শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

ছবি: সংগৃহীত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ

জাকিয়া আহমেদ

ডেঙ্গু আবারও দেশজুড়ে ছড়িয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কেবল ছয় জেলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ঢাকায় এবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। মৃত্যুও বেশি। তবে এডিস মশাবাহিত এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছর এভাবে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু ছড়ায়। সেবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এবার অবশ্য প্রকোপ ততটা প্রবল না হলেও তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেশে নগরায়ণের হার বেড়েছে। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা, মশক নিধন কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক। সচেতনতার ঘাটতি তো আগে থেকেই আছে। ফলে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গুর মৌসুমও প্রলম্বিত হচ্ছে।

ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি, কক্সবাজারে মহামারি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন। কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২ জন।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হিসাব দিচ্ছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জানাচ্ছে। এটি স্পষ্ট হয় কক্সবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই দিন আগে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে একই ঘরে অনেক মানুষের বসবাস। তারা পানি জমিয়ে রাখে ঘরের ভেতরে। স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই নেই। এ জন্য এবার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এ রকম মহামারি যদি অন্যান্য জেলায়ও শুরু হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। কাজেই এমন বিপর্যয়ের আগেই তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের তৈরি করা উচিত।’

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সব পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলায় জেলায় নগরায়ণ হচ্ছে। সেখানে ভবনের পর ভবন হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে অটোরিকশার গাড়ির টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো পানি জমতে পারে এমন বর্জ্য। ঢাকায় ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকলেও জেলা শহর কিংবা উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে পানি জমছে, এডিস মশা ডিম পাড়ছে, বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিজ এলাকা গাইবান্ধা পৌরসভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পৌরসভায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। এ চিত্র শুধু এখানকার নয়, পুরো দেশের। তাই পুরো দেশের জন্য এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করা দরকার।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বেশি, সক্ষমতা বেশি। এখানে ডেঙ্গুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকরাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসব সুবিধা একেবারেই নেই। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সবকিছু। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে করোনা বা চিকুনগুনিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোনো জেলায় পাঁচজনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেখানে ডেঙ্গু স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটা ভয়ংকর আশঙ্কার। কেননা ঢাকার বাইরে মশক নিধন কর্মসূচি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। কক্সবাজারে এমনটাই লক্ষ করা যাচ্ছে।

কবিরুল বাশারের মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

আর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের পরামর্শ হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেমন শহর ও গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, সেভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।

সাভারে খেলা নিয়ে বিতর্কে শ্রমিক খুন

আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৭
প্রতিনিধি, সাভার

ঢাকার সাভারে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিতর্কের জেরে এক শ্রমিক খুন হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান (২৬) কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পৈলানপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। তিনি সাভারে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার খেলা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে একটি দোকানে কয়েকজন খেলা দেখছিলেন। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর কয়েকজনের তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এসময় দুইজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হলে একজন মারা যান।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন দলের সমর্থকদের বাকবিতণ্ডায় হাসান নামে একজন ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, স্থানীয়রা দুইজন আহতের কথা জানালেও আরেকজনের সম্পর্কে জানা যায়নি। নিহত হাসান কোন দলের সমর্থক সেটাও জানা যায়নি।

এসআই সুদীপ কুমার বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চলছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।


কক্সবাজারে গোলাগুলিতে দুই রোহিঙ্গা নিহত

প্রতীকী ছবি। দৈনি বাংলা
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:০০
প্রতিনিধি, কক্সবাজার

কক্সবাজারে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সঙ্গে গোলাগুলিতে দুইজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৬২ ও বি-৪৯ নম্বের ব্লকের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় সলিম উল্লাহ (৩৩) নামে একজন ও অজ্ঞাত আরেক রোহিঙ্গা নিহত হন। সলিম উল্লাহ বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-২৪ ব্লকের মোহাম্মদ নুর প্রকাশ ইউনুসের ছেলে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ক্যাম্প-৮ ইস্টের হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিককে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়ি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে ৮ এপিবিএনের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ওই সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে এপিবিএনও পাল্টা গুলি চালায়।’

ওসি বলেন, প্রায় ৭৩ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের পর ঘটনাস্থলে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরও একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালিয়ে গেছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি বিদেশী পিস্তলের ম্যাগজিন (১১ রাউন্ড গুলি ভর্তি) ও শর্টগানের চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়:

