শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে নিখোঁজ, যশোর থেকে উদ্ধার

নিখোঁজের পর উদ্ধার শিক্ষক বিভূতি মোহন সরকার। ছবি: দৈনিক বাংলা
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:১৫

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত শুক্রবার ভারতে প্রবেশের পরপরই নিখোঁজ হয়েছিলেন মাগুরার স্কুলশিক্ষক বিভূতি মোহন সরকার (৫৩)। এক দিন পর গত শনিবার রাত ১টার দিকে তার সন্ধান মিলেছে যশোরের চাচড়া মোড় এলাকায়। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‍দুপুরে ফের তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গেছেন স্ত্রী ববিতা রানী।

বিভূতি মোহন সরকার মাগুরা সদর থানার নান্দুয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নবকুমার সরকারের ছেলে। তিনি মাগুরা শ্রীপুর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। গত শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে তিনি ‘নিখোঁজ’ হন।

বিভূতি মোহনের স্ত্রী ববিতা রানী জানান, শুক্রবার বিকেলে স্বামীকে নিয়ে তিনি ভারতে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ অংশে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ স্বামীকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে করোনা পরীক্ষার ভ্যাকসিনের কাগজ ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে জমা দিতে যান। ফিরে এসে দেখেন তার স্বামী নেই।

ববিতা রানী বলেন, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের সিসি ক্যামেরায় (ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা) দেখতে পাই, তিনি (বিভূতি মোহন সরকার) আবার বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। পরে পেট্রাপোল থেকে ভারতে ইমিগ্রেশনের সিল বাতিল করে দেশে ফিরে আসি। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করে দেখতে পাই, তিনি (বিভূতি মোহন সরকার) দেশে ফিরে এসেছেন। পরে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনদের খবর দিই।

বিভূতি মোহন সরকারের স্ত্রী আরও বলেন, আত্মীয়দের সহযোগিতায় ওই দিনই বেনাপোল বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর চাচড়া ফাঁড়ি পুলিশ তাকে যশোরের চাচড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে সকালে (রোববার) আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। উনাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আবার ভারতে যাচ্ছি।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়া শিক্ষককে যশোরের চাচড়া ফাঁড়ি পুলিশ চাচড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ (রোববার) দুপুর ১২টার দিকে ওই শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে গেছেন তার স্ত্রী।’ তবে ওই শিক্ষক কীভাবে নিখোঁজ হলেন, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ওসি।


নির্বাচিত

সরকারি দামে মিলছে না সার, বস্তাপ্রতি বাড়তি ৬০০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

আমন চাষে চাহিদা মতো সার পাওয়া নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। এখন আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার নেই। কারণ ডিলারের দোকানে সরকারি ভর্তুকির সার মিলছে না। তবে খুচরা দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এ অবস্থায় কৃষকরা সারের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকান। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি বেশি প্রকট।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছে বেশি দামে। সার নিয়ে এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি আমন উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে ১ হাজার ১০০ টাকা হবে ৫০ কেজির এক বস্তার দাম। আর টিএসপির কেজি ২৭ টাকা দরে বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপির কেজি ২১ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি সারের কেজি ২০ টাকা দরে প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে খুচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিন্তু। তাতে একেক বস্তা সারে কৃষককে সরকারি দামের তুলনায় ৩৫০-৪৫০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। আর ডিএপির ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতি বস্তায় কৃষকের ৫৫০-৬৫০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে দাঁড়াবে। তার মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, টিএসপি ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০, এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। তাছাড়া এনপিকেএস (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের সুষম সার), জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, বোরন ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের চাহিদা ৯ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টন ধরা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারের মজুত ১৬ লাখ টনেরও কিছু বেশি। কিন্তু সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি আমন চাষে কৃষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ সময়মতো সার না পেলে ব্যাহত হতে পারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। তাছাড়া উৎপাদন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি আমন উৎপাদনে সার বেশি দাম কিনলে কৃষকের ব্যয় বাড়বে। তাতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ে। তখন দেশে খাদ্যের আমদানি নির্ভরতাও বাড়বে।

