ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
মুঠফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান।
বহিষ্কৃতরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফাহিম হাসান সনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস হাদিউজ্জামান আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসরাম অর্ক, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী ফরহাদ হোসেন, মুস্তাকিম, ফরহাদ হোসেন-২ ও জেলা ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি আদর্শ, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।
একই সঙ্গে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট সুপারিশও করা হয়।
জানা যায়, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজীবুল হাসানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কলেজের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল ফাহিম হাসান সনির। গত শুক্রবার রাতে বিষয়টি সমাধানের জন্য ঝিনাইদহ শহরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে আসেন সজীবুল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে ফেরার পথে জোহান পার্কের সামনে পৌঁছলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ফাহিম ও তার সমর্থকরা। হামলায় সজীবুল হাসানসহ দুইজন গুরুতর আহত হন। সেসময় সজীবের সাথে থাকা ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মুরাদ হাসানসহ অন্যদের ওপরও হামলা করা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে মোটরসাইকেলে চড়ে পালানোর সময় সদর উপজেলার ১৮ মাইল নামক স্থানে দুর্ঘটনায় মুরাদসহ ৩ জন নিহত হন।
এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে সজীবুল হাসান বাদী হয়ে ফাহিম হাসান সনিকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওইদিন রাতে সদর উপজেলার কোরাপাড়া এলাকা থেকে নয়ন মিয়া ও সংগ্রাম জোয়ার্দ্দার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বর্ষণের করাল গ্রাসে দেশের বন্যা পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, অন্যদিকে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের আকাশে ঘনীভূত হচ্ছে নতুন দুর্যোগের মেঘ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সব শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলার ৫৯টি উপজেলা এখন সম্পূর্ণ বন্যাপ্লাবিত। বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার। আর সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার।
এদিকে, ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে অতিভারি বর্ষণের কারণে দেশের অন্তত ১১টি জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম সম্পর্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য সব জায়গায় অ্যান্টিভেনম পৌঁছানো হচ্ছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলে এখনো কলেরা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণ বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি: দেশের ১১টি বন্যাদুর্গত জেলায় জরুরি উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ বিতরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, দুর্গম অঞ্চলে আকাশপথে বিমান বাহিনীর মাধ্যমেও ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌঁছানো হচ্ছে।
বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি: দেশে বর্তমানে ৫টি স্টেশনে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব বা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বার্তায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৫টি স্টেশনে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো—বান্দরবানে সাঙ্গু নদী (বান্দরবান ও দোহাজারী স্টেশন), সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।
এ অবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব বা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। এসব অঞ্চলগুলো হলো-দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা। উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা।
সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় চলমান এই বন্যায় এ পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। এর মধ্যে কেবল পর্যটন নগরী কক্সবাজারেই পাহাড়ধস ও বন্যার তোড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।
কক্সবাজারে নামছে পানি, কাটছে না দুর্ভোগ: টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত কক্সবাজারের রামু। পাঁচ দিন পর কমতে শুরু করেছে পানি। তবে ঘরে কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া রান্নার চুলা, জ্বালানির সংকট, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি হাজারো পরিবার। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।
রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার বন্যাকবলিত বাসিন্দা হামিদুল হাসান বলেন, ‘চার দিন ঘরে রান্না করতে পারিনি। শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে দিন কেটেছে। এখন পানি নামলেও ঘরে কাদা, চুলা নষ্ট, জ্বালানি নেই। তাই রান্নাও করতে পারছি না। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।’
হামিদুল হাসানের মতো একই ধরনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন কচ্ছপিয়ার দোছড়ি এলাকার সিরাজুল হক, চাকমারকাঠার মকসুদ, মিঠাছড়ির করিম সিকদার ও রশিদ আহমদ। তাদের ভাষ্য, কয়েক দিন পানিবন্দি থাকার পর পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। ঘরে কাদা জমে আছে, অধিকাংশ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে, রান্নার চুলা অকেজো। বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র। অথচ এখন পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কিছু ত্রাণ বিতরণ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক দুর্গত পরিবার এখনো কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। ব্যক্তি উদ্যোগে এবং কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করলেও বাস্তব চাহিদার তুলনায় তা খুবই সামান্য।
