বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

নানা হত্যার অভিযোগে নাতি আটক

প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নাতি তার নানাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাতি আব্দুল খালেককে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মশাখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে শ্রীপুর উপজেলার বড়চালা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত আব্দুল হক মাদবরের ছেলে হারুন মাদবর মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পেছন থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান খালেক।

পরে পরিবারের লোকজন হারুনকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে রাত ৩টায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। সকালে আব্দুল হক মাদবরকে ঘরে না পেয়ে সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ঘরের মেঝেতে বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আব্দুল হকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। নিহতের মাথা ও নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আব্দুল খালেক তার নানাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়েছেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে নানাকে হত্যা করে পালিয়ে যান আব্দুল খালেক। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৪৭
প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় মাহবুব আলম শিপুল নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে জেলা পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। ওই কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার শিপুল কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স গ্রামের বাচ্চুর ছেলে। তিনি নবগঠিত কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। দীর্ঘ দিন ধরে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় বসবাস করছেন।

পুলিশ জানায়, ৪ মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল শিপুল। সোমবার সকালে ফের ধর্ষণের ঘটনাটি ওই কিশোরীর চাচি দেখে ফেলে ডাকচিৎকার শুরু করলে পালিয়ে যায় শিপুল। এ ঘটনার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের মামলায় যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানান ওসি।

বিষয়:

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠের দিকে দলটির নেতা-কর্মীদের ঢল দেখা গেছে।

জনসভায় অংশ নিতে কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলা এবং বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা ছুটে আসছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে কক্সবাজারে পড়েছে সাজ সাজ রব।

জনসভা মঞ্চ থেকেই শেখ হাসিনা কক্সবাজারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এক হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ পুনর্নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে এর মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৬ মে এ স্টেডিয়ামেই আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দিন পর সৈকত শহর কক্সবাজারে তার এ সফর ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সভাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হাসপাতাল মোড়, প্রধান সড়কের পালের দোকানের পশ্চিমে কোনো ধরনের যানবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বন্ধ রাখা হয়েছে মেরিন ড্রাইভে সাধারণ যান চলাচল।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে নেতা-কর্মীরা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। সকাল ১০টার পর থেকে তারা সভাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। প্রায় দুই লাখ মানুষ কক্সবাজারে ঢুকে পড়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পুলিশের সদস্যরা নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। সাজানো হয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।

তিনি বলেন, ‘এই দুটি অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্যসহ চার হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।’

দুপুর ২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা মঞ্চে আসবেন।

বিশ্বের ২৮টি দেশের অংশগ্রহণে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ (আইএফআর) বুধবার ইনানীতে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিষয়:

ভোলায় নুডলস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে তরুণ নিহত

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৭
প্রতিনিধি, ভোলা

ভোলায় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে নুডলস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রিদয় (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চেউয়াখালি গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রিদয় ওই গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। আহতরা হলেন, একই গ্রামের মহিউদ্দিন (২৮) আব্দুল্লাহ (২৫), লিটন (২৩), শাহাবুদ্দিন (২০), নয়ন (১৮), অলিউল্লা মুন্সী (৫৫), অলিউল্লাহ ফরাজি (৩৫), আশিক (২০) ও তালহা (১৮)। পরে তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার আর্জেন্টিনা খেলার দিন সমর্থকরা নুডলস খাবার আয়োজন করেন। এই নিয়ে দুই সমর্থক আকবর ও আশিকের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। পরে এ ঘটনায় দুটি পক্ষ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে জাড়ায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিদয়সহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। বুধবার ভোরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিদয়কে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিস উদ্দিন জানান, নুডলস খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে আহতবস্থায় উভয়পক্ষের দশজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাইমুল হাসনাত বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়:

সাবলা গ্রামে কুমড়া বড়িই আয়ের উৎস

কুমড়া বড়ি তৈরি করে রোদে দিচ্ছেন এক কারিগর। সম্প্রতি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাবলা গ্রামে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:১৬
আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, বগুড়া

