বাগেরহাটের রামপালে শেখ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক যুবককে প্রায় ২২ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ২৩ মার্চ উপজেলার ব্রী-চাকশ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত ২৩ মার্চ দুপুরে ইজিবাইকযোগে বাগেরহাট আসার পথে রামপাল উপজেলার চাকশ্রি নামক স্থান থেকে জোরপূর্বক শেখ আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন। পরে প্রায় ২২ ঘণ্টা নির্যাতনের পরে পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বাগেরহাটে সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার শেখ গফুরের ছেলে। সে বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ব্রি চাকশ্রী এলাকার শেখ হাসান আলীকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ধার দেই করি। কিন্তু সে আমাকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ বাবদ শেখ হাসান আলী তার ইজিবাইকটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিন দুই শ টাকা ভাড়ায় ইজিবাইকটি চালাতে থাকে হাসান আলী। কয়েকদিন ভাড়া দিলেও পরে আর দেয়নি। যে কারণে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেই।
পরে এ বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ দুপুরে শেখ হাসান আলী ও চেয়ারম্যানের ভাগনে আবু সালেহসহ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ব্রি চাকশ্রী এলাকায় শেখ হাসান আলী বাড়িতে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। সন্ধ্যার দিকে আমার বন্ধু প্রাইভেট কার চালক আল আমিনকে চাকশ্রী আসার জন্য আমাকে দিয়ে ফোন করায়। পরে আল আমিন গেলে তাকেও বেঁধে রাখে হাসান ও আবু সালেহরা। সারা রাত আমাকে নির্যাতন করেছে আবুল সালেহ ও হাসানসহ কয়েকজন। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শরীরে সিগারেটের সেকা ও আঙ্গুলের মধ্যে খেজুরের কাটা ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয়।
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সারা রাত এভাবে নির্যাতনের পর দুপুরে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহর কাছে নিয়ে যায় আমাদের। তিনি কোনো কথা না শুনে আমাদের চোখ তুলে ফেলতে বলেন। পরে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার এবং আমার মায়ের স্বাক্ষর রেখে এবং তিন লাখ টাকার দেয়ার স্বীকারোক্তি রেখে ছেড়ে দেয়।
শেখ আব্দুল্লাহর মা খালেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা মানুষে করে না। চেয়ারম্যানের কাছে যেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই।
শেখ আব্দুল্লাহর বন্ধু প্রাইভেটকার চালক আল আমিন বলেন, আল আমিনের ফোন পেয়ে চাকশ্রী বাজারে গেলে, হাসান ও আবু সালেহ আমাকে বেঁধে রাখে। সারা রাত আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ বলেন, আমার সামনে কোনো নির্যাতন হয়নি। আবু সালেহ আমার ভাগনে নয়।
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আব্দুল্লাহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো জখম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের পেছনে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে মারধর করছে কয়েকজন যুবক। পরে ওই যুবককে মাটিতে ফেলে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য পা উপরে উঠিয়ে গালিগালাজ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পায়ের তলায় মোটা লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায় আবু সালেহকে। ওই সময় যুবক মাগো মাগো বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভাষা সৈনিক, সাবেক ডাইরেক্টর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মরহুম এম এল রহমান এর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ২০২৬ইং। এই উপলক্ষে আজ হাজিপুর কামিল মাদ্রাসা ও হাজিপুর ফাউন্ডেশন (ভোলা’র) উদ্যোগে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে কোরানখানী, দোয়া মাহফিল ও স্বরণ সভার আয়োজন করা হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে আকস্মিক নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতের জলসীমায় ভেসে যাওয়া ২০ দিন বয়সী এক নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার বিকেলে নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের জীবিত উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনায় এখনও এক বৃদ্ধ নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা জোহরপুর-টেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পদ্মার তীব্র স্রোত ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে মাঝনদীতে নৌকাটি হঠাৎ ডুবে গেলে যাত্রীরা সবাই পানিতে ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী কন্যা তানিশাও ছিল। দুর্ঘটনার পর উত্তাল নদীর পানির তোড়ে ভেসে যেতে যেতে তানিশাসহ ১০ জন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় পৌঁছে যান।
