পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকটে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। অধ্যক্ষসহ ৪৬ শিক্ষকের পদ থাকলেও কলেজটিতে কর্মরত আছেন ২১ জন শিক্ষক। শূন্যপদের সংখ্যা ২৫। এতে বিপাকে পড়েছেন এই কলেজের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নেই বেশ কয়েক মাস ধরে। কলেজে চালু থাকা অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই। হিসাববিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চলছে একজন করে শিক্ষক দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষসহ অধ্যাপক পদে একজন, সহযোগী অধ্যাপক পদে চারজন, সহকারী অধ্যাপক পদে ৯ জন এবং প্রভাষক পদে ১১ জনের পদ শূন্য। প্রদর্শকের চার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন।
শিক্ষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো শিক্ষক। শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজের ১৯ হাজার শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি এই কলেজটির অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল হাসান। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় সহযোগী অধ্যাপক বদরুল হুদা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রায় এক বছর কোনো শিক্ষক নেই। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ শূন্য। বর্তমানে এ বিভাগে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন।’
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, গণিত বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। কিন্তু মাসখানেক হলো এ বিভাগটিও শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। এ বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষকের পদ শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন প্রভাষক ছিলেন। তিনিও গতকাল রোববার বদলি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় এই বিভাগেও এখন কোনো শিক্ষক নেই। বিভাগটিতে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০।
এদিকে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. হান্নান মিয়া কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। এ অবস্থায় ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর বিভাগটি চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে।
কলেজটির ইংরেজি বিভাগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জন। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক দিয়ে চলছে বিভাগটি। ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকের চার পদের মধ্যে প্রভাষকের একটি পদ শূন্য। ৯০০ শিক্ষার্থীর দর্শন বিভাগও চলছে একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। শূন্য আছে প্রভাষকের একটি পদ।
এ ছাড়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০, যা চলছে একজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষকের পদ। ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর রসায়ন বিভাগে দুজন প্রভাষক ও একজন প্রদর্শক থাকলেও শূন্য রয়েছে একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ। এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগও চলছে দুজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য রয়েছে একজন করে সহকারী অধ্যপক ও প্রদর্শকের পদ। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেও একজন প্রভাষক ছাড়া সব পদ শূন্য। এ বিভাগে পড়ালেখা করছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। আর পূর্ণ শিক্ষক থাকা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ৮০০ ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
শিক্ষকরা বলছেন, কলেজে শিক্ষকসংকটের কারণে এক বিভাগের শিক্ষককে অন্য বিভাগের ক্লাস নিতে হচ্ছে। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল আওয়াল জানান, তিনি দর্শনের শিক্ষক হলেও দর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতে হচ্ছে।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাশমুন আকতারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক না থাকায় তাদের ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিভাবক মাহাবুবুর রহমান বুলু বলেন, ‘এই কলেজে এত শিক্ষকসংকট আগে জানলে এখানে সন্তানকে ভর্তি করতাম না।’
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কথা আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই কলেজের ওপর নির্ভরশীল। অবিলম্বে এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।’
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ইকরামুল হক বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে যেসব বিভাগে শিক্ষক নেই, সেসব বিভাগে স্থানীয়ভাবে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দিয়েই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। তবে এ অঞ্চলের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে অবিলম্বে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ হওয়া দরকার।’
শিক্ষকসংকট বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, শিক্ষকসংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এই কবি শয্যাশায়ী ছিলেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা ও হৃদরোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন।
কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যে আল মুজাহিদীর অবদান অপরিসীম। ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’ এবং ‘যুদ্ধ নাস্তি’-র মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের চারটি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন পৌঁছালে আগামী জুলাই মাস থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষায়িত ক্রেনগুলো নিয়ে জাহাজ ‘এম.ভি. ল্যান হাই হং ইউন’ টার্মিনালের ভেড়ার অপেক্ষা করছি। নিরাপদ খালাস কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা টার্মিনালের আশেপাশে চলাচলকারী সকল সমুদ্রগামী জাহাজ, কোস্টার, ট্যাঙ্কার ও মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে। এছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চীনের ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’র তৈরি এই চারটি ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল আরএসজিটি।