পথ আটকে পাহাড়ে চাঁদাবাজি, নিয়ন্ত্রণ নেই স্থানীয় প্রশাসনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শাহরিয়ার হাসান, খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে

গাছের গুঁড়িগুলো ট্রাকের ওঠানোর আগেই চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেছেন কাঠ ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন। এই কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাবেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এই পথটুকু পাড়ি দিতে প্রকাশ্যে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন একটি আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী গ্রুপকে। তাতে যে টোকেন মিলেছে, সেটি দেখিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ নির্দ্বিধায় পাড়ি দিতে পারবেন জয়নাল।

কিন্তু এই টাকা দেয়ার পর তার কত টাকা লাভ থাকবে? প্রশ্নের জবাবে জয়নালের সাফ উত্তর, এতটুকু হলেও চলত! কিন্তু এভাবে নিতে হয়েছে আরও তিনটি টোকেন। তাদেরও দিতে হয় ৮ হাজার, ৫ হাজার আর ৩ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে যা থাকে তাতে ব্যবসার করে সংসার চলে না।

বাংলাদেশ খাদ্য ও কাঠ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নেতারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ও বান্দরবান-খাগড়াছড়ি জেলা অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ফেডারেশনের ঠিকাদারদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। স্বেচ্ছায় চাঁদা না দেয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়িতে কাঠবাহী ট্রাক আটকে রেখে দুষ্কৃতকারীরা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না পেলে ভি-ইনভয়েস ছিনিয়ে নিয়ে চালককে মারধর এবং পণ্যবাহী ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যবসা করতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদা দিতে হয়। কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই প্রতিদিন চলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য। শহরের ছোট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ সবাই জানে কে বা কারা নিচ্ছে এসব টাকা। শুধু জানে না প্রশাসন। অবশ্য প্রশাসনের রয়েছে উল্টো যুক্তি। তারা বলছেন, সব জেনেও নিরুপায় তারা। পাহাড়ের গভীর অরণ্যে নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেসামাল। এখানে অনেক কিছু প্রশাসনিকের চেয়ে রাজনৈতিক। সবকিছু মিলে পাহাড়ের পরিবেশটি আমাদের কাছে অস্বস্তিকর।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নামে একটি আঞ্চলিক সংগঠন ছিল। সেটি ভেঙে তিনটি আঞ্চলিক সংগঠন জন্ম নেয়। এগুলো হলো জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। বর্তমানে এই চারটি সংগঠন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আছে। প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে এই চার সংগঠনের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নাম। সংগঠন চালাতে তারাই করে এসব চাঁদাবাজি। তাদের মধ্যে জেএসএসের চাঁদার পরিমাণটাই সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিন ঘুরে অভিযোগ পাওয়া যায়, পাহাড়ে উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদার, কাঠ-বাঁশ ব্যবসা, পরিবহন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, চাষাবাদ-ফসল, পোষা প্রাণী বিক্রি, চোরাকারবারি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা উৎস থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে আঞ্চলিক দলগুলো। যদিও এসব অভিযোগ স্বীকার করে না কোনো সংগঠনই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির (এম এন লারমা বা সংস্কার) গবেষণা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দিবাকর ত্রিপুরা বলছেন, ‘আমরা চাঁদা নিই না। তবে পার্টি পরিচালনা করতে কিছু সহযোগিতা নিয়ে থাকি। এটিকে আমরা চাঁদা বলি না। অন্যরা কে, কী করে, আমি তা বলতে পারি না।’

সন্ত্রাসীদের চাঁদার আওতায় সবাই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই একটি সূত্র বলছে, সংগঠনগুলো প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, এনজিওগুলোর কাজের ওপর ১০ শতাংশ, ঠিকাদারি কাজের ওপর ১২ শতাংশ, মোবাইল কোম্পানিগুলো থেকে বছরে ২ লাখ টাকা করে, প্রতি ইটের ভাটা থেকে বছরে ১ লাখ, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘনফুটে ৫০ টাকাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সংগঠনগুলো।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো চাঁদাবাজি করেই তাদের সংগঠন টিকিয়ে রাখে। এখানে অন্যতম একটি সমস্যা হলো কেউ অভিযোগ করেন না। এই অনিয়মকে তারা নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। ভাবেন চাঁদা দিয়ে টিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশ তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। যখন যেখানে অভিযোগ পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে।

