নুরুল আমীন, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাট এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ময়লা ও আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জেলা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীটি দূষণের পাশাপাশি ভরাট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী দূষণ বন্ধে শিগগির ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়িয়া পৌরসভা। পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর ও পৌরশহর হওয়ায় নড়িয়াবাজারে গড়ে উঠেছে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাজার ও আশপাশে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা, মাছ-মাংস, সার, কীটনাশক এবং ওষুধের দোকান।
নড়িয়াবাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কীর্তিনাশা নদীটি পদ্মা নদীর নড়িয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে মিশেছে। নড়িয়াবাজারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই কীর্তিনাশা নদীতে।
নড়িয়া পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তাদের সংগ্ৰহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নদীতে। ফলে নড়িয়ার পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতীরের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর স্রোতে পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও। এ ছাড়া ময়লার স্তূপে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ওই সব এলাকা।
নড়িয়াবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আবর্জনা ফেলার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে। এখানে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। ব্যবসায়ীরাও দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করা বিডিক্লিনের জেলা কমিটির সহসমন্বয়ক পলাশ খান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে পৌরসভাকে। নড়িয়াতে শিগগির বিডিক্লিন টিমের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাবেন। বিশেষ করে বাসিন্দাদের নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে জোর প্রচারণা চালানো হবে।
নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন দৈনিক বাংলাকে, প্রতিনিয়তই নদী দখল ও দূষণ বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। নদী দূষণের পরিমাণ কী হতে পারে তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় নদীতে আবর্জনা ফেলছেন স্থানীয়রা। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য পৌর শহরের বাঁশতলা এলাকায় এক একর পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে এ সমস্যা থাকবে না। ইয়ার্ড নির্মাণে কমপক্ষে তিন একর জমি প্রয়োজন। ক্রয়কৃত জমির পাশে আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জনবসতিহীন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ধানখেত। কোনো যাতায়াতের রাস্তা নেই, নেই কোনো বাড়িঘর। অথচ এই অনাবাদি ও ফসলি জমির মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকার চারটি পাকা ব্রিজ! চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে এই অদ্ভুত দৃশ্য।
সরকারি অর্থের এমন অপচয়ের পর প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই ব্রিজগুলো এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার পচা ভাগাড়ে। দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
৩ লাখ টাকার কাজে ১ কোটি ৩ লাখ টাকার ব্যয়
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই চার কূলহীন ব্রিজ নির্মিত হয়। প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট। একটি ব্রিজ থেকে অন্যটির দূরত্ব আনুমানিক মাত্র ২০০ ফুট! খরচ ধরা হয় ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। চারটি ব্রিজে সর্বমোট অপচয় হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভিত্তিপ্রস্তর রূপকথা
২০১৯ সালের ১৪ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এই চার ব্রিজের নির্মাণকাজের সূচনা হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য (বর্তমানে কারাবন্দী) এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী জাঁকজমকপূর্ণভাবে ব্রিজগুলোর উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভিত্তিপ্রস্তরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাম ব্যবহার করা হলেও মূলত এটি ছিল এক চতুর প্রতারণা।
নেপথ্যে 'আবাসিক প্রকল্প' ও দখলের পাঁচতারা ছক
চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি কোনো অফিস বা জনস্বার্থের জন্য এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান এই কৃষি জমিগুলোকে জোরপূর্বক হাউজিং বা আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করার পাঁচতারা পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের। সরকারি টাকায় ব্রিজ বানিয়ে পরে কৃষকদের জমি দখলের পাঁচতারা ছক কষা হয়েছিল। সে সময় কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নেমে আসত হুমকি-ধমকি ও নির্যাতন।
'ক্ষমতাশালীদের কথা শুনতে বাধ্য ছিলাম': দায়সারা মন্তব্য পিআইওর
প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৎকালীন রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে হাটহাজারীতে কর্মরত) নিয়াজ মোর্শেদ দায়সারা জবাব দেন। তিনি বলেন, সে সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ বা একতীয়ার আমাদের ছিল না।
অন্যদিকে, নির্মাণকালে বিতর্কিত এই সরকারি প্রকল্পের জন্য কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা জানান, সে সময় তিনি রাউজানে কর্মরত ছিলেন না, তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কসংলগ্ন বিশাল ধানখেতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই চার ব্রিজের ওপরে ও নিচে এখন ময়লার স্তূপ। চারপাশের আবর্জনা পচে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। চৌমুহনী বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হচ্ছে।
হাতে গোনা কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে কোটি টাকার ওপর সরকারি অর্থ এভাবে জলে ফেলা এবং পরিবেশ নষ্ট করার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন কারখানায় ডাকাতি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কারখানায় হানা দেয়। ডাকাতরা কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ২৫০ মিটার দামি বৈদ্যুতিক তার এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা করে।
