নওগাঁয় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে চালবোঝাই ট্রাকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আন্তজেলা ডাকাত দলের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয় ডাকাতি হওয়া চাল, ট্রাক, নগদ টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক।
গ্রেপ্তাররা হলেন সোহাগ, শাজির উদ্দিন, মো. জিয়া, শাজাহান, মেহেদী, ইউসুফ, মাহফুজ, রাজু পালোয়ান, রতন ও শরিফসহ আরও দুজন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ২২ মার্চ গাইবান্ধা থেকে একটি ট্রাকে করে ৪০০ বস্তা আতপ চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে। এ সময় নওগাঁ সদর উপজেলার বাইপাস সড়কের ইকরতারা স্থানে রাত ১টার দিকে ডাকাত দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ট্রাক থামিয়ে চালক ও হেলপারকে মারপিট করে হাত-পা বেঁধে রেখে ডাকাতরা ট্রাক নিয়ে চলে যান। ভোরে চালক ও হেলপার কৌশলে তাদের হাতের বাঁধন খুলে আশপাশের মানুষকে জানালে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তী সময় এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা করা হলে পুলিশের কয়েকটি টিম তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে বগুড়ার শেরপুরের রানিরহাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর প্রযুক্তি এবং সোর্সকে কাজে লাগিয়ে জানা যায় ডাকাতি হওয়া চাল শেরপুর উপজেলার একটি গোডাউনে আনলোড করা হয়েছে। পরে ২৮ মার্চ সেখানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি করা চালের দুই ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের তথ্যমতে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সোহাগকে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়ি থেকে ৯০ বস্তা চাল ও সদরের নিশিন্দারা থেকে ২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২৯ মার্চ একই জেলার কাহালু থেকে শাজির উদ্দিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে ১১১ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার ডাকাত জিয়াকে নিয়ে কাহালু ও জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর ও নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শাজাহান, মেহেদী ও ইউসুফকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশ সুপার রাশিদুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে আবার বগুড়া সদরে অভিযান চালিয়ে ডাকাত মাহফুজ, রাজু পালোয়ান এবং রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজুকে নিয়ে সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি হওয়া চাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত হাটিকুমরুল এলাকার শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তার দেয়া তথ্যমতে ১১১ বস্তা চাল বিক্রির ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৫০ টাকা তার কিাছ থেকে জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এদের মধ্যে জিয়া, মেহেদী, রতন ও রাজু পালোয়ানের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও খুনের মামলা রয়েছে। ডাকাতির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেই বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসানসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং টাকা বিতরণের নথিপত্রসহ গোলাম মোস্তফা নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মাস্টারের বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিকালে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ছাড়াও একটি ল্যাপটপ, কিছু খালি খাম এবং টাকা বিলি করার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক গোলাম মোস্তফা পেশায় জপসা ইউনিয়নের শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং রাজনগর এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কে এম মকবুল হোসেন, জামায়াত নেতা এডভোকেট মাহফুজ আলম এবং হাসান আল মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে উদ্ধারকৃত প্রমাণাদির ভিত্তিতে গোলাম মোস্তফাকে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস অভিযানের বিস্তারিত ও দণ্ডাদেশ নিশ্চিত করে জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থ এবং নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ১০ দিনের সবশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১ এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিসিইউ-১ এর নার্সিং ইনচার্জ সোহেলা পারভীন। এর আগে বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, “প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন হার্ট অ্যাটাক করেছে। উনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় হার্টের হার্টবিট কমা-বাড়া করছে। উনাকে এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।” ডা. আজহারুল আরও জানান যে, “ইসিজি করা হয়েছে, সেখানে সমস্যা আছে। ইকোসহ ব্লাডের কিছু টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে উনার সমস্যা কী পর্যায়ে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।”
