গাজীপুর মহানগরের পুবাইলে রিসোর্টের পুকুরে ডুবে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর দেড়টায় মেঘডুবি এলাকার সাবরিনা ড্রিম রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই দুই বন্ধু হলেন, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার মধ্য আরিচপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মো. হামিম হক (১৫) ও একই এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে মো. নোমান (১৫) । তারা টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির কারিগরি বিভাগের শিক্ষার্থী।
রিসোর্টটি গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিনের নিজ বাড়িতে অবস্থিত। দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি রিসোর্টে ছুটে আসেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকা থেকে ১০/১৫ জন কিশোর-তরুণ সাবরিনা ড্রিম রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কে পিকনিকে যায়। দুপুরে হামিম ও নোমানসহ বন্ধুরা কয়েকজন গোসল করতে নামে। কিছু সময় পর সাথে থাকা বন্ধুরা হামিম ও নোমানকে দেখতে না পেয়ে পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যাওয়া হামিমকে উদ্ধার পার্শ্ববর্তী পুবাইলের করমতলা কমিউনিটি হাসপাতালে ও নোমানকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হামিমের বাবা আজিজুল হক বলেন, সকালে হামিম স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু সে স্কুলে না গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে রিসোর্টে ঘুরতে যায়। হামিম সাঁতার জানতো না। গোসল করতে নেমে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দুটি বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
বরগুনার তালতলী উপজেলার লোকমান হোসেন হাওলাদারের ওয়াকফা স্টেটের জমির রোপন কৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব তালুকদার ও আব্দুল সত্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে।
জানাগেছে, উপজেলার পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের লোকমান হোসেন তার ১৭ একর জমি ১৯৯২ সালে ওয়াকফা দলিল করে যান। ওই সময়ে ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি নিযুক্ত হন মোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার। ৩৪ বছর ধরে ওই জমি মোতায়ালি ভোগদখল করে আসছেন। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে কালু, সহ সভাপতি আব্দুল সত্তার, হামেজ মৃধা, নাসির মৃধা, জসিম মৃধা, রফিজ প্যাদা, নাসির মাষ্টার ও জুয়েলসহ ৩০/৪০ জন ভুমিদস্যু ওয়াকফা ষ্টেটের ওই জমিতে হাইব্রিড ধানের রোপনকৃত চারা উপরে ফেলে ফের চাষাবাদ করেন।
রোপনকৃত জমিতে চাষাবাদে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। এসময় রেশমা বেগম নামের এক নারী আহত হয়। প্রাণ ভয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আহত রেশমা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ।
জমির মোতায়ালি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার বলেন, লোকমান হোসেন হাওলাদার ওয়াকফা স্টেটের আমি মোতায়ালি। ওই জমি আমি গত ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে কালু ও আব্দুল সত্তারের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভোগদখলে থাকা জমির রোপনকৃত হাইব্রিড ধানের চারা উপরে ফেলে চাষাবাদ করেছে। আমি এতে বাধা দিলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার স্বজন রেশমা এগিয়ে গেলে তারা তাকে মারধর করে।
আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে (কালু) বলেন, কবলা দলিল মূলে আমরা ওই জমির মালিক। আমাদের জমির ধানের চারা রোপন করেছে আমরা ধানের চারা উপরে ফেলেছি।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি জেনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর মহাদেবপুর হাট ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কামাল হোসেন নামের এক ইজারাদার। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাদেবপুর হাটের নির্ধারিত জায়গা বুঝে না পাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগীর ধারণা, লোকসানের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
জানা যায়, মহাদেবপুর হাট সপ্তাহে দু’দিন বুধবার ও শনিবার বসে। এর মধ্যে গরুর হাট বসে সপ্তাহে একদিন শনিবার। হাটটি ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ২ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকায় ইজারা নেন কামাল হোসেন। ইজারা নেওয়ার পর থেকেই হাটের জায়গা বুঝে পাওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ইজারার মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও তাকে অফিসিয়ালভাবে হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
কাজেই এই হাট ইজারা নেওয়ার পরপরই লোকসানের আশঙ্কা শুরু হয় ইজারাদার কামাল হোসেনের। প্রায় এক যুগ ধরে যেখানে ছাগলের হাট বসত, সেই সরকারি জায়গায় নতুন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ শুরু হওয়ায় ছাগলের হাট বসানো নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অপরদিকে, পূর্বে ব্যবহৃত গরুর হাটের জায়গাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি ঘিরে নেওয়ার কারণে। ফলে বর্তমানে বড় আকারের গরুর হাটটি কোনো রকমে টিকে আছে। সরেজমিনে জানা যায়, ধানের অন্যতম বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত মহাদেবপুর উপজেলা। এখানে বেশ কয়েকটি বড় ধানের হাট রয়েছে, তার মধ্যে মহাদেবপুর হাট অন্যতম। সপ্তাহে বুধবার ও শনিবার এখানে ধানের হাট বসে। তবে নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আঞ্চলিক প্রধান সড়কের ওপরই বসে ধানের বাজার, যা চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
আর ধানের বাজারের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় টোল আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ইজারাদার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। যার কারণে একাধিকবার আবেদন করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার।
