সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

ভাটিয়ারীতে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:০১

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে ময়মনসিংহগামী যাত্রীবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিজয় এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ চলছে। অন্য লাইন সচল আছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

লাইন পরিবর্তনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব ঘিরে চবির বিজয় ২৪ হলে ‘সচেতনতা বৃদ্ধি’ সেমিনার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজয় ২৪ হলে নারী শিক্ষার্থীদের সাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ চলাচল বিষয়ে ধারণা দিতে ‘Snake Awareness Seminar’ শীর্ষক একটি সেমিনার হয়েছে।

গত রোববার (১২ জুলাই) বিজয় ২৪ হল সংসদ, Society for Snake & Snakebite Awareness (3SA) এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের দাবি, বিজয় ২৪ হলে এটিই এ ধরনের প্রথম সেমিনার। ক্যাম্পাসে সম্প্রতি সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন।

বিজয় ২৪ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া মাহসীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা পারভীন। তিনি এ আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান তার বলেন, ‘সাপ হত্যা বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ধরা কোনো সমাধান নয়; সাপও বাস্তুতন্ত্রের (ইকোসিস্টেম) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পলিথিন দিয়ে সাপ ধরা গ্রহণযোগ্য নয়। বর্ষাকালে চলাচলের সময় ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন এবং সচেতনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় অতীত ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে থাকার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ‘সাধারণত সাপ খোলা আলোতে বা পরিষ্কার জায়গায় দেখা যায় না। তাই ঝোপঝাড় ও অনিরাপদ পরিবেশে চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান, আলোচক প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার, বিজয় ২৪ হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. আকিকুল হক, হল সংসদের ভিপি সানু আক্তার (নদী), এজিএস শাম্মী আক্তার সুরভী, দপ্তর সম্পাদক আবিদা সুলতানা, সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক তাহিয়া রহমান নুহা, ডাইনিং, ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক সাদিয়া নাসরিন, নির্বাহী সদস্য রেহানা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।


ভৈরবে ধসে পড়ল শত বছরের ভবনের একাংশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রাতে হঠাৎ ধসে পড়ল শত বছরের পুরোনো বিল্ডিংয়ের একাংশ। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল দোকানি ও পথচারীরা।

গত রোববার (১২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ভৈরব শহরের দুধ বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ভৈরব বাজার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় লোক সমাগম কম থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরের দুধ বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী তারিক আহমেদের মালিকানাধীন শত বছরের পুরোনো বিল্ডিংটি ভৈরব পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অপসারণের জন্য একাধিক নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত করেনি। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুরোনো দুইতলা ভবনের বিভিন্ন রুমে গুদামঘর ও নিচ তলায় দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিল। গত রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে শত বছরের পুরোনো ভবনের একাংশ বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। এ সময় ভবনের নিচে থাকা কয়েকজন পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী বিকট শব্দ শোনে দোকানঘর থেকে দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করে। পরে খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার স্টেশনের লোকজন এসে দুর্ঘটনা স্থলটি জনসমাগম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দুর্ঘটনা স্থলটি পরিদর্শন করেন ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন।

ভৈরব বাজারের পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী নজরুল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিনের মতোই সন্ধ্যায় দোকানে বসে ডিম বিক্রি করছিলাম। আজকে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় ক্রেতা কম ছিল। হঠাৎ করে একটা শব্দ শোনে দ্রুত দোকানঘর থেকে দৌড়ে বের হয়। এ সময় দোকানের পাশে থাকা শত বছরের পুরোনো ভবনের বারান্দার ছাদের অংশ ধসে পড়ে। অল্পের জন্য আমার জীবনটা রক্ষা পেলাম।’

স্থানীয় বাসিন্দা রক্ত সৈনিক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এই ভবনটিতে ব্যবসায়ী কার্যক্রম চালাচ্ছিল। আজকে সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ভবনের অংশ ধসে পড়ল। এখন যদি দ্রুত এই ভবনটি অপসারণ না করা হয় তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি অপসারণের কাজ শুরু করা।’

ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনসমাগম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ জানান, ভবনটি দীর্ঘদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মালিককে অপসারণের জন্য একাধিক নোটিশ দেওয়ার পরও অপসারণ করেনি। এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ যদি ভবনটি দ্রুত অপসারণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার প্রবণতা রয়েছে। ভবন মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ে আস্থা বাড়াতে ‘ইসলামী ব্যাংক’―এর মাসব্যাপী গ্রাহকসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের অগ্রযাত্রায় গড়ি আগামীর বাংলাদেশ, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাসব্যাপী গ্রাহকসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেশবপুর শাখায় গ্রাহক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কেশবপুর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) সেলিম চৌধুরী।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেশবপুর নিউজ ক্লাব ও কেশবপুর পৌর বাড়ি মালিক সমিতির সভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. বুলবুল কুদ্দুস এবং ইসলামী ব্যাংক কেশবপুর শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) আব্দুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে এভিপি সেলিম চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংক সবসময় গ্রাহকবান্ধব ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের নিরাপদ ও সহজ লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো হলে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের অর্থনীতি সমানভাবে উপকৃত হয়।

তিনি আরও জানান, যেসব গ্রাহক ১ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত MTDRA, MSB, MMPDS এবং MSSA হিসাব প্রি-ম্যাচিউর অবস্থায় বন্ধ বা নগদায়ন করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট হিসাব পুনরায় চালু করলে ব্যাংক সব ধরনের চার্জ ও খরচ মওকুফ করবে এবং হিসাবগুলোকে চলমান হিসাব হিসেবে গণ্য করবে। এ সুবিধা গ্রহণে আগ্রহী গ্রাহকদের নিজ নিজ শাখায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রাহকদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি ব্যাংক মানুষের আস্থা অর্জন করে। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকসেবা মাসের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। তিনি প্রবাসী আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার ওপরও কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও গ্রাহকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও উন্নত, দ্রুত ও কল্যাণমুখী সেবা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।


প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে মাদারীপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি 

দক্ষিণবঙ্গের বরিশালে ১৩ ই জুলাই সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদারীপুর অংশে হাজার-হাজার বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বতঃস্ফূর্ত জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হলেন । সোমবার (১৩ ই জুলাই) প্রত্যুষে ঢাকা থেকে নির্ধারিত বিশেষায়িত বুলেটপ্রুফ বাসযোগে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল ৮:৩০ টার দিকে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক হয়ে তিনি দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশ্যে মাদারীপুর অংশ অতিক্রম করেন।

বরিশালে তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও জনসভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। মাদারীপুর জেলা অতিক্রমকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এসময় মাদারীপুরের শিবচর পদ্মা সেতু এলাকা, পাচ্চর, রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট, রাজৈর বাসষ্ট্যান্ড, মাদারীপুর সদরের মস্তফাপুর বাসষ্ট্যান্ড, কালিকিনি ও ডাসার উপজেলার ভূরঘাটায় হাজার-হাজার বিএনপি'র নেতা-কর্মী-সমর্থক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পথচারী ও স্বতঃস্ফূর্ত উৎসুক জনতা তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য মহাসড়কের দু'পাশে ভিড় জমান এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় বাসের অগ্রভাগে থেকে সবাইকে ছালাম বিনিময় করে ও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে সকাল থেকেই সক্রিয় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর-২, ৩ ও নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে- জাহান্দার আলী মিয়া, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হেলেন জেরিন খান এমপি সহ জেলা বিএনপি'র আহবায়ক এডভোকেট জাফর আলী মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী মস্তফা (জিপি জজকোর্ট), পৌর বিএনপি'র সভাপতি (পিপি) শরীফ সাইফুল কবীর সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা মুহুর্মুহু বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দক্ষিণবঙ্গে স্বাগত জানান।


