শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট বিপাকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী

পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:১৩

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকটে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। অধ্যক্ষসহ ৪৬ শিক্ষকের পদ থাকলেও কলেজটিতে কর্মরত আছেন ২১ জন শিক্ষক। শূন্যপদের সংখ্যা ২৫। এতে বিপাকে পড়েছেন এই কলেজের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নেই বেশ কয়েক মাস ধরে। কলেজে চালু থাকা অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই। হিসাববিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চলছে একজন করে শিক্ষক দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষসহ অধ্যাপক পদে একজন, সহযোগী অধ্যাপক পদে চারজন, সহকারী অধ্যাপক পদে ৯ জন এবং প্রভাষক পদে ১১ জনের পদ শূন্য। প্রদর্শকের চার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন।

শিক্ষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো শিক্ষক। শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজের ১৯ হাজার শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারি এই কলেজটির অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল হাসান। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় সহযোগী অধ্যাপক বদরুল হুদা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রায় এক বছর কোনো শিক্ষক নেই। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ শূন্য। বর্তমানে এ বিভাগে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, গণিত বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। কিন্তু মাসখানেক হলো এ বিভাগটিও শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। এ বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষকের পদ শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন প্রভাষক ছিলেন। তিনিও গতকাল রোববার বদলি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় এই বিভাগেও এখন কোনো শিক্ষক নেই। বিভাগটিতে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০।

এদিকে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. হান্নান মিয়া কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। এ অবস্থায় ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর বিভাগটি চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে।

কলেজটির ইংরেজি বিভাগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জন। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক দিয়ে চলছে বিভাগটি। ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকের চার পদের মধ্যে প্রভাষকের একটি পদ শূন্য। ৯০০ শিক্ষার্থীর দর্শন বিভাগও চলছে একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। শূন্য আছে প্রভাষকের একটি পদ।

এ ছাড়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০, যা চলছে একজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষকের পদ। ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর রসায়ন বিভাগে দুজন প্রভাষক ও একজন প্রদর্শক থাকলেও শূন্য রয়েছে একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ। এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগও চলছে দুজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য রয়েছে একজন করে সহকারী অধ্যপক ও প্রদর্শকের পদ। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেও একজন প্রভাষক ছাড়া সব পদ শূন্য। এ বিভাগে পড়ালেখা করছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। আর পূর্ণ শিক্ষক থাকা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ৮০০ ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

শিক্ষকরা বলছেন, কলেজে শিক্ষকসংকটের কারণে এক বিভাগের শিক্ষককে অন্য বিভাগের ক্লাস নিতে হচ্ছে। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল আওয়াল জানান, তিনি দর্শনের শিক্ষক হলেও দর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতে হচ্ছে।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাশমুন আকতারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক না থাকায় তাদের ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক মাহাবুবুর রহমান বুলু বলেন, ‘এই কলেজে এত শিক্ষকসংকট আগে জানলে এখানে সন্তানকে ভর্তি করতাম না।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কথা আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই কলেজের ওপর নির্ভরশীল। অবিলম্বে এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।’

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ইকরামুল হক বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে যেসব বিভাগে শিক্ষক নেই, সেসব বিভাগে স্থানীয়ভাবে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দিয়েই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। তবে এ অঞ্চলের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে অবিলম্বে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ হওয়া দরকার।’

শিক্ষকসংকট বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, শিক্ষকসংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।


অব্যবস্থাপনার দায়ে নৌ-মন্ত্রণালয়ের ১৬ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোরাজিব আহসানের ঝটিকা পরিদর্শনে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে আসার প্রমাণ পাওয়ায় ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন নৌপরিবহন দপ্তরে এই আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার (২২ মে) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ছাড়া অনেক কর্মচারী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে উপস্থিত হন। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের বরিশাল কার্যালয়ের মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে। এদের মধ্যে ড্রেজিং বিভাগের ৯ জন, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের ২ জন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের ১ জন এবং হিসাব বিভাগের ১ জন রয়েছেন।

এর পাশাপাশি একই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) তাদের ৩ জন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং কঠোরভাবে অফিস সময় মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝটিকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখা হবে।’


