বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১০ চৈত্র ১৪৩২

রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া

মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:৪৪

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

মরিয়ম মান্নানের মায়ের এই ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। এর মধ্যেই রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা খুলনার দৌলতপুর থানার এসআই লুৎফুল হায়দার তাকে উদ্ধারের বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ওসি আব্দুল ওহাব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খুলনায় পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি দল রাত ২টার দিকে রহিমা বেগমকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানায় পৌঁছায়।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন দৌলতপুর থানায় রহিমা বেগমকে নিয়ে আসার পর উদ্ধার অভিযান বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান এবং সেখানেই ছিলেন।

মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আপাতত তাকে ভিকটিম সেন্টারে রাখবো, এবং পিআইবি চাইলে তাদের কাছে হস্তান্তর করব। রহিমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কথা বললে হয়তো আমরা জানতে পারতাম তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন বা কী ঘটনা ঘটেছে। আরো জিজ্ঞাসা করে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত জানা যাবে।'

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ বছর আগে খুলনার সোনালী জুট মিলে চাকরি করতেন কুদ্দুস মোল্লা। তখন তিনি পরিবার নিয়ে রহিমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় রহিমার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুদ্দুসের পরিবারের। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো।
পুলিশ রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার আগের কল রেকর্ডের সূত্র ধরেই তদন্তে নামে। সেখান থেকেই জানতে পারে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে তার অবস্থান। তবে এই সময় তিনি পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

দৌলতপুর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার মেয়েরা অপহরণের নাটক সাজান। রহিমা আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় যেকোনো নারীর মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করার পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছিলেন তার মেয়েরা।’

এর আগে গত শুক্রবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা একটি মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করেছিলেন মরিয়ম মান্নানসহ রহিমা বেগমের তিন মেয়ে।

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন রহিমার ছেলে মো. মিরাজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর রহিমা অপহরণ মামলা পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। এদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এই মাত্র।’

পরদিন সকালে নিখোঁজ রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

এ সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান তার মায়ের ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে এটাই আমার মা।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফুলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মোতালেব চৌধুরী শুক্রবার বলেন, ‘মরিয়মের মায়ের বয়স ৫৫ বছর। আমরা যে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করেছি, তার আনুমানিক বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছর মনে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় মরদেহটি তার মায়ের নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির পরনে তখন গোলাপি রঙের সালোয়ার; গায়ে সুতির ছাপা গোলাপি, কালো-বেগুনি ও কমলা রঙের কামিজ এবং গলায় গোলাপি রঙের ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘মরিয়ম মান্নান ওই মরদেহটি তার মা রহিমার দাবি করলেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে মরদেহ শনাক্তে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করা প্রয়োজন।’


বেনাপোলে যাত্রীর পাসপোর্ট ও টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে সুশান্ত কুমার মজুমদার নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে হামিদ, ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে আতিকুর রহমান ও শাহাজানের ছেলে রুবেল হোসেন।

ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারী যাত্রী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বাস থেকে বেনাপোল চেকপোস্টে নামেন।

এ সময় পাসপোর্টে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নাম করে চার থেকে পাঁচজন তাকে ঘিরে ধরেন।

এক প্রকার তাদের সাথে আস্তানায় যেতে বাধ্য করেন। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রতারকদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। সর্বশেষ এক পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।

স্থানীয়দের দাবি, অসহায় পাসপোর্টধারীদের জিম্মি করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অনেকে এ চক্রের হাতে জীবনও হারিয়েছেন।

এমনকি ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে পোর্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহল বহুবার এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানালেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চক্রটি দল বদল করে একইভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা প্রতিদিন পাসপোর্টধারীদের আটকে টাকা ও সাথে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। অপরাধ দমনে সীমান্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি থাকলেও তাদের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো কাজে আসছে না।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, প্রাইয় প্রতারক চক্রকে ধরে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। তারা আবার ফিরে ছিনতাই, প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সভায় এসব তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোনোভাবে অপরাধ থামছে না।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিনি ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। ওইসব যাত্রীদেরকে প্রতারকরা ‘লাইনের আগে অনলাইন ট্যাক্স, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবে না’ ইত্যাদি কথা বলে নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে যায়।

