সেশনজটের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বেশির ভাগ বিভাগই। কোনো কোনো বিভাগে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যেত ক্লাস-পরীক্ষা। করোনা-পরবর্তী সময়ের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিন বছর দুই মাসেও দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগ। এর মধ্যে দুটি বিভাগ আছে যাদের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস চলছে। আরেকটি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হলেও শুরু হয়নি দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস। সাতটি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হলেও শুরু হয়নি তৃতীয় বর্ষের ক্লাস। আর তৃতীয় বর্ষই নেই ১০ বিভাগে।
মূলত, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সেশন জটের ভুক্তভোগী। সেশন জটের কারণেই ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, ফোকলোর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে নেই কোনো তৃতীয় বর্ষ। এসব বিভাগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ বর্ষের ক্লাস শুরু করলেও ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষেই আছেন। ফলে এসব বিভাগে তৃতীয় বর্ষ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকরা বলছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে মূলত দুটি কারণ দায়ী। প্রথমত, করোনা পরিস্থিতির কারণে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিল ক্লাস। কয়েকটি বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিতে পারলেও বেশির ভাগ বিভাগ তা পারেনি। দ্বিতীয়ত, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বেশির ভাগ বিভাগের সেমিস্টার সিস্টেম চালু হয়। আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘ইয়ার সিস্টেমে’ অভ্যস্ত ছিলেন। হুট করে সেমিস্টার সিস্টেম চালু এবং একই বছরে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। এরপর ৩ বছর দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও ২৮টি বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করতে পারেনি। এই বিভাগগুলোর মধ্যে ৬টি বাদে বাকি ২২টি বিভাগ চলছে সেমিস্টার সিস্টেমে। এতে পিছিয়ে পড়া বিভাগগুলো হচ্ছে ইংরেজি, নাট্যকলা, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, ফোকলোর, আগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশারিজ, সংগীত, উর্দু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।
অন্যদিকে ইয়ার সিস্টেমে পিছিয়ে পড়া বিভাগগুলো হচ্ছে আইন ও ভূমি প্রশাসন, পদার্থবিজ্ঞান, মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এর মধ্যে সব থেকে বেশি পিছিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উর্দু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসই শেষ হয়নি। এ নিয়ে কয়েক দফা আন্দোলন, প্রশাসন ভবনে তালা ও অনশনে বসেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ২০১৯-২০ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিন্তু তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়নি- এমন বিভাগ রয়েছে সাতটি। বিভাগগুলো হচ্ছে আইন, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা।
তবে সেমিস্টার সিস্টেমে ৯টি বিভাগ তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করেছে। বিভাগগুলো হচ্ছে ইতিহাস, বাংলা, ইসলামিক স্টাডিজ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃত, মার্কেটিং, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মধ্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সব থেকে বেশি এগিয়ে আছে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ১০ এপ্রিল তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হবে। এ ছাড়া এই সেশনে ইয়ার সিস্টেমে বাকি ১৩টি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ক্লাস চলছে।
সেশন জটের ভুক্তভোগী অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আসাদুল আমীন বলেন, ‘কিছু বিভাগ আছে যার সেমিস্টার সিস্টেম হয়েও তৃতীয় বর্ষের ক্লাস করছে। কিন্তু আমরা পিছিয়ে আছি।’
পরিসংখ্যান বিভাগে শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে বের হতে পারলেও আমরা তা পারব না। ২৬ বা ২৭ বছর বয়স যদি পড়ালেখা শেষ করতেই লেগে যায়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব।’
জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এত বছর ধরে ইয়ার সিস্টেম চলে আসছে। পড়ানো, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও রেজাল্ট আগে বছরে একবার করতে হতো। এখন বছরে দুইবার ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা করতে হয়। প্রথমবার হওয়ায় কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিতে পারেনি। নেট সমস্যাসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। এ বছর থেকে সব সেমিস্টারে একসঙ্গে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সেমিস্টার সিস্টেমের সঙ্গে আমাদের তাল মেলাতে সমস্যা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে উপ-উপাচার্য সুলতান-উল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ফলাফলসহ অন্যান্য তথ্য কন্ট্রোল সেকশন থেকে নিয়ে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। এরই মধ্যে দুবার বিভাগগুলোর সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি, যেন সেশনজট কমিয়ে সঠিক সময়ে পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা যায়।
