প্রবেশপত্র না পাওয়ায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া দক্ষিণপাড়া ফজলুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শামীম চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ফরম ফিলাপের সময় বকেয়া এক হাজার টাকা না দেয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক তার প্রবেশপত্র আটকে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শামীম উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মৃত আব্বাস আলীর ছেলে।
শিক্ষার্থী শামীম জানায়, তার বিদ্যালয়ের সব এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের জন্য তিন হাজার টাকা করে নেন প্রধান শিক্ষক নুরুল হক। সবাই ফরম ফিলাপের টাকা দিলেও সে দুই হাজার টাকা দেয়। এক হাজার টাকা না দেয়ায় সব পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দিয়ে দিলেও শামীমের প্রবেশপত্র দেননি প্রধান শিক্ষক।
শামীম আরও জানায়, কয়েকবার প্রধান শিক্ষকের কাছে স্কুলে গিয়ে প্রবেশপত্র চাইলে তাকে বলা হয় বকেয়া টাকা নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকতে। কিন্তু কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে।
এ ব্যাপারে শামীম জানায়, ‘পরীক্ষা দিতে যাইয়া দেখি কোনো স্যার আসে নাই। পরে সওদাগর ভাইরে নিয়ে কয়েকটা কেন্দ্র ঘুরে স্যারকে পেলাম। তখন স্যার বললেন রাতে নিস। আমি বললাম রাতে নিয়া কী করমু। পরে স্যার কিছু না বলে চলে গেল।’
মা শিরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে। আমি অনেক কষ্ট করে ভাইয়ের বাড়িতে থেকে পোলাডারে পড়াইতাছিলাম। কিন্তু স্যার আমার পোলাডার সর্বনাশ করে দিছে। ১ হাজার টাকার জন্য আমার পোলারে এডমিট দেয় নাই। এর জন্য পোলা আমার পরীক্ষায় দিতে পারল না। ওর জীবনডাই শেষ। এক বছরের জন্য পিছায় গেল। এই ক্ষতি কে পোষাবে আমাদের। আমি সরকারের ওই শিক্ষকের বিচার চাই।’
শামীমের মামা আজাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ভাগিনা শামীমের বাবা নেই। তারা আমার ওখানে থাকে। তার কী অপরাধ ছিল যে পরীক্ষা দিতে পারল না। ১ হাজার টাকার জন্য আমার ভাগিনার এডমিট কার্ড দেয়া হয় নাই। এতিম ছেলেদের তো মানুষ এমনিতেই সাহায্য করে। সে পরীক্ষা না দিতে পারায় তার ভবিষ্যৎটা অন্ধকার হয়ে গেল। আমি সরকারের কাছে প্রধান শিক্ষক নুরুল হকের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ অভিযোগ পাওয়ার পর দৈনিক বাংলার তরফ থেকে মোবাইল ফোনে বারবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার ভাইকে দিয়ে তার ব্যাবহৃত মোবাইল ধরায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শামীম নামের ছেলেটার ফরম ফিলাপ বা এডমিট না পাওয়ার বিষয়টা আমাকে কেউ জানায় নাই। আমি বিষয়টা জানলে আমার পরিষদ বা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করতাম। আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ছেলের বাসায় এসে কথা বলে গেলাম। এই ঘটনাটি যদি প্রধান শিক্ষক করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রসাশনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাই।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানোর পরে তাদের উপজেলায় আসতে বলা হয়েছে। আর একটি অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো তারা কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
টেকনাফে কোস্ট গার্ডের মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি অভিযানে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজন মাদক কারবারি আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন নোয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাত ১০ টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন মায়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশকালে সন্দেহজনক ১ টি কাঠের বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটসহ তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন শীলবুনিয়া পাড়ায় একই দিন রাত ৮ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত ইয়াবা, বোট এবং আটককৃত মাদক কারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং এর পাশাপাশি অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ৩৭ জন ফেলোর হাতে সনদপত্র তুলে দেন সেনাপ্রধান।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গেও তারা জড়িত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সামরিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সিনিয়র প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং করপোরেট প্রতিনিধি।
সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় করেছেন।
এর ফলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের এসব সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটকে টাইম বোমার সঙ্গে তুলনা করে মৌলভীবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এই ইস্যুটি।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের জ্ঞান ও মেধাকে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের বাজার সম্প্রসারণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। তাই তরুণদের নিজেদের দক্ষ করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক মূল চিত্র অনুধাবন করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), ‘চোরগউসান ফর চিল্ড্রেন’ ও ‘এডুকো’-এর সহায়তায় এই মেলার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় নীতির সুফলের উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রযুক্তি ও জ্ঞান এনে বাংলাদেশের জনশক্তিকে পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও ব্যাংক ঋণসহ প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমেই আজকের পোশাক খাতের বড় ভিত্তি তৈরি হয়। একজন রাষ্ট্রনায়কের সঠিক নীতিগত সহায়তার সুফল পুরো অর্থনীতিতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি ও নতুন চাহিদার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার জন্য শুধু প্রথাগত চাকরির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। জাতীয় স্বার্থে তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদনের নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের লক্ষ্য যাতে জাতীয় স্বার্থমুখী হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নতুবা ব্যক্তি সাফল্য আসলেও তা রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে আসবে না।
