বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।
পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।
শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।
শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হোসেন একজন আসামির উপস্থিতে এই রায় প্রদান করেন। মামলার অপর শিশু আসামির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দণ্ডিতরা হলেন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে আউয়াল মিয়া এবং বরিশাল সদর উপজেলার সারসী এলাকার নুরু মুন্সির ছেলে সাগর মুন্সি।
নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বিআরসি উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এজহারপত্রে জানান, ২০২১ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে হ্যালোবাইক চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্র সোহান মিয়া। এরপর বিকেলে খাসেরচর-ধল্লা বাজারের মধ্যবর্তী রাস্তার পাশ থেকে সোহান মিয়ার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহতের মা লাইলী বেগম বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করেন।
সিংগাইর থানার তদন্তকারী অফিসার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দালিখ করেন। এরপর মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও ১৯ জনের সাক্ষগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আসামি আউয়াল মিয়ার উপস্থিতিতে মামলায় পৃথক দুটি ধারায় আউয়াল মিয়া ও সাগর মুন্সিকে মৃত্যুদণ্ড একই সঙ্গে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফম নূরতার আলম বাহার সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের চিনোড়া মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) দুটি গভীর নলকূপ (এসটিডব্লিউ) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় এক দশক ধরে চলমান বিরোধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় দুটি সেচ প্রকল্প চালুর পর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। সময়মতো সেচ না পাওয়ায় অনেক জমিতে ব্যাহত হচ্ছে ইরি-বোরো ধানের আবাদ। দ্রুত তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
বরেন্দ্র অধ্যুষিত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চিনোড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিকে ঘিরেই। কিন্তু এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ পুরোপুরি নির্ভর করে বিএমডিএর গভীর নলকূপের সেচের ওপর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহ ২০০৯ সালে সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিনোড়া মৌজায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন এবং নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে তার অভিযোগ, ২০১৯ সালে একই এলাকায় বিদ্যমান সেচ স্কিমের নির্ধারিত দূরত্বের বিধিমালা অনুসরণ না করেই আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন সাধন বর্মন নামের আরেক ব্যক্তি। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামনেই ইরি-বোরো মৌসুম। সময়মতো সেচ নিশ্চিত না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে হাজারো কৃষক, কমে যেতে পারে কৃষি উৎপাদনও। তাই নতুন মৌসুম শুরুর আগেই সরেজমিন তদন্ত করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার কৃষকরা।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. অলিউল্লাহ বলেন, এ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা সেচ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে নিজের সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। দ্রুত বিষয়টির সুরাহার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দুই পক্ষের বিরোধের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত সেচ না পাওয়ায় অনেক জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাহত হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন।
রেজাউল করিম ও আরিফুজ্জামান নামের স্থানীয় দুই কৃষক বলেন, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ ও অবৈধ প্রকল্প যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত সাধন বর্তন বলেন, নিয়ম মেনেই নলকূপ স্থাপন করেছি। নিজের বাড়ির ভিতরে নলকূপ স্থাপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সুনিদিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিক আজিজ বলেন, কোনো ধরনের বিরোধ নয় বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত বৈধ সেচ প্রকল্প থেকেই যেন ন্যায্যমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, যদি কোনো সেচ প্রকল্প বিধিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদন পেয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ লুৎফুল কবির প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও নিরলসভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছে চিকিৎসা পেয়ে বেজায় খুসি রোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ লুৎফুল কবির এর প্রশাসনিক চেম্বারে সারিবদ্ধভাবে পুরুষ ও মহিলা দেখা যায় তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, এবং একজন একজন করে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বের হচ্ছেন। দিনের বেলা ইনডোরের চিকিৎসা সেবা দেন আরএমও ডাঃ জাহিদ হাসান। ডা. মোঃ লুৎফুল কবির রাতে নিয়মিত ইনডোরের রোগী দেখেন। তিনি দিনের বেলাও প্রশাসনিক চেম্বারে রোগী দেখেন। আউটডোরের টিকিট কেটে চিকিৎসা সেবা নেন রোগীরা।
কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বললে জানা যায় ২৪ ঘণ্টায় জরুরি সেবা চালু রয়েছে তারপরও জরুরি সেবা চিকিৎসা না নিয়ে পছন্দের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ লুৎফুল কবির এর কাছে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে ছুটে আসি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ লুৎফুল কবির এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বোদা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নত করার জন্য প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, তারা ভালো চিকিৎসা পাওয়ার কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসে আমার কাছে।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যোগদান করেছেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নবনিযুক্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলামকে ফুল দিয়ে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।
এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য শিক্ষক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ফুলের তোড়া দিয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে অভিনন্দন জানান।
এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন এবং রাবিপ্রবির সার্বিক বিষয়াদি অবহিত হন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘মেরিন বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিষয়ে গবেষণা করে ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এর ‘সমুদ্র বিজ্ঞান’ (মেরিন সায়েন্স) বিভাগ থেকে এম.এস.সি (স্নাতকোত্তর) এবং ১৯৯৬ সালে বি.এস.সি (সম্মান) সম্পন্ন করেন।
