বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২

নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের

তুমব্রু সীমান্ত। ছবি: দৈনিক বাংলা
বান্দরবান প্রতিনিধিআবদুল মান্নান
প্রকাশিত
বান্দরবান প্রতিনিধিআবদুল মান্নান
প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:২৪

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ির পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে গোলার শব্দ এপারে ভেসে আসছে। এতে করে আতঙ্কে দিন পার করছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের ভেতরে চলা সংঘর্ষ বিস্তৃত হচ্ছে বলেই এবার পালংখালী সীমান্ত থেকেও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

তবে কয়েক দিন আগে ওই সীমান্ত থেকে ৭০ পরিবারকে নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানায় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্তে বসবাসকারীরা ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দ শোনা যায় বলে জানান।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে জানান, তুমব্রুর পর এবার উখিয়া পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সীমান্তের মানুষজন যেন ভয় না পায়, সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সকালে উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে প্রায় ১০০ পরিবার রয়েছে। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তুমব্রু সীমান্তেও গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই সীমান্তে গত মাসখানেক ধরেই গোলাগুলি চলছে। ফলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন।

তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

এদিকে, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে তুমব্রু জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে লেখা একটি চিঠিও সেখানে পাঠ করে তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মর্টার শেল হামলায় রোহিঙ্গা কিশোর ইকবাল হত্যার প্রতিবাদ জানায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা।

এ সময় বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) গোলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) গোলাগুলি করে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী ৬২১টি পরিবারের চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গার।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শূন্যরেখায় পরিকল্পিতভাবে মর্টার শেল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের মিলিটারিরা। তারা চায় আমরা এখান থেকে সরে যাই, আমরা যাব না। যদি যেতেই হয় শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা হেঁটে পাহাড়ের অপর প্রান্তে রাখাইনে নিজেদের ভিটায় ফিরব।’

জাতিসংঘকে লেখা চিঠি সম্পর্কে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুখপাত্র দিল মোহাম্মদ সমাবেশে বলেন, ‘২০১৭ সালে সামরিক জান্তা আট লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এই চিঠি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।’

সম্প্রতিকালে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গোলার আঘাতে শূন্যরেখার একজন রোহিঙ্গা নিহতসহ ছয়জন আহত হয়েছে। এর আগে মর্টার শেল ও গোলার ছোড়ার ঘটনায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চারবার তলব করা হয় এবং এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপরও গোলাগুলি বন্ধ হয়নি এখনো।


গাইবান্ধায় ডিভাইস জালিয়াতি: ২ দিনের রিমান্ডে ২৬ আসামি

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আটক ৫২, মামলা ৫৫ জনের বিরুদ্ধে
আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০৫
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা সদর থানার মামলায় আটক ২৬ জন আসামির প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সোহান আসামিদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করা মধ্যস্থভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে জোর তদন্ত চালানো হবে। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থ লেনদেন এবং ডিভাইস সংগ্রহের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।

জানা গেছে গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি ৪০ জন। এর মধ্যে ২৬ জন পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। ১১ নারী আসামিদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় এবং শিশু সন্তানের বিষয়টি মাথায় রেখে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষার দিন গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক হওয়া পরীক্ষার্থী ও জালিয়াতি চক্রের সদস্যসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে জেলার তিন থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পলাশবাড়ী থানায় তিনটি, গাইবান্ধা সদর থানায় একটি এবং ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধে একাধিক ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় আলাদা আলাদা তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদন করেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর থানার মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষার দিন আটক হওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগেই পরিকল্পিত চুক্তি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ, বাইরে বসে প্রশ্ন সমাধান এবং নির্দিষ্ট লোকেশন থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতেই এই রিমান্ড।

মামলায় বলা হয়, জেলার ৪৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৯টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ীর ৩টি কেন্দ্র থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার ২টি কেন্দ্র থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়। এসব ঘটনায় পরদিন (১০ জানুয়ারি) আটক ৫২ জনসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তিন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হন দুই উপজেলার চার কেন্দ্র সচিব এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্ণ কুমার দাশ দৈনিক বাংলাকে জানান, পাঁচ মামলায় মোট আসামি করা হয় ৫৫ জনকে।