এ সময় তিনি আয়োজক সংস্থা ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কারিকুলাম তৈরির সময় তরুণদের নৈতিকতা, ফিলোসফি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার আহ্বান জানান।
এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং ইএসডিও-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। এরপর হারিয়ে যান জীবনের ঘূর্ণাবর্তে। মানবপাচারের শিকার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরেছেন। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই পা। কেটেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। এ সময় পরিবার ধরে নিয়েছিল, ফরিদ হয়তো আর বেঁচে নেই।
কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন ফরিদ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তার একমাত্র অপেক্ষা কক্সবাজারের উখিয়ায় বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে দেখা করা।
ফরিদের ছোট ভাই সৈয়দ আলম বলেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছিলাম, ফরিদ আর বেঁচে নেই। কিন্তু এত বছর পর তাঁকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কক্সবাজারে আমাদের বৃদ্ধ মা বড় ছেলের অপেক্ষায় আছেন। আমরা গরিব মানুষ। জানি না কী হবে। তবে আমরা আমাদের ভাইকে নিয়ে থাকব।’
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান ফরিদ। পরে তারা পৌঁছান পাকিস্তানে। সেখানে জীবিকার সন্ধানে কাজ করার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসকদের তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে এক মানবপাচারকারী তাকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর পাকিস্তান থেকে ইরান হয়ে তুরস্কে পৌঁছান ফরিদ। কিন্তু ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
তুরস্কের সমুদ্রতীরে পানি বিক্রি করে প্রায় ১৪ বছর কাটিয়েছেন তিনি। অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে সেখানে বসবাসের সময় দেশটির পুলিশ তাকে তিনবার আটক করে ক্যাম্পে রাখে। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
গত ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে টিকে-৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। নিজের ও বাবা-মায়ের নাম এবং ‘উখিয়া, কক্সবাজার’—এই তথ্যটুকু ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারছিলেন না।
বিমানবন্দরের এভসেক সিকিউরিটি তাকে পাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করে। এরপর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান পান।
পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর গত বুধবার বিকেলে ভিডিও কলে ফরিদের সঙ্গে তার ছোট ভাই সৈয়দ আলমের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভাইয়ের কণ্ঠ শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদের হাতে ছয়টি আঙুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দ আলম। ছোটবেলার এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যই ফরিদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদের বাবা আয়ুব আলী এখনো পাকিস্তানে রয়েছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, ‘গত আট বছরে বিমানবন্দরে আমরা ৪১ হাজার প্রবাসীকে সহায়তা দিতে পেরেছি। এর মধ্যে ফরিদের মতো ১৬৪ জন প্রবাসীকে তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে কাউকে খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন কাজ। কিন্তু সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাকের সমন্বিত উদ্যোগে এমন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু পরিবারের কাছে ফেরানো নয়, ফরিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরও কিছু করতে চাই, যাতে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।’
ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ টি এম মাহবুবুল করিম বলেন, ‘মোহাম্মদ ফরিদের ঘটনা যে কাউকে স্পর্শ করবে। আমরা তার পাশে থাকব।’
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ফরিদের মতো জটিল ও মানবিক ঘটনায় ব্র্যাক পাশে থাকায় এমন একটি মানবিক পুনর্মিলনের সাক্ষী হওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এ কে এম রাসেল বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে বিমানবন্দরে কাজ করছি। আজকের এই পুনর্মিলন দেখে এবং এই প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’
দীর্ঘ ২৫ বছরের অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে আপন ঠিকানায় ফিরেছেন ফরিদ। এখন তার সামনে একটাই পথ উখিয়ার নাছির পাড়ায় ফিরে মায়ের মুখোমুখি হওয়া। যে মা এত বছর ধরে বড় ছেলের ফেরার আশায় দিন গুনেছেন, এবার সেই অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে।
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, তাদের ব্যাপারে যা যা করার আছে, তা নিশ্চয়ই করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাইকমিশনার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘খুব দুঃখের কথা। এ ব্যাপারে যা যা করার আছে, আমরা নিশ্চয়ই করব।’
সেখানে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, ঘটনার তদন্ত করা হবে কি না—সাংবাদিকরা এসব বিষয় জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো উত্তর দেননি।
পরে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। ভারতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ আমি ওঠাইনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন, এটা শুধু বলেছেন। তারা আশা করছেন তিনি যাবেন।’
