প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তালগাছের রাজ্য! সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ। যেন মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্থানে তালপিঠার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। মেলায় সমাগম ঘটেছে হাজারও মানুষের।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতি বছরই এ তালপিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তালপিঠারও। এ বছর মেলায় তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০ থেকে ১২ রকমের পিঠা আছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠামেলায়।’
সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। এ সময় মিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্য রকম এক উৎসব বিরাজ করছে।’
বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেক দিন ঘোরাফেরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সব মিলে খুব ভালো লাগছে।’
সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে মেলায় এসেছি। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’
পিঠামেলায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমন্ত্রণে এসেছেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তালগাছ। এখানেই বসেছে রকমারি পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্য রকম স্বাদ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সবার উচিত, বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।’
১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্দেশ্য ছিল বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্যও।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আয়োজন করা হয় এই মেলার। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে। এমটাই আশা আমার।’
কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণি হলেও রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকার বাজারের প্রধান সড়ক খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বেহাল দশা। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী।
এদিকে, সাবেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সহজে এ সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।
জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ৮ নম্বর ওযার্ডের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় দুটি সড়কে ইটের খোয়া দিয়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। এতে করে যানবাহন ও জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার প্রধান সড়কে অনেক খানাখন্দে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ যানবাহন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালকরা খানাখন্দে পার হতে দ্রুত গতির যানবাহন আঁকাবাঁকা ভাবে পার হচ্ছে, এতে করে পেছনে থাকা মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
পৌরসভার এক বাসিন্দা জানান, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অনেক রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে ওয়ার্ডবাসী ও চলাচলকারী জনসাধারণ। ভাঙা রাস্তায় যান চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সড়ক সংস্কার করা জরুরি।
গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, ওয়ার্ডগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে সড়ক, এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগসহ সকল সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারবেন। এতে করে যেমন পৌরবাসী উপকৃত হবেন তেমনি উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে।
আরেক কাউন্সিলর বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কাউন্সিলরদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়মূলক কাজ থমকে গেছে। তাই দ্রুত পৌর নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল সমস্যা সমাধান হবে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, ইতোমধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের টেন্ডার হয়েছে, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার যে সমস্ত সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার রোডের প্রধান সড়কে যে খানাখন্দ রয়েছে সেটি দ্রুত মেরামত করা হবে।
কেশবপুরে দীর্ঘদিনের ডাক্তার সংকট কাটছে একসঙ্গে ৮ চিকিৎসকের যোগদানে বদলাতে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবার চিত্র। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখছে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একযোগে ৮ জন নতুন মেডিকেল অফিসার যোগদান করায় জনবহুল এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার গতি ও মান দুটোই বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসার এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের ফলে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ উভয় সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল। এতে করে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। একসঙ্গে ৮ জন নতুন চিকিৎসকের যোগদানের ফলে এখন প্রতিটি বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন সহজ হবে এবং রোগীরা আগের তুলনায় দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন নিজ নিজ বিভাগে নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’
নতুন যোগদান করা চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী ৮ জন চিকিৎসক হলেন- নিতুন মণ্ডল চক্ষু বিভাগ, মোয়াজ্জেম হোসেন অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি, কৃষ্ণা কর্মকার ডেন্টাল সার্জন, তন্ময় তনু সরকার মেডিসিন, জিহাদুল ইসলাম সার্জারি, তন্ময় বসাক পেডিয়াট্রিকস, শিমুল হালদার গাইনি ও ইমারজেন্সি শারমিন ইয়াসমিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জন চিকিৎসক যোগদানের ফলে হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ জনে। তবে এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসক বর্তমানে ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থাকায় বাস্তবে রোগীদের সেবায় যুক্ত চিকিৎসকের সংখ্যা কিছুটা কম। দীর্ঘদিনের সংকট ও ভোগান্তির চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে যশোর শহর কিংবা দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হতো।