সীমান্তের ওপারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগরের প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলাল মণ্ডলের বরাতে জানা যায়, নদীতে ভাসতে দেখে বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের তীরে তুলে আনেন। উদ্ধারের সময় নবজাতক তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা কালবিলম্ব না করে শিশুটিকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান, যেখানে নিবিড় চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনকেই সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তাল পদ্মা থেকে ২০ দিনের এক নিষ্পাপ শিশুসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার ও সুচিকিৎসা দেওয়ার মানবিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিএসএফের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাবুল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসেফকে, আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা আর কাজের মাঝে। আশা করি প্রতিবেশী দুই দেশ মিলে মিশে থাকবে, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকে না, পৃথিবী শান্তি ও সৌহার্দ্যের।’ মানবিক মূল্যবোধকে স্বাগত জানিয়ে নাজমুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘মানবতার জয় হোক, অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফ।’ একইসঙ্গে নায়েম ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনেরা কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. ফেরদৌস আলম ও মিপতা (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্না (৪০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের মৃত্যু হয়। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ গণমাধ্যম-কে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
“মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারিপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আজ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের নাগরিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্বিক আয়োজনে বাস্তবায়িত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ (৩১১) এর মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. উমর ফারুক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সাত্তার বেগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের নদীবিধৌত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এসব এলাকায় উন্নত জাতের প্রাণী, প্রয়োজনীয় উপকরণ, খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বক্তারা এসময় আরও বলেন, সুফলভোগীদের মাঝে প্রয়োজনীয় প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পশুপালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রাণিসম্পদ পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে ৪০জন সুফলভোগী খামারির মাঝে ০২ টি করে ছাগী হিসেবে ৮০ টি ছাগী বিতরণ করা হয়। এসময় রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও সঠিক ওজনের ছাগল খামারিদের মাঝে বিতরণ করায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সুফলভোগী খামারিরাও এসময় স্বাস্থ্যবান ছাগল পেয়ে আনন্দিত হন। বিতরণকৃত ছাগল সরবরাহ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাভুক্ত সুফলভোগী খামারি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সঃ) এর আর্দশের কোনো বিকল্প কোনো আর্দশ নেই! মানুষের কাছে সর্বাধিক আরাধ্য বিষয় সামাজিক শান্তি এবং জীবনের সকল স্তরে শৃঙ্খলা। ব্যাক্তির অধিকারে যখন সব কিছু থাকে তখন সে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না। এটি শুধু শুধু মানব জীবনের চাহিদা তা নয়,বরং মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি পরিপূর্ণ ম্যাকানিজম প্রতিষ্ঠা করেছেন।
কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিশিষ্ট প্রবন্ধকার ড, রফিকুল ইসলাম।
তিনি শনিবার বিকেলে মাগুরা অডিটোরিয়ামে জেলা সীরাত উদযাপন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (স.) আর্দশ শীষক সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধকার হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু'র সভাপতিত্বে সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা আমিন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ঢাকা আদদ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জামে মসজিদ প্রধান খতিব ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান। অধ্যাপক মাওলানা মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড, মাওলানা রবিউল ইসলাম মাগুরা আল আমিন ইয়াতিম খানার পরিচালক হাফেজ মাওলানা লিয়াকত আলী খান, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী যমো. মাসুদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বি এম এরশাদুল্লাহ অহিদ।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা রাসূল (স.) এর আর্দশ অনুস্মরণ করে ব্যাক্তি, সমাজ,ও রাস্ট্রের সর্বত্রেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।