যমুনার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ হবে অচিরেই: পাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বাম তীরের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’ যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন।

যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীর তীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘আমরা যা বলি, তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শরীফা হক, মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, মো. শাহজাহান সিরাজ, হাসানুজ্জামিল শাহীন, মাহমুদুল হক সানু এবং খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতা-কর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


শ্বশুরবাড়িতে মাছের ঘেরে পড়ে ছিল কৃষকের লাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি মাছের ঘের থেকে আবু সাঈদ কারিগর (৪৮) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের পাটকেলঘাটা থানার চকারকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আবু সাঈদ কারিগর কলারোয়া উপজেলার দেওড়া গ্রামের মোন্তাজ কারিগরের ছেলে। চকারকান্দায় তার শ্বশুরবাড়ি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল বলেন, আবু সাঈদের সঙ্গে ১৫ বছর আগে চকারকান্দা গ্রামের হাফিজুরের মেয়ের বিয়ে হয়। বছরখানেক আগে আবু সাঈদ স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করায় হাফিজুর সাতক্ষীরায় আদালতে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার মীমাংসা হয়েছে। এরপর আবু সাঈদ হাফিজুরের বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) সকালে শ্বশুরের ঘেরে যেতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সকাল ৯টার দিকে স্বপন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘেরে আবু সাঈদের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগজনিত কারণে এই মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্য মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


৩২ মণের ‘ঠাণ্ডা ভোলার’ দাম ১২ লাখ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩২ মণ। কালো শরীর, চার পায়ের নিচের দিকে ও কপালে সাদা রঙের ছাপ। শান্ত প্রকৃতি হওয়ায় ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর হাটে বিক্রির জন্য গরুটি বড় করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ফুলেরগাতী গ্রামের কৃষক প্রসেনজিৎ রায় (৩১)। ঠাণ্ডা ভোলাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই লোকজন আসছেন।

প্রসেনজিৎ রায়ের গোয়ালে ছয়টি গরু ছিল। ঠাণ্ডা ভোলাকে পালন করতে গিয়ে তিনি একে একে সব গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি জানান, সাড়ে ছয় বছর আগে একটি খামার থেকে ৩২ হাজার টাকায় ছোট্ট বকনা বাছুর কিনেছিলেন। ঘরের লক্ষ্মী মনে করে বাছুরটির নাম রাখা হয় ‘রাজলক্ষ্মী’। এরপর সে মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। সেটি এড়ে বাছুর। এখন রাজলক্ষ্মীর বাছুর ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ বড় হয়েছে। তাকে তৈরি করা হয়েছে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য। তিনি জানান, ঠাণ্ডা ভোলার ওজন করা হয়নি। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে আসা লোকজন হিসাব–নিকাশ করে আমাদের জানিয়েছেন, তার ওজন ৩২ মণের বেশি। ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাইছেন প্রসেনজিৎ রায়।

প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘ঠাণ্ডা ভোলা ছোটবেলা থেকেই একেবারই শান্ত স্বভাবের। তাই ওর নাম রেখেছি ঠাণ্ডা ভোলা। এবার কোরবানিতে বিক্রির জন্য ওকে তৈরি করেছি। ওকে কোনো ফিড খাওয়ানো হয়নি কিংবা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। আমি চাই, ক্রেতারা সামনাসামনি এসে ওকে দেখে পছন্দ করে দাম বলুক। যদি দামদরে হয়, তাহলে বিক্রি করব।’

পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো ষাঁড়টির সার্বক্ষণিক যত্ন নেন প্রসেনজিতের মা ঝরনা রায় (৫৬)। তিনি বলেন, ‘ফ্রিজিয়ান জাতের ঠাণ্ডা ভোলার বয়স চার বছর আট মাস। একেবারই প্রাকৃতিক পরিবেশে ঠাণ্ডা ভোলাকে আদর-যত্নে লালন–পালন করেছি। ওকে কাঁচা ঘাস, শর্ষের খইল, সয়াবিনের খইল, ছোলা, ভুট্টার ভুসি ও খড় খাইয়ে বড় করেছি।’

স্থানীয় পশুচিকিৎসক পবিত্র বিশ্বাস বলেন, ‘এই গরুর কৃত্রিম প্রজনন থেকে শুরু করে সবকিছুই দেখভাল করি। পরিবারের লোকজন ঠাণ্ডা ভোলাকে সন্তানের মতো লালন–পালন করে। ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের নিচে থাকে। দিনে অন্তত একবার করে গোসল করায়, খাবার খায় অর্গানিক। কোরবানি ঈদের জন্য এই গরুর মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ।’

অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই এলাকায় গিয়ে আমি ষাঁড়টি দেখে এসেছি। ষাঁড়টি প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা গরুগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান হয়। এবার ঈদে ষাঁড়টির দামও বেশি পাওয়া যাবে।’


নৌকায় পুলিশের লাশবাহী ভ্যান, আলোচনায় কুড়িগ্রামের যোগাযোগ দুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নৌকায় তোলা লাশবাহী ভ্যানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। ছবিটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত সোমবার (১৮ মে) ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি লেখেন, ‘আমরা কুড়িগ্রামবাসী কতটা অসহায়, অবহেলিত ও বঞ্চিত, সেটা এই লাশবাহী গাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান?’ তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ দেখেছেন। এতে অসংখ্য মানুষ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সামিউল ইসলাম জানান, গত সোমবার (১৮ মে) রৌমারীতে তার বাড়ি ফেরার পথে চিলমারীর রমনা ঘাটে নৌকার ওপর লাশবাহী ভ্যানটি দেখতে পান। পরে সেটি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবির লাশবাহী ভ্যানটি রৌমারী থানার। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা শহরে নিতে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ভ্যানটি কখনো কাঁচা ও ভাঙা রাস্তা ঠেলে, আবার কখনো নৌকায় তুলে নদী পার করতে হয়।

লাশবাহী গাড়িটির চালক আশিয়াল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল পেরিয়ে লাশ নিয়ে জেলা শহরে পৌঁছানো খুবই কষ্টসাধ্য। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে একইভাবে লাশ নিয়ে আবার রৌমারীতে ফিরতে হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে লাশ বহনের জন্য একটি কাঠের ভ্যান ব্যবহার করা হতো। সেটিতে লাশ পরিবহন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। পরে রৌমারী থানা বিশেষভাবে একটি লাশবাহী ভ্যান তৈরি করে দেয়। তবে যানবাহনের পরিবর্তন হলেও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রৌমারী ও রাজিবপুর দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে প্রতি বছর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অসুস্থ মানুষকে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়, আবার মৃত্যুর পর লাশও নদী পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ভাঙা রাস্তা, কাদামাটি ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ বহনের জন্য গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। আগে কাঠের ভ্যানে লাশ নেওয়া হতো। খোলা অবস্থায় লাশ বহন করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ বছর বিশেষভাবে ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে।’


কোরবানির ঈদ মাতাতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের কামাররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে শুরু হয়েছে কামারদের দম ফেলার ফুসরতহীন ব্যস্ততা। কোরবানি পশুর মাংস কাটার দা, ছুরি, বঁটি ও চাপাতি তৈরি এবং শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে স্থানীয় কামারপাড়াগুলো।

সরেজমিনে উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার ও আদমপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারা বছর অলস সময় পার করলেও এখন কারিগরদের যেন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। কয়লার গনগনে আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির নিখুঁত পিটুনিতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারালো সরঞ্জাম। একই সাথে পুরনো হাঁপরের শোঁ-শোঁ শব্দ আর হাতুড়ি পেটার আওয়াজে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাজারে নানাবিধ সরঞ্জাম ও দামের চিত্র: এ বছর বাজারে লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম নিচে তুলে ধরা হলো-রেল লাইনের পাতের দা ৫০০ টাকা, রেল লাইনের পাতের চাপাতি ৫৫০ টাকা, গাড়ির স্প্রিংয়ের উন্নত চাপাতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আকারভেদে বড় ছুরি ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা, বঁটি ও ছোট ছুরি ১০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া পুরনো সরঞ্জাম শান দেওয়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার লড়াই ও সংকট: স্থানীয় কর্মকার শ্যামল জানান, বেচাকেনা টুকটাক শুরু হলেও পশু কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হলে আমাদের ব্যস্ততা আরও বাড়বে। তবে বাজারে লোহার দাম বাড়লেও সেই তুলনায় আমরা পণ্যের দাম বা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সঠিক মজুরি পাচ্ছি না।

