ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ এই সফর শেষে আগামী ৪ অক্টোবর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে যুক্তরাজ্যে যাবেন। সেখানে আগামী সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে রানির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন। এরপর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। যোগ দেবেন জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। পরে প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ওয়াশিংটন সফর করবেন। এবারের সফরে ১৬৭ জন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেয়া নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাত বিকাশে সরকারের কার্যক্রম বক্তব্যে তুলে ধরবেন।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, করোনাভাইরাসের মতো ভবিষ্যত স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে টিকা এবং প্রতিষেধকের ন্যায্য ও আরও ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, রানির শেষকৃত্যে যোগ দেয়ার কারণে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শিক্ষাব্যবস্থার বিবর্তন নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না শেখ হাসিনা। তবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুয়ায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স-এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপের (জিসিআরজি) উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে ২১ সেপ্টেম্বর। এ গ্রুপে ছয়জন চ্যাম্পিয়নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম।
এতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘ মহাসচিব খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ছয়টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের সমন্বয়ে এ গ্রুপটি গঠন করেন।
২২ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় কো-চেয়ার হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা যায়, রোহিঙ্গা-সমস্যা ও টেকসই আবাসন নিয়ে আলাদা দুটি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বাংলাদেশ, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি সেক্রেটারিয়েট, কানাডা, সৌদি আরব, তুরস্ক, গাম্বিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাবিষয়ক পার্শ্ব অনুষ্ঠানটি কো-স্পন্সর করবে। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফ করবেন।
২১ সেপ্টেম্বর টেকসই আবাসনবিষয়ক পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ আবাসন সংস্থা যৌথভাবে এর আয়োজন করছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের আয়োজনে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাগুলো উপস্থাপন করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতির কথা জাতিসংঘে তুলে ধরে সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর জোর দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বর্তমান মিয়ানমার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করাসহ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বানও জানাবেন তিনি।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য রাখবেন সরকারপ্রধান। প্রতিবারের মতো এবারও সেখানে বাংলায় বক্তৃতা দেবেন শেখ হাসিনা।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। পাঁচ বছর হলো মিয়ানমার সরকার রাজি হওয়া সত্ত্বেও একজন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উপায় খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।’
নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় যুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন এই তালিকায় ওষুধের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৫। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান।
ব্রিফিংয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, একটি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে ২৯৫ বা ২৯৬টি ওষুধ হবে। এগুলোকে বলা হচ্ছে অত্যাবশ্যক ওষুধ।
এবারের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ গত তালিকার চাইতে এবারে ১৩৫টি ওষুধ ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নতুনভাবে এবারের তালিকায়। এবং মূল ব্যাপার হচ্ছে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হবে। এবং এই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা আছেন তাদের এই মূল্যে পর্যায়ক্রমে আসতে হবে। যারা ওপরে আছেন তাদেরকেও নেমে আসতে হবে, যারা নিচ থেকে যাবেন তারা ইচ্ছা করলে ওপরে উঠতে পারেন অথবা থাকবেন।
পর্যায়ক্রমের বিষয়টির ব্যাখ্যায় চার বছর সময় দেওয়া হবে বলে তিনি তুলে ধরেন। প্রতি বছর কমিয়ে কমিয়ে চার বছরের মধ্যে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আসতে হবে।
এতে কতটুকু সুফল মিলবে তাও বলেছেন সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, এই ওষুধগুলো সাধারণভাবে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সব রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। অতএব এই ওষুধগুলোর ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরিভাবে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা এবং ওষুধের প্রাপ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে। বলা যায় একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর বাইরে আরও ১১০০ এর মত ওষুধ আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ‘নির্দিষ্ট’ মূল্য ঠিক করে না দিলেও একটা দামের পরিধি বেঁধে দেওয়া হবে।
