সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাগেরহাটে যুবককে ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ১২:৫৬
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:৫৪

বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।

পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।

শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।

শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, শোকে স্তব্ধ পরিবার; খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবারের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই গত বুধবার নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই পরিবারের সদস্যদের। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুল ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন নজরুল।

নজরুলের পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়নি। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকে তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি নজরুল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েন তার ফুফু আবেদা বেগম। গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলে কী কারণে জেলে ছিল, তা এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। যাওয়ার ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এখন ঋণদাতারাও চাপ দিচ্ছেন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে থাকে, তাহলে এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।’


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত রাজশাহী: ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহীতে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী আসছেন। তার আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’ দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

রাজশাহীবাসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করা। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের পক্ষ থেকে।


নির্বাচিত

পাবনায় ১১ থানায় যানবাহনের স্তূপ, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

* ২০ হাজারের বেশি যানবাহন পড়ে আছে বছরের পর বছর * মামলা নিষ্পত্তি ও নিলামে ধীরগতি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ১১টি থানার চত্বরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ২০ হাজারের বেশি জব্দ করা যানবাহন। রোদ-বৃষ্টি ও ধুলাবালুর মধ্যে অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মতো মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের মূল্যও কমছে। অন্যদিকে, মামলা নিষ্পত্তি ও নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে একদিকে থানার জায়গা আটকে থাকছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে সম্ভাব্য রাজস্ব।

সরেজমিনে পাবনা সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা চত্বরে সারি সারি যানবাহন পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত যানবাহনের ভাগাড়। একই চিত্র জেলার ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর থানায়ও। বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা এসব যানবাহনের অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে।

পাবনা কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি থানায় মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ২০ হাজারের বেশি যানবাহন রয়েছে। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় জব্দ করা যানবাহনের পাশাপাশি এসবের মধ্যে রয়েছে চোরাই ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন।

পাবনা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সেলিম রেজা বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় জব্দ করা যানবাহনগুলো নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহন রাখার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত জায়গাও নেই। ফলে থানাগুলোকে খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখতে হচ্ছে।

আইনি জটিলতার কারণে অনেক যানবাহনের মালিকও সেগুলো ফেরত নিতে পারছেন না। আবার মামলা নিষ্পত্তির পরও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হলে যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এতে যানবাহনের বাজারমূল্য কমার পাশাপাশি থানার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাও দখল হয়ে থাকছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে।

দ্রুত নিলামের পরামর্শ আইনজীবীদের: পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবু বলেন, মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে যেসব যানবাহন নিলামে বিক্রির উপযোগী, সেগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল বলেন, জব্দ করা যানবাহন নিয়ে থানা প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এর মধ্যে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলার যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে ধীরে ধীরে এ জট কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

সব থানাকে নির্দেশ পুলিশের: পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ বলেন, জেলার ১১টি থানাই তিনি পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি থানায় বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহন থানা চত্বরে বিশৃঙ্খলভাবে পড়ে থাকায় জায়গার অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি যানবাহনগুলোও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব মামলার আলামত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলো আদালতের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে সরকার রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে থানার জায়গাও অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। জব্দ করা যানবাহন নিষ্পত্তির বিষয়ে জেলার সব থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জব্দ করা যানবাহনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা গেলে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে থানাগুলোর জায়গার সংকট নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যানবাহনের জট কমানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

জীবনসঙ্গী খুঁজতে ২৩ অক্টোবর বসছে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বউমেলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম আর মিজান, দিনাজপুর

জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান আর উৎসবের আমেজে আগামী ২৩ অক্টোবর দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বউমেলা। শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ মেলায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পছন্দ করার সুযোগ পান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয় বিয়ে।

স্থানীয়ভাবে বাসিয়া হাটি নামেও পরিচিত এ মেলা সাধারণত শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়। তবে গোলাপগঞ্জ হাটের কারণে এবার একদিন পিছিয়ে ২৩ অক্টোবর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বীরগঞ্জের একটি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চলবে এ মিলনমেলা। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