এ বিষয়ে আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এটি আমাদের ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান কনটেইনার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।’
বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি: নতুন এই ক্রেনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ১৬ সারি কনটেইনার বিশিষ্ট বড় জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে মূলত ১২ থেকে ১৩ সারির জাহাজ বেশি আসে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার জানান, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে বড় আধুনিক জাহাজ ভেড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্রেন একক কনটেইনার অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোর ক্ষেত্রে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীলতা : এই ক্রেনগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। আরএসজিটি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় থাকবে, যা পরিবেশ রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
রেল ট্র্যাকে বসানো এই চারটি ক্রেন ব্যবহার করে টার্মিনালে একসাথে দুটি জাহাজে কাজ করা সম্ভব হবে। জাহাজ জেটিতে ভেড়ার পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার প্রস্তুতি: পতেঙ্গা টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস। তবে ২০২৫ সালে এখানে ১৫৪,৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা মূল সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৯৩,৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি ছিল ৬১,২২৪ টিইইউস।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে আমদানি কনটেইনার পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানার না থাকায় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। পরবর্তীতে মে মাসে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্ক্যানার স্থাপন করলে কার্যক্রমের গতি বাড়ে। এরপর গত বছরের আগস্ট মাসে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪,৫৯৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছর অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করেছি যাতে আগামী ২০ বছর টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি-র কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালের জুন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী জেলা পুলিশ ও অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যরা গাঢ় নীল রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের ট্রাউজার পরবেন। তবে মহানগর পুলিশের (মেট্রোপলিটন) সদস্যদের জন্য শার্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে লাইট অলিভ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ১২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ সংশোধনী অনুমোদন করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগর পুলিশের সদস্যরা পরবেন লাইট অলিভ রঙের শার্ট। একই সঙ্গে কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু শার্ট-ট্রাউজার নয়, শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের পোশাক ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জন্য জ্যাকেটের রংও লাইট অলিভ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও এসেছে পরিবর্তন। জেলা পুলিশসহ অধিকাংশ ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মহানগর পুলিশের নারী সদস্যরা গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ পরবেন। অনুমোদিত হেড কভারও গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০ ভাগ কমলেও কমছে না আক্রান্তের হার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪ লাখের বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার পরও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ জন। এতে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৭০ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৭৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭২ জন। তাদের মধ্যে ৩৬১টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২১৬) ও বরিশাল (১৩২)।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ৮৯৩ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯৬ দিনে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯০ হাজার ৯৮২ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ১৫৬ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯ জনের। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের রোগীর খবর আসতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মার্চ থেকে হাম নিয়ে জরুরি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘শরীরে পুষ্টি ও ইমিউন সিস্টেমটা এত উইক যে টিকা দেওয়ার পর ইমিউন সিস্টেম অ্যাক্টিভেটেড হতে সময় লাগছে। সেই সঙ্গে যে অপুষ্টিতে ভুগছে তার হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘সব কিছু নির্ভর করবে বাচ্চার পুষ্টির ওপর। অপুষ্টির শিকার বাচ্চার অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগবে। এই শিশুদের নিয়ে বাবা–মায়ের পাশাপাশি সরকারও বিপদে আছে।’
মৃত্যু কিছুটা কমলেও সংক্রমণ কেন কমছে না, তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। টিকা দেওয়ার পরও কেন শিশুদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হচ্ছে না এ জন্য গবেষণার তাগিদ তাদের।
