বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজার থেকে শরিষতলা সড়কে খানাখন্দ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৩০ মার্চ, ২০২৩ ১৫:০১
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শহীদনগর বাজার থেকে শরিষতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সড়কের পিচ উঠে মূল রাস্তার চেয়ে অনেক নিচু হয়ে গেছে। ফলে সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দুই বছর ধরে শহীদনগর বাজার-শরিষতলা সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। বৃষ্টির দিনে সড়কের গর্তগুলো পানিতে ঢাকা পড়ায় বেশির ভাগ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশের পিচঢালাই উঠে চার-পাঁচ ফুট গভীর গর্ত হয়েছে। শুকনা মৌসুমে এসব গর্ত পেরিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।

এলাকাবাসী জানান, সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে পিচঢালাই উঠে মাটি বেরিয়ে কয়েক ফুট গর্ত হয়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ সড়কটি মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেননি। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান ও ওলিউর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে কষ্ট করে আমরা আসা-যাওয়া করি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। সড়কের অবস্থা এতই বেহাল যে, মানুষ গাড়ি ব্যবহার না করে এখন হেঁটেই চলাচল করে।

এ বিষয়ে পতনঊষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদনগর বাজার থেকে শরিষতলা পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে।’


সময় এখন হাতপাখার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে দেশের বেশির ভাগ জেলায়। এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে লোডশেডিং চরমে। দিনে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎবিহীন থাকছে বিভিন্ন এলাকা। এ অবস্থায় চাহিদা বেড়েছে তালপাতার হাতপাখার। আর সুযোগটা লুফে নিতে কালক্ষেপণ করেননি ব্যবসায়ীরাও। ৩০ টাকার হাতপাখা বিভিন্ন স্থানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামে। বিস্তারিত প্রতিবেদকদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

মেহেরপুর

চলতি তাপপ্রবাহে খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে মেহেরপুরে সাধারণ মানুষের এখন একটাই ভরসা- তা হলো হাতপাখা। কেননা, ইতিমধ্যেই বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে আইপিএস ও চার্জার ফ্যানের। তীব্র গরমের মধ‍্যে শরীর শীতল করতে তাই তালপাতার হাতপাখাই সই!

শুক্রবার বিভাগের ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, এলাকায় মৌসুমি পাখা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতপাখা কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সপ্তাহখানেক আগে যে হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাতপাখা প্রস্তুতকারক রেখা বালা বলেন, ‘আমরা গরমের মৌসুম পড়লেই পাখা বানানোর কাজ শুরু করি। বছরের অন‍্য সময়ে ঝুড়ি ও সরপোশ তৈরি করি। একটা পাখা তৈরি করে পাইকারি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করতাম। বর্তমানে বাজারে হাতপাখার চাহিদা বেশি। তাই পাখা পাইকারি বিক্রি করছি ৫৫-৬০ টাকা করে।’

গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের পাখা ব্যবসায়ী দীপক বলেন, ‘গড়ে আমরা ৮০ টাকা করে পিস বিক্রি করছি। তবে এটা ঠিক যে, কারেন্টের অবস্থা এমন থাকলে আগামী হাটে এই হাতপাখা ১০০ টাকা করে বিক্রি হবে।’

উপজেলার মটমুড়া গ্রামের গৃহিণী শারমিন বলেন, ‘বাড়িতে এগারো মাসের বাচ্চা। সারা দিন দুই-তিন ঘণ্টা কারেন্ট থাকে। রাতের বেলায়ও একই অবস্থা। গরিব মানুষ, আমাদের তো আর আইপিএস-টাইপিএস কেনার সামর্থ্য নাই। আমাদের এসি বলেন আর আইপিএস বলেন সবই হাতপাখা। যতক্ষণ হাত ঘুরাবেন ততক্ষণ শরীর ঠাণ্ডা।’

বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলার ওপর দিয়েও বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি ছাড়া সহসা কমার সম্ভাবনা নেই এই গরম।

এদিকে তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। ফলে বেচাকেনা বেড়েছে হাতপাখা ও হারিকেনের দোকানে।

নাগেরবাজার এলাকার হাতপাখা দোকানি লক্ষ্মী রানী সাহা বলেন, ‘গত কয়েক বছরে হাতপাখার এমন চাহিদা দেখিনি। আমার দোকানে যত হাতপাখা ছিল সব বিক্রি হয়ে গেছে। নতুন করে হাতপাখার অর্ডার দিয়েছি।’

রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে গত দুদিন ধরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শোরুম ও দোকান থেকে বৈদ্যুতিক চার্জার ফ্যান উধাও। টাকা দিয়েও মিলছে না চার্জার ফ্যান। আর তালপাতা দিয়ে তৈরি ৩০ থেকে ৪০ টাকার হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।

সরেজমিনে রাজবাড়ী বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই থেকে তিনটি দোকানে তালপাতার হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ টাকার তালপাতার পাখা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, বাঁশের হাতলের পাখা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

ভিশন শোরুমে আসা সুমন শিকদার বলেন, ‘একে তো প্রচণ্ড গরম, তার ওপর আবার শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। তাই ভিশন শোরুমে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখলাম ফ্যান নেই। সব নাকি শেষ হয়ে গেছে। এখন হাতপাখাই ভরসা।’

পাখা ক্রেতা মীর সৌরভ বলেন, ‘এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হয়। দিনে কষ্ট সহ্য করে থাকা গেলেও রাতে আর সহ্য হয় না। এ ছাড়া রাতে বেশি সমস্যা হয় বাচ্চাদের। তারা গরমে ঘুমাতে পারে না। তাই হাতপাখা কিনতে আসলাম। কিন্তু এসে দেখি গরমের সঙ্গে সঙ্গে হাতপাখার বাজারেও আগুন। ৩০ টাকার পাখা চাচ্ছে ৮০ টাকা। দামাদামির সুযোগ নেই। বেশি দাম হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হলো।’

পাখা বিক্রেতা সেকেন্দার মন্ডল বলেন, ‘আগে পাখা কম দামে কিনতাম, কম দামে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা সেটা বোঝার চেষ্টা করছেন না। তারা ভাবছেন আমরাই হয়তো সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছি।’


বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় হুমকিতে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য

সিবিও শ্রমিকরা মোবাইল ডাস্টবিনে করে আবর্জনা নিয়ে স্টেশনের সামনে ফেলছেন। এগুলো বেশির ভাগ রাস্তার ওপরে পড়ে। আবার কাক-কুকুর তো বটেই, উদ্বাস্তু-হতদরিদ্র কিছু মানুষও আবর্জনা ঘাঁটাঘাঁটি করে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি বনানী রেশম উন্নয়ন বোর্ড ট্রান্সফার স্টেশনের চিত্র। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ জুন, ২০২৩ ১৫:৪৪
আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, বগুড়া

আয়তনে দেশের বৃহত্তম বগুড়া পৌরসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসতি। শহরে প্রতিদিন জমা হওয়া ময়লা-আবর্জনার পরিমাণ গড়ে অন্তত ২৫০ টন। এসব ময়লা নিয়ে ফেলা হচ্ছে শহরের ধারেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায়। প্রায় দেড় শ বছরের প্রাচীন পৌরসভা হলেও আজও আধুনিক কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। মাত্রাছাড়া অব্যবস্থাপনায় মানুষের ফেলে দেয়া বর্জ্য ঘুরেফিরে পড়ে থাকছে লোকালয়েই।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় বর্জ্য থেকে দূষিত হচ্ছে পানি, বায়ু। ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে জীববৈচিত্র্যে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না করার ব্যর্থতা স্বীকার করছে বগুড়া পৌরসভাও। তাদের দাবি, বড় আকারের বাজেটের প্রকল্প ছাড়া এমন পরিকল্পনা নেয়া বগুড়া পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়।

বগুড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের আগে শহরের প্রতি মহল্লায় ডাস্টবিন থাকত। পৌর বাসিন্দারা তাদের বাসাবাড়ির আবর্জনা সেখানে ফেলতেন। পরে পরিবেশ রক্ষায় সব ডাস্টবিন সরিয়ে দেয়া হয়। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়া শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও মিউনিসিপ্যাল সাপোর্ট ইউনিটের আওতায় ভ্যানের মাধ্যমে চালু করা হয় ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর জন্য গঠন করা হয় মহল্লাভিত্তিক কমিউনিটি বেজড অর্গানাইজেশন (সিবিও)। এই সংগঠনের মাধ্যমে ভ্যানে করে ময়লা নিয়ে শহরের বিভিন্ন ট্রান্সফার স্টেশনে রাখা হয়। সেখান থেকে গার্বেজ ট্রাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা নিয়ে গিয়ে ফেলেন ভাগাড়ে। প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য থেকে সার তৈরি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু এসবের কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেনি বগুড়া পৌরসভা।

