বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলায় এল রুশ জাহাজ

মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ এম ভি ইয়ামাল অরলান মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মোংলা বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:৫৬
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:৪২

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে সরাসরি রাশিয়া থেকে মোংলা বন্দরে এসেছে সে দেশের আরেক জাহাজ এমভি ইয়ামাল অরলান। মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা এ জাহাজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। পণ্য খালাস শেষে তিন দিন পর জাহাজটির মোংলা বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কনভেয়ার শিপিং লাইনসের খুলনার ম্যানেজার (অপারেশন) সাধন কুমার চক্রবর্তী জানান, গত ২৮ মার্চ রাশিয়ার নভোরোসিয়েস্ক বন্দর থেকে ২ হাজার ৫২২ মেট্রিক টন মেশিনারি পণ্য নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইয়ামাল অরলান। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে রাশিয়ান পতাকাবাহী এ জাহাজ।

সাধন কুমার চক্রবর্তী জানান, দুপুর থেকেই জাহাজটি থেকে ১ হাজার ৩৬০ প্যাকেজে আসা মেশিনারি পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। আপাতত খালাসকৃত পণ্য জেটিতে রাখা হচ্ছে। পণ্য খালাস শেষে শুক্রবার জাহাজটি রাশিয়ার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ছেড়ে যাবে। পণ্য খালাসের তিন দিন পর সড়কপথে এসব পণ্য বন্দর জেটি থেকে নেয়া হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া যুদ্ধে জড়ানোয় সাম্প্রতিককালে সাতটি জাহাজ কোম্পানির ৬৯টি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ান কোনো জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দরে পণ্য নিয়ে আসতে পারছিল না। এ জন্যই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলো রাশিয়া থেকে পণ্য নিয়ে ভারতের হলদিয়া বন্দরে খালাস করছে। পরে বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় সেখান থেকে ওই পণ্য আসছে মোংলা বন্দরে। আবার কোনো কোনো পণ্য হলদিয়া বন্দর থেকে সড়কপথেও আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ধরনের মালামালের কয়েকটি চালান ভারতে ট্রানজিট করে সেখান থেকে মোংলা বন্দরে এসেছে।

অবশ্য গত ৫ এপ্রিল রাশিয়া থেকে সরাসরি রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছিল এমভি ড্রাগনবল। তারও আগে আসে এমভি আনকাসান ও এমভি কামিল্লা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং দিকনির্দেশনার ফলে মোংলা বন্দরে এখন স্বর্ণযুগ চলছে। এ বন্দর দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পণ্য আসছে। এর আগে এসেছে পদ্মা সেতুর মালামালও। এ ছাড়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দর থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে গেছে। ফলে এখন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় মোংলা বন্দর থেকে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আমদানি পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে, আবার একই সময়ের মধ্যে রপ্তানি পণ্যও আসছে মোংলা বন্দরে। আর পদ্মা সেতুতে রেল চালু হলে বন্দরের কর্মযজ্ঞ আরও বেড়ে যাবে।

মীর এরশাদ আলী বলেন, সরকারের সদিচ্ছায় বন্দরকে ঘিরে নানা প্রকল্পের কাজ চলমান। বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।


নির্বাচিত

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এই জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক ও বিতর্কিত আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। সমাবেশ চলাকালেই ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁদের চরম প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।

বিক্ষোভকালে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ঘটনার ছবি সংবলিত নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা সাধারণ প্রতিবাদকারীরা মন্তব্য করেন যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি পুরো এলাকার জন্য চরম লজ্জাজনক।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের একটি আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, তাঁদের বিয়ের তথ্যাদি ও কাবিননামা নিয়ে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি জনসম্মুখে চলে এসেছে।


নির্বাচিত

রূপপুরের রুশ নাগরিক বহনকারী বাস ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নাটোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুশ কর্মীদের বহনকারী একটি মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী ইমন (২২) প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিমথ-এর আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রূপপুরগামী মিনিবাসটির সঙ্গে নাটোর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ট্রাকের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী বলেন, “আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নিলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহত রুশ নাগরিকদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন এবং আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার: তাহেরী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে জনসমক্ষে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপরিচিত বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি ধর্মীয় মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জনপ্রতিনিধির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে সাতক্ষীরায় কী চলতাছে। সাতক্ষীরা মেয়ের বয়স ১৪, মেয়ের বাপের বয়স ৩৬ আর ওনার বয়স হলো ৭৪, না কত? কী হিসাব-নিকাশ। ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা।"

