মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাগেরহাটে যুবককে ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১২:৫৬
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:৫৪

বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।

পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।

শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।

শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ই-গভর্ন্যান্সে ডিজিটাল সেবা, বাস্তবে হয়রানি-ভোগান্তি: সিপিডির গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজিটাল বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি সেবায় অনলাইন ব্যবস্থা এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি। বাস্তবচিত্র উল্টো। অনলাইনে আবেদন করার পরও কাগজপত্র জমা, স্বাক্ষর, অর্থ পরিশোধ কিংবা সনদ সংগ্রহের জন্য নাগরিককে সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। ফলে ‘ই-সেবা’ চালু হলেও এর বড় একটি অংশে রয়ে গেছে পুরোনো পদ্ধতির সরাসরি যোগাযোগ ও কাগজপত্রের নির্ভরতা। ফলে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নাগরিকরা ই-সেবা নিতে গিয়ে উল্টো নানামুখী হয়রানি, ডেটা ফাঁসের আতঙ্ক এবং তীব্র ম্যানুয়াল নির্ভরতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক গবেষণায় সরকারি ডিজিটাল সেবার এমন চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স টু স্ট্রেন্থেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস বাই ফুলফিলিং দ্য নিডস অব ইউথ, জেন্ডার, অ্যান্ড মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। গবেষণাপত্রটিতে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্সের বর্তমান অবস্থা, নাগরিক ও সরকারি অফিসগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সুপারিশগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।ভৌগোলিক ম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা

গবেষণায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার পর্যায়েই-গভর্নেন্সে ডিজিটাল ফরম্যাট আছে কিন্তু কাজ হয় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায়। প্রকৃত পক্ষে অনলাইনে সেবার আবেদন চালু করা হলেও ম্যানুয়াল কাগজপত্রের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি সাধারণ মানুষের। গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের মাত্র ৩১.৯ শতাংশ এবং যুবদের ১৭.৮ শতাংশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইনে সেবা সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ডিজিটাল আবেদনের পরও ৫৪.৩ শতাংশ নারী ও ৪৭.৭ শতাংশ যুবকে সশরীরে সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজের নথি জমা দিতে হয়।

গবেষণায় অবকাঠামোর চরম সংকট উঠে এসেছে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার অফিসগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮.৯, যার মধ্যে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির হার আরও করুণ, মাত্র ২৪.১।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোতে গড়ে সচল কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ০.১৫টি, যার ৪৪ শতাংশই নষ্ট। বিদ্যুৎ না থাকলে সেবা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬৭ শতাংশ এবং ইউনিয়ন কৃষি অফিসের ৯৭ শতাংশ কার্যালয়ে কোনো আইপিএস বা জেনারেটর ব্যাকআপ নেই। ই-গভর্নেন্স প্রস্তুতিতে ময়মনসিংহের স্কোর ৫৭.৩ হলেও রংপুরের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়, মাত্র ৮.৮।