বছরে চাঁদার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। স্থানীয় চারটি সশস্ত্র সংগঠন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। আগে মোট চাঁদার অর্ধেকের বেশি তারা সরাসরি সংগ্রহ করত। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চাঁদার অর্থ লেনদেন করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করাটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কথা বললেই প্রাণ হারানোর ভয় তাড়া করে চাঁদাবাজির শিকার পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মধ্যে। আর পাহাড়ে যত হত্যাকাণ্ডে হচ্ছে, তার পেছনের অন্যতম কারণ এই চাঁদাবাজি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, যেখানে ২৫ বছর আগে শান্তি আসার কথা ছিল, সেখানে শান্তি তো নেই বরং অশান্তি বেড়ে গেছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী আর বাঙালিদের। এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে চাইলে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে এক কিলোমিটার পরপর বিওপি স্থাপন করতে হবে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে অর্থই অনর্থের মূল। নানা উৎস থেকে চাঁদাবাজি করে অর্থের পাহাড় গড়তে মরিয়া আঞ্চলিক দলগুলো। তাই আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র মজুত করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা।


প্রত্যন্তে আলো ছড়াচ্ছে মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার

পাঠাগারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন উদ্যোক্তা আলমগীর কবির। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নওগাঁ

প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে গড়ে উঠেছে আধুনিক পাঠাগার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠাগারে টেবিল, শেলফ ও আলমারিতে থরে থরে সাজানো বই। চার হাজার বইয়ের পাশাপাশি পাঠাগারটিতে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে শিক্ষার ব্যবস্থা।

নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের আগ্রাদ্বিগুন বাজারের এই গ্রন্থাগারটির প্রতিষ্ঠা মাত্র দুই বছর আগে। এই দুই বছরের মধ্যেই পাঠাগারটি এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বইপ্রেমীরা এখন ভিড় জমাচ্ছেন এই পাঠাগারে।

পাঠাগারটির উদ্যোক্তা স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর কবির। নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাঠাগার তৈরির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জায়গার ওপর গড়ে তুলেছেন এই পাঠাগার। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান টানা ১৭ বছর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি মারা যান। বাবার নামেই পাঠাগারের নামকরণ করেছেন তিনি। ‘মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার’এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিবেশবিদ হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছেন আলমগীর কবির।

কথা হয় পাঠাগারে বই পড়তে আসা স্থানীয় আগ্রাদ্বিগুন বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র রুবেল হোসেনের সঙ্গে। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন পর্যায়ে এত সুন্দর পাঠাগার পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। অবসর সময়ে আমরা এখানে এসে জ্ঞান অর্জন করে থাকি। অনেক সুন্দর ও চমৎকার একটি পাঠাগার।

মুসফিকা আক্তার নামের শিক্ষার্থীর বক্তব্য, আমি সত্যিই মুগ্ধ এমন একটি পাঠাগার স্থাপন করায়। আমরা প্রতিদিনই কয়েকজন এখানে বই পড়তে আসি। এখানে এসে বই পড়তে আমাদের খুব ভালো লাগে।

স্থানীয় তরুণ জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস, সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, খেলাধুলাসহ সব ধরনের বই এই পাঠাগারে রয়েছে। প্রত্যন্ত একটি এলাকায় এমন পাঠাগার পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।’

পাঠাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রসঙ্গে আলমগীর কবির দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জ্ঞান চর্চার অভাবে আমাদের সমাজে প্রগতিশীল মানুষের বড়ই অভাব। প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের পাঠাগারে প্রায় চার হাজারের মতো বই আছে। আমাদের ইউনিয়নে মোট ৪২টি গ্রাম আছে। প্রতিটি গ্রাম থেকে দুই-তিনজন নিয়ে টিম করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তারা পড়ার জন্য পাঠাগারে আসবে। কবি, সাহিত্যিকদের জীবনী, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত।’

আলমগীর কবির জানালেন, বাবা মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর চার ভাই মিলে বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। সেই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২০১৫ সাল থেকে অসহায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক কাজ করছেন তারা। এবার সেই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেই তৈরি করা হয়েছে ‘মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার। বই, ডেকোরেশনসহ এই পাঠাগার স্থাপনে প্রায় ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একজন লাইব্রেরিয়ান ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পাঠাগারে একসঙ্গে ৪০-৫০ জন বসে বই পড়তে পারেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলমগীর কবির বলেন, ‘উপজেলায় ১৩৯টি প্রাথমিক ও ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ২২-২৫ জন ছাত্রছাত্রী বাছাই করে দেবেন, যাদের সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে নিজস্ব পরিবহন দিয়ে লাইব্রেরিতে নিয়ে আসা হবে। তারা পছন্দমতো বই পড়বে।’