আরও জানা যায়, ইজারার চুক্তি সম্পন্ন হয় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। অথচ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১৩ এপ্রিল। আবার হাটের জায়গা বুঝে নিতে ইজারাদার গত বছরের ২৫ মে ও ১৫ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পায়নি। উল্টো, ছাগলের হাট বসা জায়গায় নতুন করে ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। যদিও জায়গাটি ভূমি অফিসের। অথচ গত এক যুগ থেকে এই জায়গায় ছাগলের হাট বসতো বলে জানালেন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ও বিপ্লব দাস নামের স্থানীয় বাসিন্দা।
এদিকে, সংকুচিত হওয়া গরুর হাটের জায়গায় ব্যবসা করতে এসে চরম ভোগান্তির কথা জানান পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি ৩৭ বছর ধরে মহাদেবপুর হাটে ব্যবসা করছি। বর্তমানে গরুর হাটের জায়গায় আমরা ১৭ জন ব্যবসা করছি। জায়গা এতটাই কম যে হাটের দিন গরু, ছাগল, দোকান আর গাড়ির ভিড়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।” আগে অন্য জায়গায় ছিলাম। এই জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও কষ্ট করে ব্যবসা করতে হচ্ছে।
ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, সরকার চাইলে সহজেই হাটের জায়গা বাড়াতে পারে। আশপাশে অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে, যেগুলো অধিগ্রহণ করা সম্ভব। যুগের পর যুগ এই এলাকায় বড় গরুর হাট বসে আসছে এবং ঐতিহ্যবাহী এই হাট থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। হাটের জায়গা বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ইজারাদারদের নির্ধারিত টোল আদায়ও স্বাভাবিক হবে। অন্যথায় ইজারাদারদের লোকসানে পথে বসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই হাট ইজারা দেওয়ার সময় আইনে "তোহা বাজার" মানে তরকারি ও ধানেরসহ একাধিক বাজারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে "তোহা" বাজারে (ধানের বাজারের) কোনো জায়গা নেই। তারপরও উপজেলার পশু হাসপাতালের সামনে প্রধান সড়কে বসে ধানের বাজার। যা আইনসম্মত নয়। কারণ জনদুর্ভোগ হয় এমন কোনো জায়গায় হাট বসানো যাবে না। বর্তমানে এই হাটে কোটি টাকার উপরে লোকসান হবে। এছাড়া ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া আছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ধানের হাট রাস্তায় বসে। রাস্তায় বসানোর নিয়ম আছে। আগে থেকেই বসছে। আর রাস্তায় বসে এরকম এক'শ টি হাট দেখাতে পারবো। তারপরও এখানে রাস্তা সুন্দর হওয়ার কারণে হাটের দিন একদিকে বন্ধ রাখা হয়।
ইউএনও বলেন, হাট ডাকের সময় চিন্তা করা উচিৎ ছিল ইজারাদারের। আর গরুর হাটের জায়গা কমে যায়নি। তবে ছাগলের হাটে ভূমি অফিস হচ্ছে। যেটা আগে থেকেই জানতো তিনি। এছাড়া জামানত না দেওয়ার কারণে হয়তোবা চুক্তিটা দেরিতে করা হয়েছে।
ফুল বেলপাতা আর পবিত্র মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরানো ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবী সরস্বতীকে সুরের দেবী, জ্ঞানের দেবী বিদ্যার দেবী বলে আনা হয়। সরস্বতীর পায়ে অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উৎসবটি পালন করে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে মেডিকেল কলেজ, সরকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়, মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সহ চার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় অঞ্জলি প্রদান শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনটিকে ঘিরে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মাগুরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তমা বলেন, প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। এই দিনে আমরা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে একে অপরকে রং দিয়ে দিনটি উদযাপন করি। এবং দেবী মায়ের আশীর্বাদ নেই যেন সারা বছর আমরা লেখাপড়া ভালোভাবে করতে পারি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খানের জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাদ জুমা সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ কবরস্থান মাঠে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর ৮৯ বছর বয়সী এই গুণী ব্যক্তিত্বকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মামাতো ভাই লিয়াকত আলী জানান, ‘গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় ১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাড়িতে বাধ্যর্কজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।’
এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন কর্মজীবনে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও নীতিবান কর্মকর্তা। তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। আর্থিক খাতেও তাঁর পদচারণা ছিল উল্লেখ করার মতো; তিনি অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং বেসিক ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের সমাজকল্যাণ মোড় এলাকার প্রয়াত শিক্ষক কোব্বাদ আলী খানের এই সন্তান ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও কানাডায় বসবাসরত দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে আরও দুটি ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এই ইউনিটের ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যায়। এতে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিট বন্ধের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, কেন্দ্রের অপর দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে।
পরে প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা করে মেরামত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে গত বুধবার রাত থেকে ইউনিটটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর আগে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে না পারলেও নূন্যতম ১ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল।
কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হলেও বাকি দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু করতে চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসছে। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হতে পারে তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন– এমনটি বলছে কর্তৃপক্ষ। আর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে এখনও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রথম ইউনিট ও তৃতীয় ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে নভেম্বর থেকেই কাজ চলছে। আগামী ইরি-বোরো মৌসুম এবং নির্বাচনে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা না হয় সেই টার্গেট রয়েছে। তবে যন্ত্রাংশের জটিলতার কারণে প্রথম ইউনিটে সমস্যা হয়েছিল। তৃতীয় ইউনিট ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করতে দিন-রাত কাজ চলছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সেটির ব্যাপারে এখনও চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গাজীপুর কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা থেকে নারী ও পুরুষসহ মোট ৪০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক্সটেনশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের শুরুতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যায় সে বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকরাই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে কৃষকের হাতে পৌছালেই তার প্রকৃত সার্থকতা আসে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্বিতীয় পর্বে কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহিদুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে হাতে-কলমে ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেন।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ জমিতে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এক্সটেনশন সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রহমান। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকাল ৬টা থেকে সৌদিয়া পরিবহন ও রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির টোকেন দ্বন্দ্বে রাঙামাটির সঙ্গে সব জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি। সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অবশেষে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মালিক সমিতির নেতারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দেন।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের অনুরোধসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব আমরা।’
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহন তাদের একটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। কিন্তু চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মালিক সমিতিতে টোকেন ফি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা তারা দেয়নি। এতে গত বুধবার সমিতির নেতারা সৌদিয়া কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা চালু করা হয়। এর প্রতিবাদে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।
পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। এ সময় যাত্রীরা মোটর মালিক সমিতির সিন্ডিকেটকে দায়ী করে এটি ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৫০ জন রিপোর্টারদের ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক’ দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদিন ঝালকাঠি সার্কিট হাউসের অডিটোরিয়ামে দুই জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৫০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন কর্মশালার সমাপনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণে অতিথি, প্রশিক্ষক ছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সমাপনী পর্বে বক্তব্য দিয়েছেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম মাহামুদুর রহমান পারভেজ এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি খেলাফত হোসেন খশরু।
আয়োজকরা জানিয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়তা করা এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।
দুদিনের কর্মশালায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ, নির্বাচনকালে গণমাধ্যমকর্মীর শারীরীক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং শিকারি সাংবাদিকতা এবং ভুয়া তথ্য, অপতথ্য, গুজব মোকাবিলা, তথ্য ও ছবি যাচাই-বাছাই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এই কর্মশালায় বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, জতীয় দৈনিকের ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার নাইমুল আজিজ সাদেক এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ- পিআইবির জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ দেন।
বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ (ভাব)-এর উদ্যোগে শ্যামনগরে ভাবভুক্ত ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসার মোট ২৭০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় শ্যামনগরে জেসি কমপ্লেক্সে শ্যামনগর ভাব টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৯টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে ওই কম্বল তুলে দেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মীনা হাবিবুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রমজাননগর ইউনিয়ন তোফাজ্জেল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক শেখ মতিউর রহমান, ভেটখালী আব্দুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম, হেঞ্চি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ, বি,এম, লুৎফুল আলম, কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইকবল হোসেন, নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. অহিদুজ্জামান, ছফিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক টি এম জিলহাজ রহমান, চালিতাঘাটা সিদ্দিকীয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট আবু জাফর মো. আব্দুর রহিম, শ্যামনগর ভাব টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কো-অডিনেটর রনি বালা বিশ্বাস, প্রশিক্ষক ও সহকারী ম্যানেজার মাকছুদুর রহমান, প্রশিক্ষক আব্দুল আলিম, মাহফুজুর রহমান, আসমা উল হুসনা, উম্মে উনাইজা প্রমুখ।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্যাসের চাপ কমার কারণে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়েছে যমুনা সার কারখানার। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। কারখানার সঠিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গত দুদিন ধরেই বিভিন্ন সময় গ্যাসের প্রেসার কম আসছিল। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তিতাস কোম্পাণি গ্যাসের প্রেসার কমিয়ে দেওয়ার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম আসছিল। এটা নিয়ে বিসিআইসির কার্যালয় ও তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে গ্যাসের প্রেসার কমার কারণে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করা হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুনমুন জাহান লিজা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান বয়ান পেশ করেন এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মতিন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, অভিভাবক ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নৈতিক সমাজ গঠনে প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ হামদ, নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মো. জোবায়েদ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, শিক্ষক মাওলানা ওয়াদুদ আলম, মো. রেজাউল কবীর, নাজমুল হাসান খান শুভ এবং মাহমুদা আক্তার।
এ ছাড়া শরীফ উদ্দিন খান পাঠান কিরণসহ বিদ্যালয়ের অফিস স্টাফরা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী প্রায় পাঁচ শতাধিক শীতার্ত চা-শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয় হল রুমে বিভিন্ন চা-বাগানের প্রায় পাঁচ শতাধিক চা -শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
চা জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি উত্তম যাদবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাধবপুর চা-বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক দিপন সিনহা। চা মজুত পত্রিকার সম্পাদক সিতারাম বীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমরেন্দ্র কুমার সিংহ, ইউপি সদস্য ছাবিদ আলী ও মহিলা সদস্য মালতী বুনার্জী প্রমুখ। প্রতিবন্ধীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সিতারাম ভর, ফারুক আহমেদ ও চাম্পালাল রবিদাস।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, শীত মৌসুম আমাদের অনেকের জন্য আরামের হলেও সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য এটি কষ্টের সময়। একটি কম্বল আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হলেও শীতার্ত মানুষের জন্য তা জীবন বাঁচানোর সমান। মানবতার পাশে থাকার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের এমন মহৎ উদ্যোগে আজকের এই প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিটি প্রশংসনীয়। বক্তারা আরও বলেন, সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। শুধু আজ নয়, ভবিষ্যতেও তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে হবে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন রঙিন ফুলের সমারোহে এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উদ্যোগে পুরো প্রশাসনিক এলাকাটি এখন নজরকাড়া সৌন্দর্যের আঁধার। পরিষদের সবুজ চত্বরে ফুটে থাকা নানা রকমের ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রতিটি কোণ এখন যেন একেকটি শিল্পকর্ম। বিশেষ করে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন নকশা সবার নজর কাড়ছে। শুধু গাঁদা নয়, বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এক স্নিগ্ধ আমেজ। নিয়মিত পরিচর্যা ও সুষম রক্ষণাবেক্ষণের ফলে ফুলগুলোর সৌন্দর্য পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং তৈরি করেছে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ। পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজে এখানে আসেন। তাদের অনেকের মতে, ফুলের এই বাগান কাজের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
উপজেলা পরিষদে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ‘আগে প্রশাসনিক এলাকাগুলো কেবল ইটের দেওয়াল আর ফাইলের স্তূপ মনে হতো। কিন্তু কেশবপুরের এই ফুলের বাগান এলাকাটির চেহারা বদলে দিয়েছে। এমন নান্দনিক পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাগান সাজানো হয়েছে। নিয়মিত মালিদের তদারকিতে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। ফুলের এই স্নিগ্ধতা কেশবপুর উপজেলা পরিষদকে যশোরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন প্রশাসনিক চত্বর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের কাজের গতি বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চেয়েছি কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরকে কেবল একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।’
আমাদের এই ছোট উদ্যোগে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের যে নকশা করা হয়েছে, তা পরিষদের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন বিষণ্ণতা ভুলে এক চিলতে প্রশান্তি পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
গ্রামবাংলার পরিচিত ফুল গাঁদা দিয়ে সাজানো হয়েছে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর। সবুজ ঘাসের ওপর ফুটে থাকা হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলে প্রশাসনিক এলাকাটি এখন গ্রামের বাগানবাড়ির মতোই মনোরম। পরিকল্পিতভাবে ফুলের চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে উপজেলা পরিষদ চত্বর হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন। গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা মানুষ এই ফুলের বাগান দেখে খুশি প্রকাশ করছেন।
গ্রামবাংলার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে প্রশাসনিক পরিবেশে তুলে ধরাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় সকল প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমনভাবে সাজানো হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সৌন্দর্যবোধ আরও বাড়বে।
আমরা নিয়মিতভাবে এই বাগানের পরিচর্যা করছি এবং ভবিষ্যতে এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সুন্দর কর্মপরিবেশ সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতা উভয় পক্ষকেই ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।