সায়েদুর রহমান আরো বলেন, যে সবল পণ্যের উৎপাদক সাতের বেশি প্রতিষ্ঠান। সেসব ওষুধের মূল্য তাদের বিক্রির মূল্যের মধ্যে দামে বেঁধে দেওয়া হবে। কোনো ওষুধের বিক্রির মূল্য ১০-২০ এ বিক্রি হলে সেটি ঠিক করা হবে ১৫ টাকায়। এবং এর সঙ্গে যোগ-বিয়োগ ১৫ শতাংশ রেঞ্জ রাখা হবে। যেসব ওষুধের উৎপাদক ৭টির কম, সেক্ষেত্রে বিদেশের বাজার মূল্যও আমলে নিয়ে একটা বাজার দরের রেঞ্জ ঠিক করা হবে।
তার ভাষ্য, মূল্য নির্ধারণের নীতিমালারও অনুমোদন মিলেছে সভায়। দ্রুতই তা প্রকাশ পাবে। এটি হলে আর কোনো ওষুধই একদম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমিক শহরের ‘কারেপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামে পরিচত হবে। শহরটির সিটি কাউন্সিলে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসনের সন্মানে এই নামকরণ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেল।
মিডিয়া সেলের ফেসবুকে পেজে এই সংবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। হ্যামট্রমিক শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে তার নামেই পরিচিত হবে। শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
হ্যামট্রমিক সিটির জোসেফ ক্যাম্পাও এবং কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশটি বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাবটি সম্প্রতি সিটি কাউন্সিল অনুমোদন দেয়। বর্তমানে এই কাউন্সিলে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় এই নামকরণ সম্ভব হয়েছে।
প্রবাসীদের মতে, এটি কেবল একটি সড়কের নতুন পরিচয় নয়, বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক আন্তর্জাতিক দলিল।
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো নেতার নামে রাস্তার নামকরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগে শিকাগো শহরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার মিশিগানে খালেদা জিয়ার নামে সড়কটি যুক্ত হওয়ায় মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য রাজনৈতিক অধ্যায় স্থায়ী রূপ নিল।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের ইতিহাস ও দেশনেত্রীর অবদান সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এই অর্জনে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তাদের মতে, এটি প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্ষমতারও একটি বড় প্রমাণ। হ্যামট্রমিক শহরটি তার বৈচিত্র্যময় জনপদের জন্য পরিচিত এবং সেখানে বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে সড়কের নামকরণ দুই দেশের মধ্যকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। পরেরদিন তাকে শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মরযাদায় সমাহিত করা হয়।
রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। সরবরাহ সংকট, কারসাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মধ্যে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ এলো।
মূলত শীত মৌসুমে এলপি গ্যাসের বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব থেকে সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড সারা দেশে এলপিজি বিপণন ও সরবরাহে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠকে নেতারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন সারাদেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেছেন যে চলমান অভিযানের বিষয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চার্জ বাড়াতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
জালাল আহমেদ আরও বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে যে জাহাজ সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে সেলিম খান বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাদের ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে পণ্য বিক্রির কোনো যুক্তি তিনি দেখছেন না।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে লোয়াব সদস্যরা আমদানি পর্যায়ে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশের নিচে ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কতটা কমবে, সে বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে সমন্বিত ভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেমিট্যান্স, ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর দুই সিদ্ধান্ত অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের মতো বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের সফরে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন গেছেন।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই সফরে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূরক শুল্কের আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তার পর্যালোচনার প্রসঙ্গ এই সফরের আলোচনায় আসবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে পৌঁছান।