এই সিবিওদের দেখভাল করে পৌরসভার কনজারভেন্সি শাখা। এই শাখার তথ্য বলছে, বগুড়া পৌরসভায় ১৭২টি সিবিও আছে। এ ছাড়া গার্বেজ ট্রাক আছে ১৯টি। এর মধ্যে দুটি পৌরসভার নিজস্ব ট্রাক, বাকিগুলো ভাড়া নেয়া।

এ ছাড়া শহরের আবর্জনা রাখার ট্রান্সফার স্টেশনের মধ্যে স্থায়ী ৯টি, অস্থায়ী ৭টি। দুটি ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে- একটি শহরের জয়পুরপাড়ায়, আরেকটি শহরের বাইরে এরুলিয়াতে। তবে দুটি ডাম্পিং স্টেশনই আবার বন্ধ।

কনজারভেন্সি শাখার সুপারভাইজার মামুনুর রশিদ বলেন, শহরে ১৯টি ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে এক শ বার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এতে অন্তত ২৫০ টন আবর্জনা হবে। সেগুলো ফেলা হয় বাঘোপাড়ায় মহাসড়কের ধারে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায়। আমাদের দুটি ভাগাড় বর্তমানে বন্ধ। আবার এখন যেখানে ফেলা হচ্ছে, সেই জায়গার মালিক নিষেধ করলেই নতুন জায়গা খুঁজতে হবে।

শহরের বনানী রেশম উন্নয়ন বোর্ড, ঠনঠনিয়া, সেউজগাড়ী কৃষি অফিস, রেল স্টেশন, শিববাটি শিল্পকলা একাডেমির সামনের ট্রান্সফার স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা যায়, ময়লা-আবর্জনা অনেকটাই উন্মুক্ত পড়ে আছে। এ ছাড়াও শহরের প্রাণকেন্দ্র এলাকার সপ্তপদী মার্কেটের সামনে, ফতেহ আলী বাজারের সামনে প্রতিদিনই ময়লার স্তূপ জমা হয়। এর মধ্যে অনেক এলাকার আবর্জনা সরাসরি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে পড়ছে।

গত শনিবার ও রোববার শহর ঘুরে দেখা যায়, ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর কয়েকটিতে শেড থাকলে মোটাদাগে সেগুলো উন্মুক্ত। মোবাইল ডাস্টবিনে করে সিবিও শ্রমিকরা আবর্জনা নিয়ে এসে স্টেশনের সামনে ফেলছেন। বেশির ভাগ পড়ছে রাস্তার ওপরে। আবার কাক-কুকুর তো বটেই, উদ্বাস্তু-হতদরিদ্র কিছু মানুষও আবর্জনা ঘাঁটাঘাঁটি করে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়। ফলে ট্রান্সফার স্টেশন এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ভেসে বেড়ায়। এতে আশপাশের বাসিন্দা ছাড়াও পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

শিববাটি এলাকার ট্রান্সফার স্টেশনের পাশের মুদিদোকানদার মেহেদি হাসান বলেন, ‘এখন যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, আমার দোকান সেখানেই ছিল। আবর্জনার কারণে দোকান সরানো হয়েছে। তবুও দুর্গন্ধ লাগে। ময়লাগুলো ডাস্টবিনের ঘেরার মধ্যে থাকলেও হয়। এগুলো সব সময় রাস্তার অর্ধেকজুড়েই পড়ে থাকে।’

সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা সামসুজ্জোহা পাভেল বলেন, ‘ময়লা নিয়ে গিয়ে কী করে? সেগুলো তো আবার শহরের আরেক ধারে ফেলে রাখে। এতে কী লাভ? ময়লা-আবর্জনা তো শহরের কোথাও না কোথাও স্তূপ আকারে পড়েই থাকছে। এর দূষণের প্রভাব আমাদের ঘিরে রাখছে। এরচেয়ে বর্জ্য রিসাইক্লিং করার ব্যবস্থা চালু করলে সেটি সবার জন্য ভালো হয়।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেন বেসরকারি সংস্থা অনুসন্ধানী ক্রিডসের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আতিকুর রহমান মল্লিক। তিনি বলেন, বর্জ্য বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে। এগুলোতে দস্তা, সালফার, ক্যাডমিয়াম, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়ার মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো কোথাও স্তূপ করে রাখলে সেখানকার মাটি-বাতাস দূষণ করবে। পানিতে মিশলে জলাশয়ের প্রাণবৈচিত্র্যে আঘাত হানবে। রাতারাতি এর প্রভাব পড়ে না বলে মানুষ তা বুঝতে পারে না। তবে এসব বর্জ্যের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও অন্যান্য জীব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের জন্য আফসোস যে বগুড়ায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা সম্ভব হয়নি। খোলা স্থানে আবর্জনা থাকায় নদীর পানি ও মাটিতে মিশছে। বাতাস দূষিত করছে। কয়েক বছর আগে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা এসেছিল বর্জ্য রিসাইকেল করার। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্রের জটিলতায় সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাজাহান আলম বলেন, আমাদের অন্যতম সমস্যা লোকবল। এ জন্য আমাদের কাজে একটু ঘাটতি থাকে। আর আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন, যা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বা জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলো দিতে পারে।

তবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি, আগামীতে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প আসছে বগুড়া পৌরসভায়। এতে রাস্তা, ড্রেন এসব নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প পেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে।

জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় বর্জ্য রিসাইকেল করার বিষয়ে পৌরসভার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরাও বলেছি, বর্জ্য এমন স্থানে রাখতে হবে যেন শহরের বা পরিবেশের ক্ষতি না হয়। সেটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা মেনেই করতে হবে। তবে সমস্যা হলো, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের মতো বড় পরিসরের জায়গা পৌরসভার নেই। পৌরসভা সে রকম জায়গা বের করে কোনো প্রকল্পের ডিজাইন করলে আমরা অবশ্যই দেখব।

বিষয়:

দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি নওগাঁ শহরের পাতালীর মোড় এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নওগাঁ

উত্তরের জেলা নওগাঁয় তীব্র দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। কাঠফাটা রোদে দুঃসহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন পড়েছেন ভোগান্তিতে। প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরমের তীব্রতা। এর মধ্যে জেলাজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে গ্রীষ্মের অত্যধিক এ তাপমাত্রা অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও নারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

জেলার বদলগাছী উপজেলা আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টায় নওগাঁয় তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৯টায় ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ওইদিন সকাল ১০টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলায় চলমান এ দাবদাহ আরও কয়েক দিন চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ হামিদুল হক বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে নওগাঁয় বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ সময়ে জেলার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দিনমজুরদের জীবন। দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে এসে হাঁপিয়ে উঠেছেন তারা। অসহনীয় রোদের মধ্যেও পেটের টানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে ঘেমে দুর্বলও হয়ে পড়ছেন।

নওগাঁ শহর ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যাত্রীর অভাবে গাছ বা অন্য কিছুর ছায়ায় বসে অলস সময় পার করছেন রিকশা ও ইজিবাইকচালকরা। তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই শরবত, তালশাঁস কিংবা ঠাণ্ডা পানি পান করছেন।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সারা দিন বাইরে কাজ করে রাতে ঘুমানোর সময় তাদের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয়। এর ফলে আরও বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন।

শহরের তাজের মোড়ের রিকশাচালক শহিদুল হক বলেন, ‘এত গরম আগে কখনো হয়নি। খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হয় রোদে হাত-পা পুড়ে যাবে। পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই এই গরমের মধ্যেও রিকশা চালাতে হচ্ছে।’

শহরের উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা শারমিন বেগম বলেন, ‘একদিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাচ্ছি না। কিন্তু ঘরের মধ্যে থেকেও গরম থেকে রেহাই নেই।’

এদিকে অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে শহরবাসীদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতেও নিষেধ করেছেন তারা।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, তীব্র গরমে জেলায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে সাধারণ ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে প্রায় ৩৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। তবে গরমের কারণে হিটস্ট্রোক করা কোনো রোগী এখনো পর্যন্ত ভর্তি হয়নি।

দাবদাহের মধ্যে বাইরের খোলা খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, তাপমাত্রা যদি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠে যায়, তবে হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এ কারণে গ্রীষ্মকালীন ফল, যেমন- আম, কাঁঠাল ও লিচুসহ অন্য রসালো ফল পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের মিষ্টি জাতীয় ফল মাত্রাতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। যথাসম্ভব সবাইকে তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। আর এই তীব্র গরমে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে রোদে বের না হওয়াই ভালো।

বিষয়:

রাজবাড়ীতে নারী ও কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ৭ জুন, ২০২৩ ১২:৪০
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালীতে এক নারী ও কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকা থেকে ভ্যানচালক হাসিবের (১২) আর কালুখালী উপজেলার মাছবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে রাশিদা বেগম (২৫) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত হাসিব উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের হামিদুল শেখের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে হাসিব ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সন্ধ্যায় আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় হাসিবের বাবা পাংশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে বুধবার সকাল ৭টার দিকে হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করে। ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য হাসিবকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