রামুর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, ফতেখাঁরকুল, জোয়ারিয়ানালা ও ঈদগড়। এসব এলাকার অনেক বসতবাড়ি এখনো আংশিক পানির নিচে। কোথাও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
দুর্গত বাসিন্দাদের দাবি, প্রতীকী ত্রাণ বিতরণের পরিবর্তে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে ইউনিয়নভিত্তিক পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, রান্নার জ্বালানি এবং পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলমান সংকট আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে নদনদীর পানি এখনো উচ্চ অবস্থানে থাকায় নতুন করে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত। দুর্গম এলাকাগুলোতেও দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন মহাবিপদ: নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরেভারতের আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরের বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার: সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলিতে এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের তোড়ে সুনামগঞ্জের শক্তিয়ারখলা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আগামী ২ দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের ভয়াবহ চিত্র: খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ক্ষত এখনো শুকায়নি। চার ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম এখনো পানির নিচে প্লাবিত হয়ে আছে। প্রায় ৩০ হাজার পানিবন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ভুগছেন। প্রাথমিক হিসাবে, কেবল মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
মৌলভীবাজারের ধীরগতি: মৌলভীবাজারে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও রাজনগর উপজেলার অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামে এখনও পানি জমে আছে। পানি অত্যন্ত ধীরগতিতে নামার কারণে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি: এই দুই পার্বত্য জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও দুধকুমারের হুংকার: ৫ জেলায় লাল সতর্কতাউত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের নদ-নদীগুলোর রূপও রুদ্র হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা জেলাসমূহ: আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে।
হুমকির মুখে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম: এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী এবং গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার চরম শঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী এবং উপদাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে যাদুকাটা, ভুগাই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের সারিগোয়াইন ও ভুগাই-কংস নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা আমনের বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না, যা দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ও পার্বত্য অঞ্চল: পানি নামলেও কাটেনি ক্ষত, ঘরে ফিরছে মানুষদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পানি নামার সাথে সাথে ভেসে উঠছে ধ্বংসের বড় বড় চিহ্ন।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৌ-ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন নৌপথে কয়েক দিনের ব্যবধানে লাশবাহী নৌকা, গরু ব্যবসায়ী, হাঁস ব্যবসায়ী ও পর্যটকবাহী ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর প্রশাসন নৌপথে টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর নৌযান চলাচল নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জনপ্রতিনিধিরা।
কয়েকদিনের ব্যবধানে একের পর এক ডাকাতি।
গত ৭ জুলাই রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া হাওরের নোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় ১৫ দিনের এক শিশুর মরদেহ বহনকারী নৌকায় হামলা চালায় মুখোশধারী ডাকাতরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সোলার ব্যাটারি ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। মানবিক এই ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এর পরদিন, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের হাওরে তিন গরু ব্যবসায়ীর নৌকায় ডাকাতি হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মারধর করে তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা লুট করে।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতুসংলগ্ন বগাডুবি খাল এলাকায় হাঁস ব্যবসায়ীদের বহনকারী আরেকটি নৌকায় ডাকাতি হয়। নগদ ৭৫ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, হাঁড়ি-পাতিল ও ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
এর আগে গত ৭ জুন রাতে মিঠামইন-করিমগঞ্জ সীমান্তের হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রায় ৪০ জন পর্যটকের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
আতঙ্কে হাওরবাসী
ইটনা উপজেলার ছিলনী গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, প্রায় প্রতিদিনই গ্রামের পাশের চরের বিলে ডাকাতদের ঘোরাফেরা দেখা যায়। গ্রামবাসী পালাক্রমে পাহারা দেওয়ায় তারা বাড়িতে উঠতে পারে না। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে ডাকাত ঘুরাঘুরি করতেছে, অথচ ভয়ে কিছুই করতে পারতেছি না।’ বর্তমানে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বাচ্চু বলেন, আগে রাতে চলাচলে ভয় ছিল না। এখন সন্ধ্যার আগেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তা কাজ করে। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের সামনের মতো ব্যস্ত জায়গায় দিনের আলোতে ডাকাতির ঘটনা কল্পনাও করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গ্রামের কিছু মানুষ ডাকাতদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে।
করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামের নৌকার মাঝি হাবিকুল ইসলাম বলেন, আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা হাওরে এসে রাত কাটাতেন। এখন সন্ধ্যার আগেই সবাই ফিরে যান। তিনি বলেন, ‘এখন তো অন্ধকারও লাগে না, দিনের আলোতেই ডাকাতেরা হামলা দেয়।’
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ডাকাতি বৃদ্ধির পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় ডাকাতিপ্রবণ জলপথে বিশেষ নৌ-টহল শুরু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টার পর প্রয়োজন ছাড়া হাওরাঞ্চলে নৌপথে চলাচল না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এক মাস আগে সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ডাকাতি প্রতিরোধে করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাট, নিকলী বেড়িবাঁধ এবং ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কে তিনটি পুলিশ কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ
গত ১২ জুলাই জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম বলেন, হাওরের ডাকাতি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের কাছে ডাকাতদের তালিকা রয়েছে। পুরনো রেকর্ডের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালালে ডাকাতরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে।
সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান নৌযান চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত এটি।’ তার মতে, হাওরবাসীর প্রয়োজনেই গভীর রাত পর্যন্ত নৌযান চলাচল করতে হয়। তাই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তিনি জানান, এলাকায় গিয়ে জনগণকে সংগঠিত করে ডাকাতদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম থানার জন্য তিনটি দ্রুতগামী স্পিডবোট বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, ডাকাতরা দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে। তাই তাদের মোকাবিলায় পুলিশের কাছেও আধুনিক জলযান থাকা প্রয়োজন।
লাশবাহী নৌকায়ও ডাকাতি
৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে ১৫ দিনের এক শিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় ডাকাতির শিকার হন মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের আবদুল হক।
তিনি জানান, তার ভাতিজা বাবু মিয়ার ১৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু জন্মের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই বিকেলে শিশুটি মারা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
আবদুল হকের ভাষ্য, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি ছোট নৌকায় করে ছয় সদস্যের মুখোশধারী ডাকাতদল তাদের গতিরোধ করে। নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে এ কথা জানিয়ে অনেক অনুরোধ করা হলেও ডাকাতরা কোনো কর্ণপাত করেনি। মারধরের ভয় দেখিয়ে তারা তিনটি মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একই নৌকায় থাকা দুলেনা বেগম বলেন, ‘বড় বড় নৌকা, লঞ্চ কিংবা গাড়িতে ডাকাতির কথা শুনেছি। কিন্তু লাশবাহী নৌকাতেও যে ডাকাতি হতে পারে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এবার নিজের চোখেই দেখলাম।’
নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, নোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় পৌঁছানোর পর ডাকাতরা নৌকায় উঠে সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং প্রায় চার হাজার টাকা লুট করে নেয়। তার ভাষায়, ‘ডাকাতরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই মারতে উদ্যত হচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে বলেছি, যা আছে সব নিয়ে যান, কিন্তু কাউকে মারবেন না।’
মিঠামইনে গরু ব্যবসায়ীদের নৌকায় ডাকাতি, লুট সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
লাশবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনার মাত্র একদিন পর ৮ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের হাওরে ডাকাতির শিকার হন তিন গরু ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দীন জানান, নিকলী সাজনপুর বাজারে চারটি গরু বিক্রি করে অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল নৌকার গতিরোধ করে।
তিনি বলেন, ডাকাতরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রাণের ভয়ে তিনি ও সঙ্গে থাকা অন্য দুই ব্যবসায়ী প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ডাকাতদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।
নাজিম উদ্দীনের অভিযোগ, বিভিন্ন গ্রামের কিছু লোক আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের চলাচল ও টাকার তথ্য সংগ্রহ করে ডাকাতদের কাছে পৌঁছে দেয়।
ইটনায় একই সন্ধ্যায় আরও এক ডাকাতি
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতুসংলগ্ন বগাডুবি খালে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি ও তার এক সহযোগী সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনতে তাড়াইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে সাত সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল নৌকার গতিরোধ করে।
তিনি বলেন, ডাকাতরা হাঁড়ি-পাতিল, ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
নদীতে পাহারার দায়িত্বে থাকা ফুল মিয়া বলেন, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের নিরাপদে বর্শিকুড়া বাজারে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুমেল মিয়া জানান, খবর পেয়ে কয়েকটি নৌকা নিয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করা হলেও তারা এলংজুরী ইউনিয়নের দিকে পালিয়ে যায়।
পর্যটকবাহী ট্রলারেও হামলা
এর আগে ৭ জুন রাতে মিঠামইন-করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রাজিব আহমেদ জানান, প্রায় ৪০ জন পর্যটক হাওর ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতদল ট্রলারে উঠে সবাইকে জিম্মি করে।