তারপর ‘অনলাইনে ফরম পূরণ’ এবং ‘টাকার নাম্বার লিখতে হবে, না লিখলে কাস্টমস আটক করবে সহ নানা প্রতারণামূলক কথা বলে পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে টাকাসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণে পর্যায়ক্রমে প্রতারক চক্রের সব সদস্যকে ধরা হবে।


শহীদ জিয়া খাল কেটে কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছিলেন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল কেটে কৃষি উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এবং সে ব্যবস্থা এখনো কৃষকদের মনে গেঁথে আছে। সেই খালকাটার সুফলটা এ দেশের কৃষকরা পেয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের এখানে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় বিভিন্ন ধরনের মানুষ দখল ও পলি পরে তা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় পুনঃখননের। কয়েকদিন আগেই বিভিন্ন স্থানে খাল খনন উদ্বোধন করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় যেসব খাল বেদখল রয়েছে তা উদ্ধার করে পুনঃখননের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের কৃষকরা যাতে করে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই কৃষিকাজ ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পায় এ জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য দেশে পাইলটিং প্রোগ্রামে আপাতত দেশের ১০টি জেলায় কৃষি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন একটি। এ ইউনিয়নে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ কৃষি কার্ড বিতরণ শুভ উদ্বোধন করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার, ১০টি ইউনিয়নে, ১০টি কৃষি ব্লকে প্রি-পাইলটিং হিসেবে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচি হিসেবে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১১ তারিখে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এর মধ্যে আমরা ১,০৩৫ জন কৃষকের জরিপ কাজ সম্পন্ন করেছি। অনলাইনের মাধ্যমে তাদের তথ্য ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আগামী ১৪ এপ্রিল এই কার্ড উদ্বোধন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড়, মাঝারি, প্রান্তিক, দুর্যোগ ও ভূমিহীন ৫ ধরনের কৃষক রয়েছে। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের সমস্ত প্রণোদনা সহায়তা পাবে।’

এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ভৈরবে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে ২৯ নম্বর রেলসেতু এলাকায় কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে পরিচয় না জানা এক যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সোমবার রাত ৯টার দিকে স্টেশন-সংলগ্ন পশ্চিম আউটারে এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আইনুল হক নামের আরেক যুবকের মৃত্যু হয়।

রেলওয়ে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পরিচয় না জানা যুবকের পরনে ছিল জিনস প্যান্ট ও লাল রঙের শার্ট। তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত আইনুল হক কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে। আইনুল হক মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ও সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে ট্রেনে কাটা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্য একজনের মরদেহ পরিচয় সনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর মরদেহটি পরিচয় সনাক্তকরণের জন্য জেলা থেকে পিবিআই পুলিশের টিম এসে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।


বগুড়ায় বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনই বন্ধ, ভোগান্তিতে যানবাহনের চালকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার ৭৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সিংহভাগই তেল শূন্য হয়ে বন্ধ রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল ও অকটেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। এদিকে ডিজেলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরো খেতের সেচ কার্যক্রম। পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়ে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে মিতালী ফিলিং স্টেশন এবং দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন বন্ধ। শহরের চারমাথা থেকে মোকামতলা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ৩০টি ফিলিং স্টেশন আছে। এর প্রায় সবই বন্ধ; সেখানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নেই। বেলা ১১টার দিকে টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা পাওয়া। সেখানে তেলের জন্য কয়েকশ যানবাহনের দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার এবং ভারী যানবাহনে ২০ লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না।

মাটিডালি এলাকার নর্দান ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বগুড়া জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এমদাদ আহমেদ বলেন, মজুত শেষ হওয়ায় তার পাম্প সোমবার রাত থেকে বন্ধ। তেল এলে বুধবার সকাল থেকে তেল বিক্রি শুরু হবে।

এমদাদ আহমেদের সঙ্গেই ছিলেন রংপুরের পেট্রোলপাম্পের মালিক রেজাউল হক। তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য। রেজাউল হক জানান, তার মালিকানায় হক ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, বিপ্লব ফিলিং স্টেশন, আরজাহান ফিলিং স্টেশন, নাহার ফিলিং স্টেশন এবং সম্ভাবনা ফিলিং স্টেশন নামে পাঁচটি পেট্রোলপাম্প আছে। তেলের সংকটে সব কটি পাম্প বর্তমানে বন্ধ।