ঈদের আগের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমসহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমলেও চাল-আটা, ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
এছাড়া মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ রসুন আদার দাম স্থিতিশীল থাকলেও হলুদ-মরিচের গুঁড়ার দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম নিম্নমুখী হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে। এছাড়া মাছের দামও কিছুটা বাড়তির দিকে। শুক্রবার (১৯ জুন) কারওয়ানবাজার, বাদামতলী, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জের বৌবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) ইসলামপুর বাদামতলীর মেসার্স ইসলাম রাইস এজেন্সির আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছর বোরো মৌসুমের পর বড় বড় করপোরেট হাউসগুলো প্রতিযোগিতা করে বাজার থেকে ধান কিনে নিয়ে যা করেছিল, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ঈদের আগের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখন তারা বলছে, বাজারে ধানের সরবরাহ কম ও দাম বেশি। তাই চালের দাম বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের হাজী ইসমাইল রাইস এজেন্সির মইন উদ্দিন বলেন, মিনিকেট চালের দাম বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৫০-২০০ টাকা এবং আটাশ জাতের চালের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম; বস্তায় ৯০০ টাকার মতো।
একই মার্কেটের নোয়াখালী রাইস ট্রেডার্সের শাওন বলেন, ঈদের আগের তুলনায় আটাশ ৩-৪ টাকা, মিনিকেট ৪-৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫-১০ টাকা আর পোলাও চাল ২৫-৩০ টাকা কেজিপ্রতি বেড়েছে।
দাম বাড়ার কথা জানিয়ে তেজগাঁও এলাকার সবচেয়ে বড় জনতা রাইস এজেন্সিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজেট ঘোষণার আগেই চালের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। দাম বেড়ে যাওয়ার পর এখন স্থিতিশীল রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ফার্মগেট এলাকার রবিন গোমেজ নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে গিয়ে মন্ত্রীদের কথার বাস্তবতা খুঁজে পাচ্ছি না। সব ধরনের চালের দামই তো বাড়তি। ঈদের পরে পোলাও চালের দাম কেজিতে ২৫ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ার পর বলা হচ্ছে দাম বাড়েনি।
এদিকে বাদামতলী পাইকারি বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শনের পর বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, বাজারে চালের দামে বড় কোনো অস্থিতিশীলতা নেই। বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখিনি। কিছু ক্ষেত্রে মানভেদে ১-২ টাকার হেরফের হতে পারে, যা বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
মন্ত্রী আরো জানান, বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু মিলমালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করেছিলেন। তবে বাজারে সেই উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পরবর্তী সময়ে দাম আবার কমে এসেছে। বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দেশের খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা আমাদের আপৎকালীন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি মজুত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে চালের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে সরকার দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকবে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
চাল ছাড়াও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আটা-ময়দার দামও কেজিতে পাঁচ টাকার মতো বেড়ে বর্তমানে দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ এবং ময়দা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চিনির দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, ছোলা ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা, খেসারি ও বুটের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, দেশি মুগডাল ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, মোটা মুগডাল ২০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ও মরিচ ১০০ টাকা বেড়ে ৩৫০ ও ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের আগেই সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো সরবরাহ ঠিক নেই বলে জানান কারওয়ান বাজারে মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু। গতকাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
বাজার ও এলাকাভেদে কিছুটা দামে পার্থক্য থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা পেঁপের দাম। ঈদের আগের ১০০ টাকার পেঁপে এখন ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দামও কমে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। তবে সবজির মধ্যে আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে এখন ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমার প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির দামেও। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০-২৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল ১১০-১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম একটু বেশি।