তিনি বলেন, ডাকাতরা নারী যাত্রীদেরও মারধর ও হেনস্তা করে। পরে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তার দাবি, প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
মসজিদের মাইকে ডাকাতের ঘোষণা, এবার মুয়াজ্জিনকে হুমকি
ইটনা উপজেলার ছিলনী গ্রামে মসজিদের মাইকে ডাকাতের উপস্থিতির ঘোষণা দেওয়ায় স্থানীয় মুয়াজ্জিন আবদুল মতিনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ছিলনী জামে মসজিদে দায়িত্ব পালন করা আবদুল মতিন গ্রামবাসীর অনুরোধে ডাকাতের উপস্থিতির ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে পরে স্থানীয় জেলে ফরিদ উদ্দিনের মাধ্যমে ডাকাতরা হুমকি দিয়ে যায়। তারা বলে, ‘এই মসজিদের মুয়াজ্জিনকে যেখানে পাব, তার খবর আছে।’
আবদুল মতিন বলেন, ‘আমি এই গ্রামেরই মানুষ। মানুষের প্রয়োজনে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিই। এখন যদি সেই দায়িত্ব পালন করায় ডাকাতদের হুমকি শুনতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত ৭২ দিনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে এবং সাধারণ অভিযানসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ মে থেকে ১২ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ৭২ দিনের অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩টি গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৩টি ককটেল, ২ কেজি গান পাউডার, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার চকলেট বাজি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল ৭৬টি, শুটার গান ৩০টি, এলজি ৩৩টি, রিভলবার ১৮টি, বন্দুক ৫০টি, পাইপগান ১৫টি, শটগান ৪টি, রাইফেল ২টি, এসএমজি ২টি, এয়ারগান ১২টি ও পেনগান ১টি। এ ছাড়া পুলিশ ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬টি ইয়াবা বড়ি, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশি মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজা এবং মাদক ও মাদকজাতীয় অন্যান্য দ্রব্য উদ্ধার করেছে। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে চাঁদা দাবির পর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নগরীর চকবাজার থানার কাছাকাছি স্থানেই ওই প্রতিষ্ঠানে ১০ মিনিট ধরে চালানো হয় এ তাণ্ডব। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন এক্সেস রোডে ডিডিএনের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। মুখে মাস্ক পরা এসব সন্ত্রাসী অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
একপর্যায়ে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য অফিসে রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এই হামলার পেছনে দুর্ধর্ষ ক্যাডার বড় সাজ্জাদের অনুসারী ডেভিড ইমনের সহযোগীদের জড়িত থাকার ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, সম্প্রতি ইমন মোবাইল ফোনে ওই ব্যবসায়ীর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা চান, না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। তাদের কথাবার্তার অডিও রেকর্ড থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, ‘হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী আমাদের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অফিসের সব কম্পিউটার ভেঙে ফেলা হয়েছে।’
হামলার ঘটনার পর সামনে এসেছে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে মোবাইল ফোনে হুমকির কল রেকর্ড। সেখানে ডেভিড ইমন নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমন নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সন্ত্রাসী। তার নামে অন্তত সাতটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনায় কাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—সে প্রসঙ্গে কিছুই জানায়নি।
এদিকে হামলার আগে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মানুনের মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড আজকে প্রকাশিত হয়েছে। ওই কল রেকর্ডে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আপনাকে দুই দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবেন। এখন আমাদের ছেলেরা ব্যবসা করবে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে, না হলে ব্যবসা করবেন না। ১৭ বছর অনেক ব্যবসা করেছেন।’
কল রেকর্ডে ইমন আরও বলেন, ‘ইমনকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন। সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমন কল দিয়েছে।’
এর জবাবে আদিল বিন মানুন বলেন, ‘আপনারা কেন আমার ওপর এত ক্ষিপ্ত? এখানে তো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে।’ তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম শহরের সবাই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে কমিটমেন্ট করে করবেন।’
ডিডিএনের একটি সূত্রের দাবি, এককালীন দুই কোটি টাকা ও পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এতে সায় না দেওয়ায় হামলা করেছে সাজ্জাদ বাহিনী।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মোবাইল ফোনে হুমকির প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিবেচনায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছি।’
এ ঘটনার পর থেকে নগরের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন ও একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাদের একজন ডেভিড ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ।
সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। বর্তমানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স ও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। তবে এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) মন্ত্রীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি চিকিৎসকের পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। নার্সদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। সারাদেশে অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি নার্স পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন, আর শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টিতে।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৬ হাজার ২৮৩ জন। ফলে মাঠ পর্যায়েই শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী বা এফডব্লিউএ পদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫০০টি হলেও কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ২০৭ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮ হাজার ২৯৩টি পদ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা এফডব্লিউভি পদের ৬ হাজার ৩৬১টির মধ্যে ৩ হাজার ১৬১টি পদই ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিএইচসিপি পদের ১৪ হাজার ৪৬০টির মধ্যে বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে ৫৪০টি পদ। স্বাস্থ্য সহকারী বা এইচএ পদের ২০ হাজার ৯০৯টির মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৫৩টি।
সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসকদের সংকট কাটাতে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। দশম গ্রেডের মিডওয়াইফ পদ পূরণের লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। বর্তমানে নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে, যা শেষ হওয়া মাত্রই তাদের পদায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সবশেষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অতিদ্রুত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শূন্য পদগুলোতে জনবল পদায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্রের আবেদনের শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা-১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কাশেমপুর গ্রামের ইমদাদুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয় (জিআর নং-৪০৩/২৪)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সদস্য ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাটি হত্যা হিসেবে আমলে না নিয়ে ইউডি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিশেষ ক্ষমতা আইন, নাশকতা ও একাধিক হত্যা মামলাসহ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য আল মাহামুদ পলাশ বলেন, ‘সর্বশেষ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এর আগে একাধিক মামলায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।’
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।’
‘নজরুল বর্ষ’ ২০২৬-২৭ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজার সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে।
সোমবারের (১৩ জুলাই) এই সভায় কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্মের মাসিক থিমভিত্তিক খসড়া ক্যালেন্ডার কার্যক্রমের ওপর পর্যালোচনা করা হয়।
প্রস্তুতিমূলক সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুয়া পুলিশের রূপ ধারণ করে মহাসড়কে দস্যুতার অভিযোগে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার বড় রেললাইন হিন্দু পাড়ার মানিক চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র (৩৩) এবং গাজিপুর জেলার কোনাবাড়ি থানার আমবাগ জয়ের টেক এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে শুভ (২৮)।
সোমবার (১৩জুলাই) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে গত শনিবার (১১জুলাই) দিনগত রাতে গাজিপুর থকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালনা করে।
জানা যায়, চলতি বছর গত ২৯এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪ টার সময় মহাদেপুর উপজেলার নওহাটা থেকে মহাদেপুর গামি ফাকা রাস্তায় একদল দস্যু প্রাইভেট কার নিয়ে পুলিশের রিফ্লেটিং ভেষ্ট পরে এবং লেজার লাইট ব্যবহার করে সিগন্যাল দিয়ে একটা অটোরিকশা থামায়। এরপর চালক ও এক যাত্রীকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে চোখ -মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। অপর ডাকাত অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায়। পরে ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে অটো চালক ও যাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর মহাদেপুর থানায় একটা মামলা রুজু হলে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার শিমুল বাড়ি এলাকার আজাদুলের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে প্রায় দেড় মাস আগে গাইবান্দা জেলায় অভিযান চালিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আব্দুর রহমান ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে এই ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসে ঘটনার পর প্রথমে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল। কিন্তু আসামিরা বারবার পালিয়ে যেত। এবং তারই লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনেক দিন চেষ্টার পর অবশেষে গত ১১জুলাই রাতে গাজিপুর থকে দুই ডাকাত খোকন ও শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিচয় মহাদেবপুরে মহাসড়কে দস্যুতার ঘটনা স্বীকার করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আসামি খোখন চন্দ্র বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে বলেও জানার এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আপাতত জেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।’
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটোরিকশা চালকরা যাত্রী পেলেও পানির কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন।
পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে।’
প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ফলে আমাদের জীবনযাপন স্থবির হওয়ার পথে।’
বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলের কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত টাঙ্গাইলে বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার তীরে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
টানা বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই মানবসৃষ্ট। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। খাল উদ্ধার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত টাঙ্গাইলবাসীর এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩৩ কেজি গাঁজাসহ দুইজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, সদর কোম্পানি।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর পৌরসভার দশানী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১১ কেজি গাঁজাসহ মিঠু মণ্ডল (২১), পিতা বিভাস মণ্ডল, গ্রামের বাড়ি খরখরিয়া, থানা মংলা এবং ইয়াসিন ফকির (২৫), পিতা বেদার ফকির, গ্রামের বাড়ি ফুলহাতা, থানা মোড়েলগঞ্জ, জেলা বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় মিঠু মণ্ডলের বসতবাড়িতে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি করে আরও ২২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, দুই অভিযানে মোট ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার আলামতসহ গ্রেপ্তার দুইজনকে বাগেরহাট সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গ্রামীণ সড়ক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন (জিআইএস-ভিত্তিক) প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক এক কর্মশালা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভাঙ্গুড়ার আয়োজনে এ কর্মশালা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম। কর্মশালায় জিআইএস অ্যানালিস্ট মো. মারুফ খান আকাশ , উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মহির উদ্দিন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক হালিম মাজাহার নূর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমেকর্মীরা ছিলেন।
এ সময় গ্রামীণ সড়কের বর্তমান অবস্থা, কোর রোড নেটওয়ার্ক নির্ধারণ, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ও উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাংবাদিক মেহেদী হাসান বলেন চাটমোহরের সমাজ হইতে ভাঙ্গুড়ার মধ্যে দিয়ে উল্লাপাড়ার উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এই রাস্তা করা খুব জরুরি। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি পরিচালনায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেটশ বেটস কনসালটিং সার্ভিসেস লিমিটেড সহযোগিতা করে।
পাবনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে দুইশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সুমন (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে জেলার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুমন পুষ্পপাড়া এলাকার মো. মোফাজ্জল হকের ছেলে।
ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল পুষ্পপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সুমনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে একটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে আতাইকুলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। পাবনা জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
টানা ভারী বৃষ্টিতে যানবাহন সংকটের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার। সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল তার।
আফসানা মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল মুন্সীগঞ্জ শহরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর এলাকার আবু তালেবের কন্যা, ওই এলাকাতেই তারা বসবাস করেন। বাসা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
আফসানা অভিযোগ করে জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই তিনি বাসা থেকে বের হন। কিন্তু সকাল থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। অনেকটা পথ ভিজে হেঁটে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত গেলেও কোনো যানবাহন পাননি।
তিনি বলেন, মুক্তারপুর সেতুর টোল প্লাজার সামনে অটো ও মিশুক থাকলেও চালকদের অনেক অনুরোধ করেছি। আমি পর্দা করি, আমি পরীক্ষার্থী বলেও জানিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাকে নিতে রাজি হননি। পরে হেঁটে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করি। কিছুদূর যাওয়ার পর সময়ের কথা ভেবে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হই।
তার ভাষ্য, বৃষ্টিতে তার প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ডও ভিজে যায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। পরে সকাল ১১টা ২২ মিনিটের দিকে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন আফসানা। সেখানে তিনি লেখেন, গত কয়েকটি পরীক্ষায় প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। আইসিটি পরীক্ষা দিয়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও পদার্থবিজ্ঞানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবারের ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং যানবাহনের সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আজ সকাল থেকে এত বৃষ্টি ছিল যে, এক ঘণ্টার পথ যেতে দেড় ঘণ্টা আগে বের হয়েছিলাম। পথে হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি। রাস্তায় মানুষ তো দূরের কথা, একটি কুকুরও ছিল না। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে হেঁটে সেতু পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসি। মনে হচ্ছে, একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। আমার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
আফসানার প্রবেশপত্রে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার নিবন্ধন নম্বর ২১১০৭৯১৮০৭, রোল নং- ১৭৮৯৪২। তিনি ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।