ঘটনাগুলো সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। রিমান্ডের মাধ্যমে প্রকৃত মূলহোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত ৮ জানুয়ারি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ওইদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা ও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

আগেও গাইবান্ধায় ধরা পড়েছিল ডিভাইস চক্র: পুনরাবৃত্তি হওয়া ডিভাইস জালিয়াতি নিয়ে উদ্বেগ:

এর আগেও একাধিকবার গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির অভিযোগে র‍্যাব ৩৮ জনকে আটক করে। ওই সময় পরীক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে ২২টি মাস্টার কার্ড, ১৯টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ১৬টি মোবাইল ফোন, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই কার্যালয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায়ও ডিভাইসসহ এক নারী পরীক্ষার্থী আটক হন।

একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ডিভাইস জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রিমান্ডেপ্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে এমন সংঘবদ্ধ জালিয়াতি দমন করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধার ৪৩টি কেন্দ্রে ৪০০-এর অধীক শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিল ২৭ হাজার ৬৮৮ জন।


সড়ক দুর্ঘটনায় চার জেলায় নিহত ৬

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ভ্যানের দুই নারীসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুই ঘণ্টা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। ছবি : দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের চার জেলায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তিনজন, গোপালগঞ্জে একজন, সাতক্ষীরায় এক স্বেচ্ছাসেবী ও নোয়াখালীর কবিরহাটে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান: ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর তাতীবাড়ী অংশে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তিনজন ভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপরে এ দুর্ঘটনার ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিররণে জানা যায়, মাদারীপুর টেকেরহাট বন্দর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়ে তাঁতীবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছালে একই সড়কে চলা একটি যাত্রীবাহী ভ্যান রিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তখন ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মধ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তারা টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করলে সড়কের উভয় দিকে প্রায় ৩ ঘণ্টা যাববাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বরিশাল অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা-খুলনা-ফরিদপুর অঞ্চল থেকে বরিশালমুখী হাজার-হাজার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। কিছু যানবাহন বিকল্প পথে যাতায়াত করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এ ঘটনায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায়ও মামলা হবে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত তিন চাকার গাড়ি) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালের পানিতে পড়ে কাশেম মোল্যা (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাশেম মোল্যা জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকার রাজ্জাক মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী কাশেম মোল্যা সৌদি আরব থেকে কিছুদিন আগে বাড়িতে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শখের বশে তার ভাই হোসেন আলী মোল্যার ইজিবাইক নিয়ে কাশেম মোল্যা চালাতে যান। একপর্যায়ে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পানির মধ্যে পড়ে যায়। স্থানীয়রা কাশেম মোল্যাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোটালীপাড়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রানা সরদার (৩৫) নামে এক মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার তালা তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা সরদার হাজরাকাটি গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তিনি হাজরাকাটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানা সরদার উপজেলার জাতপুর দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে তালার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

মানবিক ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় একজন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহকর্মী ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতের পরিবারে চলছে শোক ও আহাজারি।

তালা থানার ওসি শহিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান: ‎নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের গলাকাটা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত, বিপ্লব চন্দ্র শীল (৩৮), কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের অর্জুন চন্দ্র শীলের ছেলে। আহত -পলাশ চন্দ্র শীল (৩৫), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের রাজাপুর গ্রামের মন্টু চন্দ্র শীলের ছেলে।

‎নিহত বিপ্লব চন্দ্র শীল মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স বসুরহাট শাখার কর্মকর্তা ছিলেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব চন্দ্র শীল ও পলাশ চন্দ্র শীল কবিরহাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে বসুরহাট যাওয়ার পথে গলাকাটা নামক স্থানে অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে কভার্ড ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হয়।

‎স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে।

‎কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঞা বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর শোনেছি। একজন নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আরেক জনের অবস্থাও গুরুতর। তারা দুজনেই মোটরসাইকেলে ছিলেন। কভার্ড ভ্যানটি পালিয়ে গেছে।’


ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী হুম গুটি খেলার ২৬৭তম আসর কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

