বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের

তুমব্রু সীমান্ত। ছবি: দৈনিক বাংলা
বান্দরবান প্রতিনিধিআবদুল মান্নান
প্রকাশিত
বান্দরবান প্রতিনিধিআবদুল মান্নান
প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:২৪

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ির পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে গোলার শব্দ এপারে ভেসে আসছে। এতে করে আতঙ্কে দিন পার করছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের ভেতরে চলা সংঘর্ষ বিস্তৃত হচ্ছে বলেই এবার পালংখালী সীমান্ত থেকেও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

তবে কয়েক দিন আগে ওই সীমান্ত থেকে ৭০ পরিবারকে নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানায় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্তে বসবাসকারীরা ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দ শোনা যায় বলে জানান।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে জানান, তুমব্রুর পর এবার উখিয়া পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সীমান্তের মানুষজন যেন ভয় না পায়, সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সকালে উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে প্রায় ১০০ পরিবার রয়েছে। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তুমব্রু সীমান্তেও গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই সীমান্তে গত মাসখানেক ধরেই গোলাগুলি চলছে। ফলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন।

তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

এদিকে, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে তুমব্রু জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে লেখা একটি চিঠিও সেখানে পাঠ করে তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মর্টার শেল হামলায় রোহিঙ্গা কিশোর ইকবাল হত্যার প্রতিবাদ জানায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা।

এ সময় বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) গোলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) গোলাগুলি করে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী ৬২১টি পরিবারের চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গার।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শূন্যরেখায় পরিকল্পিতভাবে মর্টার শেল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের মিলিটারিরা। তারা চায় আমরা এখান থেকে সরে যাই, আমরা যাব না। যদি যেতেই হয় শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা হেঁটে পাহাড়ের অপর প্রান্তে রাখাইনে নিজেদের ভিটায় ফিরব।’

জাতিসংঘকে লেখা চিঠি সম্পর্কে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুখপাত্র দিল মোহাম্মদ সমাবেশে বলেন, ‘২০১৭ সালে সামরিক জান্তা আট লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এই চিঠি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।’

সম্প্রতিকালে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গোলার আঘাতে শূন্যরেখার একজন রোহিঙ্গা নিহতসহ ছয়জন আহত হয়েছে। এর আগে মর্টার শেল ও গোলার ছোড়ার ঘটনায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চারবার তলব করা হয় এবং এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপরও গোলাগুলি বন্ধ হয়নি এখনো।


পুলিশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে, অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করা হচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাহিনীর কার্যক্রম, জনসেবা ও পেশাদারিত্ব জোরদার করার এই কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, অপপ্রচারকারী চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে একযোগে মিথ্যা ও গুজব সম্বলিত পোস্ট তৈরি করে তা দ্রুত ভাইরাল করছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার যেসব দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা বর্তমানে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তারাই বেশি এই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে যেন কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানির চেষ্টা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা একটি দেশের জন্ম দিয়েছে: ঢাবি উপাচার্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা একটি দেশের জন্ম দিয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দেশ বিনির্মাণে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদেশেও গৌরবজ্জ্বল অবদান রাখছেন তারা।

এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় অর্জন হল, ক্যাম্পাসে এখন সব সংগঠন সমানভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, শূন্যে নেমে এসেছে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবাদ।


ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানে সরকারি-বিরোধী দল এক মঞ্চে

নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক মঞ্চে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। বুধবার (১ জুলাই) সকালে মিরপুর ও শেওড়াপাড়ার চারটি স্থানে পৃথক মতবিনিময় সভায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা যায়। সভায় এলাকার তীব্র পানি ও গ্যাস সংকট নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং দমনে জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শুরু হয়। পরে নেতারা পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ এলাকা, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে পানি সংকট, গ্যাস সমস্যা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পশ্চিম শেওড়াপাড়া খালের অবৈধ দখল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। এরই আলোকে আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সকল সমস্যার সমাধান করব ইনশাল্লাহ।

এলাকার সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির আরও বলেন, এলাকায় তীব্র পানির সংকট রয়েছে, গ্যাসের সমস্যা ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবে এই সমস্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জনগণের সহায়তায় সমাধান করা হবে। জনগণ যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে কোনোদিনও এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না।

এলাকার প্রতিটি নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে, এই জনকল্যাণমুখী মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তারা ডিএনসিসির পুরো টিমকে নিয়ে জনগণের অভাব ও অভিযোগ শুনতে এসেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৫ আসনের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দল মিলে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত কাজ করছে। ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ডেঙ্গু ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় পশ্চিম শেওড়াপাড়া ও মনিপুরী পাড়ার দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি পানির পাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোর জন্য দ্রুত স্থান নির্ধারণ করতে স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান নেতারা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় ওয়াসার এমডি, তিতাসের এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পূর্বাচলে হচ্ছে ৪ থানা ও ৬ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র: আইজিপি

পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র ও দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিসি অফিস, ৪১টি পুলিশ বক্স এবং স্বতন্ত্র ডিএমপি বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন তিনি।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসবের পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আইজিপি আরও জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে এনে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮.৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটি এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)’-এর আওতায় আয়োজিত ‘Workshop on Insights Dissemination of IUPHPS Project’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বক্তারা জানান, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP) বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ (LGD) কর্তৃক পরিচালিত একটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটির ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project এক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি অনলাইন প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে ওঠে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাব।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


তীব্র দাবদাহে পিরোজপুরের শ্রমজীবী মানুষের পাশে রেড ক্রিসেন্ট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এস এম আবু সালেহ্, ​পিরোজপুর

তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই পিরোজপুরের রাস্তায় কর্মরত প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

​বুধবার (১ জুলাই) রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেশব্যাপী ‘হিটওয়েভ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এক বিশেষ ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​এদিন পিরোজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থানরত ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, মুচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাতে এই ছাতাগুলো তুলে দেওয়া হয়।

​ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পিরোজপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে রাস্তায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মানবসেবায় রেড ক্রিসেন্ট সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

​উক্ত কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পিরোজপুর ইউনিটের কর্মকর্তা, আজীবন সদস্য এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে ছাতা বিতরণে সহায়তা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বিলুপ্তপ্রায় কালিম পাখি, পোষ মানিয়ে সফল হাসান আলী

শখ থেকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের হাসান আলী নামের এক সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবার শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সাধারণত হাওর-বিল বা জলাভূমির এই বুনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পোষ মানিয়ে পালন করায় প্রতিদিন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।

জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ওই মৎস্য ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি এবং ভালোবাসার কারণে অল্প দিনেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মেনে যায়। বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারের পাশে তার নিজস্ব খামার ও মৎস্য ঘেরের আশেপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় এবং মালিকের ডাক শুনলেই কাছে ছুটে আসে।

খামারি জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে চোখ ধাঁধানো রূপের এই কালিম পাখিটির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এই পাখি লালন-পালন করা বেশ সহজ। এরা মূলত জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি বাজারে কিনতে পাওয়া ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট চিংড়ি বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই অত্যন্ত কম এবং দেশীয় আবহাওয়াতে এরা দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

চুকনগর বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় খুলনার বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। চুকনগরের বুকে উন্মুক্ত অবস্থায় এমন সুন্দর পাখি ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে আবার এই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

উদ্যোক্তা মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, কেবল শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। এদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এরা চমৎকার পোষ মানে। আমার এখানে পাখি দুটি সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এরা ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির বলেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ক্ষুণ্ণ না করে যদি এই ধরনের বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার তৈরি করা যায়, তবে তা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি সৌখিন পাখিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।


নওগাঁয় উদ্ধার করা ১০১ মোবাইল মালিকদের কাছে হস্তান্তর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে গত এক মাসে (জুন) হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যলায়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।

এ সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। হারানো মোবাইল মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত। নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুনসহ কিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


দৌলতপুরের ভারসাম্যহীন যুবক ‘রিয়ান আনসারী’ নেপালী নাগরিক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক নেপালী যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের (মুক্তার সরকার)এর হেফাজতে রয়েছেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আশ্রয়, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই যুবকের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ইমো নম্বর দেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে।

রিয়ানের পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা তার মানসিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রিয়ানের দেখাশোনাকারী পলাশ আহমেদ বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই তাকে দেখাশোনা করছি। সে ভাত খেতে চায় না, গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়ি মাখা ও ডিম ভাজি খেতে বেশি পছন্দ করে। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করে না।

এ বিষয়ে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ফলের ১১ নতুন জাত উদ্ভাবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকৃতির শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে সমৃদ্ধির এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে মৌলভীবাজারের আকবরপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে এই গবেষণা কেন্দ্র ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই কেন্দ্রটি দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ৩১৪ বিঘা বিশাল জমির ওপর গড়ে ওঠা এই গবেষণা কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ফল চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে; উদ্ভাবিত হয়েছে ১১টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত ফলের জাত, যা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমানে এই কেন্দ্রে শুধু ফলই নয়, স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন সবজি ও তেল জাতীয় মাঠ ফসল নিয়েও চলছে ব্যাপক গবেষণা। একটি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ে এই কেন্দ্র থেকে যে ১১টি ফলের জাত অবমুক্ত করা হয়েছে, তা হলো, ১৯৯৬ সালে বারি পেয়ারা-২, বারি লিচি-২, বারি লিচি-৩, ১৯৯৭ সালে বারি বাতাবি লেবু-১, বারি কামরাঙ্গা-১, বারি কামরাঙা-২, ২০০৮ সালে বারি কাঁঠাল-১, ২০১২ সালে বারি আম-১০, ২০১৮ সালে বারি জারা লেবু-১, ২০২৩ সালে বারি কাঁঠাল- ৫ এবং বর্তমানে এখানে ড্রাগন, কাঁঠাল, জাম্বুরা, পেয়ারা, আম, আনারস, লিচু এবং জারা ও কলেম্বুসহ বিভিন্ন লেবু জাতীয় ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