তবে দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সার নেই অভিযোগ আসছে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসন যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বিতরণ করার পরও অতিরিক্ত সার থাকছে। বরং ক্রেতা নেই। কোনো কোনো জেলায় আগের বছরের তুলনায় আমরা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারপরও সার না থাকার অভিযোগ আসছে। এ নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এদেশ বেশি ভর্তুকি দেই। সেজন্য ওসব দেশের তুলনায় এখানে দাম কম। তবে সার পাচার হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারপরও বিজিবিকে সীমান্তে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনায় নতুন নীতিমালায় লোকসান, তিন ডিলারের লাইসেন্স সমর্পণ: ইটনা উপজেলায় ব্যবসায়ে লোকসানের কারণ দেখিয়ে তিন বিসিআইসি ডিলার উপজেলা কৃষি অফিসে লাইসেন্স জমা দিয়েছেন।

প্রদীপ কুমার পাল, সাজ্জাদ মিয়া ও সঞ্জয় সাহা নামের এই তিন ডিলার জানান, নতুন নীতিমালায় জামানত দুই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বাড়লেও মোট বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকছে। এভাবে লস দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, শূন্য হওয়া তিনটি ডিলার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে; আগামী ৩১ আগস্ট আবেদনের শেষ তারিখ।

জয়পুরহাটে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সারের দাম নেওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

জেলার কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার কৃষক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানে তালিকামূল্য ঝোলানো থাকলে কী হবে, দাম তো বেশিই নিচ্ছে। মেমো চাইলে সারই দিতে চায় না। আবাদে লোকসানের শঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষেতলালের হাটশহর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারের পাশাপাশি অন্য খরচও বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের দাম তো বাড়ে না।’

চাষিদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। ক্ষেতলালের সার ব্যবসায়ী শাহজামান তালুকদার বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ সত্য। নজরদারি করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।’

তবে জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সারের প্রাপ্যতা অনেক কম। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় যদি কোনো সমস্যা থাকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিসিআইসির কোনো ডিলার সারের দাম বেশি নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলাজুড়ে ডিলার পয়েন্টে কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। সারের দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুরের পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। জেলায় চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সার বরাদ্দ কম মেলায় তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট। আমন মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সারের ব্যাপক প্রয়োজন থাকলেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি ডিলারের কাছে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ৫-১০ কেজির বেশি টিএসপি মিলছে না।

সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার সার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। বাকিতে নিলে এ দাম আরও বাড়িয়ে বলছে। বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যেই সার কিনতে হচ্ছে।’

কলাচাষি আবেদ আলী বলেন, ‘আমার ৮ বিঘা কলার জমিতে ৮ বস্তা টিএসপি দরকার। ডিলারের কাছে সারাদিন ধরনা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটি আইডি কার্ডে ১০ কেজি টিএসপি পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, ‘বর্তমানে বেশি সংকট হচ্ছে টিএসপি সারের। বরাদ্দ অনুযায়ী চার ভাগের এক ভাগ সারও পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

লালমনিরহাটে ডিলাররা সরকারি ভর্তুকির সার গোপন গুদামে লুকিয়ে রেখে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করছে। চরম টিএসপি ও ডিএপি সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সারের দাবিতে কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন কিশোরগঞ্জ, জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি।


নির্বাচিত

হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতির কারণেই জাহাজভাঙা কারখানায় ১০ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় অসুস্থ হয়ে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশেষজ্ঞ দল। জাহাজের ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসকে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। ট্যাংক থেকে পানি বের করার সময় পানিতে দ্রবীভূত গ্যাসটি মুক্ত হয়ে শ্রমিকেরা এর সংস্পর্শে আসেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ দলের।

দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয় বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। তবে দলটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ ‘এমটি রাসি’র একটি ট্যাংকে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, আমরা বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য নমুনা দিয়েছি। পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কী অবস্থায় ছিল, কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল—এসব বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অধ্যাপক ইয়াসির জানান, জাহাজটিতে চারটি ট্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকের কাজ আগেই শেষ হয়েছিল। তিন নম্বর ট্যাংকে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ট্যাংকে তখন ডি-ব্যালাস্টিং বা ব্যালাস্টের পানি বের করার কাজ চলছিল। এই পানি বের হওয়ার সময়ই পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস আকারে মুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তখন শ্রমিকেরা গ্যাসটির সংস্পর্শে আসেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকের ভেতরের বাতাস ও পানির অবস্থা পরীক্ষা করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হচ্ছে না। তবে পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় গ্যাসটির উপস্থিতির বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য নমুনা দিয়েছি। পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কী অবস্থায় ছিল, কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল—এসব বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞ দলের সামনে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। ট্যাংকের পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি বা জমা হলো, পানিতে এর ঘনত্ব কত ছিল, পানি বের করার সময় কী পরিমাণ গ্যাস মুক্ত হয়েছিল এবং শ্রমিকেরা কী মাত্রায় গ্যাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন—এসবের উত্তর পেতে বিস্তারিত পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পরীক্ষায় ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হয়েছিল। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা চালায় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। সংস্থাটির সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাহাজটির যে অংশে শ্রমিকেরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে তাদের যন্ত্রে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তখন বাতাসে গ্যাসটির মাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ পিপিএম, অর্থাৎ বাতাসের প্রতি ১০ লাখ অংশে ১০ দশমিক ৮ অংশ হাইড্রোজেন সালফাইড ছিল।

সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পরীক্ষা করায় ওই মাত্রা পাওয়া গেছে; শ্রমিকেরা আক্রান্ত হওয়ার মুহূর্তে গ্যাসটির মাত্রা কত ছিল, তা এই পরীক্ষায় জানা যায়নি।

জাহাজের ট্যাংক ও এর আশপাশের আবদ্ধ অংশে গ্যাসের উৎস খুঁজে দেখা হয়েছে। এখন বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানেও ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড থাকার তথ্য উঠে এল। তবে দুর্ঘটনার সময় গ্যাসটির ঘনত্ব কত ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

দুর্ঘটনাস্থলে অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞ দল। অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন মনোক্সাইড—দুটি গ্যাসই মারাত্মক হতে পারে। তবে তাদের পরীক্ষায় কার্বন মনোক্সাইড পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কার্বন মনোক্সাইড পাইনি। হাইড্রোজেন সালফাইডই পেয়েছি, বিশেষ করে ট্যাংকের ভেতরের পানির সঙ্গে সম্পর্কিত অবস্থায়।’

বিশেষজ্ঞ দলের সামনে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। ট্যাংকের পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি বা জমা হলো, পানিতে এর ঘনত্ব কত ছিল, পানি বের করার সময় কী পরিমাণ গ্যাস মুক্ত হয়েছিল এবং শ্রমিকেরা কী মাত্রায় গ্যাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন—এসবের উত্তর পেতে বিস্তারিত পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১১ সদস্যের কমিটিও ঘটনাস্থলে সরেজমিন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা জাহাজের ভেতরেও প্রবেশ করেছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান বলেন, ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। শিগগিরই প্রতিবেদন জমা পড়বে। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।

ফেরদৌস স্টিলের দুর্ঘটনায় প্রথমে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামের ১৭৮ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ

 * ঠিকাদার উধাও, স্থবির হাওরবাসীর স্বপ্ন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে তৎকালিন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে। একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকায় একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সংকটাপন্ন রোগীদের। এতে সারা দেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারাদেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক এ প্রতিনিধিকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।


