সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বাগেরহাটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের বাড়িতে আগুন দিল জনতা

বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারী গোড়া নালুয়া এলাকার ডাবলু মুন্সির ছেলে দেলোয়ার মুন্সীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ৬ মে, ২০২৩ ১৩:১০

বাগেরহাটের চিতলমারীতে আব্দুল জব্বার শেখ (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়ছে। ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাজীব শেখ (২৬) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত পোনে ১০টার দিকে উপজেলার গোড়া নালুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত রাজীবকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আব্দুল জব্বার শেখ চিতলমারী উপজেলার বড়বাক এলাকার আব্দুল হক শেখের ছেলে। আর রাজিব শেখ উপজেলার গোড়া নালুয়া এলাকার মো. তৈয়ব শেখের ছেলে।

চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. মুক্তি বিশ্বাস জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আব্দুল জব্বার শেখ ও রাজীব শেখ নামে দুই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে আব্দুল জব্বার শেখ মারা যান এবং রাজীব শেখকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাদরাসাছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আব্দুল জব্বার ও রাজীবের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারী গোড়া নালুয়া এলাকার ডাবলু মুন্সির ছেলে দেলোয়ার মুন্সীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান জানান, নারীঘটিত বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


মেহেরপুরে পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩

আপডেটেড ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৮
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ ভাঙচুর করা হয়েছে সখের ব‍্যাবহৃত মোটরসাইকেল ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে৷

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফজলু শাহ-র ছেলে জীবনের কাছে টাকা পায় ওই গ্রামের রবি৷

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে রবি তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে জীবনের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়৷

এসময় জীবন ও শীলন দুই ভাই রবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে৷ এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রবির পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে জীবনের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে পুলিশ৷

এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে৷ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷


বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি করা সেই শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মারামারির ঘটনায় আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে সামায়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার, কলেজ শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে পড়ে। সেটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।


খাল খনন কর্মসূচি কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘খাল ও নদী–নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি, যে কারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করব। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

তিনি মনে করেন, খাল খনন কর্মসূচি এ অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ—যা যা প্রয়োজন, অবকাঠামোর সব ধরনের উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।

শনিবার বিকালে ফরিদপুর-২ আসনের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত সরকার উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসাব আমরা করি না। কে কোন দল করে, তা–ও আমরা দেখব না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত–নির্বিশেষে আমরা সবার জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাকে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলাগুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবশত কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।

সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন জনগণের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের ওপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নেব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, পুলিশ প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে থাকবে।

‘যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে, তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় নয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; সে যে দলেরই হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ার করে দেন শামা ওবায়েদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।


ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রবৃষ্টির আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তিন বিভাগে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও ফেনী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ দেশের কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।


লোডশেডিংয়ের কারণে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে চারগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের সব কিছু এখন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। একটি জামদানি শাড়ি পাওয়ারলুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) আগে উৎপাদন খরচ হতো ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেটা ডিজেল চালিত জেনারেটরে খরচ বেড়ে চারগুণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শাড়ি তৈরিতে জ্বালানি খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে তাঁতশিল্পে হাহাকার শুরু হয়েছে। কথাগুলো এভাবেই হতাশার সুরে বলেছেন কয়েক যুগ ধরে তাঁত ব্যবসার সাথে যুক্ত খামারগ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ আফজাল হোসেন লাভলু।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে বেলকুচি উপজেলার জামান টেক্সটাইলের তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুম মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকরা বাহিরে বসে লুডু খেলছে। অনেকে মোবাইলে গান শুনছে, আবার কেউ অলস সময় কাটাচ্ছে।

শেরনগর গ্রামেন তাঁত শ্রমিক মহির উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে কাপড় তৈরি করতে পারছি না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কাজ না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেনা করে চলতে হচ্ছে।

আরেক শ্রমিক সাজেদুল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ, ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না তাই মেশিন বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে লুডু খেলে সময় পার করছি।

