। এরপরে ওপরে উঠে দেখি তালা দেওয়া। পরে আবার নিচে নামি। পরে অন্য সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। পরে স্যারদের বললাম সিঁড়ির মুখ বন্ধ ক্যা। তখন তারা বলেন, সিঁড়িগুলোতে ফাটল দেখা দিছে। সে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিল্ডিংটা করার এখনো তিন মাস হয় নাই। তাতে যে ফাটল ধরইছে। তাতে মনে হয় আরও দিন গেইলে কী যে হউবে আল্লায় সেটা ভালো জানে। তবে এই স্কুলে ছেলেমেয়েরা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ জিউ হামার হাতোত থাকে। না জানি কখন কোনো বিপদ হয়। আরও বন্যা আইলে কী যে হইবে সেই টেনশনও মাথায় ঘুরপাক করে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তফসিরা চৌধুরী বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। আর অফিশিয়ালি বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয়েছে চলতি মাসের ১৪ তারিখে। তবে এ ভবনে ওঠার আগ থেকেই এ ফাটলগুলো ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে আমি একাধিকবার ইঞ্জিনিয়ার অফিসের তপন স্যার, মিলন স্যার এবং ঠিকাদারকে বলেছি। তারা শুধু বলেন আসবেন। কিন্তু আসেন না।
এ বিষয়ে কথা হয় বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল হয়েছে, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে কাজটা শুরু করার পরে কয়েকবার গিয়েছিলাম। তখন কাজে অনিয়ম দেখে এলজিইডি অফিসে কথাও বলেছিলাম। তারা কেন জানি গুরুত্ব দেননি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রিতমের সঙ্গে দেখা করা হলে তিনি এ নিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘এ ধরনের কাজে হেয়ার ক্রাক হয়ে থাকে অনেক সময়। কিউরিন খারাপ হলে এ ধরনের সমস্যা হয়। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারপরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সে রকম হলে আবারও ঠিক করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী অফিসে দেখা করতে বলে ফোন কেটে দেন। পরে অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের পরিচালিত অভিযানে এসব ট্রাক জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। তবে জব্দ করা ট্রাকগুলোতে কোনো বালু পাওয়া যায়নি।
এদিকে কমলগঞ্জের শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে বালুসহ একটি ট্রাক আটক করেছেন। ট্রাকটি উপজেলার সুনছড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছিল বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ট্রাকটি আটক করে বিষয়টি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।