নির্বাচিত

চালের রেকর্ড মজুতে স্বস্তি, মাছ-মাংস-ডিমে নাভিশ্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চালের বাজারে আপাত এক ধরনের স্থিতিশীলতা বিরাজ করলেও এবং নিত্যদিনের রান্নাঘরের চিত্রটা ভিন্ন। বাজার করতে গিয়ে চরম হতাশায় ডুবছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। চালের চড়া দাম লাগামছাড়া না হয়ে এক জায়গায় থমকে থাকলেও আমিষ বা প্রোটিনের প্রধান উৎস—মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আয় ও ব্যয়ের হিসাব না মেলা সাধারণ মানুষের দিন কাটছে এক চরম অস্বস্তি আর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এককভাবে চালের মজুতই রয়েছে ২০ লাখ ৮৪ ৭৮১ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৪১ টন এবং ধানের মজুত ১ লাখ ৮ হাজার ১৯৭ টন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকারি খাতায় চালের এত বিপুল পরিমাণ মজুত আগে কখনো দেখা যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ ২২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টন খাদ্যের মজুত রেকর্ড করা হয়েছিল, যা পরে ২০ লাখ টনের নিচে নেমে এসেছিল।

চলতি মে মাস থেকে শুরু হওয়া বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচিতে সরকার বড় সাফল্য পেয়েছে। মূল পরিকল্পনায় ১৮ লাখ টন (৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল) খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সরকারের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, কৃষকদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পরিশোধ, জটিল নিয়ম শিথিল করা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত পূরণ হয়। এমনকি গুদামের প্লাস্টিক বস্তার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কৃষকের নিজস্ব বস্তায় ধান সংগ্রহ করে পরে তা স্থানান্তর করা হয়েছে, যেন কৃষককে ফিরে যেতে না হয়।

মে মাসে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলে প্রায় ৪৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার আর্থিক ক্ষতি চালের হিসাবে প্রায় সোয়া ২ লাখ টন। ক্ষতি সত্ত্বেও দ্রুত সাড়া দিয়ে সরকার ১৫ মে-র নির্ধারিত সংগ্রহ সূচি এগিয়ে এনে ৩ মে থেকেই হাওরের ছয়টি জেলায় সরাসরি ধান-চাল কেনা শুরু করে। এতে কৃষকরা দ্রুত তাদের ফসল সরকারের কাছে বিক্রি করে লোকসান কিছুটা সামাল দিতে পেরেছেন।

অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও খাদ্যশস্য আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই (১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট) প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্য আমদানি করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আপৎকালীন সংকট মোকাবিলার জন্য গুদামে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন মজুত থাকাই যথেষ্ট, অথচ এখন সরকারের হাতে রয়েছে প্রায় তার দ্বিগুণ মজুত।

পরিসংখ্যানের বিচারে সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিরাপদ হলেও সাধারণ ভোক্তার কাছে এই স্বস্তির ভাষা কিছুটা অন্যরকম। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই-আড়াই মাস ধরে চালের বাজারে নতুন করে দাম বাড়েনি। তবে যে দামে চাল বিক্রি হচ্ছে, তা আগের বছরের তুলনায় কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিচারে এখনো বেশ চড়া।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং সরকারের নীতি-নির্ধারকদের দাবি—চালের দাম কিছুটা কমেছে এবং জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতি হ্রাসে এটি বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী মতিউর রহমান ও কারওয়ান বাজারের মোজাম্মেল হকের মতে, দাম কমার চেয়ে ‘স্থিতিশীল’ থাকাই মূল বিষয়। দাম নতুন করে বাড়েনি, আগের চড়া দামেই চাল কেনাবেচা হচ্ছে।

চালের দাম একদম কমে না যাওয়ার পেছনে সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, কৃষকদের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। চালের দাম কমেনি মানলাম, কিন্তু বাড়েনি—স্থিতিশীল আছে। চালের দাম যদি খুব বেশি কমে যায়, তবে কৃষকরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই সরকার কৃষক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

অন্যদেক, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বিষয়টিকে একটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে আউশ ও আমন ধান ওঠার মধ্যবর্তী সময়ে চালের দাম দ্রুত বাড়ে। কিন্তু বোরো মৌসুমে হাওরের ১০ শতাংশ ক্ষতির পরও এবার চালের দাম বাড়েনি। রেকর্ড ২৪ লাখ টনের মজুত সরকারের ভালো বাজার ব্যবস্থাপনার প্রমাণ। তবে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর তদারকি দরকার।

