রাজশাহীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মারা যাওয়া ওই নারী ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। তার বয়স ৪৭ বছর।
শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকের করোনা ইউনিটে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তিনি হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে (মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ২৪ শয্যাবিশিষ্ট এই ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১১ জন। যেখানে সোমবারও ১১ জন রোগীই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬ জন। করোনা নেগেটিভ হয়েও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২ জন। গত একদিনে কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার তথ্য মেলেনি।
এদিকে গতকাল সোমবার রামেক হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ জেলায় করোনা শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং দুই দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ওই বিশেষ প্রতিনিধিদল।
ব্রিটেন পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস্টার শকাত আদম ও লর্ড কুরবান হোসেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে পার্লামেন্ট-টু-পার্লামেন্ট সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কল্যাণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলের ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করছে। আমাদের রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন নেই; আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করেন।’
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় এক নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর যেকোনো অস্থিতিশীলতা রোধে এবং বিশেষ করে দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে থেকে সহায়তা করেছে।’
বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার নিদর্শন হিসেবে দুর্গাপূজার ব্যাপ্তি তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও চলতি বছর মণ্ডপের সংখ্যা আরও প্রায় ৫ হাজার বাড়তে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন যে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত ৪ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধার্থে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উচ্চপর্যায়ের এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম ও যুগ্ম সচিব ইলিয়াস সুমনা উপস্থিত ছিলেন।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভ্রাম্যমাণ দোকান বলতেই সাধারণত চোখে ভেসে ওঠে চা, জুস, ফাস্টফুড কিংবা কাপড়ের পসরা। কিন্তু কখনো শুনেছেন ভ্রাম্যমাণ ফটোকপি-কম্পিউটারের দোকান? হয়তো না। তবে এটা হয়। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনের চিত্রটা একটু এই রকমই। এখানে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি দোকান বসে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে।
সকাল ৯টায় দোকান বসে। সঙ্গে আসে কম্পিউটার, ফটোকপির মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা শেষ হলে আবার সব গুটিয়ে নিয়ে চলে যান দোকানিরা। পরদিন সকালে ফিরে আসেন একই জায়গায়।
আশপাশে ঘুরে এখানে দেখা মিলল ৬-৭টি ভ্রাম্যমাণ দোকানের। ছয়টি পাশাপাশি, আরেকটি কিছুটা দূরে। ঠিক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনে। আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাসপোর্টপ্রত্যাশীসহ নানা মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে উঠেছে এসব দোকান।
মো. সাব্বির। যদিও ব্যবসাটি তার বাবার। তবে তার অনুপস্থিতিতে বুধবার কথা বলেন সাব্বির। তাদের শুরুটা অবশ্য কম্পিউটার বা ফটোকপি দিয়ে নয়। প্রথমে এখানে ফলের জুস বিক্রি করতেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস জুসের দোকান চালানোর পর শুরু করেন চায়ের ব্যবসা। পরে সেই দোকানের সঙ্গে যোগ করেন ফটোকপির কাজ। এখন একই দোকানে চা ও ফটোকপি—এই দুই সেবাই দিচ্ছেন সাব্বির ও তার বাবা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই জায়গায় দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আশপাশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফটোকপি ও অন্যান্য সেবার চাহিদাও রয়েছে। ব্যবসা ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘এই ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিদিন কাজের শুরুতে ফটোকপির মেশিনটা নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। তবে চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানেই থেকে যায়।’
একটু দূরেই বসেছেন আরেক দোকানি নিজামউদ্দিন। তার ব্যবসার বয়স এক বছরের বেশি। তার দোকানে কম্পিউটারের কাজ ও ফটোকপি করা হয়। পাসপোর্ট করতে আসা মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তার সেবা নেন।
নিজামউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সকালে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে আসেন তিনি। অফিসের সময় শেষ হলে আবার সেগুলো নিয়ে চলে যান। পরদিন ফের মেশিন নিয়ে হাজির হন। এভাবেই চলছে তার ব্যবসা।
নিজামউদ্দিনের পাশের দোকানির সঙ্গে কথা হয়। তবে তিনি নাম বলেননি। আবার প্রথম দিকে সাংবাদিক পরিচয় শুনেও ভয় পান। বলেন, ‘পুলিশ এখন ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করছে। যদি কিছু হয়, তাহলে এই ব্যবসা চলে যাবে।’
পরে আশ্বস্ত করলে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে আপাতত এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছি। মোটামুটি ভালোই চলছে সবকিছু।’
প্রতিদিন মেশিন কোথায় রাখেন এবং কীভাবে নিয়ে আসেন এই প্রশ্নের জবাবে দোকানি মো. সাব্বির বলেন, ‘ফটোকপির মেশিনটি যে ঠেলাগাড়ির ওপর আছে ওটাতেই নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। শুধু চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানে থাকে।’
নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘টেবিলটা রেখে যাই। তবে, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো রিকশায় নিয়ে যেতে হয়। আবার নিয়ে আসি।’
দোকানি শরিফুল, নাজিমুদ্দিন ও সাব্বির বলেন, ‘পাশের দোকানের মিটার থেকে লাইন নিয়েছি। এ জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া লাগে। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করি না।’
দোকানে দৈনিক গড়ে কতজন গ্রাহক আসে এবং আয় কত? এটা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। তবে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৮০০ টাকা ইনকাম করেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এখানে দোকান বসানোর কোনো অনুমতি আছে কি না আর কখনো উচ্ছেদ করা হয়েছে বা উচ্ছেদের নোটিশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দোকানি শরিফুল বলেন, ‘দোকান বসানোর কোনো অনুমতি নেই। হঠাৎ হঠাৎ পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়। আবার এসে বসি। আমরা তো অফিস শেষ হলে চলে যাই। অন্য দোকানের মতো রাত পর্যন্ত থাকি না। পরিবেশও নষ্ট করি না।’
এই এলাকায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কথা হয় নাসিফ আহমেদ নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত থেকে এসেছি। ব্যাংকে একটা চালান দিতে হবে। জরুরি কিছু কাগজ ফটোকপি করার প্রয়োজন ছিল। এখানে ফটোকপির দোকান পেয়ে ভালোই হয়েছে। তবে, অন্য জায়গার থেকে খরচ একটু বেশি।’
শাহাদাত হোসেন নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘একটা অফিসে এসেছি কাজের জন্য। সেই অফিস থেকে কিছু কাগজ জমা দিতে বলল। যেগুলোর কপি আমার কাছে ছিল না। তাই এখান থেকে কাজটা করিয়ে নিলাম।’
তবে ব্যস্ততম এই অফিস এলাকায় এমন দোকান প্রয়োজনীয় হলেও এসব দোকানের অনুমোদন আছে কি না সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ও বিভিন্ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, ‘রাজনীতি থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।
পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে নিজেদের নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর সরকারি ব্রজলাল কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর খুলনা বিভাগীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।
অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোনে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
তিনি জানান, দুপুর ২টা ২ মিনিটে বাসটির আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরও ফায়ার সার্ভিস পায়নি বলে জানান ডিউটি অফিসার।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ অন্তত ১০ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার ১৪ জন ঠিকাদার।
গত ২১ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ১৪ জন ঠিকাদারের স্বাক্ষরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছেও।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগ উঠেছে।
একদিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিন বিল:
ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী অন্তত ৩৫টি কাজ ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ এলটিএমে করার কথা, সেখানে অধিকাংশ কাজই ওটিএমে করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ না করে পছন্দের কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এলটিএমে যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ঠিকাদার অংশ নেন, সেখানে ওটিএমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫ থেকে ৭ জনে নেমে আসে।
ঠিকাদারদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর একটি ঘটনা কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজ নিয়ে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন এসব কাজের জন্য ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পরদিন ২২ জুনই চুক্তিপত্র সম্পন্ন করা হয়। এর পরদিন ২৩ জুন কাজের বিলের চেক দেওয়া হয়। ২৭টি কাজই পাঁচজন পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত করে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা কমেছে এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আগের অর্থবছরেও একই অভিযোগ:
২০২৫-২৬ অর্থবছরেও পিপিআর অনুসরণ না করে এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে কাজ ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদারকে এসব কাজ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওই অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তার নিজ জেলা নাটোরে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
সরকারি বাসা সংস্কারেও অনিয়মের অভিযোগ:
কিশোরগঞ্জে যোগদানের পর সরকারি বাসা সংস্কারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।
তাদের দাবি, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ করে ‘সিকিউরিটি’ নেওয়া হয়েছে এবং এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
চলতি বছর ঈদুল আজহার আগে ঢাকার এক পরিচিত ঠিকাদারের নামে নয়টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।
মডেল মসজিদ, মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন ও বিভিন্ন থানা ভবনের কাজ পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল পরিশোধ এবং মিঠামইন শিল্পকলার বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিংয়ের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অফিসে অনুপস্থিতি ও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ:
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রায়ই ‘ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন’ বলে জানানো হয়।
সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকা ও নাটোরে যাতায়াত করেন। ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছুটি অনুমোদন না পেলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজে সময় দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কোয়ার্টার সংস্কার না করায় দখলের শঙ্কা:
সরকারি সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাট গবেষণা এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের কোয়ার্টারে ছয়টি পরিবার বসবাস করত। বসবাসের উপযোগী রাখতে কোয়ার্টারটি সংস্কার করা প্রয়োজন হলেও তা করা হয়নি। ফলে কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং জায়গাটি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।
অভিযোগগুলো মনগড়া ও ভিত্তিহীন দাবি নির্বাহী প্রকৌশলীর:
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তার দাবি, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঠিকাদারদের মধ্যে দু-একজন তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে আগেও তদন্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তদন্তে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মাত্র গ্রামের নাম ছাগলছিড়া। গ্রামটি জেলার পূর্বপাশের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। গ্রামের সীমানায় যুক্ত হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়াপাড়া বাজার এবং ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃঞ্চপুর গ্রাম।
তিন জেলার সীমান্তে যুক্ত হয়েছে মধুমতি নদী। নদীর তীরে ছাগলছিড়া গ্রামের অবস্থান। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান একেবারেই অনুন্নত। প্রতি বছর মধুমতির ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখানকার মানুষ স্বপ্ন দেখা ভুলেই গেছে। আধুনিকতার জীবনযাপনের ছোঁয়া না পাওয়ায় চিন্তা-ভাবনায়ও সেকালের রয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ইউনিয়নের এক প্রান্তে অবস্থিত। ইউনিয়ন ভূমি অফিসও তাই। মধুমতি নদী ইউনিয়নের এই গ্রামটিকে মূল ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ইউনিয়নের খাজনাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবাগ্রহণে এই গ্রামের মানুষকে সড়কপথে গোপালগঞ্জ জেলার ভাটিয়াপাড়া হয়ে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। আর নয়তো দেড় কিলোমিটার চওড়ার খরস্রোতা মধুমতি নদী পাড়ি দিয়ে পরিষদে আসতে হয়। দিন শেষে জনপ্রতি প্রায় তিন থেকে চারশ টাকা খরচ হয়।
গ্রামের মধ্য দিয়ে যে ইটের সোলিংয়ের রাস্তা বয়ে গেছে দেখে মনে হয় ব্রিটিশ আমলে এই রাস্তা করা। ভেঙেচুরে খানাখন্দে একাকার। বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তা মধুমতিতে চলে গেছে। রাতের বেলায় রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে চাইলে হোঁচট খেতে হয়। দুর্ভোগের কারণে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও ঠিকমতো স্কুলে যেতে চায় না। প্রতিনিয়ত এমন জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামে বসবাসকৃত প্রায় পনেরো হাজার মানুষ।
এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময়ে ৭০০ থেকে ৮০০ পরিবারের বাস ছিল এই গ্রামে। নদী ভাঙনের কারণে বেশিরভাগ পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ১৪০টি পরিবার। জাতীয় কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একমাত্র ভোটকেন্দ্র ছাগলছিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
দুর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্রামবাসী ভূমি অফিস ইউনিয়নের মধ্য স্থানে প্রতিষ্ঠা এবং মধুমতি ভাঙন প্রতিরোধে ভাঙনস্থলে সিসিব্লক ফেলে গ্রামবাসীকে রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের দাবি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে একটি নির্দিষ্ট দিনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কর্মকর্তা এই গ্রামে এসে সব ধরনের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
ছাগলছিড়া গ্রামের বয়েজেষ্ঠ মহিলা ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমাদের খবর কেউ রাখে না। কেউ খোঁজও নেয় না আমরা বেঁচে আছি না মরে গেছি। নদীভাঙনের এই বিপদের দিনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা ভোটে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধিও আমাদের দেখতে আসেনি। সাহায্য সহযোগিতা তো দূরে থাক ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এক নদীভাঙনেই সবাইকে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে।’
ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নয়ন মোল্যা বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটেমাটি সবই নদী গিলে খাচ্ছে। এবারও প্রায় তিনশ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ’১২-১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। দিন শেষে কোনো কোনো দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।’
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার মো. তাহাজ্জত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নবাসীর জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছি। আশা করছি জেলা প্রশাসক ইউনিয়নবাসীর জনদুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করবেন।’
লোহাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে নতুন করে কোনো অফিস চালু করবেন কি না তা বলতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। অফিসটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে হলে সকলের জন্য ভালো হয়। তবে বর্তমান সময়ে ভূমি কর পরিশোধ করতে ভূমি অফিসে আসা লাগে না। অনলাইনের মাধ্যমে ভূমি কর পরিশোধ করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে আমি একদিন ওই গ্রামে যেয়ে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।’
