বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রেন আসতেই লাইনে শুয়ে পড়েন নারী, অতঃপর…

প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৩৭

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে শিরিনা বেগম (৫৩) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিরিনা বেগম ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা এলাকার নুরুল হুদার স্ত্রী।

সীতাকুণ্ড রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপপরিদর্শক জহিরুল বলেন, ‘রেলে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস যাওয়ার সময় হঠাৎ সামনে শুয়ে পড়েন ওই নারী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ওই নারীর পরিবার লাশ নিয়ে যায়।’


শরীয়তপুরে রাসেল ভাইপারের কামড়ে যুবদল নেতার মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের কামড়ে মো. খোরশেদ বালা (৫০) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত খোরশেদ বালা সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম বালার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে খোরশেদ বালা চরসেনসাস বাজারে নিজের দোকানের কাজ শেষ করে পাশের অন্য একটি দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে রাস্তার পাশে থাকা একটি খড়ের স্তূপ থেকে হঠাৎ বিষধর সাপটি বের হয়ে তাকে কামড় দেয়। প্রথমে স্থানীয়রা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, পরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রাতেই স্বজনরা তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন জানান, সাপে কাটা রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে রাসেল ভাইপার সাপে কামড় দিয়েছিল।

সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মাসুম বালা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খোরশেদ বাজারে দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পথে সাপের কামড়ের শিকার হন।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইনও সাপের কামড়ে যুবদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


সোনাগাজীতে চাষ হচ্ছে দেশি-বিদেশি ১০২ জাতের আম

৬৫ একর জমিতে ব্যতিক্রমী আমের রাজ্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৬
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ৬৫ একর জমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আমের রাজ্য। এখানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে দেশি-বিদেশি নানা স্বাদের আম। এই বিশাল বাগানটি পরিচিত সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স নামে।

এক বাগানে শতাধিক আমের এক বিশাল রাজ্য গড়ার উদ্যোক্তা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান। ১৯৮৬ সালে অবসরের পর তিনি বিদেশমুখী না হয়ে বেছে নেন কৃষিকে। ১৯৯২ সালে মাত্র ৬ একর জমি ও তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন যাত্রা। ধীরে ধীরে সেই খামারই এখন ৬৫ একরের সমন্বিত কৃষি প্রকল্প। খামারে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার আমগাছ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত আমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও চীনের আম জাতও রয়েছে এখানে।

উদ্যোক্তা মেজর (অব.) সোলায়মানের দাবি, ‘শুধু মৌসুমে নয়, ১২ মাসই কোনো না কোনো জাতের আম পাওয়া যায় এই বাগানে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০-১০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।

এই বাগানে সাধারণ জাতের আম কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং বিশেষ কিছু জাত ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাগানের আম বাজারে নিতে হয় না, ক্রেতারাই খামারে এসে কিনে নিয়ে যান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আম পাঠানো হচ্ছে।

মেজর (অব.) সোলেমানের দাবি, খামারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। বছরে মাত্র একবার মুকুল আসার আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, বাকি সময় ব্যবহার করা হয় জৈব সার। ব্যাগিং পদ্ধতিতেও আম উৎপাদন হচ্ছে। বাগানে স্থায়ী কর্মচারী আছেন ২৫ জন, আর দৈনিকভিত্তিতে আরও ১০ জন কাজ করেন।

খামার ম্যানেজার ও সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফরমালিনমুক্ত আমের চাহিদা ব্যাপক। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে খামার থেকেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এখানকার আম সুস্বাদু, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ। সন্তানদের জন্য নিশ্চিন্তে কিনতে পারি। তাই আমি প্রায়ই এই বাগানের আম কেনার জন্য আসি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় খামারে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।

উপপরিচালক মো. আতিক উল্যাহ জানান, এ মৌসুমে ১০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আম বাগানটির মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান জানান, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন বলেই তিনি এখনো সুস্থ ও কর্মক্ষম। তার বিশ্বাস কৃষিকে সময় ও যত্ন দিলে কৃষিও সাফল্য ফিরিয়ে দেয়।

১০২ জাতের আমের এই বাগান শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয় এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক- যেখানে স্বপ্ন, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় কৃষিই হতে পারে সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।


সুন্দরবনে জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য আটক, অস্ত্র উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা প্রতিনিধি

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত ডাকাত আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬) সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর ওই তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত দিন রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ডাকাত দল দীর্ঘদিন যাবৎ জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচার সত্ত্বেও কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে পেটালেন প্রধান শিক্ষক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। আহত ওই সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ-এ কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।

পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবির সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে চেপে ধরেন এবং প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অপর সাংবাদিক লিওন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়।

পরে সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে ব্যবসায়ীর নগদ টাকা ও মোবাইল লুট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো.আবু নাঈম, বোয়ালখালী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চোখ ধাঁধানো টর্চের আলো ফেলে ও মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গগন সেন বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌতম চৌধুরীর উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’ নামে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবেও লেনদেন করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
গৌতম চৌধুরী জানান, গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার গতিরোধ করে। এসময় তারা টর্চের আলো চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে দেয়। পরে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীদের বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর হবে। তারা রাস্তার পাশের ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে ছিল।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকালে তিনি জেলায় তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে সামনে রেখে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল (ভেন্যু) পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিএনপি নেতারা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল মুকিত, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভেন্যুগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানস্থল এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারবাসীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ হবে।

প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নিশ্ছিদ্র ও সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। একই সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত হচ্ছে মৌলভীবাজার।





কুমিল্লায় পিস্তল ঠেকিয়ে অটোরিকশার ৮০ ব্যাটারি লুট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় একটি গ্যারেজে ঢুকে গ্যারেজ মালিকের মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে ১৬টি অটোরিকশার প্রায় ৮০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্যারেজ মালিক মো. মবিন মিয়া জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের বেড়া টপকে গ্যারেজে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে চিৎকার না করার হুমকি দেয়। পরে গ্যারেজে থাকা ১৬টি অটোরিকশার অন্তত ৮০টি ব্যাটারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকার আরেকটি গ্যারেজ থেকেও ১৫-১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, আগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজশাহীর মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি ,রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল মিলঘর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
এসময় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এদিকে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় মোহনপুর থানার এসআই ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ নিহত ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সানাউল হক চৌধুরী শামিম, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে রাস্তার কাজ করা একটি ট্রাম ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক নিহত হন। এ সময় সিএনজিতে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


সীতাকুণ্ডে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দন রায়, সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্দেহ জনক জব্দ করা একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ । উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে পুলিশ । গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন । তবে এ ঘটনায় জড়িত চালক সহ কাউকে আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ প্রাইভেটকারটিকে ধাওয়া করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগারহাট ওজন স্কেলের সামনে গাড়িটি থামে। এরপর চালকসহ ইয়াবা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।

থানায় নেওয়ার পর প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পায় পুলিশ। বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রাসেলকে জানানো হয়। মঙ্গলবার রাত আটটায় তাঁর উপস্থিতিতে সিলিন্ডারটি প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সিলিন্ডারের ভেতর বায়ুনিরোধক মোড়কে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে জব্দ করা প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ।


মঠবাড়িয়ায় অতিরিক্ত আলুবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি সেতু ধস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় অতিরিক্ত আলুবোঝাই একটি ট্রাকের চাপে বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মঠবাড়িয়া পাথরঘাটা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সেতু ধসের ঘটনায় পাথরঘাটার সঙ্গে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ একাধিক রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আলুবোঝাই করে একটি ট্রাক মঠবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে আসছিল। গভীর রাতে দেবীপুর এলাকার বেইলি সেতু অতিক্রম করার সময় হঠাৎ সেটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সেতুটির ধারণক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক ওঠার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে; তারা দ্রুত সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেবে।


লিবিয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবক, আড়াই মাস পর মিলল মৃত্যুসংবাদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

গতকাল তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।

সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো উনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ উনার মৃত্যুর খবর পাই।

স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।

আলমগীরের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মরদেহের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।


মঠবাড়িয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন করলেন আইনজীবীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এ আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটে। পরে আইনজীবীরা সমিতির সভা কক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।

এ সময় আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামসহ মোট ১৮ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আদালত বর্জনকারী আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চলাকালীন সময়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছাচারিতা, দিন ধার্যকৃত মামলায় কোনো কারণ ছাড়াই আইনগত নোটিশ ছাড়াই মামলা খারিজ, সিনিয়র আইনজীবীদের চেম্বার থেকে ডেকে আনা এবং আদেশের সই-মোহরী প্রদানে গড়িমসির মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, আইনজীবীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল কার্যক্রমে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয় এবং আইনজীবীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদেশের সই-মোহরী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করতে হয়, যা তারা অনুসরণ করতে চান না।

ইউএনও অভিযোগ করেন, সরকারি খাল খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দুই একজন আইনজীবীর ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আইনজীবী ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


banner close