সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হয়েছেন কৃষক ছাইদুর রহমান (৪০)। তিনি উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদী থেকে ছাইদুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অপহৃত হন।
ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাইদুর সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাইদুরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। একাধিকবার এই টাকার দাবিতে মোবাইল করে অপহরণকারীরা। কিন্তু ছাইদুরের পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব না বলে জানানো হয়।
এনামুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে স্থানীয় লোকজন গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদীতে ছাইদুরের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। ছাইদুরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।’
ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধায় আমার স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। রাত ১০টাতেও তার কোনো খোঁজখবর পাইনি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দিলে তারা জানায়, ছাইদুর দাওয়াত খেতে যায়নি।’
বুলবুলি বলেন, ‘রোববার দুপুরে একটা ফোন আসে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে। বলে, স্বামীকে ফিরে পেতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে। এরপর টাকা গোছানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাকা গোছাতে পারিনি। আমার স্বামীকে ওরা মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত এবং তাদের ধরার চেষ্টা শুরু করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
নিজের শৈশব-কৈশোরে দেখা খরা, পানির জন্য মানুষের হাহাকার আর কৃষকের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবার তুলে ধরতে চান বিশ্বমঞ্চে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলে তৈরি হওয়া সংকটের চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন নওগাঁর তরুণ জলবায়ুকর্মী মো. মামুনুর রেজা।
তার লক্ষ্য, বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার অংশ করে তোলা। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং কৃষি ও জীবিকার ওপর এর বহুমুখী প্রভাব তুলে ধরতে চান তিনি।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামোগত সনদের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কপ-৩১ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুনুর রেজা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
তিনি নওগাঁ ভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ভয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক জাতীয় সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’-এর প্রচার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়ে ওঠার সুবাদে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত তার কাছে কেবল গবেষণার বিষয় নয়, বরং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অংশ। এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীনতা, তাপপ্রবাহ এবং সেচের পানির সংকট কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকাকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা এবং পানির প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এই বাস্তবতা থেকেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন মামুনুর। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার যথাযথভাবে আলোচনায় আসা জরুরি।
কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু তহবিলের অর্থ কীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়েও জোরালো অবস্থান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
মামুনুর রেজা বলেন, শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু তহবিলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তার। মামুনুর বলেন, অনুদানের বড় একটি অংশই প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু মাঠে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন আদায়ে জোরালো দাবি তোলা দরকার।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, তথ্য-উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক চিত্র সংকলনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এসব তথ্য বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে দিতে চান তিনি, যাতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটে।
সম্মেলন শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনা থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনা নওগাঁসহ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান মামুনুর। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলাই তার প্রত্যাশা।
বিশ্ব জলবায়ু আলোচনার বিশাল পরিসরে বরেন্দ্রের পানিসংকট ও মানুষের জীবনসংগ্রামের কথা কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নওগাঁর এই তরুণ জলবায়ুকর্মী।
নওগাঁর পরিবেশ অধিকার কর্মী নাইস পারভীন বলেন, মামুনুরের এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনায় তুলে ধরা এবং স্থানীয় মানুষের দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করছি।
মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন দুবলারচরের শুঁটকিকরণ জেলেরা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলার আলোরকোলে পৌঁছে জেলেদের নৌকা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো হাওয়া বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
দুবলার আলোরকোল থেকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, এবারের দুবলার শুঁটকি মৌসমের শুরুতেই জেলেরা দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে রওয়ানা করে জেলে বহর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচরে পৌঁছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরে নেমে জেলেরা তাদের থাকার অস্থায়ী ঘর ও মাছ রাখার গোলা বানাতে না পেরে তারা নৌকা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সাগরে বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, সাগরে মাছ ধরে শুঁটকিকরণ জেলেরা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলারচরে এসেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলায় শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত সাত সহস্রাধিক জেলে দুবলারচরে সমবেত হয়েছেন। দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচর নিয়ে দুবলারচর গঠিত।