সবজি, ডিম ও মুরগির দাম কমলেও প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বাড়তি বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের। তবে বর্ষায় বৃষ্টি হলে মাছের সরবরাহ বেড়ে কিছুদিন পর দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন। যে আমি (তারেক রহমান) খুব শিগগিরই এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে একথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। এ সময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সঙ্গে ছিলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। ইনশাল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগিরই আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাশ করানো হবে ইনশাআল্লাহ।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পিছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না আগাই তাহলে আমরা হোচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছেন। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করবো। প্রয়োজনে দুই চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা ও ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদপত্র পেয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জন্মনিবন্ধন এবং ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ওই সাংবাদিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি তার বাবাসহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
জাতীয় দৈনিক বাংলা’র তালা উপজেলা প্রতিনিধি ফারুক সাগরের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক সাগর মৃত খোরশেদ আলমের ১ম পক্ষের সন্তান।
ফারুক সাগর বলেন, ‘আমার পিতা মৃত খোরশেদ আলমের ২য় পক্ষের একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সৌমিক সম্পত্তির অবৈধ দখল বজায় রাখতে এই হামলা করে। সেই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।’
ফারুক সাগরের মা আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমার ছেলে পেশাগত কাজে তালা উপজেলা পরিষদে সংবাদ সংগ্রহে যায়। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে সৌমিক দা দিয়ে দরজায় এবং বাড়ির দেয়ালে কোপ দেয়।’
তার মায়ের অভিযোগ, আমি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে আক্রান্ত। আমার বয়স ৬০ এর বেশি। আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে সৌমিক।
প্রত্যক্ষদর্শী নবা গাজী বলেন, ‘পাশের বাড়ির উঠানে আমি কাজ করছিলাম। সৌমিক দা হাতে চিৎকার করতে করতে আসে এবং দরজায় ও বসতবাড়ির দেয়ালে দা দিয়ে কোপ দেয়।’
ফারুক সাগরের চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘সব জমি সৌমিক আগেই বিক্রি করেছে। এমনকি তার নিজের বসতবাড়ি তার ১ম পক্ষের ভাইবোনদের জমির উপর।’
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল শেখ বলেন, ‘পূর্বে আমরা এ বিষয়ে সালিশ করেছিলাম, তখন উভয় পক্ষ মেনে নেয়। পরে সৌমিক সালিশ না মেনে অবৈধভাবে ২০ শতাংশের একটি পুকুর দখল নেয়। পরেও আবার সালিশে বিষয়টি বিবেচনা করার কথা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে আসছে সৌমিক।’
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (সৌমিক) বলেন, ‘আমি সালিশ মানি না। আমার যা ইচ্ছে তাই করব।’
তালা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফিস্ট ‘টেল অব রিডাম্পশন’। প্রথমবারের মতো হাতি নিয়ে ফিস্ট উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিন দিনব্যাপী এই হল ফিস্ট চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও গ্র্যান্ড ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফিস্ট উপলক্ষে বিকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আশরাফুল হক হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাতির উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে।
পরে হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর জিকেস বর্মন, ইফতেখার জাহান ভূঁইয়া ও ড. মো. শাহিনুর আলম। তাদের উপস্থিতিতে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টের উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা।
আয়োজক শিক্ষার্থী রাফিউল হক জানান, আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তা ছাড়া শোভাযাত্রায় হাতির অন্তর্ভুক্তি ছিল আয়োজনের একটি আকর্ষণীয় দিক। আমরা চেয়েছি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী মো. শামীম রেজা বলেন, ‘টেল অব রিডাম্পশন’ শুধু একটি ফিস্ট নয়, এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতিফলন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও উৎসাহকে নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন নিয়মিত পড়াশোনার একঘেয়েমি ও ক্লান্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
হলের হাউস টিউটর ড. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ‘আজকের এই ফিস্ট দেখে আমার ১০-১১ বছর আগের স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। আয়োজনটি সফলভাবে সমাপ্ত হোক এই কামনাই করি।’
জনগণের হক আদায় না করে যদি কেউ দুর্নীতি বা তছরুপ করেন তবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি।
শুক্রবার (১৯ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী স্থানে যে সকল সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী রয়েছেন তারা যদি জনগণের হক আদায় না করেন কিংবা কেউ যদি দুর্নীতি করেন বা জনগণের অধিকার তছরুপ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্প্রতি বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অচিরেই আপনারা এর সুফল দেখতে পাবেন।’