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, খসড়া সূচি অনুযায়ী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরও উপস্থিত থাকবেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের আজ শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিংবা মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যাঙ্গডাও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ওই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আগামী ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অবিভক্ত টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গীর ৪৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আইয়ুব আলীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে ঘোড়াশাল কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টঙ্গীর টিএন্ডটি বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, বিএনপি নেতা নবীন হোসেন, কাওসার হোসেনসহ ৪৭নং ওয়ার্ড এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে আইয়ুব আলী বলেন, গণঅভুথ্যানের পর টিএন্ডটি এলাকায় লুটপাটের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে আব্বাস আলী ও তার ছেলেরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে টার্গেট করে চোরচক্র। সম্প্রতি তার বাসায় চোর ঢুকলে স্থানীয়রা চোরচক্রের এক সদস্যকে আটক করে। চোরের স্বীকারোক্তি মতে আব্বাস আলীর গুদাম থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। গত বুধবার দুপুরে এই মামলার কাজে আদলতে গেলে ফেরার পথে তার ওপর ফিল্মি কায়দায় হামলা চালায় আব্বাস আলী ও তার ছেলেরা। একপর্যায়ে তার গাড়ি থামিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরে গাড়ি চালকের দক্ষতায় কোনরকমে প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসী চোর চক্রের মূল হোতা আব্বাস আলী, তার ছেলে রাকিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ২ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা থানায় প্রেস বিফ্রিংয়ে গণমাধ্যমের সামনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিক, পিএসসি।
এ সময় নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানা সহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৭ জানুয়ারি সকালে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিক, পিএসসি এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাশেদ বিন মনসুর এর নেতৃত্বে নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি টিম ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানাসহ রায়পুরার চারাঞ্চলের ইউনিয়নসমূহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নিমিত্তে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াব পাড়া এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কতিপয় সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। ঐ সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে সায়দাবাদ গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইকবাল ওরফে আকরাম (৩৫) ও তার পিতা মো. জালাল উদ্দিন (৬৫)কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত হতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো হচ্ছে: এক নলা বন্দুক- ২টি, দেশীয় ওয়ান শুটার গান-১টি, রামদা-১টি, ডেগার-২টি, ছুরি- ৪টি, চাপাতি-২টি, কার্তুজ-৮টি, ৭.৬২ মিমি চায়না রাইফেলের গুলি ৫০ রাউন্ড, দেশীয় বোমা-৩টি, পটকা-২২টি, বুলেট প্রফ জ্যাকেট-১টি, বন্দুকের কভার-২টি, বাটন মোবাইল-১৫টি, অ্যান্ডয়েড মোবাইল সেট-৫টি, আইফোন-১টি, ম্যানিব্যাগ-১টি, এনআইডি কার্ড-১টি, ডেগার কভার-১টি।
এছাড়া বালুঘাটা গ্রামের আকবর আলী ওরফে ভেড়ার বাড়ির লাকি বেগম এর কচু ঘরে বোমা কালামের আখড়ার সিলিং এর ওপর হতে ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ২টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল ওরফে আকবর (৩৫) এর বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা মামলা ও ১টি অস্ত্র আইনের মামলাসহ সর্বমোট ১১টি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী মো. জালাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ২টি হত্যা মামলাসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নজরদারি অব্যাহত আছে।
সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ৯ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটি বলছে, আটক ব্যক্তিরা ডাকাত দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ডাকাত দলের প্রধানও রয়েছেন। সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্টগার্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকায় কাঠের নৌকায় ভ্রমণের সময় দুজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে ডাকাত দল মাসুম বাহিনী। পরে ডাকাতেরা মুক্তিপণ দাবি করেন। বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডকে জানালে যৌথ অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এ সময় ডাকাত দলের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুণ্ডু (৩০), ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা. দৃধাকে (৫৫) আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) খুলনার তেরোখাদা থানার ধানখালী এলাকা থেকে ডাকাত বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে (২৩) আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গুলিসহ তিনটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ছাড়া জিম্মি পর্যটকদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া পাঁচটি মুঠোফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সক্রিয় কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে–বনজীবীদের অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে পর্যটনশিল্প, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দায়িত্বের অংশ হিসেবে কোস্টগার্ড শুরু থেকেই ডাকাতবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
