শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলায় এল রুশ জাহাজ

মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ এম ভি ইয়ামাল অরলান মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মোংলা বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:৫৬
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:৪২

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে সরাসরি রাশিয়া থেকে মোংলা বন্দরে এসেছে সে দেশের আরেক জাহাজ এমভি ইয়ামাল অরলান। মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা এ জাহাজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। পণ্য খালাস শেষে তিন দিন পর জাহাজটির মোংলা বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কনভেয়ার শিপিং লাইনসের খুলনার ম্যানেজার (অপারেশন) সাধন কুমার চক্রবর্তী জানান, গত ২৮ মার্চ রাশিয়ার নভোরোসিয়েস্ক বন্দর থেকে ২ হাজার ৫২২ মেট্রিক টন মেশিনারি পণ্য নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইয়ামাল অরলান। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে রাশিয়ান পতাকাবাহী এ জাহাজ।

সাধন কুমার চক্রবর্তী জানান, দুপুর থেকেই জাহাজটি থেকে ১ হাজার ৩৬০ প্যাকেজে আসা মেশিনারি পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। আপাতত খালাসকৃত পণ্য জেটিতে রাখা হচ্ছে। পণ্য খালাস শেষে শুক্রবার জাহাজটি রাশিয়ার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ছেড়ে যাবে। পণ্য খালাসের তিন দিন পর সড়কপথে এসব পণ্য বন্দর জেটি থেকে নেয়া হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া যুদ্ধে জড়ানোয় সাম্প্রতিককালে সাতটি জাহাজ কোম্পানির ৬৯টি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ান কোনো জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দরে পণ্য নিয়ে আসতে পারছিল না। এ জন্যই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলো রাশিয়া থেকে পণ্য নিয়ে ভারতের হলদিয়া বন্দরে খালাস করছে। পরে বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় সেখান থেকে ওই পণ্য আসছে মোংলা বন্দরে। আবার কোনো কোনো পণ্য হলদিয়া বন্দর থেকে সড়কপথেও আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ধরনের মালামালের কয়েকটি চালান ভারতে ট্রানজিট করে সেখান থেকে মোংলা বন্দরে এসেছে।

অবশ্য গত ৫ এপ্রিল রাশিয়া থেকে সরাসরি রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছিল এমভি ড্রাগনবল। তারও আগে আসে এমভি আনকাসান ও এমভি কামিল্লা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং দিকনির্দেশনার ফলে মোংলা বন্দরে এখন স্বর্ণযুগ চলছে। এ বন্দর দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পণ্য আসছে। এর আগে এসেছে পদ্মা সেতুর মালামালও। এ ছাড়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দর থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে গেছে। ফলে এখন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় মোংলা বন্দর থেকে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আমদানি পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে, আবার একই সময়ের মধ্যে রপ্তানি পণ্যও আসছে মোংলা বন্দরে। আর পদ্মা সেতুতে রেল চালু হলে বন্দরের কর্মযজ্ঞ আরও বেড়ে যাবে।

মীর এরশাদ আলী বলেন, সরকারের সদিচ্ছায় বন্দরকে ঘিরে নানা প্রকল্পের কাজ চলমান। বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।


নির্বাচিত

দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন

ছবি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটে আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। এর দুই দিনের মাথায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানা চালু হওয়ায় শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বয়লারের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। শুক্রবারের মধ্যে মেরামত করে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাসসংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাসসংযোগ দেওয়া হয় সার কারখানায়। সকল প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

আতঙ্কের অভয়ারণ্য থেকে বদলাচ্ছে জঙ্গল সলিমপুর

* ৩০০ একরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি * ৭২ একরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার * স্থায়ী ঘাঁটি হবে পুলিশ-বিজিবি-এপিবিএন ও এসআরবির * রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে হচ্ছে দুই সেনাক্যাম্প
ছবি: জঙ্গল সলিমপুর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একসময় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের চেহারা বদলে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এ এলাকায় এবার রাজশাহীর সারদার আদলে আধুনিক পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলা হবে। প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একাডেমি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ৭২ একর জমিতে স্থানান্তর করা হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। একই সঙ্গে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, একসময়ের ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের স্থায়ী কাঠামোর আওতায় আনা। সরকারি খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ বসতি পুনর্বাসন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

৩০০ একরে পুলিশ একাডেমি: সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনা প্রায় ৩০০ একর জায়গায় সারদার আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা। সেখানে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

এর পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও এসআরবির জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

