নুরুল আমীন, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাট এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ময়লা ও আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জেলা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীটি দূষণের পাশাপাশি ভরাট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী দূষণ বন্ধে শিগগির ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়িয়া পৌরসভা। পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর ও পৌরশহর হওয়ায় নড়িয়াবাজারে গড়ে উঠেছে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাজার ও আশপাশে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা, মাছ-মাংস, সার, কীটনাশক এবং ওষুধের দোকান।
নড়িয়াবাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কীর্তিনাশা নদীটি পদ্মা নদীর নড়িয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে মিশেছে। নড়িয়াবাজারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই কীর্তিনাশা নদীতে।
নড়িয়া পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তাদের সংগ্ৰহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নদীতে। ফলে নড়িয়ার পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতীরের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর স্রোতে পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও। এ ছাড়া ময়লার স্তূপে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ওই সব এলাকা।
নড়িয়াবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আবর্জনা ফেলার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে। এখানে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। ব্যবসায়ীরাও দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করা বিডিক্লিনের জেলা কমিটির সহসমন্বয়ক পলাশ খান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে পৌরসভাকে। নড়িয়াতে শিগগির বিডিক্লিন টিমের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাবেন। বিশেষ করে বাসিন্দাদের নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে জোর প্রচারণা চালানো হবে।
নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন দৈনিক বাংলাকে, প্রতিনিয়তই নদী দখল ও দূষণ বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। নদী দূষণের পরিমাণ কী হতে পারে তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় নদীতে আবর্জনা ফেলছেন স্থানীয়রা। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য পৌর শহরের বাঁশতলা এলাকায় এক একর পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে এ সমস্যা থাকবে না। ইয়ার্ড নির্মাণে কমপক্ষে তিন একর জমি প্রয়োজন। ক্রয়কৃত জমির পাশে আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে দেশের ২৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাংগুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব কেন্দ্রে জাপানিজ, কোরিয়ান, চাইনিজ, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মানসহ মোট আটটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দক্ষ বিদেশি ভাষা শিক্ষকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ল্যাংগুয়েজ সেন্টারগুলো এ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলবে এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এ যুগে বহুভাষিক দক্ষতা আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং অপরিহার্য সক্ষমতা। ভাষাশিক্ষা বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, কূটনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রবেশের পথ আরও সুগম করবে।’
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য বাংলাদেশ একটি পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়।
তিনি আরও জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ভিসা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা সহজ করতে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সমন্বয়ে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক’ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের পাঁচটি সরকারি ও পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের আবাসন, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষার্থী সহায়তা, কাউন্সেলিং, ক্যারিয়ার সাপোর্ট এবং বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরি পেয়েছেন সাতক্ষীরার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার। রাজধানীর এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) কনিষ্ঠ কর্মকর্তা পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শারমিন আক্তারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শারমিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার ভাষ্য, এই চাকরি তার জন্য শুধু একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শারমিন আক্তার। এ সময় তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন করেন। তার কথা শুনে তাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হলো।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামে শারমিনের গ্রামের বাড়ি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শারমিন বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার অবস্থা জানার পর নিজ দায়িত্বে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মন্ত্রী তার কথা রেখেছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এখন তিনি নিজের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।’