কোস্টগার্ড বলেছে, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী ও রাঙ্গা বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী ও কাজল–মুন্না বাহিনী ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সক্রিয় করিম–শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যুবিরোধী অভিযানে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশি অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি এবং ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আগামী ২০-২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক-২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের শিল্প সক্ষমতা তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
নিউইয়র্কের জাভিতস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনটি বিশ্বের একটি প্রভাবশালী ও বৃহৎ টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটিতে কৌশলগত নেতৃত্ব দিচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), যা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচারে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
ইপিবির ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে এম অ্যান্ড এ কম্পোজিট লিমিটেড, গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটারস, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস এবং ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন।
সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এই দলের বাইরে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস স্বতন্ত্র প্রদর্শক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ড এন ওয়াই সি যৌথভাবে আয়োজিত এই ইভেন্ট একই ছাদের নিচে জড়ো করছে শত শত আন্তর্জাতিক ফেব্রিক্স সরবরাহকারী, অ্যাপারেল উৎপাদক কারখানা। এখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাজুয়াল কটন ও নিট থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, লেস এবং আধুনিক টেকসই উপকরণসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন করবে।
বাংলাদেশের উদীয়মান টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্প, যা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তার শক্তি ও চাহিদার জন্য বিশ্বময় জনপ্রিয়। টেক্সওয়ার্ল্ড ইউ এস এ সৃজনশীল ও নতুনত্ব, টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ড তৈরি ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় একটি উপর্যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত।
দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে এবং শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকা জেলার সংখ্যাও কমেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এদিন সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, “এটি আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন বুধবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে।”
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী কয়েক দিন শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করতে পারে। তবে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে, ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ থেকে জানান : কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশায় ভোরের সূর্য আড়াল হয়ে থাকছে। হাড়কাঁপানো এই শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে এ এলাকার দ্বিতীয় তাপমাত্রা গত ১ লা জানুয়ারি রেকর্ড ছিল ৯.১ সেলসিয়াস সর্বনিম্ন।
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে যানবাহন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝে মাঝে দুপুরের দিকে সূর্য উঁকি দিলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
রিকশাচালক কবির হোসেন বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে ঠিকভাবে সূর্য দেখা যায় না। আজ শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যায় না। কুয়াশার কারণে ১০–১৫ হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না।”
কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাসুয়া মৌজার কোড়েরপাড় এলাকায় গোমতী নদীর দুপাড়ের বেরিবাঁধ সংলগ্ন সড়ক এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, সোহেল মিয়া ও শরিফুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীত কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এদিকে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শীতজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা জেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৫ হাজার কম্বল। অন্য বছর এই সংখ্যা থাকত প্রায় এক লাখ। প্রাপ্ত কম্বলগুলো বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে গ্রামীণ ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ শীতবস্ত্রের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন।