এদিকে নতুন করে চিকিৎসক যোগ দিলেও তারা দীর্ঘদিন অবস্থান না করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রোগীরা তুলনামূলক দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলাবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে শুধু চিকিৎসক নিয়োগ নয়, তাদের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে একসঙ্গে ৮ জন চিকিৎসকের যোগদান কেশবপুরের স্বাস্থ্যসেবায় নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এস এম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি আলহাজ সামিউল আযম ইমাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদ্য শপথ নেওয়া জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শ্যামনগর একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জনপদ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রেখেছেন।’ উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি উত্থাপন করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থাই হতে পারে শ্যামনগরবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা।’
তিনি প্রেসক্লাব ভবনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকরা সমাজের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো যুক্তিনির্ভর সমালোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেন। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে উল্লেখ করে তিনি প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’
উপজেলাকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও অবকাঠামোগতভাবে সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে শহরায়ন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং একটি আধুনিক বাসটার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি সরকারি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা। প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে মাগুরাবাসী। জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের ২৪ জন নতুন চিকিৎসক জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন এই ক্যাডার কর্মকর্তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মাগুরার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসক স্বল্পতায় ভুগছিল, ফলে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে ছুটতে হতো।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জেলার ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করবেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পেশাদারত্বের সাথে সাধারণ মানুষের সেবা করার আহ্বান জানানো হয়।
২৪ জন দক্ষ চিকিৎসকের একযোগে যোগদানের ফলে এখন থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ ঘরের কাছেই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও জরুরি চিকিৎসা পাবেন।
নতুন এই চিকিৎসকদের আগমনে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। এখন থেকে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
মাগুরার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ জেলার স্বাস্থ্য খাতে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চরের ভিটা গ্রামে রাতের আঁধারে ৮টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার সময় গ্রামবাসীরা চার কসাইকে আটকের পর গণপিটুনির পুলিশে দিয়েছে। এ সময় ৪টি জীবিত ঘোড়া আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আটক কসাইরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আমিনুর, জামগড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন, সাভারের আবু তাহেরের ছেলে ফরহাদ এবং রংপুরের কাউনিয়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন।
ধোপাকান্দি ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং পঞ্চাশ গ্রামের বাসিন্দা ফারুখ হোসেন জানান, চরের ভিটা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর সদর উপজেলার তুলসিপুর হাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া কিনে বাড়িতে আনত। আর ঘোড়া বেচাকেনার আড়ালে জবাই করা ঘোড়ার মাংস পাইকারি দরে ঢাকার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন মার্কেটে চালান দিত। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ট্রাকে করে ১২টি কেনা ঘোড়া বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ির নির্জন গোশালায় ৮টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করে। এর মধ্যে দুটি ঘোড়ার পেটে বাচ্চা ছিল। অপর চারটি ঘোড়া জবাই করার প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীরা টের পেয়ে হাফিজুরের বাড়ি ঘেরাও করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালের গোদা হাফিজুরসহ ৮ দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়। চারজনকে বিপুল মাংস এবং ৪টি জীবিত ঘোড়াসহ আটক করা হয়। গোপালপুর থানা এসআই আব্বাস উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এরা সংঘবদ্ধ চক্র। জবাই করা মাংস গ্রামবাসীর হাওলায় রাখা হয়, আটক চার ঘোড়া থানা হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কোনো সংযোগ সড়ক না করেই নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর একটি সেতু কালভার্ট নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০২১-২২ অর্থ বছরে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তিন গ্রামের কৃষকের।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু কালভার্ট নির্মাণ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কাজটি সম্পন্ন করেন মেসার্স আব্দুর রউফ শেখ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসুরিয়া গ্রামের খালের ওপর প্রায় ১৫ ফুট উঁচু একটি সেতু। সেতুর দুই পাশেই কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতু-সংলগ্ন বাসিন্দা উজ্জল হাজরা বলেন, ‘বিরিজ (ব্রিজ) এহোন আমাগে গলার কাটা হয়ে দারাইছে। বিরিজি গরুর গাড়ি ওঠে না। মাথায় বুঝা নিয়ে উঠতি গিলি হোচট খাতি হয়।’
স্থানীয়রা বলেন, ‘বিলের আশপাশের প্রায় চারটে গ্রামের কৃষক খাল পার হয়ে জমিতে ফসল লাগানো থেকে শুরু করে তা বাড়ি আনতে হয়। সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে কৃষকরা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিল। বিল থেকে ধানসহ নানা ফসলাদি আনা-নেওয়া করতে কৃষকের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাউবোর অধীনে ২০২১ সালের শেষের দিকে সেতুর কাজ শুরু করলেও শেষ হয় ২০২২ সালে প্রথম দিকে । কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকরা এই উঁচু সেতু দিয়ে ধান বোঝাই গরুর গাড়ি আনা-নেওয়া করতে পারছে না।’