চালের দাম না বাড়লেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির সব আশা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আমিষের বাজার। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতারা যে তীব্র সংকটে পড়েছেন, তা রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্র বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার বোঝা যায়।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারের নিত্যদিনের বাজেট অতিক্রম করছে। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস এলাকাভেদে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় স্থির হয়ে আছে, যা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য প্রায় অমেধ্য হয়ে উঠেছে। সাধারণ খুচরা বাজারে বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা ডজনে।

মাছের বাজারে গিয়ে এখন সাধারণ মানুষের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। বাজারে ২৫০ টাকা কেজির নিচে প্রায় কোনো সাধারণ মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়া ২৫০–২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা কেজি। রুই ও কাতলা মাছ আকারভেদে ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা। বড় ট্যাংরা ৭০০ টাকা, দেশি কই ও শোল ৭০০–৮০০ টাকা, বাইন ৮০০ টাকা এবং মাঝারি চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা কেজি।

৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ২,৫০০ টাকায় এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের বড় ইলিশের দাম প্রায় ৩,০০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

ঢাকা শহরের রামপুরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভ ও হতাশা এখন স্পষ্ট। ক্রেতা আবু দাউদের ভাষায়, সংসারের বাজেট পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ২৫০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ নেই। চালের দাম হয়তো হুট করে বাড়েনি, কিন্তু পাতে দেওয়ার মতো মাছ, ডিম বা মুরগির পেছনে প্রতিদিন বাড়তি টাকা দিতে গিয়ে জমানো টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ তাদের নেই। ফলে কোনো সপ্তাহে একটি পণ্যের দাম ২০ টাকা কমলে পরদিনই অন্য একটি পণ্যের দাম ৩০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদনে ধস, অস্তিত্ব সংকটে খামারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রোটিন বা আমিষ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে পোল্ট্রি খাত। অথচ সম্ভাবনাময় ও অত্যাবশ্যকীয় এই শিল্পটি এখন এক গভীর ও নজিরবিহীন অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তীব্র লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের জোড়া ধাক্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক খামারি, হ্যাচারি মালিক ও পোল্ট্রি ফিড উৎপাদকেরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে খামারে খামারে মুরগির মৃত্যুমিছিল চলছে, ব্যাহত হচ্ছে ডিম ফোটানো ও খাদ্য উৎপাদনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। সার্বিক উৎপাদনে ধস নামায় এর সরাসরি আঘাত এসে পড়েছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে—একলাফে বেড়ে গেছে ডিম ও মুরগির দাম।

পোল্ট্রি খামারগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিদ্যুৎ ছাড়া তা পরিচালন করা একেবারেই অসম্ভব। বিশেষ করে ফার্মের ভেতরে সঠিক আলো-বাতাস ও সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা মুরগির স্বাস্থ্য এবং ডিম উৎপাদনের প্রধান শর্ত।

মৃত্যুহার বৃদ্ধি: দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে খামারের ফ্যান, কুলিং মেশিন ও স্প্রেয়ার বন্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে শেডের ভেতরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিন শত শত বাচ্চা ও বয়স্ক মুরগি মারা যাচ্ছে।

হ্যাচারিতে বিরূপ প্রভাব: ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর (হ্যাচিং) জন্য টানা ২১ দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের চরম ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে টানা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যা ডিজেলের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়িয়ে খামারিদের উৎপাদনে চরম লোকসানের মুখে ফেলছে।

শুধু যে সরাসরি মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, পোল্ট্রি খাদ্যের জোগান দেওয়া ফিড মিলগুলোও থমকে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট পুরো সাপ্লাই চেইনকে অচল করে দিচ্ছে।

ফিড মিলের উৎপাদন ধস: উদাহরণের মাধ্যমে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের বৃহৎ একটি পোল্ট্রি ফিড মিলে দিনে গড়ে ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্য তৈরি হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তা ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ফিডের দাম বাড়ছে, যা আবার খামারিদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বন্ধ হচ্ছে খামার: বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে আগে প্রায় ২ লাখেরও বেশি খামারি সক্রিয় ছিলেন। তবে একের পর এক প্রতিকূলতা ও বিদ্যুৎ সংকটে টিকে থাকতে না পেরে ইতিমধ্যে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে ৬০ হাজারের বেশি খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