পৌষের শেষ দশকের শুরুতেই শুরু হয় গুটি খেলার আমেজ। প্রচারণায় পোস্টার কিংবা মাইকিংয়ের ব্যবহার ছাড়াই মানুষের মুখেমুখে প্রচার হয়ে থাকে এ খেলার কথা। তবে সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়ার এ যুগে পৌষ মাস আসলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুটি নিযে রীতিমতো লেখালেখি করেন উঠতি বয়সিরা।

বাংলা পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ি প্রতি বছর পৌষের শেষ দিন আসলেই ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়ইআটা নামক স্থানে পিতলের তৈরি বল আকৃতির গুটি দিয়ে খেলা হয় হুম গুটি খেলা। যা চলছে যুগের পর যুগ ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় কাল বুধবার বিকেলে খেলাটির ২৬৭তম আসর অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহ্যবাহী ব্যতিক্রম এ খেলায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার লোকজন ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারা অংশ নেন। এদিন এ উপলক্ষে খেলার মাঠের পাশে বসে পৌষ মেলা।

প্রচার আছে, আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় আগের কথা। মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী এবং ত্রিশাল উপজেলার বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের মাঝে জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধ।

যার সমাধানকল্পে সিদ্ধান্ত হয় প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার। পরিপ্রেক্ষিতে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর ‘পরগনা’ ও হোম চন্দ্র রায়ের ‘তালুক’-এর সীমান্তে আয়োজন করা হয় ৪০ কেজি ওজনের পিতলের ‘হুম গুটি’ খেলার।

শক্তি ও কৌশলের মাধ্যমে খেলে গোল বল আকৃতির হুম গুটি যারা নিতে পারবে তারাই হবে বিজয়ী। শর্ত ছিল বিজয়ী দলের এলাকায় জমির পরিমাপ হবে সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা আর পরাজিত জমিদারের এলাকায় জমির পরিমাপ হবে ১০ শতাংশে এক কাঠা। পৌষ মাসের শেষ দিন বড়ইআটা গ্রামে গুটি খেলার আয়োজন করা হলে এ খেলায় বিজয়ী হয় শশীকান্তের প্রজারা।

জমিদার আমলের সেই শক্তি ও কৌশলের খেলা হুম গুটি এখনো চালু রয়েছে। তবে সেই শর্ত এখন আর নেই। তুমুল জনপ্রিয় খেলাটির বয়স প্রায় ২৬৭ বছর বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়ভাবে এই খেলাটি ‘হুম গুটি’ ও ‘গুম গুটি’ নামে পরিচিত। হুম গুটি আসলে পিতলের তৈরি ৪০ কেজি ওজনের একটি গোলাকার বল। এ খেলার সময় ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনির্দিষ্ট। নেই কোনো রেফারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শত শত খেলোয়াড়ের মধ্যে আয়োজকরা নির্দিষ্ট একটা দলের হাতে হুম গুটি তুলে দেন। এরপর বারবার গুটির হাত বদল হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া খেলা রাত পর্যন্ত চলে। খেলোয়াড়রা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ-চারটি ভাগ হয়ে যান। নিজ নিজ এলাকার দিক ঠিক রাখতে একেক দল বাঘ, ষাঁড়ের ছবিসহ বিভিন্ন ছবি নিয়ে আলোকসজ্জা করে বাঁশের মাথায় বেঁধে নিয়ে আসে। যেদিকে গুটি যায় তার সামনে ওই দলের ‘দিক প্রতীক’ উঁচু করে রাখেন একেক সময় একেক জন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খেলার রূপ বদলায়। সবার মুখে একই আওয়াজ - আদা দিয়া গুটি ধররে, হেইও হেইও ইত্যাদি...। রাত হলে খেলার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। চারদিক থেকে হাজার হাজার মানুষের টর্চলাইটের আলোতে অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

খেলোয়াড়রা খেলতে খেলতে গুটি তাদের অঞ্চলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। নিজ গ্রামে নিয়ে যেতে পারলে একসময় কৌশলে গুটিটি লুকিয়ে ফেলেন। যে গ্রামের খেলোয়াড়রা গুটি গুম করতে পারেন, তারাই বিজয়ী হন।

স্থানীয় কামরুল হাসান জানান, পৌষের শেষদিন এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন আমাদের প্রতিটি বাড়িতে আত্নীয়-স্বজনরা আসেন। এ উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আলাদা আমেজ বিরাজ করে। এক কথায় ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দ পাই গুটি খেলার দিনে।


মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরলেন ভোলার ৪ জেলে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অপহৃত ৪ জেলে জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচর এলাকা থেকে তাঁদের উদ্ধার করে নৌপুলিশ। স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, মোট ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ প্রদানের পর দস্যুরা তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় অজ্ঞাত একদল জলদস্যু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবার ও এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

অপহৃত জেলেরা হলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া ইউনিয়নের মহিউদ্দিন মাতাব্বর, টবগী ইউনিয়নের মো. সবুজ, বজলু মাঝি এবং শরীফ। জিম্মিদশা থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, অপহরণের পর তাঁদের চোখ বেঁধে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন একটি দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আটকে রেখে তাঁদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে প্রিয়জনদের জীবন বাঁচাতে স্বজনরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জলদস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর সোমবার রাতে দস্যুরা তাঁদের পুনরায় ট্রলারে তুলে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মাঝনদীতে একটি অজ্ঞাত স্পিডবোটের উপস্থিতি দেখে দস্যুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ধাওয়া খাওয়ার ভয়ে তীরের কাছে ট্রলার থামিয়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে জেলেরা প্রাণে রক্ষা পান।

বোরহানউদ্দিন নৌথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর অপহৃত জেলেদের ব্যবহৃত মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত বা ট্র্যাকিং করে বিভিন্ন চরে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অপহৃত চার জেলেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী জেলেরা এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জলদস্যু চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তাঁদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নদীতে টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু মিয়া (৫৫) ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধরমন্ডল ইউনিয়নে সাবেক মেম্বার জিতু মিয়ার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় ফকির মিয়া গোষ্ঠীর দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই পুরনো শত্রুতার জের ধরে সোমবার বিকেলে স্থানীয় একটি বিয়ে বাড়িতে দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। অনুষ্ঠানস্থল থেকে ফিরে এসে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, বিশেষ করে টেটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া টেটার আঘাতে জিতু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় নাসিরনগর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকাটিতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নির্বাচন

# সীমান্তে নজরদারি, তবু থামছে না চোরাচালান # বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে শঙ্কা # লুট হওয়া থানার অস্ত্র বড় উদ্বেগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনীতিতেও। প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সেই অস্ত্রই নির্বাচনে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি করছেন বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধজগতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা ঘিরে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রগুলো অস্ত্র মজুতের দিকে ঝুঁকছে। এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী চক্রগুলো এখন আর শুধু মাঠপর্যায়ের সহিংসতায় সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক হুমকি, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং হাওয়ালাভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। ফলে অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অস্ত্র বেচাকেনার চেষ্টার তথ্যও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।
লুট হওয়া অস্ত্র বড় উদ্বেগ: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে সক্রিয় থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সহিংসতার মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর কাছে থাকা বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রেরও নির্ভরযোগ্য হদিস এখনো মেলেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতা-কর্মী এসব অস্ত্র গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে শঙ্কা: সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতার ‘রিহার্সাল’ হিসেবে দেখছেন অনেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের মতে, এগুলো আসন্ন নির্বাচনে নাশকতার আগাম বার্তা হতে পারে। একইভাবে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং সর্বশেষ বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডও দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলাপর্যায়েও প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনা বাড়ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সীমান্তে নজরদারি, তবুও বাড়ছে চোরাচালান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বারবার পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো অবশ্যই উদ্বেগজনক। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের অধিকাংশ উদ্ধার হয়েছে, তবে এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধারের কাজ চলমান। অবৈধভাবে যেসব অস্ত্র দেশে ঢুকছে, সেগুলো উদ্ধারে যৌথবাহিনী কাজ করছে।’

গত শনিবার রাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর বাইরে পুলিশ ও বিজিবি সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী চাহিদা বাড়ায় চোরাচালানকারীরা নতুন রুট ও কৌশল ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন চ্যালেঞ্জ: তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধজগৎ এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, এনক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলো এখন আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের কাছে সরাসরি অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে এবং এগুলো নির্বাচনী সহিংসতার পূর্বাভাস হতে পারে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও উদ্ধারচিত্র: আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১০টি ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু গত ডিসেম্বরে এক মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৯টি পিস্তল, দুটি এয়ারগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গানপাউডার, ১২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং ৩১৬ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে।


