সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হয়েছেন কৃষক ছাইদুর রহমান (৪০)। তিনি উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদী থেকে ছাইদুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অপহৃত হন।
ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাইদুর সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাইদুরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। একাধিকবার এই টাকার দাবিতে মোবাইল করে অপহরণকারীরা। কিন্তু ছাইদুরের পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব না বলে জানানো হয়।
এনামুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে স্থানীয় লোকজন গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদীতে ছাইদুরের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। ছাইদুরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।’
ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধায় আমার স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। রাত ১০টাতেও তার কোনো খোঁজখবর পাইনি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দিলে তারা জানায়, ছাইদুর দাওয়াত খেতে যায়নি।’
বুলবুলি বলেন, ‘রোববার দুপুরে একটা ফোন আসে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে। বলে, স্বামীকে ফিরে পেতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে। এরপর টাকা গোছানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাকা গোছাতে পারিনি। আমার স্বামীকে ওরা মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত এবং তাদের ধরার চেষ্টা শুরু করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ ১৩ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের মাহার বাজারসংলগ্ন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদেরকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের শিবরাপুর গ্রামের ইমান আলী মণ্ডলের ছেলে মো. শহীদুল্লাহ (৬০), বিষ্ণরামপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সুলতান আলী, একই গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৪৫) মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৮) মো. জাকির হোসেন (২৮) মো. রুহুল আমীন (৩৭) মো. ইউনুছ আলী (৬৫ তোতা মিয়া (৪৫) মো. তালেব আলী (৪৮) হাবিবুর রহমান (৪০) মজনু (৫৫) শহীদুল্লাহ (৪৬) ও সুরুজ আলী (৫৬)।
অপরদিকে পৃথক অভিযানে এস আই লিটন এদিন পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে জনৈক এনামুলের মুদি দোকানের সামনে থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও একাধিক মাদক মামলার আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে চশমা মনিরকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।
এছাড়াও থানা পুলিশ মেহেদী হাসান নামে আরেক তরুণকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় এনে এক মাসের সাজাপূর্বক তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযানে নগদ অর্থসহ ১৩ জুয়াড়ি ও ৬টি মাদক মামলার আসামীকে ইয়াবাসহ আরেকজনকে মাদকসেবনরত অবস্থায় এবং পরোয়ানাভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৮জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সাঁথিয়া উপজেলা ও পৌর যুবদলের আয়োজনে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, কেককাটা, মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান খোকন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মাহবুব এ হাসান টিটো, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কণ্ঠশিল্পী মুহিন খান, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান জাহিদুজ্জামান রিপন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসেন রাসেল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু সাঈদ, ধোপাদহ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আশিফ আল আলীম রাজিব, নন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রাতুল ইসলাম রানা, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান সজল, আতাইকুলা থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব লোকমান হোসেন, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রানা মৃধা, গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্রদল নেতা রাফুল ও লিমন প্রমুখ। এ সময় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহিন।
পুলিশের জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং দেশীয় প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটের বিভিন্ন জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা সদর উপজেলার গোকুণ্ডা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুকানদিঘি ও রাজপুর ইউনিয়নের হীরা মানিক ৬নং ওয়ার্ড বানিয়ার ঘাট সতী নদীসহ স্থানীয় বিভিন্ন জলাশয়ে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীত দাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বুলু, গোকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক রিপন মাস্টার প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক, এ কে এম মমিনুল হক বলেন, ‘বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের তিন দিনের কর্মসূচি হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে মৎস্যপূর্ণ অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।
মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের অংশ হিসেবে ওইদিন দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নূরজাহান হোটেলসংলগ্ন মাঠে বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন।’
