সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৯ মাঘ ১৪৩২

তিন গ্যাস কূপ খনন ও রাশিয়া থেকে গম কেনা: অতিরিক্ত ব্যয় ৬৯৪ কোটি টাকা

টাকা। ছবি: সংগৃহীত
আরিফুজ্জামান তুহিন
প্রকাশিত
আরিফুজ্জামান তুহিন
প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:৪৭

রাশিয়ার গ্যাজপ্রমকে দিয়ে তিনটি গ্যাসকূপ খনন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে গম কেনার জন্য সরকারের বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ৬৯৪ কোটি টাকা। মধ্যস্বত্বভোগী স্থানীয় এজেন্টের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর বিশেষ প্রয়োজনে রাশিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টন গম কিনছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে গম আনতে পণ্যের মূল্য পরিশোধের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই গম বাংলাদেশকে নিতে হবে। প্রতি টন গমের দাম দেয়া হচ্ছে ৪৩০ ডলার করে। অথচ রাশিয়ার গমের দাম অনুসারে সেখান থেকে এই গম চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ ৩৮০ ডলার। সে হিসাবে ৫ লাখ টন গম কিনতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৪০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সরকারের জ্বালানি বিভাগ ভোলায় গ্যাজপ্রমকে দিয়ে তিনটি গ্যাস কূপ খননে ব্যয় করছে ৬৯৪ কোটি টাকা। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে প্রতিটি কূপ খননে খরচ হয় ৮০ কোটি টাকা। এতে করে মোট খরচ হওয়ার কথা ২৪০ কোটি টাকা। অথচ গ্যাজপ্রমকে দিয়ে খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৪৫৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গম আমদানি ও গ্যাস কূপ খননে সরকারের বাড়তি ৬৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের কারণ রাশিয়ান কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীর ব্যয়। বাংলাদেশে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আছেন মো. সোহেল। রাজধানীর মহাখালীতে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান আছে।

যে খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তাদের নিয়েও বিতর্ক আছে। আবার গ্যাজপ্রমের খনন করা কূপ নিয়েও জটিলতা আছে।

এর আগে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রডিনটর্গের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে ২০২০ সালে ১ লাখ টন গম কেনার চুক্তি সই হয়। প্রতিষ্ঠানটি গম আমদানি করার জন্য জাহাজও ভাড়া করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সে দফায় তারা গম আমদানি করতে পারেনি। প্রডিনটর্গ ও তাদের লোকাল এজেন্টের বিরুদ্ধে তখন মামলা হয়।

পাকিস্তান সম্প্রতি প্রডিনটর্গের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাজারদর থেকে গমের দাম বাড়তি রাখায়। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সময় বেশি দামে পচা গম কিনে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে সরকার।

অন্যদিকে গ্যাজপ্রম বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৭টি কূপ খননের কাজ করেছে। যার মধ্যে পাঁচটি কূপ বালি ও পানি উঠে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম বলা হলেও বাস্তবে এটি নেদারল্যান্ডসের আমস্টাডার্মে নিবন্ধিত।

বাড়তি দামে গম কেনার বিষয়ে খাদ্যসচিব মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই গম কেনা হচ্ছে। বাড়তি দামে কেনা হচ্ছে না। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এখন জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গুদামেরও সীমাবদ্ধতা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যে গম আনতে পারছি সেটাই আনন্দের কথা।’

এক লাখ টন গম দেয়ার চুক্তি হয় প্রডিনটর্গের সঙ্গে, সেবার তারা গম দিতে পারেনি। এ জন্য মামলাও হয়েছিল। এবার কি তারা ৫ লাখ টন গম দিতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যসচিব বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের খাদ্য সহায়তা সম্পর্ক বেশ ভালো। এই গম বাংলাদেশে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

বাজার থেকে বাড়তি দামে গম কেনায় ২৪০ কোটি টাকা ও কূপ খননে বাড়তি ৪৫৪ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে দৈনিক বাংলা। মহাখালি ডিওএইচএসের ২৮ নম্বর রোডের ৩৬৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় অফিস আছে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির। প্রতিষ্ঠানটিই নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে বেশি দামে চাল কেনাকাটা এবং কূপ খননের কাজ বাগিয়ে নেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেলের সহোদর বড় ভাই রাশিয়ার নাগরিক মিয়া সাত্তার। রাশিয়ায় একসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মিয়া সাত্তারের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই রাষ্ট্রদূত তার নিজের গাড়িতে করে রাশিয়ার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া সাত্তারকে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে। রাষ্ট্রদূত থাকার সময় রাশিয়ার অনেক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের লোকাল এজেন্ট করতে সহযোগিতা করেন।