বন্যা ও পাহাড়ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১, পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাতটি জেলায় প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বন্যার ভয়াবহতায় এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৫৯টি উপজেলা বর্তমানে প্লাবিত। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাণ হারানোদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ জন কক্সবাজারের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ বর্তমানে কার্যত বিচ্ছিন্ন। বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নৌকাই এখন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শেলী আক্তারের ঘরের মেঝেতে এখনও পানি বইছে। চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো এই নারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘চোখত ঘুম নাই, পেডত ভাত নাই। বইন্যার পানি হত্তে নামিব, ন জানি। এরহম দুর্দশাত ক্যানে পইড়লাম। আরেক্কান ঘর তুলিবার টিঁয়াও নাই।’ তাঁর মতো লাখো মানুষের ঘরে উনুন জ্বলছে না এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ নলকূপ তলিয়ে থাকায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জেলার নিচু এলাকাগুলোতে এখনও দুই থেকে আড়াই ফুট পানি স্থির হয়ে আছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সিরাজ মিয়া তাঁর দুরাবস্থা বর্ণনা করে বলেন, ‘ঘরে পানি। গরু-ছাগল নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়েছে। কৃষিজমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পানি না নামলে আরও বড় ক্ষতি হবে।’ সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনাতেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে নদ-নদীর তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আগামী এক দিনের মধ্যে কিছুটা উন্নত হতে পারে, তবে সিলেট অঞ্চলের উন্নতি নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর। তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পানি নামতে শুরু করলেও সেখানে অবকাঠামো ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। জুম খেত ও আমন-আউশের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও অনেক এলাকার সড়ক ও সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে।


বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জনতার ঢল, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম সাইদুর রহমান, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

সরকার গঠনের পর প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচর অংশে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবার লক্ষ্য ছিল একটিই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখা এবং তাঁকে স্বাগত জানানো।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে গুলশানের বাসভবন থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর গাড়িবহর শিবচরের কাঁঠালবাড়ি সীমানা এলাকা থেকে পাচ্চর, বন্দরখোলা, সন্ন্যাসীরচর, দত্তপাড়া ও সূর্যনগর এলাকা অতিক্রম করার সময় মহাসড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষ ফুল ছিটিয়ে, স্লোগান দিয়ে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

সকাল থেকে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও অঝোর ধারায় বৃষ্টি হলেও নেতা-কর্মীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। অনেকে হাতে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করেন। কেউ মাথায় মাথাল ও হাতে ধানের শীষ নিয়ে কৃষকের বেশে, আবার কেউ জেলের সাজে উপস্থিত হয়ে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর শিবচরের পাচ্চর এলাকায় পৌঁছালে মুহূর্তেই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপস্থিত জনতার ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর এই আন্তরিক অভিবাদনে নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়।

শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাওন চৌধুরী বলেন, “দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা এবং ভালোবাসা থেকেই আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছি।”

শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের প্রিয় নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী এই পথ দিয়ে বরিশাল যাচ্ছেন। তাঁকে স্বাগত জানাতেই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য ভোর থেকেই উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শিবচর অংশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো সফর নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন।


নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডোমারে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। অপর নিহত ব্যক্তি ভ্যানচালক। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভ্যান ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালকসহ একই পরিবারের আরও তিনজন যাত্রী নিহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুইজনকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নাদিয়াপাড়ার অলি বর্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮), দুই ছেলে পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।

মটকপুর নদীরপাড় এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং ট্রাকটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কুমিল্লায় শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখানোর অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে তার এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভিডিওতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখতে যাওয়া মেহেদী হাসান একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে তদন্ত শেষে শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ছাত্র মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।


শ্রীমঙ্গলের ১৩৮ বিদ্যালয়ের ৮১টিতে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট চলছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা–সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ৮১টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫টিতে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বা পদায়ন স্থগিত ছিল। অপর ৪৬টি বিদ্যালয়ে পদোন্নতি কার্যক্রমে জটিলতা এবং নতুন নিয়োগ বা পদায়ন না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের চাপের কারণে তাদের অনেকেই শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়ছে।

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মধ্য থেকেই একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয় পরিচালনার পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্যের ঘটনাও রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৬টি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বাকি বিদ্যালয়গুলো ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জাতীয়করণের আওতায় আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পাঠদানে সময় কম দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষকদেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলছে।

চাতালী চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজয় নুনিয়া বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে তাদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সরকারি গেজেট প্রকাশের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নামের পাশে প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সহকারী শিক্ষক উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয় এবং আদালত একাধিকবার তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি। আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে গেজেট সংশোধন করে আমাদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমরা প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবক নারায়ণ, ইকবাল ও জয়কুমার বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানও করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না।

