জাকিয়া আহমেদ
ডেঙ্গু আবারও দেশজুড়ে ছড়িয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কেবল ছয় জেলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ঢাকায় এবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। মৃত্যুও বেশি। তবে এডিস মশাবাহিত এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছর এভাবে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু ছড়ায়। সেবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এবার অবশ্য প্রকোপ ততটা প্রবল না হলেও তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেশে নগরায়ণের হার বেড়েছে। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা, মশক নিধন কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক। সচেতনতার ঘাটতি তো আগে থেকেই আছে। ফলে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গুর মৌসুমও প্রলম্বিত হচ্ছে।
ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি, কক্সবাজারে মহামারি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন। কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২ জন।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হিসাব দিচ্ছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জানাচ্ছে। এটি স্পষ্ট হয় কক্সবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই।
কক্সবাজারে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই দিন আগে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে একই ঘরে অনেক মানুষের বসবাস। তারা পানি জমিয়ে রাখে ঘরের ভেতরে। স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই নেই। এ জন্য এবার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।
কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এ রকম মহামারি যদি অন্যান্য জেলায়ও শুরু হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। কাজেই এমন বিপর্যয়ের আগেই তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের তৈরি করা উচিত।’
দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর কারণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সব পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলায় জেলায় নগরায়ণ হচ্ছে। সেখানে ভবনের পর ভবন হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে অটোরিকশার গাড়ির টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো পানি জমতে পারে এমন বর্জ্য। ঢাকায় ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকলেও জেলা শহর কিংবা উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে পানি জমছে, এডিস মশা ডিম পাড়ছে, বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে।
এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিজ এলাকা গাইবান্ধা পৌরসভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পৌরসভায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। এ চিত্র শুধু এখানকার নয়, পুরো দেশের। তাই পুরো দেশের জন্য এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করা দরকার।
অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বেশি, সক্ষমতা বেশি। এখানে ডেঙ্গুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকরাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসব সুবিধা একেবারেই নেই। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সবকিছু। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে করোনা বা চিকুনগুনিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোনো জেলায় পাঁচজনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেখানে ডেঙ্গু স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটা ভয়ংকর আশঙ্কার। কেননা ঢাকার বাইরে মশক নিধন কর্মসূচি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। কক্সবাজারে এমনটাই লক্ষ করা যাচ্ছে।
কবিরুল বাশারের মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
আর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের পরামর্শ হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেমন শহর ও গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, সেভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ও আড্ডায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাজারসংলগ্ন একটি ঘরে নিয়মিত বসছে মাদক সেবনের আসর। এতে একদিকে ধর্মীয় স্থাপনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। প্রতি বছর নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্নি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে নারীরা নদীতে স্নান করার পর পোশাক পরিবর্তনের জন্য সমস্যায় পড়তেন। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নদীর তীরে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উৎসবের সময় নারীরা ওই ঘরটি গোসল ও পোশাক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করেন। তবে উৎসব শেষ হলে ঘরটি সাধারণত বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে কিছুদিন আগে মাদকসেবীরা ঘরটির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেটিকে মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত করেছে। সন্ধ্যা নামার পরপরই সেখানে শুরু হয় মাদকসেবীদের আনাগোনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা বাড়ে এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিচরণ শুধু পরিবেশই নষ্ট করছে না, এর সঙ্গে বাড়ছে চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকিও। সম্প্রতি মাজারের সিন্দুক ভেঙে দানের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এর এক-দুই দিনের মধ্যেই মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকেও ফ্যান চুরি করা হয়। পরপর এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, মাজার এলাকায় নেশাখোরদের আড্ডা বসায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। তাদের কিছু বলতেও ভয় লাগে। ফলে অনেকটা অসহায় অবস্থায় মাজার দেখভাল করতে হচ্ছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, পবিত্র মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার আশপাশে মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে নারীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত ঘরটি তালা ভেঙে মাদক সেবনের স্থানে পরিণত হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। দ্রুত ঘরটির ভাঙা তালা মেরামত, নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, মাজারের পবিত্রতা ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হলে মাজার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নদীর পানি কমেছে; কিন্তু কমেনি জালের দাপট। অগভীর পানির তলদেশ ঘেঁষে পাতা হচ্ছে একের পর এক নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’। জালের সূক্ষ্ম ফাঁস ভেদ করে বের হতে পারছে না রেণু-পোনা, ছোট মাছ কিংবা জলজপ্রাণী। ফলে একদিকে প্রতিদিন নিঃশেষ হচ্ছে মাছের মজুত, অন্যদিকে প্রজননক্ষম মাছ কমে যাওয়ায় হুমকিতে পড়ছে ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ। পাবনার পদ্মা, যমুনা, ইছামতী, বড়াল ও চলনবিলের বিভিন্ন অংশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
একসময় পাবনার নদী-বিল ছিল দেশি মাছের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। স্থানীয় হাট-বাজারে পাবদা, টেংরা, বোয়াল, শিং, মাগুর, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছের সরবরাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন অনেক এলাকায় এসব মাছ আগের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্যসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নির্বিচারে রেণু-পোনা ও মা-মাছ আহরণ চলতে থাকলে বেশ কিছু দেশি প্রজাতি মাছ স্থানীয় জলাশয় থেকে আরও দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার চলনবিলের অংশ এবং বেড়া ও সাঁথিয়ার নদ-নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অগভীর পানিতে তলদেশের কাছাকাছি পেতে রাখা হয়েছে চায়না দুয়ারি। দূর থেকে অনেক সময় এসব জাল বোঝার উপায় নেই। লোহার রিং দিয়ে তৈরি বক্স আকৃতির ফাঁদের মুখ দিয়ে মাছ ঢুকে পড়লে বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে রেণু-পোনা ও অতি ছোট মাছও আটকা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার শুরুতেই ইছামতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই জালের ব্যবহার বাড়তে থাকে। সুজানগরের গাজনার বিলেও একই চিত্র দেখা যায়। রাতের বেলায় কিংবা দুর্গম বিল এলাকায় জাল পেতে মাছ ধরায় অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রশাসনের নজরে আসে না। ফলে দিনের বেলায় অভিযান চললেও রাতের আঁধারে আবার নতুন করে জাল বসানোর অভিযোগ রয়েছে।
চায়না দুয়ারির ক্ষতি শুধু মাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কুঁচো, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ কীটপতঙ্গও এই জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এসব প্রাণী জলজ পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নির্বিচারে আহরণের কারণে নদী ও বিলের স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও পোনা একসঙ্গে ধরা পড়ায় মাছের প্রজননচক্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অবশ্য প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিয়মিত চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। অভিযানে অনেক সময় হাজার হাজার মিটার জাল উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু অভিযানের পরও ব্যবহার বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটঘরিয়া, বেড়া, কাশিনাথপুর ও চাটমোহরের কয়েকটি হাটে গোপনে চায়না দুয়ারি বিক্রি হচ্ছে। ফলে শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে উৎসেই সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা এবং বৈধ জাল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াও জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি চায়না দুয়ারি তাৎক্ষণিকভাবে মাছ ধরার সুযোগ দিলেও এর বিনিময়ে ধ্বংস হচ্ছে ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদ। তাই নদী-বিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান এবং বিক্রয়কেন্দ্রে কঠোর তদারকি জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পাবনার নদী-বিল থেকে হারিয়ে যেতে পারে বহু দেশি মাছের প্রজাতি। মাছের ঐতিহ্য রক্ষায় তাই চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ জোরদারের বিকল্প নেই।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় হাওরের পানিতে স্পিডবোট নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে আবু হুরাইরা মোহাম্মদ তরিক জাহান মুমেন (২৮) নামে আরও এক সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃত আবু হুরাইরা মোহাম্মদ তরিক জাহান মুমেন মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা মাওলানা শেরজাহান মুমেনের ছেলে।
*যেভাবে পরিচালিত হয় অভিযান:*
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তারিক জাহান হাওরের জলপথ ব্যবহার করে স্পিডবোটে পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পরপরই ওসি মনোয়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে তার পিছু ধাওয়া করে। মাঝ-হাওরে পুলিশের স্পিডবোট থেকে মাইকিং করে আসামির বোট থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ রোমাঞ্চকর ধাওয়া শেষে হাওরের মাঝপথেই পুলিশ তাকে কাবু করে আটক করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে নিজ বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় পুলিশ মোট ১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করল।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিগত যে কোনও সময়ের চেয়ে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং আমরা চেষ্টা করবো যে স্থানীয় সরকার কার্যক্রম রয়েছে তা শতভাগ সক্রিয় করার জন্য। যোগ্য, ভালো ও শিক্ষিত- যারা ধ্বংস হওয়া স্থানীয় সরকারকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে এ ধরনের মানুষ দিয়ে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। রোববার দুপুরে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় পুতুল আরও বলেন, বর্তমান সরকারের জনগণের সরকার তা দেশের জনগণ জানে, বিশ্বাস করে এবং আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি। অনেক কিছু আছে যা জনগণের চাহিদার ভেতর রয়েছে যা আমরা পৌঁছাতে পারেনি। যার ভেতর অন্যতম গ্যাসের সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা, তেলের সমস্যা। যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের মাটিতে পতিত করা হয়েছে, আমাদের পরনির্ভরশীল করা হয়েছে এই তিনটি সেক্টরে যাতে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকি।