জীবনসঙ্গী খোঁজার আয়োজন: বীরগঞ্জ আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলার প্রধান আকর্ষণ সাঁওতাল তরুণ-তরুণীদের জীবনসঙ্গী খোঁজা। তরুণীরা রঙিন পোশাক ও ফুলের সাজে এবং তরুণেরা বাহারি সাজে অভিভাবক ও স্বজনদের সঙ্গে মেলায় আসেন। পরিচিত হওয়া, পারস্পরিক পছন্দ এবং পরিবারের সম্মতির মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বিকেল থেকে শুরু হয় মূল আয়োজন। মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের অনেকের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অনেকে সারা বছর এ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। সন্ধ্যার আগে একে অপরকে পছন্দ হলে তারা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।

স্থানীয় আদিবাসী হাবিব লাকড়া বলেন, সময়ের সঙ্গে এ মেলার বিয়ের প্রথায় পরিবর্তন এসেছে। আগে সামাজিক বিধিবিধান ছিল কঠোর। এখন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পছন্দ করলে অভিভাবকদের জানান। দুই পরিবার সম্মত হলে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ মেলায় পছন্দ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয় না; পারিবারিক সম্মতিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

নাচ-গান, কেনাকাটা ও মিলনমেলা: বউমেলা শুধু জীবনসঙ্গী খোঁজার আয়োজন নয়, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরারও উপলক্ষ। মেলায় চলে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান। পাশাপাশি বসে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালা, মাটির খেলনা, গৃহস্থালির সরঞ্জাম ও খাবারের দোকান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে মেলাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, পরিচিতজনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার সুযোগ পান অনেকে।

আয়োজক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বপুরুষদের হাত ধরে এ মেলার প্রচলন হয়েছে। তবে ঠিক কবে এর সূচনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা বছরে অন্তত একবার একত্র হওয়ার সুযোগ পান।

মেলাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহে এবারও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বীরগঞ্জের শত বছরের বেশি সময়ের এই বউমেলা।


নির্বাচিত

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ডাকাত আতঙ্ক, রাতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ী থেকে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত অংশে রাতের বেলায় ডাকাত আতঙ্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের ওই অংশে রাতে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। সম্প্রতি রাতে ওই এলাকায় ডাকাত চক্রের তৎপরতার খবরে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে রাতে নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন এবং আলোকসজ্জা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে পরিবহন চালকরা বলেন, রাতে চলাচলের সময় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পুলিশের টহল বাড়লে অপরাধ কমবে এবং যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


নির্বাচিত

কুষ্টিয়া যুবদলে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলায় জোর

* নবগঠিত কমিটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনার আহ্বান
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফুয়াদ রেজা ফাহিম। নতুন কমিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের একটি তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কমিটি গঠন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানকে জড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা তার মতে, তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ব্যাংককে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ফাহিম বলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সেখানে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা হলে তাদের ছবি তোলা হয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, ওই সাক্ষাতের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই।

অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনে মতভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ফাহিম বলেন, গত ১৭ বছরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা বাধার মধ্যেও দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ-সংক্রান্ত ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রদলে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে যুবদলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ফাহিম বলেন, সাত বছর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী কমিটিতে সিনিয়র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যও তিনি নাকচ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সভাপতি বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও সংগঠন সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা উচিত। গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল আলোচনার মাধ্যমে সাংগঠনিক পরিবেশ আরও ইতিবাচক করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনি, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ম সম্পাদক জব্বার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি ও দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ইবি চার প্রশাসনিক পদে রদবদল ও নতুন নিয়োগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চার অফিস আদেশে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষক ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, প্রেস প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মোহাম্মদ মাহবুব মুর্শিদ এবং সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

অফিস আদেশে বলা হয়, আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলীর মেয়াদ ২১ অক্টোবরে শেষ হওয়ায় তদ্বস্থলে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামকে, টিএসসিসির পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ায় তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানকে, প্রেস প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মফিজুল ইসলামের মেয়াদ ২০ অক্টোবরে শেষ হবে; তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মো. মাহবুব মোর্শেদকে উপাচার্য নিয়োগদান করেছেন।


নির্বাচিত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাগরের মৃত্যু, ছেলের মরদেহ চান বাবা-মা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

সংসারের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনার তরুণ মো. সাগর আবদুল্লাহ। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। কিন্তু আরও বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে এক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। সেই যুদ্ধেই প্রাণ হারান সাগর। তবে মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর গত শনিবার সহযোদ্ধার ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তার পরিবার। এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন অসুস্থ বাবা-মা।

সাগরের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকায়। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। ছেলেকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন, অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাবেন এবং মায়ের কষ্টের দিন শেষ করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কান্নায় রূপ নিয়েছে।

