কূটনৈতিক প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
সীমান্তে মিয়ামারের দফায় দফায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরও পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশ সীমায় একজন রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর পর রোববার দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ফের তলব করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার চিন্তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ঢাকা।
তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে নেপিডো। তারা বান্দরবান সীমান্তে গোলাবর্ষণের দায় ঠেলে দিয়েছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দিকে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের দাবি, আরাকান আর্মি সে দেশের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ চুরি করে বাংলাদেশে গুলি করছে, যাতে করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করছেন বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার ওপারে বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমার সেনাদের। এরই মধ্যে বেশ কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে। সবশেষ শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া চারটি মর্টার শেল এসে পড়ে। এতে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। ওই দিন সকালেই ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।
এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সবশেষ শুক্রবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্ররের রাধ্যেের দুর্ শূন্যরেখারদূতকে করণীয় নির্ধারণে এদিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রায় সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিকামী রাষ্ট্র। আমরা ধৈর্য ধরে এটি সহ্য করে যাচ্ছি। আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি সমাধান করুন, আমাদের এখানে যেন রক্তারক্তি না হয়, কোনো প্রাণহানি না হয়।’
বারবার প্রতিবাদলিপি দেয়ার পরও মিয়ানমার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে যতটুকু সম্মান করা সম্ভব, ততটুকু আমরা করছি। আমাদের বক্তব্যে কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। শক্তভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
উল্টো বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রতিবাদলিপি দেয়ার পর তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমারের কিছু গতানুগতিক বক্তব্য আছে। তারা সীমান্তে গোলাগুলির বিয়য়টি অস্বীকার করেনি। তবে দাবি করেছে, তাদের সেনারা গুলি করেনি। উনি বলেছেন, এগুলো হয়তো আরাকান আর্মির গুলি হতে পারে।
এর জবাবে বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, ‘মিয়ানমারের ভেতর থেকে বাংলাদেশে যা-ই আসুক না কেন, সেটা মিয়ানমারের দায়িত্ব। সেটা মিয়ানমারকেই দেখতে হবে। আমাদের এপারে যাতে কিছু না আসে, সেটা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যা যা করা দরকার মিয়ানমারকে করতে হবে।’
তাহলে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনায় দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশেদ আলম বলেন, ‘গুলির গায়ে লেখা আছে মিয়ানমার আর্মি। কিন্তু মিয়ানমার বলছে, এগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তারা বলছে আরাকান আর্মি গুলি করেছে, যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এ রকম একটা জায়গায় অ্যাকচুয়ালি কে দায়িত্ব নেবে, সেটা নিরূপণ করা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’
গোলা খারাপ উদ্দেশ্যে পাঠালেও নিশ্চিত করার উপায় নেই মন্তব্য করে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধানে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরতে হবে। তবে আমরা যদি নিজেরা শক্ত থাকি সমাধান আসবে।’
সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তলবের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকেসহ দুজন। তাদের অন্তত ১৫ থেকে ১৭ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় অভ্যর্থনা কেন্দ্রে। এরপর মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নাজমুল হুদার দপ্তরে ডেকে নেয়া হয়। তিনি তাদের সঙ্গে আধা ঘণ্টার মতো কথা বলেন।
এই পুরোটা সময়ে রাষ্ট্রদূতকে এক কাপ চাও দেয়া হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো কূটনীতিককে আপ্যায়ন করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একটি প্রথা বা রেওয়াজ। আপ্যায়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক হৃদ্যতার বিষয়টিও বোঝা যায়। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তে চলমান ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটা হয়েছে।
এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিককে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। আপ্যায়ন না করার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ এ বিষয়ে চরম অখুশি।
এখনই সেনা মোতায়েন নয়
আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব খুরশেদ আলম জানান, বাংলাদেশ এখনই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছি বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে নিয়ে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বলেছি সীমান্তে সজাগ থাকতে। সাগর দিয়ে রোহিঙ্গারা যেন ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে জানাবে বাংলাদেশ
মিয়ানমারের এই আচরণ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানেও যাবে বাংলাদেশ।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আসিয়ানের যে রাষ্ট্রদূতরা ঢাকায় আছেন, তাদের ডেকে এ ঘটনার ব্রিফ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারবার প্রতিবাদে মিয়ানমার গা করছে না- এ বিষয়টি সবার কাছে তুলে ধরা হবে। মিয়ানমার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করে বাংলাদেশ।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে জাতিসংঘে গিয়ে আমাদের বিষয়টি তুলব যে আমাদের মানুষদের ওপর গোলাবারুদ পড়ছে, যেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা আমাদের কাজ করছি। তারা যদি না মানে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা যদি না শোনে, তাহলে আমরা সেখানে যাব।’
জাতিসংঘকে কবে জানানো হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কবে জানানো হবে তা প্রধানমন্ত্রী জানেন।’
সীমান্ত থেকে ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেবে বাংলাদেশ
এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ সীমানায় পড়ে হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করায় সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
গতকালও দিনভর মিয়ানমার থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ায় যায়। তারই প্রেক্ষিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন ঘুমধুম, তুমব্রু, হেডম্যানপাড়া, ফাতরা ঝিরি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী ৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে ঘুমধুম ইউনিয়নে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় সীমান্তবর্তী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কঠিন হবে।’
সীমান্ত থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছি। তাদের নিরাপদ রাখতে, যা যা করণীয় সব করা হবে।’
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় হয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ ভূইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সওগাত চৌধুরী পিটার, সদস্য সচিব কাউছার আলম সরকারসহ আরও অনেকেই।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় মিলন হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম।
নিহত মিলন হাওলাদার নলছিটি পৌরসভার শংকরপাশা গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে মিলন হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল হাওলাদারের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন হাওলাদার বেলাল হাওলাদার ও তার মেয়ে ইতি আক্তারকে মারধর করে আহত করেন। এ সময় বেলাল হাওলাদারের বসতঘরেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় বেলাল হাওলাদার থানায় মিলনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর জেরে মিলন হাওলাদার ও তার ভাই মিরাজ হাওলাদার আবারও বেলাল হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বেলাল হাওলাদার ও তার ভাইদের পাল্টা হামলায় মিলন হাওলাদার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, নিহত মিলন হাওলাদারের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর একই কক্ষে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরএমও ঈমাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সময় ওই শিক্ষক বেঁচে ছিলেন। তবে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করামাত্রই তিনি মারা যান। তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পুরুষকে আনা হয়েছে। তার অবস্থাও গুরুতর। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক মারা গেছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ বাইপাস সড়কের বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা কালীগঞ্জ বাইপাস সড়ক ধরে নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল। বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় পৌঁছে চালক অন্য একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ট্রাকের পেছনে থাকা প্রাণ ফ্রুটোর একটি কাভার্ড ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশাযাত্রী নূর আলম (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার দুতামরুনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জের রবিন (৩৫), টাঙ্গাইলের মধুপুরের রাশেদ রানা (২৪), সিরাজগঞ্জের ফরহাদ (১৯) এবং নরসিংদীর রায়পুরার মাইন উদ্দিন (৩০)। আহত চালকসহ অন্যদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুল কবির নকিব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে ওই সভা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার মূল ভিক্তি। এ স্তরের শিক্ষার আধুনিকায়ণ, ঝরে পরা রোধ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা বিষয় আলোচনায় ওঠে আসে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও প্রদাণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী, প্রাথমিক ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাসান আলী ও আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেছেন, ১৭ বছরে অগণতান্ত্রিক সরকার
