নওগাঁয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চক্র অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্র জাল দলিল, সম্পাদনে অতিরিক্ত টাকা ও নকল প্রস্তুতে অতিরিক্ত ফি আদায় করে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি সাত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে গত বছর ৯ হাজার দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। চলতি বছরেও প্রায় একইসংখ্যক দলিল সম্পাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রতি মাসে একই হারে দলিল সম্পাদন হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জমির ক্রেতা বলেন, দলিল সম্পাদনের সময় সরকারি ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি বাড়তি ১ হাজার ২০০ টাকা নজরানা দিতে হয়। তা না হলে সম্পাদন হয় না। এ ছাড়া দলিলের ভুলত্রুটি ধরেও টাকার বিনিময়ে রফা করা হয়।
সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা প্রকাশ পেলে এসব জালিয়াতির তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাটি প্রকাশিত হলে নওগাঁর জেলা রেজিস্ট্রার ব্যবস্থা নেন। এতে প্রাথমিকভাবে সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একটি দলিল সম্পাদনের সময় কয়েকজন কর্মচারী যাচাই-বাছাইয়ের পর সাব-রেজিস্ট্রার দলিল সম্পাদন করেন। এ নিয়ে নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ি মহল্লার সোহেল রানা জেলা রেজিস্ট্রার ও পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়ে।
সোহেল রানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই ১৯৮৩ সালের ৮৩৫১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে শহরের কোমাইগাড়ি মৌজার ৮ জন দাতা মিলে কিছু সম্পত্তি খলিসাকুড়ি মহল্লার তাছের উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে এ কে এম আজাদ হোসেনকে কবলা রেজিস্ট্রি করে দেন। সম্প্রতি সোহেল রানা ওই সম্পত্তির ৮৩৫১/১৯৮৩ নম্বরের দলিলের জাবেদা নকল ওঠান। নকল উত্তোলনের পরে তিনি দেখতে পান, মূল দলিলের সঙ্গে জাবেদা নকলের কোনো মিল নেই। দাতা-গ্রহীতা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দলিলের ভেতরে দাতা-গ্রহীতার নাম পরিবর্তন করে তফশিল সংযোজন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করেন। পরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ১৬৩ নম্বর ভলিউম বইয়ের ওই পাতাগুলো পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ওই দলিলটি একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সম্পাদিত হয়েছে। এ ঘটনায় নওগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আলোচনা শুরু হলে জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য নওগাঁর বদলগাছীর সাব-রেজিস্ট্রার পারভেজ মাসুদকে দায়িত্ব দেন। তার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নকলনবিশ শামিমা সিদ্দিকা, আবুল কালাম আজাদ, জুলকার ফাইন, রাশেদুল ইসলাম, নকল তুলনাকারী রাশেদুল ইসলাম রাজু, মৌসুমী আকতার, নকল পাঠক ফারহানা ইয়াসমিনকে দোষী করে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। জেলা রেজিস্ট্রার ওই সাতজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। সাময়িক বরখাস্তদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার গোলাম সামদানীর দলিলসূচি তৈরির দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা করেন না। বরং দলিল সম্পাদনের তদারকি করেন। এ কারণে দলিলের জালিয়াতি তার নজরে আসার কথা, কিন্তু তিনি তদন্তে ছাড় পেয়ে যান।
গোলাম সামদানীর দলিলপ্রতি টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, দলিল সম্পাদনের জন্য বাড়তি কোনো টাকা নেয়া হয় না।
একপর্যায়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলের ঘানি টানতে হবে।’
তদন্তের বিষয়ে নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলাম বলেন, সারা দিন দলিল, জাবেদা নকলসহ প্রচুর কাগজে স্বাক্ষর করতে হয়। এত কিছু দেখার পরিস্থিতি থাকে না। শুধু সরকারি রাজস্ব জমা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও রেকর্ডকিপারের স্বাক্ষর আছে কি না তা দেখে তিনি স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, আপাতত সাময়িকভাবে সাত নকলনবিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোহরার, রেকর্ডকিপার (মোহরার) জড়িত থাকেলও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল নকলনবিশদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। রেকর্ডরুমে কেবল অফিস সহায়ক যেতে পারেন কিন্তু উমেদারি পিওন বেআইনিভাবে রেকর্ডরুমে প্রবেশ করার অভিযোগের কোনো সমাধান হয়নি। তাই সংশ্লিষ্টরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পাবনায় সংক্রামক ব্যাধি ‘হামের’ প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। গত তিন মাসে জেলায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রতিদিন বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক মহলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই; শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারান্দার একটি কাঁচঘেরা ছোট কক্ষে হাম আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সেখানেও একটি বিছানায় দুই-তিনজন করে শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৫ জনের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু হলেও ২২ ও ৩৬ বছর বয়সী দুজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর এখন পর্যন্ত ১০৪টি সন্দেহভাজন নমুনার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩ জনের শরীরে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রাম থেকে আসা স্মৃতি খাতুন জানান, তার চার মাস বয়সী মেয়ে চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। প্রথমে জ্বর ও ঠাণ্ডা থাকলেও পরে শরীরে লাল গুটি দেখা দেয়। তিনি বলেন, ‘অসহ্য যন্ত্রণায় শিশুটি ছটফট করছে, ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না।’ তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক স্বজন। হারিয়াবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, সংকটময় মুহূর্তেও নার্সদের ডাকলে পাওয়া যাচ্ছে না এবং ঘরগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, ‘হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আমাদের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে। ৩৮ শয্যার ওষুধ দিয়ে ২০০ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে কিছু সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে জেলায় হাম পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সংগৃহীত নমুনা ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ল্যাবে পাঠাতে হয়, যার ফলাফল আসতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর সংক্রমণের হার গত বছরের তুলনায় বেশি। জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। তবে ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, যারা সাধারণত টিকার আওতাভুক্ত। কেন টিকা দেওয়ার পরও আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করা প্রয়োজন।
কুমিল্লা জেলায় রেলপথজুড়ে দেড় শতাধিক লেভেল ক্রসিং যেন এখন ‘মানুষখেকো ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব ক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। গত পাঁচ বছরে রেল দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার প্রায় ১০২ কিলোমিটার রেলপথে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে দেড় শতাধিক লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলোতেই নেই গেটম্যান, নেই নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—রেললাইনের পাশেই বাজার ও ঘনবসতি, মানুষের অসতর্ক চলাচল, যানবাহন চালকদের বেপরোয়া গতি এবং গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা।
সর্বশেষ গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। এটি কুমিল্লা অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া পূর্ববর্তী বছরগুলোতে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছ।
২০১১ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশন-সংলগ্ন অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হন।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত হন।
২০২৩ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলার তুগুরিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জন মারা যান।
২০২২ সালের ৯ মার্চ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ স্কুলছাত্রী নিহত হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, কুমিল্লার লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের ২২ কিলোমিটারে ১৪টি বৈধ ও ১৭টি অবৈধ, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের ১৪ কিলোমিটারে ৪টি বৈধ ও ১৩টি অবৈধ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা অংশে ৬৬টি বৈধ ও ৭৪টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে।
গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা অঞ্চলে ট্রেনে কাটা পড়া, ট্রেনের ধাক্কা এবং অসতর্ক পারাপারের সময় সংঘর্ষে অন্তত ৩৪৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ অনেক ঘটনা থানায় লিপিবদ্ধ হয় না।
কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, ‘জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া রেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করতে হবে এবং যেখানে সম্ভব গেট স্থাপন করতে হবে।’ তিনি পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলওভারপাস সম্প্রসারণ এবং লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কে নতুন ওভারপাস নির্মাণের দাবি জানান।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম, লাকসাম-নোয়াখালী ও লাকসাম-চাঁদপুর রুটে বেশ কিছু অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এসব স্থানে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। জনসচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. আনিসুজ্জামান ও গোলাম সারোয়ার জানান, অবৈধ লেভেল ক্রসিং কমাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গেটম্যানদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এক আলোচনা সভায় নতুন প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) পিরোজপুরে '২৫শে মার্চ গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাই স্কুলে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, “দেশভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ওপর চরম বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল। আজকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং সরকারি দপ্তরে বাঙালিদের যে পদায়ন আমরা দেখছি, তা স্বাধীন দেশ না হলে কল্পনা করা যেত না।তাই আজকের শিশু কিশোর ও তরুণ সমাজকে দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আজকের এই উন্নয়ন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের ফসল।
মূল আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরুতে পাক বাহিনী জাহাজযোগে পিরোজপুরের হুলারহাটে এসে পৌঁছায়। বীরাঙ্গনা ভাগীরথীকে মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে শহরজুড়ে টেনে নিয়ে হত্যার নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং ও মাদকের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কিশোর গ্যাং মানেই ধ্বংস। এটি পরিবার, শিক্ষা, সম্পদ ও দেশ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিত চৌধুরী বলেন, “ইতিহাস নিজে থেকে বানানো যায় না, এটি ধারণ করতে হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই সঠিক ইতিহাস জেনে নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিক জ্ঞান থাকলে কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করতে হয় না।