এ উদ্যোগের প্রশংসা করে নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক শরিফুল ইসলাম খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, একটি পাঠাগারে যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তার মোটামুটি সবই সেখানে আছে।

ধামইরহাট উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় এমন একটি পাঠাগার সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে অবশ্যই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।


বাগেরহাটে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে কি‌শোর খুন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৫
প্রতিনিধি, বাগেরহাট

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে এক ‌কি‌শোর খুন হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিসাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ নিয়ে বাক‌বিতণ্ডায় জ‌ড়ান ওই এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী বাবুল হাওলাদার ও টুটুল হাওলাদার (২০)। এসময় টুটুল‌কে ছুরিকাঘাত করে বাবুল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টুটুল ওই গ্রামের আব্দুল বারেক হাওলাদারের ছেলে। বাবুল একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

মো‌রেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান ব‌লেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। আসামী ধর‌তে অভিযান শুরু করা হয়েছে।


৫ হাজার টাকার ঋণ সুদ-আসলে ৫ লাখ, কৃষকের আত্মহত্যা

আত্মহত্যা। প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪৯
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

কৃষি জমি আবাদের জন্য সুদে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেয়ার তিন বছর পর কৃষকের কাছে সুদ-আসলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন ওই সুদ কারবারি। টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ওই সুদ কারবারি কৃষকের জমি দখল করে নেন। এ পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে পড়ে ওই কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তার পরিবারের। এ ঘটনায় তারা মামলা দায়ের করবেন।

এ ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আম গাছ থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই কৃষক বাবুল মল্লিকের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বাবুলের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত সুদ কারবারি লিটন শিকদার (৩৫) ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কৃষক বাবুল মল্লিক উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের চিত্তর মোড় এলাকার রসরাজ মল্লিকের ছেলে। স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ছিল তার সংসার। অন্যদিকে লিটন শিকদার উপজেলার একই ইউনিয়নের হাকাই শিকদারের ছেলে।

বাবুল মল্লিকের স্ত্রী বুলবুলি মল্লিক জানান, বছর তিনেক আগে লিটন শিকদারের কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে সই করে পাঁচ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন বাবুল মল্লিক। পেশায় কৃষক বাবুল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই টাকা আর শোধ করতে পারেননি। তবে লিটন ওই টাকার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। টাকা না পেয়ে সম্প্রতি তিনি খালি স্ট্যাম্পে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা বসিয়ে সেই টাকা দাবি করেন। টাকা না পেলে গত বুধবার বাবুল মল্লিকের দুই বিঘা কৃষিজমি দখল করে নেন লিটন। এই চাপ নিতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন কৃষক বাবুল।

বুলবুলি মল্লিক বলেন, ‘অভাবে পড়ে লিটন শিকদারের কাছ থেকে সুদে টাকা নিছিল আমার স্বামী। আমরা গরিব। দিন চলে না। ওই পাঁচ হাজার টাকা আর শোধ করতে পারি নাই। এই কারণে সে (লিটন) পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা বসায়ে আমাদের জমি দখল করেছে। এটা দেখে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা লিটন শিকদারের বিচার চাই।’

নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, ‘কৃষকের আত্মহত্যার বিষয়টি সকালে জানতে পেরেছি। তবে কী কারণে তিনি মারা গেছেন, সেটি সেভাবে জানতে পারিনি। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে বলেছি।’

স্থানীয়রা জানান, বাবুল মল্লিকের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানাজানি হতেই অভিযুক্ত লিটন শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়েছেন। শুক্রবার দুপুরে লিটন শিকদারের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা মামলা করবে। আমরা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।’


গরুর ঘরে মিলল ইয়াবা

ইয়াবা ও নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার দুই মাদককারবারি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:১৬
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, ওই ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের খোকন বেপারীর ছেলে আজিজুল বেপারী (৩৮) ও হোগলাডাঙ্গী গ্রামের খোকন শেখের ছেলে মিজান শেখ (৩৮)।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কল্যাণপুরে আজিজুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার বাড়ির গরুর ঘরে (গোয়াল) তল্লাশি চালিয়ে আট শ’ পিস ইয়াবা ও একটি বাজারের ব্যাগে রাখা তিন লাখ ৮২ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