নিরঞ্জন গোপাল (৭৫) বলেন, ‘সেতু নির্মাণের আগে চার গ্রামের কৃষকরা বিলির ভেতর থেকে গরুর গাড়িতে করে ধানসহ নানা ফসল নিয়ে যেত। সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে রাস্তা করে না দেওয়ার জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কম সময়ে বিল থেকে গ্রামে আসতে আর কোনো পথ নেই। বৃষ্টির সময় আমাদের ফসলাদি নিতে অনেক কষ্ট পেতে হয় । উপায় না পেয়ে বৃষ্টির আগে আমরা সেতুর দুই পাশে মাটি কেটে দিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিয়ে তা ধুয়ে গেছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সেন বলেন, ‘সেতুটি তার কার্যকালে নির্মাণ করা হয়নি।’
এ বিষয়ে তিনি খুব জানে না। তবে পুরোনো কর্মকর্তাদের কাছে শোনেছেন ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়।’
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার হারবাংয়ে ছড়াখাল ও মাতামুহুরী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে রাত-দিন বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে তিন সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে তাদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন।
হামলায় আহত কালের কণ্ঠ চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি জিয়াবুল হক, আমার দেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ভাণ্ডারির ডেপা এলাকায় এঘটনা ঘটে। কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায় ওই এলাকার নাজিম উদ্দীনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আমরা গিয়ে দেখি পার্বত্য অববাহিকার হারবাং ছড়া খালে মাটি কেটে বিরানভূমি করে রেখেছে এই বালুদস্যু। এ সংবাদ প্রকাশের জন্য ছবি ভিডিও করতে গেলে আমরা হঠাৎ আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দীনসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী। তাদের ধাক্কাধাক্কি করে ছড়া খালে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক জিয়াবুরের হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। আমার মাথায় আঘাত করে ও সাংবাদিক ইকবাল ফারুকের হাতে আঘাত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশবিক নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের জিম্মি করে বালু খেকো নাজিমের বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলবে বলে ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে।’
আহত সাংবাদিক জিয়াবুল বলেন, ‘রোজা রেখে আমার মুখে বালি ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন করতে করতে আমার ডান হাতের হাড্ডি ভেঙে ফেলে। ইফতারের সময় গড়িয়ে যায় এদিকে হাতের যন্ত্রণায় নিরুপায় হয়ে আকুতি-মিনতি করেও রক্ষা পাইনি। ৩ ঘণ্টা মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করে পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে। তবে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে দেননি হামলাকারীরা। পার্শ্ববর্তী উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত ৪টা বাজে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাণ্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে শ্যালো মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাতদিন বালু উত্তোলন করে আসছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালুখেকো। এসব বালু রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। ভেঙে যাচ্ছে ছড়া খালের পাড়। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। শ্যালো মেশিনের আওয়াজে ঘুমোতে পারছে না এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এলাকার রাস্তা-ঘাট নষ্ট করে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে ওই এলাকা।
বালুখেকোদের হামলায় আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বলেন, ‘বালুখেকো নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে হারবাং ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে গত রোববার বিকালে ঘটনাস্থলে যায়। আমরা যাওয়ার সাথে সাথে কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের ওপর হামলা করে আহত অবস্থায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়ে ভেঙে যায়। আমাদের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
এদিকে সাংবাদিকদের হামলায় ঘটনাটি জানাজানি হলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানান কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে হামলার প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো অপরাধীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি কেউ অবগত করেনি। লিখিত বা মৌখিকভাবেও কেউ জানায়নি।’ আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলায়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলা চরম অন্যায়। এটা কোনোভাবে কাম্য না। আমি এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পাঠাব। বিষয়টি আমি দেখছি।’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী মুজিব বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত। আমরা জনগণের সেবক- কোনোভাবেই জনগণের ভোগান্তির কারণ হওয়া যাবে না।
তিনি সেবা প্রত্যাশীদের যেন অযথা হয়রানি বা বিলম্বের শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা করাকে তিনি তার প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, রাজনৈতিক দলের নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পৌর এলাকার মাইজপাড়া এলাকায় গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর প্রায় ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সংস্পর্শ ঘটলে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আগুনে ঝলসে যান।