উৎপাদন কমে যাওয়া এবং প্রতি কেজি ডিম ও মুরগি উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার পকেটে।

ডিমের মূল্যবৃদ্ধি: উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতি হালিতে ডিমের দাম ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মুরগির দাম: সরবরাহ কম থাকায় বাজার ও প্রজাতিভেদে মুরগির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের আমিষের চাহিদায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

সক্রিয় খামারির সংখ্যা ধস: অতীতে যেখানে ২ লাখের বেশি খামারি সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চালাতেন, সেখানে চলমান সংকটে টিকে থাকতে না পেরে তা কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজারে।

পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনে মন্দা: নমুনা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের বড় ফিড মিলের ক্ষেত্রে দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্য তৈরির বিপরীতে উৎপাদন ধস নেমে এসে ঠেকেছে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে।

জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা ও খরচ বৃদ্ধি: আপদকালীন ব্যবহারের জেনারেটর এখন টানা চালিয়ে হ্যাচিং ও শেডের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হচ্ছে, যা জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

খুচরা বাজারে সরাসরি প্রভাব: পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতি ও অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের চাপে বাজারে প্রতি হালি ডিমে ২ থেকে ৪ টাকা এবং প্রজাতিভেদে কেজি প্রতি মুরগির দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, হ্যাচিং প্রক্রিয়া পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। জেনারেটর দিয়ে দীর্ঘ সময় উৎপাদন সচল রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা প্রতি বাচ্চার উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বালানি সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করা না গেলে এ খাত আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে।

অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় সমন্বিত রূপরেখা দরকার। সংকট কাটাতে পোল্ট্রি খামার ও খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহের আওতায় আনতে হবে। শিল্পকারখানা ও খামারগুলোতে দ্রুত ‘নেট মিটারিং সিস্টেম’ চালু করা এবং বেশি পরিমাণে সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সোলার-ভিত্তিক ব্যাটারি সিস্টেম যুক্ত করা এবং বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খরচ ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান দ্রুত করা না গেলে সাধারণ মানুষের কম খরচে আমিষ পাওয়ার শেষ সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও এক বড় হুমকি।


নির্বাচিত

ঢাকার চারদিকে ৮ লেনের রাস্তা করবে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চারদিকে আট লেনের সড়ক নির্মাণ এবং রাজধানীর সব নদী সরকার সংস্কার করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে কামরাঙ্গীচরে দিরাই খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যারা কাজ করেন, তাদের আলোচনা কম এবং সমালোচনা বেশি হয়। তার মতে, যারা ঘরে বসে কাজ করেন না এবং ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না, তারাই বেশি সমালোচনা করেন।

সবকিছুর মধ্যেই দলবাজি এবং দলকে টেনে আনার চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ এবং গ্রিন বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদী ও খালগুলো পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও দখলমুক্ত করা গেলে নৌপথের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেও মানুষের সুবিধা বাড়বে। ঢাকার চারদিকে আট লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নদী-খাল রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

দিরাই খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে খাল, নদী ও জলাশয় রক্ষা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


নির্বাচিত

রাজধানীতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় দোকানের কর্মচারীর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা ইউনাইডেট হাসপাতালের ১০০ ফিট এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাজ্জাদ হোসেন রাব্বী (৩২) নামে কাপড়ের দোকানের এক কর্মচারীর চিকিৎসা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাজ্জাদের বাড়ি মহাখালী মধ্যপাড়া বনানী এলাকায়। তার বাবার নাম শাজাহান গাজী।

