বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।
পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।
শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।
শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নওগাঁর রাণীনগরে কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাথমিকের ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকাগুলো উত্তোলনের পর শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে।
কাজ সম্পন্ন না করেই সম্প্রতি ২ জুন উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দের মোট ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো চলছে মেরামত সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ। আর কোন কোন বিদ্যালয়ে তরিঘরি করে কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পিইডিপি-৪ এর আওতায় রাণীনগর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী- কাজ সম্পন্ন করে সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু এই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম উপজেলায় থাকাকালীন সময়ে ১০টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকা আগেই কাজ সম্পন্নের ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তোলন করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম অবসরে চলে যাওয়ার দিন গত ২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকাগুলো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রেবেকা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন বিদ্যালয়ে জুন মাসে কাজ শুরু করে তরিঘরি করে জুন মাসেই কাজ শেষ করা হয়েছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো কাজ চলমান রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির শামিল।
জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চন্দন কুমার প্রামানিক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ সম্পন্নের বিল ভাউচার জমা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কাজ হয়েছে না হয়নি সেই জবাব শিক্ষা কর্মকর্তাই দেবে।
কাজের আগে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অবসরে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. রেবেকা সুলতানা বলেন, বরাদ্দের টাকাগুলো শিক্ষা অফিসের পিইডিপি-৪ এর অ্যাকাউন্টে রয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত যে বিদ্যালয় কাজ সম্পন্ন করেছে, তাদের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে। আর যারা এখনো কাজ সম্পন্ন করেনি কাজ সম্পন্ন করলে তাদের বিল দেওয়া হবে।
মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত আইফোনসহ ৩৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম।
পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন মাসসহ বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ৩৫টি মোবাইল ফোন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খাইরুল হাসান, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, ফেসবুকসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি, অনলাইন জুয়া দমন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।’
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাইবার অপরাধ দমন এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাগুরা জেলা পুলিশ।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৯ জুলাই) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থটি সরকারি তহবিলে জমা দেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অধীনে সাটুরিয়া ও বালিয়াটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত কাজ শতভাগ সম্পন্ন করতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। ফলে বরাদ্দের অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১১ মে বিকালে গাজীখালী নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। নির্ধারিত কাজ শেষ করে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
”ক্লিন নড়াইল-ড্রিম নড়াইল”। এটি শহরের ময়লা-অবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রকল্পের একটি প্লাটফর্ম। এই প্রকল্পের দুগর্ন্ধে এলাকার মানুষ এখন বিরক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে এলাকার মানুষ দাবি জানিয়েছেন। তারা ময়লা-আবর্জনা দুগন্ধ থেকে বাচতে চায়।
নড়াইল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে স্থাপিত নড়াইল পৌরসভা। ৮০ দশকে দ্বিতীয়শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। দেরিতে হলেও নড়াইল পৌর এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গড়ে তোলা হয় ‘ক্লিন নড়াইল, ড্রিম নড়াইল’ নামে একটি প্রকল্প। যার কাজ হলো শহরের প্রতিটি বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে একটি নির্দ্দিষ্ট স্থানে জমা করা। বি আই আর ডি (বোর্ড ফর ইন্টিগ্রেটেড রুলার ডেভেলপমেন্ট) নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা যৌথভাবে এ কাজ দেখভাল করার কথা।
নাগরিকদের প্রয়োজনের তাগিদে যে কথা সেই কাজ । ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকেই কাজ শুরু হয় । কাজের শুরুতে জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের নতুন বাস টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বি আই আর ডি, এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করে। ময়লা-আবর্জনা বহনের জন্য ১৩টি ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করা হয়। টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে আশপাশের বাসিন্দাসহ টার্মিনালে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের রাত যাপনে দুর্বিসহ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে শহরের রাস্তা প্রশস্ত করণ কাজ শুরু হলে ওই গর্ত থেকে ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর সেতুর পশ্চিম পাশ বেছে নিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে সেখানেই ময়লা আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ময়লার দুগর্ন্ধে সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দাদেরও একই অবস্থা শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে,নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর এলাকায় পৌর ভাগাড় বানিয়ে সেখানে শহরের যত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসির অভিযোগ সেতুর পশ্চিম পাশে ময়লা-আবর্জনা আর পূর্বপাশে শুকরের মলমূত্রের দুগর্ন্ধে কৃষি জমিতে কাজ করা যায় না। মাছের ঘেরে খাবার দিতে অসুবিধা হচ্ছে। কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনসহ খাল-বিলে মাছ মারা ও ধরা যায় না। তাদের দাবি ভাগাড় এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দিন।
সীতারামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন,যারা এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনুমতি দিয়েছেন তারা হয়তো সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখেননি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমন করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় বানিয়ে দিলেন বোধগম্য হয় না । তিনি দাবি করেন,দ্রুত এখান থেকে ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দেবেন ।
মুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য অজিত কবিরাজ বলেন, এখানে ময়লার ভাগাড় করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি । নড়াইল-যশোর সড়কের সীতাররামপুর গ্রামের মাছের ঘের সংলগ্ন ভাগাড় বানিয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যে কারণে এলাকাবাসীর বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন,ময়লার দুগর্ন্ধে এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষীদের কাজ করতে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে । অন্য কোন ফাকা স্থান বেছে নিয়ে সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় নির্মাণে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জানতে চাইলে নড়াইল পৌর প্রশাসক মো.নাজমুল হুদা বলেন এ বিষয়ে এলাকাবাসি অথবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কেউ কোন আবেদন করেনি। আবেদন পেলে বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। তাছাড়া অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে অন্যত্র ফাকা স্থান দেখে ভাগাড় নির্মাণে পরিকল্পনা করা হতে পারে।
ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের দল বিএনপিকে আল্লাহ যদি রহমত দেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হাল ধরেছেন, তাতে ইনশাআল্লাহ তার নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছর পর দেখবেন, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার একটা বিশাল পরিবর্তন হবে।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নীলফামারীর মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের মসজিদ ও একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কতক্ষণ ঘুমান, আমরা নিজেরাও জানি না। ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা নিজে কাজ করেন। সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয়ে যান। রাত ১১টা-১২টায় বাসায় ফেরেন। তিনি হেঁটে মন্ত্রণালয়ে যান। সকালবেলা চেক করেন, ৯টার মধ্যে কোন মন্ত্রী অফিসে আসলেন, কোন মন্ত্রী আসলেন না। এই শ্রমটা আমাদের দরকার। এরকম লিডারশিপ আমাদের দরকার, আমাদের দেশের মানুষের জন্য।”
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে যখন জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের কার্ড দিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন কিন্তু তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলেছেন, মনে আছে? আজকে এগুলো বাস্তব। ফ্যামিলি কার্ডের গোটা নীলফামারী জেলায় রিক্রুটমেন্ট চলছে। কয়েকটি ইউনিয়নে, কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে অনেকে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে গেছেন। এখন আপনারা বাস্তবে থাকবেন, নাকি হাওয়ায় জান্নাতে যাবেন, সেটি আপনারাই বিবেচনা করুন।”
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মো. গোলাম মাজেদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম ও তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।
সারা এ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন মিন্টু গত ২৭/০৭/২০২৬ইং তারিখে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। মরহুমের পরিবারবর্গ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া প্রার্থী।
ভোজনরসিকদের পাতে সৌরভ ছড়ানো সুগন্ধি চাল এখন সাধারণ ক্রেতার জন্য এক অধরা বিলাসিতা। গত ছয় মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। যে চাল চলতি বছরের শুরুতে প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১৪০ টাকায়, খুচরা বাজারে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২১৫ থেকে ২২০ টাকায়। চালের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ‘কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি’ কাজ করছে নাকি ‘রপ্তানির প্রভাব’—তা নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ।
রাজধানী থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম—সবত্রই এক চিত্র। পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ছয় মাসে খোলা ও প্যাকেটজাত সব ধরনের সুগন্ধি চালের কেজিপ্রতি দর বেড়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আগে কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২১৫–২২০ টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ২০০ টাকায় (রূপচাঁদা ২০০ টাকা, প্রাণ/চাষী/ফ্রেশ/এরফান ১৯০ টাকা, ইস্পাহানি ১৭৫ টাকা)। চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় ঠেকাছে।
বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা সুগন্ধি চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে বিক্রি নেমে এসেছে তলানিতে।
সুগন্ধি চালের এই রেকর্ড দামের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে রপ্তানিকারক, চালকল (মিল) মালিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যকার চরম মতবিরোধ।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বাজার অস্থির হতে শুরু করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শতপ্রাধিক প্রতিষ্ঠানকে চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রপ্তানির সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়াতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক সমিতি এ অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি—দেশে বার্ষিক সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র ৪ লাখ টন। উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৬ লাখ টন।