জাতীকে মেধাশূন্য করে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় অযোগ্য শিক্ষার্থীকে পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। অতীত ভুলে শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা করেই পাস করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোবাবিলায় দক্ষ, যোগ্য, মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরিতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে আরও মনোযোগী, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণের অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারি শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের ওপরে মব সৃষ্টি করে হামলার প্রতিবাদে মানববনন্ধন হয়েছে। বুধরার (৪ মার্চ) তালা উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সকল ইউনিটের সম্মিলিত আয়োজনে এ মানববন্ধন হয়।
তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে ও তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ারদার, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মমিন, অর্থ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংবাদিক শেখ মখফুর রহমান জান্টু, আব্দুল মতিন, উপজেলা প্রেসক্লার সহসভাপতি আবু সাঈদ, তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম এ ফয়সাল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য সানজিদুল হক ইমন নাজমুল হাসান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, শ্যামনগরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের সহ পাটকেলঘাটার দুজন সাংবাদিকের ওপর মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসানোর তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি ও শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির ‘যুবলীগ, যুবদল ও যুব জামাত মিলে বালুমহাল লুট’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করায় সন্ত্রাসী হামলা শিকার হন। তাছাড়া পাটকেলঘাটা জোড়া টাওয়ার রোডে ১/১ খতিয়ানের সরকারি সম্পত্তি ১৮ লাখ টাকায় হস্তান্তরের তথ্য আনতে গেলে সাংবাদিককে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে জখম করে অর্থের বিনিময়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজি মামলায় ঢুকিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তালা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো রোগী যেন চিকিৎসা এবং ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়। রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং তাদের পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ বুধবার (৪ মার্চ) ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ডা. লিটন আরও বলেন, ‘রোগীরা যেন চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বলতে পারে- আগের চেয়ে এখনকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখানে সব ধরনের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়া, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিব প্রমুখ।
বন্যপ্রাণী সংরণে জনসচেতনতা বাড়াতে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সচেতনতা করার লক্ষ্যে প্রচারণা করেছেন পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন। তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা থেকে চরলাঠিমারা, হরিনঘাটা, পদ্মা হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে রুহিতা পর্যন্ত এসে শেষ হয়। পথে তিনিসহ অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানান। ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে পথসভাও করেন তিনি। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭ টায় জিনতলা থেকে শুরু করেন এ প্রচারণা।
তিনিয় বিভিন্ন স্লোগানে প্লাকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালান। স্লোগানগুলো হলো-পাখি না থাকলে প্রাণ হারাবে প্রকৃতি, প্রকৃতির প্রাণ বন্যপ্রাণী-তাদের আমরা রক্ষা করি, বন ধ্বংস করলে, বন্যপ্রাণী ধ্বংস হবে, বন্যপ্রাণী রক্ষা হলে প্রকৃতি রক্ষা হবে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু দায়িত্ব নয়- একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য, বন্যপ্রাণী রক্ষা করলে পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হবে, প্রাণের অধিকার সবার- বন্যপ্রাণীও তার অংশীদার, শিকার নয়, সচেতনতা বাড়াই, আজ সংরক্ষণ, আগামীর নিরাপদ বন্যপ্রাণীর জীবন।
তার সহযোগী ছিলেন- মো. সোহাগ আকন, মাইনুল ইসলাম ও শোয়েব তাসিন। শফিকুল ইসলাম খোকন একজন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রায় আমরার (ধরা) পাথরঘাটা উপজেলা কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও শফিকুল ইসলাম খোকন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জেলে অধিকার, জীবন ও জীবিকা নিয়ে কাজ করছেন।
