এক যুগ আগের সেই নিষ্ঠুর সময় আবার তাদের স্মৃতির দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ভয়ে তাই কুঁকড়ে উঠছে বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষগুলোর অন্তরাত্মা। জুমের সব ফসল ইঁদুর খেয়ে ফেলায় সে সময় তাদের ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছিল অভাব। কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল প্রতিটি পাড়ায়। সে আওয়াজ শহরবাসীর কাছে না পৌঁছালেও পাহাড়ের দেবতার কাছে নিশ্চয়ই পৌঁছেছিল। দেবতা সদয় হয়েছিলেন। ফলে বিগত বছরগুলোতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষগুলো খেয়ে-পরে বেশ ভালোই ছ
কিন্তু এ বছর আবার জুমের সব ফসল খেয়ে ফেলছে ইঁদুর। সন্ধ্যা হলেই বিশালাকৃতির অসংখ্য ইঁদুর ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসে গর্ত থেকে। ধারালো দাঁতের আক্রমণে নষ্ট করছে ধান, গম, যবের শিষ। খেয়ে ফেলছে ভুট্টা, তিল, ডাল। সবজি থেকে শুরু করে কোনো কিছুই ঠিকমতো তুলতে পারছে না জুমচাষিরা। ফলে এবারও দুর্ভিক্ষের ডামাডোল বাজছে তাদের বুকের ভেতর।
‘আমাদের বিঘা বিঘা জমি নাই। পাহাড়ের গায়ে গর্ত করে অনেক কষ্টে ফসল ফলাই। সেটা দিয়েই হিসাব করে চলতে হয় সারা বছর। সেই ফসল এবার সব চলে গেছে ইঁদুরের পেটে। কী খেয়ে বাঁচব আমরা?’ হাহাকারের মতো শোনাচ্ছিল আবু মং মারমার এ কথাগুলো।
রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুয়ালপি মারমাপাড়ার বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় জেলার রুমা, লামা, থানচিসহ বিভিন্ন উপজেলায় এমনিতেই জুম ফলন ভালো হয়নি। অন্যদিকে রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়ন ও রুমা সদর ইউনিয়নে জুম ক্ষেতের ফসল সাবাড় করেছে ধেড়ে ইঁদুরের দল। ফলে জুমিয়াদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সময়।
রুমা ও থানচি উপজেলা সীমান্তরেখার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাংদিয়াপাড়ার বাসিন্দা বীর বাহাদুর ও অরসেন ত্রিপুরা বলেন, ‘চলতি বছর বাঁশ ঝাড়ে ফুল ও ফল আসার কারণে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। বাঁশের ফুল ও ফল খেয়ে জুম ক্ষেত্রে বিচরণ করা একেকটি ইঁদুরের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ১ কেজি। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। ফলে জুমিয়ারা আর ঘরে তুলতে পারছে না কষ্টের ফসল। এদিকে প্রায় শূন্য হয়ে এসেছে তাদের সঞ্চিত শস্যের ভাঁড়।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এসব এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং জুম ধান ভালো না হওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়বে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবার। ইতোপূর্বে ২০১২ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলায় এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে বান্দরবানের থানচির দুর্গম রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মদক, বড় মদক ও সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্টে খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এসব এলাকায় ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের বাস।
জেলার রুমা উপজেলার মুয়ালপি ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাওন চৌধুরী বলেন, ‘এবার রুমার প্রাংসাপাড়া, সানাপ্রুপাড়া, ক্যাতুইপাড়া, বাচরাংপাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া, আর্তাপাড়া, মুনন্নমপাড়ার ১৮০ পরিবার ইঁদুর ও বন্যার ফলে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের তথ্য মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
ইঁদুর-বন্যায় ক্ষতির কথা স্বীকার করে রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ইঁদুর নিধনের জন্য কৃষকদের পরমর্শ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করছেন সুপারভাইজাররা।’
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ৮ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমিতে জুমচাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪,২৯৭ মেট্রিক টন।
এ ব্যাপারে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনাবৃষ্টি ও ইঁদুরের কারণে এবার জুমচাষিরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জুম চাষে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। সব তথ্য হাতে এলে পরিষদ থেকে কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হবে।’
মাদক চালানসহ জামাই-শ্বাশুড়ি গ্রেপ্তার হয়েছে। মাদকের মধ্যে রয়েছে এক কেজি গাজা ও ১০১ পিস ইয়াবা। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম(৩৮)ও মেয়ে জামাই একই উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে রাসেল শেখ (২১)।
ইউসুফ শেখের প্রতিবেশি ছালাম শেখ,রমজান আলী, হায়দার আলী বলেন, ওদের পরিবার ধরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।মেয়ে বিয়ে দিয়েছে যার সঙ্গে সেও একজন মাদক কারবারী। ইউসূফ শেখ ও তার পরিবার এর আগে মাদক মামলায় বেশ কয়েকবার জেল খাটা আসামি। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক নিয়ে প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়নে এমনকি গ্রামেও মিছিল মিটিং হয়েছে এবং এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু মাদক কেনাবেচাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল অফিসের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার পড়ন্ত বিকেলে পাচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। তাদের বসত ঘরে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাজা ও ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সীমা বেগম ও মেয়ে জামাই রাসেল শেখকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে তারা মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। এ জন্য পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-গঞ্জের মানুষদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান।
‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অষ্টগ্রামে শুরু হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অষ্টগ্রাম হেলিপ্যাড ময়দানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আবদুল লতিফের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, হক সাহেব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, সহসভাপতি অজিত দত্ত এবং সাধারণ সম্পাদক আলী রহমান প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
"ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অষ্টগ্রামে শুরু হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অষ্টগ্রাম হেলিপ্যাড ময়দানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।
উপেজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আবদুল লতিফের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, সহ-সভাপতি অজিত দত্ত এবং সাধারণ সম্পাদক আলী রহমান প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
সারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানিয়েছেন যে, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যারা এই চক্রান্তের সাথে জড়িত, তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চার-পাঁচ মাসের চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। সারের অবৈধ মজুত সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আপনার দেখেছেন চালের গুদামে সার, ঘরের ভেতরে সার, তুষের গুদামে সার; কিন্তু ওখানে থাকার কথা নয়। একটি গোত্র, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় পরিকল্পনা করে দেশে সারের সংকট দেখানোর চেষ্টা করেছে। একটি সরকারের কাছে অগ্রিম চার-পাঁচ মাসের সার মজুত থাকে, কিন্তু আমাদের সরকারের কাছে তার থেকেও বেশি সার মজুত রয়েছে।’ তিনি বিশ্বাস করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি তৎপরতার কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে আমদানিনির্ভর মসলা চাষে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবে। এছাড়া আদা, মরিচ ও টমেটোর উৎপাদন বাড়িয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমদানি বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, আগামী দিনে কৃষিপণ্যই হবে দেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্য। বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে এটি হয়, তবে সরকার কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসার জন্য কাজ করুন। মানুষের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের কাছে ফিরে যেতেই হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলি, আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মুখের কথা, অন্তরের কথা ও মাথার চিন্তা যেন এক হয়।’ জনসম্পৃক্ত রাজনীতিই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উক্ত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভার সঞ্চালনায় ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
ডিজিটাল বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি সেবায় অনলাইন ব্যবস্থা এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি। বাস্তবচিত্র উল্টো। অনলাইনে আবেদন করার পরও কাগজপত্র জমা, স্বাক্ষর, অর্থ পরিশোধ কিংবা সনদ সংগ্রহের জন্য নাগরিককে সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। ফলে ‘ই-সেবা’ চালু হলেও এর বড় একটি অংশে রয়ে গেছে পুরোনো পদ্ধতির সরাসরি যোগাযোগ ও কাগজপত্রের নির্ভরতা। ফলে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নাগরিকরা ই-সেবা নিতে গিয়ে উল্টো নানামুখী হয়রানি, ডেটা ফাঁসের আতঙ্ক এবং তীব্র ম্যানুয়াল নির্ভরতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক গবেষণায় সরকারি ডিজিটাল সেবার এমন চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স টু স্ট্রেন্থেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস বাই ফুলফিলিং দ্য নিডস অব ইউথ, জেন্ডার, অ্যান্ড মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। গবেষণাপত্রটিতে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্সের বর্তমান অবস্থা, নাগরিক ও সরকারি অফিসগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সুপারিশগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।ভৌগোলিক ম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
গবেষণায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার পর্যায়েই-গভর্নেন্সে ডিজিটাল ফরম্যাট আছে কিন্তু কাজ হয় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায়। প্রকৃত পক্ষে অনলাইনে সেবার আবেদন চালু করা হলেও ম্যানুয়াল কাগজপত্রের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি সাধারণ মানুষের। গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের মাত্র ৩১.৯ শতাংশ এবং যুবদের ১৭.৮ শতাংশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইনে সেবা সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ডিজিটাল আবেদনের পরও ৫৪.৩ শতাংশ নারী ও ৪৭.৭ শতাংশ যুবকে সশরীরে সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজের নথি জমা দিতে হয়।