অন্যদিকে জমির একটি দলিল সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে রশিদার বাবার বাড়িতে গিয়ে ইট দিয়ে তাকে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন স্বামী আব্দুল। এরপর থেকে রাশিদার স্বামী পলাতক রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, দুইটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুইটি ঘটনা নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

বিষয়:

অপহরণ-খুনের অভয়ারণ্য এখন টেকনাফ

আপডেটেড ৭ জুন, ২০২৩ ০৮:১২
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ অনিরাপদ অঞ্চল হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছেড়েছে। শিশুরা এখন মাঠে খেলতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিরাও রাত হলে ভয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যান। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের আটক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও ভাবতে হচ্ছে।

টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গারা গড়ে তুলেছে ‘অপহরণ সংগঠন’। চলছে বিদেশি পিস্তল, বিদেশি ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। বাধা দিতে গেলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও গুলি চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

এ ছাড়া বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের নিয়মিত অভিযানে আটক করেও ঠেকানো যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, ধর্ষণ, স্বর্ণের চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে অপরাধের রাজ্য তৈরি করেছে রোহিঙ্গারা।

একসময়ের শান্তিপূর্ণ টেকনাফে এখন অপহরণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অপহরণের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। টেকনাফের পাহাড়-জঙ্গলে আস্তানা গড়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। মুক্তিপণ দিলেও আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলে লাশ মাটির গর্তে পুঁতে রাখা হচ্ছে। এসব কঙ্কাল উদ্ধার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ক্যাম্পে খুন এখন নিয়মিত ঘটনা। যে একটু পরিচিত হয়ে উঠছে, তাকেই খুন করা হচ্ছে।

গত রোববার অপহরণের শিকার হয়েছে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ হোসাইন সূর্য। তার পরিবারের কাছে ইতিমধ্যে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।

স্থানীয় লেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সূর্য এলাকার সোলতান আহমেদের ছেলে। রোববার স্কুল ছুটির পর অপহরণ করা হয় তাকে। সোলতান জানান, দুর্বৃত্তরা ফোন করে বলছে যে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হবে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ না দেয়ায় গত শনিবার রাতে এক যুবকের হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পরে ওই হাতসহ তাকে ফেরত পাঠায় অভিভাবকের কাছে। মুক্তিপণ না দিলে বাকিদের হত্যা করা হবে বলে পরিবারের কাছে হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।

হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, তার ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাদিমোরা, লেদা, আলীখালী, রঙ্গীখালী, পানখালী, কম্মুনিয়াপাড়া ও মরিচ্চ্যঘোনা এলাকার মানুষ অপহরণ আতঙ্কে ভুগছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নে কয়েকটি পাহাড় আছে। এসব পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছে ১০-১২টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের অপহরণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশু, ছেলেমেয়ে, স্কুলছাত্র এমনকি অটোরিকশাচালকরা। যেকোনো সময় কেউ অপহরণের শিকার হন। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

গত ২৮ এপ্রিল পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ আলমের ছেলে জমির হোসেন রুবেল। তার দুই বন্ধু ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ সওদাগরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ ও কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার ইমরান। গত ২৪ মে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা এখন পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে।

টেকনাফ থানার তথ্যমতে, ২০২২ সালের ১ নভেম্বর থেকে গত ৩০ মে পর্যন্ত সাত মাসে টেকনাফ থানায় অপহরণের মামলা হয়েছে আটটি। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা অন্তত ৫০। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ জনকে। একই সময়ে অপহৃত অনেককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বাহারছড়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. হুমায়ুন বলেন, ‘এই ইউনিয়নে অর্ধলাখ মানুষের বসবাস। অধিকাংশই জেলে এবং কৃষিকাজ করেন। সবাই অপহরণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে দিনেও ঘর থেকে বের হন না।’

বাহারছড়া ইউনিয়নের এক নারী সদস্য এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার মো. ইসহাক অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, ‘অপহরণে জড়িত থাকায় বর্তমানে কারাগারে ইসহাক। তবে নারী সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হননি। বারবার অভিযোগ করার পরও অপহরণরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি আমরা।’

