সেশনজটের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বেশির ভাগ বিভাগই। কোনো কোনো বিভাগে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যেত ক্লাস-পরীক্ষা। করোনা-পরবর্তী সময়ের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিন বছর দুই মাসেও দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগ। এর মধ্যে দুটি বিভাগ আছে যাদের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস চলছে। আরেকটি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হলেও শুরু হয়নি দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস। সাতটি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হলেও শুরু হয়নি তৃতীয় বর্ষের ক্লাস। আর তৃতীয় বর্ষই নেই ১০ বিভাগে।
মূলত, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সেশন জটের ভুক্তভোগী। সেশন জটের কারণেই ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, ফোকলোর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে নেই কোনো তৃতীয় বর্ষ। এসব বিভাগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ বর্ষের ক্লাস শুরু করলেও ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষেই আছেন। ফলে এসব বিভাগে তৃতীয় বর্ষ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকরা বলছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে মূলত দুটি কারণ দায়ী। প্রথমত, করোনা পরিস্থিতির কারণে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিল ক্লাস। কয়েকটি বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিতে পারলেও বেশির ভাগ বিভাগ তা পারেনি। দ্বিতীয়ত, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বেশির ভাগ বিভাগের সেমিস্টার সিস্টেম চালু হয়। আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘ইয়ার সিস্টেমে’ অভ্যস্ত ছিলেন। হুট করে সেমিস্টার সিস্টেম চালু এবং একই বছরে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। এরপর ৩ বছর দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও ২৮টি বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করতে পারেনি। এই বিভাগগুলোর মধ্যে ৬টি বাদে বাকি ২২টি বিভাগ চলছে সেমিস্টার সিস্টেমে। এতে পিছিয়ে পড়া বিভাগগুলো হচ্ছে ইংরেজি, নাট্যকলা, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, ফোকলোর, আগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশারিজ, সংগীত, উর্দু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।
অন্যদিকে ইয়ার সিস্টেমে পিছিয়ে পড়া বিভাগগুলো হচ্ছে আইন ও ভূমি প্রশাসন, পদার্থবিজ্ঞান, মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এর মধ্যে সব থেকে বেশি পিছিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উর্দু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসই শেষ হয়নি। এ নিয়ে কয়েক দফা আন্দোলন, প্রশাসন ভবনে তালা ও অনশনে বসেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ২০১৯-২০ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিন্তু তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়নি- এমন বিভাগ রয়েছে সাতটি। বিভাগগুলো হচ্ছে আইন, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা।
তবে সেমিস্টার সিস্টেমে ৯টি বিভাগ তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করেছে। বিভাগগুলো হচ্ছে ইতিহাস, বাংলা, ইসলামিক স্টাডিজ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃত, মার্কেটিং, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মধ্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সব থেকে বেশি এগিয়ে আছে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ১০ এপ্রিল তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হবে। এ ছাড়া এই সেশনে ইয়ার সিস্টেমে বাকি ১৩টি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ক্লাস চলছে।
সেশন জটের ভুক্তভোগী অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আসাদুল আমীন বলেন, ‘কিছু বিভাগ আছে যার সেমিস্টার সিস্টেম হয়েও তৃতীয় বর্ষের ক্লাস করছে। কিন্তু আমরা পিছিয়ে আছি।’
পরিসংখ্যান বিভাগে শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে বের হতে পারলেও আমরা তা পারব না। ২৬ বা ২৭ বছর বয়স যদি পড়ালেখা শেষ করতেই লেগে যায়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব।’
জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এত বছর ধরে ইয়ার সিস্টেম চলে আসছে। পড়ানো, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও রেজাল্ট আগে বছরে একবার করতে হতো। এখন বছরে দুইবার ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা করতে হয়। প্রথমবার হওয়ায় কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিতে পারেনি। নেট সমস্যাসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। এ বছর থেকে সব সেমিস্টারে একসঙ্গে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সেমিস্টার সিস্টেমের সঙ্গে আমাদের তাল মেলাতে সমস্যা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে উপ-উপাচার্য সুলতান-উল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ফলাফলসহ অন্যান্য তথ্য কন্ট্রোল সেকশন থেকে নিয়ে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। এরই মধ্যে দুবার বিভাগগুলোর সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি, যেন সেশনজট কমিয়ে সঠিক সময়ে পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা যায়।