অন্য কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার এই আদি পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আগেভাগেই প্রস্তুতি ক্রেতাদের; এদিকে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও ঝামেলা এড়াতে সচেতন ক্রেতারা আগেভাগেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটার কাজ। বাজারে আসা ক্রেতা রাজন ও জামাল মিয়া জানান, ঈদের শেষ সময়ে কামার দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তাই পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো আগেভাগেই কিনে বা শান দিয়ে প্রস্তুত রাখছেন তারা।

লোহা আর আগুনের সাথে যুদ্ধ করে চলা এই কারিগরদের আশা, এবার কোরবানির ঈদ তাদের সারা বছরের মন্দা কাটিয়ে মুখে কিছুটা হলেও হাসির ঝিলিক এনে দেবে।


ঝড়ে ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন জামালপুরের দুই উপজেলার ৫০ গ্রাম 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি 

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে জামালপুরের দুটি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে গাছ। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানির সংকট নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে সড়কের পাশের অসংখ্য গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে। এতে মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রাম এখনো বিদ্যুৎহীন। অন্যদিকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, পূর্ব গামারিয়া, ঢেংগারগড়, দেলিরপাড়, রৌহারকান্দাসহ ১০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। মুঠোফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সমস্যাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া মোটর চালাতে না পারায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ওঠানো যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। কখন আসবে তাও জানি না। মোবাইল চার্জ দিতে পারছি না। লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। ঘরে থাকা ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব গামারিয়ার বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে কারেন্ট চলে গেছে এখন পর্যন্ত আসে নাই। শুধু আজ না সামান্য বৃষ্টি হলেই কারেন্ট চলে যায়। এখন ফোনের চার্জও ঠিকভাবে দিতে পারতেছি না। আজকেও (শুক্রবার) সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কারেন্ট আজও আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডাল পড়ে প্রায় ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ১৩০টি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালের ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইন মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও জনবলসংকটের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে।’

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিকেলের মধ্যে আশা করছি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। তবে মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কাজ চলছে। কিন্তু এ উপজেলার পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে আরও সময় লাগতে পারে।’


সুমাইয়ার বাঁচার স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্র্যতা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

দেড় মাসে লাগে ১২ ব্যাগ রক্ত। ছোট্ট শরীরে একের পর এক সূচের আঘাত। হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থেকেও ১২ বছর বয়সি সুমাইয়া আক্তার সম্পা এখনো বাঁচার স্বপ্ন দেখে। তবে তার এই স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন কাটছে রক্ত, জ্বর, ব্যথা আর কেমোথেরাপির আশঙ্কা নিয়ে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্লাড ক্যান্সার। সুমাইয়ার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বেকিকুড়া আমবাগান বাজার গ্রামে। তার বাবা আব্দুল করিম একজন হতদরিদ্র অটোরিকশাচালক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে জীবিকার তাগিদে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন সুমাইয়ার বাবা আব্দুল করিম। অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকম ডাল-ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করছিলেন তারা।প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তাদের তৃতীয় সন্তান সুমাইয়া।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, সুমাইয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এখন প্রায়ই তার শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার দিতে হচ্ছে বি-পজিটিভ রক্ত।

গত দেড় মাসে অন্তত ১২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে তাকে। জ্বর ও অসহ্য ব্যথায় দুর্বল হয়ে পড়ছে শিশুটি। ঠিকমতো চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে দিন দিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে তার শরীর। পরিবারটির দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না। বড় মেয়েকে গত বছর বিয়ে দিয়েছেন তারা। মেজো ছেলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। আর ছোট মেয়ে সুমাইয়া এখন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে।