আটক নেতার বিষয়ে রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল দাবি করেন যে, বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ রাজনীতিক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। উনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। উনি কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে ঢাকা থেকে আসছিলেন। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, যেটা প্রশাসন বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে, সেখানে এনডোর্সমেন্ট করেই নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে আটকিয়ে আজকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ বা সুন্দর পরিবেশটাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” কাজলের মতে, প্রশাসনের অবহিত থাকার পরও একটি বিশেষ বিভাগ তাকে আটক করেছে এবং “বিভিন্নভাবে তাকে মানসিক টর্চারের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।”
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর অবতরণ করলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলাল উদ্দিন ও জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নানের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ অর্থ জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল আলম রেজা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন জানান তার ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে টাকা গণনা শেষে তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।” বেলাল উদ্দিন নিজেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী দাবি করে ব্যবসায়িক কাজেই এই অর্থ বহন করছিলেন বলে জানিয়েছেন, যার সত্যতা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন পেশায় সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার একজন শিক্ষক।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। অভিযানে শটগান, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, আটক করা হয়েছে একজনকে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেশীয় তৈরি ১টি শটগান, ৩ রাউন্ড গুলি, ৯টি দেশীয় দা এবং একটি দ্রুতগতির ১টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় নৌ-ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতের নাম জামাল হোসেন (৪৪)। সে ভাসারচর গ্রামের শহীদ ঢালির ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আটক জামাল হোসেন কুখ্যাত নৌ-ডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করত।
গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনস্থ গজারিয়া আর্মিক্যাম্প এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ইউনিয়নের চরচাষী, ভাসারচর এবং শিমুলিয়া গ্রামে সন্ত্রাসীদের সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে হানা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান চলাকালীন কুখ্যাত নৌ-ডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য আক্তার ও তার ছেলে রিয়াজের বাড়ির পানির ট্যাংকের পাশ থেকে দেশীয় তৈরি ১টি শটগান ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ৯টি দেশীয় দা। অভিযান চলাকালে নদীর ঘাট থেকে ডাকাত দলের ব্যবহৃত ১টি দ্রুতগতির ট্রলারও জব্দ করা হয়। অন্যদিকে অভিযানে ভাসারচর গ্রাম থেকে জামাল হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়। সে নৌ-ডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ গ্রুপের সোর্স হিসেবে কাজ করত।
এ বিষয়ে সেনাক্যাম্পের অপারেশন অফিসার জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুয়াগাছিয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস, নাশকতা এবং মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য নিকটস্থ সেনাক্যাম্পে প্রদানের জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ‘এই ঘটনায় একজন আটক রয়েছে। সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম থানায় হস্তান্তর করার পর আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
কেশবপুর খানপাড়া জামে মসজিদের সাড়ে ৩৯ বিঘা এবং সরকারি প্রায় ১১ বিঘা সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধারসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন খানপাড়া জামে মসজিদের পক্ষে কমিটির সভাপতি হাজী মোজ্জাম্মেল হোসেন খান।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাব কেশবপুরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খানপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি হাজী মোজ্জাম্মেল হোসেন খান জানান, মধ্যকুল খানপাড়া জামে মসজিদটি এলাকার প্রয়াত বুদ্ধ খান, তার নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করেন। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে ওই মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯০৩ সালে এই মসজিদের নামে একই এলাকার হাজী জমসের খান ৩৯.৫ বিঘা জমি আল্লাহর নামে ওয়াকফ করে যান। ওই সকল সম্পত্তি কেশবপুর পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যকুল খানপাড়া এলাকার মৃত রজবালী খানের ছেলে আসলাম খান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম খানগংরা কথিত মোতয়াল্লীরা জোরপূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। এর পাশাপশি তারা মসজিদে দানের ও কৌটার মুসল্লিদের দানের লাখ লাখ টাকাও তারা আত্মসাৎ করে খেয়েছেন। এসব টাকার হিসাব চাইলে তারা মসজিদ কমিটিসহ মুসল্লিদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান।