রপ্তানিকারকদের বক্তব্য, গত এক মাসে মাত্র ২ হাজার টনের মতো চাল বিদেশে গেছে। ছয় লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুই হাজার টন চাল রপ্তানিতে বাজারে সংকট তৈরির কথা নয়। কিছু অসাধু মিল মালিক চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে চালকল মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নওগাঁর চালকল মালিকদের দাবি, বিশ্ববাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম উভয়ই চড়া। ফলে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি উইং) আয়েশা আক্তার বলেছেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদনের কারণে দেশীয় বাজারে কী প্রভাব পড়ছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা বিশ্লেষণ করে দেখবে এবং পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, সুগন্ধি চাল জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের তালিকায় পড়ে না বলে সরকার সরাসরি এর দর নির্ধারণ করে দেয় না। মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী এটি পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা তৈরি হলেই দেশীয় বাজারে দাম বেড়ে যায়।
উদ্বৃত্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সুগন্ধি চালের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা মূলত তদারকির অভাব ও কারসাজিরই ইঙ্গিত দেয়। বিশ্ববাজারের অজুহাতে স্থানীয় বাজারকে এভাবে জিম্মি করা ঠেকানো না গেলে এটি কেবল সাধারণ ভোক্তাদেরই ভোগাবে না, বরং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কৃষি-রপ্তানি খাতকেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে গবেষণাটি করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।
গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। এছাড়া ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে আরও ৩২টি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক বাজেট ব্যবহারের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাত্র ১১ শতাংশ আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ফলাফল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উত্তরদাতাদের দৃষ্টিতে অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
বিশেষ করে যেসব পরিচালন খাতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেসব খাতে ব্যয় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তরসংক্রান্ত খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।
টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, পছন্দের লোককে কাজ দিতে টেন্ডারে এমন অবাস্তব শর্তজুড়ে দেয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। যেমন—পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ট্রানজ্যাকশনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কয়জন ব্যবসায়ী এই শর্ত পূরণ করতে পারবে? এটি করা হয় মূলত প্রতিযোগিতা সীমিত করে পছন্দের পাত্রকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য।
স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। অথচ যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে কোনো প্রস্তুতিই (রেডি সেটআপ) ছিল না। কেন কেনা হয়েছিল? কারণ, প্রতি মেশিনে ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা লাভ ছিল। যার একটি পড়ে আছে ফরিদপুরে, অন্যটি খুলনায়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কারিগরি লোকবল ছাড়াই এক্স-রে ও অন্যান্য প্রযুক্তির সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভাঙারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।
টেস্ট বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খুলবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন আর কমিশন খাবেন, রোগী আসলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে—এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো মনিটর করা হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত চার বছরে যেখানে হামের টিকা দেয়ার কথা ছিল, তারা টিকা সংগ্রহ করেনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ইউনিসেফ যখন অনুরোধ করেছে, তখনও তারা টিকা কেনেনি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর যখন হাম দেখা দিয়েছে, বর্তমানে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের ৯৯ শতাংশই আনভ্যাকসিনেটেড। তাই এই টিকাদান কর্মসূচিকে এখন আরও বেগবান করা হয়েছে এবং সম্প্রতি আরও ১ লাখেরও বেশি নতুন শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ আমল থেকে একটি বিদেশি কোম্পানি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ডায়ালাইসিসের বাজার দখল করে রেখেছিল। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার এখন নিজস্ব উৎস থেকে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। ফলে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং অত্যন্ত কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবে। এ ছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
দেশের নারী ও সাধারণ মানুষের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মানুষের অসচেতনতার বিষয়টি উল্লেখ করে যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ প্রদান করা হবে। এটি আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে দৈহিক মাপ (উচ্চতা, ওজন), ডায়াবেটিস, রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং মেশিনের সাহায্যে রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষা করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষকর্মী এবং নারীদের কাছে নারী কর্মী যাবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না, জেলে নিতে পারবে না। আপনি যদি সৎ হন, অডিটে অনৈতিক টাকা চাইলেই দেয়া বন্ধ করুন এবং সরাসরি আমার কাছে আসুন। পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমি নিজে তা ফেস করব।
হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির হার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে সন্তানসম্ভবা মা এলে পরিবারকে ভয় দেখিয়ে (যেমন—সিজার না করলে মা বা বাচ্চা মারা যেতে পারে) সিজারিয়ান অপারেশনে বাধ্য করার যে প্রতারণামূলক ব্যবসা চলছে, তা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিট ও তদারকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লেবার রুম, লেবার চেয়ার কিংবা নবজাতককে হিট দেয়ার ন্যূনতম আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই অপারেশন চালিয়ে যাওয়া অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ অনেকে।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় সড়ক খোঁড়ার সময় মাটির নিচ থেকে তিনটি সন্দেহভাজন মর্টার শেল উদ্ধার হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ-সংলগ্ন টিএটি অফিস সড়কে পানির লাইনের উন্নয়নকাজ চলাকালে এগুলো পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানির লাইন সংস্কারের জন্য শ্রমিকেরা মাটি খননের সময় প্রায় দুই থেকে তিন ফুট গভীরে পাশাপাশি থাকা ধাতব আকৃতির তিনটি বস্তু দেখতে পান। বিস্ফোরক সন্দেহ হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রামগতি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো মর্টার শেল। তবে এগুলো কতটা পুরোনো বা কার্যক্ষম, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকলে মর্টার শেলে জং ধরার কথা, কিন্তু উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোতে তেমন জং দেখা যায়নি। তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বস্তুগুলোর প্রকৃতি নিশ্চিত করবেন। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ স্থানে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে।
আগামী প্রজন্মকে পৃথিবীতে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নাই। দেশের পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বৃক্ষরোপণ করে দায়িত্ব শেষ করা চলবে না বৃক্ষকে লালন পালন করতে হবে। আজকে যেসব বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে তা লালনপালন হচ্ছে কিনা তা আমি নিজে তদারকি করব। যদি লালনপালন করে সম্পদে পরিণত করা হয় তাহলে পুরস্কৃত করা হবে। আর যদি রোপণ, ছবি তোলা সংবাদপত্র চ্যানেলে প্রচার নাই শেষ কথা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর হাই স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন উপলক্ষে গৌরনদী উপজেলা ও পৌর কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন। সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশন
তিনি আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরঙ্গল স্বনির্ভর খালে কৃষকদলের এক হাজার চারা রোপণ করা হচ্ছে। এই খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সে স্মৃতিবিজড়িত খালের দুই পাশে সবুজ বনায়ন করতে হবে এবং জিয়ার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান ‘লাগাই গাছ সাজাই দেশ -সবার আগে বাংলাদেশ’- চেতনাকে ধারণ করতে হবে। উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মিজানুর রহমান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।বাংলাদেশ অর্থনীতি
অপরদিকে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা বন বিভাগের উদ্যোগে বেলা ১১টায় গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান অতিথি হিসেবে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পরে কলেজ চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করে শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের হাতে যে চারা দেয়া হয়েছে সে চারা রোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এ গাছ যখন বড় হবে তখন তা সম্পদে পরিণত হবে। তাই চারা রোপণ করে পরিচর্চা করতে হবে। মন্ত্রী আলোচনা শেষে ৬০০ শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি করে চারা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম, বরিশাল জেলা বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম, কলেজ অধ্যক্ষ নির্মল হালদার। দুপুর সাড়ে ১২টায় গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গৌরনদী ইউএনওর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান। পরে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাতটি কলেজ, ১২টি মাদরাসা, ২৮টি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হাতে পাঁচটি করে গাছের চারা, ক্রীড়াসামগ্রী তুলে দেন এবং বিজয়ী খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার তল্লাশি করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় গাড়িতে থাকা তার ৩ সহযোগীকেও আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। ধরা পড়া এড়াতে ইমন গোঁফ কেটে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন, তবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় স্বীকার করেন। গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের অন্তত ৭টি গুরুতর মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী হলেও পরে তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তোলেন।
তিনি নগরের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ডেভেলপার, গার্মেন্টস মালিক, ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও খাতুনগঞ্জের আড়তদারদের কাছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করতেন এবং অর্থ না দিলে গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া হত্যা এবং ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলা।
বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। যার মধ্যে জুলাইয়ের ২৮ দিনেই মারা গেছেন ৩২ জন। সে হিসেবে চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি হয়েছে শুধু চলতি মাসেই। । গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নতুন করে ৫৩৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৪ হাজার ৬৯০ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩ হাজার ৯ জন ডেঙ্গুরোগী। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ১৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট মারা যাওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৩২ জনই মারা গেছেন চলতি জুলাইয়ে। এর আগে জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে একজন করে মারা যান।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মারা যাওয়া ৫০ জনের মধ্যে নারী ৬০ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০ শতাংশ। ডেঙ্গুতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে ৬ জন, বরিশালে ৬ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১ জন, খুলনায় ৬ জন, ময়মনসিংহে ৬ জন, রাজশাহীতে ১ জন ও রংপুরে ১ জন মারা গেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেরদৌসি শাহরিয়ার ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ব্যাঙ্কক, রোম, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রদূত ফেরদৌসি শাহরিয়ারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্রসচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।