বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রতিমা গড়ে জীবন পার

৮০ বছর বয়সেও সুনিপুণ দক্ষতায় প্রতিমা নির্মাণ করে চলেছেন মন্টু চন্দ্র পাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:১৬

১৫ বছর বয়সে প্রতিমা নির্মাণে হাতেখড়ি। তখন অবশ্য বাবা-দাদাকে সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ ছিল কাজ। বয়স ২০ বছর হলে নিজেই শুরু করেন প্রতিমা নির্মাণ। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে ৬০ বছর। শেরপুর সদরের বয়ড়া পরাণপুর পালপাড়ার মন্টুচন্দ্র পালের বয়স এখন ৮০। বংশপরম্পরায় কৈশোরে যে কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, বয়োবৃদ্ধ হয়েও যে কাজ ছেড়ে দেননি। অভিজ্ঞ আঙুলের কারুকাজে এখনো নিপুণ প্রতিমা নির্মাণ করে চলেছেন তিনি। তার হাতে নির্মিত দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশের প্রতিমা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে ভক্তদের কাছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে ফের ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন মন্টু চন্দ্র পাল। বয়ড়া পরাণপুর পালপাড়ার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, এই বয়সেও কাদামাটি দিয়ে একটু একটু করে নিপুণ হাতে গড়ে তুলছেন দেবী প্রতিমা। সেই কাজ করতে গিয়ে শরীরে ক্লান্তি এলেও মনের আনন্দ তাকে ভুলিয়ে দেয় সেই ক্লান্তি।

৬০ বছর ধরে নিজ হাতে পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর মন্টুচন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাপ-দাদারা সবাই প্রতিমা বানাতেন। তাদের হাত ধরেই প্রতিমা বানানো শুরু। মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে খুব আনন্দ পাই।’

মন্টুচন্দ্রের মতো তার ছেলেরাও বেছে নিয়েছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। একই কাজে সহায়তা করে থাকেন পুত্রবধূরাও। কিন্তু বর্তমান সময়ে খরচের সঙ্গে কুলিয়ে এই পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

মন্টু চন্দ্র বলেন, ‘এখন তো প্রতিমা তৈরিতে খরচ অনেক। কিন্তু প্রতিমার দাম তো আগের মতোই আছে। তাই লাভ খুব কম। এই লাভে প্রতিমা তৈরি করে কোনোভাবেই পোষায় না। তবে এ পেশা পূর্বপুরুষের পরম্পরার পেশা। তাই ছাড়তেও পারি না। এই বুড়ো বয়সে অন্য কিছু তো করতেও পারব না।’

প্রতিমা তৈরিতে শ্বশুরকে সহযোগিতা করছিলেন রেখা রানী পাল। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর ৬০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। শ্বশুরের মতো আমরাও সবাই এ কাজ করছি। সব জিনিসের দাম বেশি। তাই এখন পোষায় না। সরকার আমাদের কিছু সাহায্য করলে খুব ভালো হয়।’

কদিন পরই ‍শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবীদুর্গার আগমন ঘিরে তাই মন্টুচন্দ্র এবং তার ছেলে ও পুত্রবধূদের কাটছে ব্যস্ত সময়। একই চিত্র শেরপুরের অন্য কারিগরদেরও। তবে মন্টু চন্দ্রের মতো তাদেরও অভিযোগ, প্রতিমা তৈরি উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমার খরচ বাড়লেও তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

প্রতিমা কারিগর আদিত্য কুমার পাল বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে এ কাজ করছি। সব জিনিষের দাম বেশি। যে মজুরি পাই, এ টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এর আগে যে দামে প্রতিমা তৈরি করতাম, এখনো একই দামে করতে হচ্ছে। কিন্তু সব জিনিসের দাম তো বেড়ে গেছে। সেটা কেউ বোঝেন না।’