মিয়া সাত্তার কাগজে-কলমে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও চাল কেনা কিংবা গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তির আলোচনার সময় বৈঠকে উপস্থিত থাকেন।

গম কেনা ও কূপ খননে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে স্থানীয় কমিশন এজেন্টের কারণে- এমন প্রশ্নের জবাবে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি লিমিটেডের অন্যতম অংশীদার মো. সোহেল গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি লোকাল এজেন্ট নই, লোকাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। জিটুজি ভিত্তিতে কেনাকাটায় আমার কোনো কমিশন নেই।’

নতুন এজেন্টে কূপ খননে দাম বেড়েছে

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই দফায় মোট ১৭টি কূপ খনন করেছে গ্যাজপ্রম। রাশিয়ার মালিকানাধীন বলা হলেও নেদারল্যান্ডসে রেজিস্ট্রিকৃত এই কোম্পানিটি প্রথম দফায় ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০টি কূপ খননের কাজ পায়। প্রতি কূপ খননে তারা অর্থ নিয়েছে ১৫৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে আরও ৭টি কূপ খননের কাজ নেয় গ্যাজপ্রম, সেবার কূপপ্রতি খরচ হয়েছিল ১৪৮ কোটি টাকা।

২০২০ সালের জুন পর্যন্ত গ্যাজপ্রমের লোকাল এজেন্ট ছিল আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড। এই কোম্পানির বর্তমান মালিক দুজন—অনিরুদ্ধ কুমার রায় ও তার স্ত্রী। শুরুতে আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের ৫০ শতাংশের মালিকানা ছিল ঢাকা-১১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর দুই পুত্র মো. হেদায়েত উল্লাহ ও সেফায়েত উল্লাহর। বাকি ৫০ শতাংশের সমান মালিক ছিলেন মহিউদ্দীন আহমেদ ও অনিরুদ্ধ কুমার রায়। ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম তিনজন মালিকানা ছেড়ে দেন। ২০২০ সালের জুনের দিকে গ্যাজপ্রম আরএমএম পাওয়ারকে লোকাল এজেন্ট থেকে সরিয়ে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি লিমিটেডকে লোকাল এজেন্ট বানায়।

ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি গ্যাজপ্রমের এজেন্ট হওয়ার পর ২০২১ সালে গ্যাজপ্রম ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি কূপ খননের কাজ পায়। বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি হয় গ্যাজপ্রমের কূপ প্রতি ২৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তিনটি কূপ খননে ব্যয় গ্যাজপ্রম এখন পাবে ৬৯৪ কোটি টাকারও বেশি। অথচ বাপেক্স কূপগুলো খনন করলে ব্যয় হতো সর্বোচ্চ প্রতি কূপে ৮০ কোটি টাকা আর তিন কূপে ২৪০ কোটি টাকা।

বাপেক্সের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাজপ্রমের লোকাল এজেন্ট পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কূপ খননের ব্যয়ও গ্যাজপ্রমকে বেশি দিতে হয়েছে।

বাড়তি দামে কেন কূপ খনন করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাপেক্সের এমডি মো. আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বেশি দামে চুক্তি হয়নি। চুক্তিমূল্য ঠিকই আছে। এর আগে ১৭টি কূপ খনন এভাবেই হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতা আমি রক্ষা করেছি।’

ভোলা গ্যাসক্ষেত্রটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের আবিষ্কার করা এবং ক্ষেত্রটির অপারেটর হিসেবে তারাই সফলভাবে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বাপেক্সের একটি কূপ খনন করতে ব্যয় হয় ৬৫ থেকে ৮০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলে একটি কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এতে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

গম কেনায় বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ২৪০ কোটি টাকা

রাশিয়ার খাদ্যশস্যের ওপর থেকে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমতে থাকে। গত ২৪ আগস্ট রাশিয়ার খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিনটর্গের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গম আমদানি বিষয়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, প্রডিনটর্গের কর্মকর্তারা ও ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির লোকাল এজেন্ট মো. সোহেলের বড় ভাই মিয়া সাত্তার।

ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ৪৩০ ডলার প্রতি টন গমের মূল্য নির্ধারণ হয়। অথচ ওই দিন রাশিয়ার গমের মূল্য ছিল টনপ্রতি ৩২৩ ডলার ও জাহাজসহ অন্যান্য ব্যয় ৫৭ ডলার ধরে এই ব্যয় দাঁড়ায় টনপ্রতি ৩৮০ ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গম কেনার জন্য পণ্যের দাম বুঝতে সাধারণত দরপত্র ডাকা হয়। দরপত্রে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দামের ভিত্তিতে জিটুজি ক্রয় নেগোসিয়েশন করা হয়। সে জন্য খাদ্য অধিদপ্তরও একটি দরপত্র আহ্বান করেছিল। ওই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু অজানা কারণে সেই দরপত্রের মেয়াদ বাড়ানো হয় ১৫ দিন। তার আগেই ক্রয় কমিটিতে ৪৩০ ডলারে গম কেনার বিষয়টি অনুমোদন পায়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন ও সেখানকার বিভন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানে প্রডিনটর্গের সঙ্গে বেশি দামে গম কেনার চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সেখানকার খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত মাসে বাতিল করেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ওজেডকে নামে রাশিয়ার একটি বড় খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রডিনটর্গ নিজেদের গম রপ্তানি করবে না। তারা ওজেডকের কাছ থেকে গম কিনে বাংলাদেশে পাঠাবে। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কাজ করবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ১৬ এপ্রিল জিটুজি ভিত্তিতে প্রডিনটর্গের কাছ থেকে ১ লাখ টন গম কেনার চুক্তি সই হয়। সেখানে সাক্ষী রাখা হয় মিয়া সাত্তারকে। প্রডিনটর্গের সব ই-মেইল ও চিঠিপত্র মিয়া সাত্তারের ভাই সোহেলের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইলেকট্রনিকের মহাখালীর অফিস থেকে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই গম সরবরাহ করতে পারেনি প্রডিনটর্গ। এ জন্য প্রডিনটর্গের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শিপিং এজেন্ট চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান সেভেন সিজ শিপিং লাইন উচ্চ আদালতে মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয় প্রডিনটর্গ, ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ও খাদ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। আদালত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন।


১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক কঠিন কাজ। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের দলের ভেতরে। কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই লেগে যাচ্ছে। এজন্য জনসচেতনতা জরুরি।

প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে না—তা নয়।

ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ বন্ধ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এখন যেভাবে প্রশ্ন করতে পারছেন, তখন তা সম্ভব ছিল না। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মিথ্যা নয়, সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।

নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা এখানে যেভাবে নিরাপদ, নারীরাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক সেভাবেই নিরাপদ থাকবেন।

এ সময় জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যেখানে যেরকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেখানে সেরকম নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।


অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ রাজধানীতে ১ দিনে গ্রেপ্তার ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর আওতায় গত একদিনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গুলশান, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, পল্টন, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও হাতিরঝিল থানায় এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গুলশান থানা একজন, সূত্রাপুর থানা চারজন, মোহাম্মদপুর থানা একজন, খিলগাঁও থানা তিনজন, পল্টন থানা পাঁচজন, কলাবাগান থানা একজন, যাত্রাবাড়ী সাতজন, কদমতলী থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গুলশান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম মো. ইব্রাহিম।

অপরদিকে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রাব্বি হাসান, মাসুম ইফাদ, মুন শিকদার ও সাগর দে।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম কবির হোসেন ওরফে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা।

খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- ফজলে রাব্বী, সাইদুল ইসলাম ও মাহতিন ইসলাম শাকিল।

পল্টন থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- মো. বিল্লাল হোসেন, রকি মিয়া, ইয়াছিন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ইসমাইল হোসেন।

কলাবাগান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. সেলিম ওরফে রহিম।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এআর হলো- গোলাম রাব্বী, নাসির খান ওরফে নাসির, সাজ্জাদ, মো. জালাল, হাসান আলী ওরফে আলম, রানা প্রধান ও রেনু বেগম।

কদমতলী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলো মো. অভি, মো. সালেহ আহাম্মেদ ফয়সাল ও মো. রনি।

এছাড়া হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম হাসিব। সবাইকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


বেড়া হাসপাতালের ২ দালালের জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি ও রোগীদের হয়রানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান এই অভিযান পরিচালনা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এছাড়া তারা রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে ‘মিডলম্যান’ বা দালাল হিসেবে কাজ করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, "অভিযুক্তদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না মর্মে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মুচলেকা প্রদান করেছেন। জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জনহয়রানিমূলক যেকোনো উপদ্রব বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

অভিযান চলাকালীন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নিলা, এবং বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।


মাগুরায় বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা আরও দাবি জানান, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পে-কমিশন যে প্রস্তাব সরকারে প্রেরণ করেছে, তা নির্বাচন পূর্বেই গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. সাকির আহমেদ, অমৃত কুমার বিশ্বাস, মো. শফিকুল ইসলাম, যুধিষ্ঠির বিশ্বাস, মো. মাসুম রেজা ও মো. নবীর হোসেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি না হলে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মানববন্ধন চলাকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।