মাদকবাহী পিকআপ ধাওয়া করে প্রাণ গেল দুই র‌্যাব সদস্যসহ ৩ জনের

দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৪১
প্রতিনিধি, মাগুরা

মাগুরায় মাদকবাহী পিকআপ ভ্যানকে ধাওয়া করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় র‍্যাবের দুই সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার সাইত্রিশ রাওতড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত র‌্যাবের দুই সদস্য হলেন, ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর সদস্য আনিসুর রহমান (৩৫) ও ফারুক হোসেন (৩৮)। আর নিহত পিকআপ ভ্যান চালকের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

মাগুরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পিকআপে মাদক রয়েছে- এমন সন্দেহে ভ্যানটিকে থামতে বলেন র‌্যাবের সদস্যরা। তবে পিকআপটি না থেমে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। তখন র‍্যাবের গাড়িটি ওই পিকআপকে ধাওয়া করে রাওতড়া সাইত্রিশ নামক স্থানে এসে পৌঁছালে দুটি গাড়িই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে দুই র‍্যাব সদস্য ও পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হন। এ ঘটনায় র‍্যাবের আরেক সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি মাদক মামলা, অন্যটি সড়ক দুর্ঘটনার। র‌্যাব সদস্য ও অজ্ঞাতপরিচয় চালকের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। পিকআপটি থেকে ৩৯১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

এ বিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এহসানুল হক মাসুম জানান, র‌্যাব ও মাগুরা হাইওয়ে পুলিশ সকালে হাসপাতালে একজনকে মৃত ও অপর দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনলে পরে তারাও মারা যান।

বিষয়:

পাঁচ নারীকে ‘রোকেয়া পদক’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২২ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৪৪
বাসস

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২২ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ পদক তুলে দেন তিনি। এ সময় প্রত্যেককে একটি স্বর্ণ পদক, চার লাখ টাকার চেক ও সনদপত্র দেয়া হয়।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রামের অধ্যাপক কামরুন নাহার বেগম। নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় এ পদক পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার ফরিদা ইয়াসমিন (জন্মস্থান খুলনা)। নড়াইল জেলার ড. আফরোজা পারভীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় পদক পেয়েছেন।

এ ছাড়া পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহ জেলার নাছিমা বেগম এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় পদক পেলেন ফরিদপুর জেলার রহিমা খাতুন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।

পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে ড. আফরোজা পারভীন নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেগম রোকেয়ার জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।


ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নোয়াখালী

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মোহাম্মদ হারুন ওরফে লিটন (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লিটন সদর উপজেলার লালা নগরের দুলালের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুছড়ে যায় পিকআপ ভ্যানটি। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা লিটন নামে ওই মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তার পরিচয় জানা যায়নি।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ঝিনাইদহে আ.লীগ কার্যালয়ের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০৬
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় অন্তত চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী বাবলু মিয়া বলেন, রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছনে বিকট শব্দ হয়। পর পর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এদিকে সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রানা হামিদসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, ঢাকায় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিএনপি এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা ঘটাইনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। বিএনপির সমাবেশের জন্য জেলার নেতা-কর্মীরা ঢাকায় অবস্থান করছে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, চারটি বিস্ফোরণ হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাইনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছন থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

বিষয়:

শুনানিতেই আটকে বেগম রোকেয়ার জমি উদ্ধার কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রফিকুল ইসলাম, রংপুর

বেগম রোকেয়া তার নিজের লেখা প্রবন্ধ ‘নার্স নেলী’তে লিখেছেন, ‘আমাদের অবস্থা সচ্ছল ছিল-আমরা পরম সুখে খাইয়া পরিয়া গা-ভরা গহনায় সাজিয়া থাকিতাম। আমাদের এ নিবিড় অরণ্যবেষ্টিত বাড়ীর তুলনা কোথায়? সাড়ে তিনশত বিঘা লা-খেরাজ জমির মাঝখানে কেবল আমাদের এই সুবৃহৎ বাড়ী। বাড়ীর চতুর্দিকে ঘোর বন, তাহাতে বাঘ, শূকর, শৃগাল- সবই আছে।’