সরেজমিনে ছায়কোট গ্রামের সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে বসে আছেন সন্তান হারানো কবীর হোসেন। কে গেল কে আসল বাড়িতে তার কোনো খেয়াল নেই।

গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পেয়ে কান্না শুরু করেন। কবীর হোসেন বিড়বিড় করে বলতে থাকেন একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হওয়ার পর আর রিকশা চালাতে পারেন না তিনি। এর মধ্যে তার শরীরে ধরা পড়েছে ক্যান্সার। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাতে তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধারদেনা করে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে সাগরকে রাশিয়ায় পাঠান তিনি। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এতে পরিবারের অভাব দূর হওয়ার আশা দেখছিলেন স্বজনরা।

কিন্তু বেকারিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখান। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল বাবা-মায়ের। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধা বন্ধুর ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। আকস্মিক এ খবরে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

সাগরের বোন বলেন, পরিবারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিলেন তার ভাই। তাকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই ভাই আর বেঁচে নেই এ কথা মেনে নিতে পারছেন না তারা। শেষবারের মতো ভাইয়ের মরদেহটি দেশে আনতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান।

সাগরের প্রতিবেশীরাও তার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশে ভালো কাজের আশায় গিয়ে যেন আর কোনো তরুণ এভাবে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সাগরের বাবা কবীর হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে অনেক টাকা ধারদেনা করতে হয়েছে।’ তার আশা ছিল, ছেলে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখন ছেলেকে হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে কান্না থামছে না মা দেলোয়ারা বেগমের। দিনরাত ছেলের ছবি হাতে নিয়ে অনবরত কেঁদে চলছেন। বারবার মোবাইল ফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকেন যদি ছেলের ফোনকল আসে। যদি ছেলে একবার মা বলে ডাক দেয়।

ছেলে মরে গেছে। ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। যে ছেলেকে ঘিরে সংসারের দুঃখ-কষ্ট দূর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তিনি।

এদিকে কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি পরিবার।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেলে সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সবই করবেন।


নির্বাচিত

চঞ্চল ছিলেন নেতা-কর্মীদের জন্য অনুকরণীয় ছাত্রনেতা: মনি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩১
খুলনা ব্যুরো

শহীদ ওয়াহিদুজ্জামান চঞ্চল ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক অকুতোভয় সিপাহসালার। তিনি ছিলেন মেধাবী এবং দক্ষ সংগঠক। খুলনার ৯ উপজেলা এবং মহানগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
গত রোববার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শহীদ ওহিদুজ্জামান চঞ্চলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি।

তিনি বলেন, ‘শহীদ চঞ্চলের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।’ বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের শহীদ ওয়াহিদুজ্জামান চঞ্চলের আদর্শ, সাহসিকতা, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শেষে দোয়া মাহফিল হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপুর সভাপতিত্বে এবং কামরান হাসানের পরিচালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, মেহেদী হাসান দীপু, আনোয়ার হোসেন, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, গিয়াস উদ্দিন বনি প্রমুখ।


নির্বাচিত

ফুলবাড়িয়ায় জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার আসামিদের ২ দিনের রিমান্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪ জনকে দুই দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নং আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমা রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ১০ হাজার জাল টাকাসহ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার আ. রশিদ ফকিরের ছেলে মোস্তফা ফকির (৪৮) রাজা বিশ্বাসের ইসমাইল বিশ্বাস (৪৯) ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (২৮) ও আইয়ুব আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২৫)কে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রোববার রিমান্ড শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

ফুলবাড়িয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান ৪ আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচিত

মাগুরা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুর চাপ, বাড়ছে সংক্রমণের শঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে স্থান সংকুলানের সমস্যা। প্রতিটা ওয়ার্ডে মশারির ব্যবস্থা থাকলেও কোনো রোগীকে মশারির ভেতর থাকতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্য রোগীদের চাপ বাড়ায় শয্যা ব্যবস্থাপনায়ও তৈরি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে অন্য রোগীরা অবস্থান করায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ আর অনিয়মের কারণে দিন দিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

মাগুরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ সুমাইয়া আহম্মেদ জানান, আগের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ভর্তি হয় ৮৩ জন । গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর মাত্র দুদিনেই ভর্তি হয় ৩৪ জন। ক্রমেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তবে এ পর্যন্ত আমাদের এখানে কোন ডেঙ্গু রোগী মারা যায়নি। সুস্থ হয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছে।