ব্রজেন চন্দ্র মোহন্তের বয়স ৬৫। প্রতিবছর শীত এলেই তৈরি করেন কুমড়া বড়ি। এর আগে তৈরি করেছেন তার বাবা-দাদা। ব্রজেনদের পরিবারে কুমড়া বড়ি তৈরি শুধু ঐতিহ্যই নয়, জীবিকার অন্যতম উৎস।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সাবলা গ্রামের বাসিন্দা ব্রজেন চন্দ্র। এ গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দার পূর্বসূরিদের পেশা ছিল কুমড়া বড়ি তৈরি। বর্তমানে তা এ গ্রামের মানুষের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কারিগরদের দাবি, সাবলা গ্রামে প্রতি মাসে অন্তত ৩৫ লাখ টাকার কুমড়া বড়ি বিক্রি হয়।

কুমড়া বড়ি উত্তরাঞ্চলের মানুষের খাবারের একটি অংশ। মাষকলাই ও চাল কুমড়া দিয়ে তৈরি হয় কুমড়া বড়ি। মূলত শীতকালেই এটি তৈরি ও খাওয়ার চল বেশি।

সাবলা গ্রামের কুমড়া বড়ি তৈরি নিয়ে ব্রজেন চন্দ্র বলেন, এ গ্রামে প্রায় ৬৫ ঘর কুমড়া বড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। প্রত্যেক বাড়ি প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কেজি বড়ি তৈরি করে। আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় বড়ি তৈরি। চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এই বড়ি তৈরি করে বিক্রি করা হয়।

ব্রজেন চন্দ্র আরও বলেন, যখন ৫ কেজি মাষকলাইয়ের ১৫ টাকা ছিল, তখন থেকে তিনি বড়ি তৈরি করছেন। বাবার হাত ধরে এ পেশায় এসেছেন। তার সন্তানরাও একসময় কুমড়া বড়ি তৈরির হাল ধরবে।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে নাগর নদের তীরে সাবলা গ্রাম। গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী। শীতকালে গ্রামের প্রবেশমুখ থেকেই চোখে পড়ে চাটাইয়ের ওপর সারি করে বিছানো সাদা মাষকলাইয়ের তৈরি কুমড়া বড়ি। গ্রামের ভেতরে গৃহিণীরা বাড়ির ছাদে একত্রে দল বেঁধে বা কেউ কেউ মাটিতে মাদুর পেতে বড়ি তৈরির কাজ করছেন। এ কাজে নারীদের হাতের ছোঁয়াই বেশি। তবে বাড়ির পুরুষদের ভূমিকা কম নয়। তারা জাতায় কালাই পেষেন। বড়িও বানান। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছোটরাও শিখে নেয় বড়ি তৈরি।

অন্য সব ব্যবসার মতো এতেও দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে বলে জানান স্থানীয় রামকৃষ্ণ মোহন্ত। গত মৌসুমে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকার বড়ি বিক্রি করেছিলেন।

রামকৃষ্ণ বলেন, গত বছর ৫০ কেজির মাষকলাইয়ের বস্তার দাম ছিল ৩ হাজার ৮০০ টাকা। এ বছর কিনেছেন ৫ হাজার ৬০০ টাকায়। এ কারণে এবার কুমড়া বড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারিগররা জানান, প্রত্যেক ঘরে প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কেজি কুমড়া বড়ি তৈরি ও বিক্রি হয়। তারা দুই ধরনের কুমড়া বড়ি তৈরি করেন। একটি সাধারণ মানের। আর ভালোটি শুধু মাষকলাই দিয়ে তৈরি। এর দামও বেশি।

সাধারণ বড়ি পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি ১৫০ এবং ভালোটি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। খুচরা হিসাবে ভালো মানেরটি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

কাহালুর বিবির পুকুর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন পাঁচ বছর ধরে কুমড়া বড়ির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে সাবলা গ্রাম থেকে ৩ মণ বড়ি কেনেন। এখানকার বড়ির মানও ভালো।