সাথে থাকা সহযোগী সোহাগ আকন ও শোয়েব তাসিন বলেন, আমরা শফিকুল ইসলাম খোকনের কাজে অনুপ্রাণিত হই। সবসময়ই তিনি ভিন্ন এবং ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। তার দেখাদেখি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সবাই সচেতন হলে পরিবেশের ভারসাম্য রা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমন প্রচারণায় এ অঞ্চল বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর কোলঘেঁষা হরিনঘাটা বনসহ বন বিভাগের একাধিক বনায়ন রয়েছে। এছাড়াও বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পাথরঘাটার অংশে পুরোটাই বনায়ন। যে বনে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানকার বাসিন্দারা যাতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন বা সোচ্চার হয় সে কারণেই এখানে প্রচারণা করছি। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আমি আশা করছি স্থানীয়রা বন নিধন বা বন্যপ্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকবে পাশাপাশি প্রতিহতও করবে।’
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আ. রশিদ রাঢ়ি বলেন, বাঘ যদি বনে না থাকে তাহলে যেমন বন থাকবে না তেমনি বন না থাকলে বন্যপ্রাণীও টিকবে না। বনের কাছের বাসিন্দাদের আগে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলমসহ সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রায় উদ্বুদ্ধ করবে।
উত্তর জনপদের প্রবেশদ্বার বলা হয় পাবনাকে। পদ্মা আর যমুনার পলিমাটিতে বেড়ে ওঠা এই জনপদ কেবল কৃষিতেই নয়, রাজনীতি, সাহিত্য আর স্থাপত্যের ঐতিহ্যে অনন্য। বাংলার মানচিত্রে পাবনা মানেই এক সমৃদ্ধ জনপদ, যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কয়েকশ বছরের পুরনো ইতিহাস।
পাবনার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। লোকশ্রুতি আছে, ‘পাবনী’ নামক এক প্রাচীন গঙ্গার শাখা থেকে এই নামের উৎপত্তি। আবার অনেকে মনে করেন, আদিবাসীদের ভাষা থেকে এর সৃষ্টি। তবে ১৮২৮ সালে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই পাবনা তার নিজস্ব মহিমায় বিকশিত হতে শুরু করে।
পাবনার ঐতিহ্যের কথা তুললেই সবার আগে চোখে ভাসে ব্রিটিশ প্রকৌশলবিদ্যার বিস্ময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ১৯১৫ সালে নির্মিত এই রেল সেতুটি আজও পদ্মার ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে লালন শাহ সেতু, যা আধুনিক ও প্রাচীন স্থাপত্যের এক দারুণ মেলবন্ধন। এছাড়া ঈশ্বরদীর পাকশীতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন রেলওয়ে জংশন এবং বিভাগীয় কার্যালয় এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাবনা শহর থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির, যা পোড়ামাটির কারুকাজের এক অনন্য উদাহরণ। এছাড়া চাটমোহরের শাহী মসজিদ মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর জানান দেয়। অন্যদিকে, পাবনার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই আশ্রমটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
পাবনার রয়েছে এক ঈর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পটভূমি। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক নিবাস এই পাবনাতেই। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের দিকপাল প্রমথ চৌধুরী ও সাংবাদিকতার অগ্রদূত কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিধন্য এই জেলা।
অর্থনৈতিকভাবেও পাবনা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ জেলাকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘দুগ্ধ ভাণ্ডার’। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের ঘি এবং দুগ্ধজাত পণ্য দেশজুড়ে সমাদৃত। এছাড়া পাবনার তাঁতের শাড়ি ও হোসিয়ারি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে পাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক পরিচিতি দিয়েছে।
পদ্মার ঢেউ আর তাঁতের খটখট শব্দে ঘেরা পাবনা কেবল একটি জেলা নয়, বরং বাঙালির বীরত্ব ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত জাদুঘর। এই জেলার ইতিহাস সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাবনার এই পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকহারে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৪ জন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য সাব মারসিবল সেচ পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকের ভাষায়, পার্শ্ববর্তী খালে পানি থাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে সাব মারসিবল সেচ পাম্প দ্বারা উত্তলিত পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করছে।
উপজেলা বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারীভাবে ১০০ সাব মারসিবল সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ৮ ঘণ্টায় গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।
সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিট চাপ দিলেও পানি উঠছে না। কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রতিনিয়ত সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গভীর নলকূপে শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের গভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি ওঠছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের পক্ষে মোটরচালিত পাম্প ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
চর মাদ্রাজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারা বছর পানি থাকত। এখন এক ফোটাও পনি ওঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপে সাব মারসিবল পাম্প বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা শুরু।’
একই অভিযোগ করেছেন জিন্নাগড় এলাকায় বাসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বিলের মধ্যে অবৈধভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এমনকি অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানি বলেন, ‘খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তলন করতে বাধ্য হয়েছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে অগভীর টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়ছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে। তবে হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য মতে ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।
জিন্নাগড় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জামাল মোল্লা বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাব মারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জানুয়ারির পর যখন সেচকাজের জন্যে পানি উত্তোলন শুরু হয় তখন পানির স্তর দ্রুত হারে নিচে নামতে থাকে। অবৈধভাবে স্থাপন করা সাব মারসিবল পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করলে সুপেয় পানির সাম্প্রতিক সংকট থেকে সাধারণ মানুষ রেহায় পেত।’
উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাব মারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপকূলীয় জনপদ শরণখোলায় শীতের শেষে বনের শুকনো পাতায় এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক, বন-বাদাড় ও খোলা মাঠজুড়ে ঝরে পড়া পাতা এখন যেন প্রকৃতির নিজস্ব কারুকাজ।
বনের গাছপালা থেকে ঝরে পড়া শুষ্ক পাতা মাটির ওপর বিছিয়ে দিয়েছে সোনালি-বাদামি চাদর। সকালে সূর্যের আলো পড়লে সেই পাতার স্তর আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বলছেন, শুকনো পাতার এই দৃশ্য গ্রামীণ পরিবেশে এক ধরনের নান্দনিক আবহ তৈরি করেছে।
চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই এ সময় গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তবে এবার যেন একটু বেশি মনে হচ্ছে। দেখতে খুবই ভালো লাগছে।’
পরিবেশবিদরা জানান, এই শুকনো পাতা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। প্রাকৃতিকভাবে পচে তা মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং নতুন গাছ জন্মাতে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে পড়া এই পাতাগুলোই এখন শরণখোলার সৌন্দর্যের এক নীরব অলংকার হয়ে উঠেছে।
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসের রঙিন কাপড় এখন ছড়িয়ে আছে রূপগঞ্জের দর্জি দোকানগুলোতে।
কিন্তু রঙিন এই প্রস্তুতির ভেতরেই রয়েছে হিসাব-নিকাশের চাপ। আনন্দের উৎসব সামনে রেখে অনেক পরিবারের বাজেটের খাতায় এবার নতুন করে যোগ হয়েছে দ্বিগুণ সেলাই মজুরি।
ঈদকেন্দ্রিক উপজেলার অলিগলি, বাজার আর আবাসিক এলাকার ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। দোকানের ভেতরে ঝুলছে রঙিন কাপড়, টেবিলে ছড়িয়ে আছে মাপের খাতা, মেশিনের শব্দে মুখর চারপাশ। সকাল থেকে গভীর রাত, কোথাও কোথাও ভোর পর্যন্ত চলছে সেলাইয়ের কাজ। তবে এ ব্যস্ততার মাঝেই ক্রেতাদের কপালে নতুন ভাঁজ। কারণ নারীদের পোশাকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক দোকানে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
নারীদের সুতি থ্রি-পিস বানাতে যেখানে আগে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হতো, এখন সেখানে গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা। জর্জেটের থ্রি-পিসে, যা আগে ৬০০-৬৫০ টাকায় তৈরি হতো, এখন সেই মজুরি চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। উপজেলার মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, ভুলতা, গাউছিয়া, জাঙ্গির, চনপাড়া, নগরপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে কথা বলে দর্জি ও ভোক্তাদের কাছ থেকে ওঠে এসেছে এমন চিত্র।
চনপাড়া বাজারের একটি ছোট দর্জি দোকানে ঢোকতেই দেখা গেল, একপাশে তিনজন কর্মচারী মেশিনে ব্যস্ত, সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নারী ক্রেতা মাপ দিচ্ছেন। দোকান মালিক আনিক সরদার বলেন, ‘ঈদের আগে চাপ তো থাকেই; কিন্তু এবার চাপটা বেশি। কর্মচারীদের ওভারটাইম দিতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, সুতা-আনুষঙ্গিক জিনিসের দামও বেড়েছে। তাই মজুরি না বাড়িয়ে উপায় ছিল না।’
নগরপাড়া এলাকার আরেক দর্জি সুমন মিয়া বলেন, ‘আগে ৪০০ টাকায় সুতির থ্রি-পিস বানাতাম। এখন ৬০০ টাকার নিচে সম্ভব নয়। ঈদের পর আবার ৪০০ টাকা করে রাখব। জর্জেটের কাপড়ে কাজ বেশি তাই ১ হাজার ২৫০ টাকা নিচ্ছে। ঈদের পর সাড়ে ৬০০ টাকায় বানিয়ে দেব।’