মামলার পর ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন ফারুকীসহ একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। টানা ৩২ ঘণ্টার অভিযানের পর গতকাল ভোরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক তার ও মোবাইল ফোনগুলো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মেহেদী হাসান (৩২), পিতা- মৃত নুরুল আফছার (পূর্ব হিঙ্গুলী)। সুজাউল হক প্রকাশ সুজা উল্লাহ (২৪), পিতা মো. সিরাজ মিয়া (মেহেদীনগর)। এমদাদুল হক প্রকাশ ইমরান (২৮), পিতা- মৃত ওবায়দুল হক (মেহেদীনগর)। মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ নাহিদ (২৪), পিতা- হারুন অর রশিদ (পূর্ব হিঙ্গুলী)। মো. ইউসুফ (২৬), পিতা- আবুল কাশেম (মেহেদীনগর)। মো. রাকিব (২১), পিতা- হারুন অর রশিদ (খিলমুরারী)। মিজান উদ্দিন (৩২), পিতা- আব্দুল মান্নান (করেরহাট)।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া-ফুলতলা এবং যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য 'জলাবদ্ধতা' আর কোনো সাময়িক বা মৌসুমি দুর্যোগ নয়; বরং এটি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চেপে বসা এক স্থায়ী অভিশাপ। স্থানীয় জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভবদহ স্লুইসগেট আজ দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ভবদহ ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই পলিজনিত কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন।
সম্প্রতি এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ, অতীতের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় উঠে এসেছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল 'বিল ডাকাতিয়া'সহ ভবদহ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি বছরের সিংহভাগ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী, হরি, ভদ্রা ও শালতা নদীর তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে বিল থেকে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে অঞ্চলটির সামগ্রিক কাঠামোর ওপর। ফসল, মাছের ঘের ও সবজি চাষ বিনষ্ট হয়ে ধসে পড়েছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর প্লাবিত থাকছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।
১৯৬০-এর দশকে জোয়ার-ভাটা ও বন্যা থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত পোল্ডার (বাঁধ-ঘেরা এলাকা) ব্যবস্থার কারণে জোয়ারের পলি প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে পলি সরাসরি নদীখাতে জমে নদীগুলোকে ভরাট করে ফেলেছে।
উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, অবৈধ নদী দখল, নদীর চরে ইটের ভাটা স্থাপন এবং বিলে অননুমোদিত নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন সময়ে নেওয়া স্বল্পমেয়াদী খনন ও রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার অভাবে স্থায়ী ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতালব্ধ উদ্ভাবন টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (TRM) বা জোয়ারাধার পদ্ধতি হলো কারিগরিভাবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে সাময়িকভাবে পোল্ডারের বাঁধ কেটে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি বিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়; ফলে পলিতে বিল উঁচু হয় এবং নদীখাত পলি মুক্ত হয়ে নাব্য থাকে।
বিল ভায়না ও সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে TRM-এর সাফল্য থাকলেও সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং বৈজ্ঞানিক মডেলিং মেনে সমন্বিতভাবে কাজ না করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভবদহ ও সংলগ্ন ৫টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে সেনাবাহিনী তদারকি করছে। টেকসই TRM সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সম্প্রতি স্থানীয় সংগঠনগুলো তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।
কাকডাকা ভোরে জেগে ওঠে নড়াইল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সমাধিসৌধে সমবেত হতে থাকেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা। মুহূর্তের মধ্যেই ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শিল্পীর সমাধি।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা ভাবগাম্ভীর্য ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে নড়াইলে পালিত হয় বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী।
দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, কোরআনখানি ও তবারক বিতরণ, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব ও আর্টক্যাম্প, সুলতান পদক প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতি বছর শিল্পীর জন্মদিনে চিত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও, এবার তা না থাকায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সভায় মুখ্য আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম (চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস (সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. মো. আব্দাস সাত্তার (সুলতান সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত শিল্পী), রেজাউদ্দীন স্টালিন (বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি), কানিজ মওলা (সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়), মো. আতাউর রহমান, এমপি (নড়াইল-২), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, এমপি (নড়াইল-১)
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এস এম সুলতান পল্লী বাংলার আত্মার শিল্পী এবং গ্রামীণ জীবনের মহাকাব্যিক রূপকার। বাংলার মাটি, মানুষ, কৃষকের ঘাম, সংগ্রাম, শক্তি আর স্বপ্ন—সবকিছুই তার তুলির আঁচড়ে পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের জীবনবোধের এক অসাধারণ কারিগর। ক্যানভাসে তিনি যে অদম্য প্রাণশক্তি ও সৌন্দর্যের গল্প এঁকেছেন, তা কালজয়ী।’
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. জাকির হোসেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
রংপুরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানা থেকে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। শনিবার রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক।
তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের কিশোরী মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এ সময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনরা মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে মারা গেছে আরও ৫ শিশু।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৬৩ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে। আর এই দীর্ঘ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে জানানো হয়েছে যে, কমিটির মূল কাজ হবে পে কমিশনের প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা।
গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের সুবিধার্থে বা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কমিটি চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ যেকোনো ব্যক্তিকে পরবর্তীতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হলো, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিন ছুটিতে বাড়ি আসতে পারেনি। ছাওয়ালটা কইতো—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি। বাড়ির কাজ শুরু করছি, দেশে আইসা বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করমু। কিন্তু আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হয়ে গেল বাবা আমার!
কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ময়না খাতুন। সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তান সুমন ও মোহনকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের পরিবেশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহন ও সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখেমুখেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিকসহ আত্রাই উপজেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।
ময়না খাতুন বলেন, কাল সকালে মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা কইছি। কইল- মা, ভালো আছি। তুমি ভাত খাও, তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়া আসবে।
এরপরই বদলে যায় সবকিছু। আগুন লাগার পর ছেলের পাঠানো ভয়েস মেসেজের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ময়না খাতুন বলেন, ‘ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ দিয়া কইল,মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লাগছে মা, পুড়ে যাচ্ছি, মরে যাচ্ছি মা।’
এই কথাগুলোই এখন মায়ের কাছে সন্তানের শেষ স্মৃতি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হামার দুই বাবারে হামার বুকে এনে দাও বাবা। আমার বাবাদের একবার দেখে কলিজাটা ঠান্ডা করমু। আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা।’
মোহনের বিয়ের স্বপ্নের কথাও বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। তিনি বলেন, ‘মোহন কইতো—মা, দেশে আইসা বিয়া করমু। মেয়া-টিয়ে দেখো না। দশটা দেখে একটা পছন্দ কইরা বিয়া করমু মা। বাড়ির কাজটাও শেষ করমু।’
মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া মোহনকে এখন ফিরতে হবে নিথর দেহ হয়ে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন,আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫), একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।
সৌদি আরবের কর্মস্থলে আগুনে একসঙ্গে এতজন স্বজন হারানোর ঘটনায় আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে এখন শোকের ছায়া। স্বজনদের একটাই আকুতি—প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো মায়ের কোলে ও স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হোক।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর এ বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।
ফলাফলে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে।
অর্থাৎ, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।
এদিকে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই ও একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রােতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।
নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই, সদর, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় ওই কারখানার মধ্যে আটকে পড়া ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলায়। বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।
সৌদির রিয়াদে থাকা অন্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের বরাত দিয়ে ফরিদ শেখের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকা-ের সময় ওই কারখানায় থাকা শ্রমিকেরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় ফরিদ শেখসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং রাতে কারখানায় কাজ করতেন।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে ফেনী। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ হলেও ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বোর্ডের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ফেনীর ১৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
কুমিল্লা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি জেলার জেলাওয়ারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে। এর পরেই ৭১.৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় পাসের হার ৬৪.৭৮ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৬৩.৯১ শতাংশ এবং চাঁদপুরে ৬৩.৬৩ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম, যা ৫৯.৯৮ শতাংশ।
সাফল্যের এই ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের কৃতিত্ব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের ধারা বজায় রেখেছে এবং তাদের মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বরাবরের মতো এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডের সেরা তালিকার শীর্ষ কাতারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৯টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
কিট প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যদের কিটসামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিটসামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া যেসব পুলিশ সদস্যের কিটসামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিটসামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন।
কিট প্যারেডে সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।
দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে ইএসডিও থ্রাইভ প্রকল্প, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে ও হেকস্/ইপারের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
‘আদিবাসী ধাত্রীদের সন্মান-জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্বের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আদিবাসী পরিষদের সভাপতি যাকোব খালকোর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা, ইমরান হোসেন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।