বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ির পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে গোলার শব্দ এপারে ভেসে আসছে। এতে করে আতঙ্কে দিন পার করছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের ভেতরে চলা সংঘর্ষ বিস্তৃত হচ্ছে বলেই এবার পালংখালী সীমান্ত থেকেও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
তবে কয়েক দিন আগে ওই সীমান্ত থেকে ৭০ পরিবারকে নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানায় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্তে বসবাসকারীরা ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দ শোনা যায় বলে জানান।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে জানান, তুমব্রুর পর এবার উখিয়া পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সীমান্তের মানুষজন যেন ভয় না পায়, সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সকালে উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে প্রায় ১০০ পরিবার রয়েছে। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তুমব্রু সীমান্তেও গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই সীমান্তে গত মাসখানেক ধরেই গোলাগুলি চলছে। ফলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন।
এদিকে, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে তুমব্রু জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে লেখা একটি চিঠিও সেখানে পাঠ করে তারা।
গতকাল সোমবার বিকেলে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মর্টার শেল হামলায় রোহিঙ্গা কিশোর ইকবাল হত্যার প্রতিবাদ জানায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা।
এ সময় বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) গোলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) গোলাগুলি করে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী ৬২১টি পরিবারের চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গার।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শূন্যরেখায় পরিকল্পিতভাবে মর্টার শেল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের মিলিটারিরা। তারা চায় আমরা এখান থেকে সরে যাই, আমরা যাব না। যদি যেতেই হয় শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা হেঁটে পাহাড়ের অপর প্রান্তে রাখাইনে নিজেদের ভিটায় ফিরব।’
জাতিসংঘকে লেখা চিঠি সম্পর্কে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুখপাত্র দিল মোহাম্মদ সমাবেশে বলেন, ‘২০১৭ সালে সামরিক জান্তা আট লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এই চিঠি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।’
সম্প্রতিকালে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গোলার আঘাতে শূন্যরেখার একজন রোহিঙ্গা নিহতসহ ছয়জন আহত হয়েছে। এর আগে মর্টার শেল ও গোলার ছোড়ার ঘটনায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চারবার তলব করা হয় এবং এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপরও গোলাগুলি বন্ধ হয়নি এখনো।
চট্টগ্রামে চাঁদা দাবির পর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নগরীর চকবাজার থানার কাছাকাছি স্থানেই ওই প্রতিষ্ঠানে ১০ মিনিট ধরে চালানো হয় এ তাণ্ডব। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন এক্সেস রোডে ডিডিএনের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। মুখে মাস্ক পরা এসব সন্ত্রাসী অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
একপর্যায়ে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য অফিসে রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এই হামলার পেছনে দুর্ধর্ষ ক্যাডার বড় সাজ্জাদের অনুসারী ডেভিড ইমনের সহযোগীদের জড়িত থাকার ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, সম্প্রতি ইমন মোবাইল ফোনে ওই ব্যবসায়ীর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা চান, না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। তাদের কথাবার্তার অডিও রেকর্ড থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, ‘হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী আমাদের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অফিসের সব কম্পিউটার ভেঙে ফেলা হয়েছে।’
হামলার ঘটনার পর সামনে এসেছে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে মোবাইল ফোনে হুমকির কল রেকর্ড। সেখানে ডেভিড ইমন নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমন নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সন্ত্রাসী। তার নামে অন্তত সাতটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনায় কাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—সে প্রসঙ্গে কিছুই জানায়নি।
এদিকে হামলার আগে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মানুনের মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড আজকে প্রকাশিত হয়েছে। ওই কল রেকর্ডে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আপনাকে দুই দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবেন। এখন আমাদের ছেলেরা ব্যবসা করবে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে, না হলে ব্যবসা করবেন না। ১৭ বছর অনেক ব্যবসা করেছেন।’
কল রেকর্ডে ইমন আরও বলেন, ‘ইমনকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন। সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমন কল দিয়েছে।’
এর জবাবে আদিল বিন মানুন বলেন, ‘আপনারা কেন আমার ওপর এত ক্ষিপ্ত? এখানে তো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে।’ তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম শহরের সবাই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে কমিটমেন্ট করে করবেন।’
ডিডিএনের একটি সূত্রের দাবি, এককালীন দুই কোটি টাকা ও পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এতে সায় না দেওয়ায় হামলা করেছে সাজ্জাদ বাহিনী।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মোবাইল ফোনে হুমকির প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিবেচনায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছি।’
এ ঘটনার পর থেকে নগরের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন ও একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাদের একজন ডেভিড ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ।
সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। বর্তমানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স ও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। তবে এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) মন্ত্রীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি চিকিৎসকের পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। নার্সদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। সারাদেশে অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি নার্স পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন, আর শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টিতে।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৬ হাজার ২৮৩ জন। ফলে মাঠ পর্যায়েই শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী বা এফডব্লিউএ পদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫০০টি হলেও কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ২০৭ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮ হাজার ২৯৩টি পদ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা এফডব্লিউভি পদের ৬ হাজার ৩৬১টির মধ্যে ৩ হাজার ১৬১টি পদই ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিএইচসিপি পদের ১৪ হাজার ৪৬০টির মধ্যে বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে ৫৪০টি পদ। স্বাস্থ্য সহকারী বা এইচএ পদের ২০ হাজার ৯০৯টির মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৫৩টি।
সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসকদের সংকট কাটাতে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। দশম গ্রেডের মিডওয়াইফ পদ পূরণের লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। বর্তমানে নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে, যা শেষ হওয়া মাত্রই তাদের পদায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সবশেষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অতিদ্রুত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শূন্য পদগুলোতে জনবল পদায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্রের আবেদনের শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা-১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কাশেমপুর গ্রামের ইমদাদুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয় (জিআর নং-৪০৩/২৪)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সদস্য ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাটি হত্যা হিসেবে আমলে না নিয়ে ইউডি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিশেষ ক্ষমতা আইন, নাশকতা ও একাধিক হত্যা মামলাসহ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য আল মাহামুদ পলাশ বলেন, ‘সর্বশেষ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এর আগে একাধিক মামলায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।’
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।’
‘নজরুল বর্ষ’ ২০২৬-২৭ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজার সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে।
সোমবারের (১৩ জুলাই) এই সভায় কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্মের মাসিক থিমভিত্তিক খসড়া ক্যালেন্ডার কার্যক্রমের ওপর পর্যালোচনা করা হয়।
প্রস্তুতিমূলক সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুয়া পুলিশের রূপ ধারণ করে মহাসড়কে দস্যুতার অভিযোগে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার বড় রেললাইন হিন্দু পাড়ার মানিক চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র (৩৩) এবং গাজিপুর জেলার কোনাবাড়ি থানার আমবাগ জয়ের টেক এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে শুভ (২৮)।
সোমবার (১৩জুলাই) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে গত শনিবার (১১জুলাই) দিনগত রাতে গাজিপুর থকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালনা করে।
জানা যায়, চলতি বছর গত ২৯এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪ টার সময় মহাদেপুর উপজেলার নওহাটা থেকে মহাদেপুর গামি ফাকা রাস্তায় একদল দস্যু প্রাইভেট কার নিয়ে পুলিশের রিফ্লেটিং ভেষ্ট পরে এবং লেজার লাইট ব্যবহার করে সিগন্যাল দিয়ে একটা অটোরিকশা থামায়। এরপর চালক ও এক যাত্রীকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে চোখ -মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। অপর ডাকাত অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায়। পরে ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে অটো চালক ও যাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর মহাদেপুর থানায় একটা মামলা রুজু হলে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার শিমুল বাড়ি এলাকার আজাদুলের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে প্রায় দেড় মাস আগে গাইবান্দা জেলায় অভিযান চালিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আব্দুর রহমান ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে এই ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসে ঘটনার পর প্রথমে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল। কিন্তু আসামিরা বারবার পালিয়ে যেত। এবং তারই লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনেক দিন চেষ্টার পর অবশেষে গত ১১জুলাই রাতে গাজিপুর থকে দুই ডাকাত খোকন ও শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিচয় মহাদেবপুরে মহাসড়কে দস্যুতার ঘটনা স্বীকার করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আসামি খোখন চন্দ্র বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে বলেও জানার এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আপাতত জেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।’
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটোরিকশা চালকরা যাত্রী পেলেও পানির কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন।
পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে।’
প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ফলে আমাদের জীবনযাপন স্থবির হওয়ার পথে।’
বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলের কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত টাঙ্গাইলে বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার তীরে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
টানা বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই মানবসৃষ্ট। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। খাল উদ্ধার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত টাঙ্গাইলবাসীর এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩৩ কেজি গাঁজাসহ দুইজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, সদর কোম্পানি।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর পৌরসভার দশানী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১১ কেজি গাঁজাসহ মিঠু মণ্ডল (২১), পিতা বিভাস মণ্ডল, গ্রামের বাড়ি খরখরিয়া, থানা মংলা এবং ইয়াসিন ফকির (২৫), পিতা বেদার ফকির, গ্রামের বাড়ি ফুলহাতা, থানা মোড়েলগঞ্জ, জেলা বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় মিঠু মণ্ডলের বসতবাড়িতে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি করে আরও ২২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, দুই অভিযানে মোট ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার আলামতসহ গ্রেপ্তার দুইজনকে বাগেরহাট সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গ্রামীণ সড়ক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন (জিআইএস-ভিত্তিক) প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক এক কর্মশালা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভাঙ্গুড়ার আয়োজনে এ কর্মশালা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম। কর্মশালায় জিআইএস অ্যানালিস্ট মো. মারুফ খান আকাশ , উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মহির উদ্দিন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক হালিম মাজাহার নূর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমেকর্মীরা ছিলেন।