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী কোনো চক্র রয়েছে, যাদের অবস্থান বেশ শক্ত। গত ৫ মাসে তারা বাহারছড়া ইউনিয়নের ২০ জনকে অপহরণ করে। তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানের দাবি করেন তিনি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘তার ইউনিয়নের কম্বনিয়াপাড়া মহেশখালিয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া, খারাংখালী, সাতঘড়িয়াপাড়া ও রইক্ষ্যম এলাকায় অন্তত ৭০০ পরিবার অপহরণ আতঙ্কে ভুগছে। এসব গ্রামের চারজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি আবদুল হালিম বলেন, ‘যারা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন, তাদের কেউ থানায় অভিযোগ করছেন না। তাদের অনেকের সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী এসব অপহরণের সঙ্গে জড়িত। তবে তাদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকও আছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এসব এলাকার পাহাড়-জঙ্গল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশ চৌকি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে অপহরণের ঘটনা কমে যাবে। এ জন্য পাহাড়ি এলাকার চাষিদের দলবেঁধে কাজে যাওয়ার কথা বলেছি।’


যৌতুকের মামলায় শ্বশুর গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার হাসান আলী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীতে পুত্রবধূর যৌতুকের মামলায় শ্বশুর হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সদর উপজেলার ভুল্লি কিসমত শুকানপুকুরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুল্লি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিক হাসান জানান, দুদিন আগে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে রেজিয়া বেগম তার স্বামী জয়নাল আবেদিন, শ্বশুর হাসান আলী, শাশুড়ি জামিলা বেগম ও দেবর বাবুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনের নামে ভুল্লি থানায় এজাহার দেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এজাহারটি মামলা হিসেবে নিয়ে অভিযান জালিয়ে শ্বশুর হাসান আলীকে আটক করা হয়েছে।

মামলার বাদী রেজিয়া বেগম জানান, ১৬ বছর আগে জয়নালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এ ছেলে জন্ম নিয়েছে। কিন্তু জয়নাল বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে রেজিয়ার সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। যৌতুকের জন্যও চাপ দিতেন জয়নাল। তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে নির্যাতন সহ্য করতেন।

রেজিয়া বেগম বলেন, কয়েক দফায় বাবার হালের গরু ও কামলা দিয়ে জমানো টাকা এনে দিয়েছি। কিন্তু যৌতুকের আবদার দিন দিন বাড়ছিল। সম্প্রতি স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য মারধর করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি বাবার বাসায় গিয়ে উঠি। সেখানে তারা গিয়ে বলে, যৌতুক দিতে পারলে সংসার করতে পারব, না দিলে সংসার করতে পারব না। তাই বিচারের প্রত্যাশায় মামলা করেছি।

এ বিষয়ে জানতে জয়নাল আবেদিন ও তার ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। বাড়িতে গিয়েও জয়নাল, তার মা ও ভাইকে পাওয়া যায়নি।

ভুল্লি থানার ওসি বলেন, মামলার বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই গ্রেপ্তার করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

জন্মদিনে ফেসবুকে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা, বিব্রত নন ওসি!

ওসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট ছাত্রদল নেতাদের। এই পোস্টগুলো নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

জন্মদিন এলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে শুভেচ্ছা জানান। যার জন্মদিন তিনি যদি পরিচিত বা ক্ষমতাবান হন, তাহলে তো শুভেচ্ছার বহরটা আরও বেশিই হয়। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন সবুজও জন্মদিনে ফেসবুকে এমন অনেক শুভেচ্ছাই পেয়েছেন। তাকে শুভেচ্ছা জানানোর তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাও। সেই শুভেচ্ছা নিয়ে আবার ক্ষোভ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার হাটহাজারী মডেল থানার ওসি রুহুল আমীন সবুজের জন্মদিন ছিল। সেই দিন তার সঙ্গে দেখা করে ও ফেসবুকে অনেকে শুভেচ্ছা জানান। ফেসবুকে কার্ড বানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খালেক, হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তকিবুল হাসান চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী।

তকিবুলের দেওয়া শুভেচ্ছা কার্ডের ওপরের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েলের ছবি আছে। কার্ডের নিচে এক পাশে ওসি রুহুল আমীন ও অন্য পাশে তকিবুলের ছবি।

সালাউদ্দিন খালেকের দেয়া ফেসবুক কার্ডেও ওপরে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি। মাঝে বড় করে ওসি রুহুল আমীন ও নিচে সালাউদ্দিন খালেকের ছবি।

ফেসবুক পোস্টগুলোতে রুহুল আমীনকে সৎ, যোগ্য ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গর্ব ও সময়ের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে সম্বোধন করা হয়। আর দুটি কার্ডেই একেবারে ওপরে ছাত্রদলের মূলনীতি ‘শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি’ লেখা ছিল।

এদিকে এই শুভেচ্ছা পোস্টগুলো ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এ নিয়ে সোমবার রাতে ফেসবুকে উত্তর জেলা যুবলীগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন লিখেন, ‘হাটহাজারী মডেল থানার ওসি সাহেবকে নিয়ে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদলের রমরমা অবস্থা দেখি। ওসি সাহেব আগামী নির্বাচনে হাটহাজারী থেকে বিএনপির প্রার্থী হবেন নাকি?’