একসময় নাফ নদীর ঢেউয়ের তালে তালে ঘুরত কক্সবাজারের টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। দিনে দিনে ট্রাকের সারি, কার্গোবোটের ভিড়, শ্রমিকদের কোলাহল আর ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় মুখর থাকত শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর ও টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা। আজ সেখানে শুধুই নীরবতা। ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের নাফ নদী এখন সীমান্ত বাণিজ্যের নয়, বরং মাদকপাচার আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, সীমান্তজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে টেকনাফ স্থলবন্দর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার টানা তিন বছর ধরে বন্ধ রেখেছে শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর। টেকনাফের এই দুটি প্রধান সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ায় এর সরাসরি প্রভাবে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা গবাদিপশু করিডোরটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত। একসময় যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকত, সেখানে এখন ভাঙাচোরা অবকাঠামো, মরিচা ধরা যন্ত্রাংশ আর ঝোঁপঝাড়ে ঢাকা ফাঁকা মাঠ। করিডোরের একটি অংশ বর্তমানে সেন্টমার্টিনগামী স্পিডবোট জেটি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও মূল বাণিজ্য কাঠামো সম্পূর্ণ অচল।
টেকনাফ স্থলবন্দরও একই চিত্র। মিয়ানমারে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর গত ৯ মাস ধরে বন্দর কার্যত অচল। কার্যালয় খোলা থাকলেও নেই কোনো পণ্যবাহী ট্রলার, নেই শ্রমিক বা ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। বন্দরের মূল ফটকে কেবল দুজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা পরিণত হয় জনশূন্য প্রান্তরে। গুদামগুলোর সামনে ঘুরে বেড়ায় ছাগল, চারদিকে ছড়িয়ে আছে পচে যাওয়া পণ্যের গন্ধ।
একসময় এই দুই সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্রকে ঘিরে শ্রমিক, ট্রাকচালক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী ও সহায়ক কর্মী মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভর করত। করিডোর ও বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা।
অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ ছোট দোকান দিয়েছেন, কেউ আবার বেকার হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভাবের তাড়নায় কেউ কেউ মাদক বহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
জেটি ঘাটে বসে থাকা মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘দশ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে পশুবাহী ট্রলার খালাসের কাজ করতাম। দিনে ৫০০-৭০০ টাকা আয় হতো। তিন বছর ধরে কাজ নেই। আমাদের সঙ্গে প্রায় আড়াইশ দিনমজুরের সংসার এখন অনাহারে।’ পেটে ভাত দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন সময় মাদকপাচারের জড়িত হচ্ছে।
চোরাই পথে গবাদিপশু আমদানি ঠেকাতে সরকার ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর চালু করে। এর মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল আমদানি করে নিয়মিত শুল্ক ও ভ্যাট আদায় হতো। শুল্ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০০২-০৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ১৮ বছরে এই করিডোর থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গড়ে বছরে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে করিডোর বন্ধ থাকায় এই রাজস্ব প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ।
২০২৩ সালের ৯ জুলাই দেশের খামারিদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাসহ প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বসবাস, যেখানে গবাদিপশুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, করিডোর বন্ধ থাকায় সরকার তিন বছর পাঁচ মাসে আনুমানিক ৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। গড়ে বছরে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারি কোষাগারে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘তিন বছর ধরে শত শত দিনমজুর পরিবার এখন দুর্দিনে। অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমারে পশু কিনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। যদি করিডোর চালু না হলে তারা পথে বসবেন।’
কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি: ১,৯৯,২২৫ টন, রাজস্ব: ৪০৪ কোটি টাকা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি: ৭৮,৫২৭ টন, রাজস্ব: ৬৪০ কোটি টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি: ১৫,৭৫৭ টন, রাজস্ব: ১০৮ কোটি টাকা বর্তমানে ৯ মাস ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সরকার ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
বন্দরের গুদামগুলো তালাবদ্ধ। রপ্তানিকৃত পণ্যে পচন ধরেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৯ মাসে আমাদের সরাসরি লোকসান প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রায় ১৫ কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘স্থলবন্দর খোলা থাকলেও বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পণ্য আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
কক্সবাজার বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বৈধ আমদানি-রপ্তানিতে বিজিবির কোনো বাধা নেই। তবে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পণ্যবাহী ট্রলার যাচাই করা হবে, কারণ অতীতে আরাকান আর্মির জন্য অবৈধভাবে সিমেন্ট পাচারের ঘটনা ঘটেছে।’
টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে এবং সব আমদানি-রপ্তানি বৈধভাবে হয়। মিয়ানমার সরকারকে শুল্ক দিয়েই পণ্য আনা হয়। কিন্তু নাফ নদী দিয়ে আসার সময় যদি আরাকান আর্মিকে কর দিতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কে দেবে? তাই নাফ নদীপথে পণ্যবাহী ট্রলার চলাচলে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল প্রয়োজন।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে মিয়ানমার থেকে আমদানি-রপ্তানি কখন ও কীভাবে নিরাপদে শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশুর করিডোর চালুর বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের আগামীকাল ১০ জানুয়ারি পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক বিশাল আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে আনন্দ র্যালি শুরু হয়ে কুলাউড়া শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের ডাকবাংলো মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে নানা বয়সী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
র্যালি শেষে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সাবেক শিক্ষার্থী সুফিয়ান আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, খন্দকার আব্দুস সোবহান, সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, কৃপাময় চন্দ্র শীল, জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, ফজলুল হক ফজলু, মো. জাকির হোসেন, সিপার উদ্দিন আহমদ, বদরুজ্জামান সজল, খালেদ পারভেজ বখ্শ, রেদওয়ান খান, মইনুল ইসলাম শামীম, একেএম শাহজালাল, মো. আব্দুল বাকী, লুৎফুর রহমান, মশিউর রহমান, জিল্লুর রহমান রওশন, হেমন্ত চন্দ পাল, নির্মাল্য মিত্র সুমন, শামীম আহমদ, ফেরদৌস খান, রেহান উদ্দিন আহমদ, নাসির জামান খান জাকি, নুরুল ইসলাম বাবলা, আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু, রানা মজুমদার, আব্দুল মুনিম হাসান, এনাম উদ্দিন, ময়নুল হক পবন, রাহাত তাজুল, আব্দুস সামাদ আজাদ চঞ্চল, কামরুল হাসান, নুরুল ইসলাম ইমন, সোমা দেব, মৌসুমী রায়, তাহমিনা আক্তার শিউলী, একেএম জাবের, নাজমুল বারী সোহেল, সিরাজুল আলম জুবেল, মাহফুজ শাকিল, খালেদ খান, সাজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, মৌসুম সরকার, আব্দুল্লাহ সালেহ চৌধুরী আলিফ, আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, ইব্রাহিম মাহমুদ, শেখ বদরুল ইসলাম রানা, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া সরকারি কলেজ ৫৬ বছর পূর্ণ করেছে। কলেজের ৫৬ বছর পূর্তিতে পুনর্মিলনীর বর্ণাঢ্য উৎসব আগামী ১০ জানুয়ারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ইরি বোরো ধান রোপণে। মাঠজুড়ে সবুজ চারার সমারোহ দেখা গেলেও সেচ সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই নিশ্চিত নন সফলভাবে মৌসুম পার করতে পারবেন কি না।
সকাল থেকেই উপজেলার সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ বা সেচযন্ত্র সচল রাখতে বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতাপপুর এলাকায় দেখা গেছে প্রতিদিন সকালে অনেক সময় লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে নতুন রোপণ করা চারাগাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে সকাল বেলা জমিতে নামা দুষ্কর হলেও সময়মতো রোপণ শেষ করার তাগিদে তারা বাধ্য হচ্ছেন মাঠে নামতে। কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, এই শীতে কাজ করা খুব কষ্টের। তারপরও জমিতে নামতে হচ্ছে। রোপণ তো শেষ করলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে সেচ হবে কীভাবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।
একই কথা বলেন কৃষক রমজান আলী। তিনি জানান, এবার ডিজেল, সার, শ্রমিক—সব কিছুর দাম বেড়েছে। ধারদেনা করে চাষ শুরু করেছি। যদি আবহাওয়া ভালো না থাকে বা সময়মতো পানি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ৬৫৭ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির পর পুরোদমে ইরি বোরো রোপণ কার্যক্রম চলছে। গত বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদ হয়েছিল। এবছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও সেচ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেশবপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা এখন রোপণে ব্যস্ত। শীতের কারণে মাঠে কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উৎপাদন উপকরণ সহজলভ্য না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবার নতুন করে ক্ষতির মুখে না পড়ে।
নেত্রকোণায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা তথ্য অফিস, নেত্রকোণার আয়োজনে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দা এলাকায় উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্মুক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) ড. আবু শাহীন মোঃ আসাদুজ্জামান। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আল ফয়সাল, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল হক, ইউপি সদস্য খোদেজা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য অফিসার নারায়ণ সরকার।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান ।
এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।