তিনি জানান, কুমিল্লার পদুয়া বাজারের পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। জাতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘লংমার্চ ও পথসভার মূল ভিত্তি ছয়টি দাবি। দাবিগুলো হলো অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।’
পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নূরজাহান হোটেলের পূর্ব পাশে বিস্তৃত এলাকায় পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা এবং ভিডিও ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য আলাদা স্টেজ রাখা হবে।
আয়োজকরা জানান, লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুট, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরী সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কায়সার, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি জিএস সামদানি, জাগপা কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সহসভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন ও মিজানুর রহমান এবং শ্রমিক নেতা মু. খাইরুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে উপজেলার দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা মামলার আসামি আসির মিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফসহ আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায়। আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে পলাতক আসামির কাছ থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আসামির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন বলেন, ‘আসির মিয়াকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে হইচই শুরু হয়। এর মধ্যেই তিনি পুলিশের হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন তিনি।’
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, ‘পুলিশের হেফাজত থেকে একজন আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ‘তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী কান্তজীর মন্দির থেকে রাজবাড়ীর উদ্দেশে বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী নৌপথে নৌকাডুবির ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নৌবিহার চলাকালে পানিতে পড়ে ওই ব্যক্তি মারা যান।
এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবার ও এলাকাবাসী মন্দির কমিটির অবহেলা ও অসাবধানতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহ নিয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে ন্যায্যবিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কান্তজিউ মন্দির কমিটিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসাবধানতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং তাদের অসাবধানতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই।’
বখতিয়ার আহমেদ কচি আরও আশ্বাস দেন, তিনি প্রশাসন এবং দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি মন্দির কমিটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়েও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার এসব আশ্বাসের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়।’
পরে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রী শ্রী কান্তজীর মন্দির থেকে দিনাজপুর রাজবাড়ীর উদ্দেশে শ্রী শ্রী কান্তজিউ যুগল বিগ্রহের ঐতিহ্যবাহী নৌবিহার শুরু হয়। নৌবিহারের সময়ই নৌকাডুবির এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে স্থানান্তরকালে ২২০ বস্তা সার জব্দ করা করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় ১টি ট্রাকসহ ৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় গত বুধবার ভোরে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকায় অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে স্থানান্তরকালে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ২২০ বস্তা (১১ হাজার কেজি) সার ও পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি ট্রাক জব্দসহ ৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।’
জব্দ করা সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটক পাচারকারীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নিহত ও আহত ১৬ জন ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৬৪ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এতে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই- আশিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ ইভা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, অতিরিক্ত মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও জেলা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মাহবুব কামালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই- আশিক বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়েও কর্তৃপক্ষকে স্লিপার বাস ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোড়ে যাতে কোনোমতেই অদক্ষ চালক গাড়ি চালাতে না পারে। আজকে যারা সরকারিভাবে আর্থিকভাবে সহায়তা পেলেন, এই টাকা দিয়ে সন্তানের লেখাপড়া ও সংসারের কাজে ব্যয় করাও’ আহ্বান জানান তিনি।
মাসের নির্দিষ্ট একটি দিন। সকাল থেকেই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সারতা সারাশন বাজারে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে, কেউ এসেছেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায়। কারও প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা, কেউ আবার এসেছেন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে। বয়সে কেউ প্রবীণ, কেউ মধ্যবয়সি, আবার কারও কোলে শিশু।
সাধারণ একটি বাজার হলেও সেদিন সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। অসহায় মানুষের মুখে প্রত্যাশা, আর সেবাদানকারীদের ব্যস্ততায় ফুটে ওঠে মানবিকতার এক অন্যরকম চিত্র। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন চিকিৎসক ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা।
পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগের চিকিৎসক। কিন্তু নিজ এলাকার মানুষের কাছে তার আরেকটি পরিচয় তিনি একজন মানবিক চিকিৎসক, যিনি পেশার বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিতভাবে নিজ এলাকা মহাদেবপুরের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
নিজের দাদা-দাদির স্মৃতিকে ধরে রাখতে তাদের নামে কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা। সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই শুরু হয় নিয়মিত সেবামূলক কার্যক্রম।
প্রায় ৬০ জনের অধিক সদস্যের একটি টিম নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম। শুরু থেকেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। ফাউন্ডেশনের মূলমন্ত্রও সেবার দর্শনকে স্পষ্ট করে ‘মানুষের পাশে, মানবতার বিকাশে, সৃষ্টির সেবায়, স্রষ্টার সন্তুষ্টি।’
এই সেবার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। মাসের নির্দিষ্ট দিনে এলাকায় মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা জানানো হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকেও অসহায় মানুষ এসে হাজির হন সেবাকেন্দ্রে।
সম্প্রতি সরেজমিনে সারতা সারাশন বাজারে ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রমে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি মানুষের উপস্থিতি। কেউ চিকিৎসকের সামনে বসে নিজের অসুস্থতার কথা বলছেন। কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কেউ নিজের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরছেন।
শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়তার ধরনও নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে থাকলে দেওয়া হচ্ছে অর্থ সহায়তা। কারও প্রয়োজন হলে খাদ্য সহায়তাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সেখানে যেন তৈরি হয়েছে মানুষের প্রয়োজনের কথা বলার একটি জায়গা।
সারতা গ্রামের ইতি আরা বেগমের কথাই ধরা যাক। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই পরিবারের। এই দুশ্চিন্তা নিয়েই তিনি এসেছিলেন ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে। চিকিৎসা নিতে নয়, এসেছিলেন আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশায়।
ইতি আরা বেগম বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় একটা পরিবার। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তাই ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে এসেছি। তিনি আমাদের যথেষ্ট আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন। তার এমন মহৎ কাজের জন্য দোয়া করি।’ ইতি আরা বেগমের মতো অনেক পরিবারের কাছেই এই সহায়তা হয়তো বড় কোনো অঙ্ক নয়, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে সেটিই হয়ে ওঠে বড় ভরসা।
স্থানীয় সারতা পশ্চিম পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ওয়াজেদ আলীও ডা. রাহিদুজ্জামানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছরের এই পথচলায় প্রান্তিক পর্যায়ের ১ হাজার ৫৭ জন মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। চলতি মাসেও মহাদেবপুরে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার। এতে বিভিন্ন বয়সি শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান। একই সঙ্গে ১০টি অসচ্ছল পরিবারকে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পথচলার দেড় বছরে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছি ১ হাজার ৫৭ জনকে।’
আরও বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। আল্লাহর রহমতে পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল আমরা। মানুষের সেবা করে বাকি জীবনটা পার করতে চাই।’
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, ‘কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানার এমন উদ্যোগ অনেকের জন্য অনুকরণীয় হবে বলে আশা করছি।’
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রশংসিত হচ্ছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ। সম্প্রতি মিঠামইন থানায় দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার অগ্রগতি, হাওরের ডাকাতি ও মাদক নির্মূল এবং নিজের নেওয়া নানা জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি দৈনিক বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো
সাংবাদিক: গত জুলাই মাসে মিঠামইন উপজেলার বিএনপি সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যা মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: কিশোরগঞ্জ জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি এর আগে একটা ব্রিফিং দিয়েছি। আজকেও আমি সেই ব্রিফিংয়ের সূত্র ধরে বলতে চাই, জনাব জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ১২ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। কিলিং মিশনে যারা ছিল, সেই তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে আমরা মামলার তদন্তের শেষ অংশে রয়েছি। নেপথ্যে যারা আছে, তাদের ৯০-৯৫ ভাগ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। অতি শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিক: আপনি এখানে যোগদানের পূর্ব থেকেই মিঠামইন হাওরে ডাকাতি বেড়ে গিয়েছিল, ইতিপূর্বে একটি লাশবাহী ট্রলারেও ডাকাতি হয়েছিল। আপনি যোগদানের পর ডাকাতি নির্মূলে কী ভূমিকা নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: এটা আসলে আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। আমি এর আগে পাশের উপজেলা ইটনা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেখান থেকে আমার পোস্টিং হলো গোপালগঞ্জ জেলায়। আমি সেখান থেকে জানতে পারলাম যে লাশবাহী নৌকাতেও ডাকাতি হয়েছে। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এই হাওর এলাকার অভিভাবক অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি মহোদয় একদিন বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, "এটা একটা পর্যটন এলাকা, এখানে অনেক পর্যটক আসে। এখানে যদি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে, তবে পর্যটকেরা আসতে নিরুৎসাহিত হবে। তাছাড়া এলাকার মানুষেরও তো জানমালের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে।"
