রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া শাকির বিন ওয়ালী নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের রিক্রুটার হিসেবে কাজ করত বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর শাকিরকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, শাকির বিন ওয়ালী আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সে রিক্রুটার হিসেবে কাজ করত।
সিটিটিসির উপ-কমিশনার এস এম নাজমুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শাকিরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লা থেকে একসঙ্গে যে ৭ জন নিখোঁজ হয়েছে তাদের সঙ্গে শাকিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। শাকিরই তাদের মোটিভেশন করেছে বলে তারা ধারণা করছেন। শাকিরের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া কুমিল্লার আবরারেরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তারা। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে কথিত হিজরতের নামে স্বেচ্ছায় ঘরছাড়া ওই সাতজনের সঙ্গে আবরারেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবরার শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত বদল করে।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লা থেকে সাতজন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই শাকির বিন ওয়ালী তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় সে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে। তবে গ্রেপ্তারের আগে সে মোবাইল থেকে সবকিছু ডিলিট করে দিয়েছে। শাকির ও আবরারের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, শাকির বিন ওয়ালী আনসার আল ইসলামের মধ্যম সারির নেতা। সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি জঙ্গিবাদে অর্থায়নের কাজও করত। তারা জঙ্গি সদস্য রিক্রুট করার জন্য একটি পৃথক প্লাটফর্মও তৈরি করেছে। এসব কৌশল ও অর্থায়ন বিষয়ে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিখোঁজ তরুণদের একজন বরিশালে এক মাদ্রাসায় ছিল বলে জানিয়েছে। প্রায় একই সময়ে শাকিরেরও বরিশালে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা শাকিরের সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
এদিকে শাকিরের বাবা ডা. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত রোববার বিকেলে সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক নিজেদের সিআইডি পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় যায়। বাসায় গিয়ে তারা প্রথমে শাকিরের খোঁজ করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে তারা আবারও বাসায় গিয়ে শাকিরের রুম তল্লাশি করে একটি মোবাইল নিয়ে যায়।
তবে সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া তরুণদের সহযোগী আবরারকে প্রথমে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে থেকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হাজীপাড়া এলাকা থেকে শাকির বিন ওয়ালীকে আটক করা হয়।
ছয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনো
এদিকে কুমিল্লা থেকে একযোগে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের মধ্যে ছয়জনের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের একজন সারতাজ ইসলাম নিলয় ৩১ আগস্ট সকালে বাসায় ফিরেছিল। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ইউনিট তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়া তরুণদের আলাদা আলাদা স্থানে নেয়া হয়েছে। নিলয় তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, তাকে বরিশালের এক মাদ্রাসায় রাখা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ওই মাদ্রাসাটি শনাক্তের চেষ্টা করছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। জেলা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। আমরা নিখোঁজ তরুণদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।’
গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লা থেকে ইমরান, সামি, হাসিবুল, নেহাল, ইমতিয়াজ, আমিনুল ও নিলয় নামে সাত তরুণ একযোগে নিখোঁজ হন, যারা প্রত্যেকেই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছররে মধ্যে।
হাজারো মানুষের উল্লাসে পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক জশনে জুলুস পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে। এসময় শায়েররা গাড়ি বহর নিয়ে গাইতে থাকলেন ‘আজে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুস চলতেছে,আনন্দে উল্লাসে সারা জগৎ ভরেছে’ এমন মধুর কণ্ঠে হাম-নাত আর দরুদ মুখর পরিবেশে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুস। জুলুসকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জুলুসের পতাকা, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, তরুণের সাজে রাঙামাটি শহরের সড়ক ও মোড়গুলো। হামদ-নাত আর দরুদে মুখর পরিবেশে জুলুসে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জুলুসে শিশু কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে একাকার হয়ে পড়ে শহরের রাজপথ। বাসাবাড়ির ছাদে শুধু মানুষ আর মানুষ। যেদিকে চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি টুপি পরিহিত মুসল্লিদের ভিড় ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাদে জুমার নামাজের পরে রাঙামাটি জেলার গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে রিজার্ভবাজার জামে মসজিদ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুসের একটি বর্ণাঢ্য বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নানা রঙ-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন ও কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ (সঃ) ধ্বনিতে স্লোগান দিতে থাকে। এতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো শহর। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের বনরূপা জামে মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। পরে বনরূপা জামে মসজিদে নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মিলাদ-ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে জুলুসের সমাপ্তি করা হয়।