নেই বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম তৈলংপাড়া, গ্রামটিতে নেই বিদ্যুৎ, স্কুল, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৮
সালাহ্উদ্দিন শুভ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও তৈলংপাড়া আদিবাসী গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্কুল কিংবা স্বাস্থ্যসেবা। ফলে কষ্টে জীবনযাপনের কথা জানিয়েছেন এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ।

উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি। আর তৈলংপাড়া গ্রাম ইসলামপুর ইউনিয়নে। দুই গ্রাম মিলিয়ে পরিবার আছে ১২৩টি। গ্রামের বাসিন্দারা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের। তারা কুয়ার পানি পান করেন। বিভিন্ন সময় শিশুরাসহ অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে।

তৈলংপাড়ার বাসিন্দা ইতি দেব বর্মা বলেন, হাসপাতালে যেতে হলে ৬ কিলোমিটার দূরে বাইসাইকেল চালিয়ে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আনতে হয়। ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক না থাকায় অটোচালকদের কল করে ডাকার সুযোগ নেই। অসুস্থ হলে অনেক কষ্ট করতে হয়।

তৈলংপাড়া গ্রামের আদিবাসী নেতা করুনা দেব বর্মা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি কাদাযুক্ত সড়ক যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কেউ তাদের নীরব কান্না শুনতে পান না। গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারম্যান জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, ‘চার বছর ধরে বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেন না। বনের অন্য পুঞ্জিগুলোয় বিদ্যুৎ দেয়ার সময় কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে বন বিভাগের যত সমস্যা।’

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, বন বিভাগের ছাড়পত্র না থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

আর সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তৌফিকুল ইসলাম বলেন, রিজার্ভ ফরেস্টে বিদ্যুৎ দেয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিষেধাজ্ঞা আছে।

তবে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বিষয়ে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সংরক্ষিত বনে বিদ্যুৎ দেয়া বন আইনে নিষেধ, কিন্তু সেখানে কীভাবে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে তা জানেন না। বিষয়টি বন বিভাগের বন্য প্রাণী বিভাগের দায়িত্বে, সিলেট বন বিভাগের নয়।

সংরক্ষিত বনে বিদ্যুৎ দেয়ার ক্ষেত্রে বন বিভাগের বাধার বিষয়ে উপপ্রধান বন সংরক্ষক গোবিন্দ রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, প্রধান বন সংরক্ষককে জানান। তৈলংপাড়ায় বিদ্যুৎ দেয়ার বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।’

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ হলো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো, কিন্তু আমার এলাকার কালেঞ্জীপুঞ্জিসহ দুই-তিনটা গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, তিনি ত্রিপুরা পল্লি ও কালেঞ্জীপুঞ্জি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কিছু পরিবারে সোলার ব্যবস্থা আছে। এ বছর উপজেলা পরিষদের এডিপি থেকে রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে এবং আগামী বছর নিরাপদ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।

ইউএনও বলেন, বন বিভাগের জায়গায় বসতি হওয়ায় বন বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ দিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়েছে। যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ যায়নি সেসব জায়গায় হয়তো আইনগত বাধা আছে। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে।

পানি ও যোগাযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইউএনওকে বলে একটা প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।


হাত ধোয় না ৭০ শতাংশ মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাসেল আহমেদ, রূপগঞ্জ

করোনাকালীন দেশে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে হাত ধোয়ার ওপর জোর দেয়া হয়। তবে সম্প্রতি দুটি প্রতিষ্ঠানের জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের চার উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ হাত ধোয়ার অভ্যাস ভুলে গেছেন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলার ৬ হাজার ৩০০ জনের ওপর এ জরিপ চালায়। ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ পুরুষ-নারী নিয়মিত হাত ধোয় না। আর গত মে-আগস্ট মাসে আশা-এর জরিপে অংশ নেন ১ হাজার ৬২০ জন। এখানের ৬৫ শতাংশ মানুষ হাত ধোয়ায় অভ্যস্ত নয় বলে জানায় আশা।

ব্র্যাকের জরিপের তথ্য অনুযায়ী হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে আছেন। করোনার সংক্রমণের সময় ৫২ শতাংশ পুরুষ এবং ৬৫ শতাংশ নারী নিয়মিত হাত ধুয়েছেন।

বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ব্র্যাকের চালানো জরিপে দেখা গেছে, বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দিলেও অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই এই একটি প্রাথমিক করণীয়কে অবহেলা করেন। কিন্তু এর ফলে অনেক মারাত্মক ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। রোগী দেখার পরে হাত ধুয়ে থাকেন মাত্র ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী।

শিক্ষানবিশ নার্সদের মধ্যে হাত পরিষ্কার রাখা নিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসী প্রবণতা দেখা যায়। যাদের পেশাগত কারণে খাদ্যদ্রব্যে হাত দিতে হয়, তারা অনেক সময়ই ভুলে যান যে, তাদের স্পর্শ থেকে অন্য কেউ ‘ফুড পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্স বলেন, ‘এটা কখনো ভেবে দেখিনি। আর এ কারণেই হাত ধোয়া হয় না।’

ব্র্যাকের জরিপ-সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা সংক্রমণের পটভূমিতে হাত ধোয়া ও এর সঠিক নিয়মের অনেক প্রচারাভিযান চলেছে। ঘৃণার উদ্রেক হয়, এমন ভিডিও যারা দেখেছেন, তাদের হাত ধোয়ার প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একজনকে হাত ধোয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যায়। এ উদ্বুদ্ধকরণ চালিয়ে গেলে একটা আচরণ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।

রূপগঞ্জ উপজেলা ব্র্যাকের শাখা ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাত না ধোয়ার কারণ শুধুই আলস্য নয়। এর অনেক মানসিক কারণ আছে। এর সঙ্গে মানুষের নিজস্ব চিন্তাধারা, ভ্রান্ত আত্মবিশ্বাস, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা বা তাদের ঘৃণাবোধের মাত্রা- এমন অনেক কিছুই সম্পর্কিত।’

আশার জরিপের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ফারুক শেখ বলেন, ‘ধূমপান বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মতো কাজে এর (হাত না ধোয়া) দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এ ধরনের লোকেরা সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা আসলে কতটা, তা আন্দাজ করতে পারেন না।’

রূপগঞ্জের নগরপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘সিগারেট খেলে হাত ধুইতে হবে কেন? এটাতো ধোঁয়া, কোনো সমস্যা হয় না।’

সম্প্রতি রূপগঞ্জের অজপাড়াগা কায়েতপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, হাত না ধুয়েই তিন বছর বয়সী রক্তিম নাশতা খাচ্ছে। একটু পর বাড়ির উঠানে গিয়ে মলত্যাগ করার সময় এ হাতে কলা খেতেও দেখা যায় তাকে।

রক্তিমের মা দুর্গা রানী বলেন, ‘পোলাপান কী হাত ধুবো। আমরাও দরকার মনে করি না।’ আর রক্তিমের দাদা নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘কামের চাপে আমরা বড়রাই হাত ধুই না। আর গুড়াগাড়ার (ছোটরা) কতা তো বাদই দিলাম। করোনা আছিলো তহন ডরে হাত ধুইছিলাম।’

গত এক সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের ৪ উপজেলার ১০ গ্রামের ১২টি পরিবারের অন্তত ৫৫ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনায় ছোট-বড় সবাই হাত ধুতেন। এখন কারো মাঝে এ অভ্যাস আর নেই। হাত ধোয়ার গুরুত্ব জানার পরও অবহেলার কারণে অনেকেই এ কাজটি করতে চান না।

আড়াই হাজারের সলমান্দি এলাকার নরেন বিশ্বাস বলেন, ‘এত্ত কিছু বুঝি না। আমাগো জীবন কাইডা গেলোগা হাত না ধুইয়া।’

এদিকে করোনাকালে হাত ধোয়ার জন্য বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে ব্যবস্থা ছিল। তবে এখন সেগুলোর ব্যবহারের পাশাপাশি অস্তিত্বও নেই।