তাই রোকেয়ার পরিবারের সাড়ে ৩০০ বিঘা জমির বিষয়ে কারও আর দ্বিমত থাকার কথা নয়। বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের পায়রাবন্দের শেষ জমিদার ছিলেন। ১৯১৩ সালে তিনি মারা যান। আর তখন থেকেই দখল হতে শুরু করে তাদের জমিগুলো। এমনকি তার পারিবারিক কবরটিও প্রভাবশালীদের দখলে। তাই ক্ষোভ আর দুঃখ রয়েছে রোকেয়ার পরিবার, স্বজন এবং অনুরাগীদের।

এসব জমি উদ্ধারে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে ২০১২ সালের ২২ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ ব্যক্তিকে বাদী করা হয়।

ওই বছরের ৮ এপ্রিল রিটের শুনানি শেষে রোকেয়ার জমিগুলো কোথায় ও কী অবস্থায় আছে, তা জানাতে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন আদালত।

এরপর ওই বছরের ১৯ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা-১-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংসকে একটি চিঠি দেন। তাতে ওই রিট পিটিশনের ওপর দফাওয়ারি জবাব প্রস্তুতপূর্বক হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলের ক্ষেত্রে সময় প্রার্থনা করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়।

এদিকে হাইকোর্টে রিট পিটিশনের পর ২০১২ সালের ২ মে পায়রাবন্দ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রধান মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তির বিবরণসংবলিত একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে বেগম রোকেয়ার ওয়ারিশদের নামে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী মোট ১৬ দশমিক ৬০ একর জমির বিবরণ দেয়া হয়। বাকি জমির কোনো হদিস নেই।

অন্যদিকে পায়রাবন্দ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রধান ওই বছরের ১২ মে আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর। তাতে দেখানো হয়, ৬ দশমিক ৭৯ একর জমিতে বেগম রোকেয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিকেন্দ্র, স্মৃতিস্তম্ভ, ডাকবাংলোসহ নয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর মধ্যে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ শতক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ একর, ৩৩ শতক (৫০ শতকে এক বিঘা) জমির ওপর ডাকবাংলো, ৩০ শতক জমির ওপর স্মৃতিফলক, ৩ দশমিক ১৫ একর জমি নিয়ে স্মৃতিকেন্দ্র, বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ৬০ শতক, ৪২ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, নারী কল্যাণ সংস্থার নামে ৩৩ শতক, স্মৃতিস্তম্ভ ৪২ শতক এবং ৫৮ শতক জমিতে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের জমিগুলো দখল হয়ে যায়। ১৯৪০ সালে ভূমি রেকর্ডের সময় রোকেয়ার চার ভাইবোন বেঁচে ছিলেন। আইন অনুযায়ী তাদের নামে জমিগুলো রেকর্ড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন অসাধু কিছু ভূমি কর্মকর্তা জড়িত বলে আমরা মনে করি। এসব জমি উদ্ধারে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। কারণ সরকারপক্ষ চূড়ান্ত শুনানিতে এগিয়ে আসছে না।’

বেগম রোকেয়ার ভাই মসিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা রণজিনা সাবের বলেন, ‘রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি অন্যরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। জমিগুলো উদ্ধার করে সরকার সংরক্ষণ করতে পারে। সরকার চাইলেই দ্রুত জমিগুলো উদ্ধার হবে।’

এসব জমির কিছু অংশ আবাদ করেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জমিগুলো আমাদের দাদির নামে রেজিস্ট্রি। ’৪০, ’৬২ তারই নামে রেকর্ড আছে। তাহলে জমি রোকেয়ার হইল কেমনে? এখনো মামলার কাগজ পাই নাই। পাইলে আমরাও আদালতে লড়ব।’

আতাউর রহমান লেলিন নামে আরেকজন বলেন, ‘মামলা হয়েছে কি না জানি না। এগুলো আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি।’

রংপুর জেলা প্রশাসক (সদ্য বিদায়ী) আসিব আহসান জানান, ‘বেগম রোকেয়ার যেসব সম্পত্তি রয়েছে তার মামলার কাগজ, ভুলভাবে রেকর্ড হওয়াসহ যেসব বিষয় উঠেছে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