এ সময় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আব্দুল ওয়াজেদ, বনরূপা মসজিদের খতিব মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল কাদেরী, কাঠালতলি জামে মসজিদের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা সেকান্দর হোসাইন আল ক্বাদেরী, বনরূপা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, রিজার্ভবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ছৈয়দ আবু নওশদ নঙ্গমী ।
কিশোরগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজহাটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম শরীফ (৪০) বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া এলাকার মৃত বকুল মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, আজ সকালে দুর্ঘটনার শিকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কোন যাত্রী ছাড়াই কটিয়াদী থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এসময় মাইজহাটি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে সিএনজি চালক শরিফুল ইসলাম শরীফ মারা যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ জানান, অটোরিকশাটি খালি থাকায় এই ঘটনায় আর কেউ আহত নেই। অটোরিকশা ও ট্রাক আটক করা হলেও ট্রাকের চালক পলাতক। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছেন, এই রোডম্যাপ একটি সুষ্ঠ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার জন্য নীল নকশা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে মিলনায়তনে কুমিল্লার কালিবাজার ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চুড়ান্ত সংস্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগেই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। এবং বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এর মাঝে বোধহয় তিনি কোন শক্তির কাছে মাথানত করে পরিকল্পিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দেশবাসী শঙ্কা পোষন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার কমিটমেন্ট দিয়ে আসছিল তারা নিরপেক্ষ থাকবে, তারা সংস্কার করবে এবং বিচার দৃশ্যমান করবে। এবং নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তার ওয়াদা ভঙ্গ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। আমরা ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু একটি সুষ্ঠ অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরী। এরমধ্যে জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সেগুলো না করেই নির্বাচনের যে পথ নকশা ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভন্ডুল করার নীল নকশা বলে আমি মনে করি। আমরা এটা হতে দেব না। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশন কে বাধ্য করবো জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে।
এছাড়াও আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর দুইটার মধ্যে একটি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রোড ম্যাপ ঘোষণা করার নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল মোঃ তাহের। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে দেশবাসীর প্রতি ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে আমীর মাহফুজুর রহমান এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট,উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন,সহকারী সেক্রেটারী আব্দুর রহিম,কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাসেম।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোটআঁচড়া গ্রামে মিজানুর রহমান সর্দার (৪৩) নামে বিএনপি'র এক কর্মীকে কে বা কারা গরু কাটার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত মিজানুর রহমান সর্দার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের হানিফ আলী সর্দারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, মিজানুর বেনাপোল চেকপোস্টে একটি কসায়ের দোকানে গরু কাটা ঝোড়ার কাজ করে। প্রতিদিন সে ভোরে উঠে ওই কাজে যায়। আজ ও তার কসায়ের দোকানে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল। জানা মতে এলাকায় কারো সাথে তার কোন ঝগড়া বিবাদ ছিল না। সে সবার সাথে মিলে মিশে থাকতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি কে বা কারা বাড়ির গেটের সামনে উঠোনে গলা কেটে হত্যা করে রেখে গেছে।
নিহতের ভাই খায়রুল সরদার জানান, আমার ভাইয়ের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিল না । সে একটা কসায়ের দোকানে কাজ করে। প্রতিদিনের মতো আজও কাজে যাওয়ার কথা ছিল। রাত পৌনে তিনটার কে বা কারা তাকে ফোনে কল দিয়ে ডাকলে ভাই তার কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে বাহিরে বের হন। পরে দেখি কে বা কারা গেটের ভিতরে তাকে গলা কেটে হত্যা করে চলে গেছে। বেনাপোল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আহাদ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত মিজানুর রহমান আমাদের বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমার জানামতে তার সাথে কারো কোন কলহ ছিল না। সে গরুর মাংসের দোকানে কাজ করতেন। তবে কি কারণে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হলো আমাদের জানা নাই।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাসেল মিয়া ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান দূর্বৃত্তরা তাকে কেন গলা কেটে হত্যা করেছে এটা তদন্ত না করে কোন কিছু বলা সম্ভব না।থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান। ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষার বেহাল অবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের হতাশায় গোটা দেশের জনগণ উদ্বিগ্ন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্ছৃঙ্খলতা, অব্যবস্থা, অনিয়ম, মব ভায়োলেন্স, বিভিন্ন দাবি আদায়ের হুংকার, লেখাপড়ার প্রতি অনিচ্ছার প্রবণতা লক্ষণীয়। তারপর ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মের পথে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গুণগত শিক্ষার মান বাড়ানো যাচ্ছে না। আমরা জানি শিক্ষা হলো- এমন একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। জন্মের পর থেকে একটি শিশুকে বড় হওয়া পর্যন্ত, তার সার্বিক বিকাশ থেকে শুরু করে সমাজের একজন সৃষ্টিশীল এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। এ জন্যই সমাজ-বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সকল মহান ব্যক্তিরাই বলে গেছেন শিক্ষাজাতি গঠন করে এবং শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা জাতির- চরিত্র গঠন করে। আর শিক্ষাঙ্গন হলো-সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করার স্থান। শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলতে সক্ষম এবং চরিত্র গঠন ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে। তাই শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন একে অপরের পরিপূরক। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে ভাবা অসম্ভব। ফলে শিক্ষার এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সব সময় থাকতে হবে সর্বাধিক উত্তম। অথচ ব্যাথিত হই যখন দেখি রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ বা আইডিয়াল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অহরহ বিবেধ-সংঘর্ষ। যা কারও জন্য কাম্য নয়। জোড়পূর্বক সচিবালয়ে প্রবেশ করা- শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভদ্রতা, শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা এবং মানবতার পরিবর্তে হিংসা, বিদ্ধেষ, অহংকার, অহমিকা, মবের দৌরাত্ম্য, অপমান, অপদস্ত, মারামারি, অভদ্রতা ইত্যাদির আর্বিভাবে দেশ ও দেশের মানুষ আতঙ্কিত ও হতাশ। কেউ কী বলতে পারবে আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশে শিক্ষার এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সর্বাধিক উত্তম? না কখনোই না বরং দিন দিন খারাপের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে দাড়িয়েছে যা কখনোই কাম্য ছিল না। এতে করে মারাত্মকভাবে কলুষিত হচ্ছে শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ। এতে সচেতন মহল আতঙ্কিত । শিক্ষাঙ্গনে যেভাবে লেখাপড়ার পরিবর্তে চাঁদাবাজি বা মব ভায়োলেন্স ঢোকেছে তাতে এক শ্রেণির ছাত্র সমাজ জড়িত হয়ে পড়েছে তাতে গোটা শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। তাদের বক্তব্য এদেশে উচ্চশিক্ষার তেমন পরিবেশ বা শিক্ষার গুণগত মানের অভাব দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া, অনৈতিক অর্থ আদায়, শিক্ষাঙ্গনে হুমকি, তাণ্ডব কিছুই বাদ নেই। এমন কী শিক্ষাঙ্গনে পুলিশের প্রবেশ বা শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-ছাত্রীর সঙ্গে এমন সব কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত করছে তাতে লজ্জায় অভিভাবক সমাজ ক্ষুব্ধ। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সকল প্রকার অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খলতা দূর করে শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন যে শাহিদ কাপুরকেই বিয়ে করবেন কারিনা কাপুর। যেভাবে তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বলিউডে, তা শুনে কারিনা ও শাহিদের পরিবারও এই বিয়ে নিয়ে মোটামুটি ভাবতে শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে কারিনা ও শাহিদের চুমুর ভিডিও ভাইরাল হতেই তাদের প্রেম যেন আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
কিন্তু হঠাৎই অঘটন। রাতারাতি শাহিদের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন কারিনা। তখন সবে দুজনে শুরু করেছেন, ‘জাব উই মেট’ সিনেমার শুটিং। আর তার মাঝেই এই বিচ্ছেদ কাণ্ড! কিন্তু ওই বিচ্ছেদের খবর সবাই জানলেও, এর নেপথ্যের কারণটা অজানা ছিল বহুদিন। তবে সম্প্রতি কারিনাই এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানালেন, এই শাহিদের সঙ্গে বিচ্ছেদ করার কারণ।
সাইফ আলী খানের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর পরই শাহিদের সঙ্গে প্রেম প্রসঙ্গে কারিনা জানিয়েছিলেন, তিনি অতীত নিয়ে কথা বলতে চান না। বিশেষ করে শাহিদ নিয়েই তো একেবারেই নয়। কারিনার এমন বক্তব্যে জল্পনা শুরু হয়। নিন্দুকদের মুখে নানান প্রশ্ন, কী এমন হয়েছে, যে কারিনা এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
শেষমেশ সম্প্রতি নিজেই স্পষ্ট করলেন। কারিনা জানান, শাহিদ বন্ধু হিসেবে ভাল। কিন্তু ওর ইগো বড্ড বেশি, যা কিনা সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। তবে শাহিদের এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ওরা ভাল থাকুক, সুখে থাকুক।
ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিকফিল্ডের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংন্ক থেকে স্থানীয়রা পাঁচ বছরের শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রাসেল (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের সোনালী ব্রিকফিল্ড এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাথিয়ারা এলাকার ওই মেয়ে শিশুটি বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে আশপাশের এলাকায় স্বজনরা মাইকিং করে খোঁজ করলেও তার সন্ধান মেলেনি। রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেখানকার সোনালী ব্রিকসের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের পাশে মেয়েটির জামা দেখতে পায়। পরে সেখানে পরিত্যক্ত একটি সেপটিক ট্যাংকের পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ব্রিকফিল্ডে কর্মরত রাসেল নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করে। আটক রাসেল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।