শারমিন বলেন, ‘আমার মতো একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।’ এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শারমিন খুবই অসহায়। তার পরিবারে কর্মক্ষম কেউ নেই। পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবারের পরিস্থিতি জানার পর তাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ইডিসিএলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শারমিন ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন। এই সময় শেষ হলে তার চাকরি স্থায়ী হবে। তিনি শারমিনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান, যাতে তিনি নতুন কর্মস্থলে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।’
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (আরপিএমসিএইচ) সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশজুড়ে জনগণকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব, বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে। জনবল সংকট নিরসনের মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোর সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।’
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে বিদ্যমান ১০টি শয্যার সঙ্গে খুব শিগগিরই আরও ১০টি শয্যা যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কেবিনে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে থাকা একজন করে অ্যাটেনডেন্টের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়া সংকটের কারণে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান করে সার্বক্ষণিক অপারেশনের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনে বিদ্যমান সিন্ডিকেট নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের তালিকার পাশাপাশি কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ার তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের সময় সিন্ডিকেটের হয়রানি থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ইনভয়েসের মাধ্যমে বিল পরিশোধের একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল, রোগী এবং সকলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই সেখানে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরজুড়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাতে কোনো অপরাধী হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।’
একই সাথে রংপুর সিটি করপোরেশনকে হাসপাতালের দেওয়াল ভেঙে নতুন প্রবেশপথ তৈরি, নিকটবর্তী অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং হাসপাতালের ভেতরে ও আশেপাশে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে দালালচক্র নির্মূলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে যাতে এই চক্র হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। হাসপাতালের প্রত্যেক কর্মচারীকে পরিচয়পত্র এবং নির্ধারিত পোশাক পরে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, আরপিএমসিএইচের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। তাই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর যদি পরিবর্তনের দাবিতে আবারও তরুণদের রক্ত দিতে হয়, তবে তা আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, মানুষের চিন্তা-চেতনা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরোনো মানসিকতা ও পরিবর্তনবিমুখ প্রবণতা দেখতে পেয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবে। প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও প্রকৃতিরক্ষাসহ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) খুলনা বয়রাস্থ মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অতিথিরা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যা করতে হবে। সুন্দর পৃথিবী গড়তে আমাদের নগরায়ণের পাশাপাশি সবুজায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।’ তারা আরও বলেন, ‘নেশা জাতীয় দ্রব্য মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ক্ষতি তাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এসের নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা খাতুন, সমাজসেবক এমডি সহিদুল আলম, কাজী আমিনুল ইসলাম বাহার ও উজনের নির্বাহী পরিচালক
মনসুর আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বৈদ্য নাথ দাশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বাগেরহাটে গোয়েন্দা পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে গরু চোরের সিন্ডিকেটের তিন সদস্যসহ উদ্ধার করেছে ১১ গরু। এ সময় চোরাই করা গরু বহনকারী পিকআপ জব্দ করা হয়। প্রথমে আটককৃত ২ চোরের তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রাম থেকে এই চোরাই গরুর সরদার আরিফ মোল্লাকে আটক করা হয়।
এ সময় আটক আরিফ মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১১টি গরু ও ১টি পিকআপ। আটকৃতরা খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নাসের রিকাপদার এ দিন দুপুরে তার কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চোরের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরপর পুলিশ নজরদারি করতে থাকে।
গরু চোরের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হলে তার দেওয়া তথ্য মতে খুলনার তেরোখাদার থেকে আরিফ মোল্লাকে ১১ গরুসহ আটক করা হয়।’ আটককৃতরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার সুকুর শেখের ছেলে নাহিদ শেখ, ফকিরহাট উপজেলার আবু সাঈ শেশের ছেলে ইমরান শেখ ও খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রামের ধুনা মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা।
বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দুলাল ড্রকসংলগ্ন পাথরঘাটা খাল এলাকায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।’