পাসপোর্ট অফিসে র‍্যাবের অভিযান, কিশোরগঞ্জে ২০ দালালের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের দোকানপাটে অভিযান চালিয়ে ২০ জন দালালকে আটক করেছে র‍্যাব। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আটককৃতরা দোষ স্বীকার করায় এবং তাদের অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান চলাকালে এমনও দেখা গেছে, দালালরা আমাদের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের কাছেও অর্থ দাবি করেছে। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তিনি যেই হোন না কেন আইনের আওতায় আনা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে দালালদের তৎপরতা ও সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়টি নজরদারিতে ছিল বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার থেকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


নরসিংদীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার-২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুরগি বিক্রির চোরাই নগদ ৪ লাখ টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত এ তথ্য জানান নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ। নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন পোল্টি খামারের ব্যবসা করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার মদন থানার ফতেপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে প্রমন তালুকদার ওরফে প্রিমন (২১) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার কায়েস্থ পল্লী গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৪৫)। গোয়েন্দা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের পরদিন ২৮ জানুয়ারি নিহতের ভাগিনা উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে ডিবির এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে চোরাই মুরগি বিক্রির নগদ ৪ লাখ টাকা ও নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে নিখোঁজের প্রায় ১৫ দিন আগে পোলট্রি খামারে গ্রেপ্তারকৃত দুই শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন আজীমুল। আজীমুল নিখোঁজের পর থেকে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালাম লাপাত্তা ছিল। পাশাপাশি খামারের সব মুরগিও উধাও হয়ে গিয়ে ছিল। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খামারের মুরগি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করতেই আজীমুলকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে বেলাব থানায় হস্তান্তর করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


খুলনার বাজারে সবজিতে স্বস্তি, স্থিতিশীল মাছ, মুরগিতে বাড়তি দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনার বাজারে কমেছে সবজির দাম। মাছের বাজারও রয়েছে স্থিতিশীল। তবে গত সপ্তাহ থেকে বেড়েছে মুরগিরর দাম। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) খুলনার নিউ মার্কেট বাজার, রূপসা বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, পালংশাক ২০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা কেজি, লাউ ৩০ টাকা প্রতি পিস, কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৬০-৮০ টাকা কেজি, শিম ২০-৩০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ দাম কমে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা দরে এবং রসুন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে এবং আলু ১৮-২৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে, সোনালি ২৩০ টাকা কেজি দরে ও লেয়ার ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২২০-২৫০ টাকা, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা দরে, পাঙাশ ১৬০-১৮০ টাকা, কাতল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি এবং ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে গত সপ্তাহ থেকে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়াতে দাম কমেছে। কাঁচামরিচ, সিম, ফুলকপির দাম আবারো কমে গেছে। আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও কয়েক দফা কমেছে।

মুরগি ব্যবসায়ী সত্তার মিয়া বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মুরগীর কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পাইকারি, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুচরা বিক্রি করি সামান্য লাভে। আমাদের হাতে দাম নিয়ন্ত্রনের কোন বিষয় নেই।

নিউ মার্কেট বাজারে আসা লিপু শিকদার বলেন, বাজারে সবজি ও মাছের দাম অনেক কম রয়েছে। বাড়তি দাম না থাকায় অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে বাজার। কিন্তু মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্য একজন ক্রেতা বেলাল হাওলাদার বলেন, বাজারে এ সপ্তাহে ২০-২৫ টাকায় অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বাড়তি পেয়েছি। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির দাম অনেকটা কমেছে।

খুচরা বিক্রেতা কামাল বলেন, ৩০-৪০ টাকার মধ্যেই বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে অনেক সবজির দাম ৬০-৭০ টাকায় উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় তখন দাম কমেছিল।

খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় দামে একটু কম। সামনে আর বেশি দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও তারা মনে করছেন।

গল্লামারি বাজারে আসা ক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটা কম। এ সপ্তাহে আবার কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে। তেবে, মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে গণমাধ্যমে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হামিদ বলেন।

সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন একটি মৌলিক অধিকার, তেমনি তা আইনের মধ্যেই চর্চা করতে হবে। অধিকার ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, তথ্য অফিসার শাহাজান মিয়া। কর্মশালায় ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।


বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে বাগেরহাটে কর্মবিরতি পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বৈষম্য মুক্ত নবম পে-স্কেল এর গেজেট ঘোষণার দাবিতে বাগেরহাটে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।