এদিকে তাত মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও চাহিদামতো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের কাপড় উৎপাদন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই পেশা বদল করছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁত কল। কেউ কেউ ব্যাংক লোন নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁত কুঞ্জ ব্র্যান্ডিং জেলা সিরাজগঞ্জ। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল। তবে অব্যাহত লোডশেডিং ও জালানি সংকটসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত সমস্যার কারণে ইতোমধ্যে বহু তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে জ্বালানি খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার বসে থাকছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আলহাজ আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘বড় বড় তাঁত কারখানা মালিকরা চড়া দামে ডিজেল কিনে চারগুণ খরচ বৃদ্ধি করে কাপড় তৈরি করছে। বাজারে টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে প্রান্তিক তাঁতিরা, যাদের ৫-১০ তাঁত তারা বিপাকে পড়ে তাঁতকল বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫ লাখের মধ্যে জেনারেটর (ডিজেল চালিত) ও হস্তচালিত দুই লাখ বাদে বাকি তাঁতকল বন্ধ হবার পথে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত সকল সংকট ও সমস্যা নিরসন করতে হবে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ঢাকায় ফেরার পথে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিখোঁজ হওয়া ওই কাস্টমস কর্মকর্তার নাম বুলেট বৈরাগী (৩৫)। নিহত বুলেট কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণের উদ্দেশে চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনও হদিস না পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার জিডি করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে হকারদের জন্য দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

এছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


গাইবান্ধার বেকরীরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়: হস্তান্তরের আগেই নান্দনিক ভবনে ফাটল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

দেখতে নান্দনিক, মনোরম পরিবেশে, অনেকখানি জায়গাজুড়ে নির্মিত ভবনটিতে আলো, হাওয়ার খেলা সারাক্ষণ। এটি নির্মাণে সরকারের ব্যয়ও হয়েছে প্রচুর। সবে হস্তান্তর করা হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার। অথচ হস্তান্তরের আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিম্নমানের কাজ দেখে শুরুতেই অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় আছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস থেকে জানা যায়, বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহিতি অ্যান্ড জেডএইচডি (জেবি)। কাজটি করেন সুন্দরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বরে কাজ শুরু হয়ে এটি শেষে করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ১৯ জুন। সেই কাজ শেষ করা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয় চলতি মাসের ১৪ তারিখে। কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬২ টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুদৃশ্য একটি তিনতলা ভবন। ওঠানামা করার জন্য সিঁড়ি আছে দুটি। একটি র‍্যাম্প, আরেকটি স্বাভাবিক সিঁড়ি। র‍্যাম্পটা নিচ থেকে একবারে বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা পর্যন্ত সংযুক্ত। সেই র‍্যাম্পে অসংখ্য ফাটল। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে র‍্যাম্পের মুখে তালা দিয়ে এতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ২৪৯ জন শিশুর পড়াশোনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বিল্ডিংয়ের পলেস্তারা ফেটে চৌচির। বিশাল ফাটল দেখা গেছে পানির টাংকিতেও। বিদ্যুতের লাইনগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বোর্ডে সুইচের স্থানগুলো ফাঁকা রয়েছে। অসাবধানতাবশত যে কেউ হাত দিলে বিদ্যুৎ শক খেতে পারে। আর এ ফাটলগুলো বিল্ডিং হস্তান্তরের আগেই দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এটা কেবল বিদ্যালয় নয়। বন্যার সময় এ অঞ্চলের মানুষজন এর নিচ তলায় আশ্রয় নেবে। আশ্রয় নেবে গবাদিপশুও। বানভাসি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ আশ্রয়কেন্দ্রটি। কিন্তু এটাতে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের টাকাগুলো বানের জলে ভেসে যাবে।

তারা আরও জানান, শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজনদের এখানে আসতে তেমন একটা দেখেননি। সে কারণে অনিয়মের কথাগুলো ঠিকাদারের লোকজনকে বলেছিলেন। তারা উল্টো স্থানীয়দের ধমক দেন।