উত্তরের এই জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী আরও বলেন, তিনি ব্যবসার কাজে প্রাইভেট কার চালিয়ে রংপুর থেকে বগুড়ায় এসেছেন। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত অর্ধশত পেট্রোলপাম্পের সব কটিই বন্ধ দেখেছেন। শুধু বগুড়ার টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা ছিল।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার দুটি পেট্রোলপাম্প কয়েক দিন ধরে তেলশূন্য। ডিজেলসংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা, বন্ধ হয়ে গেছে বোরো ক্ষেতে সেচ কার্যক্রম। পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়েও তেল কিনতে পারছেন না সেচপাম্পের মালিক এবং যানবাহনের চালকেরা।

গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, ধুনট উপজেলা সদরে মেসার্স সুলতান ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনে তেল নেই। পাম্পের তেল সরবরাহ মেশিনের সামনে দড়ি দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্পে তেলের জন্য ধরনা দিচ্ছেন যানবাহনের চালকেরা।

চালকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পাম্প বন্ধ। খোলা খোলাবাজারেও তেল মিলছে না। পেট্রলের অভাবে রাস্তায় মোটরসাইকেল বের করা যাচ্ছে না। একই অভিযোগ কৃষক ও সেচপাম্পের মালিকদের। তারা বলছেন, বোরো চাষের ভরা মৌসুম চলছে। বোরো খেতে সেচ দিতে দিনরাত সেচপাম্প চালু রাখতে হচ্ছে। অথচ সেচের জন্য ধুনটে কোথাও ডিজেল মিলছে না। ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে গিয়েও ১০ থেকে ২০ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের মোটরসাইকেলচালক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, মোটরসাইকেলে এক ফোটাও তেল নেই। পাম্পেও তেল নেই, খোলাবাজারেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ডিজেলের অভাবে সেচপাম্প বন্ধ। বোরো ক্ষেতে পানি নেই। ডিজেল না পেলে ক্ষেতে ফেটে চৌচির হবে।

মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনের মালিক জুয়েল রানা বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও তেল পাচ্ছি না।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলার পাম্পগুলোতেও পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন মিলছে না। এতে সেচপাম্প বন্ধ হওয়ায় বোরো খেত নিয়ে দিশাহারা কৃষকেরা। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যানবাহনের চালকেরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের (রতন) তথ্যানুযায়ী বগুড়ায় ৭৮টি পেট্রোলপাম্পের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রায় অর্ধেক পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি থেকে পাম্প পর্যন্ত তেল পরিবহনে ট্যাংকলরির ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। ১ লরিতে ৯ হাজার লিটার তেল পরিবহন করা যায়। কিন্তু বাঘাবাড়িতে বিপিসির ডিপো থেকে পাম্পমালিকদের সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে পাঁচ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। ধারণক্ষমতার অর্ধেক তেল বরাদ্দ পাওয়ায় পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে। কিন্তু পাম্প থেকে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করার সুযোগ নেই।


সেচেরমোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দে (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার নতুনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রবি দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতের যেকোনো সময় শফি সরদারের ধানক্ষেতে ব্যবহৃত মোটর বা তার চুরি করতে যায় রবি। এ সময় মোটরের সাথে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত থাকায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেচকৃত বৈদ্যুতিক তার বা মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ধানক্ষেতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাতে বিদ্যুতের ক্যাবল জড়ানো ছিলো এবং গায়ের মধ্যে কিছু অংশ পুড়ে পুড়ে গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


দুই জনের মরদেহ ঝুলছিল, একজনের গলায় ছিল ওড়না পেঁচানো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, নড়াইলের লোহাগড়া এবং বরিশালের গৌরনদীতে তিন গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এদের একজনের মরদেহ ঝুলছিল জানালার গ্রিলে, অন্যজনের গলায় ওড়না পেচানো এবং দুই পা শিকলে বাধা ছিল আরেকজনের মরদেহ ঝুলছিল গাছের সঙ্গে। বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।