৭২ একরে যাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান কারাগারের পরিবর্তে নতুন স্থানে আধুনিক কারা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ একাডেমি, কারাগার এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা একই এলাকায় গড়ে উঠলে জঙ্গল সলিমপুরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্বও বাড়বে।

সরকারি জমি উদ্ধারে জোর: জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা সরকারি পাহাড় ও খাসজমি সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে এসব মানুষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

দুর্গমতা কাটাতে সড়ক নির্মাণ: জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ভূপ্রকৃতি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বড় বাধা ছিল। সেই বাধা কাটাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।

নির্মাণাধীন সড়কগুলো বায়েজিদ লিংক রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দুই সেনাক্যাম্প: এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঠেকাতেও নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হবে। রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে ক্যাম্প দুটি পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ক্যাম্পে বাড়বে নজরদারি: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রবেশপথ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে।

অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান: ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে এপিবিএনের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে ক্যাম্পের অপরাধ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গতি আসবে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তা জোরদারের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও পর্যটন: জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা শুধু নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪০ একর জায়গায় নাইট সাফারি পার্ক ও পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সরকারি জমি উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে জায়গা একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই জঙ্গল সলিমপুরে একদিকে তৈরি হচ্ছে পুলিশ একাডেমি, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী অবকাঠামো, অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে জোরদার করা হচ্ছে সেনা ও পুলিশের নিরাপত্তা কাঠামো।’


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের বিলে কচুরিপানা, ভরাটে ধ্বংস দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।

আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।

স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’

বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’

মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’


নির্বাচিত

চুরি যাওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধারে রেলওয়ে পুলিশ-র‍্যাবের অভিযান

ছবি: জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত তার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন নিজের জিনিসপত্র একজনের কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই। ব্যাগে তার ম্যাকবুক ও ক্যামেরা ছিল।’

ঘটনার পর নাটোরে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’

ল্যাপটপে কোনো পাসপোর্ট ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই আছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর।’ পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। গত বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করছে পুলিশ।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার নাটোর রেলস্টেশনে ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।’

ওসি বলেন, ‘প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।’

তিনি জানান, তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার হয়নি।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষ থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ চুরি হয়। বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ভুল করে নাটোরে নেমেছিলেন তিনি।


নির্বাচিত

রাউজানে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ফাটল, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে। বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।

শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’ প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

বদরখালীতে তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

ঐতিহ্য হারানোর বেদনায় কুমোরপাড়ায় নীরব কান্না

অষ্টগ্রামের হাওরপারের লোকালয়ে মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)

অষ্টগ্রামের হাওরপারের লোকালয়ে একসময় ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হতো মাটির টুংটাং শব্দ। থালা-বাসন, কলসি, হাঁড়ি-পাতিল, সানকি আর মটকার নিখুঁত কারুকাজে মুখরিত থাকত কুমোরপাড়ার প্রতিটি আঙিনা। সে এক সোনালি সময়, যখন দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রদীপ জ্বেলে গভীর রাত পর্যন্ত চলত মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজ। কিন্তু আধুনিকতার তীব্র হাওয়া, প্রযুক্তির বিস্তার এবং প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে হাওরাঞ্চলের মৃৎশিল্প।

​জানা যায়, একসময় রান্নাঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রায় সব কাজেই মাটির তৈরি পাত্রের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু সময়ের পালাবদলে মানুষ এখন টেকসই ও কম দামি প্লাস্টিক, মেলামাইন এবং স্টেইনলেস স্টিলের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা আজ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

​চাহিদা কমার পাশাপাশি আকাশছোঁয়া হয়েছে কাঁচামালের দাম ও উৎপাদন খরচ। মৃৎশিল্পের প্রধান প্রাণ হলো এঁটেল মাটি। সেই মাটি সংগ্রহ করতেই এখন কারিগরদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাটি পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় খড়ি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। সবমিলিয়ে যে পরিমাণ খরচ করে পণ্য তৈরি করতে হয়, বাজারে তা বিক্রি করে সেই উৎপাদন খরচই ওঠে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও দিন শেষে অর্থাভাব আর অনিশ্চয়তাই কেবল সঙ্গী হয়।