জয়নালের সেই পোস্টটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তাদের অনেকে লিখেছেন, একজন ওসিকে নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হয় ওসি তাদের কেউ। কেউ কেউ আবার ওসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন জানিয়ে লিখেছেন, ওসিকে বিতর্কিত করতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ছাত্রদলের নেতারা। ওসি এ নিয়ে বিব্রত, তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকে অবশ্য ওসিকে জন্মদিনে জানানো শুভেচ্ছা কার্ডগুলো ছাত্রদল নেতাদের ফেসবুকে আর দেখা যায়নি।

এ নিয়ে জানতে ফোন করা হলে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি রুহুল আমীন বিব্রত নন বলে জানিয়েছেন। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি লাগিয়ে শুভেচ্ছা পোস্ট বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ‘বিব্রত হওয়ার কী আছে?’ বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।

এরপর কয়েকবার ফোন করা হলেও ওসি আর কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য নেয়াও সম্ভব হয়নি।

বিষয়:

যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বাড়ানোর দাবি

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

বাস, মিনিবাস ও মালবাহী ট্রাকের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পুনর্বিবেচনা করে ৩০ বছর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। সম্প্রতি নগরের স্টেশন রোডে আন্তজিলা বাস মালিক সমিতির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতাদের দাবি, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে পরিবহন ব্যায় বাড়বে। অন্যদিকে সম্প্রতি যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাসের ২০ বছর এবং পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ২৫ বছর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এতে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বাস, মিনিবাস ও মালবাহী ট্রাকের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ৩০ বছর করার দাবি তাদের।

সভায় সংগঠনের মহাসচিব মনজুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘করোনা মহামারির দীর্ঘ সময়ে গাড়ির মালিক ও শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে অত্যন্ত দুর্বিষহ সময় কাটিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রণোদনা আমরা সাধারণ মালিকরা পাইনি। অথচ গাড়ির সব কর নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে মালিক-শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে এখন আবার গাড়ির আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই আমরা বাস-মিনিবাস ও মালবাহী ট্রাকের আয়ুষ্কাল ৩০ বছর করার যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহজাহান বলেন, বাস-মিনিবাস ও মালবাহী ট্রাকের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বাড়ানোর দাবি এবং বিভিন্নভাবে গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি বাস্তবায়নে সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আলহাজ্ব কফিল উদ্দিন আহমেদ, আলহাজ্ব মোরশেদুল আলম কাদেরী ও হাজী জহুর আহমেদকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সংগঠনের সহসভাপতি নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সৈয়দ হোসেন, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, আব্দুর রহমান, মোশারফ হোসেন, মনসুর আনোয়ার, ফারুক খান, মো. জাফর, মো. শাহজাহান, মনসুর রহমান, মো. ইসহাক, রেজাউল খান, মনসুর, আবুল বশর, মোবারক হোসেন, খোরশেদ আলম, মো. হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

মেহেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোলের শিশুসহ মায়ের মৃত্যু

নিহতদের বাড়িতে স্থানীয় ও স্বজনদের ভিড়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ জুন, ২০২৩ ২৩:২৯
প্রতিনিধি, মে

মেহেরপুরের গাংনীতে ব্যাটারিচালিত ভ‍্যানের চার্জার খুলতে গিয়ে এক মা ও তার ১৪ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৩) এবং তাদের কন্যা শিশু মারিয়া।

কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন এসব তথ‍্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিন্টু মিয়া তার নিজ বাড়িতে ব‍্যাটারিচালিত পাখি ভ‍্যান চার্জে দিয়ে বাইরে যায়। চার্জ দেয়া শেষ হলে মিন্টুর স্ত্রী তাসলিমা চৌদ্দ মাস বয়সি মেয়ে মারিয়াকে কোলে নিয়ে চার্জার খুলতে যান। এস বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ের মৃত্যু হয়।’

ভবানীপুর পুলিশ ক‍্যাম্পের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। আমাদের প্রাথমিক তদন্ত চলমান রয়েছে।’

বিষয়:

মারধরে কৃষক নিহত: গ্রেপ্তার ৩ জন কারাগারে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় মাটির গাড়ি জমির ওপর দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধরে মারধরে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নিহত হয়েছেন। হত্যায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ। হত্যা মামলায় সেই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গয়েশপুর (কামাড়পাড়া) গ্রামের লাল মিয়া ওরফে কোনা মিয়ার ছেলে। যে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন একই এলাকার মৃত আমান উল্লাহর ছেলে আব্দুর রেজ্জাক (৬৫) ও নান্নু মিয়া আকন্দ (৫৫) এবং দারাজ মিয়ার ছেলে সাজ্জাম মিয়া (২২)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মাহাবুব আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় মারধরে আহত জাহাঙ্গীরকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ওই এলাকার রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির আবাদি জমির ওপর দিয়ে ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর পর্যায়ে সেখানে মারধরে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই লিখন আকন্দ সাদুল্লাপুর থানায় রেজ্জাক, নান্নু ও সাজ্জাতকে প্রধান আসামী হিসেবে উল্লেখ করে ২১ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুব আলম বলেন, সোমবার রাতে রেজ্জাকের বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষয়:

ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের ভাতিজা, গ্রেপ্তার দাবি

এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফে শহিদ উল্লাহ নামে একজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শহিদ উল্লাহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিদ্দিক আহমদের ভাজিতা। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ইউপি সদস্য ছিদ্দিকের প্রশ্রয় রয়েছে।

এরই মধ্যে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। সিদ্দিকসহ শহিদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে সাবরাং আলীর ডেইল এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (৩) আদালতে। মামলায় শহিদকে মূল আসামি এবং তার চাচা ইউপি সদস্য ছিদ্দিককে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, শহিদ আমাকে দীর্ঘ দিন ধরে আমার সঙ্গে সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আমি রাজি না হওয়ায় বলত, আমাকে নির্যাতন করবে। শেষ পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এখন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই, আমার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার প্রধান আসামি শহিদ ছাড়াও তার চাচা ছিদ্দিককেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ওই মেয়ের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, আলীর ডেইল এলাকায় সংঘটিত প্রায় সব অপরাধের ক্ষেত্রেই অপরাধীরা কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়। ফলে এলাকায় দিন দিন অপরাধ বেড়ে চলেছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, ওই ইউপি সদস্য দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। এতে তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা শহিদ ও ইউপি সদস্য ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান। পরে সবাই এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহিদ উল্লাহর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার চাচা ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন। বলেন, ঘটনা সত্য কি না, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

জানতে চাইলে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি এলাকার লোক মারফত শুনেছি। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করছে শুনেছি। আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


চাঁদপুরে রোগীদের হয়রানি, আটক চার দালাল

আটক চারজন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চাঁদপুর

গ্রামাঞ্চল থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সহজ-সরল রোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার কারণে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের হাসপাতাল থেকে আটক করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহরাজ মাহমুদ।

গ্রেপ্তার ৪ ব্যক্তি হলেন- শহরের পুরানবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী মৃত মিরাজ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ (২৬), কোড়ালিয়া রোডের দুলালের ছেলে সবুজ (২২), ঘোষপাড়ার বিষু দের ছেলে দীপ দে (২৩) ও পুরানবাজার মেরকাটিজ রোডের কানাই দাসের ছেলে হৃদয় দাস (২৫)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য শত শত রোগী আসেন। রোগীরা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন টিকিট কিংবা ওষুধ নেয়ার জন্য তখনই দালালরা গিয়ে সিরিয়াল ছাড়া আগে টিকিট নিয়ে দেবেন বলে টাকা নেন। আবার যারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চেম্বার থেকে বের হন, তাদের এক রকম জোর করে নিয়ে যান হাসপাতালের সামনে থাকা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় দালাল হিসেবে কাজ করেন তারা।

এএসআই মেহরাজ মাহমুদ জানান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি করার কারণে তারা মোবাইলে ফোনে থানায় অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে এসে এই চারজনকে আটক করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, রোগীদের একশ্রেণির দালাল বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। তারা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে তাদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেকেই সঠিক চিকিৎসাসেবা পান না। রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়:

চার্জার ফ্যানের দাম বেশি রাখায় জরিমানা

আপডেটেড ৬ জুন, ২০২৩ ২০:৩০
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

মাদারীপুরে চার্জার ফ্যান অতিরিক্ত দামে বিক্রি করায় খান ইলেকট্রনিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান পরিচালনা করে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সদর উপজেলার পুরান বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার অধিপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস।

জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, লোডশেডিং ও তাপমাত্রা বেশি থাকার সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী চার্জার ফ্যানের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ আসে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খান ইলেকট্রনিক্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাদেরসহ অন্য দোকানদারদের সতর্ক করা হয়।

বিষয়:

banner close