রূপগঞ্জ থানার দ্বিতীয় ফটকের সামনে হাত ধোয়ার একটি স্থাপনা তৈরি করা হয় করোনাকালে। গত শুক্রবার সেখানে তা আর দেখা যায়নি। গত ৮-৯ মাস আগেই তা তুলে ফেলা হয়েছে জানিয়ে থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, ‘এখন তো করোনা নেই। তা ছাড়া কেউ হাত ধুতে চায় না।’

হাত না ধোয়ার ফলে ডায়রিয়াসহ নানা অসুখ হয়। এখনো দেশের পাঁচ বছর বয়সী এক হাজার শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়জনের মৃত্যু হয় ডায়রিয়ায়। এমন তথ্য দিয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আইভী ফেরদৌসী।

এ নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হক বলেন, ‘হাত ধোয়া দিবস (১৫ অক্টোবর) ছাড়া তাদের আর কোনো সচেতনতা কর্মসূচি তৈরি করা হয়নি।’


পাতে ফিরেছে বিলুপ্তপ্রায় ৩৬ প্রজাতির মাছ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জলাশয়ে চাষ হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় সুবর্ণ কই। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ

‘মাছে ভাতে বাঙালি’- কথাটা যেন ভুলতেই বসেছিল এই জাতি। দখল, দূষণে নদীগুলো যখন থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, তখনই ধীরে ধীরে বাঙালির পাত থেকে উধাও হতে শুরু করল গুলশা, ভেদা, গুতুম, নারকেলি চেলা, মৌরালা, তপসের মতো সুস্বাদু সব মাছ। তবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সম্প্রতি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছে ৩৬ প্রজাতির দেশীয় ছোট মাছ। এর মধ্যে ২০ প্রজাতির মাছ সারা দেশে চাষের আওতায় এসেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে।

ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ১০১ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ ইনস্টিটিউট। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাদু পানির মাছ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, দেশে স্বাদু পানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩ প্রজাতির ছোট মাছ রয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪টি। পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, মাগুর, দেশি সরপুঁটি, জাতপুঁটি, ভেদা, গুতুম, খলিশা, গজার, ফলি, চিতল, মহাশোল, নারকেলি চেলা, তিতপুঁটি ও দারকিনাসহ ইতিমধ্যে ৩৬ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির বড়-ছোট দেশীয় মাছ নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দামাদামিতে সরগরম বাজারটি। এ সময় কথা হয় জালাল উদ্দিন নামের এক বিক্রেতার সঙ্গে।

দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ছোট মাছ চাষের আওতায় এসেছে। ফলে ক্রেতাদের হাতের নাগালে এসেছে দাম। মাঝখানে অনেক দিন তো এসব মাছ পাওয়াই যায়নি বাজারে।’

কাদের মিয়া নামের আরেকজন বলেন, পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, মাগুরের দাম ছিল বেশি। বর্তমানে এসব মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে এগুলোর দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গবেষণা প্রসঙ্গে বিএফআরআইয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জুলফিকার আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, কৃত্রিম প্রজননের জন্য পুকুর, বিভিন্ন জলাশয়, হাওর-বাঁওড়, নদী থেকে সংগ্রহ করা হয় বিলুপ্তপ্রায় মাছ। এরপর দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ঝর্ণার মাধ্যমে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়। ইনজেকশন দেয়ার নির্দিষ্ট সময় পর ডিম ছাড়ে মাছ। এরপর ডিম থেকে রেণু বের হয়ে আসে। সেই রেণু পোনাকে নার্সারি পুকুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই প্রচুর পরিমাণ পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে।’

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহা আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, জলাশয় সংকোচন, পানি দূষণ এবং অতি মাত্রায় আহরণের ফলে এসব মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় বর্তমানে এগুলো বাংলাদেশে বিপন্নের তালিকায়। পুনরায় এগুলোকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে গবেষণা চলছে।

তিনি বলেন, দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার কারণে সংরক্ষণের জন্য লাইভ জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। যেসব মাছের হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলো সংগ্রহ করে লাইভ জিন ব্যাংকে রাখা হয়। পরে গবেষণা করা হয়।