প্রতিমা কারিগরদের বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, কাদামাটি দিয়ে দুর্গাসহ কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতীর অবয়ব অনেকটাই তৈরি এখন। এখন শুরু হবে রঙের আঁচড় দেয়ার কাজ। তারপর অলংকরণের মাধ্যমে মণ্ডপে যাওয়ার প্রস্তুত হবে প্রতিমাগুলো।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য থেকে জানা যায়, এ বছর শেরপুর জেলায় ১৬৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে। এর মধ্যে শেরপুর সদরে ৭৭টি, নালিতাবাড়ীতে ৩৬টি, নকলায় ২১টি, ঝিনাইগাতীতে ১৯টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি মণ্ডপ রয়েছে। ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব।


নির্বাচিত

ফেনীতে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, তিন কর্মচারী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।

জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েলে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর টাকার অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কাউন্টারফয়েলে মূল অঙ্কই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে এ জালিয়াতি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্কও পরিবর্তন করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় যোগ দিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।

পরে সোমবার ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে এসআর দায়ের করা হয়েছে। বদলেজনিত কারণে আমাদের ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজগুলো রিকনসিলেশন করার সময় এটা ওনার চোখে পড়েছে। ঘটনাটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক, এটা হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা উচিত হয়নি।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘পদ্মা পাড়ের জীবনযুদ্ধ’ শীর্ষক মহড়া

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে 'পদ্মা পাড়ের জীবনযুদ্ধ' শীর্ষক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারী সংস্থা 'শরীয়তপুর ডেপলপমেন্ট সোসাইটি' (এসডিএস) নামের একটি এনজিও। উক্ত সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় মহড়া অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবনযাপন, সংগ্রাম, বন্যা পূর্বাভাস, দুর্যোগ মোকাবেলা ও সচেতনতা বাড়াতে এই আয়োজন বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল ঝুঁকি মোকাবেলা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে মহড়াটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন এসডিএস এর পরচালক ও শিবচর উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বৃদ্ধ- যুবক-তরুণ-কিশোরসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ মহড়াটি উপভোগ করেন। মহড়া থেকে অভিনয় করে দেখানো হয়- বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিভাবে খাদ্য- পানীয় সহ জীবন ধারণে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সংরক্ষণ ও রক্ষাণাবেক্ষণ করতে হয়।

এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, যোগাযোগ, ত্রাণ তৎপরতা, জরুরী সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সহ অন্যান্য বিষয়াদিও মহড়াটিতে তুলে ধরা হয়।


নির্বাচিত

টানা বৃষ্টিতে সাজেকে আটকা পড়েছেন ৫শ পর্যটক, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

বসবাসকারীদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে প্রায় ৫শ পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় বুধবার (৮ জুলাই) থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকের মাচালং এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। তবে রিসোর্টগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের প্রয়োজনীয় খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অপরদিকে, সাজেক সড়কের মাহিন্দ্রচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, দিঘীনালার কবাখালী, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, সাজেকের মাচালং, সীমানাছড়া ও দিঘীনালার কবাখালী এলাকায় সড়কের ওপর পানি ওঠায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে চারশ থেকে ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি নেমে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জনগণ ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

নতুন পানির আগমনে নৌকা মেরামতে ব্যস্ত জেলেরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

শুষ্ক মৌসুমের অবসান ঘটিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে বর্ষার নতুন পানি। আর এই নতুন পানির আগমনেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নদীকেন্দ্রিক জনপদে। উপজেলার আবেদের ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন ঘাটে এখন চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই নদীতে পানি পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরোনো নৌকা সংস্কার, আলকাতরা লাগানো ও রং করার কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঝি, জেলে ও কারিগরেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা হারানো পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে প্রায় আট মাস ধরে অলস পড়ে ছিল এসব নৌকা। কোথাও বালুচরে আটকে, আবার কোথাও কাত হয়ে পড়ে থাকা জীবিকার এই প্রধান বাহনগুলো এতদিনে ছিল অবহেলিত। তবে বর্ষার নতুন পানির ছোঁয়ায় আবারও জেগে উঠছে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।