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এমপির পক্ষ থেকে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও মাওলানা তাহেরী সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এসব ঘটনা এআই বলে চালিয়ে দেওয়া বিকৃত যৌনাচার। আবার ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। প্রশাসনকে বলব, সঠিক তদন্ত করেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই মিথ্যাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে, এই মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে। এদের মুখে ইসলাম আছে; কিন্তু অন্তরে ইসলাম নাই। এদের বট বহিনী আছে, হারামকে হালার বলতে তারা বট বাহিনী লাগিয়ে দেয়।"

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই এমপির কর্মকাণ্ডের বৈপরীত্য তুলে ধরে তাহেরী সভায় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই লোকটা দেখলাম নির্বাচনের সময় সাদা পর্দা লাগাইছে। একপাশে মেয়েরা আর একপাশে উনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পর্দার কাছে যায় আর বলে —আপনারা ভালো করে চলবেন, পর্দা করবেন।" ধর্মীয় আদর্শের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা তাহেরী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।


নির্বাচিত

নীলফামারী কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন ২০০ কারাবন্দী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী জেলা কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দপুরের মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী এবং কারাবন্দীরা।

ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব কারাবন্দীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, "কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।"

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, "সরকার কারাবন্দীদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।"

জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, "মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"

আয়োজকরা জানান, কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষণের প্রভাবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকা এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে, যার ফলে শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এদিন খুলনা ও বরিশাল ছাড়াও রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সক্রিয়তা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষদিকে অর্থাৎ শনিবার ও রোববার বৃষ্টির তীব্রতা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটে বেশি থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে তা কিছুটা কমে আসতে পারে। শনিবার থেকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে পাঁচ দিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকবে। সার্বিকভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকবে।


নির্বাচিত

মানবপচার ও অর্থ আত্মসাৎ ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্যজনকে ইতালিতে পাঠানোর মতো মরর‌্যপাচার এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচার, প্রতারণা এবং ইতালিতে নেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) অভিযান চালিয়ে এ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।

আবু তালেব আরও জানান, গত সোমবার টিএইচবির একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দমন আইনে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে ফোন করে তার পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য ওই নারী দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বাদীর সামনে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় নাজমুল। পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে ওই নারীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আসামিরা বাদীকে ইতালিতে নেওয়ার জন্য ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। চুক্তিতে ভিসা হয়ে গেলে বাদীকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে একটি বার্তা আসে। বিষয়টি নাজমুলকে জানালে তিনি বাদীকে ইতালির দূতাবাসে যাওয়ার জন্য বলেন।

পরদিন গত ১৬ এপ্রিল বাদী ইতালির দূতাবাস থেকে তার পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বাইরে বের হলে নাজমুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা দাবি করে। তার কাছে তাৎক্ষণিক টাকা না থাকায় আসামিরা জোরপূর্বক পাসপোর্ট নিয়ে নেয়।

পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার জন্য এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশায় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে গত ১৯ এপ্রিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১১ মে আরও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সর্বমোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা দেওয়ার পরের দিন আসামিরা বাদীকে তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করেন। নির্ধারিত তারিখে বাদী তার সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির ভিসা ব্যবহার করে তার পরিবর্তে অন্য একজন অজ্ঞাতনামা নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন।

এই তথ্য শুনে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি অবহিত করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির মানবপাচার শাখা দ্রুত তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামতসহ চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তা নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করছিল।

এ ছাড়া জব্দকৃত ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিলের উপস্থিতি থেকে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার চক্রের মূলহোতা ও গ্রেপ্তারকৃত এজাহারনামীয় ১নং অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় ২০২৪ সালে একটি মামলার জামিনে রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। জব্দকৃত পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি নির্মাণগত ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয় ছিল। উপযুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের এই বীরের অবয়ব যথাযথভাবে তুলে ধরে নতুন একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। এ নিয়ে দুটি প্রধান অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যৌক্তিক। প্রথমত ভাস্কর্যের আবক্ষ মূর্তির সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত চেহারার মিল নেই। দ্বিতীয়ত, বেদী অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় সড়কের মোড়টি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।’

ডা. জাহেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত অবয়ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে আরও মানসম্মত একটি আবক্ষ ভাস্কর্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা।

তবে দীর্ঘদিন পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে আংশিক নির্মাণকাজ হলেও সেটি শেষ করা হয়নি। ফলে ভাস্কর্যটির উদ্বোধনও আর হয়নি এবং এটি দীর্ঘদিন অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দিন বিকেলে শত শত মানুষ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর গত বুধবার থেকে কিছু শ্রমিক আবার ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে রোববার থেকে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