পরিসংখ্যান মতে, ২০০৮-০৯ সালে চাষের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। দেশীয় মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন হওয়ায় ২০২০-২১ সালে উৎপাদন ৪ গুণ বেড়ে আড়াই লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘দেশীয় প্রজাতির মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ আছে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং রক্তশূন্যতা, গলগণ্ড ও অন্ধত্বের মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।’

তিনি বলেন, মাছের পোনা উৎপাদনে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে এসব দেশীয় মাছ চাষাবাদে পোনা প্রাপ্তি সহজতর হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।


সোনালী ব্যাংকে অনিয়ম: ‘ভুল স্বীকার’ করলেই মাফ

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:১৬
রাকিবুল হাসান, কিশোরগঞ্জ

বয়স্ক ভাতার টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, ভুয়া ওভারটাইম বিল, ঘুষ দাবিসহ সামগ্রী কেনা নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এসব অনিয়মের বিচার না করে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখাটির উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) বিরুদ্ধে।

ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী দাবি করেছেন, সব বিষয়ই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি বিষয়ের অভিযোগ ‘হুইসেল ব্লোয়ারের’ মাধ্যমে ন্যায়পাল সচিবালয় বরাবর যায়। পরে স্থানীয়ভাবে এর মীমাংসা করায় কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সম্প্রতি ওঠা চারটি অভিযোগের মীমাংসা করা হয়েছে ‘ভুল স্বীকার’ ও অর্থ ফেরত নেয়ার মাধ্যমে। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ জুলাই একজন হুইসেল ব্লোয়ার প্রধান কার্যালয়ে ভুয়া ওভারটাইম বিল নিয়ে অভিযোগ করেন। এতে কিশোরগঞ্জ শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওভারটাইম পান শুধু কর্মচারীরা (গাড়িচালক ও অফিস সহকারী)।

২০২১ সালের অক্টোবরে ৮ দিনের ওভারটাইম হিসেবে মাহফুজুর রহমান ২ হাজার ৩৬৮ টাকা বিল নেন। বিল অনুমোদনের কপিতে স্বাক্ষরের নিচে ২৭ অক্টোবরের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েক মাসের ভুয়া ওভারটাইম বিল তোলার অভিযোগ উঠলে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ফেরত দেন মাহফুজুর রহমান। এরপর আর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ওভারটাইম নেয়ার বিষয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমার অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা চলে এসেছিল। পরে ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’

ওভারটাইম বিল ভুলে কীভাবে এসেছে, তা জানতে চাইলে মাহফুজুর ব্যাংকের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বয়স্ক ভাতা বেহাত

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ১০ আগস্ট কুলিয়ারচর শাখায় বয়স্ক ভাতার ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৬ টাকা বেহাত হয়। ওই টাকা শাখার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তুহিন মিয়ার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। পরে বিভিন্ন তারিখে সেই টাকা উত্তোলন করে দুজন আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে একই বছরের ২১ অক্টোবর টাকা পুনরায় ব্যাংকে জমা রাখেন।

এ বিষয়ে কম্পিউটার অপারেটর তুহিন মিয়া বলেন, ঋণ ওঠানোর জন্য সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছিলেন। কিন্তু চেক বই ছিল আতিকুর রহমানের কাছে। এ সুযোগে টাকা তুলে খরচ করেন আতিকুর। পরে তাকে (আতিকুর) চাপ দিলে পুনরায় টাকা জমা দেন।

আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। পরে সেই টাকা আবার জমা দিয়েছি। আমি ক্ষমাও চেয়েছি।’

বিষয়টি জানার পর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি ডিজিএম। আতিকুরকে বদলি করা হয় পার্শ্ববর্তী কটিয়াদী শাখায়।

ঘুষ দাবি

সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের কটিয়াদী শাখার ঋণ কর্মকর্তা সজিব মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর এ নিয়ে ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় পাইকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ কামাল।

অভিযোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত ঋণ পাইয়ে দেয়ার নাম করে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার কথা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন না করে এক অভিযোগকারীকে ফোন করে ভীতি প্রদর্শন করেন ডিজিএম। একপর্যায়ে ওই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করেন ডিজিএম।