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার। জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই একে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য ঐতিহাসিক ও গর্বের মুহূর্ত উল্লেখ করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন মুঠো ফোনে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে আমরা দেখছি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেন, প্রিয় নেতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরে ঠাকুরগাঁও আনন্দে ভাসছে। তার নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপির নেতা নন। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব। তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের একজন কৃতী সন্তান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন এটি নিঃসন্দেহে জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তার নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করছি।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ অর্জনে পুরো ঠাকুরগাঁও আজ আনন্দিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি যে অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন, তা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঠাকুরগাঁও জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল এবং নেতাকর্মীদের পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।
কলেরা প্রতিরোধে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সি সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। এ কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রসঙ্গত, ভাইবরিও কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর মহানগরের সদর এলাকার কাউলতিয়ায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা জোরদার ও মাদক নির্মূলে কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সদর মেট্রো থানাধীন মাস্টারবাড়ী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে নতুন ক্যাম্পটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার। তিনি ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানা থেকে এই এলাকা দূরবর্তী হওয়ায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হতো। এখন আশা করা যায় পুলিশ যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার ছেলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন মহানগরীর সালনা থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ অঞ্চলে স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার।
স্থানীয়দের এই দাবি প্রেক্ষিতে গাজীপুর-২ আসনের সংষদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ও মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমে সালনা, পোড়াবাড়ী, কাউলতিয়া, মাস্টারবাড়ী ও এর আশেপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জোনের উপপুলিশ কমিশনারবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
শিক্ষার আলো যেন কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে নিভে না যায়-এই মানবিক অঙ্গীকার থেকে নীলফামারীতে এক অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
নীলফামারী সদর উপজেলার বাহালীপাড়ার শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলাম পারিবারিক প্রতিকূলতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেও অধ্যবসায়ের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে একটি সাইকেল প্রদান করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামের হাতে সাইকেলটি তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে সামান্য সহযোগিতাও অনেক বড় প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। আর্থিক কিংবা পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সবসময় মানবিক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামের শিক্ষাজীবনে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন সময়োপযোগী সহায়তা ভবিষ্যতে একটি শিক্ষিত, সম্ভাবনাময় ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কথা ছিল ১৬ তারিখে বিয়ে করবেন। বিয়ের কথা শুনে কিনেছিলেন জুতা, জামা, সঙ্গে নিয়েছিলেন প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু এই বিয়েই যে তার জীবনের কাল হবে তা জানতেন না মেরিনা বেগম। নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূকে হত্যার পর নৃশংসভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ধামইরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক রহমান (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) শরিফুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত পরশুদিন, অর্থাৎ ১৮ই আগস্ট সন্ধ্যায় আমি গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) মাধ্যমে জানতে পারি একটা পোড়া লাশ ধামইরহাট থানার আমবাগানের মধ্যে পড়ে আছে। সাথে সাথে আমি অফিসার ইনচার্জ, ধামইরহাট থানাকে বড় টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও (পত্নীতলা সার্কেল) ঘটনাস্থলে পাঠাই। তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং এই বৃষ্টির মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে যায়। অলৌকিকভাবেই হোক আর যাই হোক, যিনি মারা গেছেন, তারই সন্তান ওই একই সময়ে ধামইরহাট থানায় এসেছে তার মায়ের মিসিং জিডি করার জন্য। যিনি মিসিং জিডি করেছেন, তার সাথে যখন কথা বলে, তখন জানতে পারে যে তার মায়ের নাম মেরিনা বেগম। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে থানা থেকে প্রায় ২৪-২৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পৌঁছায়। পুলিশ সেখানে যেয়ে দেখতে পায় যে একজন মধ্যবয়সি মহিলার আগুনে পোড়া মরদেহ। তার পাশে ছড়িয়ে আছে তার ব্যবহৃত জিনিস-বিশেষ করে প্রসাধনী সামগ্রী এবং পরিচয়পত্র।