​পেটের টানে বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু কারিগর। অনেকে জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি, রিকশা চালানো কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা শুরু করা অষ্টগ্রামের প্রদীপ রুদ্রপাল বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘পূর্বপুরুষের এই পেশায় আর ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলাম না; লোকসান গুনে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে পৈতৃক কাজ ছেড়ে সংসারের চাকা ঘোরাতে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছি।’ প্রবীণ শিল্পীদের শঙ্কা, জীবিকার এই নির্মম বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মও আর কোনোদিন এই অনিশ্চিত ও কষ্টের পেশায় পা বাড়াবে না।

​স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের মতে, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, আর্থিক অনুদান কিংবা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো আর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অষ্টগ্রাম থেকে মাটির এই শিল্পচর্চার শেষ নিশানাটুকুও চিরতরে মুছে যাবে।

​ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিলেন সংশ্লিষ্টরা। ‘হাওরাঞ্চলবাসী’ (পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন)-এর সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনে মানুষের চাহিদায় বৈচিত্র্য এসেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে মৃৎশিল্পেও। তবে গ্রাম ও মফস্বলে মৃৎশিল্পের আধুনিকায়ন ঘটেনি এবং স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা কমে গেছে। মৃৎশিল্পীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয়ভাবে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।’

​হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে শত বছরের মৃৎশিল্পের ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই নীতিনির্ধারক ও সমাজের সচেতন মহলের আন্তরিক উদ্যোগই পারে অষ্টগ্রামের এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর সুযোগ নেই: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। স্থানীয় হোক কিংবা জাতীয়—বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকেন। সামনের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দলের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে দল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এই নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন না। তার ফেরারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। একটা মানুষ এত বোকা হতে পারেন না যে, তার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, আর তিনি দেশে ফিরে সেই দড়িতে ঝুলবেন।’

তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী ছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী। তিনি যখন ফাহাদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে কর্মসূচি করে? জুলাইয়ের সময় শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। আমার প্রশ্ন, শিশির মনির ফাহাদের হত্যার আসামিদের আইনজীবী হলেন— এ ব্যাপারে জামায়াত কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিচারী রাজনীতি জামায়াত-শিবিরের স্বভাব। জামায়াতকে বলব, যদি আবরার ফাহাদকে ধারণ করেন, তাহলে শিশির মনিরকে ধারণ করতে পারেন না। তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি করছি।’

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং দুই দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ওই বিশেষ প্রতিনিধিদল।

ব্রিটেন পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস্টার শকাত আদম ও লর্ড কুরবান হোসেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে পার্লামেন্ট-টু-পার্লামেন্ট সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কল্যাণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলের ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করছে। আমাদের রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন নেই; আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করেন।’

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় এক নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর যেকোনো অস্থিতিশীলতা রোধে এবং বিশেষ করে দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে থেকে সহায়তা করেছে।’

বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার নিদর্শন হিসেবে দুর্গাপূজার ব্যাপ্তি তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও চলতি বছর মণ্ডপের সংখ্যা আরও প্রায় ৫ হাজার বাড়তে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন যে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত ৪ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধার্থে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম ও যুগ্ম সচিব ইলিয়াস সুমনা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাসের মৃত্যু

বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


নির্বাচিত

সড়কে কম্পিউটার-ফটোকপির ভ্রাম্যমাণ দোকান

ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিনের দোকান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্রাম্যমাণ দোকান বলতেই সাধারণত চোখে ভেসে ওঠে চা, জুস, ফাস্টফুড কিংবা কাপড়ের পসরা। কিন্তু কখনো শুনেছেন ভ্রাম্যমাণ ফটোকপি-কম্পিউটারের দোকান? হয়তো না। তবে এটা হয়। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনের চিত্রটা একটু এই রকমই। এখানে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি দোকান বসে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে।

সকাল ৯টায় দোকান বসে। সঙ্গে আসে কম্পিউটার, ফটোকপির মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা শেষ হলে আবার সব গুটিয়ে নিয়ে চলে যান দোকানিরা। পরদিন সকালে ফিরে আসেন একই জায়গায়।

আশপাশে ঘুরে এখানে দেখা মিলল ৬-৭টি ভ্রাম্যমাণ দোকানের। ছয়টি পাশাপাশি, আরেকটি কিছুটা দূরে। ঠিক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনে। আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাসপোর্টপ্রত্যাশীসহ নানা মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে উঠেছে এসব দোকান।