এ সময় গ্রামীণ সড়কের বর্তমান অবস্থা, কোর রোড নেটওয়ার্ক নির্ধারণ, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ও উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাংবাদিক মেহেদী হাসান বলেন চাটমোহরের সমাজ হইতে ভাঙ্গুড়ার মধ্যে দিয়ে উল্লাপাড়ার উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এই রাস্তা করা খুব জরুরি। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি পরিচালনায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেটশ বেটস কনসালটিং সার্ভিসেস লিমিটেড সহযোগিতা করে।
পাবনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে দুইশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সুমন (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে জেলার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুমন পুষ্পপাড়া এলাকার মো. মোফাজ্জল হকের ছেলে।
ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল পুষ্পপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সুমনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে একটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে আতাইকুলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। পাবনা জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
টানা ভারী বৃষ্টিতে যানবাহন সংকটের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার। সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল তার।
আফসানা মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল মুন্সীগঞ্জ শহরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর এলাকার আবু তালেবের কন্যা, ওই এলাকাতেই তারা বসবাস করেন। বাসা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
আফসানা অভিযোগ করে জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই তিনি বাসা থেকে বের হন। কিন্তু সকাল থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। অনেকটা পথ ভিজে হেঁটে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত গেলেও কোনো যানবাহন পাননি।
তিনি বলেন, মুক্তারপুর সেতুর টোল প্লাজার সামনে অটো ও মিশুক থাকলেও চালকদের অনেক অনুরোধ করেছি। আমি পর্দা করি, আমি পরীক্ষার্থী বলেও জানিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাকে নিতে রাজি হননি। পরে হেঁটে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করি। কিছুদূর যাওয়ার পর সময়ের কথা ভেবে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হই।
তার ভাষ্য, বৃষ্টিতে তার প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ডও ভিজে যায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। পরে সকাল ১১টা ২২ মিনিটের দিকে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন আফসানা। সেখানে তিনি লেখেন, গত কয়েকটি পরীক্ষায় প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। আইসিটি পরীক্ষা দিয়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও পদার্থবিজ্ঞানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবারের ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং যানবাহনের সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আজ সকাল থেকে এত বৃষ্টি ছিল যে, এক ঘণ্টার পথ যেতে দেড় ঘণ্টা আগে বের হয়েছিলাম। পথে হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি। রাস্তায় মানুষ তো দূরের কথা, একটি কুকুরও ছিল না। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে হেঁটে সেতু পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসি। মনে হচ্ছে, একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। আমার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
আফসানার প্রবেশপত্রে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার নিবন্ধন নম্বর ২১১০৭৯১৮০৭, রোল নং- ১৭৮৯৪২। তিনি ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
গাইবান্ধায় পলাশবাড়ীতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের প্রতিষ্ঠিতা বিতর্কিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে নতুন একটি মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূর্তিটি নির্মাণে সর্বমহলে যখন উত্তেজনা-অস্থিরতা হচ্ছিলো তখনই গ্রেপ্তার হলেন হরিদাস।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গেল গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টর (সিআইডি) একটি টিম।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি এডিটের মাধ্যমে সংযুক্ত করে তার (প্রধানমন্ত্রীর) পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাতে রাজধানীর বনানী থেকে হরিদাস চন্দ্রসহ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ এর একটি দল।
গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান জানান, গেল রাত ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার সিআইডির একটি টিম।
এসময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় অন্তত ১০০ পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী খোশালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াছিন হাবিব হাসান ও সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুল হক এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিজিবি। তারই ধারাবাহিকতায় মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ১০০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে বিজিবি সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।
টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোথাও কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কোথাও নৌকা কিংবা ভ্যানে চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। অনেকেই পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দেশজুড়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর অধীনস্থ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৬ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগেই স্থগিত করা হয়েছে। অন্য আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীরা উপস্থিত হতে থাকেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। তবে কুমিল্লাসহ কয়েকটি অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এবং ভাষাসৈনিক অজিত গুহ কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কেউ নৌকা ও কেউ ভ্যানে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন।
এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জান্নাতুল মাআলা বলেন,
“শুধু বৃষ্টিই নয়, কোমরসমান পানি, পাশে ড্রেনের ময়লা, সঙ্গে সাপের ভয়—সব মিলিয়ে খুবই আতঙ্কের মধ্যে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। যারা সাঁতার জানে না, তাদের নিয়ে অভিভাবকেরা আরও বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন।”
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। তাদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পরীক্ষার আগে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।