দেশের মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশ নিন: পিরোজপুরে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের উন্মুক্ত বৈঠকে বক্তারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

‎‘জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। জনগণের হাতে দেশের চাবি। গণভোটের মাধ্যমে এই মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে অংশ নিয়ে এই চাবির সঠিক ব্যবহার করুন। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এই সুযোগ হাতছাড়া করলে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।‘

‎সোমবার বিকালে পিরোজপুরের সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারি পি ই আর ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় সুধিজনদের নিয়ে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক উন্মুক্ত বৈঠকে বক্তারা একথা বলেছেন। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ। জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দিন আল মাদানি, পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শারমিন আফরোজ, মাদ্রসার অধ্যক্ষ মুমিত চৌধূরী।

‎উন্মুক্ত বৈঠকে গণভোটের প্রেক্ষাপট, বিষয় ও বিবেচ্য প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ব্যখ্যা তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত সুধিজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের অংশীদারিত্ব প্রমাণ করুন। দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চাইলে গণভোটকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তিনি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে সরকার সেক্ষেত্রে সদা সতর্ক আছে জানিয়ে বলেন, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, গুজব রটাতে চায় তৎক্ষনাৎ যেন তা প্রশাসনকে জানানোর ব্যবস্থা নেয়।

‎ভোট জনগণের আমানত, একথা উল্রেখ করে তথ্য অফিসের উপপরিচালক বলেন, দেশের মালিকানায় ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করতে হবে। আগামীতে দেশ কিভাবে চলবে সেই সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ এখন আমাদের হাতে। গণভোটের গোলাপী ব্যালটে সচেতনতার সাথে ‘হাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো। এজন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরীক্ষিৎ চৌধুরী বলেন, এখনো একমাস সময় আমাদের হাতে আছে। গণভোটের বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের জানার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেসব ডকুমেন্টারি দেখানো হচ্ছে, যেসব কাগজ বিলি হচ্ছে সেগুলোকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে এসম্পর্কে ভাল করে জেনেবুঝে প্রস্তুতি নিবেন। এসময় তিনি পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই উপলক্ষ্যে একটি সঙ্গীত দল শীঘ্রই পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে গণভোটের গান পরিবেশন করবেন বলে উপপরিচালক এসময় জানান।

‎এই উন্মুক্ত বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

‎পরে কদমতলা বাজারে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভোটালাপ ও টেন মিনিটস টক করা হয়।

‎আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস গত ১২ ডিসেম্বর থেকে দুই মাসব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে ছিল উঠান বা উন্মুক্ত বৈঠকের ১২তম পর্ব। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জেলা তথ্য অফিস জেলা সদরের চিলা মতুয়া আশ্রম ও কুমিরমারা আবাসন, পুরাতন ঈদগাহ মাঠ, নাজিরপুরের মাটিভাঙা ইউনিয়নে, কাউখালির নতুন বাজার, নেছারাবাদের অলংকারকাঠি আবাসন, ইন্দুরকানির সদর ইউনিয়ন বাজার, ভান্ডারিয়ার ধাওয়া, ইকরি বাজার ও মাদারশি বাজারে, মঠবাড়িয়ার ধানিশাফা বাজারে মোট ১১টি বৈঠক আয়োজন করে। জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৮টি স্থানে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেড়শত ইউনিটে রিকশাযোগে সড়ক প্রচার করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে ভ্রাম্যমান দুইটি ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলার ১০টি স্থানে কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আরো পাঁচ উপজেলায় এই ভোটের গাড়ি আবার ভ্রমণ করবে। এছাড়াও গণভোটে আপামর জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারিগণ জেলার বিভিন্ন বাজার, হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে প্রায় ৭৫টিরও বেশি ভোটালাপ ও অর্ধশতাধিক ‘ক্ষুদ্র সংলাপ’-এর মাধ্যমে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। আন্তর্ব্যক্তিক এসব বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সড়ক প্রচার, ক্ষুদ্র সংলাপ, ভোটালাপের পাশাপাশি গণভোটে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কনটেন্ট নিয়মিত আপলোড করছে জেলা তথ্য অফিস। ‘জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুর’ তার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে এই পর্যন্ত শতাধিক কনটেন্ট আপলোড করেছে।