গবেষণায় ডিজিটাল সেবার জন্য নিজস্ব তথ্য জমা দেওয়ার পর বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন নাগরিকরা, বিশেষ করে নারীরা। সেবায় তথ্য দিতে গিয়ে ৫৮ শতাংশ নারী অনিরাপদ বোধ করেন এবং ৭৩.২ শতাংশ নারী ডেটা লিক বা তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ই-সেবা নেওয়ার পর অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন ৬১.০ শতাংশ নারী। সেবা নিতে গিয়ে দেওয়া ফোন নম্বরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় কল এবং মেসেজ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি, অতিরিক্ত টাকা দাবি বা অনিয়ম হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করার ব্যবস্থা বা সঠিক মাধ্যম না থাকায় ৮৩.৩ শতাংশ নারী এবং ৭৮.৯ শতাংশ যুব কখনো কোনো অভিযোগই জমা দেননি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সেবা পাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার যদি সুযোগ বাড়াতে পারে, তাহলে সেটাকে কার্যকর ডিজিটালাইজেশন কিংবা ই-গভর্নেন্স আমরা বলতে পারবো। কিন্তু মানুষকে সেবা পেতে বারবার সরকারি অফিসে-দপ্তরে যায়, বারবার যাতায়াত করে। এতে সময় নষ্ট হয়; অনেক সময় হয়রানি এবং দুর্নীতিও থাকে।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল সুশাসনে কারা কারা এর সুবিধাভোগী হতে পারে। একটি জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণরা এবং ডিজিটাল সুশাসনে তরুণদের চাহিদাকে কিন্তু বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের যে কর্মসংস্থান, সেই কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানো, দক্ষতা উন্নয়ন। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন এবং স্থানীয় পরিকল্পনায় তরুণদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন, কারণ তারা জনগোষ্ঠীর একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরো বলেন, নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এখানে প্রযুক্তির প্রবেশের সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্টফোন, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল দক্ষতায় নারীর সুবিধা ও সুযোগ সুবিধা এবং অনলাইন হয়রানি, তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং এটার তদারকিতেও নারী জনপ্রতিনিধি ও নারী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারপরে হচ্ছে, যারা সমাজের মার্জিনালাইজড জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত সংখ্যালঘু, নিম্ন আয়ের পরিবার, দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দা ও সীমিত শিক্ষার মানুষ তারাও যেন বাদ না পড়ে এই ই-গভর্ন্যান্সের সেবার মধ্যে তারা যেন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই সেবাটা বাংলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় ভাষাতেও দিতে হবে। তাছাড়া কণ্ঠনির্ভর সেবা, প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সহায়তাপ্রাপ্ত সেবারও সুযোগ থাকতে হবে। অনলাইন অনুবাদ টুল ব্যবহার করা ফাহমিদা বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় বাজেট, প্রকল্প ব্যয়, সুবিধাভোগীদের তালিকা, সরকারি ক্রয় এবং সেবা দেওয়ার সময়সীমা উন্মুক্ত করতে হবে, সবাই যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ, অভিযোগ ট্র্যাকিং, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র প্রযুক্তি দিলেই যে সুশাসন অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে সেরকম না। নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা, তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ই-গভর্ন্যান্সকে নাগরিক এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে একটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাস্পায়ার-টু ইনোভেট এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহেদ পাভেল, এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন ও আইসোশ্যাল-এর চেয়ারপারস ড. অনন্যা রায়হান প্রমুখ।


নির্বাচিত

আগস্টে হাম-ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ১৭৬ জনের

* হামে শিশুমৃত্যুর মিছিল, ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগীর ঢল—দুই রোগেই চাপে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা * হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি ৪৭ হাজারের বেশি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আগস্ট মাসজুড়ে দেশে একসঙ্গে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু আগস্ট মাসেই হাম ও হামের উপসর্গে অন্তত ১৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৪৩ জন। অর্থাৎ আগস্টে দুই রোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৭৬ জন।

মাসের শেষ দিনেও পরিস্থিতির উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ শিশু। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও চারজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৬৩ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আগস্টে হামে নতুন আক্রান্ত ৩২ হাজারের বেশি: গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৯। ওই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ জন।

আগস্টের শেষ দিনে এসে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫।

অর্থাৎ আগস্টে সন্দেহজনক হাম রোগী বেড়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৯০০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী বেড়েছে ৩ হাজার ২৫৩। আর হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৫৮ জন।

১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব করলে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী ১৯ হাজার ৩১২। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন।

মৃত্যুর বড় বোঝা শিশুদের ওপর: হামের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে উঠেছে শিশুমৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৭৩।

আগস্টের শুরুতেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১, নিশ্চিত রোগী ১৬ হাজার ১৮০ এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। ওই দিন পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ছিল ৮৪০।

পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ৯১৮-এ পৌঁছায়। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬০। ওই ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হওয়ায় হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৭৪ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৯৯।

টিকাদানের ঘাটতিতে ঝুঁকি বেড়েছে: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, বর্তমান হাম পরিস্থিতির পেছনে শিশুদের টিকাদানে তৈরি হওয়া ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আগস্টে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০২৪ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া, নিয়মিত টিকাদানে দুর্বলতা এবং পরবর্তী সময়ে পরিচালিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ার কারণে ঝুঁকি জমতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হাম টিকা পায়নি। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতায় শিশুদের রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতি সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর মতে, হাম প্রতিরোধে শুধু টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; কার্যকরভাবে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা আরও দেখছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি অংশ অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। ফলে হাম তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আগস্টে ডেঙ্গুর চাপও বেড়েছে: হামের পাশাপাশি আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষে ডেঙ্গুতে চলতি বছরের মোট মৃত্যু ছিল ৫৪। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই মারা যায় ৩৬ জন। ওই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি রোগী।

