ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
মুঠফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান।
বহিষ্কৃতরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফাহিম হাসান সনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস হাদিউজ্জামান আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসরাম অর্ক, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী ফরহাদ হোসেন, মুস্তাকিম, ফরহাদ হোসেন-২ ও জেলা ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি আদর্শ, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।
একই সঙ্গে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট সুপারিশও করা হয়।
জানা যায়, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজীবুল হাসানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কলেজের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল ফাহিম হাসান সনির। গত শুক্রবার রাতে বিষয়টি সমাধানের জন্য ঝিনাইদহ শহরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে আসেন সজীবুল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে ফেরার পথে জোহান পার্কের সামনে পৌঁছলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ফাহিম ও তার সমর্থকরা। হামলায় সজীবুল হাসানসহ দুইজন গুরুতর আহত হন। সেসময় সজীবের সাথে থাকা ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মুরাদ হাসানসহ অন্যদের ওপরও হামলা করা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে মোটরসাইকেলে চড়ে পালানোর সময় সদর উপজেলার ১৮ মাইল নামক স্থানে দুর্ঘটনায় মুরাদসহ ৩ জন নিহত হন।
এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে সজীবুল হাসান বাদী হয়ে ফাহিম হাসান সনিকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওইদিন রাতে সদর উপজেলার কোরাপাড়া এলাকা থেকে নয়ন মিয়া ও সংগ্রাম জোয়ার্দ্দার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ৪ দিনের অতিবৃষ্টিতে খুলনা জেলায় মাছ চাষ ও সবজি চাষে প্রায় ১১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। খুলনা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ায় জেলার মৎস্য চাষ ও কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকায়। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘের ও ফসলি জমি, যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে স্থানীয় চাষিদের।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান জানান, খুলনা জেলার ৯টি থানায় ৪ দিনের অতি বৃষ্টিতে মোট ৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দিঘলিয়াতে হয়েছে ৪টি। মোট খতিগ্রস্ত পুকুর, দিঘি ঘেরের সংখা ১,৪৬২টি।
তিনি আরও জানান, এই চার দিনে মোট ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যার ৬০ শতাংশই চিংড়ি চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ।
খুলনা বিভাগের চিংড়ি চাষের কেন্দ্র স্থল ডুমুরিয়াতে প্রায় ৬৫০টি ঘেরে মাছ চাষিদের ক্ষতি হয়েছে সব থেকে বেশি, যার পরিমান ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাদা মাছ চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ও চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর অবকাঠামো গত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ মিনা জানান, জেলায় এ মুহূর্তে আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষ হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি, তরমুজ, মরিচ, পান ও ধইঞ্চার ও চাষের তথ্য আছে তাদের কাছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জুলাই (১৪ তারিখ পর্যন্ত) জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪২৪ মিমি, যা গত বছর ৩৬০ মিমি ছিল।
আগাম প্রস্তুতি না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোঃ নূরনবী ভুঁইয়া। এছাড়াও একই ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ও মহিলাদলের নেত্রীদের স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন।
রূপগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে নূরনবী ভুঁইয়া রূপগঞ্জ ইউনিয়নের সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ সময় তিনি বলেন, নতুন প্রশাসক হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ব। এদিকে নতুন প্রশাসক হওয়ার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূরনবী ভুঁইয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হলেন, মুশুরী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ভুঁইয়ার ছেলে মোঃ নূর নবী ভুঁইয়া।
ইউপি সদস্য হিসেবে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, ১নং ওয়ার্ডে মোঃ ওবায়দুল হক ইয়াজুল, ২নং ওয়ার্ডে তৈয়বুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডে মোঃ সফিউদ্দিন মোল্লা, ৪নং ওয়ার্ডে মোঃ শরীফ মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডে মোঃ মামুন হোসেন ভূঞা,৭নং ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান, ৮নং ওয়ার্ডে মোঃ বাচ্চু মিয়া, ৯নং ওয়ার্ডে মোঃ আল আমিন মাসুদ প্রমূখ।
একই প্রজ্ঞাপনে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হিসেবে মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহিলা দল নেত্রী সেলিনা আক্তার, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে পিতলগঞ্জের বাসিন্দা মহিলাদল নেত্রী হাসনারা বেগম, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে মুশুরী গ্রামের বাসিন্দা মহিলাদল নেত্রী রুমি আক্তারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় লক্ষাধিক শোকার্ত মানুষ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ এশা কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে আয়োজিত এই জানাজায় বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মাজারুল ইসলাম, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরিফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় এই নেতার শেষ বিদায়ে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর আলম। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলা সদর ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরের দিকে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত সড়কে গাছ ফেলে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি চালায়।
দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়কের ওপর গাছ ফেলে। প্রথমে তারা দামুড়হুদা দশমী গ্রামের নছর আলীর ছেলে ভ্যানচালক জুয়েলের পথরোধ করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে ডাকাতরা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে।
মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, একই এলাকার রামনাম পশ্চিম পাড়ার মো জিনারুল ইসলাম, সেন্টু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ,জিহাদ আলী, একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরনিগা, মুন্নাতের স্ত্রী হামিদা খাতুন, আবু হুরাই, আলিফ হোসেন, ও মহির উদ্দিন এবং নাম না জানা আরো অনেকে। আহতরা অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, বারো জনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। গত সপ্তাহতেও তিনজনকে কামড় দিয়েছে। দুটি কুকুর এক সাথে লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।