এর আগে জেলা তথ্য অফিসার সাইফুদ্দিন আল মাদানী স্বাগত বক্তব্য দেন। সহকারী তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন রেলের সরকারি জায়গায় একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া ও ফিরোজা বেগম দম্পতি। চার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
ঘরের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্য। টলমলিয়ে তাকিয়ে থাকে বাবার চার রাজকন্যা। একজন অকারণে হাসে, আরেকজনের হাত-পা সিকলে বাঁধা। কেউই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। অন্যসব শিশুর মতো তাদের বেড়ে ওঠা হয়নি জন্ম থেকেই তারা প্রতিবন্ধী।
প্রায় ৪৫ বছর আগে শুরু হওয়া এই দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় চার কন্যা ফেরদৌসি, সুমি, পেয়ারা ও ছামিদা। কিন্তু সুখের সেই সংসার আজ দুঃখের ভারে ন্যুব্জ। মাথার ওপর থাকা টিনের ছাউনিও এখন আর নিরাপদ নয়। বৃষ্টি নামলেই চুপচুপ করে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে, ভিজে যায় বিছানা, কাপড় আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তাদের স্বপ্ন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গোলাপ মিয়া এখন শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজ করার মতো শক্তি নেই তার। একসময় রিকশা চালানো, মাটির কাজ করা কিংবা মৌসুমি ফল বিক্রি করে সংসার চালালেও এখন তিনি প্রায় কর্মক্ষমতাহীন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে গোলাপ মিয়া বলেন, ‘আমি রেলের জায়গায় থাকি, আমার শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা। কোনো কাজ করতে পারি না, ৫ কেজি মাল নিয়ে হাটতে পারি না। দম বন্ধ হয়ে যায়। আমার ৪টা প্রতিবন্ধী মেয়ে, ওদের নিয়ে যে কী করি। মানুষের হায়াত মওতের কথা বলা যায় না আমার কিছু হলে ওদের কী হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষকে সাহায্য করতেছে আমার পরিবারকেও যদি সাহায্য করে তাহলে আমি একটু চলতে পারমু।’
মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটা আবেদন—আমি ৪টা মেয়ে লইয়া চলতে পারি না। আমারে যদি সাহায্য করে তাহলে আমি ওদের নিয়ে চলতে পারমু।’
স্থানীয় বাসিন্দা খোদেজা খাতুন বলেন, ‘গোলাপ ভাই আগে সব কাজ করতে পারত আখ বেচত, পেয়ারা বেচত, বরই বেচত। এখন শ্বাসকষ্টের কারণে কিছুই করতে পারে না। তার ৪টা মেয়ে প্রতিবন্ধী একবার ভাবেন, তারা দুজন মারা গেলে মেয়েগুলোর কী হবে?’
এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘তাদের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। সরকারিভাবে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দোকানপাট করে দেওয়া হচ্ছে, ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
এ ছাড়া জটিল রোগে আক্রান্তদেরও ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। গোলাপ মিয়ার পরিবার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
চার প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে এই অসহায় দম্পতির জীবন এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সামান্য সহানুভূতি ও সহায়তাই পারে তাদের জীবনে স্বস্তির পরশ বয়ে আনতে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসন ও রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, হকার ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় এ এলাকা নগরবাসীর জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সিটি প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই উচ্ছেদ অভিযান একদিনের নয়-এটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদের পর যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ দখল পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা আমরা কঠোর হস্তে দমন দমন করব।’
একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখছি। আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র-এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এই উচ্ছেদ অভিযান নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন শৃঙ্খলার সূচনা।’
তিনি আরও জানান, রেলক্রসিং এলাকা ও আশপাশকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার এবং নাগরিক চলাচল সহজীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর রেলক্রসিং এলাকা কিছুটা স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে। তবে তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান, যাতে পুনরায় দখলদাররা জায়গা দখল করতে না পারে।
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরকে দখলমুক্ত ও চলাচলযোগ্য রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইনানুগ উপায়ে পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জয়দেবপুর রেলক্রসিং, যা একসময় গাজীপুরবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাকে পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের এ ধারাবাহিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারে-সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার-সংলগ্ন সোনাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝ বরাবর বড় একটি অংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠের পাটাতন বসানো হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর উত্তর পাশও আংশিক ডেবে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে ২০১৪ সালে সেতুর মাঝখান ভেঙে পড়ে একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কা সবসময় থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রাকিব জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির খান বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই কাঠের পাটাতন বসিয়েছে।’