সেমিস্টার সিস্টেম পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের একটি সিস্টেম থেকে আরেকটি সিস্টেমে গেলে একটু বিপর্যয় হয়। ছোট-খাটো সমস্যার কথা বিভাগগুলো বলেছে। পৃথিবীর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সেমিস্টার সিস্টেমে চলছে, তাই আমরাও পারব।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক লিখিত পত্রে ড. শেখ শরিফুল আলম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চ্যান্সেলরের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৪ সালেল জুন পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে ২টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সারসহ ২ পাচারকারীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারি কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে কার্গো বোটে স্থানান্তরকালে প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা (৩০ হাজার কেজি) ইউরিয়া সার ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাকসহ ২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, জব্দকৃত সার, পাচার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন মানবসম্পদ সুস্মিতা সাহা) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইমতিয়াজ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, অভিনয়, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরার শালিখা উপজেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
Biodiversity for Resilient Livelihoods (BRL) in the Modified Ganges Delta of Bangladesh প্রকল্পের আওতায় এবং সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা, বাংলাদেশের অর্থায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাস্তবায়নে ছিল সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)। কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা ছিল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর শালিখা, মাগুরা।
কর্মসূচির আওতায় কানুদার খাল অভয়াশ্রম, ফটকি নদীর চুকিনগর এবং ভাটোয়াইল গ্রামের নিকটবর্তী মৎস্য অভয়াশ্রমে ১০ থেকে ১১ ইঞ্চি আকারের মোট ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক উৎসে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সমাজিক অবস্থার প্রভূত উন্নয়ন করা করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসার সাধন চন্দ্র সরকার, সিএনআরএস ফিল্ড ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন, শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান চৌধুরী, উপজেলা মৎস্য অফিসার ওমর সানি এবং সাইট অফিসার শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া মঘি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুদ্দিন মন্ডল, আড়পড়া চুকিনগরের সদস্য প্রদীপ মণ্ডল, রাজীব মন্ডল, আরাফাত বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। জেলার ১৮ থানায় পুলিশের রাতভর বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে ৬২৪ জনকে। তাদের মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর দাউদকান্দিতে আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে নিতে একদল কিশোর-তরুণ থানায় ঢুকে ১৭ জনকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় থানায় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বখাটেদের আড্ডাস্থল, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সন্দেহজনক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের পূর্বের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
দাউদকান্দিতে থানায় ঢুকে ১৭ জনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের মধ্যেই দাউদকান্দি মডেল থানায় ঘটে আরেক ঘটনা। বুধবার সন্ধ্যায় থানার উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে অর্ধশত কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়।
পরে একদল কিশোর-তরুণ থানায় ঢুকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় থানার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বহিরাগতদের আচরণ ছিল ভয়াবহ। তারা স্লোগান দিতে দিতে থানায় ঢুকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যায়।
তবে থানায় হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম। এর মধ্যেই থানার ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নয় মাসে ১০৪ হত্যাকাণ্ডঃ
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি কুমিল্লায় সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের নয় মাসে জেলায় ১০৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ১১টির বেশি হত্যাকাণ্ড।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। পুলিশ ও বিভিন্ন মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