একপর্যায়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা পরে একহয়ে কুকুর দুটিকে মেরে ফেলেছে। আহতরা বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মেন্দা কুঠিপাড়া এলাকায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেন্দা কুঠিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আরমান হোসেন (২২)-কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার শাওরাইদ বাজার ও বালীগাঁও এলাকায় মাদক সেবনের অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বালীগাঁওয়ের আরাজ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, ভাড়া মিয়ার ছেলে রমজা, সাটিয়া বাজারের মান্নানের ছেলে বিপিন, দপ্তরী কলোনির আমোদ আলীর ছেলে মানিক মিয়া, শোভানপুরের নঈমুদ্দিনের ছেলে আকিবুল ইসলাম এবং তাহমিনা বেগম।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামসুন নাহার সিমু।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য আইন বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বাজার মনিটরিং ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হোসেন।
অভিযানে নওগাঁ হাটে মৎস্য আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রি করতে থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিবার জানায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমি আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে।
কালাম হোসেন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
এ নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনায় তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।
মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কালাম হোসেনের বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে পিরোজপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২০৩১)’ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) বা অবিভাগীয় কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন এবং পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান অন্যতম নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ও স্মার্ট ডাকসেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ ও ইডি শাখার কর্মচারীরা যুগের পর যুগ চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। ডাক বিভাগ সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বা রেভিনিউ দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের অবিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা নামমাত্র সম্মানী ভাতায় আমাদের পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও ডাকঘর বন্ধের কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮,৫০০ শাখা ডাকঘরে কর্মরত ২৩,০২১টি পরিবার এই নামমাত্র সম্মানী ভাতায় চরম মানবেতর ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিগুলো হলো: ১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে সকল ইডি কর্মচারীদের মূল সম্মানী ও ভাতা ন্যূনতম ৩ গুণ বৃদ্ধি করে ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।
২. চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণ করে ২৩,০২১ জন অবিভাগীয় কর্মচারীকে স্থায়ী বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৩. সাময়িক গ্রেড নির্ধারণসহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড অনুসরণ করে ন্যায্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা।
৪. উৎসব ও নববর্ষ ভাতা (বৈশাখী ভাতাসহ) রাষ্ট্রীয় সকল উৎসব ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৫. কল্যাণ তহবিল গঠন করে ইডি কর্মচারীদের আপদকালীন চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষায় ‘ইডি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল’-এ সরকারি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা।
৬. কাজের আধুনিকায়ন ও পোশাকসহ ডিজিটাল ডাকসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের পরিবেশ, স্মার্ট ডিভাইস এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) সরবরাহ করা।
ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার দেড়’শ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই পৌরবাসীর। ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ও অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের।
জানা যায়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহেশপুর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাত নামলেই পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটি জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।’
এ ব্যাপারে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফুলজান বিবি (৮৫)। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ওই জরাজীর্ণ ঘরে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে একটি ঘর চেয়েছেন তিনি।
ফুলজান গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিন পাড়া এলাকার মৃত গিরানি শেখের স্ত্রী। প্রায় দুই যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। তাঁর এক ছেলে
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম (৩২) শ্রমিকের কাজ করেন। ঘরটিতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাততি নিয়ে তারা বসবাস করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চকিতে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা ফুলজান বিবি। ঘরে বেড়া নেই বললেই চলে। ঘরটিতে ভাঙাচোড়া টিন দিয়ে কোনমতে আটকানো আছে। রোদ-বৃষ্টি খুব সহজেই ঘরে প্রবেশ করে। ব্রেইন স্ট্রোক ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলজান বিবি কিছুই বুঝতে পারেনা। তার মেয়ে ও নাততি প্রতিদিনের মতো সকালেই ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যায়। ফুলজান দু-একটি কথা বলেন, তা–ও অস্পষ্ট।
ফুলজানের ছেলে নুর ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ, গরিব মানুষ। কোনরকম বিভিন্ন চায়ের দোকান ও অন্যান্য স্থানে শ্রমিকের কাজ করে বোন, ভাগ্নি ও মাকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে একটি চৌকিতে থাকেন। তিনি বিবাহ করেননি। সামান্য আয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়। এর মধ্যে মা ফুলজান বিবির ও বোন ভাগ্নির ভরণপোষণ তিনিই চালান। তাঁর থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। ভাত জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ঘর করে দেবেন কে ?
নুর ইসলাম আরও বলেন, তাঁর মা বয়স্ক ভাতা পাননা। তাঁদের আড়াই শতাংশ জমি আছে। সরকার থেকে ওই জমিতে একটি ঘর করে দিলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। তাই মায়ের জন্য একটি ঘর চেয়েছেন নুর ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র বৃদ্ধ ফুলজান বিবি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অসুস্থ ছেলে তাঁকে খুব কষ্টে ভরণপোষণ দেন। সরকারিভাবে একটি ঘর দিলে তাঁদের খুব উপকার হতো।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি শুনেছি তারা জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং শুনেছি তারা ভিক্ষা করেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি তাদের ভিক্ষুক পুনর্বাসন করে দিতে পারি নাকি। তবে খুব শিগগিরই তিনি ফুলজান বিবি ও তার জরাজীর্ণ ঘরটি দেখতে যাবেন।
মাগুরা প্রতিনিধি ভারতের সাতজন ও মাগুরা সহ ১০ টি জেলার ৩৭ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে মাগুরা প্রেসক্লাবে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা দাবা খেলোয়াড় সংস্থার সভাপতি সৈয়দ নাজমুস সাদাত নদু, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খান।
বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় মাগুরা প্রেসক্লাব ও আকাই স্মৃতি সংসদের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে দাবা খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেটিং পদ্ধতির খেলায় যোগ্য করে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা মনে করছেন।