বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
২১ ফাল্গুন ১৪৩২

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

ছবি: সংগৃহীত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:১৩

জাকিয়া আহমেদ

ডেঙ্গু আবারও দেশজুড়ে ছড়িয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কেবল ছয় জেলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ঢাকায় এবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। মৃত্যুও বেশি। তবে এডিস মশাবাহিত এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছর এভাবে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু ছড়ায়। সেবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এবার অবশ্য প্রকোপ ততটা প্রবল না হলেও তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেশে নগরায়ণের হার বেড়েছে। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা, মশক নিধন কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক। সচেতনতার ঘাটতি তো আগে থেকেই আছে। ফলে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গুর মৌসুমও প্রলম্বিত হচ্ছে।

ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি, কক্সবাজারে মহামারি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন। কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২ জন।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হিসাব দিচ্ছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জানাচ্ছে। এটি স্পষ্ট হয় কক্সবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই দিন আগে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে একই ঘরে অনেক মানুষের বসবাস। তারা পানি জমিয়ে রাখে ঘরের ভেতরে। স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই নেই। এ জন্য এবার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এ রকম মহামারি যদি অন্যান্য জেলায়ও শুরু হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। কাজেই এমন বিপর্যয়ের আগেই তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের তৈরি করা উচিত।’

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সব পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলায় জেলায় নগরায়ণ হচ্ছে। সেখানে ভবনের পর ভবন হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে অটোরিকশার গাড়ির টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো পানি জমতে পারে এমন বর্জ্য। ঢাকায় ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকলেও জেলা শহর কিংবা উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে পানি জমছে, এডিস মশা ডিম পাড়ছে, বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিজ এলাকা গাইবান্ধা পৌরসভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পৌরসভায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। এ চিত্র শুধু এখানকার নয়, পুরো দেশের। তাই পুরো দেশের জন্য এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করা দরকার।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বেশি, সক্ষমতা বেশি। এখানে ডেঙ্গুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকরাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসব সুবিধা একেবারেই নেই। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সবকিছু। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে করোনা বা চিকুনগুনিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোনো জেলায় পাঁচজনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেখানে ডেঙ্গু স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটা ভয়ংকর আশঙ্কার। কেননা ঢাকার বাইরে মশক নিধন কর্মসূচি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। কক্সবাজারে এমনটাই লক্ষ করা যাচ্ছে।

কবিরুল বাশারের মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

আর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের পরামর্শ হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেমন শহর ও গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, সেভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।


নারায়ণগঞ্জে ‘কিলার বাবু’কে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবুকে (৩৮)কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে পঞ্চবটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। আহত তার বন্ধু মো. লিটন (৩৮) ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটিতে রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিলার বাবু ও নাঈম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ভোরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে বাবু ও লিটনকে শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের অন্য সহযোগীরা। সেখানে চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করে এবং লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কিলার বাবু’ নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, খাস জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া উঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পাবনায় ঈদুল ফিতর ঘিরে ডিবি পুলিশের বিশেষ মহড়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাবনার বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশেষ তদারকি ও মহড়া পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র যাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সাথে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসনেও কাজ করছে ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম।

ঐ বাজার তদারকি কার্যক্রমটি পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদের সরাসরি দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়। অভিযানে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান। ডিবি পুলিশের এই বিশেষ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন ওসি ডিবি রাশিদুল ইসলাম।

অভিযান চলাকালে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলেন এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। কোনো প্রকার অনিয়ম বা জনভোগান্তি পরিলক্ষিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের তদারকি ও মহড়া ঈদ পর্যন্ত নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।


মাদারীপুরে খাল পুনখনন কাজের উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই সরকারের লক্ষ্য: জাহান্দার আলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নে আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে প্রবাহিত শুকিয়ে যাওয়া লক্ষীগঞ্জ খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে তিনি এ কাজের উদ্বোধন করে বলেন, খালটি পুনঃ খননের ফলে অত্র এলাকার কৃষি আবাদে সেচকার্য্যে কৃষকের অনেক সুবিধা হবে, নদীর মিঠা পানির সেচকার্য্যে ফসলের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই আমাদের বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

খালটি পুনঃ খননের জন্য তিনি সেখানকার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের সহযোগিতা চান। এসময় তার সাথে ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), রাস্তি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার খবির খান, ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল আহসান পিন্টু, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উৎসুক স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকবৃন্দ।

খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপি দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি ও সবুজ বিপ্লবের কর্মসূচী থেকে বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা মাদারীপুরেও খাল খনন এবং পুনঃ খনন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প হিসাবে হাতে নিয়েছি, তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা লক্ষীগঞ্জবাসির দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে প্রবাহিত এই খালটি পুনঃ খননের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সেচ কাজের কোনো বিকল্প নাই, সেক্ষেত্রে নদীর মিঠা পানির সেচকাজ সহজ ও সাশ্রয়ী। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির নাব্যতাও রক্ষা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা মাদারীপুরের শুকিয়ে যাওয়া খালগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনঃ খনন করবো, এছাড়া বাস্তবতার আলোকে নতুন খালও খনন করা হবে, তাতে সেচ কার্য বৃদ্ধি পেয়ে ফসল উৎপাদনও বাড়বে, কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই আমাদের বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।


শিবগঞ্জ সীমান্তে হলুদ-মরিচের বস্তায় মাদক, বিজিবির অভিযানে আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতভর দুটি অভিযান চালানো হয়। প্রথমে কিরণগঞ্জ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার ১৭৭ থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছোট বিশ্বনাথপুর গ্রামে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালায়। এ সময় ১১টি হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বস্তাসহ সন্দেহজনক অবস্থায় মো. ইব্রাহিম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে বস্তাগুলোর ভেতর থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প ৭৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf DX সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে সোনামসজিদ বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৫/১-এস সংলগ্ন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিলের বিকল্প আরও ১০০ বোতল Eskuf DX সিরাপ জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

বিজিবি জানায়, আটক আসামি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত তিন মাসে এই ব্যাটালিয়ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০ জন আসামিসহ প্রায় ৪ হাজার বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে।


শিবচরে বাবার ওপর অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পারিবারিক অভিমানের জেরে এক যুবকের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত দীপু মোল্লা (২৫) উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের যাদুয়ারচর কলমখানকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং মাজেদ মোল্লার মেঝো ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) গভীর রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বাবার সঙ্গে দীপুর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবা রাগের মাথায় তাকে বকাঝকা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগেও এমন রাগারাগির ঘটনা ঘটেছে, তবে কখনো পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নেয়নি।

নিহতের বড় ভাই রুবেল মোল্লা বলেন, তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে পাশের গরুর ঘরের দিকে তাকিয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে দেখেন তার ছোট ভাই ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কি এমন কষ্ট ছিল যে এমন সিদ্ধান্ত নিলো, আমরা বুঝতে পারলাম না।’

ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এসআই রিয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, দীপু চুপচাপ স্বভাবের ছিল। এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।


বোয়ালখালীতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে শিশু নিপীড়ন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে ছাত্র-ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইমতিয়াজ উদ্দিন নামের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইমতিয়াজ বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্বগোমদণ্ডী মুন্সিপাড়া সৈয়দ বাড়ির শওকত হাবিবের ছেলে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে খবর পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার ওসি মাহফুজুর রহমান।

তিনি জানান, ইমতিয়াজ দীর্ঘ দেড়-দুবছর ধরে শিশুদের প্রাইভেট পড়ানোর নামে জোরপূর্বক যৌনাচারে লিপ্ত করতো। আমরা প্রাথমিকভাবে ৪ জন শিশুর তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে তিনজন মেয়ে ও এক জন ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১০ বছরের কম। শিশুরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়তো।

অনৈতিক নোংরামি করার এক পর্যায়ে শিশুদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিশুরা। শিশুরা জানিয়েছে, প্যান্ট জামা খুলে অপ্রাকৃত সঙ্গমের চেষ্টা করতো ইমতিয়াজ।

অভিভাবক বলেন, শিশুরা প্রায় গোপনাঙ্গে ব্যথা এবং রক্ত ক্ষরণের কথা জানিয়ে আসছিল।

ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ইমতিয়াজ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।


ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ ধ্বংস, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৯:১১
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির ৬ ড্রাম জেলি ধ্বংস করা হয়েছে ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান ও থানা পুলিশ সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করে খুশি খাতুন (৪০), স্বামী- নুর ইসলাম, সাং-ভবানীপুর, থানা-ভাঙ্গুড়া, জেলা-পাবনা এর বাড়ির ভেজাল দুধ তৈরির কারখানা হতে মোট ০৬ ড্রাম ভেজাল দুধ তৈরির জেলি, ০৫ ড্রাম সয়াবিন তেল জব্দপূর্বক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

