বাড়িতে বাবার লাশ। আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে চোখের পানি মুছতে মুছতে হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে রানা শেখকে। নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে।
রানা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদি গ্রামের সদ্যপ্রয়াত মজিবর শেখের (৪৬) ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে রানা ছোট। মজিবর শেখ ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হয় তার।
স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে মজিবর শেখ মারা যান। এদিন বেলা ১১টা থেকে ছিল রানার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই তার কয়েকজন সহপাঠী তার বাড়িতে যায়। বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার অবস্থা ছিল না রানার। পরে সহপাঠীরা সান্ত্বনা দিয়ে তাকে নগরকান্দার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
রানার ভাই হৃদয় শেখ (১৯) বলেন, আমাদের পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভাবের কারণে আমি বেশিদিন পড়ালেখা করতে পারিনি। রানা নিজ ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ ওর পরীক্ষা দেয়ার মানসিকতা ছিল না। সকালেই ওর সহপাঠীরা বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।
ওই কেন্দ্রে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো সময় পরীক্ষা দিয়েছে শেখ রানা। রানা মেধাবী ছেলে। নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী। ছেলেটাকে এরকম অবস্থায় পড়তে হবে, এটি দুঃখজনক।
ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সহ-কেন্দ্র সচিব মো. মাহাবুব আলী মিঞা জানান, যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রানা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ায় সে ভেঙে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নিয়েছি।
পরীক্ষা দিয়ে দুপুরে রানা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর বিকেলে তার বাবা মজিবর শেখের জানাজা শেষে দাফন হয় স্থানীয় জুঙ্গুর্দী ঈদগাঁ কবরাস্থানে।
সরকারি এম এন একাডেমির প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, সকালেই রানার বাবার মৃত্যুর খবর শুনেছি। এটি খুবই কষ্টদায়ক। আমরা সকালেই রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে যে পরীক্ষাটি দিতে পেরেছে, এতে আমরা খুশি। সে খুব শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে।
পবিত্র ঈদের দিন পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উৎসবের আনন্দের দিনে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে একটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন হলেন গলাচিপা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার মো. ঝিলাম মিয়ার ছেলে তামিম ইকবাল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী ও চালকরা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম ইকবালকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় অপর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ জনে।
দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন— রতনদী হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসেন এবং শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেমেকহ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঈদের দিনে তরুণ যুবকের এমন অকাল মৃত্যু এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার ১৯৯তম বড় জামাত। দেশের সর্ববৃহৎ এ ঈদ জামাতে এবারও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ। শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় চারস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে দুই প্লাটুন বিজিবি। মাঠজুড়ে বসানো হয় আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থা।
সকাল থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহের দিকে আসতে থাকেন। বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে গেলেও উৎসাহে ভাটা পড়েনি।
চট্টগ্রামের চকরিয়া থেকে আসা আব্দুল হাই বলেন, “অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ার। প্রথমবার এসে খুব ভালো লাগছে।”
গাজীপুরের পূবাইলের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কাতারে থাকেন। তিনি বলেন, “বড় জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এই বিশ্বাস থেকেই শোলাকিয়ায় এসেছি।”
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, “নিজ জেলার মানুষ হয়েও সচরাচর শোলাকিয়ায় আসা হয় না। এবার বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ পড়ে অন্যরকম ভালো লাগছে।”
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে চালানো হয় ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি ট্রেন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।”
এবার শোলাকিয়ার জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
তারা শান্তিপূর্ণভাবে জামাত আয়োজনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ মুসল্লি। তবে সেই ঘটনার পরও শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কোনো ভাটা পড়েনি।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদ জামাতে ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি অংশ নেন। সেই ‘সোয়া লাখ’ শব্দ থেকেই পরে ‘শোলাকিয়া’ নামটির প্রচলন হয়।
১৯৫০ সালে হয়বতনগরের দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ওয়াকফ করেন। পরে আরও জমি যুক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পিকআপ চালক ও হেলপারের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম ইমন হাসান (১৮)। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ মে) রাতে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হাসান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইসদাইর এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি একটি পিকআপের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পিকআপ চালকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চালক ও হেলপার ইমনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন ইমন হাসান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখলাস উদ্দিন নামে একজনকে আটক করে। তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ বলেন, বিকাশের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষে ইমন হাসান নিহত হন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদের আনন্দের সকালেই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আজ ২৮ মে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের আঠারোখাদা গ্রামের একটি মাঠের গাছ থেকে বখতিয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বখতিয়ার হোসেন উপজেলার গাংনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নজু মালিথার ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আঠারোখাদা গ্রামের বাসিন্দারা। পথে মাঠের একটি গাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখে তারা চমকে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নিচে নামায়।
এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, বখতিয়ারকে অন্য কোথাও পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর মরদেহ এখানে এনে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই পরিষ্কার হবে। ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ছুটির দিনেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পবিত্র ঈদুল আজহা নামাজ আদায় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বিদেশী শিক্ষার্থী, কর্মচারী, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী সহ প্রায় দুই শত ব্যক্তির মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এদিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে একটি গরু এবং একটি খাসি কুরবানির মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় মসজিদে ইবি উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা'সহ ইবি শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মী, ইবি শাখা ছাত্রশিবির নেতাকর্মী, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম, কর্মকর্তা সমিতি'সহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা ঈদুল-আযহা'র সালাত আদায় করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঈদুল আজহা'কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কুরবানির সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। উপাচার্যের নির্দেশক্রমে আমি নিজ দায়িত্বে এই কুরবানির মাংস বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ ও প্রতিবন্ধী-সহ অসহায় দুস্থদের মাঝে সুষম বণ্টন করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এক এম মতিনুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার হিসেবে আমরা সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি। এতে ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর ও প্রায়ত দেশনেত্রী বেগম জিয়া'র পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে এই কুরবানি করা হয়েছে। পরিশেষে, সকলকে পবিত্র ঈদুল আজহা'র শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নরসিংদীতে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই সর্বস্তরের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন। জেলার প্রধান ঈদের জামাত নরসিংদী জেলা কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এবং সবচেয়ে বড় জামাতটি গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় মনোহরদী উপজেলার প্রধান ঈদগাহ মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি ওমর ফারুক। নামাজ শেষে উপস্থিত সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার (২৭ মে) আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এক মায়ের অনুরোধে শিশু ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করার পর সম্ভবত গ্যাস লিকেজের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটেছে। অন্য একটি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এই খবর পেয়েই তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সব ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা না থাকলে হাজারো শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারত। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে এবং আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শ থেকে সুস্থ বাচ্চাদের দূরে রাখলে ঈদের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মনোহরদীর এই প্রধান জামাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ মুহাইমিন আল জিহান, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নরসিংদীর অন্যান্য উপজেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। পলাশ উপজেলার জামাতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং শিবপুরে নামাজ আদায় করেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। এসব জামাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম ভাইয়েরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে গোপালগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বাসের আরও অন্তত ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ‘দোলা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহতদের মধ্যে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং বাকি তিনজন বাসের যাত্রী বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি আইনি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এখন সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে বিগত সরকার সরাসরি ব্যাংক লুটপাটে সহযোগিতা করেছে। আর তাদের করা সেই বিপুল ঋণের বোঝা এখন পুরো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোরপূর্বক একটি নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের ক্ষোভের মুখে আগস্ট মাসে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ককে এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পালিয়ে যেতে হয়নি।
আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার বাসিন্দা সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন বুধবার (২৭ মে) রাতে নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। ঈদুল আজহাকে ঘিরে নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।
স্বজনেরা জানান, সুজন মিয়া দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে কেনাকাটা করতে আসেন।