আবেদের ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে রাখা নৌকাগুলোতে চলছে জোরেশোরে মেরামতের কাজ। কোথাও পচে যাওয়া কাঠ বদলে বসানো হচ্ছে নতুন পাটাতন, কোথাও আবার নৌকার তলা মজবুত করতে লাগানো হচ্ছে আলকাতরা ও নতুন রঙের প্রলেপ। হাতুড়ি, করাত আর পেরেকের ঠুকঠাক শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে যাত্রী পারাপার ও মাছ ধরার ধুম।

রাজশাহী থেকে আসা নৌকা মেরামতের কারিগর মাহাবুল বলেন, "প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে আমরা দৌলতপুরে এসে নৌকা মেরামতের কাজ করি। এ মৌসুমে ইতোমধ্যে ১০টি নৌকা মেরামত করেছি, আরও প্রায় ১০টির কাজ বাকি রয়েছে। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে আমরা কাজ করি।"

আরেক কারিগর ফজলু জানান, দীর্ঘদিন চরে পড়ে থাকায় অনেক নৌকার কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেই তাদের সংসার চলে।

নৌকার মালিক রাজন বলেন, "নদীতে পর্যাপ্ত পানি হলে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু হবে। আমরা বছরে মাত্র ৪ মাস নৌকা চালাতে পারি। বাকি সময় নাব্যতা সংকটের কারণে চর জেগে থাকে। এই ৪ মাসের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়।"

একই কথা জানালেন অপর নৌকার মালিক হোসেন মেম্বার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বর্ষায় এই নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে বছর শেষে যা আয় হয়, তার বড় অংশই আবার নৌকা মেরামতে চলে যায়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নদী খনন করে যেন স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বর্ষাকালের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। থানা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা বাজারে যেতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই নৌকা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।

পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি আসার এই মুহূর্তে মাঝিদের চোখে-মুখে এখন নতুন আশার আলো। নৌ চলাচল স্বাভাবিক হলে একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে সচল হবে মাঝি, জেলে ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা।


নির্বাচিত

এইচএসসি পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব‍্যবহারের অভিযোগে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী-নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকল করার অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরীক্ষার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে দেওেয়া হয়েছে অব্যাহতি।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এ ব্যবস্থা নেন।

জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নকলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পার গোয়াল গ্রাম কলেজের এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা বামন্দী-নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান এবং ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জেমিন আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

কেন্দ্র সচিব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুল আলম স্বপন বলেন,পরিক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব‍্যাবহারের অভিযোগ প্রমানিত হওয়াই এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও দুই শিক্ষককে অব‍্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ভালো দামে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সুস্বাদু ফল আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শে এবার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গাছে গাছে ফল ধরেছে রেকর্ড পরিমাণে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ের মুখেই ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

​​স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিত এই ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

​জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরা ঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ডুমুরিয়ায় প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এই ফলের বাগান গড়তে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

​​বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভোরেই ছুটে আসছেন এই হাটে।

​বাজারে ​ ১টি আঁশফল খুচরা ৩ থেকে ৪ টাকা। ​ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা (আকার ও ফলন ভেদে)।​ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরাসরি ফল কিনে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বড় বড় আড়তে।

​​উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,​‘ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে তা এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই প্রায় সব ফল নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাই খরচ একটু বেশি হলেও এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষিই পুরো গাছ নেট (জাল) দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার ব্যবস্থা করছেন।’

​​ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

​ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

​স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশি ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারদরের কারণে চলতি মৌসুমটিকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনক বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

হাওরে লাশবাহী ট্রলারে ডাকাতি: মোবাইল ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম, (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরে মিঠামইন উপজেলার একটি লাশবাহী ট্রলারে ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা থেকে মিঠামইন আসার পথে নয়াগাঁও সুইচগেট এলাকায় মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে মাইশা পরিবহন নামে ট্রলারে থাকা শোকসন্তপ্ত লোকজনকে জিম্মি করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারী, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। নৌকায় থাকা মৃত শিশুটি মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়ার সন্তান।

