সোমবার, ১ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লালমনিরহাটে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বামী আটক

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ১৯:১০
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ১৯:০৯

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনে সুস্মিতা রানি (২১) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবর্ণ রায়কে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে রামদাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ‘সদর উপজেলার রামদাস গ্রামে প্রায় ৫ বছর আগে সুবর্ণ রায়ের সঙ্গে একই উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের দিনেশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে সুস্মিতা রায়ের বিয়ে হয়। তাদের পরিবারে সাড়ে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিষয়ে বেশ কিছুদিন স্বামী-স্ত্রীর কলহ চলে আসছিল। গত শুক্রবার রাতে পারবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই দিনই সুবর্ণ তার স্ত্রীকে শারিরীক নির্যাতন করেন। নির্যাতনে জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন সুস্মিতা রানি। শনিবার সকালে তার মরদেহ দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সুবর্ণ রায়কে আটক করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তাজরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পরই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে।


চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডির দায়িত্ব নিলেন প্রকৌশলী সেলিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম এর কাছ থেকে সোমবার (০১ জুন) সকালে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসার নব নির্মিত ভবনের ৩য় তলায় বোর্ড রুমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগমকে বিদায় এবং নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলমকে বরণ করে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব শাহেদা ফাতেমা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন/ প্রকৌশল/অর্থ), বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক, প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।


সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্ট কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের ‘বিজয় ৭১’ ভবন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের এক কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (০১ জুন) বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (৪৭)। তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চে জমাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা।

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মো. মজহারুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনের ভেতরে একটি জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী মরদেহটি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। পরে শাহবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা আরও বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সঠিক কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হোটেলের কক্ষ থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (০১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ‘রয়েল পার্ক’ নামের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশ দুটি নগরের কোতোয়ালি এলাকার মোহাম্মদ রিপন (৪৭) এবং তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের (৩০)। তাদের মধ্যে রিপনের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর পাশে খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তার স্ত্রী সোনিয়ার লাশ।

পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রোববার (৩১ মে) বিকেলে হোটেলের চার তলার কক্ষটিতে ওঠেন ওই দম্পতি। রাত নয়টার দিকেও হোটেলের এক কর্মী ওই কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ওই সময় ওই দম্পতি তাকে বলেন, সকাল সাতটায় যাতে তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। এরপর সোমবার (০১ জুন) সকালে ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে হোটেলের ওই কর্মী দেখতে পান কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে একজনের লাশ ফ্যানে ঝুলছে এবং অন্যজনের লাশ খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খাটে পড়ে থাকা সোনিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, রিপন ও সোনিয়া দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিষয়টি নিয়ে দুজনেই পারিবারিক নানা সমস্যায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুজন আত্মহত্যা করেছেন। তবে দরজা খোলা থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নগরের আকবর শাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলামত সংগ্রহ করেছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ওই ফ্লোরে (চারতলায়) কোনো সিসিটিভি নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


অনিয়মের অভিযোগে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিভিন্ন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ, পরিচালনা ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (০১ জুন) ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ‘গোলাম কিবরিয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এবং মার্কেট নির্মাণ সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।’

তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তকালীন সময়ে গোলাম কিবরিয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


শ্রীমঙ্গলে ট্রাক্টরের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ, রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের অনুপস্থিতি ও রেলগেট খোলা থাকার অভিযোগের মধ্যে একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে আন্তনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাক্টরচালক আব্দুল কাইয়ুম টিটু (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে ভাড়াউড়া চা-বাগান এলাকার ২৯০/৪ নম্বর পিলারসংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় রেলগেট খোলা ছিল এবং দায়িত্বরত গেটম্যানের ই-৭৩ নম্বর কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। ফলে ইস্পাহানি চা কোম্পানির একটি ট্রাক্টর রেললাইন পার হওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর ট্রেনটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত ট্রাক্টরটিকে টেনে নিয়ে যায়। এতে ট্রাক্টরটির ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে কয়েকটি খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ট্রেন কাছাকাছি চলে আসার মুহূর্তে চালক ট্রাক্টর থেকে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান।