সামগ্রী কেনা

২০১৯-২০ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ শাখার মনিহারি দ্রব্য, কাগজ ও কম্পিউটারসামগ্রী কেনার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন যুগ্ম জিম্মাদার মো. সোলায়মান ও শওকতুল ইসলাম। তাদের মধ্যে শওকতুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ শাখায় এবং সোলায়মান প্রিন্সিপাল অফিসে কর্মরত আছেন।

সূত্র জানায়, সোলায়মান ও শওকতুল সেগুলো কিশোরগঞ্জ থেকে না নিয়ে পাকুন্দিয়া থেকে কেনেন। মূলত সেখান থেকে ফাঁকা ক্যাশ মেমো এনে ১৮০ টাকার কাগজ ৩০০ টাকা এবং ৫০০ টাকা মূল্যের টোনার ৯০০ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেন। তখন জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন এজিএম। অভিযুক্ত দুজন জাহাঙ্গীরের পছন্দের লোক হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত দুজনকে ফাঁকা ক্যাশ মেমো দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন পাকুন্দিয়ার মনির কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন।

অভিযোগুলো নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ উঠলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে যে-ই হোক না কেন। আতিকুর রহমানকে এই স্টেশন থেকে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিটি বিষয়েই আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেই কাজ করছি। কোনো কিছুই গোপন বা ধামাচাপা দেয়া হয়নি।’


পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লার তিতাসে মাছের প্রজেক্টের মালিকানা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে কুপিয়ে জহিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জহিরুল ইসলাম ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ঢাকার ইসলামপুরে কাপড় ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শনির আখড়ায় বসবাস করতেন। তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একটি মাছের প্রজেক্ট নিয়ে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সেখানে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাবসহ অন্যরা মাছ ধরতে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ১০জন আহত হন। পুলিশ গিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঢিলের আঘাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানান, আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহির পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পুলিশের সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাব ও অন্যরা। জহিরকে সোহরাবদের বাড়িতে ঢুকিয়ে গেট লাগিয়ে কুপিয়ে তার হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে জহিরের মৃত্যু হয়। এদিকে জহিরের মৃত্যুর খবরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেন তার স্বজনরা।

নিহত জহিরের ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের কেনা জায়গায় জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেলে জহির বাধা দেয়। এতে সাইফুল মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাম দাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। এ সময় আরও ছয়-সাতজন আহত হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচার চাই।

সাইফুল ইসলাম মেম্বার বলেন, আমার পুকুরের মাছ জোর করে ধরে নিতে এলে আমার লোকজন বাধা দেয়। তারা বাধা আমান্য করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, মাছের প্রজেক্ট নিয়ে পূর্ববিরোধ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ মাছ ধরতে গেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।


আখাউড়ায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছিল আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আজ ৬ ডিসেম্বর, পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রণাঙ্গন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনে আখাউড়া উপজেলায় উড়েছিল বাংলার স্বাধীন পতাকা। আর সেই পতাকা উড়াতে মুক্তিযুদ্ধে আখাউড়ায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর আখাউড়া উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী আজমপুর ও রাজাপুর এলাকায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। ৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী আজমপুরে শক্ত অবস্থান নিলে সেখানেও অবিরাম যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ১১ সৈন্য নিহত ও মুক্তিবাহিনীর দুজন সিপাহী ও একজন নায়েক সুবেদার শহীদ হন। ৪ ডিসেম্বর আজমপুরে পাক বাহিনীর মর্টারশেলের আঘাতে শহীদ হন লেফটেন্যান্ট ইবনে ফজল বদিউজ্জামান। ওইদিন সন্ধ্যায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সম্মিলিতভাবে আখাউড়া আক্রমণ করে। ৫ ডিসেম্বর তুমুল যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয়। পরে আখাউড়া ডাকঘরের সামনে লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন পূর্বাঞ্চলীয় রণাঙ্গনের প্রধান জহুর আহাম্মদ চৌধুরী।

