নুরুল আমীন, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাট এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ময়লা ও আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জেলা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীটি দূষণের পাশাপাশি ভরাট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী দূষণ বন্ধে শিগগির ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়িয়া পৌরসভা। পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর ও পৌরশহর হওয়ায় নড়িয়াবাজারে গড়ে উঠেছে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাজার ও আশপাশে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা, মাছ-মাংস, সার, কীটনাশক এবং ওষুধের দোকান।
নড়িয়াবাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কীর্তিনাশা নদীটি পদ্মা নদীর নড়িয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে মিশেছে। নড়িয়াবাজারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই কীর্তিনাশা নদীতে।
নড়িয়া পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তাদের সংগ্ৰহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নদীতে। ফলে নড়িয়ার পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতীরের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর স্রোতে পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও। এ ছাড়া ময়লার স্তূপে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ওই সব এলাকা।
নড়িয়াবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আবর্জনা ফেলার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে। এখানে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। ব্যবসায়ীরাও দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করা বিডিক্লিনের জেলা কমিটির সহসমন্বয়ক পলাশ খান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে পৌরসভাকে। নড়িয়াতে শিগগির বিডিক্লিন টিমের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাবেন। বিশেষ করে বাসিন্দাদের নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে জোর প্রচারণা চালানো হবে।
নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন দৈনিক বাংলাকে, প্রতিনিয়তই নদী দখল ও দূষণ বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। নদী দূষণের পরিমাণ কী হতে পারে তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় নদীতে আবর্জনা ফেলছেন স্থানীয়রা। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য পৌর শহরের বাঁশতলা এলাকায় এক একর পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে এ সমস্যা থাকবে না। ইয়ার্ড নির্মাণে কমপক্ষে তিন একর জমি প্রয়োজন। ক্রয়কৃত জমির পাশে আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমরা রাজনৈতিকভাবে কোনো ধর্মের মানুষকে ব্যবহার করতে চাই না। উন্নয়ন ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাস ও আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এমন মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নগরীর প্রতিটি মন্দিরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সন্তানদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আর্যধর্মসভা মন্দির থেকে এই রথযাত্রা শুরু হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই রথযাত্রার উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার খুলনার পবন কুমারসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীত বজায় রেখে আমরা সকলে মিলে একসাথে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব।’
উল্লেখ্য, আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়া এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কারণ, এই দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা তাদের মাসি অর্থাৎ রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়িতে যান। আর সাত দিন পর আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। মাসি বাড়ি যাওয়াকে রথযাত্রা ও মাসি বাড়ি থেকে ফেরাকে উল্টোরথ যাত্রা বলে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, রথযাত্রার মধ্য দিয়ে জগন্নাথ ধরাধামে ভক্তকূলের মাঝে নেমে আসেন এবং জগৎ এর মঙ্গল করেন।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্য জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেঁধে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনায় আরও ১০ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিনে মোট ১৪ জন ডাকাত আটক হলো। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে গজারিয়া থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ ডাকাতকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১৪ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার এবং দুটি ট্রাক জব্দ করা হলো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাফেজের ছেলে শাহ আলম (২৩)। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের মতি শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (৩৪)। বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে মেহেদী হাসান (৩৮)। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সংবহন পালের বাজার এলাকার মৃত নিমাই দাসের ছেলে মনোরঞ্জন দাস (২৭)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামের আসাদুল সানার ছেলে আল আমিন সানা (১৯)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের প্রশান্ত মন্ডলের ছেলে অলোকেশ মন্ডল (৩৫)। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নারায়ণপুর মধ্যপাড়া, গাজী বাড়ি গ্রামের রফি উদ্দিন গাজীর ছেলে সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে অলিউর রহমান (২৪)। শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার চরচান্দা, ঢালীকান্দি গ্রামের এবাদুল মোল্লার ছেলে জামাল (৪০)। ঢাকা জেলার বাড্ডা থানার বড় বেরাইদ ডগরদিয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার ছেলে মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬)। তাদের গ্রামের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় হলেও তারা বর্তমানে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী কনস্ট্রাকশন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল ট্রাকে করে লুটে নেয়। লুট করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্স পাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি ও ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আরো ১০ জনকে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঢাকা থেকে দুই দিনে ১৪জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তাsরে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমি আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে।
কালাম হোসেন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনায় তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।
মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কালাম হোসেনের বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। গত বুধবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী সফরে তার সঙ্গে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আরিফা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাকিল আহমেদ, নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জাহাঙ্গীর আলম, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের শুরুতে বিভাগীয় কমিশনার নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরে তিনি চেল্লাখালী নদীর পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা, নালিতাবাড়ী থানা, পৌরসভা, উপজেলা ভূমি অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জনসেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার।