সেমিস্টার সিস্টেম পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের একটি সিস্টেম থেকে আরেকটি সিস্টেমে গেলে একটু বিপর্যয় হয়। ছোট-খাটো সমস্যার কথা বিভাগগুলো বলেছে। পৃথিবীর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সেমিস্টার সিস্টেমে চলছে, তাই আমরাও পারব।
ইসলামি সভ্যতা বিকাশে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই বিভিন্ন সময়ে শাসকদের হাত ধরে প্রচারিত হয়েছে ইসলাম ধর্ম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নান্দনিক মসজিদ। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অন্যতম।
ইতিহাসবিদদের মতে, তিনশ’ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে মসজিদটি। বাংলার শাসক ঈশা খাঁর জমিদারী আমলে তার পরবর্তী অধস্তন পুরুষ যারা জমিদারি করেছেন, তাদের মধ্যে দেওয়ান আয়েশা খানম তিনি বেলাবতে খাজনা আদায় করতে আসতেন। তিনি এখানে জনসাধারণের পানি পান করার জন্য কুয়া নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ৩ শত বছর আগে ৭টি গম্বুজের সমন্বয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে কালের বিবর্তনে ফিকে হয়ে যায় সেই সৌন্দর্য। এরপর পুননির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্মৃতি ও শ্রুতির মিশেলে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো ইসলাম ধর্মের জ্যোতি ছড়াচ্ছে এই মসজিদটি।
লোকমুখে শোনা যায় এ মসজিদের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যেত। এরপর থেকে এ মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। উক্ত মসজিদে বেলাবো উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কুলিয়াচর ও মনোহরদী হতে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ পড়তে আসে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যেত। মসজিদটিকে নান্দনিক নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা করেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃতী সন্তান আবদুল কাদির মোল্লা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মসজিদটি ২০০৬ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে থার্মেক্স গ্রæপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার অর্থায়নে পুননির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে মসজিদের পুননির্মাণ কাজটি শেষ হয়।
বর্তমানে মসজিদটিতে মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ২শত জন হলেও জুমার দিন কিংবা রমজান মাসে তারাবি নামাজের সময় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ অর্থাৎ ২০ থেকে ২২ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটিতে ইসলামিক স্থাপত্যের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার, সুন্দর কারুকার্য এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ মসজিদটিকে একটি অনন্য রূপ দান করেছে। সামনের অংশে পুকুর এবং দক্ষিণ পাশে এতিমখানা ও মাদরাসা মসজিদকে দিয়েছে পরিপূর্ণ।
সৌন্দর্য বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। এখানে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্ম প্রচার করা হয়। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, যেমন- দরিদ্রদের সাহায্য, অসহায়দের পুনর্বাসন ইত্যাদি কার্যক্রম এই মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে।
মসজিদটির সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এই মসজিদ দেখতে আসেন। এ ছাড়াও, মসজিদটি উয়ারী বটেশ্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর নির্মাণশৈলী প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্যের চার খিলান কাঠামো মেনে তৈরি, যা এই মসজিদের বিশাল গম্বুজকে টিকে থাকার ব্যাপারে সুরক্ষা দিয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, ইসলামিক স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন এবং আমরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে ছাঁদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করে বাজিমাত করেছে প্রবাস ফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। ফলন ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে আনার বাগান শুরু করেছেন তিনি।
জানা যায়, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিত বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।
ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদ বাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন।
মনোজিত বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেওয়ার ফলে এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।
রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের সামনে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে পৌরসভার বিনোদপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদর খাদ্য গুদামের সামনের ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতরে থাকা নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক টোকাই ময়লার ভাগাড়ে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো একটি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
টোকাই হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো সকালে এখানে বিভিন্ন জিনিস কুড়াতে আসি। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখে সেটি খুলতেই কাপড়ে মোড়ানো একটি বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। পরে স্থানীয়দের জানাই। তারা এসে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক শেখ বলেন, ঘটনাটি যে ঘটিয়েছে সে একজন নরপশু। এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা রাজবাড়ী ঘটলো, মানুষ এতো নিচে নামতে পারে !