তিনি ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এ লেকচারার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হন।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাবিপ্রবির চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’-এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে প্রো-ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চ্যান্সেলরের আদেশে ৫ শর্তে প্রো-ভিসি পদে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী চার বছরের জন্য তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠিতে ওয়ালটনের কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা কার্ডধারী পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার মৃত ইমরান হোসেনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছে দেশের সর্বৃবহৎ ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্য বিক্রয় এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালটন প্লাজা’। গত সোমবার বিকালে ঝালকাঠি সদর ব্রাঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ইমরান হোসেনের স্ত্রী রুবীনা আক্তারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি স্যংঙ্গুইন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহীন খলিফা, ওয়ালটনের ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান ও পিরোজপুর জেলার রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আরাফাত হোসেন।
এ সময় ওয়ালটন প্লাজা ঝালকাঠি সদর ব্রাঞ্চের ম্যনেজার মো. সাজ্জাদুর রহমান এবং কাউখালী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার ইয়ামিন আহম্মেদসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য স্টাফ ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ালটন প্লাজা থেকে দেয়া তথ্য বলছে, পশ্চিম ঝালকাঠি গাউসুল আজম সড়ক এলাকার ২৪ বছর বয়সি ইমরান হোসেন ওয়ালটন প্লাজা থেকে গত বছরের ২০ নভেম্বর ৩১ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজ কিস্তিতে ক্রয় কোম্পানির কিস্তি সুরক্ষা কার্ড গ্রহণ করেন।
প্রথমে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী সাত মাস কিস্তি পরিশোধ করে শেষ কিস্তিসহ সাড়ে ৬ হাজার টাকা বকেয়া রেখে চলতি বছরের ২১ জুন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ইমরান হোসেন।
তবে মৃত ইমরান কোম্পানির কিস্তি সুরক্ষা কার্ডধারী হওয়ায় তার পরিবারকে গুনতে হয়নি বকেয়া টাকা। মৃত গ্রাহকের পরিবারদের সমুদয় বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করে আরও ৪৩ হাজার ২৪৫ টাকা নগদ দেওয়া হয় কিস্তি সুরক্ষা কার্ডধারী পরিবারটিকে।
ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তি সুরক্ষার আর্থিক সুবিধা পাওয়া রুবিনা আক্তার বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর এই পাওয়া তার খেটে খাওয়া জীবনের জন্য অনেক বড় ঘটনা।’
ওয়ালটনের ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান বলেন, ‘এই সুরক্ষা নীতির আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারীদের কিস্তি সুরক্ষা কার্ড প্রদান করা হয়। ক্রয়কৃত পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় ক্রেতার মৃত্যু হলে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়াও সুরক্ষা কার্ডধারীর মৃত্যুকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনাদায়ী কিস্তির টাকাও মওকুফ করে দিচ্ছে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে পৃথক প্রজ্ঞাপনে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নম্বর শর্তানুসারে এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উক্ত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাকে তার মূল পদ—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন
বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি বলেন, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা মহানগরী গড়ে তোলা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে নতুন উদ্যমে এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার আহবায়ক প্রফেসর ডা. পরিতোশ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম মাসুদ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আমানুল ইসলাম ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ডেঙ্গু বিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো: নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: নাজমুল কবির ও ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম। ধন্যবাদ জানান অপসোনিন ফার্মা লি. এর ডেপুটি সেলস ম্যানেজার অসিম কুমার ভৌমিক।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজিরা দেন।
আদালতে হাজিরা শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। নারায়ণগঞ্জে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি হত্যা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে- আর আজকে আমি-ই কী অপরাধী? এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন- তারা দেখবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, সদর থানার একটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল। সেই মামলায় তিনি আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলায় তিনি ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, পুলিশের গাড়ি বহরে করা হামলার মামলায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে জামিন পেলে তা চেম্বার কোর্টে যায়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আপিল বিভাগে জামিনের রুল নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে ওনার হাজিরা ছিল। যেহেতু উনি দীর্ঘদিন কারাবাসী ছিলেন, শারীরিক অসুস্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির পরিবর্তে আইনজীবী হাজিরা প্রদান করবে এই মর্মে গত তারিখে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। আজ শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আগামীতে আসামির পরিবর্তে তার আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করবে। যতদিন পর্যন্ত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে না নেওয়া হয় ততদিন পর্যন্ত আসামির পরিবর্তে আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করতে পারবে।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি বহরে হামলা হয়। সেই ঘটনায় মামলা হলে আইভীকে আসামি করা হয়।
পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে দফায় দফায় মোট ১২টি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর গত ৩ জুন তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগের আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অভিযান চালালেও, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমি দখলকারী চক্র ও অসৎ স্বার্থান্বেষী মহল অভিযানকে থামিয়ে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য, বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ঢালাওভাবে গাছ কাটার সংখ্যা বাড়িয়ে বলা এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হলেও, গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের চরম অসংগতি ও দখলদারদের আসল চক্রান্ত।