হাসপাতালে নিহত সাজ্জাদের বোন শম্পা বলেন, ‘গতকাল সকাল ১০টার দিকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছিল আমার ভাই। পরে আমরা জানতে পারি বসুন্ধরা ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আমার ভাই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। পরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেও আমার ভাইকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আল্টিমেটাম, কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা স্কেলে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা না হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে গুলশান অভিমুখে পদযাত্রাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। প্রতিনিধি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। প্রতিনিধি সমাবেশ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল ও ১১-২০ ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে বক্তারা জানান, বিগত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছালেও ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ওয়ারেছ আলী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কিংবা কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। এ পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের পক্ষে ৭ দফা দাবি এবং তা বাস্তবায়নে ঘোষিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।

সাত দফা দাবি- ১. ১:৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫ হাজার টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্তে পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের’ ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল অথবা এ ক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে। ৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে। ৪. সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৫. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে। ৬. ২০০৮ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে। ৭. বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।

এদিকে প্রতিনিধি সমাবেশে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো— ১ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের মূল ফটকে ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি এবং দপ্তরপ্রধানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান। ৬ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ১ সেপ্টেম্বর–২৪ সেপ্টেম্বর: সারা দেশে বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন। ২ অক্টোবর: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সব সরকারি কর্মচারীর মহাসমাবেশ এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা।

সমাবেশে ১১-২০ অধিকার ফোরাম, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, বিজি প্রেস, সমাজসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


নির্বাচিত

পদ্মা ইকো সিটিতে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পদ্মা ইকো সিটিতে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পুষ্পধারা প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাই। তাই পদ্মা ইকো সিটিতে এ বছর ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করতে চাই। আজকে তার উদ্বোধন করা হলো।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুষ্পধারার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আলীনূর ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মঈন উদ্দিন খান, হাসিবুল হক মামুন, এনামুল, আলী রেজা, আতিকুর রহমান মিন্টু, মিলন আহমেদ, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।


নির্বাচিত

বন্দরে যুব আন্দোলন নেতা হত্যা, প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৯

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। ‎শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

আটক সিফাত গ্রুপের প্রধান শেখ সিফাতসহ নয়জন। অপর আটকদের নাম এখনো জানা যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা হত্যার প্রতিবাদে টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কের যানজট দেখা দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘হত্যার প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা আন্দোলন শেষে পুলিশ এসে আমাদের জানায় তারা ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে অবরোধ তুলে নেই।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। পরে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হলে, তারা চলে যায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, মূলত আন্দোলনকারীরা জানত না এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তারা বিষয়টি জানতে পেরে অবরোধ তুলে নেয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের ২১নং ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাং।

নিহত বুলবুল আহমেদ শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানার যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে সালেহ নগর এলাকায় রাস্তায় একা পেয়ে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের নতুন সচিব সালাহউদ্দিন নাগরী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ শাখা-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সচিব মো. বরমান হোসেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের জনবিভাগ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) পদায়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


নির্বাচিত

নওগাঁয় পানি সংকট, কৃষকের ভরসা কম পানির ফসলে

* পানি নামছে পাতালে, কমছে ধানের আবাদ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

একসময় ৯০ ফুট গভীরেই পাওয়া যেত ভূগর্ভস্থ পানি। এখন কোথাও ১২০, কোথাও ৩০০, আবার কোনো কোনো এলাকায় ১ হাজার ৪০০ ফুট গভীরে নলকূপ বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ সংকুচিত হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় এবং কমছে বোরো আবাদ। একই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। সব মিলিয়ে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির দ্রুত পতন কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি হিসাবে, নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫টি উপজেলার ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানিসংকট’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ এবং ১ হাজার ২৪০টি ‘মাঝারী’পানিসংকটাপন্ন। সব মিলিয়ে এসব এলাকায় প্রায় এক কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহারে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। অনেক স্থানে নলকূপের গভীরতা বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পোরশার শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের গভীর নলকূপ পরিচালনাকারী সাইফুল ইসলাম জানান, একসময় ৯০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। পরে ১১০ ও ১২০ ফুট পর্যন্ত গভীর করতে হয়েছে। এরপরও আগের মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তার আশঙ্কা, এভাবে পানির স্তর নামতে থাকলে ভবিষ্যতে উত্তোলনের মতো পানিই থাকবে না।