এসব অর্থের কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত তারা দেয়নি। এ ছাড়া ওই মসজিদের নামে শতকোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও এই জমির আয় থেকে কোনো অর্থ মসজিদ উন্নয়নসহ তার পচিালনায় তারা না দিয়ে নিজেরা ভাগবাঁটোয়ারা করে খাচ্ছে। সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর প্রায় ৩০টি পাকা আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে প্রতিমাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে নিজেরা পকেটে তুলছেন। এসব দোকান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে হাজি জমসের খান ওয়াকফ সম্পত্তির সাড়ে ৩৯ বিঘার জমির মধ্যে কথিত মোতয়াল্লীদ্বয়রা প্রায় ৩০ বিঘা জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে দিয়ে, আবার তারা ওই জমি উদ্ধারের জন্য ওইসকল ক্রেতাদের নামে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে আসছে। এর পাশাপাশি ওই ভূমিদস্যু আসলাম খান ও সালাম খান মসজিদের জমির পাশাপশি সরকারি জেলা পরিষদ এবং সিঅ্যান্ডবির ১১ বিঘা মূল্যবান সম্পত্তির ওপর দোকান ঘর ও মৎস্যঘের নির্মাণ করে তারা একইভাবে দখলে রেখে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারসহ ভূমিদস্যু আসলাম ও সালাম খানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে যশোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আসলাম খান সম্প্রতি কেশবপুর বাজারের প্রায় ৩০ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসব ব্যবসায়ীরা শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যকুল খানপাড়া জামে মসজিদে এসে বিষয়টি স্থানীয় মুসল্লিদের জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারসহ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারসহ ওই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, খানপাড়া জামে মসজিদের যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ খান, ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান খান বাবু, সহক্যাশিয়ার আসিফ রায়হান, প্রচার সম্পাদক মো. স্বপন বিশ্বাস সদস্য ইকবাল খান বাসার খান ও জাকিব খানসহ সকল সদস্যরা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন একটি কেন্দ্রের পাশ থেকে ১০টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বানিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের একটি ঘাস ক্ষেত থেকে এই বস্তুগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোট কেন্দ্রের এত কাছে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুর উপস্থিতি ওই এলাকার সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদ খান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বানিয়াকান্দি সরকারি স্কুল সংলগ্ন বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি কার্যালয়ের পাশে ঘাস ক্ষেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি মুখ বন্ধ বাজারের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগগুলোর অবস্থান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, র্যাব এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সাথে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে ১০টি লাল টেপ মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো বর্তমানে কুমারখালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বানিয়াকান্দি ও সংলগ্ন এলাকায় এক ধরণের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে আগামীকালকের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা ও সংশয় তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুগুলো উদ্ধার করেছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতি সঞ্চার করতেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এই কাজ করে থাকতে পারে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের জগন্নাথ পাড়া এলাকায় আদালতের আদেশ অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠেছে শুভ চন্দ্র (৩২), শ্যামল চন্দ্র দাস (৬০) ও জ্যোতিকা রানী (৬৫) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবীর মোহন্ত।
জানা যায়, পৌর শহরের জগন্নাথপাড়া এলাকার মৃত গৌর চন্দ্র দাসের ছেলে প্রবীর মোহন্তের সাথে মৃত শুবল চন্দ্র দাসের ছেলে শুভ চন্দ্র দাস শোভন, মাখন লাল দাসের ছেলে শ্যমল চন্দ্র দাস ও মৃত শুবল চন্দ্র দাসের স্ত্রী জ্যোতিকা রানী দাসের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বহুবার শালিশ করেছেন; কিন্তু তারা শালিশ মানেন না। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গৌর চন্দ্র দাস (বর্তমানে মৃত) বিগত ২০২০ সালে বগুড়ার জেলা যুগ্ম জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (১৫৬/২০২০)। এমনকি ওই মামলায় জমির ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেন জেলা জজ আদালত। আদালতের সেই আদেশ অমান্য করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার জোরপুর্বক বিবাদমান জায়গায় ঘর নির্মাণ শুরু করে প্রতিপক্ষরা। এ সময় পরিবারের লোকেরা কাজে বাধা দিতে গেলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোক এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শুভ দাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইব্রাহিম হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য নিয়ে মানবপাচার প্রতিরোধে ‘রাইটস যশোর’ এনজিও- মাদারীপুরের আয়োজনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘পার্টনারশীপ ও নেটওয়ার্কিং মিটিং উইথ রিলেভ্যান্ট স্টেকহোল্ডার’ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা তাদের মাদারীপুরস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ওই এনজিও এর মাদারীপুর জেলার প্রোগ্রাম অফিসার বায়োজিদ মিয়ার পরিচালনা ও সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর প্রিন্সিপাল স,ম জাহাঙ্গীর আখতার, জাতীয় মহিলা সংস্থার মাদারীপুর সদর উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সুমা খানম, তথ্যসেবা সহকারী ফারজানা রুমকি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) এর মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মশিউর রহমান পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদরুন নাহার কলি, মানবাধিকার প্রতিনিধি অ্যাড. এমদাদুল হক মিলন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দে, জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো মাদারীপুর এর ডিইএমও মো. লিয়াকত আল স্বরণসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার ও সদস্যরা।