নার্স হালিমা জানান, রোগীদের বারবার মশারির মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে তারপরও তারা মশারি ব্যবহার করে না। আমরা প্রতিটা রোগীকেই মশারি দিয়েছি। কিছু বলতে গেলে অনেক সময় রোগীর লোকজন আমাদেরই বকাবকি করে।

সদর উপজেলার জামরুলতলা থেকে চিকিৎসা নিতে আশা ভারতী বিশ্বাস বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের মশারির বাইরে থাকার কথা না। এমনকি বাইরে রোগীর চাপ বেশি থাকলে অন্য রোগীদেরও ডেঙ্গু বিভাগে রাখা হচ্ছে, এটা তো ঠিক না। আমরা সব সময় ভয়ে থাকি, একটা মশা যদি ডেঙ্গু রোগীদের কামড় দিয়ে বাইরের রোগীদেরও কামড় দেয় তাহলে তো অন্য রোগীদেরও ডেঙ্গু হওয়ার ভয় থেকে যায়।’

মাগুরা কাটাখালি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জান্নু শেখ জানান, আমি আজ চার দিন সাধারণ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসেছি এখন দেখছি ডেঙ্গু রোগীরা কোন নিয়ম মানছে না। তাই আমরাও আতঙ্কে আছি। অনেকে সেই ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

মাগুরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান জানান, এ পর্যন্ত মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় চারশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। চিকিৎসা অবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো রোগী মারা যায়নি। ডেঙ্গু রোগীদের সবসময় মশারির মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে কোথাও কোনো পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সব নিয়ম মেনে চললে ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মশা নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


নির্বাচিত

কেসিসির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরীর সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে কেসিসি মহানগরীতে নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত শনিবার সকালে সরেজমিন উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্ন অভিযানের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় সকাল থেকে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয় এবং নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিরালা মোড়সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে হোস্টেলসংলগ্ন পুকুরের কচুরিপানা অপসারণসহ জমে থাকা পানি নিষ্কাশন, ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও মশার ওষুধ ছেটানো হয়।

উল্লেখ্য, মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ হোস্টেলসংলগ্ন পুকুরের পানি ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পানির মান পরীক্ষা করা হবে। ফলাফল পাওয়াসাপেক্ষে পুকুরে সাঁতারসহ বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে বলে প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের অধ্য প্রফেসর মো. মনিরুল ইসলাম সরদার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলদি সিটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর তুষার কান্তি রায়, ২৬নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী রনি জামিল চৌধুরী, হেলদি সিটি ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ, বিডি কিনের জেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম এবং কিন আপ খুলনার পরিচালক মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হেলদি সিটি ফোরামের সদস্য, বিডি কিনের প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় বাসিন্দা, এলাকার নেতারা ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

সরকারি নার্সের বেসরকারি ক্লিনিক ঘিরে নানা অভিযোগ

# নার্সকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, অনুমোদনের চেয়ে বেশি রোগী # মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সেই চলছে কার্যক্রম
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা মানসিক হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিজ দায়িত্ব পালন না করে দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নিজ ক্লিনিকে ভর্তি করার অভিযোগ উঠেছে।

নিজের পেশার যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ মানসিক হাসপাতালে নামে ক্লিনিক। রোগী ভাগিয়ে নিজ ক্লিনিকে ভর্তি করাই যেন তার মূল পেশা। হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। এ ছাড়া নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। একইকক্ষে গাদাগাদি করে রোগী রাখা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নার্স না থাকা, একই হাসপাতালে মানসিক রোগী ও মাদকসেবী রোগীদের চিকিৎসা, মধ্য শহরের মধ্যে চাপা সড়কে গাড়ি পার্কিং জায়গা না থাকাসহ নানা অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহনাজ সুলতানা চম্পা হলেও, কাগজে কলমে মালিক করে রেখেছেন তার বড় ছেলে ইউসুফ বিন মিজানকে। সরকারি হাসপাতালে চাকরি করার পরেও কোন নিয়মে হাসপাতাল চালাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় নানা অনিয়ম। অফিসে ঢুকতেই প্রধান ফটকে চোখে পড়ে তালা দেওয়া। ডাকতেই বেরিয়ে আসেন হাসপাতালটির ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেওয়া আকাশ হোসেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি তালা খুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন।