একসময় চরমপন্থিদের রক্তাক্ত তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। সেই পুরোনো আতঙ্কই যেন নতুন করে ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে খুলনায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাশাপাশি দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দুজনকে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিঘলিয়ায় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিম (৫৫) এবং সোমবার (৫ অক্টোবর) রূপসার দুর্জনীমহল গ্রামে বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী (৫৮) নিহত হন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনাকেই ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফরমাইশখানা এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে একটি দোকানে চা পান করার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নাসিম। হত্যার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে নাসিমের স্ত্রী মোসাম্মাৎ সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফরমাইশখানা এলাকায় ভৈরব নদকেন্দ্রিক জ্বালানি তেল পাচার চক্রের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নাসিমের বিরোধ ছিল। স্থানীয় একটি গ্রুপের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব ছিল। এ দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। কয়েক দিন আগে ‘ঠাণ্ডা পীর’ নামে পরিচিত এক শীর্ষ চরমপন্থির ছেলের সঙ্গে নাসিমের বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর মধ্যেই সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকায় ঢালী বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৫ আগস্ট আক্তারের বড় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার বাদী ছিলেন আক্তার। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জিডি করেন আক্তার। সেখানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
জিডিতে আক্তার উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সেনের বাজারে কর্মরত অবস্থায় মুনজিল শেখ, মোরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যাসহ কয়েকজন তাকে একপাশে ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং হত্যার ভয় দেখায়। জিডিতে তিনি আরও বলেন, তার ছেলের হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে এবং জানমালের ক্ষতির হুমকি দিচ্ছে। তিনি নিরাপত্তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
এসপি বলেন, আপাতত এই হুমকির বিষয়টিকেই সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। এটিও ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খুলনায় বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন পেশাদার কিলারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে; তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহত আক্তারের ছোট ভাই দিনমজুর আতাউল ঢালী বলেন, তার ভাই রূপসার সেনের বাজারে বাসের কলারম্যান ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। ভাইপো জয় হত্যা মামলার বাদী হওয়ার কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং না থাকলেও গুলি করার সময় বাড়ির ভেতর ও বাইরের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। এখন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে রূপসা ও দিঘলিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে নিষিদ্ধ চরমপন্থিদের নতুন করে উত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, একসময় রূপসা-দিঘলিয়ায় ‘লাল পতাকা’, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ও পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)সহ বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের দৌরাত্ম্য ছিল। পারস্পরিক বিরোধে প্রায় প্রতিদিনই হত্যাকাণ্ড ঘটত। সেই পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। এই পরিস্থিতির মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেবল মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পটভিত্তিক লার্ভিসাইডিং এবং দেশব্যাপী একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মশার ঘনত্ব বিবেচনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিতে পারে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে রোগী কমলেও এবার সেই সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর কাজের তাগিদ থাকলেও এডিস মশার মূল প্রজননস্থল লক্ষ্য করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তাই এডিস ইজিপ্টাই ও অ্যালবোপিকটাস মশার ডিম পাড়ার জায়গা ধ্বংস করে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ওষুধ ছিটানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার 'ক্লিনিং ডে' পালন, চিরুনি অভিযান এবং এডিস মশার ১২ দিনব্যাপী লার্ভা জরিপ ২০২৬ পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানান, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, পূর্ববর্তী আশঙ্কা ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সবার সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে বুধবার সকালে চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।
বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’
এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ১৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল থানার উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার পাল।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’ কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি মন্দির কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি অজয় কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী ছোটন, শিক্ষক কল্যাণ দেব ও উপজেলা পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব বসন্ত গোয়ালাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে।
বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।
শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’
প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’