আখাউড়ায় যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে প্রাণ হারান নারী, শিশুসহ শত শত মুক্তিকামী জনতা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতিস্বরূপ আখাউড়ার দুরুইন গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি রয়েছে। এ ছাড়া গঙ্গাসাগরের টানমান্দাইলে রয়েছে ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধার গণকবর।

শুধু তাই নয়, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন আখাউড়ার মাটিতে জন্ম নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলমগীর কবির। বাবা-মা ও পরিবারকে না জানিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে তিনি চলে গিয়েছিলেন আগরতলায়।

১৯৫২ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার আখাউড়া থানার সড়ক বাজারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই আর ছয় বোনের মধ্যে আলমগীর করিম ছিলেন তৃতীয়। ১৯৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বি এ অধ্যয়নরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর করিমের ভাগিনা রুহুল আমিন জানান, পরিবারকে না জানিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে সীমান্ত পাড়ি দেন মুক্তিপাগল আলমগীর কবির। সেখানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা হাফানিয়া শরণার্থী শিবিরে অবস্থানকালে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটিং টিমের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জেলার কসবা উপজেলার সালদানদী, কোল্লাপাথর ও কুটি রণাঙ্গনের যুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খালের ধারে স্পিডবোট নিয়ে পাকস্তানি বাহিনী শক্ত অবস্থান নেয়। গ্রামবাসীকে বাঁচাতে তারা জীবনপণ করে যুদ্ধ চালিয়ে যান। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সবাই নিহত হয়েছে ভেবে স্পিডবোট থেকে অস্ত্র আনতে খালে নেমে পড়েন আলমগীর করিম। হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বাঁচাতে গ্রামবাসী ব্যাকুল হয়ে পড়েন। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই বীর যোদ্ধা।

তিনি আরও জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর করিমকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়া হয়। তার নামে শুধু পৌর শহরের সড়ক বাজারের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আখাউড়া উপজেলায় তার আর কোনো স্মৃতি চিহ্ন নেই।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর শহীদদের স্মরণে আখাউড়া পৌরশহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলন। ৬ ডিসেম্বর সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা, উপজেলা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।


নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল আখখেতে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নাটোর

নিখোঁজের ১৪ দিন পর নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রেজাউল করিম (৩০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুরদিঘা গ্রামের একটি আখখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রেজাউল ওই উপজেলার নশরতপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পেশায় তিনি সাইকেল মেকার ছিলেন।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ২২ নভেম্বর রেজাউল বাড়ি থেকে বের হয়ে তার দোকানে যান। এরপর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা আখখেতে তার মরদেহ দেখতে পায়। পরে রেজাউলের পরিবার এসে মরদেহ শনাক্ত করে। এরপর পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

বিষয়:

কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:১৪
প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও এক যাত্রী। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নোয়াখালী-লাকসাম রেলপথের দক্ষিণ খিলা তুগুরিয়া এলাকার এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওলা গ্রামের মাকসুদুর রহমান (৬৫), একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ হাবিব (২২), একই উপজেলার খিলা ইউনিয়নের ভরণীখন্ড গ্রামের আবদুল হাইয়ের মেয়ে মইফুল বেগম (৩৫) এবং উত্তর হাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০)।

এ ঘটনায় আহত ওই যাত্রীর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, অটোরিকশাটি মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওলা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজার থেকে খিলা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় অটোরিকশাটি রেললাইনে উঠলে হঠাৎ নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে আসে। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন যাত্রী নিহত হন। পরে লাকসামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান চালক শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া এক যাত্রী আহত হয়েছেন। ত

তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। আর দুর্ঘটনা কবলিত অটোরিকশাটি সরিয়ে নিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।


অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হবিরবাড়ীর সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিনুল কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকার মৃত আহম্মেদ আলীর ছেলে। সে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতো।

ভালুকা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে যাত্রী ছাড়াই অটোরিকশা নিয়ে ভালুকা পৌর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন আমিনুল। এ সময় অটোরিকশার পেছনে দ্রুত গতির একটি মালবাহী ট্রাক ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে অটোরিকশা থেকে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই আমিনুল মারা যান।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রাকসহ চালককে শানাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


banner close