মো. সাব্বির। যদিও ব্যবসাটি তার বাবার। তবে তার অনুপস্থিতিতে বুধবার কথা বলেন সাব্বির। তাদের শুরুটা অবশ্য কম্পিউটার বা ফটোকপি দিয়ে নয়। প্রথমে এখানে ফলের জুস বিক্রি করতেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস জুসের দোকান চালানোর পর শুরু করেন চায়ের ব্যবসা। পরে সেই দোকানের সঙ্গে যোগ করেন ফটোকপির কাজ। এখন একই দোকানে চা ও ফটোকপি—এই দুই সেবাই দিচ্ছেন সাব্বির ও তার বাবা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই জায়গায় দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আশপাশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফটোকপি ও অন্যান্য সেবার চাহিদাও রয়েছে। ব্যবসা ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘এই ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিদিন কাজের শুরুতে ফটোকপির মেশিনটা নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। তবে চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানেই থেকে যায়।’

একটু দূরেই বসেছেন আরেক দোকানি নিজামউদ্দিন। তার ব্যবসার বয়স এক বছরের বেশি। তার দোকানে কম্পিউটারের কাজ ও ফটোকপি করা হয়। পাসপোর্ট করতে আসা মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তার সেবা নেন।

নিজামউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সকালে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে আসেন তিনি। অফিসের সময় শেষ হলে আবার সেগুলো নিয়ে চলে যান। পরদিন ফের মেশিন নিয়ে হাজির হন। এভাবেই চলছে তার ব্যবসা।

নিজামউদ্দিনের পাশের দোকানির সঙ্গে কথা হয়। তবে তিনি নাম বলেননি। আবার প্রথম দিকে সাংবাদিক পরিচয় শুনেও ভয় পান। বলেন, ‘পুলিশ এখন ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করছে। যদি কিছু হয়, তাহলে এই ব্যবসা চলে যাবে।’

পরে আশ্বস্ত করলে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে আপাতত এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছি। মোটামুটি ভালোই চলছে সবকিছু।’

প্রতিদিন মেশিন কোথায় রাখেন এবং কীভাবে নিয়ে আসেন এই প্রশ্নের জবাবে দোকানি মো. সাব্বির বলেন, ‘ফটোকপির মেশিনটি যে ঠেলাগাড়ির ওপর আছে ওটাতেই নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। শুধু চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানে থাকে।’

নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘টেবিলটা রেখে যাই। তবে, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো রিকশায় নিয়ে যেতে হয়। আবার নিয়ে আসি।’

দোকানি শরিফুল, নাজিমুদ্দিন ও সাব্বির বলেন, ‘পাশের দোকানের মিটার থেকে লাইন নিয়েছি। এ জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া লাগে। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করি না।’

দোকানে দৈনিক গড়ে কতজন গ্রাহক আসে এবং আয় কত? এটা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। তবে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৮০০ টাকা ইনকাম করেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এখানে দোকান বসানোর কোনো অনুমতি আছে কি না আর কখনো উচ্ছেদ করা হয়েছে বা উচ্ছেদের নোটিশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দোকানি শরিফুল বলেন, ‘দোকান বসানোর কোনো অনুমতি নেই। হঠাৎ হঠাৎ পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়। আবার এসে বসি। আমরা তো অফিস শেষ হলে চলে যাই। অন্য দোকানের মতো রাত পর্যন্ত থাকি না। পরিবেশও নষ্ট করি না।’

এই এলাকায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কথা হয় নাসিফ আহমেদ নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত থেকে এসেছি। ব্যাংকে একটা চালান দিতে হবে। জরুরি কিছু কাগজ ফটোকপি করার প্রয়োজন ছিল। এখানে ফটোকপির দোকান পেয়ে ভালোই হয়েছে। তবে, অন্য জায়গার থেকে খরচ একটু বেশি।’

শাহাদাত হোসেন নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘একটা অফিসে এসেছি কাজের জন্য। সেই অফিস থেকে কিছু কাগজ জমা দিতে বলল। যেগুলোর কপি আমার কাছে ছিল না। তাই এখান থেকে কাজটা করিয়ে নিলাম।’

তবে ব্যস্ততম এই অফিস এলাকায় এমন দোকান প্রয়োজনীয় হলেও এসব দোকানের অনুমোদন আছে কি না সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে: হুইপ বকুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ও বিভিন্ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, ‘রাজনীতি থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।

পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে নিজেদের নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর সরকারি ব্রজলাল কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর খুলনা বিভাগীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।


অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোনে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

তিনি জানান, দুপুর ২টা ২ মিনিটে বাসটির আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরও ফায়ার সার্ভিস পায়নি বলে জানান ডিউটি অফিসার।


নির্বাচিত

banner close