অন্য অঞ্চলে ভালো ফলন হলেও মৌলভীবাজার অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার কারণে যেসব সবজি আগে এখানে ভালো হতো না, সেগুলোকে এ অঞ্চলের উপযোগী করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অতীতে পানি কচু ও লতি কচু নিয়ে সফল গবেষণার পর বর্তমানে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, বরবটি, লালশাক, শিম, পটোল ও টমেটো নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসলের ঘাটতি মেটাতে বাদাম, চিনা বাদাম, সরিষা ও সূর্যমুখীর ওপর গবেষণা চলছে। এছাড়া কফি ও গোলমরিচের মতো অর্থকরী ফসলের জাত নিয়েও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা সফল হলে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।

গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, প্রথমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভালো ফলন হওয়া ফসলের নমুনা বা বীজ সংগ্রহ করা হয়। কখনো কখনো বিদেশি জাত এনেও পরীক্ষা করা হয়। এরপর এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে রোগবালাইমুক্ত ও অধিক ফলনশীল জাত তৈরি করা যায়, তা নিয়ে চলে দীর্ঘমেয়াদি ট্রায়াল। প্রাথমিক সফলতা মিললে পরে তা ব্যাপকভাবে চাষের উপযোগী জাত হিসেবে অনুমোদন পায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরক্ষিত এই কেন্দ্রের ভেতরে কফি, গোলমরিচ, ড্রাগন, চায়না লেবু ও সিড লেবুসহ নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। স্থানীয় বাসিন্দা জুনেদ মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি খুব নিরিবিলি পরিবেশে এখানে কৃষি গবেষণা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হলেও এখান থেকে উন্নত জাতের বিভিন্ন ফল ও গাছের চারা সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়।
কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিশাস্ত্র) মো. আব্দুল মাজেদ মিয়া ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান, অন্য অঞ্চলের সফল ফসলকে এই অঞ্চলের উপযোগী করে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সময় বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরাও আধুনিক এই জাতগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল এই কার্যক্রমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল কাজ হলো অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন। আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে যেসব ফসল এখানে হতো না, আমরা সেগুলোর গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী করে এই অঞ্চলের উপযোগী জাত তৈরি করি। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (Non-profitable Organization)। আমরা অত্যন্ত সীমিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে উন্নত বীজ ও চারা সরবরাহ করছি। ফলে এক সময় এই অঞ্চলে যেসব ফল ও সবজি চাষের কথা ভাবা যেত না, এখন তা অনায়াসেই উৎপন্ন হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।


সিংগাইরে পাটক্ষেত থেকে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কাশতা এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুল ইসলাম (১৭)নামের অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অটোরিকশার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি স্যান্ডেলকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২ টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। নিহত সাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহম আালী ওরফে টুলুর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায় , প্রথমে অটোরিকশার সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটি স্যান্ডেল জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন (২২) নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেন।


টাঙ্গাইলের নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর বাসার পাশে একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

‎‎বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের দিকে সখীপুর পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেইটের দক্ষিণে বাসার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীন আক্তার ওই ওয়ার্ডের মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। ছেলে ঢাকার সাভারে চাকরি করার সুবাদে সেখানে থাকেন। মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন গত দু মাস হলো। এরপর থেকেই পারভীন বাসায় একাই থাকতেন। গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সাভারে চাকুরিরত ছেলে সোাহেল রানা ফাহাদের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে ফাহাদসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা একাধিকবার ফোন করলেও মোবাইল বেজে গেলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

পরে ৩০জুন সন্ধায় ফাহাদ ঢাকা থেকে ফিরে সখীপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। গতকাল রাত থেকেই পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করেন।

‎খোজাখুজির একপর্যায়ে আজ বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎নিহতের ছেলে মামলার বাদী সোহেল রানা ফাহাদ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এবিষয়ে ‎সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বাসাইল-সখীপুর ইনচার্জ এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন বুঝা যাচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দায়ীদের সনাক্ত কারণের কাজ অব্যাহত আছে।


ডুমুরিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী। ‌সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"

খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১জুলাই দুপুরে সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এবং ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খন্দকার হাফিজুর রহমান,

ডুমুরিয়া উপজেলা‌প্রাণী সম্মপদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ইউ এস আই কাজল মল্লিক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রথম শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম,‌মহিলা বিষয় কর্মকর্তা হাসি রাণী, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিবাশীষ বিশ্বাস, চেয়ারম্যান মাহাবুবুর মোল্লা, শেখ হেলাল উদ্দিন,‌ জহিরুল হক, গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, সমাবেশ মন্ডল,মোসলেম আলী, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সরোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক,নিত্যানন্দ মন্ডল,‌ মাওলানা ওমর আলী, খুলনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবিরুল ইসলাম,শিক্ষক আইয়ুব হুসেইন, মাওলানা মোক্তার হোসেন, প্রমুখ।।

বক্তারা ডুমুরিয়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


banner close