সফরকালে তিনি উত্তর নাকসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করেন। এ ছাড়া বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
পরে বিভাগীয় কমিশনার নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এলাকায় মৃগী নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝেও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের সাত সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের নেতৃত্বে এবং র্যাব-১০ এর সদর কোম্পানির সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হানিফ (৪০), উসমান ফারুক মাহিম (২১), মো. রাতুল (২৪), সব্বির (২৫), মোরাদ (২৪), আবুল হাসান (৩৮) ও মো. আরমান (৪৫)।
র্যাব-১০ এর অধিনায়কের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তপন সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে একটি দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সুবিধা আদায়ের আশায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণা করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ গ্রেপ্তারকৃতদের সাজা প্রদান করেন। আদালতের রায়ে হানিফ, উসমান ফারুক মাহিম, মো. রাতুল ও সব্বিরকে ২০ দিন করে, মোরাদ ও আবুল হাসানকে ১৫ দিন করে এবং মো. আরমানকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দালাল চক্রের তৎপরতা সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব চক্র সরকারি সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনস্বার্থে সরকারি দপ্তরগুলোতে দালাল চক্রের অপতৎপরতা বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।’ একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের দালালের আশ্রয় না নিয়ে নির্ধারিত নিয়মে সরকারি সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫৮) নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ঢাকা থেকে আসা ভাড়াটে খুনিরাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তবে কারা পরিকল্পনা করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন (২৫), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া। বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওঁত পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। বাধা দিতে গেলে হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চাপাতিসহ হেলালকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ।
গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্পিডবোটে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিহত জাহাঙ্গীরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এশার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাডে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র ভাড়াটে খুনি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জানাজা ও দাফনের পর এ বিষয়ে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আটক হেলাল ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিভিন্নজনের কাছে শুনেছেন।
নিহতের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদও একই ধরনের তথ্য বিভিন্ন সূত্রে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিঠামইন বেড়িবাঁধের প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান। ওই ঘটনার পর বিএনপি তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছিল। গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। এর ১১ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক পরিবারের সতর্কতা এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল এক নবজাতক। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের একটি কেবিন থেকে এক ভুয়া নার্সকে আটক করা হয়েছে।
দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুরাতন ভবনের ২০২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন এক প্রসূতির কেবিনে সাদা অ্যাপ্রন পরা শারমিন বেগম (২৬) নামের এক নারী প্রবেশ করেন। তিনি নিজেকে নার্স দাবি করে মা ও শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে সন্দেহ হলে প্রসূতির স্বামী মিন্টু চৌকিদার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন, শারমিন নিজেকে নতুন যোগদান করা নার্স হিসেবে দাবি করে যা পরবর্তীতে বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ডিউটিরত আনসার সদস্য মোঃ কাওসার, মোঃ আজিজুল হক এবং পিসি মোঃ মুসলিম উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা ঐ ভুয়া নার্সকে আটক করেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালের আসল নার্স এসে নিশ্চিত করেন যে শারমিন নামের ঐ নারী সেখানে কর্মরত নয়, সে ভুয়া নার্স।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মূলত নবজাতক শিশুটিকে চুরি করার উদ্দেশ্যেই ছদ্মবেশে ঘরে ঢুকে সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন শারমিন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আনসার সদস্যরা আটক ঐ ভুয়া নার্সকে পালং থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তৎপর রয়েছে। শরীয়তপুরের এই ঘটনায় আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক সতর্কতা ও নিষ্ঠা একটি পরিবারকে বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় সারাদেশে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে ১৬ জুলাই এ দিবসটি পালন করা হয়। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ সকল শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান: মাগুরা শহরের ঢাকা রোডস্থ নবগঙ্গা পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
জেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শামীম কবির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির সাঈদ আহমেদ বাচ্চু, জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, তুহিন বিশ্বাসসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা। আলোচনা শেষে শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা ব্যুরো জানান : খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে শিববাড়ি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজিমো.মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, কেডিএর চেয়ারম্যান, ওয়াসার চেয়ারম্যান ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।
এ উপলক্ষে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছে এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো গণআন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিনের হামলা-মামলা, নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফলেই আজ আমরা কেউ সরকারে, কেউ বিরোধী দলে থেকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছি এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অন্যতম ভিত্তি। সংসদ সদস্য জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত এবং সকল প্রকৃত যোদ্ধাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান ও প্রাপ্য ভাতা প্রদান করা হবে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহীদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান ও মহানগর জামায়তে ইলামীর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত পরিবারের সদস্যগণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে নগরীর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান: বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল জেলা হ্যাপি মাঠ স্মৃতিচত্বরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করব। গণতন্ত্রের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, সেই সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অনিয়ম দূর করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাইয়ের শহীদরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, সেই গণতন্ত্র যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সরকার শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানোর দাবি জানান।
সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মহসিন কবিরসহ সকল শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান: জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নীলফামারীতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁদের অবদানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আহতদের সুস্থতা এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা থেকে জানান :কুমিল্লায় জুলাই আন্দোলনে আহতদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যেক আহতকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন।
নাজমুল আলম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে জানান : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুলাই শহীদ দিবস পালিত। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণমুলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, রৌমারী হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ আব্দুস ছামাদ, রৌমারী থানার ওসি, জুলাই যোদ্ধা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু,উপজেলা জামাতের আমীর হায়দার আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, এনসিপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী, ইসলামী আনন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় সচেতন মহল, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সাংবাদিক প্রমুখ।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের লাল শাপলা হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন, কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহমুদ, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী মহসিন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানজিলা খানম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মান্নান শেখ, কমলকুঁড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান সরদার ও সাংবাদিক মো. কামরুল হাসান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় ঐক্য ও আগামী প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস এম শরিফুল ইসলাম, কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মফিজুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এইচ এম আবুল বসার বাচ্চু, যুবদলের সভাপতি রঞ্জন মল্লিকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা জাতীয় স্বার্থে ঐক্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে জানান : যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনার ডুমুরিয়ায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার, শুরুতেই কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন ডুমুরিয়া উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল মালেক, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস, ডুমুরিয়া থানা অফিসার্স ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান,ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসি রাণী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস, আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা, শেখ হাফিজুর রহমান, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফরহাদ হোসেন,ছাত্র শেখ রেজাউন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এবং উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি জানান : যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইলে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তামো.ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ, বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরমো.আফজাল হোসেন, বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা এবং জুলাই আন্দোলনে আহত মো.শাহীন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব আ. সবুর খান চানু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান তুহিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. রেদওয়ান খান, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মুন্তাজিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুবের আহমদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমদ টিপু, জুলাই যুদ্ধা শামিম আহমেদ, শেখ রানা, লিংকন তালুকদার, আদনান চৌধুরী, ইব্রাহিম মাহমুদ প্রমুখ।
সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস- ২০২৬’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহাসিক জুলাইয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় কাপাসিয়ায় দিবসটি পালিত হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজুল হক সভাপতিত্ব করেন।
বিআরডিবি কর্মকর্তা দিলারা আক্তার মনি ফকিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যোবায়ের আহমেদ, জেলা বিএনপির নেতা ও কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মাওলানা শেফাউল হক, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন শিশির, সমন্বয়ক মোদাসির ইসলাম খান, জুলাই শহীদ জাকির হোসেনের স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম, জুলাই যোদ্ধা প্রভাষক শামীমা চৌধুরী সিমু প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান : জুলাই শহীদ দিবস–২০২৬ উপলক্ষে জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের এই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মনিরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আসিফ মহিউদ্দীন, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম; এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের।
এছাড়াও শ্রদ্ধানিবেদন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত বিনতে রাইহান, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাইফুল হক, জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ মো. আবুল কাসেম সরকার, টিআই (এডমিন) মো. কামরুল ইসলাম এবং সদর মডেল থানার ওসি মো.সাইফুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়। তাদের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ আমাদের একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান : জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে নাটোরের বড়াইগ্রামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বড়াইগ্রামের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রস্তুতি ও সমন্বয় সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের জাহাঙ্গীর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডালিম কাজী এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. উমিরুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা মো. রিমন মোল্লা ও নুহু ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. আবু বকর সিদ্দিক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিনিধি আব্দুল আলিম।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সুধীজন সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান : মাদারীপুরে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে দোয়া, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা সহ নানান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে মাদারীপুর ঐতিহাসিক শকুনি লেকপাড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
পরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই দেশ আজ এক নতুন দিগন্তে পদার্পণ করেছে। ‘অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া, আলোচনা সভায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আন্দোলনে অংশ নেয়া বীর জুলাই যোদ্ধারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন এবং শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ’৭১ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জুলাই যোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জীবননগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, ওসি (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোকসেদুর রহমান রিমন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মুস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুশফিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোড়ল, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জামিল আক্তার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, জুলাই যোদ্ধা ও আহত মাহাদি ইপতি জয়, ইমরানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান : ভোলার চরফ্যাশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ।
সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তারা বলেন, দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে কেশবপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেছেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেকসোনা খাতুন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের অবদান শুধু একটি আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথপ্রদর্শক। শহীদদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। ইতিহাস জানলেই তারা দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মিশকাতুল ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদরা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করেছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে তাঁদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, শহীদদের স্মৃতি আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। ন্যায়, সত্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁদের আত্মত্যাগের যথার্থ মর্যাদা দিতে হবে। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জাকির হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা সম্রাট হোসেন, মিরাজ হোসেন বিশ্বাস, তাহমিদ আহম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তাদের আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে জানান : ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের আদর্শে দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, শহীদদের বীরত্বগাথা এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, "জুলাইয়ের শহীদরা আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তর থেকে আমরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. জেড. এম নাহিদ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা, তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. রবিন হোসেন এবং উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. বাদল মিয়া।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এফ এম শাহ্ আলম, জুলাই যোদ্ধা মো. শাহিন বাবু ও মো. সাব্বির খন্দকারসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা শেষে জুলাই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে পিরোজপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। 'বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২০৩১)' পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) বা অবিভাগীয় কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই , সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন,এবং পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান অন্যতম নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, "ডিজিটাল ও স্মার্ট ডাকসেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ ও ইডি শাখার কর্মচারীরা যুগের পর যুগ চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। ডাক বিভাগ সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বা রেভিনিউ দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের অবিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা নামমাত্র সম্মানী ভাতায় আমাদের পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও ডাকঘর বন্ধের কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮,৫০০ শাখা ডাকঘরে কর্মরত ২৩,০২১টি পরিবার এই নামমাত্র সম্মানী ভাতায় চরম মানবেতর ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিসমূহ হলো:
১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে সকল ইডি কর্মচারীদের মূল সম্মানী ও ভাতা ন্যূনতম ৩ গুণ বৃদ্ধি করে ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।
২. চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণ করে ২৩,০২১ জন অবিভাগীয় কর্মচারীকে স্থায়ী বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৩. সাময়িক গ্রেড নির্ধারণসহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড অনুসরণ করে ন্যায্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা।
৪. উৎসব ও নববর্ষ ভাতা (বৈশাখী ভাতাসহ) রাষ্ট্রীয় সকল উৎসব ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৫. কল্যাণ তহবিল গঠন করে ইডি কর্মচারীদের আপদকালীন চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষায় 'ইডি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল'-এ সরকারি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা।
৬. কাজের আধুনিকায়ন ও পোশাকসহ ডিজিটাল ডাকসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের পরিবেশ, স্মার্ট ডিভাইস এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) সরবরাহ করা।
অনতিবিলম্বে গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের এই মানবিক সংকট দূর করতে এবং ২৩,০২১টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপিতে দেশের সর্বস্তরের ২৩,০২১ অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন স্বাক্ষর করেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’
রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রেতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।
সরেজমিনে জানা যায়, এই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস । দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সদরপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।
এবিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানাজায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুননি©মা©ণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নওগাঁর পত্নীতলায় হানিট্রাপ এর ফাঁদে ফেলে এবং ওয়েব পেজ ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পত্নীতলার উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া এলকার মৃত আল হেলালের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), একই উপজেলার শিবপুর সরদার পাড়ার মৃত কামরুজ্জামানের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২২), পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মারুফ হাসান মুন্নার স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯) এবং পাশের জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার হালাট্টী এলাকার মো. শান্তর স্ত্রী রুমা খাতুন (২০)।
জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সংঘবদ্ধ চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত এবং তাদের বাসায় নিয়ে এসে মারধর করে মোবাইলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করত। এ সকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ও-ই বাসায় অভিযান চালিয়ে এ অপরাধের সাথে জড়িত দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে এ ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছেন। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলমান আছে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ চক্রের আরো সদস্য যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এ ধরনের হানিট্রাপের ফাঁদ থেকে তরুণদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।