‎আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিশন গঠন করে, যে কমিশনের রিপোর্ট সরকারের হাতে ইতোমধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের গড়িমসির কারণে এবং সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা যখন বলেছেন, এই সরকার কমিশন বাস্তবায়ন করবে না, তখন ক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

‎এ কর্মবিরতির কারণে জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। এ বিষয়ে কর্মচারীরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সরকার তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ন্যূনতম বেতনটুকু যদি না দেয়, তাহলে তারা কতদিন আর ধৈর্য ধারণ করবেন? তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে জানিয়েছেন।

‎সরকার দাবি বাস্তবায়ন করলে সাথে সাথে কাজে ফিরে যাবেন বলে তারা জানিয়েছেন। মৌলিক চাহিদা পূরণের ন্যূনতম বেতন দেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

‎উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের’ পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ দিন দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

‎বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিচার বিভাগ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ শাওন, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান, মিজানুর রহমান মুকুল ও কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মারুফুর রহমান, হাবিবুর রহমান। এ সযয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।


কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ রাখি বাহিনির সদস্য আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় শুটার গান ও গুলিসহ পদ্মার চরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাখী বাহিনির এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

আটক যুবকের নাম আজিজুল ইসলাম (৩০)। তিনি দৌলতপুর থানার ইসলামপুর গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন বাগোয়ান বেস ক্যাম্পের একটি টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে আজিজুল ইসলামকে আটক করার পর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি দেশীয় শুটার গান উদ্ধার করা হয়। আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৌলতপুরের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে তিন প্লাটুন বিজিবি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আটক যুবককে রাতেই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

উল্লেখ্য, গেল জানুয়ারি মাসে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে মোট সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গুলি, ১০টি ম্যাগাজিন ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বিজিবি চারটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি এবং আটটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে।


কালীগঞ্জে যুবকের লাশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ইলিয়াস (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের কোরুইল্লার টেক ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইলিয়াস জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি এলাকার শরীফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ থেকে ছৈলাদি সড়কের কোরুইল্লার টেক ব্রিজের নিচে পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নিহত ইলিয়াস এলাকায় বখাটে যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন এবং মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে একই সড়কে দালান বাজারের এক তেল ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। দক্ষিণভাগ এলাকার নাসির কাজীর ছেলে হানিফ কাজী বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন।

তবে ওই হামলার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের দলে নিহত ইলিয়াস ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ইলিয়াসও হয়তো দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।


নেত্রকোনায় পিডিবি খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৭
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা সদর থানাদিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন নাগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত গাভিটির মালিক পিন্টু চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গাভিটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গাভিটি গোয়ালঘরে ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও গাভিটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা পিডিবির বিদ্যুৎ খুঁটির টানার তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় গাভিটিকে মৃত দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানার তারটি একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল।

এ বিষয়ে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ খুঁটির পিলার থেকে লিকেজ হয়ে টানার তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাভিটির মালিক আরও জানান, নিহত অন্তঃসত্ত্বা গাভিটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—পিডিবির এই ধরনের অবহেলার কারণে যদি কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশু প্রাণ হারাত, তবে এর দায়ভার কে নিত? সর্বমহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পিডিবির সকল ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার দ্রুত সংস্কার করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাভির মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।


চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, চলছে কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে বন্দর এলাকা। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ৮ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। বন্দরের ভেতরে পণ্য পরিবহনের জন্য নিয়োজিত কোনো কভার্ড ভ্যান, লরি কিংবা ট্রেলার প্রবেশ করতে পারছে না। জেটিগুলোতে কোনো শ্রমিকের দেখা মিলছে না, যার ফলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থ অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ কোনো জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন। এনসিটির মতো একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তিনি জানান, সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বিকেলে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তবে আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজ কোনো ধরনের মিছিল বা প্রকাশ্য সমাবেশ করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের সাথে যুক্ত চারজন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কর্মবিরতির ফলে সরকারের কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দর প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃপক্ষও বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী এক মাসের জন্য বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ আন্দোলনকারীরা বন্দরে কাজের বিরতি দিলেও কোনো প্রকাশ্য মহড়া পরিচালনা করেনি। প্রশাসনের এমন মারমুখী অবস্থানে শ্রমিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিকেলে সংগ্রাম পরিষদের পরবর্তী ঘোষণার ওপরই এখন নির্ভর করছে বন্দরের আগামীর কর্মচঞ্চলতা। মূলত এনসিটি লিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও শ্রমিকদের মধ্যকার এই সংঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


banner close