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হয়নি। সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল, পাট ও উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেশবপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুর, যশোর। কর্মসূচির আওতায় মোট ১,৩৯০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পাট বীজ পেয়েছেন ৬০০ জন, মুগ বীজ ৩০ জন, তিল বীজ ৬০ জন এবং উফশী আউশ ধানের বীজ পেয়েছেন ৭০০ জন কৃষক। এই কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহের ফলে কৃষকরা সহজেই খরিপ মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবেন এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী করে তোলে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পৌর শাখার আমীর প্রভাষক মো. জাকির হোসেন এবং এনসিপির সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন প্রমুখ।
ভোরবেলা যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারে না। তিনি ফরহাদ হোসেন, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার এক সংবাদপত্র বিক্রেতা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এভাবেই মানুষের দোরগোড়ায় খবর পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
ফরহাদ হোসেনের বাড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রামপুর ইউনিয়নের শেখ বাজার এলাকায়। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তিনি ছুটে চলেন দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে। ঢাকা থেকে আসা বাসের জন্য চলে দীর্ঘ অপেক্ষা। বাস এলে পত্রিকা নামিয়ে একে একে প্যাকেট খুলে তা সাজিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর মূল কর্মব্যস্ততা। সকাল সাতটা বাজতে না বাজতেই গ্রাহকদের ফোনের ভিড় জমে। "পত্রিকা কখন আসবে?" এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই তিনি পায়ে হেঁটে ছুটে চলেন পৌর শহরের বিভিন্ন অফিস ও বাসা বাড়িতে। যান্ত্রিক যানবাহনের যুগেও মূলত পায়ে হেঁটেই তিনি পত্রিকা বিলি করেন।
পত্রিকা শিল্পের বর্তমান নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকা এজেন্ট বাদশা মিয়া জানান, "এক সময় পত্রিকা বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু এখন অনলাইনের প্রভাবে মানুষ মুঠোফোনেই খবর পড়ে নেয়। ফলে আগের তুলনায় গ্রাহক অনেক কমে গেছে। একদিকে বিক্রি কম, অন্যদিকে আমাদের কমিশনও এখন অনেক নগণ্য। ফলে এই পেশার সাথে জড়িতদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।" ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুররহমান নোমান বলেন,"ফরহাদ হোসেনের মতো সংবাদপত্রের হকাররা মূলত আমাদের সংবাদ শিল্পের প্রাণভোমরা। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে খবর পৌঁছে দেওয়া এক অন্যরকম লড়াই। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমলেও ফরহাদদের গুরুত্ব কমেনি। ত্রিশালের সিনিয়র সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সবুজ বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে তার সামান্য লাভে জীবন চালানো সত্যিই কষ্টসাধ্য। এই পেশার মানুষদের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যাতে তাদের এই নিরলস সেবা অব্যাহত থাকে। এই পেশায় টিকে থাকাটা এখন ফরহাদ হোসেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে যে সামান্য টাকা আসে, তাতেই কোনোমতে দিন পার করেন তিনি। তবুও সংবাদপত্রের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কাজ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। অন্যান্য পেশার মানুষেরা ঈদে বোনাস বা বাড়তি আয়ের সুযোগ পেলেও ফরহাদের কপালে তা জোটে না। পত্রিকা বিলি করে যাদের জ্ঞানপিপাসা মেটান, তাদের কাছ থেকে ঈদ সালামি বা বিশেষ কোনো সহযোগিতাও তেমন একটা মেলে না তাঁর। তবুও তার কোনো অভিযোগ নেই, হাসিমুখেই বিলিয়ে যান প্রতিদিনের টাটকা খবর।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাত দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁর মোটরসাইকেল বিক্রিতেও। আগের মতো নেই কোন বেচাকেনা। চলমান যুদ্ধের ফলে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি কমে এসেছে প্রায় কয়েকগুন। এছাড়া তেল সংকটের কারণে অনেকেই কিনছেন না এই মূহুর্তে মোটরসাইকেল।
মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে শূন্যে। সারাদেশে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না কোন মোটরসাইকেল। আবার কিছু পাম্পে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তেল দিচ্ছে না। যার কারণে অনেকেই সার্ভিসিংয়ের জন্য গাড়ি বের করছেন না। চলমান এই পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, শোরুমগুলোতে নেই কোন ক্রেতা। আবার সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও সেভাবে আসছে না কোন মোটরসাইকেল। ফলে অবসর সময় পার করছেন এখানে কর্মরতরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়ের দোকান রয়েছে।
নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমিয়ে রেখে ঈদের আগে একটি মোটরসাইকেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে আর মোটরসাইকেল কেনার সাহস পাচ্ছি না। তেলের পাম্প গুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখে মোটরসাইকেল কেনার চিন্তা আপাতত স্থগিত রেখেছি। জানিনা এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে।
হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে একজন কাস্টমার ও দোকানে আসেনি। চলমান পরিস্থিতির আগে দিনে ৫-৭টা মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নেই। অন্যান্য বছর ঈদে ৩০০-৪০০ পিস মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় মাত্র ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। আমার এখানে ২৮ জন লোক কর্মরত রয়েছে। শোরুম পরিচালনা থেকে তাদের বেতনসহ প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নাই। খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