দুই সন্তানের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, তার চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে হারাতে হয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই পরিবারটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) আওতাধীন দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইন এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ৪২ বিজিবির প্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে গরু পাচার প্রতিরোধ এবং দেশীয় খামারিদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন ঈদের ছুটিতেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সজাগ থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নিয়মিত সভার মাধ্যমে তাদের সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মা নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া গরু ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। দুর্ঘটনার দুদিন পর বুধবার (২৭) বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে ৩০টি গরুসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে আজ রাতে স্বজনেরা আইয়ুব আলীর মরদেহ শনাক্ত করেছেন।
নিহত আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ এলাকার আবদুল মিস্ত্রির ছেলে। পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চরভদ্রাসন থেকে একটি ট্রলারে ৩০টি গরু ও ২০ জন যাত্রী নিয়ে আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ট্রলারটি পদ্মা সেতু এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে এবং সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে নিখোঁজ হয়। ওই সময় ট্রলারে থাকা ১৯ জন যাত্রী সাঁতরে ও বিভিন্ন উপায়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আইয়ুব আলী নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর থেকে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার বিকেলে জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই খবর পেয়ে নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল নাগাদ মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে। নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে আইয়ুব আলীর স্বজনেরা জাজিরার কুন্ডেরচরে ছুটে আসেন এবং রাত আটটার দিকে তার ছোট ভাই সোহেল মিয়া মরদেহটি আইয়ুব আলীর বলে নিশ্চিত করেন।
নিহতের ছোট ভাই সোহেল মিয়া জানান, তার ভাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামীণ হাট থেকে গরু সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে নিয়ে যেতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও তিনি ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে পদ্মা সেতুর কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারের অন্য সবাই প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তার ভাই নদীতে তলিয়ে যান। তিনি আরও জানান, যেহেতু এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা, তাই এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করার ইচ্ছা নেই। ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন ভাইয়ের মরদেহটি দ্রুত দাফনের জন্য ফেরত পাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছেন তারা।
নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় তলিয়ে গিয়েই মারা গেছেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা দাবি করা হয়নি। স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির কথা বলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের সহযোগী একটি সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই ভয়াবহ মানব পাচারের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুব নেতা ইউনুস আলী ও মাহিন ইসলাম। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ওই চার যুবকের জীবন নিয়ে তাঁদের পরিবারগুলো চরম শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজধানীর উত্তরার ‘আর এস ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় নিরাপদ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে এই যুবকদের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। গত ৪ মে নাজমুল হক সৌরভ, মেহেদী হাসান, আল আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাড়ি থেকে ঢাকায় নেওয়ার পর ৭ মে তাঁরা মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাশিয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও দ্রুতই রুশ সেনারা তাঁদের পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে। পরে তাঁরা জানতে পারেন যে, তাঁদের চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝেমধ্যে অন্যের ফোন ব্যবহার করে তাঁরা স্বজনদের কাছে উদ্ধারের জন্য করুণ আকুতি জানাচ্ছেন।
এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে ইউনুস সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এখন শুনছি সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা দিন-রাত দুশ্চিন্তায় আছি।” একইভাবে মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “রাশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে ইউনুস আমার ছেলেকে পাঠিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সে নিখোঁজ।” গত ২১ মে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সন্তানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনুস ও মাহিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অব্যাহতি পাওয়া নেতা ইউনুস আলী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে আনার চেষ্টা চলছে।” তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একে ব্যক্তিগত লেনদেন উল্লেখ করে সংগঠনের কোনো দায় নেই বলে জানিয়েছেন। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) ভোররাতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিহতরা হলেন,নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দার (১২) এবং একই এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা হয়। নৌকাটি পুরাতন হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে নুর ইসলাম জোমাদ্দার, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম এবং হারুন বিশ্বাস নিখোঁজ হন।
পরে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে হারুন বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার রাত ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জের ভাসানচর এলাকায় দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা নৌ পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্বজনরা পরে মরদেহ দুটি নুর ইসলাম জোমাদ্দার ও তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দারের বলে শনাক্ত করেন।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।