শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাগেরহাটে যুবককে ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১২:৫৬
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:৫৪

বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।

পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।

শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।

শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

বৃক্ষরোপণেই পরিবেশের ভারসাম্য, পিরোজপুরে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎​শুক্রবার (৭ আগস্ট) পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, "গাছ হলো পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক অনন্য নেয়ামত। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে রন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে।" এ সময় তিনি গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "যদি তুমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারো যে কিয়ামত সংঘটিত হচ্ছে, অথচ তোমার হাতে একটি গাছের চারা রয়েছে, তবে কিয়ামতের আগেই সেটি রোপণ করে ফেলো।"

‎​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন বলেন, "গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ হিসেবে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।"

‎​সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে এই কর্মসূচি সুবোদঘাটন করা হয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "নির্বিচারে বন ও জঙ্গল কেটে উজার করার কারণেই আজ প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনাবৃষ্টি, খরা, জলচ্ছাস ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।


নির্বাচিত

সহপাঠীদের ছবি পাঠানোর অভিযোগে ‘জুলাই-৩৬’ হলের ছাত্রী বহিষ্কার

* ইবি ছাত্রীর মোবাইল জব্দ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ এবং তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তোবাউল জান্নাতী ঐশী সরাসরি দায় স্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং প্রশাসন যে শাস্তিই দেবে তা মেনে নেবেন।

অন্যদিকে প্রবাসী ওই ব্যক্তির দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর পেছনে অর্থ ব্যয় করেছেন। তার কাছ থেকেই বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি পেয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সহপাঠী ও রুমমেটদের কিছু ছবি তিনি অন্য একজনের কাছে পাঠিয়েছেন, তবে তা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, মানহানি বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে নয়। যাকে ছবি পাঠানো হয়েছে, সেই প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে তার বান্ধবীদেরও পূর্ব পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন সময় আলাপচারিতার অংশ হিসেবে বা নিজের অবস্থান বোঝাতে সামনে থাকা ব্যক্তিদের ছবি পাঠিয়েছেন। তখন বিষয়টি যে অনুচিত বা বেআইনি হতে পারে, তা তিনি উপলব্ধি করেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘রুমে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা সহপাঠীদের ছবি পাঠানো আমার উচিত হয়নি। এটি আমার ভুল এবং এজন্য আমি দুঃখিত। আমি আমার বান্ধবীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা কারও ক্ষতি করার অভিযোগ অতিরঞ্জিত।’

অভিযুক্ত ছাত্রীর দাবি, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ের আলোচনা থাকলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েতে সম্মতি দেননি। এর জের ধরেই ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুমহলে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকি দিয়েছেন।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে কিছু উপহার দিলেও তিনি কখনো অর্থ দাবি করেননি। তার পরিবার সচ্ছল এবং বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক ও চাকরিজীবী বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত ছাত্রীর ভাষ্য, ‘আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমি কারও কাছ থেকে অর্থ দাবি করিনি।’

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী ওই ব্যক্তি জানান, বিয়ের আশ্বাসে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন এবং এর কিছু লেনদেনের তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তিনি চেয়ে নেননি; অভিযুক্ত ছাত্রী নিজ উদ্যোগেই সেসব ছবি পাঠাতেন। এমনকি তার আত্মীয়-স্বজনের ছবিও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ওই প্রবাসী ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি কিছু ছবি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জরুরি বৈঠক করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার। অন্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম (সদস্য) এবং অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান (সদস্যসচিব)।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিজেও কিছুটা স্বীকার করেছেন। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এদিকে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ঐশী ওই প্রবাসী প্রেমিকের কাছ থেকে বিয়ে ও অন্যান্য প্রলোভনে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্পর্কের এই অম্লমধুর টানাপোড়েন থেকেই প্রবাসী প্রেমিক ছবিগুলো ফাঁস করে দেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে অভিযুক্তের দুটি মোবাইল ফোন হস্তান্তরিত হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘জুলাই-৩৬’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, “মধ্যরাতে অভিযোগ পেয়েই বিষয়টি মাননীয় উপাচার্যকে জানানো হয়। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আগামী রোববার পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার, সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

নিলামে রেকর্ড দামে চা বিক্রি, এনটিসির নতুন মাইলফলক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

দেশের গৌরবোজ্জ্বল চা শিল্পে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলাম বাজারে নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড চূর্ণ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১২টি চা বাগানের উন্নতমানের চায়ের অভাবনীয় চাহিদা ও চড়া দাম অর্জনের মধ্য দিয়ে এই জয়যাত্রা নিবন্ধিত হলো।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। যেখানে প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে যা কেজিপ্রতি ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এত বিপুল পরিমাণ চা এর আগে কখনও এত উচ্চ গড় মূল্যে বিক্রি হয়নি, যা কোম্পানির বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করল। এই নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল সুষম গুণগত মান।