রিটকারী আইনজীবী মঞ্জিল মোরসেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার যে সম্পত্তি আছে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য আমরা একটি রিট করেছিলাম। কোর্টের একটি আদেশ ছিল, সে বিষয়ে তারা সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। চূড়ান্ত শুনানি এখনো হয়নি। মুলতবি আছে। সরকার এ ব্যাপারে কোনো জবাব দেয়নি।’

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ্দ মুরাদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। তার মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। বাংলাদেশে নারীশিক্ষার অগ্রদূত এই মহীয়সী নারী ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মারা যান।


হাবিবার হাত ধরে স্বাবলম্বী দুই শতাধিক নারী-পুরুষ

নকশিকাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারীরা। গতকাল সকালে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুরের আতাহার গ্রামে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৪৩
রাব্বিউল হাসান, জয়পুরহাট 

দুই শতাধিক নারী-পুরুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন যে নারীর হাতে ধরে তার নাম হাবিবা জাহান। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার এ নারী একটি সমিতি গড়ে তুলেছেন। এর আওতায় অন্যদের নকশিকাঁথা ও গরু পালনের প্রশিক্ষণ দেন।

হাবিবার সমিতির নাম ‘আতাহার যুথী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’। এ ছাড়া তিনি যৌথভাবে একটি ফাস্টফুডের দোকান চালান। তা থেকে মাসে তার আয় ৩০-৪০ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে পান শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার।

তবে হাবিবার সফল হওয়ার পেছনের গল্পটা সরল নয়। ১৩ বছর বয়সে বিবাহ হয়। অল্প বয়সেই মা হন দুই সন্তানের। সংসারে তেমন আয়-রোজগার নেই। শ্বশুর বাড়িতেও নানাভাবে নির্যাতিত হতে থাকেন। তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।

ক্ষেতলাল উপজেলার গোলাহার গ্রামের মমতাজুর রহমান ও প্রয়াত জামিলা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট হাবিবা। স্বামীর বাড়ি কালাই উপজেলার জিন্দারপুরের আতাহার গ্রামে। শ্বশুর বাড়িতে থেকে এসএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারেননি।

সম্প্রতি আতাহার গ্রামে হাবিবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নকশিকাঁথার কাজ করছেন নারীরা। কেউ সেলাই করছেন, কেউ কাঁথার ওপরে বাহারি নকশার ফুল তুলছেন।

সেখানে কাজ করা নারগিস আক্তার বলেন, হাবিবার কাছে থেকে বিনা মূল্যে নকশিকাঁথা ও নারীদের পোশাক সেলাইয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এখন তিনি প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন।

আরেক নারী মোফেলা বিবি বলেন, একটা সময় বাড়িতে দুই বেলা ভাত জুটত না। স্বামী দিনমজুরের কাজ করতেন আর তিনি বাড়ির কাজ করতেন। হাবিবার কাছ থেকে বিনা মূল্যে গাভী পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। একটি গাভী দিয়ে পালন শুরু করলেও এখন তার খামারে পাঁচটি গাভী আছে।

বাড়িতে বসে কথা হয় হাবিবার সঙ্গে। বলেন, এক দিন আতাহার গ্রামের একটি উঠান বৈঠকে তৎকালীন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হয়। কর্মকর্তার পরামর্শে ২০০৭ সালে ‘আতাহার যুথী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ গড়ে তোলেন। ওই বছরই তার সমিতি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়। এরপর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সহযোগিতায় নকশিকাঁথা ও নারীদের পোশাক তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে গ্রামের অসহায় ও দুস্থ নারীদের নকশিকাঁথা ও পোশাক তৈরির কাজ শেখান।

হাবিবা বলেন, ২০১৮ সালে তৎকালীন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রওশন আলমের পরামর্শে জয়পুরহাট জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গাভী পালনের ওপর তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ নেয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে বেকার যুব নারী ও পুরুষের মাঝে গাভী পালনের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ২০২২ সালে আতাহার গ্রামে ‘আতাহার যুব মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ গড়ে তোলেন।

এর মাঝেই চলে আসে করোনাকাল। হাবিবা বলেন, ওই সময় কীভাবে টাকা উপার্জন করা যায় সে ভাবনা থেকে তিনি ও মুশফিকা খাতুন নামে এক নারী মিলে জয়পুরহাটে গড়ে তোলেন অনলাইন ফাস্টফুড ব্যবসা। এখন প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন।

কালাই উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহফুজা খাতুন বলেন, হাবিবা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন।

বিষয়:

banner close