তার মাধ্যমে হাসপাতালটি সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মানসিক হাসপাতাল ও মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি একটি ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ভাড়া নিয়ে চলছে। হাসপাতালের রোগীর ক্যাপাসিটি অনুমোদন রয়েছে ১৭ জনের। বর্তমানে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৮ জন।

ঘুরে দেখা যায়, একটি ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকার নিয়ম থাকলেও এক রুমে ৫টি বেড একসাথে লাগানো। সেখানেই গাদাগাদি করে থাকছে রোগীরা। যদিও মানসিক রোগী ও মাদক রোগী আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। পাশের ছোট্ট একটি কক্ষে চলে রোগীদের খাবার খাওয়া। পাশেই টয়লেট। এ সময় হাসপাতালটিতে অন্য কোনো নার্সের (পুরুষ বা মহিলা) দেখা মেলেনি। মধ্য শহরে জনবহুল এলাকায় হাসপাতালটির অবস্থান হওয়ায় গাড়ি পার্কিংয়ের নেই কোনো ব্যবস্থা।

ম্যানেজার আকাশ হোসেন জানান, হাসপাতালটিতে ঢাকা ও পাবনার তিনজন মানসিক ডাক্তার রোগী দেখেন। এর মধ্যে ঢাকা থেকে একজন ডাক্তার সপ্তাহে একদিন আসেন। পাবনার ডাক্তার যখন প্রয়োজন তখন এসে রোগী দেখেন। এ ছাড়া সবসময় জন্য কোনো ডাক্তার সেখানে থাকেন না।

শাহনাজ সুলতানা চম্পা ১৯৯৮ সালে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নার্স হিসেবে যোগদান করলেও এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। বদলিযোগ্য চাকরি হলেও তাকে এত বছরে একবারও কোথাও বদলি করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দালালের মাধ্যমে পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসেন নিজের ক্লিনিকে। মানসিক হাসপাতালের সরকারি ওষুধ কারচুপিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর এসব অপকর্ম তিনি সিভিল সার্জন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, পৈতৃক বাড়ি ঈশ্বরদীতে হলেও পাবনা পৌর শহরের পাওয়ার হাউসপাড়া এলাকায় কোটি টাকা খরচে জায়গা কিনে বহুতল ভবন করেছেন শাহনাজ সুলতানা চম্পা। ছোট ছেলে ইউনুস বিন মিজান পূর্নকে অর্ধকোটি টাকা খরচে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছেন লেখাপাড়া করার জন্য।

এদিকে লাইসেন্সের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালে। নবায়ন করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে। আর নবায়ন করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও নবায়ন করা হয়নি। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ আছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।

সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে মানসিক হাসপাতাল থেকে নিজের বাংলাদেশ মানসিক হাসপাতাল ও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ছুটে আসেন শাহনাজ সুলতানা চম্পা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনার সময় বড় ছেলেটা বিপথে চলে যাবে ভেবে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে এই হাসপাতালটি করে দিয়েছি। তার নামেই সবকিছু, সেই মালিক। আমি মা হিসেবে তার পাশে রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছেলে স্কলারশিপ পেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গেছে। আমার কাজিনরা আর্থিক সহযোগিতা করে তাকে পাঠিয়েছে। বাড়ির জায়গা কেনা ও বাড়ি করার ক্ষেত্রে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছি। আর শহরের মধ্যে ওই সময় নিজস্ব ভবন ছিল না, তাই ভবন ভাড়া নিয়ে হাসপাতালটি করা হয়েছে। কেউ হয়তো ষড়যন্ত্রমূলক শত্রুতাবশত আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

পাবনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ মানসিক হাসপাতালের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেওয়া আছে। তাদের নবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শহর থেকে বাইরে হাসপাতালটি স্থানান্তর করবে বলে আগামী দুই বছর সময় নিয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি মানসিক হাসপাতালসহ জেলায় সকল ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি।’

পাবনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল মান্নাফ কবির বলেন, ‘পাবনায় দুটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স রয়েছে। দুটিরই লাইসেন্স নবায়ন করা আছে। তবে এর আগেও অভিযোগ ওঠায় তাদের সতর্ক করা হয়েছে। আবার যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে তাদের নজরদারির মধ্যে আনা হবে।’

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসব হাসপাতালের লাইসেন্স দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আমরা শুধু তাদের দেখভাল করি। তারপরও বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব। কোনো অনিয়ম পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

banner close