শিশুর মা মুক্তা বেগম বলেন, আমার মেয়ে দুপুর বেলা হারিয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। রাত ১১টার সময় ব্রিক ফিল্ডের পাশে লোকজন তার সালোয়ার দেখতে পান। পরে আমার আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে। সেখানে সেফটি ট্যাংকের ভিতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। আমার মেয়েকে যেভাবে মারা হয়েছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আমি তার ফাঁসি চাই। আমার মেয়ের ধর্ষকের বিচার চাই।
শিশুর বাবা সোলায়মান আলী বলেন, আমার পাঁচ বছরের মেয়েকে যে ধর্ষণ করেছে, নির্মমভাবে হত্যা জন্য তার ফাঁসি চাই। আমি বাংলাদেশের সবার কাছে আমার মেয়ের এই নির্মম ঘটনার বিচার চাই। এ ধরনের ক্ষতি যেন আর কারো না হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নূর নবী বলেন, আটক ছেলেটি প্রায় দুই বছর ধরে ওই ব্রিকফিল্ডে কাজ করে। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। মেয়েটির বাবার বাড়ি ভোলা ও মায়ের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার রসুলপুরে হলেও কাজের সুবাদে তারা মাথিয়ারায় একটি কলোনিতে বসবাস করেন। পূর্ব থেকে মেয়েটি রাসেলকে চিনত। রাসেল দুপুরে শিশুটিকে ব্রিকফিল্ডে এনে খাবার দেয়। পরে ধর্ষণ করে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রাসেল নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত রাসেল ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। আইনানুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ও প্রক্রিয়া চলছে।
নেত্রকোনায় জেলা জামায়েত ইসলামীর ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলন ২০২৫ নেত্রকোনা মোক্তারপাড়াস্থ জেলা পাবলিক হল মিলনায়তনে বৃহষ্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান । প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এদেশে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করবো। সকল সরকারই ইসলামের সাথে গাদ্দারী করেছে। এখন মানুষ জামায়াতে ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা চেষ্টা করছি ইসলামের পক্ষে একটি ভোট বাক্স দেওয়ার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে এটা বাস্তবে রূপ নিবে ইনশাআল্লাহ। পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এদেশের সকল মানুষের ভোটের মূল্যায়ন করার জন্য উত্তম পদ্ধতি হলো পি আর পদ্ধতি। আমরা চাই যে এক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করেই আমরা নির্বাচনে যাবো। কোন ভোট ডাকাতের হাতে দেশকে ছেড়ে দিবোনা। ভোট কেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহাড়া দিতে হবে। জামায়াত এদেশের মানুষকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র উপহার দিবে। এ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ড. ছামিউল হক ফারুকী, নেত্রকোণার ৪ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নেত্রকোনা-৩ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন সাইফুল, সহকারী সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নেত্রকোনা-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাসিম, জেলা শ্রমিক বিভাগের সভাপতি, জামায়াতের জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, এসময় সারা জেলা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক পুরুষ ও মহিলা রোকন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
দেশের সর্ব বৃহত্তম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পাঁচটি চালানে মোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। সপ্তাহের শেষ দিনে আজ বৃহস্পতিবার ১২ টি ট্রাকে ৪২০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
তিনি জানান, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন, রবিবার (২৪ আগস্ট) ৩টি ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, সোমবার (২৫ আগস্ট) দুটি চালানে ৬২০ মেট্রিক টন এবং আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে ১২ ট্রাকে ৪২০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। গত এক সপ্তাহে সর্বমোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে।
আমদানিকারকরা জানান, দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভারত থেকে মোটা চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গনি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গত শনিবার ৩১৫ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। রবিবার তিনটি ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, সোমবার দুটি চালানে ৬২০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছি। আজ বৃহস্পতিবার ৬২০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। পন্যচালান গুলির বন্দর থেকে ছাড় করনের কাজ করছেন ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ এবং কাবেরী এন্টারপ্রাইজ নামে দুজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি বাবলুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকৃত চাল ছাড়করণের জন্য কাস্টমসে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে চালগুলোর খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, চার মাস বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। বন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় চালু হওয়ায় কর্মচঞ্চলতা ফিরে এসেছে বেনাপোল বন্দরে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘আমদানিকৃত চাল দ্রুত ছাড়করণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে, সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল।’