আহত টিটু জেরিন চা-বাগানের বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে। তিনি প্রতিদিনের মতো শ্রমিক আনার উদ্দেশ্যে ভাড়াউড়া চা-বাগানে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে বাগানের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অস্থায়ী গেটম্যান ইমরুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গেটম্যান পলাতক রয়েছেন।

তিনি বলেন, ট্রাক্টরটি যদি রেললাইনের মাঝখানে আটকে যেত, তাহলে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।

জেরিন চা-বাগানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সেলিম রেজা বলেন, রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সংঘর্ষে ট্রাক্টরটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


মাছের খামারে চাঁদা দাবি, টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম মস্তুল ও ডেলনা এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা ‘সবুজ বাংলা মৎস্য খামার’ নামে একটি মাছের খামারে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা চাঁদা না পেলে ওই খামারের মালিককে হত্যার হুমকি দিয়েছে চক্রটি। ওই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম কাউসার।

ভুক্তভোগী খামারি কাউসারের অভিযোগ, রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম মন্তল ও ডেলনা এলাকায় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সবুজ বাংলা মৎস্য খামার’ নামে একটি মাছের খামার গড়ে তুলেছেন। কয়েক মাস আগে ওই এলাকার সন্ত্রাসী লাইছ উদ্দিনের ছেলে রাকিব ও দুলাল তার কাছে খামার পরিচালনার জন্য তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই দুজন লোকজন নিয়ে এসে তার খামার থেকে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই খামার কার্যক্রমে বিভিন্ন সময় বাধাদান সহ কর্মচারীদের মারধোর এবং খামারে প্রবেশ করলে কাউসারকে হত্যা করে মাছের খাবার বানানো হবে, খামারে লাশ ডুবিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা কাউক হুমকি বা চাঁদা দাবি করিনি।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে: এমপি এজাজ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেছেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে অদম্য দেশপ্রেম থাকতে হবে। দেশ, দেশের জনগন ও দলের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদল থেকে গড়ে উঠে বিএনপি’র রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। আজকের ছাত্ররাই একদিন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।

২৪’ এর জুলাই গণঅভ্যত্থানে চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, মাগুরার মেহেদী হাসান রাব্বি, ঢাকার আরিফুর রহমান রাসেলসহ সারাদেশে ছাত্রদলের অন্তত ১৪৪জন শহীদ হয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদল অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। ছাত্রদলের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর হাতে গড়া দল বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তাই ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

খুলনা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (০১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে রক্তদানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান আরও বলেছেন, ৩০ মে জাতীয় ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দিশেহারা বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছিল, তখন ২৫ শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনিই ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি নিজে রণাঙ্গনে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং ‘জেড ফোর্স’ (ত ঋড়ৎপব) গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীতে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধিকারের পক্ষে অটল ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, খুলনা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো স্তরে গ্রুপিং দেখতে চাই না। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিটি ইউনিট শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সংগঠন দুর্বল হয়ে যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়টি আমলে নিয়ে সারাবছরই ঘরগোছানোর কাজে গুরুত্বারোপ করেছেন। মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও ফ্যাসিষ্টদের মাথা চাড়া দিয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠির অপপ্রচার ও ভ্রান্ত রাজনীতির কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতেও পারে; সে জন্য ছাত্রদলতে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠিত থাকতে হবে- দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। তবে শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী আরও বলেন, শহীদ জিয়া শুধু একজন সফল সৈনিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। শহীদ জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর সর্বোচ্চ সততা ও দেশপ্রেম। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেও তিনি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত জীবন-যাপন করেছেন। আজকের এই দিনে দাঁড়িয়ে শুধু স্মৃতিচারণ করাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব নয়। শহীদ জিয়ার আদর্শ, সততা, ও সাহসিকতা বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর দেখানো পথ ধরে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াটাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

খুলনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত জেলা বিএনপি’র সদস্য কেএম আশরাফুল আলম নান্নু, দাকোপ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌরসভার সাবেক আহবায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. মাকসুদ আলম, ইমতিয়াজ আলী সুজন, কাজী রিয়াজুল ইসলাম বাবু ও মোস্তাক আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সদস্য বিএম সাজেদ হোসেন সজল, ইয়াসির আরাফাত, সাব্বির আলম বাবু, ছাত্রদল নেতা সোহান মোল্ল্যা, কাজী জাকারিয়া, সংগ্রাম মাদবর, রাতুল ঢালী, মেহেদী হাসান, আব্দুল্যাহ, বায়েজিদ বিশ্বাস, রাহাদ হোসেন, শুভ মোড়ল, মুক্তাদির, ওসমান গনি, তসলিম হাসান নাঈম, সিয়াম, সাইমন ও রাজ্জাক প্রমুখ।


ফেরার যুদ্ধ শুরু, টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় রাজশাহী থেকে শুরু হয়েছে ফিরতি যাত্রা। রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যাচ্ছে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ভিড়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য সকাল থেকেই ট্রেন ও বাসে উঠছেন যাত্রীরা।

ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।তবে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। রাজশাহী রেল স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল আহসান জানান, এবারের ঈদে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের বড় শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটেনি। গত ২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ঈদের বিশেষ ট্রেন চলাচলের এ কর্মসূচি আগামী ৩ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।

যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এবারের ঈদ যাত্রা বেশ সফল ও নিরাপদ হচ্ছে।

তিনি আরোও জানান এবারের ঈদে ট্রেনগুলো বেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ মিনিটের মতো সামান্য বিলম্ব হলেও, তা পরবর্তী সময়ে সমন্বয় (মেকআপ) করে নেওয়া হয়েছে। কোনো বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ছাড়াই জনগণ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন ও যাতায়াত করতে পেরেছেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও রেলযাত্রায় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। এই চাপ এড়াতে ঈদের আগ পর্যন্ত ট্রেনগুলোর নিয়মিত ‘অফ ডে’ (সাপ্তাহিক ছুটি) বহাল রাখা হয়েছিল। এছাড়া ঈদের পর যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে প্রতিটি ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ট্রেনে একটি এসি এবং একটি শোভন চেয়ার কোচসহ মোট দুটি অতিরিক্ত গাড়ি বা কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এই বাড়তি কোচগুলোর কারণেই ট্রেনের ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং যাত্রীদের চাপ সফলভাবে কভার করা সম্ভব হচ্ছে।

শুধুমাত্র সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ছাড়া সকাল থেকে সময়মতো ট্রেন ও বাস ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।


সীতাকুণ্ডে চতুর্মুখী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২৫ যাত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ নারী নিহত হয়েছে আহত হয়েছে ২৫ জন । গত রবিবার রাত নয়টা চল্লিশে যাত্রীবাহী বাস, ডাম্প ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয় ।

গত রবিবার (৩১ মে) রাত নয়টা চল্লিশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দূর্ঘটনায় নিহত নারীর নাম জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের স্হানীয় মিয়ারজীপাড়া এলাকার জহুরুল আলমের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুত গতিতে বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা অতিক্রমকালে মহাসড়কে ওঠা একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জারিয়া বেগম বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায় । সাথে সাথে একইমুখী একটি ডাম্প ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশের মোহাম্মদীয়া বেকারির ভেতরে আংশিক ঢুকে পড়ে।

এতে বাস, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার যাত্রী, পথচারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে । এই ঘটনায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘক্ষন যানযটের সৃষ্টি হয়।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সীতাকুণ্ড এবং কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড সাস্হ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ডাম্প ট্রাক সরিয়ে যান চলাচলে স্বাভাবিক করা হয়েছে। রাতেই পলাতক চালকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।


তাড়াশে ​বিএনপি নেতা টুটুলের বাসায় চুরি: মালামালসহ চোর রনি মির্জা গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম আমিনুর রহমান টুটুলের বাসায় সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত মূল চোর রনি মির্জাকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিরাজগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রনি মির্জা তাড়াশ থানা পাড়া এলাকার মৃত সুলতান মির্জার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি নেতা এটিএম আমিনুর রহমান টুটুলের বাসায় একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোর চক্র বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই তাড়াশ থানা পুলিশ চোর শনাক্তকরণ ও মালামাল উদ্ধারে জোরালো অভিযানে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রনি মির্জাকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এই বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন, "বিএনপি নেতা টুটুল সাহেবের বাসায় চুরির ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করি। আমাদের চৌকস টিম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুরির রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ বিকেলেই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে চুরির রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুততম সময়ে চোর গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার হওয়ায় তাড়াশ থানা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।


দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ঝুমুর কর্মকার নামে বাংলাদেশি নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিতে ঝুমুর কর্মকার নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ঝুমুর কর্মকার নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার সময়ও ঝুমুর কর্মকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে অবস্থিত তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দোকান বন্ধ করার ঠিক আগমুহূর্তে একদল সশস্ত্র ডাকাত সেখানে অতর্কিতে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা দোকানে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ডাকাত দল ঝুমুর কর্মকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছানোর পর নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সাথে প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত ও সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


চাপ বেড়েছে ঘাটে, ২৪ ঘন্টায় ৪৩০১ যানবাহন নদী পার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

ঈদের আনন্দ শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার পালা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। আর সেই প্রভাব পড়েছে রাজবাড়ীর দৌলত‌দিয়া ঘাট ও ফেরিঘাটে।

সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যানজট ও পারাপারের সময় কমাতে বাসের যাত্রীদের আগে নামিয়ে আলাদা করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং খালি বাস ফেরিতে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌপুলিশ এবং ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।

বিআইড‌ব্লিউটি‌সি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ৪৯২টি যাত্রীবাহী বাস, ১৮১টি ট্রাক, ২৩৮৪টি মোটরসাইকেল ও ১২৪৪টি ছোট গাড়ি (মাইক্রোবাস) নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়েছে।

বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটু‌রিয়া নৌপথে ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

ঘাটে আসা যাত্রী ও চালকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।

বিআইড‌ব্লিউটি‌সি দৌলত‌দিয়া ঘাট সহকারী মহাব‌্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এই ধীরগতির স্রোত আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় আপাতত স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন ঘরমুখো থেকে কর্মমুখী হওয়া মানুষজন।


হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিকে মুক্তির দাবীতে থানা ঘেরাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে ডাকাত সর্দার ও চাঁদাবাজ সজিব হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলীমকে মুক্তির দাবীতে থানা ঘেরাও ও শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বালিয়াবিল এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলীম সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং পুটাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি।

এরপর সোমবার (০১ জুন) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি জানতে পেরে বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করে থানার সামনে অবস্থান নেন বালিয়াবিল এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষসহ এলাকাবাসী। তারপর দুপুরে তার মুক্তির দাবীতে মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কের বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেন তারা। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় সজিব হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ এলাবাকাসী। এরপর ঘরে ঢুকে সজিবকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরে এঘটনায় রোববার সন্ধায় নিহতের ভাই নাঈমুর রহমান রাজিব বাদি হয়ে ১০০ থেকে ১৫০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় জড়িত সন্দেহে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলীমকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

বালিয়াবিল এলাকার মোক্তার হোসেন ও নুরজাহান বেগম বলেন, নিহত সবিজ হোসেনের কারণে পুটাইল ইউনিয়নের মানুষ খুব অশান্তিতে ও বিপদে ছিল। সে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করতো। এছাড়া বিভিন্ন সময় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরাও খেয়েছে সজিব হোসেন। এলাকার ছোট থেকে বড় সবাই তাকে ভয় করে চলতো।

একই এলাকার শাহাজুদ্দিন বলেন, সজিবের কারণে ওর বাবা-মাও বিপদে ছিল। মাঝেমধ্যেই ওর বাবা-মাকে মারধর করতো। যে দিন এলাকাবাসী বাড়ি ঘেরাও করে, সেদিন ওর বাবা-মা সজিবের ঘরের তালা খুলে দিয়েছিল। যখন সজিবকে মারধর করে, তখন ওর বাবা-মাও বাঁধা দেয়নি।

এবিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো.ইকবাম হোসেন জানান, মামলার পর প্রাথমিক তদন্তে আব্দুল আলীম জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলীমের মুক্তির দাবীতে এলাকাবাসী থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, নিহত সবিজ হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা আছে।


banner close