সাম্প্রতিক তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ২৯ দশমিক ০৯ মিটার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা নেমে হয়েছে ৩১ দশমিক ০৪ মিটার। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে পানির স্তর আরও নিচে নেমেছে।

একসময় একটি গভীর নলকূপ দিয়ে ১৫০ থেকে ১৮০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হলেও এখন অনেক এলাকায় তা কমে ৯০ থেকে ১১০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। ফলে সেচের আওতা কমছে, বাড়ছে কৃষকের খরচ। অনেক কৃষক বোরো আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন কিংবা কম পানি প্রয়োজন এমন ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

নওগাঁয় ধান চাষের জমির পরিমাণও কমেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে জেলায় ধান চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে তা কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

পানির সংকটের সঙ্গে কৃষির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। এক দশক আগে নওগাঁয় আম চাষের জমি ছিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর। বর্তমানে তা বেড়ে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

গমের আবাদও কমেছে। একসময় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ধানের তুলনায় কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় আম, গমসহ বিভিন্ন বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ছে। কৃষকেরা পানির ব্যবহার কমাতে ফসলের ধরন পরিবর্তন করছেন।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের দাবি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পানিসংকটাপন্ন এলাকায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাংলাদেশ পানি আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ১০ বছরের জন্য পানিসংকটাপন্ন অঞ্চল ঘোষণা করে ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। পানীয় জল ছাড়া অন্য কাজে নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু বিধিনিষেধ জারি করলেই হবে না; মাঠপর্যায়ে এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নাইস পারভিন বলেন, পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক কৃষিপদ্ধতি, পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা এবং বিধিনিষেধের কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প দিয়ে এত বড় সংকট সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।

এদিকে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) জানিয়েছে, প্রায় এক লাখ হেক্টর জমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি, এখনো বোরো উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েনি।

বিএমডিএর নওগাঁ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে গভীর নলকূপ বন্ধ করে দিতে হবে।

বিকল্প পানি ব্যবস্থার উদ্যোগ

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে। কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ডাসকো ফাউন্ডেশনের ‘সওয়াব’ প্রকল্প নিয়ামতপুর ও গোমস্তাপুরের ১৩টি ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহ, পুকুর পুনঃখনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ নিয়ে কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৪টি কমিউনিটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চারটি স্কুল ওয়াশ ব্লক, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি সুবিধা, ২০টি পুকুর পুনঃখনন ও ১০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩৮ হাজার ৯৭০ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণের জন্য জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলায় ২ হাজার ১০৭টি পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩ হাজার লিটার।

এ ছাড়া নওগাঁয় ইতোমধ্যে ১৬টি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। আরও পাঁচটি খালের খননকাজ শিগগিরই শুরু হবে। এসব খালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা গেলে স্থানীয় জলাধার সচল হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণও বাড়বে।


নির্বাচিত

হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাথরুম থেকে শিক্ষার্থী উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাথরুম থেকে নন্দিনী রায় নামের এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে স্কুলের পার্শ্ববর্তী ভবনের কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই শিক্ষার্থী দিঘলিয়া উপজেলার ডোমরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তি বিশ্বাসের মেয়ে। সে উপজেলা গাজীরহাট নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষে বিদ্যালয়ের বাথরুমে যায় সে। কিন্তু পেছন থেকে কে বা কারা তাকে মারধর করে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে তার ওপর।

চেতনা ফিরে এলে সে দেখে তার হাত-পা বাঁধা। এ সময়ে সে বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে। বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। পরে তারা এগিয়ে এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।

এরপর স্থানীয়ভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনার বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কি কারণে তার সাথে কারা এ ধরনের কাজ করেছে তা তারা বলতে পারেনি।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ‘ক্লিনিকে চিকিৎসা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। বিস্তারিত কোনো কিছু সে জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’


নির্বাচিত

banner close