​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ): গজারিয়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মীম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি পাঁচ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত মীম আক্তার গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কিবরিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ মাস ধরে স্বামী কিবরিয়ার সঙ্গে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মীম। সোমবার রাতে কিবরিয়া কর্মস্থলে চলে গেলে মীম একাই ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে মীমের মা মেয়ের বাসায় এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে মীমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

​নিহতের স্বামী কিবরিয়া জানান, তিনি জাহাজ শ্রমিক। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের প্রেম হয় এবং পরবর্তীতে দুই পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর কয়েক মাস বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থাকলেও ১১ মাস ধরে তারা এই বাড়িতে বাস করছিলেন।

তিনি বলেন, 'আমার স্ত্রী একা থাকতে ভয় পেত। কয়েক মাস ধরে সে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিল। অনেক চিকিৎসক দেখালেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাতে কাজে যাওয়ার সময় আমি আমার শাশুড়িকে বাসায় আসতে বলেছিলাম। কিন্তু সকালে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাই।

​নিহতের মা জানান, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় সোমবার তিনি আর মেয়ের বাসায় যাননি। মঙ্গলবার ভোরে এসে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ভেতরে ঢুকে মীমকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

​গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গৌরনদীতে গাছে ঝুলন্ত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিলকিস বেগম (৩২) নামে তিন সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিলকিস বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল গাজীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। বিলকিসের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মাইনুল গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, নিহতের শ্বশুর আলতাফ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্যের জের ধরেই বিলকিস আত্মহত্যা করেছেন।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

শিকলে বাধা দুই পা, নড়াইলে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

নড়াইল প্রতিনিধি

ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রীতা বেগম নামে(৪০) এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না পেচানো এবং দুই পায়ে শিকলী দিয়ে বাধা ছিল। রহস্যজনক এই মৃতের মরদেহ সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে নড়াইলের লোহাগড়া থানার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত রীতা বেগম গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবারের দাবি রীতা বেগম মানষিক ভারসাম্য হারানো এক মহিলা। বাড়ীর কাউকে কিছু না বলে প্রায়ই বাড়ী থেকে বের হয়ে যেত। যে কারণে বেশ কিছুদিন যাবত তাকে আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশিরা জানান,রীতা বেগম ভালো মনের মানুষ। মানসিক ভারসাম্য হারানো মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে দুই পায়ে শিকলী দিয়ে বেধে আলাদা ঘরে রাখা হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর রাতে পরিবারের লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে জানান দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধা করে থানায় নিয়ে যায়।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো,আব্দুর রহমান বলেন,বাড়ীর একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, দুই পা শিকলে বাধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে হয়। ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ক্রাউডফান্ডিংয়ে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ৭৬৪ দরিদ্র পরিবারে ঈদ উপহার দিলো ‘চলো গড়ি বেলাব’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চলো গড়ি বেলাব’। ক্রাউডফান্ডিং বা গণতহবিলের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে উপজেলার ৭৬৪টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করছে সংগঠনটি।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গত ২৬ দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও দানশীল ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহৎ কাজে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

এ বছর বেলাব উপজেলার ৭২টি ওয়ার্ডের মোট ৭৬৪টি পরিবারের কাছে এই ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপহার প্যাকেজে রয়েছে পোলাওয়ের চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, লবণ, সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধ, মাংসের মসলা এবং গোসলের সাবান। প্রতিটি প্যাকেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০৮ টাকা। উল্লেখ্য, গত বছর ৫০৪টি পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হলেও এবার সেবার পরিধি বাড়িয়ে ৭৬৪টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘চলো গড়ি বেলাব’ প্রতি বছর রমজান ও ঈদে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। এর বাইরেও সংগঠনটি বৃক্ষরোপণ, করোনাকালীন জনসচেতনতা, চিকিৎসা সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং সিজিবি (CGB) ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষার মতো সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এমনকি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশেও দাঁড়িয়েছিল এই সংগঠনের একঝাঁক তরুণ।

সংগঠনের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, "সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। যারা অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে আমাদের এই পথচলায় পাশে রয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।" মানবিক এই কার্যক্রমগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখতে বেলাব উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।


