‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ প্রকল্প। পার্বত্য এলাকার অধিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে ২০১৮ সালে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। মেয়াদ শেষ হলে পাহাড়িদের জীবনমানে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসা এই প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। প্রকল্পটি অব্যাহত রাখা না হলে পার্বত্য অঞ্চলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ তৃণমূল পর্যায়ের মৌলিক সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলেও আশঙ্কা স্থানীয়দের। সে কারণেই এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করছেন তারা। প্রকল্প ব্যবস্থাপক বলছেন, স্থায়ী আকারেই প্রকল্পটি চান তারাও।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের ৩৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সঙ্গে ইউনিসেফ থেকে পাওয়া ১২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় টেকসই সামাজিক সেবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ৪ হাজার ৮০০ পাড়াকেন্দ্রে নিয়োজিত আছেন ৪ হাজার ৮০০ পাড়াকর্মী এবং ২৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রকল্পটির মেয়াদ না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠী হয়ে পড়বেন কর্মহীন। তার চেয়েও বড় কথা, এই মানুষগুলো প্রায় চার দশক ধরে নিবেদিত হয়ে এই কাজ করে যাচ্ছেন, যারা প্রকল্পটি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে পড়বেন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শতকের আশির দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকার ও দাতা সংস্থা ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলের মা ও শিশুদের কল্যাণে সেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় বাড়ানো এবং শিক্ষার হার সম্প্রসারণ ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। পরে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ‘সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়’ নাম দিয়ে ২৫ থেকে ৫০টি পরিবারের জন্য একটি পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সামাজিক সেবাদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়, যা ২০১১ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে।
জানা যায়, ওই প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায় তিন হাজার পাঁচশটি পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিটি পাড়াকেন্দ্রে একজন পাড়াকর্মী নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মা ও শিশুদের টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, বিশুদ্ধ পানি পান, গর্ভ ও প্রসবকালীন সেবা ও পরামর্শ প্রদান, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃব্যবস্থাপনা, জন্মনিবন্ধন, কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়ানো, কিশোর-কিশোরী উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হয়। প্রকল্পটি অবশ্য ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদে তৃতীয় পর্যায় নামে অব্যাহত থাকে আরও পাঁচ বছর। এই সময়ে পার্বত্য তিন জেলার ১১৮টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬১৬টি গ্রামে ১ লাখ ৬০ হাজার পরিবারকে মৌলিক সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। পাড়াকেন্দ্রগুলো সব ধরনের মৌলিক সেবা বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নির্মিত চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর টেকসই সামাজিক সেবা আকারে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির কার্যক্রম বাড়ানো হয়।
পাড়াকর্মীসহ স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাক-শৈশব উন্নয়ন, গর্ভ থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের এক হাজার সোনালি দিন বাস্তবায়ন, নারী ও শিশুমৃত্যুর হার রোধ, তিন থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-শৈশব যত্ন, গর্ভবতী, প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ, প্রত্যক্ষ পুষ্টি কার্যক্রম, যথোপযুক্ত জীবন নির্বাহী কৌশল, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে তৃণমূলে ধারণা দেয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করার মতো নানা বিষয়ে কাজ করছেন পাড়াকর্মীরা। প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়লে এসব কর্যক্রম থমকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের তন্ন্যছড়ি মডেল পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী পহেলী চাকমা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শুনেছি ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাড়াকেন্দ্রে পড়ুয়া শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন থেকেই ভাবছি। কারণ, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে তারা এখানে যে শিক্ষা পায়, তার ব্যবস্থা অন্য কোথাও নেই। এ ছাড়া উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে থাকি আমরা। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে এগুলো কে দেবে?’
সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের কুমড়াপাড়া পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী জিতা চাকমা বলেন, ‘বর্ণমালা পরিচিতি, সংখ্যা শেখানো, সহজ শব্দ গঠনের মতো বিষয়গুলো শিশুরা পাড়াকেন্দ্রেই শিখে থাকে। পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রমে যুক্ত করা হয় তাদের, যা তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা পাড়াকেন্দ্রে পড়ার সুযোগ পায় বলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে তারা সহজেই সব কিছু আয়ত্তে আনতে পারে। প্রকল্প থেমে গেলে পার্বত্য শিশুরাও এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।’
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে একটি স্বতন্ত্র শাখা সৃজন করে প্রকল্পের কার্যক্রমগুলো চালু রাখতে চান তারা। সে ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় সম্পদ ও জনবল রাজস্ব খাতে আনার কথা তাা ভাবছেন। এর আগ পর্যন্ত ৮৫ কোটি টাকার বার্ষিক থোক বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্প চালু রাখতে পরিকল্পনা কমিশন একটি সুপারিশ দিয়েছে। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনো মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগই নেয়নি।
টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দ্বিথীয় পর্যায়ে কাজ চালাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা করি প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়বে।’
প্রয়োজনের নিরিখেই প্রকল্পটির স্থায়িত্ব চান বলে মন্তব্য করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমাও। তিনি বলেন, ‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পটি পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পাহাড়ি শিশুদের মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে প্রকল্পটির। তাই আমরাও চাই প্রকল্পটি চালু থাকুক।’
উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ও আয়োজক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নতুন ভবনের নামফলক উন্মোচনের সময় সেখানে নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পান সংসদ সদস্য। এরপর তিনি নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাস্থলে আয়োজকদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় ব্যক্তিবিশেষের নাম ব্যবহারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তিনি সমর্থন করেন না। জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য উন্নয়নকাজের নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের চর্চা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি তিনি ‘নতুন বাংলাদেশে’ দেখতে চান না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের অর্থে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। তাই এসব স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তিবিশেষের নাম না রেখে দেশের নাম কিংবা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তথ্য রাখা যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজের ফলকে যেন তাঁর নাম ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি জানান, নামফলকে সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে। সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নামফলকটি পরিবর্তন করে পুনঃস্থাপন করা হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের কর্মসূচিও ছিল। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবারের ঘটনার ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে নামফলকে নিজের নাম দেখে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি জানানোর এবং পরে ভবন উদ্বোধন না করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেবিদ্বারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ জনপ্রতিনিধিদের আচরণ, জনস্বার্থ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। শনিবারই দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়; তবে যে পেশাতেই থাকুক, সবার আগে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি এবং মাদক থেকে দূরে থাকা উচিত।
রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
নামফলক পরিবর্তনের পর ভবনটির উদ্বোধন কবে এবং কার মাধ্যমে করা হবে, সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো কর্মসূচি জানানো হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে তিনি এ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।’
নির্বাচনি প্রস্তুতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ও বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন- সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিন। তবে তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌপুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যারবাজার এলাকায় আল-মোস্তফা কোম্পানির সামনে মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রামের বাসিন্দারা সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে রওনা হন। ট্রলারটিতে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। বৈদ্যারবাজারের কাছাকাছি মেঘনা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে সেটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির পর স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই ঘটনায় রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন নিখোঁজ ছিলেন।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর গতকাল শনিবার সকালে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের হাতে এসব পদক তুলে দেন। ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অন্য উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৪টি ক্যাটাগরিতে এসব পদক দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ পেয়েছেন ১২ জন এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পেয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন ১৮ জন এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন ৪৪ জন পুলিশ সদস্য।
গেজেটে প্রকাশিত তালিকায় পদকপ্রাপ্তদের নাম, পরিচিতি নম্বর, পদবি এবং বর্তমান কর্মস্থলের উল্লেখ রয়েছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি ও নৌ-পুলিশ প্রধান মো. রেজাউল করিম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক এবং তৎকালীন র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)-এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পদক পেয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক প্রদান করা হয়েছে।
গতকালের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ১৯৭৬ সালে পুলিশ পদকের প্রবর্তন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা, বীরত্ব ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক দেওয়া হয়ে আসছে।
পুরো কক্সবাজার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখানে একটি সংস্থা আছে। কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সরকার যতবার চেষ্টা করে ততবার তারা অন্যায়ভাবে উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাহলে এই সুন্দর নগরীর ডেভোলপমেন্ট আমরা করবো কীভাবে?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এই প্রকল্পটি দেখতে এসেছি। একটি বৈঠকে আমরা প্রকল্পটির কথা জানিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখে আসতে বলেছেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে প্রকল্পটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় হয়তো সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার একটি প্রকল্প আমি গতকাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনো স্বয়ংক্রিয় নয়, ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমাদের যে পদ্ধতি, সেখানে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। বাকি কিছু কাজ বাইরে থেকে ম্যানুয়ালি করতে হতে পারে।’
কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চীনের উইমীম নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।