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “সকালে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা যেন ঘটিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তোষক ও কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানাধীন জামতলা এলাকার প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. মোতালেব হোসেন (৬১)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত ছলেমান মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সুমন গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে অবস্থিত সাজেদা মঞ্জিলে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মোতালেব হোসেনকে হত্যা করে তার মরদেহ তোষক ও কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে জামতলা প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মো. ওয়াসিম খাঁন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মাহাবুব আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাট ক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আল আমিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ১১টি বড় গাঁজার গাছসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আল আমিনের পাট ক্ষেতে অভিযান চালিয়ে গাঁজার গাছগুলো উদ্ধার এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তিনি আরও জানান, আমি বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করেছি।
ফেনীর মুহুরী -কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত একনেক সভায় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যা থেকে মুক্তি পাবেন ফেনীর মানুষ ।
প্রকল্পটি পাস হওয়ায় ফেনীর জনগণের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। জনগণের দাবি আর দুর্নীতি নয়, আর ত্রাণ নয় যে, আমরা চাই টেকসই বাঁধ।
স্থানীয় জনগণ জানান, প্রতিবছর অতি ভারী বর্ষণ ও উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীতে অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানি, হাজার হাজার কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতিতে পড়েন ফেনীবাসী। এতে জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণীবন্দি হয়ে পড়েন। জেলা সদরের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলের জমি, ভেসে যায় পুকুরের মাছ ও মাছ চাষ প্রকল্প। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট । প্রতিবছরের বন্যায় নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কমিয়ে দেয়, নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জানা যায়, ফেনীর মুহুরী কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর নাভ্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরুজ্জীবিত করতে এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ পক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেচ সুবিধা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীর তীর ভাঙ্গন, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
এলাকাবাসী জানান, মুহুরী -কহুয়া- সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ স্থায়ীভাবে মেরামত না করায় যুগ যুগ ধরে তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন, তারা আর ত্রান চান না। তাদের দাবি টেকসই ও মজবুত বাঁধ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ মুহুরী -কহুয়া- সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী মেরামত চান।
স্থানীয় জনগণ বলেন, দীর্ঘ এই বাঁধ সকলের সমন্বয়ে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জড়িত করে মজবুত করে নির্মাণ করা হোক। যাতে কোন প্রকার দুর্নীতি হতে না পারে। অনেকে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এ বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, নদী পুনর্জীবিত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একনেকে পাস হওয়া এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ পক্ষ টাকার প্রকল্পটিতে ১১.৭৩ কিলোমিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা (বাঁধের টো প্রোটেকশনসহ), ৬৭. ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩.৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন (ফেনী নদীর জলাধার এলাকায় বিদ্যমান পুকুরের পাড় অপসারণসহ), ২৭টি বিদ্যমান সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন, ৭৭টি ইনলেট, একটি হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলার বেসরকারি অবকাঠামো কৃষি জমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ সুরক্ষিত হবে, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি, ১৫ টন মৎস্য ও ২৫ টন পোল্ট্রিসহ বন্যার কবল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্ষা পাবেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয় ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নিজেই একাধিক অঞ্চলে খাল খননের উদ্বোধন করেছেন। সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি দিয়েছে । প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে পানি সংরক্ষণ, বন্যা থেকে রক্ষা সেচ ও কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত একনেক সভায় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে ফেনীর মানুষ হঠাৎ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবেন। এতে ফেনীর অবকাঠামো কৃষি জমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ সুরক্ষিত হবে। আমরা ফেনীবাসীকে স্থায়ীভাবে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে যেন সততার সাথে কাজ করতে পারি।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী অঞ্চলের জনগণদের বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য বর্তমান সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ রয়েছে। উপরোক্ত বরাদ্দ পাওয়ায় আশা করা যায় একটি টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হবে। এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিষ্টার কর্মরত না থাকায় চরম ভোগান্তির পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। জমির দলিল করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে বড় অংকের রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, সাব-রেজিষ্ট্রি মোর্শেদ মিলন গত ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডিমলা উপজেলার সাবরেজিষ্টার কে এম সুজাউদ্দিন। তিনি ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার দুর থেকে এ উপজেলায় এসে সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি দুই মাসের প্রশিক্ষণে গেলে আবারো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা সদরের সাব রেজিষ্টার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম। সর্বশেষ এ বছরের ১৬ জুন থেকে আবারো কেএম সুজাউদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