আমি ওনাকে সেদিন এ ডাকাতি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ আমাকে আবার এ এলাকায় কাজ করার সুযোগ করে দেয়। মিঠামইন থানার ওসি হিসেবে আমি গত ১২ জুলাই যোগদান করি। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, আমি যেদিন মিঠামইনে যোগদান করেছি, সেদিনই তিনজন ডাকাত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। পরে আরও দুজন এবং গত দুই-তিন দিন আগে আরও দুজন—মোট সাতজন ডাকাত গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আমি আসার পর অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনের কোথাও কোনো ডাকাতের ঘটনা ঘটেনি।
সাংবাদিক: মিঠামইন উপজেলায় মাদক নির্মূলে আপনার ভূমিকা কী?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: মাদক আসলে আমাদের একটা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। মাদক নিয়ে পুলিশের যেমন কাজ করার সুযোগ আছে, তেমনি এর জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রয়েছে। আমাদের পাশাপাশি তাদেরও এখানে ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া সমাজপতি ও সমাজের সর্বস্তরের জনগণ এ বিষয়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। সবাই মিলে কাজ করলে ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে অবশ্যই মাদক নির্মূল করা সম্ভব।
আমি এখানে যোগদান করার পর প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করেছি, মাদকের ভয়াল রূপ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। তারপর যারা মাদক ব্যবসায়ী আছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক মামলাও হয়েছে। আজকেও—অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর, রোজ বুধবার—আজকের দিনেও একজনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রুজু করেছি। এ এলাকার মাদক নির্মূলে কতটুকু করতে পারব, কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারব জানি না; তবে এ এলাকায় শীঘ্রই মাদকের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিক: আপনি জানেন হাওরের অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় মাদক কারবারিরা হাওরের এই স্থল ও জলপথকে মাদক পাচারের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা বন্ধে আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: আমি আপনার সাথে একমত। এ বিষয়টি আমি তখন বলতে চাইনি, গোপন রাখতে চেয়েছিলাম। মাদক পরিবহন বন্ধে হাওরে আমার তিনটি নৌকা কাজ করছে। যারা ওয়ারেন্ট তামিলে যায়, তারাও এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া নৌ টহল পার্টিও আছে। সাদা পোশাকে জেলেদের বেশেও আমার পুলিশ অফিসারগণ কাজ করছে। আশা করি এভাবে কাজ করলে দ্রুত মাদক পরিবহন বন্ধ করতে সক্ষম হব।
সাংবাদিক: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জনকল্যাণমূলক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: জনকল্যাণে আমি তো অনেক কাজই করছি, তবে তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এলাকার যারা সুধী সমাজ আছেন, এটা তাদের মূল্যায়নের বিষয়। আমি এখানে যোগদানের পর চুরি শতভাগ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতি ও মাদক নির্মূলে কাজ করেছি, কাজ করছি। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন রাতে হাওরে আটকে পড়া পর্যটকদের জড়ো করে তাদের পুলিশ প্রহরায় বালিখোলা ঘাটে নিরাপদে প্রেরণের ব্যবস্থা করছি। থানায় সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই দ্রুত সেবা পান, সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।
সাংবাদিক: আমাকে আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: ধন্যবাদ আপনাকেও, ভালো থাকবেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে অভিযোগ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সদস্য সাবিকুন্নাহার আলোচনা করেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় নারী শিক্ষিকার মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লক্ষ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে নিহত।’
গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতি বাড়ছে দাবি করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাদক কারবারি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগও তোলেন তিনি।
জামায়াতের এমপি সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা এবং অক্ষমতার কারণে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, পথচারীদের জন্য তৈরি ফুটপাত অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে। ফলে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সংগঠিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘এটা আজ ওপেন সিক্রেট যে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চক্র গড়ে উঠেছে।’
এ নারী সংসদ সদস্য বলেন, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
একটি সংবাদ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো জায়গায় চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
সাবিকুন্নাহার বলেন, চাঁদাবাজি যেন আজ সরকারি দলের এক কমিউনিকেবল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চান তিনি।