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ১৭ শয্যার হাম ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এতে নানা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকটের মধ্যেও সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঘুরে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডের ভেতরে-বাহিরে বিছানা ও মেঝেতে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাথরুমের দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত লোকজনের চাপে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ শিশুসহ হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। এখানে এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এ হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে। এখানে পরিচ্ছনতা কর্মীর ৩০ পদের বিপরীতে খালি রয়েছে আটটি। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ পদের ছয়টিই খালি রয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র স্টাফ নার্স ২১, স্টাফ নার্স ছয় ও মিডওয়াইফ নার্স তিনটি পদও খালি রয়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী ভর্তি আছে ৮৭ জন। তাদের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক স্বজনসহ এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক লোকজন ভিড় করছেন। যেহেতু ব্যাপকহারে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তাই এ ওয়ার্ডের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো জরুরি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ১৭ রোগীর শয্যায় ৮৭ জন ভর্তি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াই মাস ডা. রাশেদ ও ডা. ইউসুফসহ দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক আরও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যুক্ত করেছেন। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে জনবল আরও বাড়ানো উচিত।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য আমি মনে করি বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব। এটার মেয়াদ আছে দশ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আমরা করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে হয়তো বহির্বিশ্বের আরও উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমস্যাটা দেখা দিয়েছে যে আমরা দিয়ে উজান থেকে পানি কতটুকু পাবো সেটা কিন্তু এখনো আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ। পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙিক্ষত পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হয়। শুকনা মৌসুমে যদি পানি আমরা না পাই তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এটা কোন কার্যকর কার্যকরী ভূমিকা রাখবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটি অ্যাড্রেস করছেন। উনি বলছেন যে, যাতে পানির রিজার্ভার তৈরি করা যায় ডিজাইনের মধ্যে সেটাকে গুরুত্ব দিতে বলছেন উনি। যাতে বর্ষাকালে আমরা পানি ধরে রাখতে পারি।’
এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘কিছু লোক দেখতেছি, তারা আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যে আমরা আন্দোলন করলাম, তাদের চেহারা তো আমি একদিনও পাইনি। এখন এরা দেখছে যে কাজ রেডি হয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আন্দোলন করে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা কই ছিল এতদিন।
এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ দস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পকে সংকট থেকে উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের ক্ষেত্রে একই শুল্ককর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
শুক্রবার (১৯ জুন) পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় এ দুই ক্ষেত্রে শুল্ককর কমানোসহ সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সমিতি।
সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করার জন্য বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে এ খাতকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
এ সময় তিনি বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন, রেস্তোরাঁ খাতে জন্য সুনিদ্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবসহ রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আর্ন্তজাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।
ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং খাতের জন্য ভ্যাট ও করের হার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসে ১৫ শতাংশ দিতে হয়। সব ক্ষেত্রে সেটা সমান করে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং কর প্রশাসনও জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যবসায়ী বলেন, এছাড়া বাজেটে জীবন যাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর আরোপ বা বহাল রাখা জনসাধারণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে।
ইমরান হাসান বলেন, সরকার ঢাকার বাইরে রেঁস্তোরা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেস্তোরাঁর স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতে নতুন উদ্যোক্তারা কর রেয়াত পাবেন। তবে আমরা চাই, রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর কাঠামোকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো, কর প্রশাসনে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। আমরা আশা করি, চূড়ান্ত বাজেটে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট পরিশোধের সময় বাড়িয়ে তিন মাস করা প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পূর্বের ন্যায় মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব করছি আমরা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সরকারের নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব করছি। এর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কার্যকর মনিটরিং সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আলোকে আমরা রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। যে কোনো রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক আছে, তবে এর বাস্তবায়ন চাই আমরা।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে রন্ধনশিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রস্তাব করছি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকারি-বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকিসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে পৃথক তহবিল গঠন করা হোক। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।