দলিল লেখকরা জানান, নিয়মিত অফিসার না থাকার কারণে সপ্তাহে দুইদিন জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোন কারণে জমি রেজিষ্ট্রি না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোন ত্রুটি ধরা পরলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয় বেলা ১১টা নাগাদ কাগজপত্র জমা করলে বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পরে। এসব দুভোর্গের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
বুধবার (১ জুলাই) জমি বিক্রি করতে আসা বড়ভিটা ইউনিয়নের খাদেমুল ইসলাম তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে আসছি আর ফেরত যাচ্ছি। আজকেও এসে জানতে পারি আজ নাকি ব্যাংক বন্ধ এ কারণে জমির দলিল হবে না।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিষ্টার কেএম সুজাউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন শতাধিক জমি রেজিষ্ট্রি করা হতো। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। দুইদিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। দুইদিনে ২শ থেকে আড়াইশ দলিল রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ডিমলা থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরত্ব বেশি হওয়ার কারনে আমি নিজেও ভোগান্তিতে পরেছি।
নীলফামারী জেলা রেজিষ্টার সোহেল রানা মিলন বলেন, ৬ উপজেলার মধ্যে ৭টি সাবরেজিষ্টার অফিস রয়েছে। সাব রেজিষ্টার কর্মরত রয়েছে চারজন। এর মধ্যে তিনজন ৭টি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করছে আর ডোমার উপজেলায় কর্মরত সাব রেজিষ্টার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে অফিসারদের ভোগান্তির পাশাপাশি জমির ক্রেতা বিক্রেতারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। অফিসার কম থাকায় তারা কাঙিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেছেন। সেই সাথে দলিল লেখক, ভেন্ডারসহ সকলেই তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গাজীপুরের মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা না পাবার কারনে দিনে দিনে মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, রুচি, আধুনিকতা ও বাজার বিশ্বায়নের ফলে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ মৃৎশিল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া মৃৎ শিল্প পেশা থেকে অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন ।
গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার কাশিমপুর, ইছর, নারগানা, রয়েন, বইন্য, নাওয়ান, গোপিনপুর, বেগুন, কামরা, কারখানা, কাপাসিয়া উপজেলার নাওয়ান, করিহাতা, আড়াল, কুড়িহাটা, শ্রীপুর উপজেলার বরমী কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর, কালিয়াকৈর উপজেলার পালপাড়া, রঘুনাথপুর, চাপাইর, বেনুপুর, উল্টা পাড়া, বলিয়াদি, বাসাকৈরসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা এখনো এই পেশায় টিকে রয়েছেন সব মিলিয়ে ভালো নেই মৃৎ শিল্পীরা। তবুও শখ বংশগত ঐতিহ্য বা জীবিকার তাগিদে এই ক্ষুদ্র শিল্পকে ধরে রেখেছেন তারা। মাটির জিনিসপত্র কতটুকু কাটবে তা নিয়েও মৃৎশিল্পীরা বেশ শংকায় রয়েছেন।
রঘুনাথপুর পাল পাড়া গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানের বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা তাদের নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, চায়ের কাপ থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, মুড়িভাজার ঝাঞ্জুর, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির জিনিসপত্র।
গাজীপুর জেলায় মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবে মাটির তৈরির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম পাল, গোপাল পালসহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পারিবারিকভাবেই তারা পৈতৃক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ করে নিজেরাই করে থাকে। খেলনা তৈরির জন্য মাঠ থেকে মাটি আনা, মাটি নরম করা, সাঁচ বসানো, চুলায় পোড়ানো, রোদে শুকানো, রং করাসহ প্রায় সব কাজই এখানকার নারীরা করেন।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জানান, আমি উধ্ব©তন কতৃ©পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্হা করার চেষ্টা করব।
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের একসময় বিপুল কদর থাকলেও দিনে দিনে মৃৎশিল্পীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুধু মেলা এলেই কেবল কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎ শিল্পীসমৃদ্ধ পাল পাড়া গ্রাম। পহেলা বৈশাখের, মেলা, পূজা আসলে খানিকটা সময়ের জন্য হলেও মৃৎশিল্প তার হৃতগৌরব ফিরে পায়। এ সময় মৃৎশিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নানা সামগ্রী তৈরিতে। কিন্তু বছরের অন্যান্য দিন গুলো মানবেতর জীবন-যাপন করেন মৃৎশিল্পীরা।
এ সময় বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখান না ক্রেতারা। এতে মৃৎশিল্পীদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলা নববর্ষ, পূজা, মেলায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করেন।
রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম পাল, গোপাল পাল জানান, পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। এখন আর আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অনেকেই অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। আবার অনেকেই অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এই পেশায় লেগে আছেন। বর্তমানে মৃৎশিল্পী রা অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এরপরও কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন মৃৎশিল্পীরা।