পুলিশ সুপার বলেন, এরপরে যে ব্যক্তি থানায় ডায়েরি করতে এসেছিল, তিনিও পুলিশের গাড়ির পেছনে পেছনে বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিলেন। এসে এই লাশ দেখে-বিশেষ করে এনআইডি কার্ডটা পড়েছিল, সেটা দেখে তিনি শনাক্ত করেন যে তার মা। তিন-চার দিন আগে বের হয়ে গিয়েছিলেন এবং এই লাশটা তার মায়ের। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টা আমরা সিআইডি এবং পিবিআইকে অবহিত করি এবং বিষয়টা আমরা খুব গুরুত্বের সহকারে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফের নেতৃত্বে কাজ শুরু করি। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত এবং ডাটা বিশ্লেষণ করি কয়েক ঘণ্টা। কয়েক ঘণ্টা ডাটা বিশ্লেষণ করে আমাদের কয়েক জনকে সন্দেহ হয়। এই সন্দেহের ভিত্তিতে আমি শরিফকে অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেই। মধ্যরাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অপর আসামি তারেক রহমানকে (২১) গ্রেপ্তার করি। এই দুজনকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক মুহূর্তে তারা আমাদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে এই দুজন ছাড়াও আরও দুজন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ছিল। মেরিনা বেগমের ছেলে কাউসার আলী এবং তার স্বামী হাসেন আলী জীবিকা নির্বাহের জন্য কুমিল্লায় থাকেন। গত ১৪ আগস্ট মেরিনা বেগম বাসা থেকে বের হয়ে যান। বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মাকে না পাওয়ায় আবার কুমিল্লা থেকে দ্রুত বাড়ি চলে আসে।
পুলিশ বলেন, ‘ভিকটিম মেরিনা বেগমের সাথে সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে। সম্পর্ক যখন খুব গভীর হয়ে যায়, তখন মেরিনা বেগম তাকে বিয়ের জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছিল এবং বলে যে, ‘‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।’’ তখন এই মেম্বার তাকে বলে যে ‘‘ঠিক আছে, আমি আগামী ১৬ তারিখে তোমাকে বিয়ে করব।’’ ওই মহিলা বিয়ে করার কথা মনে করে এই প্রসাধন সামগ্রী (কসমোটিকস, চিরুনি, এনআইডি কার্ড) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে।
ওইদিন মেরিনা বেগম বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আর এর মধ্যে আসামি বাবুল, তারেকসহ বাকি দুজনকে মেরিনাকে নেওয়ার জন্য শাহাপুর ইউনিয়নে পাঠায়। শাহাপুর থেকে মেরিনাকে অগ্রাদিগুণ বাজারে রাত আনুমানিক ১০টার সময় নিয়ে আসে। এরপরে তারা অগ্রাদিগুণ বাজার থেকে একত্র হয়ে ঘটনাস্থল মনিহারি টু তালপুকুরগামী পাকা রাস্তার মাঝামাঝি দাঁড়ায়। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা রেখে রাস্তা থেকে ৩০০ ফিট দক্ষিণের দিকে ভলকাডাঙ্গা নামে একটা বড় আমবাগানের ভেতরে তাকে অনেকটা জোর করে, ধাক্কাধাক্কি করে নিয়ে গিয়ে বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে দুজন দুই দিকে টান দেয়। তারপর ভদ্রমহিলা পড়ে গেলে, তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা এটা টানতে থাকে। একপর্যায়ে তারা যখন মনে করে যে মারা গেছে, তখন আশেপাশের খরকুটো সংগ্রহ করে এবং বাবুল মেম্বার পেট্রোলগুলো গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তারা যার যার উদ্দেশে চলে যায়।’
এদিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ভগ্নিপতিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মামুনুর রশিদ ইসমাইল হোসেনের আপন ভগ্নিপতি ছিলেন। তিনি যখন ফজরের নামাজ পড়ে আসছেন এই সময় ইসমাইল হোসেন ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। পরবর্তীতে মামুনুর রশিদ চিকিৎসা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার পর থেকে ইসমাইল হোসেন পলাতক অবস্থায় ছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে মহাদেবপুর থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী মা ম্যা চিং। তাঁকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, চনুমং, মং ক্যনু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই ম্রো, আগস্টিন ত্রিপুরা, অংজাই ইউচাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, ক্যউ প্রু খিয়াং ও কাজী নিরুতাজ বেগম।
মা ম্যা চিং বান্দরবান জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৭সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়ীত্ব পালন করেছিলেন।
এ ছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এই নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। সিটি করপোরেশন পরিচালনায় সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট বিষয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, আসন্ন বাজেট হবে বাস্তবভিত্তিক। গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে থাকায় বাজেটের আকার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, সরকারি প্রকল্প কমলেও গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে নিজস্ব রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন বাজেটে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রয়ের জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার বিষয় উপস্থাপন করে বলেন, সকলকে একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং খুলনাকে একটি সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ওপর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) এম এম শামিমুজ্জামান, খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা, কেডিএর উপপরিচালক (বাজেট ও নিরীক্ষা) মো. মামুনুল আবেদীন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইমরান হাসান, বিটিসিএল-এর ডিজিএম মো. বেনজুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামসহ য়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুরে দশ বছর পর আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরে ওই বছর ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল।
সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাট খেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাট খেতে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাতিজা স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। এ ছাড়া চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেড়ে আসামিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।