উপকূলে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে গোল গাছের ফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় অঞ্চলে প্রকৃতির বুকে নতুন করে সৌন্দর্যের বার্তা ছড়াচ্ছে গোল গাছের ফুল। শরণরখোলার সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় এখন গোল গাছ ফুলে ফুলে সেজেছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, বছরের এই সময়ে গোল গাছে ফুল ফোটে এবং তা উপকূলের পরিবেশকে করে তোলে আরও মনোরম। বিশেষ করে সুন্দরবনের পাশে নদীর পাড়, খাল-বিল আর বনাঞ্চলের পাশে এই ফুলের উপস্থিতি এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। সকালে সূর্যের আলো আর বিকেলের নরম হাওয়ায় ফুলগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. দুলাল ফরাজি বলেন, গোল গাছের ফুল ফুটলে মনে হয় প্রকৃতি নতুন করে হাসছে। এই দৃশ্য আমাদের মন ভালো করে দেয়।

পরিবেশবিদদের মতে, গোল গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গাছ মাটি ধরে রাখে এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কিছুটা কমাতে সহায়তা করে।

তারা আরও বলেন, উপকূলের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হলে বন উজাড় বন্ধ এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


নওগাঁয় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেপ্তার, ইজিবাইক উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে পোরশা থানার শিশা বাজার এলাকা থেকে সরাইগাছি বাজারে যাওয়ার কথা বলে দুই ব্যক্তি একটি ইজিবাইক ভাড়া নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইজিবাইকটি শিশা বাজার অতিক্রম করে যাত্রী ছাউনির কাছে পৌঁছালে যাত্রীবেশী ওই দুই ব্যক্তি চালকের ওপর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর তারা ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট জোরদার করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ২১ মার্চ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে শিশা বাজার এলাকায় ইজিবাইকটি নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পত্নীতলা থানা পুলিশ ইজিবাইকটি উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এরা হলেন- আব্দুল্লাহ ইসলাম (২৪) ও রনি বাবু (২৭)। তারা পত্নীতলা উপজেলার ভগিরতপুর গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইজিবাইকচালক রায়হান পোরশা থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


বাড়ি গিয়ে কোরআন শরীফ বাধাই করাই অলিউর রহমানের পেশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালি পোলেরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. অলিউর রহমান (৬০) ৩০ বছর ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরআন শরীফসহ বিভিন্ন বই বাধাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নিজের কোনো স্থায়ী দোকান না থাকায় তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের বাড়িতে গিয়ে ছেঁড়া বা পুরোনো বই নতুন করে বাঁধাই করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিউর রহমান শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, মোংলা ও রামপালসহ বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই কাজ করেন। বিশেষ করে পবিত্র কোরআন শরীফ বাধাইয়ের কাজই তার আয়ের প্রধান উৎস।

অলিউর রহমান বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে তিনি এই পেশার সঙ্গে জড়িত। আগে বই বাধাইয়ের কাজের বেশ চাহিদা থাকলেও এখন আগের মতো কাজ পাওয়া যায় না। এতে করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তার পরিবারে তিনজন সদস্য রয়েছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেই তিনি পরিবার নিয়ে কোনোমতে জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে ডিগ্রি পাস করলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

তাফালবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী রিপন মুন্সি বলেন, অলিউর রহমান একজন পরিশ্রমী মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই কাজ করেন। কিন্তু বর্তমানে কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাকে অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বই বাধাইয়ের এই কারিগর।


ভৈরবে ফিলিং স্টেশনে দুইশ টাকার বেশি জ্বালানি পাচ্ছেন না গ্রাহকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ফিলিং স্টেশনগুলিতে গ্রাহকরা দুইশ টাকার বেশি জ্বালানি পাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের মোল্লা ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে গ্রাহকদের জ্বালানি দিচ্ছে। উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পান্নাউল্লাহচর এলাকার ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রোল না থাকায় গ্রাহকদের তেল সরবারাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। তবে গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, চাহিদা অনুয়ায়ী জ্বালানি পাচ্ছে না। পাম্প থেকে প্রত্যক বাইকরাদের ২-৩ শত টাকার জ্বালানি দেয়া হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালক সালেহ আহমেদ বলেন, ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত প্রত্যক পাম্পে তেলের যথেষ্ট সরবরাহ আছে কিন্তু তারা সিন্ডিকেট করে বাইকরাদের চাহিদা অনুযায়ী দিচ্ছে না। এতে আমরা যারা বাইকরা তারা খুবই ভোগান্তিতে পড়েছি। বর্তমান সরকার যেন দ্রুত জ্বালানি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মের প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে থাকতে হয়। সেজন্যই বাইকে বেশি তেল রাখতে হয়। কিন্তু আমরা আমাদের চাহিদা মত জ্বালানি পাচ্ছি না। এতে অনেক দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছি। এতে আমাদের কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