একদিনে অপরাধী হয়নি তারা :
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণরা একদিনে অপরাধী হয়ে ওঠেনি। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তুহিন, ফাহাদসহ তিনজনও একদিনে অপরাধে জড়ায়নি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণ তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবারের অসচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতাও অপরাধ সংঘটনের একটি কারণ। অপরাধ সংঘটনের পর তৎপরতার চেয়ে অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আগে থেকেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বদরুল হুদা জেনু আরও বলেন, গত দুই বছরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া জীবনের যে প্রতিফলন দেখা গেছে, তা উদ্বেগজনক। এখনও সময় ফুরিয়ে যায়নি। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধের সংকট দূর করতেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আটক করেও ঠেকানো যাচ্ছে না অপরাধ :
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গত কয়েক মাসে কিশোর গ্যাংয়ের বিপুলসংখ্যক সদস্যকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকেই কারাগার থেকে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেককে মা-বাবা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে তালিকা তৈরি করে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনীতিবিদদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দুই হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দিয়ে কিশোর গ্যাংসহ কোনো অপরাধ সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ, রাজনীতিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
টেকসই রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব কাঠের সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'চায়না ন্যাশনাল হেভি মেশিনারি কর্পোরেশন' (সিএইচএমসি)-এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ড. নুরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
বিএফআইডিসি-এর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সিএইচএমসি-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. চেং টিংইউ (Mr. Cheng Tingyu)। এতে উপস্থিত ছিলেন মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব, বিএফআইডিসি মিজু জাহান আরা, পরিচালক (উৎপাদন ও বাণিজ্য) ও যুগ্মসচিব মোঃ হাফিজুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও যুগ্মসচিব সালেহীন তানভীর গাজী, মহাব্যবস্থাপক (রাবার) ও উপসচিব বিবেক সরকার, মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও উপসচিব মিজু নাহিদা বারিক, সচিব ও উপসচিব মিজ মাহমুদা জেসমিন, ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ কে এম হুমায়ূন কবির, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মিজ ফৌজিয়া জাফরীন, ব্যবস্থাপক (হিসাব) এছাড়া চায়না ন্যাশনাল হেভি মেশিনারি কর্পোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাবার কাঠ অত্যন্ত শক্ত, টেকসই ও উন্নতমানের। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে দেশে রাবার কাঠের বহুমুখী ব্যবহার ও মানসম্পন্ন আসবাবপত্র উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
হাসপাতালের বেডই যেন তার ঘরবাড়ি। স্বজন বলতে কেউ নেই, নেই স্ত্রী-সন্তান, নেই বাবা-মাও। অসুস্থ শরীর নিয়ে বছরের পর বছর নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পড়ে আছেন প্রায় ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ। কখনো রোগীদের দেওয়া খাবার, কখনো নার্সদের মমতাই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। আপনজনহীন এই বৃদ্ধের জীবনের গল্প যেন হাসপাতালের দেয়ালে আটকে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি বেড। সেখানেই শুয়ে আছেন বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ। বয়সে ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। ঠিকমতো দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতেও পারেন না। তবে হাসপাতালের এই বেডটি তার কাছে শুধু চিকিৎসার জায়গা নয় এটাই এখন তার ঘরবাড়ি।
জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাসপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মেসের আলী সরদারের ছেলে আব্দুল মজিদ। জীবনের শুরুটাই ছিল স্বজন হারানোর বেদনায়। মাত্র তিন বছর বয়সে হারান বাবাকে। তার কয়েক বছর পরে হারিয়েছেন মাকেও। বয়স যখন প্রায় ২৫, তখন বিয়ে করেন নুরজাহান বেগমকে। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে মাত্র দেড় বছর পরই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর আর সংসার করা হয়নি। সন্তানও নেই তার। জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মজিদ।
সিংড়া দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরিও করেন। কিন্তু তিন বছর মেয়াদ শেষে সেই চাকরিও আর থাকেনি। এরপর জীবনের সঙ্গে শুরু হয় তার এক দীর্ঘ লড়াই। স্বজন হারিয়েছেন, হারিয়েছেন সংসার। এমনকি নিজের বসতভিটাটুকুও আর নেই তার।