জব্দকৃত ড্রেজার ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ বরগুনার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটে রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সামছুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।
সভাপতির বক্তব্যে সামছুন নাহার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. আশরাফুজ্জামান, শাহানা পারভীন, শুভাশীষ দত্ত ও গোবিন্দ দাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক বিশ্বাস, অভিভাবক তরিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ঝর্না দাম, রেশমা খাতুন, ইরা রানী, রত্না খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্ণ দাম, দ্বিতীয় জিমিয়া খাতুন এবং তৃতীয় তাহসিন জামান সিয়াম। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম মোছা. মুসফিকা, দ্বিতীয় রিয়াদ হাসান এবং তৃতীয় জুয়েল রানা। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম মো. রিফাত হোসেন, দ্বিতীয় বনলতা দাস এবং তৃতীয় মো. ফাইম হোসেন। নবম শ্রেণিতে প্রথম মাহামুদুল হাছান, দ্বিতীয় এসএম তামিম ইসলাম এবং তৃতীয় তানমিন আক্তার মিম। দশম শ্রেণিতে প্রথম মোহনা জামান, দ্বিতীয় অপূর্ব পাল এবং তৃতীয় শাওন রেজা।
সুনামগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল হকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বুড়িস্থল এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত ২৬ জুলাই বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির পাঁচ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত সাইফুল হক প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের বাইরে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে অপরাধীকে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সোপর্দ করে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ রঞ্জন দাশ। যুবদল নেতা আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শামসুদ্দিন, সহকারী শিক্ষক নাঈমা সুলতানা, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী টিকাও দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, মো. লিটন, ফয়সাল, শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমান, মিনহাজুল ইসলাম, আব্দুল হাই, এক বৃদ্ধ নারী (অজ্ঞাত) এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ ১৫ জন।
এদিকে হঠাৎ করে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ওই তিন গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম শিয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে একের পর এক পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে কামড়ে দেয়। শিয়ালগুলো হঠাৎ করে বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কে ঘুরে বেড়িয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আক্রমণ করে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
আরেক আহত মো. লিটন বলেন, ‘শিয়ালগুলো খুবই হিংস্র ছিল। একজনকে কামড়ে দৌড়ে গিয়ে আবার অন্যজনের ওপর হামলা করছিল। সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা মিলে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।’
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
কয়েকদিনের টানাবর্ষণ ও উজানের পানির চাপে নাটোরের গুরুদাসপুর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই ও নন্দকুজা নদীর পানি আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এ পানি চলনবিলাঞ্চলে প্রবেশ করায় সেখানও পানি টইটুম্বুর। এতে চলনবিলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ও মাছ ধরার প্রধান মাধ্যম ডিঙি নৌকার চাহিদা, তৈরি ও কেনা বেচায় ধুম পরেছে।
সরেজমিনে চলনবিলাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নৌকার মোকাম গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষাকে ঘিরে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্তসময় পার করছেন। ভৌগোলিক সুবিধা ও কাঠের সহজলভ্যতার কারণে হাটের দক্ষিনাংশে অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি কারখানায় সারা দিন হাতুড়ি, লোহা, করাত ও প্লেনশিট কাটার মেশিনের শব্দে মুখরিত কর্ম এলাকা।
শিমুল, ইউক্যালিপটাস, মেহগিনি, কাঁঠাল, আম, বট ও নিমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকাগুলো সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে সড়কের ধারে। ক্রেতারা এসে আকার, কাঠের মান ও কারিগরির ভিত্তিতে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
জানগেছে, সপ্তাহের দুই দিন শনি ও মঙ্গলবারে এ হাটে বিক্রি হয় শত শত নৌকা। নৌকা কেনা বেচায় নিয়োজিত ব্যবসায়ী, মিস্ত্রি ও ক্রেতার হাকডাকে মুখরিত নৌকা হাটি। নৌকা ক্রয়ে সুফল পাচ্ছেন পানিবন্দি চলনবিলের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন কৃষক ও জেলেদের মাছ ধরার প্রধান উপকরণ নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কারিগররা। অন্যদিকে মহাজনরা আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাঠ সংগ্রহ করে বর্ষার অপেক্ষায় থাকে নৌকা বিক্রির পসড়া সাজিয়ে।
সাধারণ ডিঙি নৌকা ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায় এবং প্লেনসিটযুক্ত বিভিন্ন আকারের নৌকা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারখানার মালিক ইয়ারুল, শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মনিরুল, আমিরুর বলেন, কাঠ, লোহা, প্লেনশিটসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের চাহিদা পূরণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কারিগর আলাউদ্দীন,পরিতোষ, আব্দুল মজিদ ও মাসুদ মোল্লা জানান, গত বছর পানি কম থাকায় নৌকার বিক্রি ছিল অনেক কম। এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকা প্রতি মজুরি এক হাজার টাকা। এ হাটে শিমুল, আম, মেহগিনি, ইউক্যালিপটাস কাঠের নৌকার কদর বেশি।
পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের আক্কেল, তাড়াশ উপজেলার লালুয়া মাঝিরা গ্রামের মোতালেব হোসেন, গুরুদাসপুরের রুহাই গ্রামের হাসিনুর, চাটমোহর উপজেলার চরনবীন গ্রামের সাইদ জানান, তারা বিলপাড়ের কর্মজীবী মানুষ। বর্ষা মৌসুমে তাদের হাতে কাজ থাকে না। আবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়ত করতে হয় নৌকায়। মাছ ধরে বাড়তি আয় ও পারাপারের জন্যই তারা ডিঙি নৌকা কিনতে এসেছেন। তাদের অভিযোগ গত বছরে তুলনায় এবার নৌকার দাম বেশি।
ব্যবসায়ী শিবলু ফকির জানান, এবছর চলনবিলে আগাম পানি প্রবেশ করায় নৌকার চাহিদা বাড়ছে। সাধারণ মানের ১০-১২ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ১২-১৫ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। আর প্লেনশীটের তৈরি নৌকা ক্রয় করতে ক্রেতাদের গুনতে হবে বাড়তি আরও ৩ হাজার টাকা। প্রতিটি নৌকা ৫০০ টাকা লাভে তারা বিক্রি করছেন। গত বছরের তুলনায় শ্রমিক, কাঠ ও নৌকা তৈরির প্লেশিটের দাম কাড়তি। এ কারণে নৌকাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এ হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম নিঠু বলেন, চাঁচকৈড় হাটের নৌকার সুনাম চলনবিলজুড়ে। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটবারে গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি নৌকা বিক্রি হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাজারেও কমবেশি নৌকা বিক্রি হয়।
গুরুদাসপুর উপজেলা ফার্নিচার পট্টি মালিক সমিতির সভাপতি শামীম বলেন, ‘চাঁচকৈড় হাটের দক্ষ কারিগরদের তৈরি ডিঙি নৌকার সুনাম দির্ঘ দিনের। মঙ্গল ও শনি হাটবার ছাড়াও অন্যদিনগুলিতে চলনবিলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন ডিঙি নৌকা কিনতে। তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত নৌকা কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি থাকেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বোস নামক দীঘিটি দূষণের কবলে ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার জনসাধারণের। শতবর্ষী দীঘিটি উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে অবস্থিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৩.১০ একরের উপরে অবস্থিত এই দীঘি সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ভরে আছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে দীঘিতে পানি নেই বললেই চলে। যেটুকু পানি আছে দেখতে কালো তৈল বর্ণ। না য়ায গোসল করা, না যায় হাত মুখ ধৌত করা। সরকারি দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে মসজিদ, গ্রাম্য বাজার, পানি শোধনাগার।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের জায়গায় অবস্থিত এই জলাশয় এখন মশা এবং বিষাক্ত সাপের বিচারণ স্থল।
স্থানীয় গাজী টি স্টোরের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব গাজী বলেন, ‘এই জলাশয়ের পানি দিয়ে চা তৈরি করতাম। দূষিত হওয়ায় এখন করা সম্ভব হয় না।’
মতিয়ার সরদার বলেন, ‘আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ এখান থেকে রান্না করার কাজে পানি নিতে আসতো। এখন তারা জার (কেনা পানি) কিংবা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য একদিকে অর্থের অপচয় সেই সাথে অধিকাংশ টিউবওয়েলর পানিতে আর্সেনিক থাকায় স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের দৈনন্দিন কাজে জলাশয়ের পানির প্রয়োজন অপরিহার্য।
স্থানীয় ১০৬ বছর বয়স রজব আলী গল্দার বলেন,‘পার্শ্ববর্তী খলিশখালী গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার গোপাল বোস এলাকার সুপেয় পানি সংকট লাঘবের জন্য দীঘিটি খনন করেন। সেই থেকে জলাশয়টির নাম বোস দীঘি। ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তি হলে পূর্ব বাংলা সরকার দীঘিটি সরকারি বলে ঘোষণা করে। এই সুদীর্ঘ সময়ে দীঘির কোন সংস্কার করা হয় নাই। ফলে ভরাট ও দূষণের কারণে আজ মৃত অবস্থা।
মাগুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জি এম শাহীন আলম বলেন, ‘সস্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সরেজমিনে দীঘিটি পরিদর্শন করেন।’
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি সর্ম্পকে তিনি অবগত আছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান।
হালনাগাদ ডাটাবেজের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা ও সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ১২৮০ কৃষক পরিবারের চলছে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিনব্যাপী মাচারতারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান। পর্যবেক্ষণকালে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা ও এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কৃত্তিবাস পান্ডে।
জানা যায়, কান্দি ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাচারতারা, গজালিয়া, আমবাড়ী, হিজলবাড়ী, ভেন্নাবাড়ী, তালপুকুরিয়া ও বানারঝোড় গ্রামের মোট ১ হাজার ২৮০টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও কৃষক কার্ড হালনাগাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
ইতোমধ্যে ধারাবাশাইল ব্লকের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই ব্লকে ১ হাজার ৪০২ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, সারা দেশে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকদের এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শাল্লা উপজেলায়ও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগদ অর্থ, কৃষকদের ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়, আবহাওয়া বার্তা ও বাজারের তথ্য প্রাপ্তি, চাষকৃত ফসলের চিকিৎসাসহ এসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন স্মার্ট কৃষক কার্ডধারীরা।