এই সমস্যা গুলো আমরা বর্তমান সরকার এমনভাবে সমাধান করতে চাই, যাতে বাংলাদেশকে আর কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকতে হয়। সমস্যা ও সমাধানের এই মধ্যবর্তী সময়টুকু আমাদের সবারই কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্টের জন্য বর্তমান সরকার এমনকি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার এবং আমরা যখন যেখানে যাই দেশের সকল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি। আমাদের আন্তরিকতার ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি নেই, সকলের সহযোগিতা চাই।
জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার শরিফুল হক, সিভিল সার্জন মশিউর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার (০৭) নামের এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার চরলোটাবর এলাকার জামিনুর নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশু মরিয়ম ওই এলাকার বাহাদুর আলীর মেয়ে। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, তিন দিন আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় মরিয়ম আক্তার। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের পাশের জামিনুরের বসতঘরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পরিবার মরদেহের সন্ধান পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গত কয়েকদিনে উজান থেকে বয়ে আসা বন্যার পানি আর তীব্র স্রোতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদী ভাঙন।
গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার ফসলি জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন আরও কয়েকশ পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো অসহায় মানুষের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধি। আর জরুরি ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হয়নি আপদকালীন জরুরি ব্যবস্থাও। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস পূর্বে পদ্মা যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢেউয়ের কারণে ভাঙন শুরু হয়। তবে, ভাঙনের পরিমাণ ধীর গতি হওয়ায় কেউ এর ভয়াবহতা টের না পেলেও বর্তমান সময়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এরই মধ্যে জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন মণ্ডল বলেন, গত কয়েকদিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০-৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনীতেই ৮০ পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। নদীর পাড়ে প্রচন্ড স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে।
পেশায় মোটরসাইকেলচালক জিন্নাহ বলেন, ভাঙনের কথা বলতে গেলে বুকটা ফেটে আসে। একে একে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। ভাঙতে ভাঙতে আর কিছু নাই। বুকটা ফেটে আসে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চরাঞ্চলের এই এলাকার নদীভাঙন রোধে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়।
জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বলেন, প্রতিবছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। এর আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তাতে কোনো কাজেই আসেনি। সরকারের কাছে দাবি জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।
লেছড়াগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত বছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবছরেও গত কয়েকদিনে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা বলেছে যে আমরা দেখছি কি করা যায়।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমরা করব।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের এলাকার জন্য স্থায়ীভাবে কোনো কিছু করা যায় কিনা সেটা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এটাতে যে রিপোর্ট আসবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।
ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল।
১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।
জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।
আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০ রকমের বিদেশি ফল রয়েছে। সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।
বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত 'ইয়েলো কিং'সহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।
উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।
একই গ্রামের রাজু আহমেদ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফল চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদেশি এই ফলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের পথ খুলবে। জীবননগর উপজেলায় ধান, পাট আর ভুট্টা চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এতে বাড়বে লাভ আর বদলাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে উপজেলার মঠখোলা চরদেওকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়াদ মিয়া (২০) ও অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া চরদেওকান্দি এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াদ নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার মাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন হৃদয় ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে তিনি জানতে পারেন মাদকের টাকার জন্য তার ছোট ভাই রিয়াদ মাকে মারধর করেছেন। এ বিষয় নিয়ে রিয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াদ মিয়াকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে অভিযুক্ত হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ভাষা সৈনিক, সাবেক ডাইরেক্টর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মরহুম এম এল রহমান এর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ২০২৬ইং। এই