আব্দুল মজিদ জানান, আমার যতটুকু বসতভিটা ছিল, মামারা সেটাও লিখে নিয়েছে। এখন আর কেউ আমার খোঁজ নেয় না। হাসপাতালই এখন আমার ঠিকানা। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারের সেবায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন তারা আমাকে যথেষ্ট সেবা প্রদান করে।
নিজের বলতে কেউ না থাকায় অসুস্থ হলেই ছুটে আসেন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। একবার, দু’বার নয় বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালেই কাটছে তার দিন-রাত। এখানেই বেঁধেছে তার নিজের ছোট্ট সংসার, রয়েছে তার ব্যাক্তিগত ফ্যান, কাথা,কম্বল, বালিশ গ্যাস দেওয়ার জন্য রয়েছে নেবুলাইজার মেশিন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাই এখন তার পরিচিত মানুষ। কেউ কথা বলেন, কেউ খোঁজ নেন, আবার কেউ নিজের খাবার থেকেও ভাগ দেন এই নিঃস্ব বৃদ্ধকে। রোগীরাই নন হাসপাতালের নার্সদের কাছেও মজিদ যেন পরিবারের একজন।
বছরের পর বছর একই হাসপাতালে থাকায় নার্স ও ডাক্তারদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার এক অন্যরকম সম্পর্ক। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসেরও খোঁজ রাখেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার সখিনা খাতুন ও নার্স শরফুন্নেসা জানান, উনি অনেকদিন থেকে হাসপাতালে থাকেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে উনার খোঁজখবর ও চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। উনি অনেক বৃদ্ধ মানুষ, হাঁটতেও পারেন না। রাউন্ডে গেলে বলেন ছোট মাছ বা অন্য কোনো তরকারি হলে তৃপ্তি করে ভাত খেতে পারতেন। তাই মাঝে মাঝে আমরা বাড়ি থেকে উনার জন্য খাবার নিয়ে আসি। এতে আমাদেরও তৃপ্তি হয়। এভাবেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স আর ভর্তি রোগীদের মমতায় কোনোরকমে কেটে যাচ্ছে মজিদের জীবন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, তিনি বছরের প্রায় ১১ মাস অসুস্থ থাকেন। উনাকে দেখার মতো কেউ নেই। ফলে উনি সারাবছরই হাসপাতালে থাকেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখি। এ বিষয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষও অবগত রয়েছে। সার্বক্ষণিক আমরা তার খোঁজ খবর রাখি।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক কর্মকর্তা ডা: জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা তার সার্বক্ষনিক খবর রাখি। তার পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল টেষ্ট আমরা বিনামূল্যে করে দেই। তার বয়স হয়েছে, সুস্থ হওয়ার আশা নেই। আগে প্রতি মাসে ভর্তি হতো। গত দেড় বছর যাবত সে স্থায়ী ভাবে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার তো থাকার মত অন্য কোনো জায়গা নাই। তাই আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আব্দুল মজিদ চাইলে সরকারি সহায়তায় তার জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তার বিষয়টি আমরা মানবিকভাবে দেখছি। তিনি যদি সরকারি সহায়তা নিতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে তার জন্য সরকারি ব্যবস্থায় বসবাসের সুযোগ বা উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আব্দুল মজিদের চাওয়া খুব বেশি নয় একটু আশ্রয়, দু’বেলা খাবার আর আপনজনের মতো একটু মমতা। যে মানুষটি একসময় পড়াশোনা করেছেন, চাকরি করেছেন, সংসার করার স্বপ্ন দেখেছেন আজ সেই মানুষটির জীবনে নেই নিজের বলতে একটি ঘরও। জীবনের শেষ দিনগুলো এভাবেই কেটে দিচ্ছেন তিনি। এজন্য অকপটে স্বীকার করলেন বৃদ্ধাশ্রমে যাবার কোনো ইচ্ছে তার নাই। জীবনের শেষ নি: শ্বাস এখানেই যেনো তার হয়।
এ বছরের বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় রাউজান উপজেলার কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় উপজেলার ১ হাজার ১৫০ জন কৃষক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে কৃষি খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। টানা জলাবদ্ধতায় মাঠেই পচে নষ্ট হয়ে যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বড় অংশ। ফসল হারিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু কৃষক।
বন্যা-পরবর্তী সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপজেলায় ২৮০ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ১৪৩ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়। এর মধ্যে ৯৩ হেক্টর জমির আউশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে ১৮০ জন কৃষকের ৩০৮ মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপজেলার ২২৩ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ১১২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর মধ্যে ৯৪ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ায় ৪৬০টি কৃষক পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ ৪ হাজার টাকা। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির আবাদেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার ৪৩৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১৭৩ হেক্টর দুর্যোগের কবলে পড়ে এবং ১২৭ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ৫১০ জন কৃষকের ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁপে, আদা, হলুদ, মরিচ, বেগুন, বরবটি ও কলাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। উপজেলার ছিটিয়াপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শুক্কুর বলেন, "কৃষিজমির ফসলের ওপরই আমাদের পুরো সংসার চলত। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার সাহায্য না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।” ডাবুয়া এলাকার কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে জানান, মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ।