গাছের সংখ্যা ও চাঁদার দাবিতে অসংগতির পাহাড়
উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে সোরগোল তোলে যে অভিযানে ১,২০০টি ফলন্ত মালটা ও কমলা গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। তবে ঘটনার তীব্রতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও মোথা গণনায় দেখতে পায়, কেটে ফেলা গাছের প্রকৃত সংখ্যা ৬২৫টি। অর্থাৎ জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে তথ্যের চরম অতিরঞ্জন করা হয়েছে।
একইভাবে চাঁদা না দেওয়ার কারণে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে—এমন মনগড়া অভিযোগ তোলে দখলদার আলীম উল্ল্যা ও তার পরিবার। কিন্তু অনুসন্ধানে তাদের নিজ নিজ বক্তব্যের মধ্যেই একাধিক হাস্যকর বৈপরীত্য ধরা পড়ে।
আলীম উল্ল্যার নিজের দাবি, চাঁদার অঙ্ক ছিল ৫ লাখ টাকা।
আলীম উল্ল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দাবি করেন, বন বিভাগ তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল।
আলীম উল্ল্যার পিতা মহেব উল্লা সম্পূর্ণ নতুন গল্প ফাঁদে দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৩ দফায় ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, পরিবারটি দাবি করে তারা গত ৩ বছর ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া ও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের কাছে নিপীড়িত হচ্ছে এবং নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছে। অথচ দাপ্তরিক রেকর্ড বলছে—প্রীতম বড়ুয়া কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র ৭ মাস এবং অর্জুন কান্তি দস্তিদার ১৭ মাস আগে। পরবর্তীতে জেরা করা হলে মহেব উল্লা নিজেই স্বীকার করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে তারা কখনোই কোনো টাকা দেননি। এমনকি যার মাধ্যমে টাকা হস্তান্তরের দাবি করা হয়েছিল, সেই ভাগিনা আব্দুস সালাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, টাকা লেনদেনের পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।
মূলত উচ্ছেদ অভিযানটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার গুরুতর অপরাধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলীম উল্ল্যা সরকারি খাসিয়া ও বাঙালি ভিলেজারদের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমির বাইরে গিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করেন। সেখানে তিনি টিলা কেটে পুকুর নির্মাণ ও ফিসারি বানান।
সম্প্রতি তারা বনের ভেতর মাটি কেটে আরও একটি বিশাল গর্ত খনন শুরু করলে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের নেতৃত্বে টহল দল বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদারেরা বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে বনকর্মী শাহিনুর আলম গুরুতর আহত হন এবং আসামিরা বনকর্মী শাহ আলমের সাথে থাকা সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলার এই গুরুতর লঙ্ঘনের পর বন আইনে মামলা হয় এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের প্রায় ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পানের বরজ, রিসোর্ট ও অন্য বাণিজ্যিক কাজে জবরদখল হয়ে আছে। বিশাল এই বনাঞ্চল পাহারায় জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল—যেমন আদমপুর বিটের ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর বনভূমি রক্ষায় আছেন মাত্র একজন বিট কর্মকর্তা ও চারজন বনপ্রহরী।
এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদম্য সাহসিকতার সাথে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েই কামারছড়া, আদমপুর ও কুরমা বিট থেকে কয়েক একর সংরক্ষিত জমি উদ্ধার, অবৈধ টিনের ঘর ও পানের বরজ ধ্বংস এবং চা বাগানের ক্ষতি বাবদ ৯ লাখ ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
ঘটনার সুরাহায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) আশরাফুর রহমান জানান, সরেজমিনে ভুক্তভোগী, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে এলাকার সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় বন সম্পদ রক্ষা করা কোনো একক বিভাগের বিষয় নয়, এটি সার্বজনীন জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য ও বানানো চাঁদার নাটক সাজিয়ে তাদের মানসিকভাবে কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখাই এখন সময়ের দাবি।
আধুনিক মহানগর গড়ে তুলতে ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনাসহ নগর উন্নয়নে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। এটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটে বাড়তি কর আরোপ না করে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন মহানগর বাস্তবায়নে গত রোববার বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে এই বাজেট পেশ করা হয়।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা. পপি খাতুন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সচেতন নাগরিকসহ প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাজেট ঘোষণায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বাজেটে সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রথমবারের মতো মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্নিমাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাতমাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হাওর ও দুর্গম অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
গত রোববার সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় নিয়োগ দেওয়ার মতো শিক্ষক খুব কম পাওয়া যায়। এজন্য আমাদের অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক দিতে হয়। তবে অন্যান্য এলাকাতেও ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে। ফলে কিছু দুর্গম এলাকায় শিক্ষক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। আমরা এই সংকটের টেকসই সমাধানে কাজ করছি, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।’
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরুর দিকে কিছু ভুলত্রুটি ধরা পড়ায় নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হয়েছে। খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে। তাদের অনুমোদনের পরেই খাবার স্কুলে যাবে। শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা কারখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন (সারপ্রাইজ ভিজিট) করবেন এবং খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। স্কুলে খাবার পৌঁছানোর পর তা পরীক্ষার জন্য মায়েদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাবার ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় তথ্য বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়ম মেনে চলা এলাকাগুলোতে বর্তমানে ‘জিরো ত্রুটি’ নিশ্চিত করা গেছে। এরপরেও কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা হয়। এতে সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।