অনগ্রসর মৃৎশিল্পীদের জনগোষ্ঠীদের সাহায্যের জন্য আজ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেন নি। মৃৎশিল্পীরা হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের মাধ্যমেই অতিত ঐতিহ্য আজও টিকে রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে সরকারের কাছে আর্থিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন করেন স্থানিয় মৃৎশিল্পীরা।
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামছুল আলম শাহ্। পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) ভোররাতে অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অপু সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, ইথান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুমাত্রিক অবদানকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাহিনীর নতুন মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মিডিয়া সেলটির উদ্বোধন করেন। তিনি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-কে সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাহিনীর কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশাল সদস্যশক্তিকে প্রচলিত কর্মকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল কর্মধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষের অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি মিডিয়া সেলের উদ্বোধন নয়; বরং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করার নতুন সূচনা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সরকারের আস্থাশীল অংশীদার হিসেবে বাহিনীর কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সত্য, নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সাফল্য, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আনসার ও ভিডিপির বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিত ও গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর সদস্যদের অবদান, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাফল্যের গল্প এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বাস্তব চিত্র রয়েছে, যা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সবসময় স্থান পায় না। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সেইসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ জোরদার এবং জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, উপমহাপরিচালকবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যপ্রবাহকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তোলার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের প্রায় এক মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাঙামাটিতে পৌঁছালে জেলার প্রবেশদ্বার বেতবুনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে গাড়িবহরসহ তিনি শহরের কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে আবেগঘন পরিবেশে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
দীপেন দেওয়ান বলেন, "বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।"
মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনায় হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আগের মতোই কাজ করে যাব।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। দলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।" এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এরপর তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন।
সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। এক দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক হলে তা অন্য দেশের সাথে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না-বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব দেশের সাথে সু সম্পর্ক রেখে আমাদের দেশের স্বার্থ হাসিল করা। বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনীর জানাযায় অংশ নিতে স্পিকারের ইরান গমনের বিষয়টি ঢাকা ও তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। বিরোধী দলের কেউ ইরানে ব্যক্তিগতভাবে গেলে এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিগত ১৭ বছরে যে দেশগুলোতে টাকা পাচার হয়েছে সে নামগুলো আপনারাও জানেন। সে সকল দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার আছে।
তিনি আরও বলেন, দশটি দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে যে চুক্তি এটি আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। টাকা ফেরতের বিষয়ে একটি প্রপার মেকানিজম আছে। এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোন বিষয় না। টাকা ফেরতের কাজ চলমান আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, চীন আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী অংশীদার। তাদের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরো জোরদার হয়েছে। আমরা আমাদের দেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার আশা করছি।
চীনের প্রস্তাবিত টু প্লাস টু বৈঠক ও করিডোরের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাহিনীর কার্যক্রম, জনসেবা ও পেশাদারিত্ব জোরদার করার এই কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, অপপ্রচারকারী চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে একযোগে মিথ্যা ও গুজব সম্বলিত পোস্ট তৈরি করে তা দ্রুত ভাইরাল করছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার যেসব দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা বর্তমানে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তারাই বেশি এই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে যেন কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানির চেষ্টা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।