পাশাপাশি ভেজাল দুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত ০৬ ড্রাম জেলি ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশে ধ্বংস করে ৫ ড্রাম সোয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


দাউদকান্দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে খন্দকার মোশাররফের মতবিনিময়   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় হয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ ভূইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সওগাত চৌধুরী পিটার, সদস্য সচিব কাউছার আলম সরকারসহ আরও অনেকেই।


ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় মিলন হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম।

নিহত মিলন হাওলাদার নলছিটি পৌরসভার শংকরপাশা গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে মিলন হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল হাওলাদারের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন হাওলাদার বেলাল হাওলাদার ও তার মেয়ে ইতি আক্তারকে মারধর করে আহত করেন। এ সময় বেলাল হাওলাদারের বসতঘরেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় বেলাল হাওলাদার থানায় মিলনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর জেরে মিলন হাওলাদার ও তার ভাই মিরাজ হাওলাদার আবারও বেলাল হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে বেলাল হাওলাদার ও তার ভাইদের পাল্টা হামলায় মিলন হাওলাদার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, নিহত মিলন হাওলাদারের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া ও ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর একই কক্ষে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরএমও ঈমাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সময় ওই শিক্ষক বেঁচে ছিলেন। তবে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করামাত্রই তিনি মারা যান। তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পুরুষকে আনা হয়েছে। তার অবস্থাও গুরুতর। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক মারা গেছেন।


কালীগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি     

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ বাইপাস সড়কের বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা কালীগঞ্জ বাইপাস সড়ক ধরে নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল। বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় পৌঁছে চালক অন্য একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ট্রাকের পেছনে থাকা প্রাণ ফ্রুটোর একটি কাভার্ড ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশাযাত্রী নূর আলম (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার দুতামরুনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জের রবিন (৩৫), টাঙ্গাইলের মধুপুরের রাশেদ রানা (২৪), সিরাজগঞ্জের ফরহাদ (১৯) এবং নরসিংদীর রায়পুরার মাইন উদ্দিন (৩০)। আহত চালকসহ অন্যদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুল কবির নকিব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে ওই সভা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার মূল ভিক্তি। এ স্তরের শিক্ষার আধুনিকায়ণ, ঝরে পরা রোধ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা বিষয় আলোচনায় ওঠে আসে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও প্রদাণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী, প্রাথমিক ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাসান আলী ও আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেছেন, ১৭ বছরে অগণতান্ত্রিক সরকার

জাতীকে মেধাশূন্য করে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় অযোগ্য শিক্ষার্থীকে পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। অতীত ভুলে শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা করেই পাস করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোবাবিলায় দক্ষ, যোগ্য, মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরিতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে আরও মনোযোগী, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণের অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারি শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।


সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববনন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের ওপরে মব সৃষ্টি করে হামলার প্রতিবাদে মানববনন্ধন হয়েছে। বুধরার (৪ মার্চ) তালা উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সকল ইউনিটের সম্মিলিত আয়োজনে এ মানববন্ধন হয়।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে ও তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ারদার, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মমিন, অর্থ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংবাদিক শেখ মখফুর রহমান জান্টু, আব্দুল মতিন, উপজেলা প্রেসক্লার সহসভাপতি আবু সাঈদ, তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম এ ফয়সাল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য সানজিদুল হক ইমন নাজমুল হাসান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, শ্যামনগরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের সহ পাটকেলঘাটার দুজন সাংবাদিকের ওপর মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসানোর তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি ও শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির ‘যুবলীগ, যুবদল ও যুব জামাত মিলে বালুমহাল লুট’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করায় সন্ত্রাসী হামলা শিকার হন। তাছাড়া পাটকেলঘাটা জোড়া টাওয়ার রোডে ১/১ খতিয়ানের সরকারি সম্পত্তি ১৮ লাখ টাকায় হস্তান্তরের তথ্য আনতে গেলে সাংবাদিককে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে জখম করে অর্থের বিনিময়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজি মামলায় ঢুকিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তালা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


banner close