অনেকেই দেখবেন সরকারের পাঁচ ছয় মাসের মাথায় হঠাৎ করে এমন কি সমস্যা হয়েছে যে এই লক্ষ লিটার তেল ও গ্যাস পুড়িয়ে লং মার্চ করতে হবে। এতে কি রাষ্ট্রের সম্পদ অপচয় হয়নি। তবে এটা সত্যি দেশে তেল গ্যাসের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে তা আমাদের সরকার দ্রুতই স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছেন। তাছাড়া জনগণের কিছুটা সাময়িক অসুবিধার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার তাহমিনা মোছলেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন চার তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম।
এছাড়াও ভৈরবের স্টেডিয়াম সংলগ্ন হাইওয়ে থানার পিছনে একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। এর আগে তিনি সাড়ে ১১টায় উপজেলার গোছামারা গ্রামে তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর দুপুর ১২টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অপরাধে এক ডিলারকে আট হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার দুপুরে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাজিতেরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
জানা যায়, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে বিএডিসির ডিলার এস এন ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ডিলার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনতাজুর আলীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদীর শিবপুরে বেড়াতে এসে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল নদীতে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের শান্তা (১৬) এবং নরসিংদীর শিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা জুয়েলের ছেলে শান্ত (২৪) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওবায়দুল্লাহ, শান্তা ও শান্ত। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামলে অসাবধানতাবশত তিনজন একসঙ্গে স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনিও নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর পাঠানো হয়। প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সন্ধান না পেয়ে উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে শনিবার সকালে ভৈরব থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল পুনরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একে একে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইসলাম খান উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার সকালে ডুবুরিরা নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’
বরিশালে কর্মরত জাতীয় দৈনিকগুলোর ব্যুরো প্রধানদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিবিএ) সভাপতি এবং দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান, প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে অবস্থিত সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহনন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে সদালাপী ও অভিজ্ঞ এই সাংবাদিকের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুধীমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র আর্থিক সংকট ও গভীর মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক গ্রামে মাত্র তিন বছরে চারটি শিশু সন্তান টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দারিদ্র্য ও মাদকের নেশার টাকা জোগাড় করতেই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে চারটি পরিবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে , উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির সংসারে আগে থেকেই দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আরেকটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতককে পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।
শিশুটির বাবা জাকির মিয়ার দাবি, তার অজান্তেই স্ত্রী ফারজানা, শাশুড়ি ও দুই দালালের মাধ্যমে এই লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে ফারজানা আক্তার পাল্টা দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং সংসারের সংকটের জন্য তিনিই দায়ী। সন্তান বিক্রির সময় অনুমতি দিয়ে অন্যদের পরামর্শে এখন হঠাৎ করে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়সূত্র বলছে, জাকির-ফারজানা দম্পতির মতো একই গ্রামের আরও তিন পরিবার গত তিন বছরে নিজেদের তিন শিশু সন্তান বিক্রি করেছে। গ্রামের মঙ্গলা বেগম নামে এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে এসব শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলা বেগম বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এসব শিশু কেনাবেচা করেন।
জাকির মিয়া বলেন, তার সন্তানকে যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে কাউকে খোঁজে পাননি। তিনি ধারণা করেছেন, তার সন্তানকে আরও বেশি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম ফারুক বলেন,
“একটা সন্তানের জন্য মানুষ কত ডাক্তার-কবিরাজ দেখায়, কত সম্পদ নষ্ট করে। কিন্তু আমাদের গ্রামে নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে।”
কাজল মিয়া বলেন, “যারা কয়েকটা টাকার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করতে পারে, তারা অন্যের সন্তান বিক্রি করতেও দ্বিধা করবে না। এদের কঠিন বিচার হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।”