এনটিসির আওতাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটি থেকেই সংগৃহীত চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার কোটা অতিক্রম করেছে। একটি একক নিলামে একই সাথে সবকটি বাগানের এমন ঈর্ষণীয় অর্জনের নজির দেশে ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। এই একক নিলাম থেকেই কোম্পানির পকেটে এসেছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।

শুধু নিলামেই নয়, মাঠপর্যায়ের উৎপাদনেও বইছে সাফল্যের বাতাস। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এনটিসির মোট চা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আধুনিক ও সুসংহত ব্যবস্থাপনা, সঠিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলেই এই উল্লম্ফন সম্ভব হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কাঁচা পাতা সংগ্রহের সময় ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারখানায় নিবিড় তদারকি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে উৎপাদিত চায়ের লিকারের গাঢ়ত্ব, চোখধাঁধানো রং, সুবাস ও স্বাদে এসেছে অসাধারণ বৈচিত্র্য—যা নিলামে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এই অনন্য অর্জন প্রসঙ্গে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল চায়ের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। চা-প্রেমী ও ক্রেতাদের এই অভূতপূর্ব আস্থা আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও চায়ের গুণগত উৎকর্ষ বজায় রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ন্যাশনাল টি কোম্পানি নিরলস কাজ করে যাবে।’

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই অভূতপূর্ব সাফল্য স্থবিরতায় ভোগা চা খাতের জন্য এক নতুন আশার আলো। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার এই সুষম সমন্বয় বাংলাদেশের চা শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে নেবে।


নির্বাচিত

নাটোর হবে টুরিস্ট হাব: আফরোজা খানম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

কবি জীবনানন্দের বলনতা সেন, উত্তরা গণভবন, রানী ভবানীর রাজবাড়ি আর কাঁচাগোল্লার শহর নাটোর হবে টুরিস্ট হাব এমন মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের দিঘাপতিয়ায় উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় আফরোজা খানম আরও বলেন, উত্তরা গণভবন, রাজবাড়ী, হালতিবিল ও চলনবিল ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানে এখনো তেমন আবাসন ও পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। অনেক মানুষ নাটোরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানেও না। তাই নাটোরের পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগেরও উন্নতি করে এখানে টুরিস্ট হাব গড়ে তোলা হবে।

এসময় নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারইফতে খায়ের আলমসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী পাটুল বিল পরিদর্শন শেষে এক সমাবেশে যোগ দেন।

এর আগে দুপুরে নাটোরের সার্কিট হাউজে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

উটপাখি-এমুর বিরল ডিম দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।

পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।

অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।

বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’


নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে শহীদ মিনার না ভেঙে বিকল্প পথে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি

শহীদ মিনার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরাও
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে জেলা শহরের ঐতিহ্যকে।

কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি চিকন হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।

কাজ পরিদর্শনে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্র স্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কাজ শুরুর সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন: বিবেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদ মিনার স্হাপনের পিছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিত হবে না।

রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত। তার ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বিএম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা অংশে ১৫ কিলোমিটার যানজট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।

মহাসড়কে আটকে পড়া লরী চালক আসাদুল ইসলাম জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

যানজটে আটকে থাকা বাসযাত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাড্র তিন কি.মি. পথ এসেছি। চট্টগ্রাম বাবার বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। তার সাথে দুই কন্যা রয়েছে। ভোর ৬ টায় ঢাকা থেকে বাসে উঠেন ঝর্ণা। কখন চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন সে চিন্তার তার কপালে ভাঁজ বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর রহমান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংস্কার কাজ চলছে। সে জন্য সড়কে বাহনের ধীরগতি। পুলিশের এ কর্মকতা জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে যানবাহনের ধীর গতি কমবে। যানজটও কমবে।


নির্বাচিত

বগুড়ায় নিখোঁজ সিএনজিচালকের গলিত মরদেহ তাড়াশে উদ্ধার

হত্যাকারীদের খুঁজছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

বগুড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি খালের কচুরিপানার নিচ থেকে মো. মিলন (৩০) নামের এক সিএনজিচালকের বস্তাবন্দী ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে ঘাড় ভেঙে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ​শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে তাড়াশ-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের বেড়খালি এলাকার একটি খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত মিলন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রাঙ্গালিয়া গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ায় থেকে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে তাড়াশ-রানীরহাট সড়কের বেড়খালি খালের পানিতে একটি মরদেহ কচুরিপানার নিচে আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াশ থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

​নিহতের মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম মোল্লা জানান, মরদেহটি উদ্ধারের সময় শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ঘাড় ভেঙে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েক দিন আগে মরদেহটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

​পুলিশ জানায়, গত ২ আগস্ট বগুড়া থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হন সিএনজিচালক মিলন। এর তিন দিন পর গত ৫ আগস্ট বগুড়া জেলা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় তার চালিত সিএনজিটি উদ্ধার করে।