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মনোয়ারা বেগম (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) এবং শিশু হুররাম (২)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগমের শরীরের প্রায় ২ শতাংশ, জিল হকের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ এবং শিশু হুররামের ৬ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ দুজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ গুয়াগাছিয়ায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। অভিযানে কুখ্যাত নৌডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর একটি গোপন আস্তানা ও ওয়াচ টাওয়ারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, সেনা সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে নৌডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। আস্তানাটি লোকালয় থেকে দূরে নির্জন স্থানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তল্লাশিকালে সেখান থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, আস্তানাটির ভেতরে একটি বিশেষ ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছিল যেখান থেকে সাধারণ মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যেত। আস্তানাটিতে ৫-৬ জন সদস্যের থাকার মতো সব ধরনের ব্যবস্থা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে নৌডাকাত দলের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিল। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আস্তানাটির সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে অপরাধী চক্রটি সেখানে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
সেনা ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গজারিয়া থানার ওসি হাসান আলী বলেন, ‘সেনাবাহিনী থানায় গুলিগুলো হস্তান্তর করার পর আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গুয়াগাছিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাবা ও ছেলেসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার ভোররাতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় পুনরায় সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের এবং খলিল শেখের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোমবার ভোররাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে বড়কুলা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে খলিল শেখের পক্ষের চারজন প্রাণ হারান। তাঁরা হলেন—স্বয়ং খলিল শেখ, তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ, ভাগিনা ফেরদৌস এবং মুন্না শেখ। অন্যদিকে, সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরের সমর্থক ওসিকুর শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই উত্তেজিত প্রতিপক্ষের লোকজন স্থানীয় কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বনি শিকদার, হালিম ফকির, তুফান মোল্যা, সদয় মোল্যা, লাজুক ওরফে সূর্য্য শিকদার এবং জসিম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বড়কুলা গ্রামে নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পুলিশ কাজ করছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ঘোষণা চূড়ান্ত এবং নির্মমভাবে স্পষ্ট—কোনো আপস নয়, কোনো ছাড় নয়, কোনো দয়া নয়।”
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ধ্বংস করছে। তাদের প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখানো মানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
সংসদ সদস্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে সামান্যতম শৈথিল্যও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো সুপারিশ, তদবির, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের চাপ আইনের গতিকে এক চুলও বাঁকাতে পারবে না। অপরাধী যে-ই হোক, যত বড় পরিচয়েরই হোক না কেন—তার ঠিকানা হবে আইনের কঠোরতম ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, সমাজ আর নীরব থাকবে না। মাদক সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্পট চিহ্নিত করা হবে, প্রতিটি চক্র ভেঙে দেওয়া হবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান হবে নিরপেক্ষ, দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক। নাম, পদবি বা পরিচয়ের আড়ালে কেউ নিরাপদ থাকবে না।
এমপি মিলন জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় শক্ত অবস্থানের। এখন সময় প্রমাণ করার—আইন ঘুমিয়ে নেই। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, এবং এই যুদ্ধে নরম ভাষা নয়, কার্যকর কঠোরতাই হবে একমাত্র উত্তর।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে গতি আনতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও মানবাধিকারসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে প্রকৃত অপরাধীরাই বিচারের আওতায় আসে।
নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লায় নাগর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর নজরে আসে একটি বক্স সেই বক্সে ছিল পিস্তলের ৫০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা যায়, কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের শিশু পুত্র মোস্তাকিম হোসেন (৯) ও জাবের হোসেন (৭)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে পার্শ্ববর্তী নাগর নদীতে মাছ ধরতে যায়। এসময় তারা নদীর মধ্যে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাক্স দেখতে পায়। বাক্সটি খুলে তারা এর ভেতরে ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পিস্তলের ব্যারেল পরিষ্কার করার প্লাস্টিকের তৈরি ক্লিনিং রড ও দুটি ব্রাশ পায়। তবে প্রতিটি গুলির পিছনে ইংরেজিতে ঈইঈ ৩২ অটঞঙ লেখা ছিল
শিশুরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে বাক্সটি নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখে। পরে শিশুর মা মরিয়ম বেগম (৪০) সিংড়া থানায় ফোন করে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্সসহ ভেতরের গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এঘটনা জানতে চাইলে শিশুদের মা মরিয়ম বেগম বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় তার দুই ছেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তারা হঠাৎ একটি মাঝারি আকারের বক্স হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। কৌতূহলবশত বক্সটি খুলে তিনি ভেতরে পিস্তলের গুলি দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেন এবং পরে উদ্ধারকৃত বক্সসহ গুলি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এবিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ব.ম আব্দুন নূর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতর থাকা ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এসব কোথা থেকে এলো এবং কারা রেখে গেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।