গবেষণায় অবকাঠামোর চরম সংকট উঠে এসেছে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার অফিসগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮.৯, যার মধ্যে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির হার আরও করুণ, মাত্র ২৪.১।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোতে গড়ে সচল কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ০.১৫টি, যার ৪৪ শতাংশই নষ্ট। বিদ্যুৎ না থাকলে সেবা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬৭ শতাংশ এবং ইউনিয়ন কৃষি অফিসের ৯৭ শতাংশ কার্যালয়ে কোনো আইপিএস বা জেনারেটর ব্যাকআপ নেই। ই-গভর্নেন্স প্রস্তুতিতে ময়মনসিংহের স্কোর ৫৭.৩ হলেও রংপুরের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়, মাত্র ৮.৮।
গবেষণায় ডিজিটাল সেবার জন্য নিজস্ব তথ্য জমা দেওয়ার পর বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন নাগরিকরা, বিশেষ করে নারীরা। সেবায় তথ্য দিতে গিয়ে ৫৮ শতাংশ নারী অনিরাপদ বোধ করেন এবং ৭৩.২ শতাংশ নারী ডেটা লিক বা তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ই-সেবা নেওয়ার পর অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন ৬১.০ শতাংশ নারী। সেবা নিতে গিয়ে দেওয়া ফোন নম্বরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় কল এবং মেসেজ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি, অতিরিক্ত টাকা দাবি বা অনিয়ম হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করার ব্যবস্থা বা সঠিক মাধ্যম না থাকায় ৮৩.৩ শতাংশ নারী এবং ৭৮.৯ শতাংশ যুব কখনো কোনো অভিযোগই জমা দেননি।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সেবা পাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার যদি সুযোগ বাড়াতে পারে, তাহলে সেটাকে কার্যকর ডিজিটালাইজেশন কিংবা ই-গভর্নেন্স আমরা বলতে পারবো। কিন্তু মানুষকে সেবা পেতে বারবার সরকারি অফিসে-দপ্তরে যায়, বারবার যাতায়াত করে। এতে সময় নষ্ট হয়; অনেক সময় হয়রানি এবং দুর্নীতিও থাকে।
তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল সুশাসনে কারা কারা এর সুবিধাভোগী হতে পারে। একটি জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণরা এবং ডিজিটাল সুশাসনে তরুণদের চাহিদাকে কিন্তু বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের যে কর্মসংস্থান, সেই কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানো, দক্ষতা উন্নয়ন। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন এবং স্থানীয় পরিকল্পনায় তরুণদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন, কারণ তারা জনগোষ্ঠীর একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরো বলেন, নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এখানে প্রযুক্তির প্রবেশের সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্টফোন, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল দক্ষতায় নারীর সুবিধা ও সুযোগ সুবিধা এবং অনলাইন হয়রানি, তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং এটার তদারকিতেও নারী জনপ্রতিনিধি ও নারী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারপরে হচ্ছে, যারা সমাজের মার্জিনালাইজড জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত সংখ্যালঘু, নিম্ন আয়ের পরিবার, দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দা ও সীমিত শিক্ষার মানুষ তারাও যেন বাদ না পড়ে এই ই-গভর্ন্যান্সের সেবার মধ্যে তারা যেন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই সেবাটা বাংলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় ভাষাতেও দিতে হবে। তাছাড়া কণ্ঠনির্ভর সেবা, প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সহায়তাপ্রাপ্ত সেবারও সুযোগ থাকতে হবে। অনলাইন অনুবাদ টুল ব্যবহার করা ফাহমিদা বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় বাজেট, প্রকল্প ব্যয়, সুবিধাভোগীদের তালিকা, সরকারি ক্রয় এবং সেবা দেওয়ার সময়সীমা উন্মুক্ত করতে হবে, সবাই যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ, অভিযোগ ট্র্যাকিং, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র প্রযুক্তি দিলেই যে সুশাসন অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে সেরকম না। নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা, তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ই-গভর্ন্যান্সকে নাগরিক এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে একটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাস্পায়ার-টু ইনোভেট এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহেদ পাভেল, এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন ও আইসোশ্যাল-এর চেয়ারপারস ড. অনন্যা রায়হান প্রমুখ।
আগস্ট মাসজুড়ে দেশে একসঙ্গে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু আগস্ট মাসেই হাম ও হামের উপসর্গে অন্তত ১৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৪৩ জন। অর্থাৎ আগস্টে দুই রোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৭৬ জন।