নিগার সুলতানা অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। কাপড় কিনতেই অনেক খরচ। তার ওপর সেলাইয়ে যদি ৬০০ টাকা লাগে, তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চাপ হয়ে যায়। তবু ঈদ বলে কথা, বাচ্চাদের জন্য তো বানাতেই হবে।
জাঙ্গির এলাকায় গভীর রাতেও কয়েকটি দর্জি দোকান খোলা দেখা যায়। দোকানের ভেতরে ঝুলছিল ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা পোশাক। দর্জি রাতুল সরকার বলেন, ‘এখন প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত কাজ করছি। কাজের চাপ এত বেশি যে নতুন অর্ডার নিতে ভয় লাগে। খরচ বাড়ার কারণে মজুরি বাড়াতে হয়েছে।’
বাতেন মিয়া নামে আরেক দর্জি জানান, জর্জেট খুব পিচ্ছিল কাপড়। কাটতে-সেলাই করতে সময় বেশি লাগে। আগে ৬৫০ টাকায় কাজ করতাম। এখন ১ হাজার ৩০০ টাকা নিচ্ছি। না হলে খরচই ওঠবে না। ঈদের পর আগের দাম অর্থাৎ ৬৫০ টাকা করে রাখব।
কলেজছাত্রী আলমিনা রহমান বলেন, ‘একই ডিজাইনের সুতির থ্রি-পিস বানাতে আগে যেখানে ৩৫০-৪০০ টাকা লাগত, এখন সব দোকানেই ৬০০ টাকা চাইছে। বাজেট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। তবু রেডিমেডে ঠিকমতো ফিটিং পাই না, তাই দর্জির কাছেই আসতে হয়।’
একটি বাসায় ভাড়া থাকেন শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘রোজার আগে সুতির থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বানিয়েছি। এখন সেই থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। আগে এক এক দোকানে এক এক মজুরি চাইত, এখন সবাই একই মজুরি চাচ্ছে।’
দর্জি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘হাতে এত কাজ যে নতুন অর্ডার নিলে সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া কঠিন। এখন কাজ নিলে বাড়তি শ্রমিক লাগবে, বাড়তি টাকা দেওয়া লাগবে। তাই মজুরি বেশি নিতে হচ্ছে। ঈদের পর আসলে আগের মজুরিতেই কাজ করে দেব।’
শেখ রবিউল আলম নামে আরেক দর্জি বলেন, ‘সুতির থ্রি-পিস বানাতে মজুরি লাগবে ৬০০ টাকা। জর্জেট হলে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হবে। এখন মজুরি কম নেওয়ার সুযোগ নেই। পছন্দ হলে বানাবেন, না হলে চলে যাবেন। আমাদের কিছু করার নেই।’
বরপা এলাকায় একাধিক দর্জি দোকানে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। ভিড়, ব্যস্ততা, আর বাড়তি মজুরি নেওয়ার অভিযোগ। দর্জি নুরালম বলেন, ‘৪০০ টাকায় এখন সুতির থ্রি-পিস বানানো সম্ভব নয়। এখন বানাতে হলে ৬০০ টাকা লাগবে। ঈদের কয়েকদিন পর আসলে ৩৫০ টাকায় বানিয়ে দেব।’
এদিকে সেলাই মজুরির কারণে অনেকেই এখন রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। কাজীপাড়ার বাসিন্দা আফরোজা খানম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাসায় পরার জন্য দুটি থ্রি-পিসের কাপড় কিনেছিলাম। কিন্তু মজুরি চাচ্ছে দ্বিগুণ, তাই তৈরি করিনি। ৮০০ টাকা দিয়ে কাপড় কিনে, মজুরি ৬০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঠিক করেছি ঈদের পর তৈরি করব। এখন ঈদের জন্য ১ হাজার টাকার মধ্যে রেডিমেড একটা থ্রি-পিস কিনে নিব।’
একটি দর্জি দোকানের সামনে থেকে জুঁথি আক্তার বলেন, ‘আমার রেডিমেড থ্রি-পিস ঠিকমতো ফিট হয় না, তাই সব সময় বানানো থ্রি-পিস পরি। মজুরির খোঁজ নিতে এসেছিলাম। এবার ঈদ সামনে রেখে থ্রি-পিসের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। সবাই সুতি থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। এত মজুরি দিয়ে বানানো সম্ভব নয়। তাই মার্কেট থেকে রেডিমেড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নীলফামারীতে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া ও অনুমোদনহীনভাবে শিশু খাদ্য তৈরি করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ মার্চ) জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হানের নেতৃত্বে এ আদালত পরিচালিত হয়। প্রসিকিউটর ছিলেন বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন।
অভিযানে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে জেলা শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য ‘আইসললি’ তৈরি করায় অভিজাত গ্রুপকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মেশিনে কারচুপির মাধ্যমে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিজাত গ্রুপ কোনো ধরনের বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নিয়মিত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তেল পাম্পে মাপে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ এক হাজার টাকার ডিজেল কিনলে প্রায় ১২ টাকা কম পাচ্ছেন। এভাবে প্রতিদিন শুধু ডিজেল বিক্রিতেই এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের ক্ষতি হচ্ছিল। অনুমোদনহীনভাবে শিশুখাদ্য উৎপাদনের দায়েও জরিমানা করা হয়েছে।
এসময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোবারক হোসেন, বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার জুলকার নাঈম, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আল-আমিন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।