সুমাইয়ার মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ ট্যাহা পয়সা না থাকায় মেয়েডারে চিকিৎসা করাতে পারতেছি না। তিনি জানান, গত দুই মাস আগে হঠাৎ করে সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন তারা সরা শরীর সাদা হয়ে যায় ও অবশ হয়ে যায়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানের চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সুমাইয়ার শরীরের নানা ধরনের পরীক্ষা নীরিক্ষা করার পর নিশ্চিত হন সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। এখন প্রায়ই তার শরীর সাদা হয়ে যায়। আর সাদা হয়ে গেলেই তার শরীরের বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দিতে হয়। গত দেড় মাসে প্রায় ১২ ব্যাগ রক্ত ভরতে হয়েছে সুমাইয়ার শরীরে। এদিকে, সুমাইয়ার শরীরে জ্বর থাকে ও ব্যাথা করে। চিকিৎসা এবং পথ্যের অভাবে দিন দিন তার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুমাইয়াকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৮ থেকে ৯টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি কেমোথেরাপিতে খরচ হতে পারে প্রায় দেড় লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো, যা এই পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। তাই অসহায় বাবা-মা সরকারি বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন।


তাড়াশে রিপন হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

তাড়াশে চাঞ্চল্যকর রিপন প্রামাণিক হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন- ​রফিকুল ইসলাম (৫০),​ গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও ​তোফায়েল ইসলাম (৪৫)। শুক্রবার (২২ মে) সকালে তাড়াশ থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. হাবিবুর রহমান।

​সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ১৫ এপ্রিল উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকড়া কুন্ডুপাড়া গ্রামের আসান আলীর ছেলে রিপন প্রামাীণক তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেষ রৌহালী নামক স্থানে হাটিকুমরুল-রাজশাহী মহাসড়কের উত্তর পাশে একটি ধানের ক্ষেতে দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন জমিতে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে, তাড়াশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

​পুলিশ জানায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

​ওসি হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


গোলপাতা আর পলিথিনের নিচে ৩০ বছরের প্রেম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল ইমরান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)  

নদীর নাম পায়রা। শান্ত, স্নিগ্ধ, আবার কখনো রুদ্রমূর্তি। এই নদীর পাড়েই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধের এক টুকরো খাস জমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঝুপড়ি ঘর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একদলা পলিথিন আর গোলপাতা কেউ যত্রতত্র ফেলে রেখেছে। কিন্তু কাছে গেলে চেনা যায়, এটি কোনো আবর্জনা নয়, বরং তীব্র এক জীবনযুদ্ধের সাক্ষী। এখানেই কেটে গেছে হাবিব হাওলাদার (৫০) ও হালিমা বেগমের (৪৫) দাম্পত্য জীবনের ৩০টি বসন্ত।

আজকের এই করপোরেট আর বস্তুবাদী যুগে যেখানে সামান্য অভাব-অনটনে সম্পর্কের দেওয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, সেখানে এই দম্পতি এক জীবন্ত ব্যতিক্রম। তাদের ঘরে আসবাবপত্র নেই, আলমারি ভর্তি দামি পোশাক নেই, নেই তিন বেলা পেট পুরে ভালো খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা। যা আছে, তা হলো একে অপরের প্রতি এক অদ্ভুত, অলিখিত এবং অবিচ্ছেদ্য সমর্পণ।

যেখানে প্রেম মানে একসাথে জাল টানা: হাবিব হাওলাদার পেশায় কখনো দিনমজুর, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো জেলে। যখন যে কাজ পান, তাই করে সংসার টানার চেষ্টা করেন। তবে এখন বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো চলে না। তাই ইদানিং নদীতে মাছ ধরাই তার মূল জীবিকা।

তবে এই লড়াইয়ে হাবিব একা নন। প্রতিদিন ভোররাতে যখন কুয়াশার চাদর ভেঙে হাবিব নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন, তার ঠিক পাশটিতেই বসেন হালিমা বেগম। গ্রামীণ সমাজে যেখানে নারীদের ঘরের ভেতরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ভাবা হয়, সেখানে হালিমা স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উত্তাল নদীতে জাল ফেলেন।

নদী থেকে মাছ ধরে আনা, মাছ বাছাই করা, জাল শুকানো থেকে শুরু করে জালের ছেঁড়া সুতো সেলাই করা—সব কাজ দুজনে মিলে হাসিমুখে করেন। হাবিব বলেন, ‘সুহে (সুখে) থাহার লাইগ্গা আমি শুধু একলা না, আমার সাথে আমার স্ত্রী হালিমাও কাম করে। শুধু এই ভাবি যদি ভাগ্যের চাকা ঘুরাইতে পারি।’

কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের রোগ-বালাই আর অভাবের পেছনে ছুটতে ছুটতে দিনশেষে তাদের হিসেবের খাতা সবসময় শূন্যই রয়ে গেছে।

সংসারের টানাপোড়েন আর তীব্র কষ্টের কথা বলতে গিয়ে হালিমা বেগমের চোখ ভিজে আসে। তবে সেই অশ্রুতে কোনো ক্ষোভ নেই, আছে এক বুক চাপা হাহাকার।

হালিমা বলেন, ‘স্বামীর সংসারে আইয়া তার ভালোবাসা পাইছি ঠিকই, এ্যাছাড়া আর কিছুই পাইনাই। না পারছি পেন্দনে (পড়নে) ভালো কাপড় পড়তে, না পারছি ভালো জিনিসটা খাইতে। তয় ও ব্যাডারে আর কি কমু, চেষ্টা হরে; কিন্তু পাইরা ওডেনা।’

স্বামীর এই অক্লান্ত চেষ্টাকে সম্মান জানাতে জানেন হালিমা। তাই ছেঁড়া শাড়ি আর আধপেটা পেটেও স্বামীর হাতটি ছাড়েননি কখনো। আর হাবিবের কষ্ট অন্য জায়গায়। ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন পলিথিনের চাল চুইয়ে পানি পড়ে হালিমা ভিজে যান, কিংবা শীতের রাতে হিমেল বাতাসে কাঁপেন, তখন হাবিবের বুকটা ফেটে যায়। নিজের গামছায় চোখ মুছতে মুছতে হাবিব বলেন, ‘শীতে কষ্ট, বৃষ্টিতে ভিজি, বইন্নার (ঝড়ের) সময় ডর করে। ভাবি এই বুঝি ঘর উইড়া গেল। এখন একটু আরামে থাকতে শুধু একটা ভালো ঘর প্রয়োজন। কিন্তু স্বাদ আছে, সাধ্য নাই।’

প্রতিবেশীদের চোখে এক আদর্শ জুটি: প্রতিবেশী পারভিন বেগম এই দম্পতিকে খুব কাছ থেকে দেখছেন বছরের পর বছর। তিনি জানান, তাদের সন্তানরা নিজেরাও অত্যন্ত দরিদ্র এবং বিয়ে করে দূরে থাকেন। নিজেরা স্বাবলম্বী না হওয়ায় বাবা-মার তেমন একটা খোঁজ নিতে পারেন না, বড়জোর মাঝে মাঝে কিছু ওষুধ কিনে দেন।

পারভিন বেগম বলেন, ‘ঝড়-বাদল আইলে অনেক সময় আমাদের ঘরে ডাকি; কিন্তু ওনারা আয় না। ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। এখন কেউ যদি ঘরটা তাদের করে দেয় বা সরকার হইতে যদি পায় তবে ওনাদের অনেক উপকার হয়।’ এই ‘না আসার’ পেছনেও লুকিয়ে আছে এক আত্মমর্যাদাবোধ। অভাব তাদের গ্রাস করেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের আত্মসম্মান আর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতাকে কেড়ে নিতে পারেনি।

আশার আলো; প্রশাসনের আশ্বাস: হাবিব ও হালিমার এই মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী গল্পটি পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসনের কান পর্যন্ত। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

তিনি জানান, এই মুহূর্তে সরকারি টিনের কোনো বরাদ্দ না থাকলেও, আগামী জুন মাসেই নতুন বরাদ্দ আসবে। এই ভূমিহীন ও নিঃস্ব দম্পতি যদি একটি লিখিত আবেদন করেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের একটি নিরাপদ আবাসন বা ঘর তৈরি করে দেওয়ার সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

‘নুন আনতে পান্তা ফুরানোর’ এই সংসারে হাবিব আর হালিমার একমাত্র চাওয়া—বাকি জীবনটুকু যেন অন্তত একটা শক্ত চালের নিচে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন।