আরেক বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, “এই এলাকায় মাত্র তিন বছরের মধ্যে চারটি শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর জাকিরের স্ত্রী ফারজানা তার স্বামীকে না জানিয়েই নবজাতক বিক্রি করে দিয়েছেন।”
গ্রামবাসীর দাবি, এসব ঘটনার পর তারা নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “এই গ্রামে নারী-পুরুষের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে কোমলমতি শিশুরাও মাদকের সংস্পর্শে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
ফরিদ মিয়া বলেন, “ফারজানা গর্ভে থাকতেই সন্তান বিক্রি করবে বলে এলাকায় প্রচার করছিল। এমনকি তখনই কিছু টাকাও হাতে পেয়েছিল। পরে হঠাৎ শুনি, সত্যিই সন্তান বিক্রি করে দিয়েছে।”
সন্তান বিক্রি করা জাকির হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তার ভাই আগে কখনো বিড়ি-সিগারেটও খেতেন না। প্রবাসে যাওয়ার পর ফিরে এসে শুনেছেন, তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। রাসেল বলেন, “আমার ভাই হোক বা যেই হোক, আমি তার বিচার চাই। সুস্থ বিবেক থাকলে কেউ নিজের সন্তান অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, জাকির-ফারজানার নবজাতক ৬০ হাজার টাকায়, সাদ্দাম হোসেনের এক সন্তান দেড় লাখ টাকায় এবং জাকির হোসেন ও আসাদ মিয়ার দুটি সন্তান দুই লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে যাদের কাছে শিশুদের বিক্রি করা হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে আরও বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে চার শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু বিক্রির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথাসহ একজন অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী আটক। শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দক্ষিণ চরদুয়ানীর কালিয়ার খাল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় একটি সন্দেহজনক কাঠের বোট তল্লাশি করে প্রায় ৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, ৩ টি চামড়া, ১ টি মাথা ও চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি বোটসহ একজন অবৈধ মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত আসামির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় গত ৫ দিন আগে ঘরে ঢুকে এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রী আইভিকে হত্যা করা হয়। এবার নিহত আইভির ফুপু ও প্রতিবেশী স্থানীয় মো. হালান শরীফের বড় মেয়ে তানিয়া (১৬) নামের এক কিশোরীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় ছুড়ি মেরে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এতে তার গলার অনেকাংশ কেটে গিয়ে রক্তাক্ত মারাত্মক আহত হয় তানিয়া। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আহত কিশোরী তানিয়ার আর্ত চিৎকারে তার আত্মীয়-স্বজন ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে মুমূর্ষু ও রক্তাক্তাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
আহত তানিয়ার পারিবার বলছেন, কে বা কারা এবং কেনো এমন ভয়ানক কান্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে তা' তারা বলতে পারছেন না, তবে কয়েকদিন আগে আইভি হত্যাকাণ্ডের সাথে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। আহত তানিয়ার লিখে যাওয়া একটি চিরকুট থেকে জানা যায়, তাকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায় মুখে মাক্স পরিহিত দুই জন। তারা ঘরে ঢুকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে দুর্বৃত্তদের সনাক্তের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের তল্লাশিতে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো- শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)। তারা দুজনই সাবরাং ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জিব নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন শিশু জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নিশান ও আরজিন নদীর গভীর পানিতে চলে যায়। এরপর তাদের আর দেখা যায়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
জেটিঘাটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করা আবদুল মজু বলেন, ‘শিশু দুটি প্রায় ৪ ঘণ্টা পানিতে তলিয়ে ছিল। তারা অনেক পানি খেয়েছিল। দ্রুত উদ্ধার করা গেলে হয়তো তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিনে জেটিঘাট এলাকায় অনেক শিশু নদীতে গোসল করতে আসে। সাধারণত তারা অল্প পানিতে থাকে। কিন্তু আজ দুই শিশু গভীর পানিতে চলে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’
শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘দুই শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলে হয়তো তাদের জীবন রক্ষা করা যেত। ভবিষ্যতে যাতে শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে নাফ নদীতে গোসল করতে না নামে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জীব নাথ বলেন, ‘স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে মৃত্যু হওয়া দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’