আগস্টে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৭। একই সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬।

২২ আগস্টের মধ্যেই আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের পুরো মাসের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি হয়ে যায়। তখনও মাস শেষ হতে ১০ দিন বাকি ছিল। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫৮৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৯০ জনের।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের অংশ ছিল বেশি। ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, মাসটি ডেঙ্গুর মৌসুমি সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় হয়ে উঠতে পারে। বর্ষার বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি ডেঙ্গুর বিস্তারের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারী বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নির্ধারণে শুধু মশা নয়, মৌসুমি পরিস্থিতি, তাপমাত্রা এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি সতর্কতা হলো, শুধু নিয়মিত ফগিং করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে লার্ভা ধ্বংস এবং তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

দুই রোগে একই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হাম ও ডেঙ্গুর প্রকৃতি আলাদা হলেও একই সময়ে দুই রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে এবং আক্রান্তদের একটি বড় অংশের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।

হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গুতে প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মেডিসিন ও শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন হাসপাতালের ওপরও বাড়ছে রোগীর চাপ।

আগস্ট শেষ হলেও দুই রোগের ঝুঁকি শেষ হয়নি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী মাসগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

হামের ক্ষেত্রে টিকাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস ও তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

দুটি রোগের পরিস্থিতিই এখন একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে—হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি আগাম ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো কঠিন।


নির্বাচিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।’

ঢাকা জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাদককে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিস্তারের সঙ্গে অপরাধও বাড়ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’’ দর্শন ধারণ করে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’

পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদী দূষণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।


নির্বাচিত

আনসারের তৎপরতায় বিমানবন্দরে হারানো ল্যাপটপ ফিরে পেলেন প্রবাসী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় নিজের হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন এক সৌদি প্রবাসী। গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় অসাবধানতাবশত ট্রলির উপর ল্যাপটপটি ফেলে রেখেই বাইরে চলে যান তিনি।

রিয়াদ থেকে এসভি-৭৯৮ ফ্লাইটে আসা ওই প্রবাসীর নাম মো. হযরত আলী। ক্যানোপি এলাকায় পরিত্যক্ত ল্যাপটপটি দেখতে পেয়ে নিরাপদে হেফাজতে নেন দায়িত্বরত এপিসি মো. গোলাম রব্বানী। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে অবহিত করেন।

পরে এভসেক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে মাইকিং করে প্রবাসীর সন্ধান করা হয়। একপর্যায়ে প্রকৃত মালিক প্রবাসী হযরত আলীকে খুঁজে পেলে ডিএসও অফিসে আনা হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ল্যাপটপটি তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ল্যাপটপটি ফেরত পেয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হযরত আলী। দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।


নির্বাচিত

সুনামগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)। গত রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে মালিকবিহীন একটি কাভার্ড ভ্যান এবং তার ভেতর থেকে ২,৬৮৪ পিস বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের ভারতীয় শাড়ি আটক করা হয়। জব্দ শাড়ি ও গাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান হৃদয়, ২৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. সেলিম রানা এবং ১০ জন বিজিবি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক জাকারিয়া কাদির জানান, ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাই পথে অবৈধ ভারতীয় পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

জব্দ শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

ফ্যাসিস্টদের দোসররাই দেশে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের দোসররাই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

মন্ত্রী বলেন, তারা প্রথমে জ্বালানিসংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চেয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট চক্র সারা দিন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করত। সরকারের কঠোর পদক্ষেপে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও ফ্যাসিবাদের আমলের ডিলাররাই এই সংকট তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা হলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ও অকৃষি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে 'হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার' স্থাপন এবং ৪২ হাজার ৩৯০ জন নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মঈনুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।


নির্বাচিত

গোয়ালন্দে সার-কীটনাশকের দোকানে অভিযান, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অনুমোদনহীন ও বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক সংরক্ষণের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১৭ বস্তা সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চর মহিদাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে কুদ্দুস ফকিরের ছেলে রুবেল ফকিরের মুদি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় রুবেল ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকানে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে রুবেল ফকিরের দোকানের পাশেই কুদ্দুস ফকিরের দোকানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় কুদ্দুস ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ সময় তার দোকান থেকে ইউরিয়া ৪ বস্তা, ডিএপি ৯ বস্তা ও এমওপি ৪ বস্তাসহ মোট ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক এবং বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে কৃষকরা প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’

এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ আইনবিরোধী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।’


নির্বাচিত

খুলনায় অনলাইন জুয়া, মাদক এবং বাল্যবিবাহ রোধে সেমিনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিরোধকল্পে করণীয় শীর্ষক সেমিনার সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়। তবে এই সামাজিক ব্যাধিগুলো কারও একার পক্ষে বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। সকলে মিলে এ ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।’

খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম। এ বিষয়ের ওপর আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ ও নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক জানান, সরকার আনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ পাস করেছে। এই আইনে আনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া ও বেটিং পরিচালনায় সর্বোচ্চ পাঁচ থেতে সাত বছরের কারাদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কারিগরি বিষয় তুলে ধরেন।

সেনিমারে বিভাগের ১০ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে ড্যাবের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্য সচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।


নির্বাচিত

গুরুদাসপুরে নির্মাণের তিন বছর পর ২২ লাখ টাকার ভবন ১ লাখে বিক্রির অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার না হতেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা স্কুল ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের তির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দিকে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এই চালু ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভালো মানের একটি ভবন এত অল্প সময়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকা (JICA) ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (UDGDP) অর্থায়নে এলজিইডি ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে একটি পুরোনো আধাপাকা ঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত রোববার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ভবনটির কোনো চিহ্ন নেই। ইট, রডসহ সব নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে এখন পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, ভবন ভাঙার সময় কোনো মাইকিং বা উন্মুক্ত দরপত্র ডাকা হয়নি। এত কম সময়ে সরকারি ভবন ভেঙে ফেলে বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।

অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দরকার ছিল। সময় কম থাকায় আগে অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন এবং দরদাতার মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।’

সরকারি কোনো দপ্তরকে না জানিয়ে ভবন ভাঙায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা না মেনে প্রধান শিক্ষক এটি করেছেন। তাকে কৈফিয়ত তলব করার প্রক্রিয়া চলছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিক্রির টাকা বা হিসাব আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে বোয়ালখালীতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৮)। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য, মামলার বাদীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত এক গ্রাম পুলিশকে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সিআর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ওই পরোয়ানা কার্যকরে অভিযান চালায় বোয়ালখালী থানা পুলিশ। অভিযানে মামলার বাদীও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পুলিশের।

ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান মহিউদ্দিন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক দাশ।

এ ঘটনায় মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) ও মোক্তার হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করা হয়েছে।

বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে পুলিশ সদস্যদের হাতে আঁচড় ও কামড় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার এবং তার আত্মীয় গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

জামালপুর-বগুড়ায় দুই মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর ও বগুড়া প্রতিনিধি  

জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় বগুড়ায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

সোমবারের (৩১ আগস্ট) দুই মামলায় আদালতের এ রায়ে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড: জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে ছাত্তার আলী (৪২), শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৪) এবং নায়েব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২)। তাদের মধ্যে ছাত্তার আলী রশিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকরপুর ভাটিপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়ায় হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড: বগুড়ায় মুদি দোকানে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয়কে (২৮) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) ও রাব্বি (২৪)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আশিক (২২), মো. শাকিল (২৩) ও মতিন (২৫)।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয়ের মালিকানাধীন হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে আসামিরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।’


নির্বাচিত

আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। এ সময় কারখানাকে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ নামকরণসহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করার দাবি জানানো হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) দিনে অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ মাস ধরে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। তাদের সঙ্গে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরাসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা শ্রমিক শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুহেল পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব পারভেজ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জয়ন্তি বিশ্বাস, উপজেলা ট্রাক-মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহালম, সাধারণ সম্পাদক চপল খাঁ, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখতে পারলেই সরকার লাভ হবে। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য করতে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে।

এতে কারখানাটি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সার কারখানাগুলো যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানা বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার উৎপাদন চালু দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই সরকার আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করুক অথবা একটি নতুন কারখানা স্থাপন করা হোক।’


নির্বাচিত

banner close