উপলক্ষে আজ হাজিপুর কামিল মাদ্রাসা ও হাজিপুর ফাউন্ডেশন (ভোলা’র) উদ্যোগে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে কোরানখানী, দোয়া মাহফিল ও স্বরণ সভার আয়োজন করা হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে আকস্মিক নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতের জলসীমায় ভেসে যাওয়া ২০ দিন বয়সী এক নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার বিকেলে নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের জীবিত উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনায় এখনও এক বৃদ্ধ নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা জোহরপুর-টেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পদ্মার তীব্র স্রোত ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে মাঝনদীতে নৌকাটি হঠাৎ ডুবে গেলে যাত্রীরা সবাই পানিতে ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী কন্যা তানিশাও ছিল। দুর্ঘটনার পর উত্তাল নদীর পানির তোড়ে ভেসে যেতে যেতে তানিশাসহ ১০ জন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় পৌঁছে যান।
সীমান্তের ওপারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগরের প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলাল মণ্ডলের বরাতে জানা যায়, নদীতে ভাসতে দেখে বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের তীরে তুলে আনেন। উদ্ধারের সময় নবজাতক তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা কালবিলম্ব না করে শিশুটিকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান, যেখানে নিবিড় চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনকেই সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তাল পদ্মা থেকে ২০ দিনের এক নিষ্পাপ শিশুসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার ও সুচিকিৎসা দেওয়ার মানবিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিএসএফের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাবুল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসেফকে, আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা আর কাজের মাঝে। আশা করি প্রতিবেশী দুই দেশ মিলে মিশে থাকবে, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকে না, পৃথিবী শান্তি ও সৌহার্দ্যের।’ মানবিক মূল্যবোধকে স্বাগত জানিয়ে নাজমুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘মানবতার জয় হোক, অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফ।’ একইসঙ্গে নায়েম ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনেরা কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. ফেরদৌস আলম ও মিপতা (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্না (৪০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের মৃত্যু হয়। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ গণমাধ্যম-কে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
“মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারিপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আজ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের নাগরিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্বিক আয়োজনে বাস্তবায়িত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ (৩১১) এর মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. উমর ফারুক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সাত্তার বেগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের নদীবিধৌত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এসব এলাকায় উন্নত জাতের প্রাণী, প্রয়োজনীয় উপকরণ, খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বক্তারা এসময় আরও বলেন, সুফলভোগীদের মাঝে প্রয়োজনীয় প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পশুপালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রাণিসম্পদ পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে ৪০জন সুফলভোগী খামারির মাঝে ০২ টি করে ছাগী হিসেবে ৮০ টি ছাগী বিতরণ করা হয়। এসময় রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও সঠিক ওজনের ছাগল খামারিদের মাঝে বিতরণ করায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সুফলভোগী খামারিরাও এসময় স্বাস্থ্যবান ছাগল পেয়ে আনন্দিত হন। বিতরণকৃত ছাগল সরবরাহ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাভুক্ত সুফলভোগী খামারি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সঃ) এর আর্দশের কোনো বিকল্প কোনো আর্দশ নেই! মানুষের কাছে সর্বাধিক আরাধ্য বিষয় সামাজিক শান্তি এবং জীবনের সকল স্তরে শৃঙ্খলা। ব্যাক্তির অধিকারে যখন সব কিছু থাকে তখন সে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না। এটি শুধু শুধু মানব জীবনের চাহিদা তা নয়,বরং মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি পরিপূর্ণ ম্যাকানিজম প্রতিষ্ঠা করেছেন।
কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিশিষ্ট প্রবন্ধকার ড, রফিকুল ইসলাম।
তিনি শনিবার বিকেলে মাগুরা অডিটোরিয়ামে জেলা সীরাত উদযাপন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (স.) আর্দশ শীষক সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধকার হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু'র সভাপতিত্বে সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা আমিন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ঢাকা আদদ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জামে মসজিদ প্রধান খতিব ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান। অধ্যাপক মাওলানা মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড, মাওলানা রবিউল ইসলাম মাগুরা আল আমিন ইয়াতিম খানার পরিচালক হাফেজ মাওলানা লিয়াকত আলী খান, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী যমো. মাসুদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বি এম এরশাদুল্লাহ অহিদ।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা রাসূল (স.) এর আর্দশ অনুস্মরণ করে ব্যাক্তি, সমাজ,ও রাস্ট্রের সর্বত্রেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।