মাসের শেষ দিনেও পরিস্থিতির উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ শিশু। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও চারজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৬৩ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আগস্টে হামে নতুন আক্রান্ত ৩২ হাজারের বেশি: গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৯। ওই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ জন।
আগস্টের শেষ দিনে এসে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫।
অর্থাৎ আগস্টে সন্দেহজনক হাম রোগী বেড়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৯০০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী বেড়েছে ৩ হাজার ২৫৩। আর হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৫৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব করলে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী ১৯ হাজার ৩১২। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন।
মৃত্যুর বড় বোঝা শিশুদের ওপর: হামের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে উঠেছে শিশুমৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৭৩।
আগস্টের শুরুতেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১, নিশ্চিত রোগী ১৬ হাজার ১৮০ এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। ওই দিন পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ছিল ৮৪০।
পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ৯১৮-এ পৌঁছায়। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬০। ওই ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হওয়ায় হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৭৪ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৯৯।
টিকাদানের ঘাটতিতে ঝুঁকি বেড়েছে: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, বর্তমান হাম পরিস্থিতির পেছনে শিশুদের টিকাদানে তৈরি হওয়া ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আগস্টে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০২৪ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া, নিয়মিত টিকাদানে দুর্বলতা এবং পরবর্তী সময়ে পরিচালিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ার কারণে ঝুঁকি জমতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হাম টিকা পায়নি। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতায় শিশুদের রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতি সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর মতে, হাম প্রতিরোধে শুধু টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; কার্যকরভাবে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা আরও দেখছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি অংশ অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। ফলে হাম তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আগস্টে ডেঙ্গুর চাপও বেড়েছে: হামের পাশাপাশি আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষে ডেঙ্গুতে চলতি বছরের মোট মৃত্যু ছিল ৫৪। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই মারা যায় ৩৬ জন। ওই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি রোগী।
আগস্টে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৭। একই সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬।
২২ আগস্টের মধ্যেই আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের পুরো মাসের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি হয়ে যায়। তখনও মাস শেষ হতে ১০ দিন বাকি ছিল। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫৮৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৯০ জনের।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের অংশ ছিল বেশি। ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, মাসটি ডেঙ্গুর মৌসুমি সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় হয়ে উঠতে পারে। বর্ষার বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি ডেঙ্গুর বিস্তারের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারী বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নির্ধারণে শুধু মশা নয়, মৌসুমি পরিস্থিতি, তাপমাত্রা এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি সতর্কতা হলো, শুধু নিয়মিত ফগিং করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে লার্ভা ধ্বংস এবং তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
দুই রোগে একই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হাম ও ডেঙ্গুর প্রকৃতি আলাদা হলেও একই সময়ে দুই রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে এবং আক্রান্তদের একটি বড় অংশের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।
হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গুতে প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মেডিসিন ও শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন হাসপাতালের ওপরও বাড়ছে রোগীর চাপ।
আগস্ট শেষ হলেও দুই রোগের ঝুঁকি শেষ হয়নি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী মাসগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
হামের ক্ষেত্রে টিকাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস ও তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