​এদিকে স্বামীর নিখোঁজ ও মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহতের স্ত্রী ও শ্যালক ইতোমধ্যে তাড়াশ থানায় এসে পৌঁছেছেন।

​পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুতই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ সময় ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক এ.এস.এম. আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান সহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম. কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ, জরুরি বিভাগের সেবার মান বৃদ্ধি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, হাসপাতালকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা নিরাপত্তা ও সহজলভ্য, মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে একই দিন সকাল ১টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল এবং ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতাল দুটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি রোগীদের উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেবার মান আরও বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


নির্বাচিত

ভূঞাপুরে খাল খননে সাশ্রয় ৪৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৪টি খাল খননের কাজ শেষ করে বরাদ্দের অব্যবহৃত ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের ফলে বরাদ্দের মোটা অঙ্কের এই অর্থ বেঁচে যায় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ফলদার পাঁচতেরিল্ল্যা, গোবিন্দাসীর খুপিবাড়ী ও অলোয়ার ভারই এলাকায় ৩ হাজার ১৯৫ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে প্রায় ২৮শ মিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে খরচ বাদে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেন, ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত নগদ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা বিরল। খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ‘টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বিক সহযোগিতায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দের নির্ধারিত বাজেট থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘ভূঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় ৪টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে ‘সোনালী আঁশ পাট’ ঘরে তুলতে ব্যস্ত নারী কৃষাণীরাও

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে সোনালী আঁশ পাট ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে এখন কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে গৃহিনী কৃষাণীরা। চারিদিকে কৃষকেরা এখন প্রায় সবাই সোনীল আঁশ খ্যাত পাট এর পঁচানোক্রিয়ায়, আঁশ ছাড়ানো ও পাটখড়ি ঘরে তোলার কাজে মহাব্যস্ত।

মাদারীপুর সদর সহ শিবচর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার সহ মোট ৫ টি উপেজলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য সচারাচর চোখে পড়ছে। দামী এই সোনালী আঁশকে ঘিরে কৃষাণ- কৃষাণীরা এখন নানান স্বপ্ন বুনছেন। পাট কাটা, পানিতে জাক দিয়ে পঁচানো-ধৌতের ক্ষেত্রে পুরুষেরা ও পাটের আঁশ ছাড়ানো-শুকানো, মূল্যবান পাটখড়ি আহরণের ক্ষেত্রে নারীরা রয়েছেন এগিয়ে।

আবহাওয়া অনুকূল থাকা ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় মাদারীপুরে ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপরও যেনো কৃষকের মুখে যেনো হাসি নেই, তাদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাজ। তারা বলছেন- গতবারে পাটের দাম মনপ্রতি ৪১/৪২ শত টাকায় বিক্রি হয়ে লাভের মুখ দেখলেও এবারে তা' ৩৭/৩৮ শত টাকায় প্রতিমন বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন, এছাড়াও পুরোদমে পাট উঠে গেলে দাম আরও কমার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের।

তবে সামনে দাম বাড়বে- এই আশায় অনেকে তড়িঘড়ি করে আবার পাট বিক্রি করছেন না, শুকিয়ে স্টকও করে রাখছেন অনেকে।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, ফলন ভালো হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গতবারকে ছাড়িয়ে যাবে।


নির্বাচিত

বারহাট্টায় মাথা ন্যাড়া করে অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমিন খানকে (৫৫) বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে অপমান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মোমিন খানের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, গত ২৯ জুলাই স্থানীয় একটি সালিশের নামে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুলাই রাতে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোমিন খান একটি মন্তব্য করেন। পরে ওই বক্তব্য বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পরদিন সালিশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। উপস্থিত না হলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন, ২৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মধুপুর এলাকার আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশে মোমিন খান উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এরপর সালিশের সিদ্ধান্তের নামে তাকে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িতে ফেরার পরও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় মোমিন খান বারহাট্টা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও এর বিস্তার রোধকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার রাতে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজে আয়োজিত জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাদক নির্মূলে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং একটি বিশেষ ট্রাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে অপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা আমরা প্রস্তুত করব। ট্রাস্কফোর্স কমিটি নির্মোহভাবে মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়িদের তালিকা তৈরি করবে। তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন রুটে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমতলের পাশাপাশি নদীপথে বা সমুদ্রপথে মাদক চেরা চালান হচ্ছে, সে সমস্ত রুটে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ-উখিয়ার জেলে ও নৌযান নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাতে করে মাদক চোরা চালানকারীদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।’ এছাড়া টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা প্রতিরোধে দুটি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী তার সফরের অংশ হিসেবে পরদিন সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং একটি ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শেষে রাতেই তার রাজধানীতে ফেরার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close