কর্মশালায় উপস্থিত স্টেকহোল্ডাররা বক্তারা বলেন, ‘মানবপাচার একটি সামাজিক ব্যাধি এবং মাদারীপুর জেলায় এর আধিক্য অন্যান্য জেলার চাইতে অনেক বেশি। মানবপাচার প্রতিরোধে এর স্টেকহোল্ডারদের ব্যাপক ভূমিকা রাখা ও সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। অবৈধ পন্থায় জীবন হানির ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রে মাদারীপুরের মানুষেরই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার- টু-পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে বৈধ অভিবাসনে উৎসাহী করে এবং অবৈধ পন্থায় বিদেশ গমনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষতি, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া সহ প্রাণহানি ও মাফিয়াদের কর্তৃক অত্যাচার-নিপিড়নের বিষয়টি তাদের বোঝানোর কোনো বিকল্প নাই বলে একমত পোষণ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর বন্দর এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বলে জানায় পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানান, র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে।
আটক ইব্রাহিম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক। তিনি বিএনপিপন্থি বন্দর শ্রমিক দলের নেতা।
এদিকে ইব্রাহিম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবর্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানি দিচ্ছে।
স্কপভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জেলা টিইউসির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপের জেলা সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন এক যৌথ বিবৃতিতে ইব্রাহিম খোকনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এনসিটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। সবধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের নেতা ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীরসহ ১৫ কর্মচারীকে বদলির আদেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে শ্রমিক-কর্মচারীদের চার দফা দাবি নিয়ে উপদেষ্টার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা কাজে যোগ দেন। কিন্তু সেদিনই ১৫ কর্মচারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চিঠি দেয়ায় আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ অবস্থায় এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি হবে না বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার পর ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে শ্রমিক-কর্মচারীরা গত সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেন। কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একই রাতে চারটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা পূর্বপাড়া এলাকায়। ট্রান্সফরমারগুলো চুরি যাওয়ায় একাধিক সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম।
সরেজমিনে জানা যায়, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে সেচ পাম্পের জন্য স্থাপিত চারটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার কয়েল খুলে নিয়ে যায়। ভোরে কৃষকরা মাঠে গিয়ে সেচ পাম্প চালু করতে না পেরে বিষয়টি জানতে পারেন। এতে কয়েকশ বিঘা জমির ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ না পেলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রান্সফরমার না থাকায় গভীর নলকূপ বন্ধ রয়েছে, ফলে কৃষকরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় মহাসিন আলী প্রামাণিক জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় অফিসের লোকের সম্পৃক্ততার সম্ভবনা রয়েছে। কেননা প্রতি বছরই একই কায়দায় এ ঘটনা ঘটছে। এটি প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া এ কাজ সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মুকুল হোসেন, রনক, ফজলুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত বছর শামীম নামের এক কৃষকের দুটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের কোয়েল চুরি হয়েছিল। এ বছরও তাদের সাথে তার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে একই রাতে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা এই প্রথম। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াসউদ্দিন তাহেরীকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা সংক্রান্ত এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনী সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে তার শ্বশুরবাড়ির প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে ভিন্ন একটি স্থানের নাম উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, তাহেরীর প্রকৃত শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতে অবস্থিত হলেও তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর গ্রামকে শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই অসংগতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকার ভোটারদের মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ি আমার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গ্রামে। কেন তিনি তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা চুনারুঘাট লিখেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।” একই এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরী হুজুরের শ্বশুরবাড়ি আমাদের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতেই। এটা এলাকার সবাই জানে। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে চুনারুঘাটের কাশিপুর দেখাইছেন, বিষয়টি দুঃখজনক।” অন্যদিকে চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সালাম মিয়া বিষয়টির স্বচ্ছতা দাবি করে বলেন, “আমরা শুনেছি উনি নাকি কাগজে আমাদের কাশিপুর গ্রামের ঠিকানা লিখেছেন। কিন্তু উনার শ্বশুরবাড়ি এখানে এমন কোনও পরিচিতি বা প্রমাণ আমরা জানি না। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের এমন তথ্য বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয় আলেম ও পীর মাশায়েখদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সুন্নি নেতা পীর জোবায়ের কামাল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “একজন আলেম বা পীর সাহেবের কাছ থেকে মানুষ সত্য আশা করে। শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।” রতনপুর এলাকার ইমাম মাওলানা আবদুল আহাদ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইসলামে মিথ্যা বলা ও মিথ্যা তথ্য দেয়া বড় গুনাহ। ভোটের জন্য কেউ যদি পরিচয় বা ঠিকানা নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।” উদ্ভূত এই অভিযোগের বিষয়ে গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে দুটি মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হাই এই আদেশ দেন। প্রতিটি মামলায় পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আমির হামজার পক্ষে তার আইনজীবী জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ইবি থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আহমেদ গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড় ও থানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে, প্রার্থীর প্রচারণামূলক ব্যানারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংক্ষিপ্ত আদালত চলাকালীন প্রার্থীর আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, “রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় এখনো পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। এসব ব্যানার, পোস্টার এখনো আছে। আমরা এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” আদালতের পক্ষ থেকে প্রার্থীকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এ উল্লিখিত বিধিনিষেধসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর পাইকান এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহকারী জজ মোছা. স্বপ্না মুস্তারিন ২২৫/২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির দখল, আকার ও ব্যবহার কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেবল নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে; এর বাইরে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তনমূলক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। বাদীপক্ষের প্রার্থনা ও বিবাদীপক্ষের জবাব পর্যালোচনা শেষে আদালত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।
তবে বাদী আবু মো. জুলফিকার অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভবন নির্মাণকাজ চলমান ছিল। পরে বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরও কোর্টের অনুমতি ছাড়াই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে বলেছি, যেহেতু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে, আপনারা কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে কাজ করছে। কেন ঠিকাদার কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে, সে বিষয়ে জবাব ঠিকাদারই দিতে পারবেন।’
রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলার উপপ্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোর্টের কোনো নতুন নির্দেশ পাইনি। এখনো কোর্টের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে পৌঁছেনি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি দেখছি।’
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৭২ সালের ৪১৯৫১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করা হলেও তল্লাশি শেষে কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় রফিকুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের গাজিপুরা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া গ্রামের হাজী মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম স্থানীয় চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রফিকুল ইসলাম। গাজিপুরা এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই মোস্তাকিম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রিফাত ও নয়নদের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।’ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’