মোল্লা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, গত দুই দিন ধরে আমাদের পাম্পে অকটেন, পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের তেল দেয়া বন্ধ রয়েছে। আজকে ডিপো থেকে তেল আনতে লোক পাঠিয়েছি। আশা করছি কাল থেকে গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুয়ায়ী জ্বালানি পাবে।

ভৈরব ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল হাই বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় ব্যাংকে পেঅর্ডার করতে পারি নি সেজন্যই পাম্পে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ কম রয়েছে। সেজন্যই আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল নিতে পারছি না। তবে রাত থেকে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকবে বলে তিনি জানান।


শাহ আমানতে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে এয়ার আরাবিয়ার একটি আগমন ও একটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সব ফ্লাইট বন্ধ ছিল না। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ছয়টি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে এবং পাঁচটি ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থবিরতা এখনো কাটেনি।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল (জনসংযোগ) জানান,পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


রোমাঞ্চ যখন মরণফাঁদ, ছবির নেশায় হতে পারে জীবনের ইতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। চিরসবুজ এই বনের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা রেললাইন। দুপাশে ঘন অরণ্য আর ছায়াঘেরা পরিবেশের এই মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। কিন্তু এই অপার সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর ‘মৃত্যুফাঁদ’। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-ভিউ পাওয়ার নেশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে ছবি ও ভিডিও তুলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা।

সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের মধ্যে রেললাইনে দাঁড়িয়ে বা বসে ছবি তোলার এক বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ রুটের লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান এক শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিখুঁত একটি ফ্রেমের খোঁজে মগ্ন থাকা ওই শিক্ষার্থী বুঝতেও পারেননি কখন ইঞ্জিনটি তাকে আঘাত করেছে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন উদ্বেগের সাথে জানান, "রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এখন অনেকের কাছে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা।"

লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই এখানে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বনটি ঘন বৃক্ষরাজিতে ঘেরা এবং এর ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনটি বেশ আঁকাবাঁকা। ফলে অনেক সময় খুব কাছ থেকে ট্রেন না আসা পর্যন্ত দেখা বা শব্দ শোনা যায় না। বনের শান্ত পরিবেশে ট্রেনের গতিবেগ অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে, ফলে পর্যটকরা সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘুরতে আসা আব্দুল্লা আল কাফি এর বক্তব্যে উঠে এল এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেন, "অনলাইনে লাইক-ভিউ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় নিরাপত্তার বিষয়টিকে আড়াল করে দেয়। এই ভিউ এত সুন্দর যে ছবি না তুললে মনে হয় ভ্রমণটাই অসম্পূর্ণ।" একই সুর শোনা গেল রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক শেখ মুন্নার কণ্ঠে। তিনি জানান, সবাই ছবি তুলছে দেখে তিনিও পিছিয়ে থাকতে চাননি।

স্থানীয় ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং জানান, পর্যটকরা প্রায়ই রেলকর্মীদের বা গাইডের সতর্কবার্তাকে তোয়াক্কা করেন না। এমনকি উঁচুতে থাকা রেল সেতুতে উঠে ছবি তুলতে গিয়েও অতীতে দুর্ঘটনার নজির রয়েছে।

মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকের মতে, সচেতনতার অভাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। তিনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভ বলেন, "কয়েক সেকেন্ডের রোমাঞ্চ বা একটি ছবির মূল্য কি জীবনের চেয়ে বড়? প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার সবার আছে, কিন্তু তা যেন প্রাণ কেড়ে না নেয়।"

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, পর্যটন মৌসুমে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেললাইনে যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ও বন বিভাগ কাজ করছে।

রেললাইন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি একটি সক্রিয় পথ। আপনার একটি অসতর্ক মুহূর্ত কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন এবং স্তব্ধ করে দিতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন।


banner close