নওগাঁ আরিস মোটরস এর স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা এসিআই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করি। ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। এবার ঈদে টার্গেট ছিল ২৫০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি হবে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১১০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পেরেছি। সার্ভিসিং এর জন্য কোন গাড়ি আসছে না। সার্ভিসিং এর জন্য কাউকে ফোন দেওয়া হলে বলে তেল কিনে দেন আমরা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছেন না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।
নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, চলমান এই পরিস্থিতির পর থেকে সার্ভিসিংয়ে কোন গাড়িই আসছে না। আগে দিনে ২৫-৩০ টা গাড়ি আসলেও এখন দিনে এক থেকে দুইটার বেশি আসেনা। মানুষ ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না, গাড়ি নিয়ে কিভাবে আসবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,আমরা সচরাচর তিন মাস পরপর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা নিয়ে থাকি। আমরা একসাথে ২০০-৩০০ জনের ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা নেই। বিভিন্ন জেলাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্সে এখনো সেভাবে কোন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে মাস খানেক গেলে সেটি হয়তো বুঝা যাবে।
সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় শত কোটি টাকার মানহানির অভিযোগটি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।
মামলার বাদী অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তার সম্মানহানি করেছেন। তাই আমি আদালতে মানহানির মামলা করেছি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবা-পূর্ব আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন।
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পরিবেশ দূষণ ও বৃক্ষ রোপন সম্পর্কে বিদ্যালয়- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেসনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছের চারা রোপন শুরু করেছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার লামা সদর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে একটি জলপাই গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্ভোধন করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে অর্ধশত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম। স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক রিজওয়ান'র সভাপতিত্বে আলোচনায় উপ- সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুল হক, প্রকল্পের উপজেলা ম্যানেজার জেভার্স ত্রিপুরা, সহকারী শিক্ষক সাগরিকা ও সাংবাদিক মো. নুরুল করিম আরমান বিশেষ অতিথি ছিলেন।
এতে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী মনিষা দে ও আবরার মুহাম্মদ উল্লাহ। এর আগে রুপসীপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দরদরী নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেও গাছের চারা রোপন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংছিংহ্লা মার্মার সভাপতিত্বে দূষণ ও বৃক্ষ রোপন সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক স্কুলে ২০ টি করে জলপাই ও আরেক স্কুলে ২০ টি করে কাঠ বাদাম গাছের চারা রোপন করা হয় বলে জানান, প্রকল্পের ম্যানেজার জেভার্স ত্রিপুরা। তিনি বলেন, একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এ বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা আছে।
আলোচনায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য। গাছ বাতাস থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা ও ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা বায়ু বিশুদ্ধ রাখে। তায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, তাপমাত্রা কমাতে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রত্যেককে বেশি করে গাছ লাগানোর আহবান জানান বক্তারা।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নাজির আহমেদ খান তাঁর সরকারি বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে নগরের সিআরবি এলাকায় অবস্থিত এসপির বাংলো বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসপিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বেলা দুইটার দিকে এসপিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর) ভর্তি করা হয়।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এসপি। পরে বাসার কর্মচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর বাম পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।
সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার করেন। এরপর তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার জিরুইন গ্রামে রবিবার (২৯ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুরা হলো পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলার গিলাতলা গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আলী ও অলী, তাদের বয়স চার বছর।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিন আগে আলী ও অলী তাদের মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি জিরুইন গ্রামে বেড়াতে যায়। রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।একপর্যায়ে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত টমাস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় এখন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।