তাদের মতে, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়ন জরুরি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে ৫৭ জন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং ৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলার কারণে ৩৫টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বা পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ওই মামলার রায় হয়েছে। রায় বাস্তবায়িত হলে স্থগিত থাকা ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বা নতুন পদায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষক সংকট অনেকাংশে কমবে এবং বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং সামার-২০২৬ টার্মে ভর্তিকৃত ৫৪৬ নবীন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভুঁইয়া,অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফুল ও ফলজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গবেষণাভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি ও ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম। সামার-২০২৬ টার্মে স্নাতক পর্যায়ে ৫১৩ জন, স্নাতকোত্তরের ৩০ জন এবং পিএইচডি’র ৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর। পরে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় সভাপতির বক্তব্যে গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘‘ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের উচ্চশিক্ষা ও কৃষি গবেষণার অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিং ২০২৬-এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি-১-এ বিশ্বে ৮২তম, এসডিজি-২-এ ৬৬তম এবং এসডিজি-৪ সূচকে ১০১-২০০-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (উরি) ২০২৬-এ “অর্থনৈতিক উন্নয়নমুখী প্রযুক্তি হস্তান্তর” ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে ২৩তম এবং কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস: সাসটেইনেবিলিটি ২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর ৬টি উন্নত জাতের উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে এবং এ পর্যন্ত গাকৃবি ৯৭টি উচ্চফলনশীল জাত ও ২০টির বেশি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অন্যদিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।


সিরাজগঞ্জের ৩১ ইউনিয়নে বন্যার ঝুঁকি, ৯৩ মেডিকেল টিম গঠন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫১
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় মানুষের জানমালের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তেমনই সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এবং জেলার মধ্যে দিয়ে চলনবিল বয়ে যাওয়ায় এ জেলাতেও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি জেলায় সম্ভাব্য বন্যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোট ৯৩টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে তারা। রোববার বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন।

তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যার কথা চিন্তা করে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ও সেবা নিশ্চিতে ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি, ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং জেলায় ১টিসহ মোট ৯৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সকল উপজেলায় জরুরি ওষুধ, স্যালাইন, সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনাম, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এ সময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম, পরিসংখ্যানবিদ হুমায়ুন কবির, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্নাসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


চলনবিলে বন্যার পানি আসায় নৌকা তৈরির ধুম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। দিন দিন বাড়ছে পানি। বর্ষা ঋতুর আগমনে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। দিনরাত এক করে নৌকা তৈরি করছেন তারা। নতুন নৌকার পাশাপাশি অনেকে আবার পুরনো নৌকা মেরামতের জন্য ছুটছেন তাদের কাছে। সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালে চলনবিল ও আত্রাই নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করে থাকেন। তাই এ সময় ব্যাপকভাবে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়।

বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে কার্তিক পর্যন্ত ৫ মাস বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম ও পথঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার ও মাছ ধরার কাজে একমাত্র বাহন হয় নৌকা। তাই বর্ষাকালে বেড়ে যায় নৌকার কদর।

যারা জেলে পেশায় রয়েছেন, তারা এখনই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণে চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। আর নদীর আশপাশের এলাকার কেউ কেউ পুরনো নৌকায় লাগাচ্ছেন আলকাতরা, আবার কেউ বা দিচ্ছেন জোড়াতালি। কেউ কেউ তারকাঁটা ও লোহার পাত দিয়ে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ত।

সরেজমিনে উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়া, বড়িয়া, ডাহিয়া ও বিয়াশ ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায় নৌকা তৈরির কারিগররা নতুন নৌকা তৈরি ও পুরনো নৌকা মেরামত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কারিগররা বলছেন, নৌকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া এলাকায় পুরনো নৌকা মেরামতের কাজ করছেন এক কাঠমিস্ত্রী। তিনি জানান, সারা বছর কাঠের কাজ করেন। বর্ষার এই সময়ে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এতে তার বাড়তি কিছু আয় হয়।

পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার কারখানায় কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি হয়। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটাসহ বিভিন্ন উপকরণ লাগে। এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। বেশিরভাগ ছোট ডিঙি নৌকা, যার অধিকাংশই মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হয়। এ বছর ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কাঠের নৌকা বিক্রি করছি ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা ও প্লেন সিটের নৌকা বিক্রি করছি ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকা দরে।

নৌকা তৈরির কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, বর্ষাকালে দিনে ২টি থেকে ৩টি নৌকা তৈরি করে থাকি। নৌকাভেদে মজুরি পাই ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে। এছাড়া সারাবছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাঠের অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার চলে।

নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে। সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম অনেক বেশি।

উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর এলাকা থেকে নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, ‘চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি।

চলনবিলের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানান, কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে খরচ অনেক বেশি লাগছে।

নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতিদিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। কাঠের দাম বেড়েছে, তারপরও মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে’।


টাঙ্গাইলে সোহেলের হাতে ফিরছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাকরখানি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

বাকরখানি শুধু একটা রুটি না, এটা মুঘল আমলের একটা প্রেম-কাহিনী আর ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বাকরখানি এখন তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরেই। শহরের পার্ক বাজারের ব্যস্ততম এলাকা শনির আখড়ার সামনে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর সোহেল মিয়া তৈরি করছেন বাকরখানি। তার হাত ধরেই মুঘল আমলের স্বাদ এখন টাঙ্গাইলবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। সোহেল মিয়ার দোকানে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়। দাম প্রতি কেজি মিষ্টি বাকরখানি ২২০ টাকা, নোনতা ২০০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা। কেজিতে গড়ে ২৪টি বাকরখানি ধরে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকরখানির মিষ্টি সুগন্ধ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। দিনে গড়ে ৪ হাজার টাকার বাকরখানি বিক্রি হচ্ছে এখানে। ভাগিনা শাহিন মিয়া মামাকে সাহায্য করেন। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন শহরের আদালত পাড়া এলাকায়।

সোহেল মিয়ার আদি বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসে বাকরখানি তৈরির কাজ শেখেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন।

দুই বছর হলো টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক বাজারে মির্জা বাহরুলের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে লাকড়ি বা কয়লার চুলায় বাকরখানি তৈরি হতো। এখন মাইক্রোওভেনে বানাই। টাঙ্গাইলের মানুষ এখনও পুরোপুরি বাকরখানি খাওয়া শেখেনি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ঘি, ময়দা, চিনি, দুধ, তিল-এগুলোই বাকরখানির তৈরির মূল উপাদান।

শহরের কোদালিয়া এলাকার নাজমুল আহসান ঢাকার লালবাগে থাকতেন। সেখান থেকেই সকালের চায়ের সাথে বাকরখানি খাওয়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য ২ কেজি নোনতা বাকরখানি নিলাম। সকাল-সন্ধ্যার চায়ের সাথে খাব।

স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিনকে নিয়ে আসা মিলি বেগম বলেন, ছেলের পছন্দ মিষ্টি বাকরখানি। তাই ১ কেজি ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। এখানকার স্বাদ ও মান দুইটাই ভালো। বাজার করার ফাঁকে মাঝে মাঝে কিনে নিয়ে যাই।

জানা গেছে, বাকরখানির জন্ম ১৭ শতকে মুঘল আমলের ঢাকায়। মুঘল সুবেদার ও নবাবরা সকালের নাস্তা ও চায়ের সাথে এটা খেতেন কারণ এটি সহজে নষ্ট হয় না।

নামকরণের পেছনে আছে করুণ প্রেম কাহিনী। মুঘল আমলে ঢাকার নায়েবে নাজিম মির্জা বাকর খান প্রেমে পড়েন নর্তকী খানি বেগমের। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাদের মিলন হয়নি। শোকে বাকর খানের জন্য রাঁধুনি যে শক্ত রুটি বানিয়েছিলেন তার নাম হয় বাকর + খানি = বাকরখানি।

আদিতে এই সুস্বাদু খাদ্য ২ প্রকার ছিল: গায়ে গায়ে বাকরখানি: পাতলা, খাস্তা। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া হতো।

চাল্লা বাকরখানি: মোটা, নরম। উপরে তিল-পোস্ত দেওয়া থাকতো। পরে যোগ হয় মিষ্টি, নোনতা, চিনি ও মাওয়া বাকরখানি। ব্রিটিশরা একে ‘Bengal Biscuit’ বলতো। পুরান ঢাকার লালবাগ, নাজিরাবাজার, চকবাজার ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশভাগের পর এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মুঘল আমলের সেই প্রেম আর ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে। সোহেল মিয়ার মতো কারিগরদের হাত ধরে ঐতিহ্য টিকে থাকুক-এমনটাই প্রত্যাশা টাঙ্গাইলবাসীর।


banner close