ভুক্তভোগী নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, আমি ঘটনার রাতে বালিখলা এলাকা থেকে একটি শিশুর মরদেহ নিয়ে স্বজনদের সাথে নৌকায় করে মিঠামইনের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। নৌকাটি নয়াগাঁও সুইচ গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে ৬/৭ জনের মুখোশধারী একটি সশস্ত্র ডাকাত দল আমাদের গতিরোধ করে। এরপর ডাকাতরা নৌকায় থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা সোলার প্যানেল, ব্যাটারী, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, আক্রান্ত নৌকাটি মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হলেও ঘটনাটি ঘটেছে করিমগঞ্জ থানা এলাকার সীমানায়।

অন্যদিকে, করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশবাহী নৌকায় একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, “এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।” এই লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

বিরূপ আবহাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, এনসিপি নেতার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরীর শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারে একটি বিকল ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফাইয়াজ তাজরিয়ান (২৫) নামের এক এনসিপি নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফাইয়াজ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাকিম উদ্দিনের পুত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র হতে জানা যায়, আখতারুজ্জামান (শহীদ ওয়াসিম) ফ্লাইওভারের ওপর একটি মালবাহী ট্রাক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। রাতে ফাইয়াজ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থির থাকা ওই ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য যে, ওই দিন সকালেও তিনি একটি দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় জানান যে, বৃষ্টির কারণে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ছিল এবং ফ্লাইওভারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বাতিগুলো তখন নেভানো ছিল। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি দেখতে না পাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অন্যদিকে, পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল জানান, ধারণা করা হচ্ছে বিকল ট্রাকটি মেরামতের কাজ চলছিল এবং দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি ট্রাকের পেছনের অংশে ঢুকে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


নির্বাচিত

দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই আশঙ্কার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার ভোর হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য প্রদান করা এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ-সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সার্বিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা হতে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সাথে উল্লিখিত বিভাগগুলোর কোনো কোনো স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


নির্বাচিত

প্রশাসনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের খোঁজে কাজ চলছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় নজরে এলে তাদের সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এই তথ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের সচেতনতা বাড়াতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর আরও ৮টি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিন সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের একটি বড় খতিয়ান তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এ ছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোর বিপরীতে কর্মরতদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।


নির্বাচিত

মন্ত্রিসভায় উঠছে পে স্কেল, বেতন বাড়তে পারে শতভাগ পর্যন্ত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো চলতি মাসেই মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে বলে জানা গেছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) এসংক্রান্ত কমিটির সভা থেকে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভায় বসবে। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ পরের সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠবে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদন মিললে গেজেট জারির পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন কাঠামো সেবিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছে ‌‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’।

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। সে কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন রাখার সুপারিশ আসতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকলেও তা কিছুটা সীমিত হতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ।


নির্বাচিত

পানির প্রবাহে সচল কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের  ৫ ইউনিট

উৎপাদন ১৪৪ মেগাওয়াট
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

টানা কয়েকদিনের বর্ষণে কাপ্তাই লেকে পানির বৃদ্ধির ফলে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে)-এর ৫টি ইউনিট মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা হতে একযোগে চালু করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কপাবিকে এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিতে উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল গত কয়েকদিন ধরে বাড়ছে, ফলে পানির উপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা হতে একসাথে চালু করা হয়েছে। এই ৫টি ইউনিট হতে ১ শত ৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তার মধ্যে ১ নং ও ২ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৩২ মেগাওয়াট করে ৬৪ মেগাওয়াট, ৩ নং ইউনিট এ ৩০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ২৫ মেগাওয়াট করে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিট এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২শত ৪০ মেগাওয়াট।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ৭৯.৮৬ ফুট মিন সি লেভেল। রুলকার্ভ অনুযায়ী এসময় পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট মিন সি লেভেল।

দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা আরোও জানান, লেকে পানির স্বলতায় বিগত কয়েক মাস ধরে কখনো ১টি বা ২টি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও গত সোমবার ৩টা ইউনিট এবং মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ৪টা ইউনিট এবং সন্ধ্যায় ৬টা হতে ৫টি ইউনিট চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই লেকে পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট মিন সি লেভেল।


নির্বাচিত

banner close