৩০ জুলাই সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ‘তারা নতুন করে অতিরিক্ত মুনাফার দাবি করছেন না। সরকারের আগের হিসাব, মূল্যস্ফীতি এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গঠিত সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশকে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করলে ২০২৪ সালের শুরুতে এই মার্জিন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা।

সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয়ে আরও ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম ৮ দফা বাড়ানোর কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই তাদের ন্যায্য দাবি প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ১০ পয়সা ছিল বলে জানিয়েছেন ফারহান নূর।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে খরচ আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে। তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। শুধু সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।’

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘এসব দাবি নিয়ে বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো ফল মেলেনি। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে গত শনিবার জরুরি সাধারণ সভা ডেকে ১২ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

টঙ্গীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তুহিন ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অহিদুল ইসলাম নামে আরও এক আরোহী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন বাসচালক ও হেলপার।

নিহত তুহিন ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার আন্দালবাড়ি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরে গাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন তুহিন ইসলাম। টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকাগামী অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’


নির্বাচিত

মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। সোমবার (২১ জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাব্বি (১৮), মো. সুমন (৩৩), মো. আব্দুল রাব্বি (২৯), মো. প্রান্ত হোসেন (২৪), বাবুল হোসেন ওরফে হৃদয় (২২), মো. শামীম (২৮), মো. সাজ্জাত হোসেন (২৫), সাঈম (২২) ও আব্দুর আজিজ (২৪)।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষের শিং মাছ বিক্রি হয় ‘দেশি’ নামে

* প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে অতি মুনাফার লোভে এখন হরহামেশা কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষ করা শিং মাছ হলুদ রঙের বানিয়ে দেশি শিং মাছ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী। এতে ক্যান্সার ও কিডনি ড্যামেজ হওয়াসহ দুরারোগ্য নানা জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের প্রসিদ্ধ ইটেরপুল মাছ বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা এই ধরনের শিং মাছ বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে ওই বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শহীদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা খুচরা মাছ বিক্রেতা, মাদারীপুরের বৃহত্তর মস্তফাপুর মাছের আড়ত থেকে এই শিং মাছসহ অন্যান্য মাছ পাইকারি ক্রয় করে এখানের বাজারে এনে খুচরা বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার আড়তদাররা ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত থেকে চাষ করা শিং মাছ প্লাস্টিকের ড্রামে করে মস্তফাপুর আড়তে এনে বিক্রি করেন, মূলত মস্তফাপুর আড়ত থেকেই মাছ হলুদ করার কেমিক্যাল ড্রামের পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো ওই ড্রামের পানি খেয়েই হলুদ আকার ধারণ করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ক্রেতা বলেন, ‘চাষের শিং মাছের দাম কম, আর দেশি শিং মাছের দাম অনেক বেশি। তাই অসাধু মাছ বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্যই এমন অনৈতিক, বেআইনি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত করে তা বিক্রি করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হবে নিঃসন্দেহে।’ তারা এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

বন্যায় ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন, আমন ধানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষতবিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে ছিল। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বীজতলা হারানো কৃষক রাজ্জাক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।’

কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় ও উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।


নির্বাচিত

এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২ বিয়ের পরামর্শ রফিক উল্লাহ আফসারীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী। একই সঙ্গে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে প্রয়োজনে আরও দুই বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

উক্ত ভিডিও বার্তায় মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, তাঁর সম্মানিত ভাই গাজী নজরুল ইসলামের উচিত আরও দুটি বিয়ে করা, কারণ ইসলামে এটি একটি সম্পূর্ণ হালাল বিষয় এবং এতে লজ্জার কিছু নেই। যারা অন্যায়ভাবে স্বামী-স্ত্রীর গোপন ও পবিত্র মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করছে, তাদের একদিন নিশ্চয়ই পরকালে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের সাহাবিদের বৈবাহিক ও পারিবারিক জীবনের নানা ইতিবাচক উদাহরণ টেনে তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামেরই স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং বিবাহ একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। ফলে স্বামী-স্ত্রীর অতি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনসম্মুখে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা পরিবারকে বিব্রত করা কোনোভাবেই সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক নয়।

এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দ্বীনের একজন অতন্দ্র প্রহরী এবং কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসার পাত্র। তাঁদের একান্ত স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে সমাজ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঠিক কী ধরনের শান্তি পেলেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একই সাথে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিষয়টি এমনভাবে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন কোনো মারাত্মক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অনৈতিকভাবে এই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে জড়িতদের পরকালে আল্লাহর কঠিন বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে এই বক্তা হুশিয়ার করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘরোয়া ও অন্তরঙ্গ ভিডিও ক্লিপ হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নির্বাচিত

banner close