দুটি রোগের পরিস্থিতিই এখন একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে—হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি আগাম ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো কঠিন।
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।’
ঢাকা জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মাদককে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিস্তারের সঙ্গে অপরাধও বাড়ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’’ দর্শন ধারণ করে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদী দূষণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় নিজের হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন এক সৌদি প্রবাসী। গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় অসাবধানতাবশত ট্রলির উপর ল্যাপটপটি ফেলে রেখেই বাইরে চলে যান তিনি।
রিয়াদ থেকে এসভি-৭৯৮ ফ্লাইটে আসা ওই প্রবাসীর নাম মো. হযরত আলী। ক্যানোপি এলাকায় পরিত্যক্ত ল্যাপটপটি দেখতে পেয়ে নিরাপদে হেফাজতে নেন দায়িত্বরত এপিসি মো. গোলাম রব্বানী। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে অবহিত করেন।
পরে এভসেক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে মাইকিং করে প্রবাসীর সন্ধান করা হয়। একপর্যায়ে প্রকৃত মালিক প্রবাসী হযরত আলীকে খুঁজে পেলে ডিএসও অফিসে আনা হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ল্যাপটপটি তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ল্যাপটপটি ফেরত পেয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হযরত আলী। দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)। গত রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মালিকবিহীন একটি কাভার্ড ভ্যান এবং তার ভেতর থেকে ২,৬৮৪ পিস বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের ভারতীয় শাড়ি আটক করা হয়। জব্দ শাড়ি ও গাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান হৃদয়, ২৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. সেলিম রানা এবং ১০ জন বিজিবি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক জাকারিয়া কাদির জানান, ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাই পথে অবৈধ ভারতীয় পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
জব্দ শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের দোসররাই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা প্রথমে জ্বালানিসংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চেয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট চক্র সারা দিন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করত। সরকারের কঠোর পদক্ষেপে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও ফ্যাসিবাদের আমলের ডিলাররাই এই সংকট তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা হলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ও অকৃষি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে 'হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার' স্থাপন এবং ৪২ হাজার ৩৯০ জন নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মঈনুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অনুমোদনহীন ও বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক সংরক্ষণের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১৭ বস্তা সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চর মহিদাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কুদ্দুস ফকিরের ছেলে রুবেল ফকিরের মুদি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় রুবেল ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকানে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে রুবেল ফকিরের দোকানের পাশেই কুদ্দুস ফকিরের দোকানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় কুদ্দুস ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় তার দোকান থেকে ইউরিয়া ৪ বস্তা, ডিএপি ৯ বস্তা ও এমওপি ৪ বস্তাসহ মোট ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক এবং বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে কৃষকরা প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ আইনবিরোধী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।’
অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিরোধকল্পে করণীয় শীর্ষক সেমিনার সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়। তবে এই সামাজিক ব্যাধিগুলো কারও একার পক্ষে বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। সকলে মিলে এ ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।’
খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ।
সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম। এ বিষয়ের ওপর আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ ও নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক জানান, সরকার আনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ পাস করেছে। এই আইনে আনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া ও বেটিং পরিচালনায় সর্বোচ্চ পাঁচ থেতে সাত বছরের কারাদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কারিগরি বিষয় তুলে ধরেন।
সেনিমারে বিভাগের ১০ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্য সচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।