পায়রা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে যখন হাবিব ও হালিমা বেগম একসাথে জালের গিট বাঁধেন, তখন মনে হয়—পৃথিবীর সমস্ত সুখ আর ঐশ্বর্য একদিকে, আর এই দুই নিঃস্ব মানুষের একে অপরের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আরেকদিকে। তাদের এই ভালোবাসার গল্প যেন ইট-পাথরের দেওয়ালের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি স্থায়ী। এখন শুধু অপেক্ষা, সরকারি বা কোনো বিত্তবানের হাত ধরে কবে পূর্ণতা পাবে তাদের এই মাথা গোঁজার যৎসামান্য আকুতি।


কোটালীপাড়ায় ট্রাক খালে উল্টে ৪ গরুর মৃত্যু, পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব দুই বেপারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের কাজুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গরুবাহী ট্রাক খালে পড়ে ৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঋণ করে গরু কেনা দুই বেপারির কোরবানি ঈদকে ঘিরে দেখা সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারী হাট থেকে ৮টি গরু কিনে বরিশালের বানারীপাড়া বাওলিয়া হাটে নিয়ে যাচ্ছিলেন উজিরপুরের দুই বেপারি রানা ও লিটন।

ফায়ার সার্ভিসের মতে, চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খালে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কোটালীপাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে ৪টি গরু জীবিত উদ্ধার করলেও ৪টি গরু ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে পানিতেই মারা যায়।

মারা যাওয়া ৪টি গরুর কারণে বেপারিদের মূল পুঁজি ও লাভের আশা এক নিমেষেই শেষ।

বেপারি রানা ও লিটন জানান, তারা চড়া সুদে এবং ধারদেনা করে এই গরুগুলো কিনেছিলেন। এখন হাটে পৌঁছানোর আগেই সব হারিয়ে তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং ঋণের টাকা পরিশোধের কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর হাজারো ব্যবসায়ী এভাবে ধারদেনা করে দেশের বিভিন্ন হাটে পশু নিয়ে যান। কিন্তু চালকদের অসতর্কতা ও সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মুহূর্তেই খামারি ও ব্যবসায়ীদের সব স্বপ্ন, পুঁজি ও ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাজুলিয়ার এ ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ।


গঙ্গাচড়ায় খাল পুনঃখনন শুরু, বাড়বে কৃষি ও পানি নিষ্কাশন সুবিধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খাল এবং বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটিতে ১৪৯ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা, ননওয়েজ কস্ট বাবদ ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২ হাজার ১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১২৮ জন উপকারভোগী রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ টাকা, ননওয়েজ কস্ট বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘প্রকল্পের প্রতিটি কাজ প্রশাসনের তদারকিতে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’

রংপুর জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।’

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হতো। পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবন আমাদের জন্য একটি অক্সিজেন ব্যাংক। এই বন আমাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত। সে কারণে খুলনাবাসীসহ সারা দেশের মানুষের এ বনকে, এ বনের জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শুক্রবার (২২ মে) সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে সুন্দরবন সামিট-২০২৬ এর ‘সহনশীল সুন্দরবন: যুবসমাজ, জলবায়ু ও উপকূলীয় ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্র (সিথ্রিইআর), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি) এবং স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

প্রশাসক বিভিন্ন দেশের বন সংরক্ষণে গৃহীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুব লজ্জার যে আমরা আমাদের সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করি না।’ সুন্দরবন রক্ষায় তিনি সুন্দরবন বোর্ড গঠনের পাশাপাশি এই বনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করা, সন্দুরবনকেন্দ্রিক বাণিজ্য বন্ধেসংলগ্ন অধিবাসীদের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করাসহ বন সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. মনজুরুল কিবরিয়া, ওয়াটারকিপার্সের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিল, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোখলেসুর রহমান, ডিএসকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. দিবালোক সিংহা, ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর কাজী এমদাদুল হক, নবপল্লবের চিফ অব পাটি মিস সেলিনা শেলি খান, সাজেদা ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শামিরা মোস্তফা। স্বাগত বক্তৃতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর প্রকল্পের উপপরিচালক রউফা খানম ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেয়ারের মানবিক ও স্থিতিস্থাপক ফিউচারস প্রোগ্রামের উপপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় দাস ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান গবেষক নুরুল ইসলাম বিপ্লব। সংলাপে যুব জলবায়ু নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী, সিএসআর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও পেশাজীবীসহ প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি অংগ্রহণ করেন।


banner close