‎তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে সারা দেশের ৬৪টি জেলা তথ্য অফিস ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিস আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


ঝালকাঠিতে থমকে আছে ১২৩ কোটির খয়রাবাদ সেতুর কাজ

আপডেটেড ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৯
ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণকাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আড়াই বছর পার হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। ফলে ১২৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এতে স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সেতুর নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল শুরু হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল। তবে বাস্তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। নদীর দুই পাড়ে মাত্র ১৮টি পিলারের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্প্যান বসানো হলেও সেতুর বাকি কাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার কারাবন্দি থাকায় পুরো প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সাইটে নিয়মিত তদারকি নেই, শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ থমকে আছে।

স্থানীয় কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, নলছিটি ও বরিশাল সদর উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই রুটে অসংখ্য শিক্ষার্থী বরিশালে লেখাপড়া করতে যান। বর্তমানে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা, সোহাগ হাওলাদার, জাকির তালুকদার ও রিয়াজ মৃধা জানিয়েছেন, সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া, কলসকাঠি ও চরাদি ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হবেন। তবে নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য এই সেতুর কার্যকর প্রয়োজন নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো চলাচলের অনুপযোগী। আশপাশে উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা জনবসতি না থাকার কারণে তারা বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ পর্যন্ত প্রকল্পের বড় অংশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা অগ্রিম বিল উত্তোলন করেছে। সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি আরও অবহেলার শিকার হয়েছে। প্রকল্পটি চরম ধীরগতি ও স্থবিরতার মধ্যে পড়ায় স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিনের আশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


স্বামীকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক দুই আনসার সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে জেলা সদর হাসপাতালের ভেতরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ২য় তলায় (প্রশাসনিক কার্যালয়) এই ঘটনা ঘটে।

আটক আনসার সদস্যরা হলেন, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সাহাদাত হোসেন।

গৃহবধূর স্বামী জানান, রোববার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক ভাড়া করে মানিকগঞ্জে এক আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে আসছিলেন। কিন্তু মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে রাত গভীর হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা সদর হাসপাতালের সামনে যায়। পরে সেখানে দায়িত্বে থাকা দুজন আনসার সদস্য হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ২য় তলায় (প্রশাসনিক কার্যালয়) যেতে বলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে চলে যান। রাত ৩টায় তার (স্বামী) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাসপাতালের (প্রশাসনিক কার্যালয়ের একটি কক্ষ) ভেতরে নিয়ে আমার স্ত্রীকে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণ করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর বাড়ি ফেরার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে ভোররাতে হাসপাতাল থেকে বের হই এবং থানায় গিয়ে পুলিশকে বিস্তারিত বললে পুলিশ দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনার সঠিক বিচারও দাবি করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ্য হলে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের সহকারী প্রাটুন কমান্ডার সাহেব মিয়া জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।


কুলাউড়ায় ডাকাতি করে পালানোর সময় দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গভীর রাতে সংঘটিত এক ডাকাতির ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশের অভিযানে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার রাত ২টার দিকে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার বাগানবাড়ি পাকা সড়কে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাকির হোসেন, মো. নাজিম মিয়া, মো. দেলোয়ার হোসেন ও জুবের আহমদ জুবলা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া (৪২) মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে পাঁচজন ডাকাত তাকে পথরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতরা লালের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। পরে ডাকাত দলটি একটি মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন ও কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যার নেতৃত্বে পুলিশ তাৎক্ষণিক চুনঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টার দিকে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় ডাকাতদের হামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অপর ডাকাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


অবৈধ ইটভাটা গিলছে ‘শস্যভাণ্ডারের’ কয়েকশ হেক্টর জমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

কৃষিপ্রধান জেলা নওগাঁ। যা উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। এ জেলার উৎপাদিত ধান, চাল ও নানা ফসলেই দেশের একটি বড় অংশের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। তবে নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে সেই উর্বর ফসলি জমি। এর অন্যতম প্রধান কারণ অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ইটভাটায় নিয়ম ভেঙে নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে খড়ি। ফলে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে শত শত হেক্টর ফসলি জমি ধ্বংসের পথে। অভিযোগ দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বর্তমানে ১১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এর একটিও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাটার মধ্যে অন্তত ৮টিতে খড়ি ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছে, যা আইন ও পরিবেশ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। অবৈধ এসব ইটভাটা কৃষকদের লোভনীয় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিজ নিচ্ছে। আবার অনেক কৃষক বাধ্য হয়েই জমি লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ।

নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার দিঘা গ্রামের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এমবিকে নামের একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ইটভাটার মালিক নির্বিঘ্নেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এমবিকে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান দাবি করেন, আমরা আন্দোলন করার পর ডিসি অফিস থেকে এ বছরের জন্য মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যরা যেভাবে চালাচ্ছে, আমিও সেভাবেই শুরু করেছি।

পোরশা উপজেলার এক ইটভাটার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১১টি ভাটার মধ্যে মাত্র ৩টি কয়লা ব্যবহার করছে, বাকি ৮টি পুরোপুরি খড়ি পোড়াচ্ছে। আমরা ডিসি অফিসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম খড়ি ব্যবহার করব না। আমি নিজেও ভাটার মালিক হয়েও প্রশাসনের কাছে কিছু বলতে পারছি না।’

পোরশা উপজেলায় ঢুকতেই সড়কের পাশে চোখে পড়ে কেএমএস ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। পুরো ফসলি মাঠজুড়ে ভাটার কার্যক্রম চলছে। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে এই ভাটার কার্যক্রম চলছে এবং বর্তমানে ৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবেশ ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের রাজস্ব দেওয়া হয়। আর ইটভাটা চালাতে গেলে একটু খড়ি তো লাগেই।’

এমবিকে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘গ্রামের মধ্যে ইটভাটা কীভাবে সম্ভব? প্রশাসন একসময় বন্ধ রাখতে বলেছিল। ১৩৭ জন স্বাক্ষর দিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব নাটকের কোনো মানে হয় না।’

তাদের অভিযোগ, ইটভাটার কারণে রাতের বেলা ভারী যান চলাচলে ঘুম ভেঙে যায়, ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং কৃষিজমি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।’

পোরশা উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু ফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু বলেন, ‘কোনোভাবেই খড়ি পোড়ানো যাবে না। এটি আমাদের প্রথম কমিটমেন্ট ছিল। কেউ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে এম.বি.কে ইটভাটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকলেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা দেব।’

নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন জানান, যেসব ইটভাটায় খড়ি পোড়ানো হচ্ছে, সেখানে আগের মতো এবারও অভিযান চালানো হবে। অভিযোগের সময় এম.বি.কে ইটভাটা বন্ধ ছিল। চালু থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ঘোষণা আসার পর গত এক মাসে জেলার ইটভাটা মালিকরা একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে সে সময় জেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।


গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব একটি আর্থসামাজিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর এবং কমলাপুর এলাকায় এক বিশাল শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের মৌসুমে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকশ অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বলসহ বিভিন্ন ধরণের শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর সঙ্গে কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সিনিয়র সভাপতি মোতাহার হোসেন এবং সহসভাপতি আনসারুজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মিজানুর রহমান। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা সবসময় পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরণের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অম্বিকাপুর ও কমলাপুর এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। মূলত তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্লাব কর্মকর্তারা দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


হজযাত্রীদের ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হজযাত্রীদের যেসব পরীক্ষা করাতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরিন আর/এম/ই, র‌্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), এক্স-রে চেস্ট (পি/এ ভিউ) রিপোর্টসহ, ইসিজি রিপোর্টসহ, সিরাম ক্রিটেনিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি উইথ ইএসআর) এবং ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং।

এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, হৃদযন্ত্রের অকৃতকার্যতার সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কিডনি জটিলতায় এস ক্রিয়েটিনিন ও ইউএসজি অব কিইউবি, লিভার সিরোসিসের সন্দেহে ইউএসজি হোল অ্যাবডোমেন ও আপার জিআইটি এন্ডোস্কপি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তে স্পুটাম ফর এএফবি, সিটি স্ক্যান অব চেস্ট, সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি ও অ্যালবুমিন গ্লোবিউলিন রেশিও পরীক্ষা।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইলের কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে জমা দিয়ে টিকা গ্রহণ করতে হবে। টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হবে। হজসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।


banner close