ডিএমপির চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী- সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৪৩২ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন খুলনায় এবং বাকি তিনজন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে প্রাণ গেল ১২৩ জনের, যা মাসের হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০৬ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হন ১৭৬ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮০ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০৪ জন, চট্টগ্রামে ২০৯ জন, খুলনায় ২৪১ জন, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ ও রংপুরে ৫৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪২৯ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
চলতি বছর ৭১ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ২৫৬ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে তার উদ্দেশে লাল কার্ড দেখিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস, পরীক্ষা বয়কট করার পাশাপাশি শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রাত থেকেই চুয়েটের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সকালে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এসব গ্রাফিতিতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এদিকে একই দাবিতে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এই শাটডাউন কর্মসূচির কারণে পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে চুয়েটের কার্যক্রম।
কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের ট্যাক্স কালেকশন খুব কম হয়। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কক্ষে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবিতে প্রথম এমন আয়োজন।
কিউআর ব্যবহারে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার খরচও কমবে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সিস্টেম দেশব্যাপী ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আমাদের ট্যাক্স জিডিপি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দখলের কবলে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতের বড় একটি অংশ হকার, ভ্রাম্যমাণ দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী ও অস্থায়ী স্থাপনার দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে অনেক জায়গায় তা পথচারীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর দোকানের মালামাল রাখা হয়েছে, কোথাও বসেছে অস্থায়ী দোকান। আবার কোথাও হকাররা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে অল্প জায়গার মধ্যে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পথচারীদের চাপ থাকে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রতিদিন এসব পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু ফুটপাত দখল থাকায় তাদের অনেক সময় ব্যস্ত সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের মধ্যে দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নগরবাসীর অনেকের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও তা নিয়মিতভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। একটি অংশ দখলমুক্ত করা হলে কিছুদিন পর আবার সেখানে দোকানপাট বা হকার বসে যাচ্ছে। এতে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অনেক সময় স্থায়ী ফল দিচ্ছে না।
সচেতন নাগরিকেরা মনে করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দখলদারিত্ব ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। শুধু অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত খালি করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেশি :
ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটার সুযোগ না থাকায় অনেককে যানবাহনের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরও স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর দাবি, পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ দখল সরিয়ে দিয়ে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে শুধু পথচারীদের ভোগান্তিই কমবে না, নগরীর যান চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক পথচারী সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটেন। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয় এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও বাড়ে।
তাই পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা গেলে মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন এবং সড়কের ওপর পথচারীদের চাপও কমবে। ফলে নগরীর যান চলাচল আরও শৃঙ্খলিত করার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
চলমান রয়েছে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম: সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন, নগরীর ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নগরের হকার দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যেখানে হকার বসবে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।’
সিটি করপোরেশন প্রশাসকের এ বক্তব্যের পর নগরবাসী আশা করছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী: নগরবাসীর প্রত্যাশা, ময়মনসিংহ নগরীর সব ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফুটপাতের ওপর দোকানের পণ্য রাখা, অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ কিংবা হকার বসানোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকা। তাই নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পথচারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির আওতায় আনতে হবে।
নগরবাসীর একটাই প্রত্যাশা—ফুটপাত হবে পথচারীদের জন্য, দখলদারদের জন্য নয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্কসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকার রাজশাহীর জুটমিলে দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি শনিবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৮টি স্পটে একযোগে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলার সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যনীতির মূল শক্তি হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা চাই, রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা হোক। এ জন্য ডেঙ্গুসহ সব মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুম মুনীরাসহ কাটাখালী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আলোকসজ্জা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। অতীতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো, এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ করে রাতের শেষভাগে বিচ্ছিন্ন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন বিশেষ তল্লাশির নির্দেশের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
‘দখল-দূষণমুক্ত, প্রবহমান ও জীবন্ত নদী চাই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং বাপা পঞ্চগড় জেলা শাখার সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস শাকিব মুনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুসা মিঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হরিশ চন্দ্র রায়, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু, সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শহীদসহ বাপার সদস্য ও স্থানীয় নেতারা।
দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার বাপার সভাপতি বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৫০-৫৩ টি নদী ছিল বর্তমানে ৩০ -৩২ নদী থাকলেও নদীতে তেমন পানি নাই।’
আয়োজকরা জানান, নদী দখল ও দূষণ রোধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আলোচনা সভায় স্থানীয় নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল-দূষণের কারণ, নদী রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎকরণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।