দ্রুত সরকারি প্রণোদনা না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যেই প্রণোদনার লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ২০৯ জনে দাঁড়াল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ৩ জন করে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে আরও ২ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৭১ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন ছাড়াও খুলনা বিভাগে ২৮৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪, বরিশাল বিভাগে ১৬৪, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১, রাজশাহী বিভাগে ১৩০, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮, রংপুর বিভাগে ৭৩ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। এ অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং এর ফলে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৮৩ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৯৯ জন রোগী।
এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২৯৪ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি রয়েছে। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৩ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে মারধরের পর নিজের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে ঘরের সব আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
নির্যাতনের শিকার রুবিনা বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি না হয়, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো সে আমাদের মেরে ফেলবে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে স্থানীয় এক দোকানে বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফুল মিয়ার সঙ্গে দোকানদারের সংঘর্ষ হয়। পরে বাড়িতে ফিরে বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি বোনকে মারধর করেন এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
আগুন নেভাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করে। তবে ততক্ষণে ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়।
অভিযুক্ত ফুল মিয়া পুলিশের হেফাজতে পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে বকাঝকা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে তারও অংশ রয়েছে এবং রাগের মাথায় আগুন দিয়েছেন।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় এক রাতেই নূর মোহাম্মদ নামের এক কৃষকের প্রায় ৭০০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের গতনশহর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এঘটনায় তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নূর মোহাম্মদ পুরানাপৈল ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি জানান, বিভিন্ন এনজিও ও অন্য উৎস থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে কলাবাগান করেছিলেন। বাগানের অধিকাংশ গাছে থোড় আসার পাশাপাশি কাঁচা কলাও ধরেছিল।
কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, অনেক কষ্ট করে বাগানটি করেছিলাম। অধিকাংশ গাছেই থোড় এসেছিল, কাঁচা কলা ঝুলছিল। গত বছর কলা বিক্রি করে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার বাজার ভালো থাকায় আরও বেশি লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তার বাগানের সব কলাগাছ কেটে ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ২নং চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ মেম্বার) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।বৃহস্পতিবার সকাল৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুমের প্রথম জানাজা গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর তাঁর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে ফরিদপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শামসুল হক গোলাম মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ ইলাজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী শেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার শিকদার, চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান খোকন মন্ডল, গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী ও মরহুমের বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মরহুম সিরাজুল ইসলামের কর্মময় জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আলোচনা করেন। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মো. রইস উদ্দিন।
পরে বাদ আছর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক ফতেহাবাদের নির্বাহী সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।