প্রতি বছর খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় দশ সহস্রাধিক জেলে দুবলার এই চারটি চরে অবস্থান নিয়ে সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি করে থাকেন। পরে জেলে মহাজনরা শুঁটকি মাছ বাজারজাত করার জন্য খুলনা, সৈয়দপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্রগাম, কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠায় বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে এক রাতে ৩৫১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন। মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানায়, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গ্রেফতার এড়াতে ধানক্ষেতে আত্মগোপন করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মজনু সরকার (৪৬)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোররাতে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মজনু সরকার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই উপজেলার আলী গ্রামের মৃত নাসির সরকারের ছেলে। এ ছাড়া তিনি গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ধানক্ষেতে আত্মগোপন করেছিলেন মজনু সরকার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মজনু সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) শিগগিরই বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পিংক বাস চালু করতে যাচ্ছে। নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এসব বাস পরিচালনার জন্য দক্ষ নারী চালক তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিসি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগম।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত নারী চালকদের এক থেকে চার মাস মেয়াদি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী যানবাহন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘সরকার নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই বিআরটিসি ইতোমধ্যে নারীদের জন্য নারী চালক পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে। এ সেবার পরিধি আরও বাড়াতে আমরা নারীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইভি পিংক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, পিংক বাস সার্ভিস চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ সেবা কোনো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং মহানগরীসহ সারাদেশে নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরাও তাদের পরিবারের নারীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করছেন, যাতে তারা দক্ষ চালক হিসেবে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বিআরটিসি বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক পদমর্যাদা ও বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) নামে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসি নতুনদের বিনামূল্যে হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারী চালকরা তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাপ্রধান সমাজে গণপরিবহনে নারী চালক ও সহকারী থাকলে নারী যাত্রীরা বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।’
নারী চালকদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিআরটিসির গাজীপুর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউজ্জামান মুহাম্মদ মাশিউজ্জামান বাসস’কে বলেন, হালকা মোটরযানের লাইসেন্সধারী নারী চালকদের ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিআরটিসি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
প্রশিক্ষণ শেষে তারা ইভি পিংক বাস পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে রোড পারফরম্যান্স টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করপোরেশনের বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না। ভবিষ্যতে বিআরটিসির স্থায়ী চালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব প্রার্থী অগ্রাধিকার পাবেন।
বিআরটিসি প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশের ২১ থেকে ৩২ বছর বয়সী এবং কমপক্ষে পাঁচ ফুট উচ্চতার নারী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। তবে অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত শিথিলযোগ্য।
আবেদনকারীদের কমপক্ষে এক বছর মেয়াদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। এ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে গাজীপুরের বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় (গাড়ি চালনা) অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।
প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ১৫ নভেম্বর বিকেলে বিআরটিসির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য মহিলা হোস্টেলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।
কালের বিবর্তনে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও এখনো স্বমহিমায় টিকে আছে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পান বাজার। প্রতিদিনই এখানে বসে পানের বিশাল বেচাকেনার আসর। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয় এই বাজারে। কুমিল্লা নগরীর রাজাগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ পান বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পান নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। দূরদূরান্তের পাইকারি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিনই মুখর থাকে বাজারটি।
পান বাজারের বৃহৎ আড়তগুলোতে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের স্তূপ। বড় বড় ঝুড়ি ও বস্তায় সাজানো বিভিন্ন জাতের পানের পসরা। এখানে জীবন, নরেন্দ্র, নারায়ণসহ বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, পান বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক নানা আয়োজনে পানের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা পান চাষের জন্য সুপরিচিত।
তাঁরা আরও জানান, একসময় কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পানের বরজ দেখা গেলেও বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। তবে জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা, দেবিদ্বার, চান্দিনা ও বরুড়া এলাকায় এখনো পান চাষ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পানের পাশাপাশি তাঁদের আড়তে বরিশাল অঞ্চলের পান বেশি আসে। মান ও চাহিদার কারণে বরিশালের পানের বেচাকেনাও তুলনামূলক বেশি।
বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, বড় আকারের এক বিরা পান খুচরা পর্যায়ে প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি বিরা পান ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পানের বেচাকেনায় বিরা ও পুনের প্রচলিত হিসাব অনুসরণ করা হয়।
রাজাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নিতাই ও নরেন্দ্র জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পান বিক্রির পরিমাণ ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে আসছে। একসময় এ পেশার সঙ্গে অনেক পরিবার জড়িত ছিল। এখন গুটিকয়েক ব্যবসায়ী বংশপরম্পরায় পাওয়া এ পেশা ধরে রেখেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা ঐতিহ্যবাহী পান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে পান চাষের বিস্তৃতি কমেছে। বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো অনেক পরিবার বংশপরম্পরায় পান চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পান চাষিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ ও সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পান চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া ও পরিবর্তিত বাজারব্যবস্থার মধ্যেও কুমিল্লার রাজাগঞ্জের ঐতিহাসিক পান বাজার এখনো তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। কয়েক প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় টিকে থাকা এ বাজার শুধু বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। ব্যবসায়ীরা আরো জানান এই হাট কাক ডাকা ভোর বেলা বসে এখানে ৫০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকার পান বিক্রি হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় যান মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় তারা একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।
তিনি দেলাওয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর ঠাকুরগাঁও গড়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নমূলক সব কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬।
এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম নিজামী পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। আর ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।
আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ হয়।
কামরুল ইসলাম জানান, ১৮৫টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫০ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৯ ।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন।
এ নির্বাচনে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। এদের মধ্যে মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। আর হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।
সারাদিনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফয়সল আমীন।
তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া ৪ বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।’ পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ভোট উৎসবমুখর হয়েছে, সন্তুষ্ট ইসি: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ‘উৎসবমুখর’ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন ভবনে ব্রিফিং এ বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলের অভিযোগ থাকলেও ইসির নজরে কিছু আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এই নির্বাচন আপনাদের জন্য পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, আপনারা কি পাস করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাস না করলে কি ব্রিফ করছি? নির্বাচন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
তিনজনকে আটক করার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ওরা ভোটার নন। কৌতুহলবশত কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল।
পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যবসায়ীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাজারের একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পুষ্পপাড়া এলাকার ধর্মগ্রামের আরজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫৪) ও একই গ্রামের ওমেদ আলী মেম্বারের ছেলে রিপন (৩০)। আব্দুস সালাম পুষ্পপাড়া বাজারের ইজারাদার ছিলেন। রিপন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় পুষ্পপাড়া বাজারে আব্দুস সালামের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসে ছিলেন সালাম ও রিপন। এ সময় ৫-৭ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
গুলিতে আহত সালাম ও রিপনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ৫-৭ জনের একটি দল গুলি করতে করতে সালামের কার্যালয়ে ঢোকে। পরে তারা পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।
চট্টগ্রামে সন্দ্বীপের উড়িরচরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানাধীন উড়িরচর ইউনিয়নের এ এইচ নব দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।
ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইন-এ ৪৪৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ঐতিহ্যবাহী ধলেশ্বরী নদী খনন করার মাত্র এক বছরের মাথায় পুনরায় ভরাট হয়ে তলদেশে পলি ও বালু জমে নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। নদীর খননকৃত মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও এভাবে দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
নদীটি দ্রুত ভরাট হওয়ার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে জানতে কথা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উজান থেকে বাংলাবাজারের দিক থেকে আসা বিভিন্ন খাল বেয়ে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের সঙ্গে প্রচুর পলি ও বালু এসে নদীর মুখে জমা হয়।
কনসালটেন্ট দিয়ে স্টাডি করে দেখা গেছে, এখানে পলি জমার (সিলট্রেশন) হার বা প্রবণতা প্রায় ৩০০ শতাংশ! বিগত এক-দুই বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, নদী খনন করার পর এক মাসও তা টেকে না; ওপর থেকে আসা পলিতে তা দ্রুত ভরাট হয়ে যায়। নদীগুলোর এই ভৌগোলিক ও অববাহিকাভিত্তিক বাস্তবতায় কেবল একবার ড্রেজিং করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থায়ী বলতে এ ধরনের নদী এভাবে সারা বছর ড্রেজিং করে রাখা লাগে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবে জনবল ও বিপুল খরচের কারণে বেশ জটিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাওরের নদীগুলোর ওপর এই অনিয়মিত ড্রেজিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব ও টেকসই সমাধান নিয়ে কথা বলেন সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘হাওরাঞ্চলবাসী ঢাকা’-র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, হাওর অঞ্চল এবং এর নদীগুলোকে একক সত্তা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে হবে। ভৌগোলিক ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এই অঞ্চলের নদীগুলো পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে হাওর পেরিয়ে সাগরে মিশেছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা সমীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র নদী ও শাখা-উপশাখা ড্রেজিং করা হচ্ছে এবং ইচ্ছেমতো নদীর গতিপথ পরিবর্তন বা ভরাট করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নদীগুলোর ওপর এক ধরনের নির্মম অত্যাচার চলছে, যার ব্যতিক্রম নয় আমাদের ধলেশ্বরী নদীটিও।
তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলবাসীর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি, বিচ্ছিন্নভাবে খণ্ড খণ্ড ড্রেজিং না করে পুরো হাওর অঞ্চলকে একসঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপকভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমীক্ষা চালানো দরকার। কোথায় প্রকৃত ড্রেজিং প্রয়োজন, কোথায় গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে কিংবা কোথায় তা করা যাবে না—তা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। যত্রতত্র অপরিকল্পিত ড্রেজিং অবিলম্বে বন্ধ করে পরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপে নদীগুলোকে রক্ষা করার এখনই উপযুক্ত সময়।
এদিকে সামনেই হাওরের একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান আবাদের ধুম পড়বে। হাওরঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এই ধলেশ্বরী নদীর পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। সেচ মৌসুমের ঠিক মুখে নদীটি শুকিয়ে চর জেগে ওঠায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নদীর পানিপ্রবাহ না থাকলে নদীভিত্তিক সেচপাম্পগুলো অকেজো হয়ে পড়বে, যার ফলে হাজার হাজার একর জমির বোরো আবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদী ভরাট হওয়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম ও স্বাভাবিক প্রজননক্ষেত্রও ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকায় চরম আঘাত হানছে।
অন্যদিকে, শুধু কৃষিতেই নয়, অষ্টগ্রাম উপজেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থাও এই নদীপথের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। সংলগ্ন বাণিজ্যিক হাব ভৈরব থেকে অষ্টগ্রাম বাজার, কাস্তুল বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে স্বল্প খরচে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও পণ্যদ্রব্য পরিবহনের একমাত্র অর্থনৈতিক মাধ্যম হলো এই ধলেশ্বরী নদী। নাব্য সংকটের কারণে পলি জমে নদীর নদীর বিভিন্ন অংশ ডুবোচরে পরিণত হওয়ায় ভৈরব থেকে আসা পণ্যবাহী বড় বড় ট্রলার ও নৌকাগুলো আর ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে পণ্য খালাস ও পরিবহনে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি খরচও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে—যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার ও সাধারণ ভোক্তার ওপর। পাশাপাশি ঘাটগুলোতে যাত্রী চলাচলেও পোহাতে হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ।
স্থানীয় প্রবীণ কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাওর এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী না বাঁচলে হাওরের কৃষি ও অর্থনীতি দুটোই থমকে যাবে। ধলেশ্বরী নদীকে সচল রাখতে এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও কোটি টাকার বাণিজ্য রক্ষায় অপরিকল্পিত ড্রেজিং বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে জৈব সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামে ওই কারখানাটি গড়ে ওঠায় তীব্র পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবৈধ এ কারখানাটির কার্যক্রম দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, করিমপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামের কারখানাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই, এমনকি কৃষি বিভাগ থেকেও প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। রাতের আঁধারে কারখানায় উৎপাদিত সার বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান ও বাজারজাতকরণের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অননুমোদিত কারখানা গড়ে তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি জৈব সার কারখানা গড়ে উঠল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারখানার মালিকের বাড়ি ঢাকার মুন্সীগঞ্জে। তিনি এখানে এসে পরিবেশ নষ্ট করে ব্যবসা করছেন। এতে আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানাটির মালিক মো. নাসির দাবি করেন, তার সার কারখানার কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি যে সার তৈরি করি, সেটির কোনো অনুমোদন লাগে না। তা ছাড়া আমি স্থানীয় বাজারে সার বিক্রি করি না। এখান থেকে বস্তায় ভরে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করি, তারাই এসে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘করিমপুর গ্রামে অবৈধভাবে জৈব সার কারখানা গড়ে তোলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেখানে কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অননুমোদিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা হলে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহরের একাডেমি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার উন্নি ও মোহাম্মদ ফিরোজ। ওই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুই পথচারী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এ সময় অটোরিকশাটি উল্টে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে তারা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফিরোজের অবস্থা গুরুতর। পথচারী ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
এ খবর প্রচার হলে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থীরা একাডেমি সড়কে নেমে আসে। তারা ফেনী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া সড়কের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সঠিক ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা ১ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ সানজিদাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমি আসার পথে দুইজন শিক্ষার্থীকে একাডেমি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাপা দিলে দুর্ঘটনার শিকার হন। আমরা এর বিচার চাই। একাডেমি এলাকায় স্কুলের সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ এবং একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল মজুমদার পিন্টু বলেন, ‘সদর হাসপাতাল মোড় থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে উল্টে গিয়ে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত লোকজন দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সরিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনে সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করতে হবে। একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অবরোধের খবর পেয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা নাসরিন কান্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার বিষয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’