রামডাকুয়া গ্রামের মো. আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মো. রমজান আলী (৪৫) বলেন, ‘এই স্কুলে আমার ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমি তারে নিয়া র‍্যাম্প দিয়া ওপরে ওঠার সময় দেখি ফাটা। তারপরও ভয়ে ভয়ে ওপরে উঠি। এরপরে ওপরে উঠে দেখি তালা দেওয়া। পরে আবার নিচে নামি। পরে অন্য সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। পরে স্যারদের বললাম সিঁড়ির মুখ বন্ধ ক্যা। তখন তারা বলেন, সিঁড়িগুলোতে ফাটল দেখা দিছে। সে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিল্ডিংটা করার এখনো তিন মাস হয় নাই। তাতে যে ফাটল ধরইছে। তাতে মনে হয় আরও দিন গেইলে কী যে হউবে আল্লায় সেটা ভালো জানে। তবে এই স্কুলে ছেলেমেয়েরা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ জিউ হামার হাতোত থাকে। না জানি কখন কোনো বিপদ হয়। আরও বন্যা আইলে কী যে হইবে সেই টেনশনও মাথায় ঘুরপাক করে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তফসিরা চৌধুরী বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। আর অফিশিয়ালি বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয়েছে চলতি মাসের ১৪ তারিখে। তবে এ ভবনে ওঠার আগ থেকেই এ ফাটলগুলো ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে আমি একাধিকবার ইঞ্জিনিয়ার অফিসের তপন স্যার, মিলন স্যার এবং ঠিকাদারকে বলেছি। তারা শুধু বলেন আসবেন। কিন্তু আসেন না।

এ বিষয়ে কথা হয় বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল হয়েছে, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে কাজটা শুরু করার পরে কয়েকবার গিয়েছিলাম। তখন কাজে অনিয়ম দেখে এলজিইডি অফিসে কথাও বলেছিলাম। তারা কেন জানি গুরুত্ব দেননি।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রিতমের সঙ্গে দেখা করা হলে তিনি এ নিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘এ ধরনের কাজে হেয়ার ক্রাক হয়ে থাকে অনেক সময়। কিউরিন খারাপ হলে এ ধরনের সমস্যা হয়। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারপরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সে রকম হলে আবারও ঠিক করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী অফিসে দেখা করতে বলে ফোন কেটে দেন। পরে অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি।


শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৬ ট্রাক জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের পরিচালিত অভিযানে এসব ট্রাক জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। তবে জব্দ করা ট্রাকগুলোতে কোনো বালু পাওয়া যায়নি।

এদিকে কমলগঞ্জের শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে বালুসহ একটি ট্রাক আটক করেছেন। ট্রাকটি উপজেলার সুনছড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছিল বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ট্রাকটি আটক করে বিষয়টি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ এক মানবপাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। আটক মো. ইয়াসিন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

সুজন জানান, মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইয়াসিনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইয়াসিন দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মানবপাচারের মামলা রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও আটককৃত ব্যক্তির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নীলফামারীতে বালু লুটের মহোৎসব, ঝুঁকিতে শত একর জমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগ স্থল দিয়ে বয়ে যাওয়া চাড়ালকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশত একর আবাদি জমি। বালুবাহী ট্রলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। তবে এসব দেখেও উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাড়ালকাটা নদীর তীর কেটে চলছে বালু বিক্রির মহোৎসব। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ট্রলি গাড়িতে বালু বিক্রি। সেখানে সাংবাদিক প্রবেশ ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় পাহারায় থাকেন। নদীর তীরে ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু কেটে বিক্রি করছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশে অসংখ্য আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও ভিটেবাড়ি। স্থানীয়রা এ নিয়ে দিন-রাত আতঙ্কিত থাকলেও প্রভাবশালী মহলের বালু বিক্রি থামছেই না।

আরও দেখা যায়, বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়ার কালুরঘাট ব্রিজ এলাকার চাড়ালকাটা নদী ও বাহাগিলী ব্রিজ এলাকায় চলছে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি। রাস্তা দিয়ে বালুবাহী ট্রলি চলাচল করায় মোটরসাইকেল কিংবা কোনো যানবাহন চলার উপায় নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ম্যানেজ করেই এ কাজ করে আসছে। তারা একটি বালুর লট ইজারার নামে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগসহ একাধিকবার অবগত করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। প্রভাবশালী মহলটির বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পায় স্থানীয়রা।

নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, নীলফামারী সদরের চার নম্বর বালুর লট ইজারা নিয়েছি। তবে স্থানীয়রা রাস্তা দিয়ে বালু নিয়ে যেতে দিচ্ছেন না। এজন্য আমরা নিজের জমির বালু বিক্রি করছি, এটা আমার মালিকানা জমি। নদী খনন করে আমার জমি বন্ধ করে রেখেছিল। আমি এখন সেটা বিক্রি করে আমার জমি বের করছি। এভাবে বালু বিক্রির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

হাসান আলী নামে আরেকজন বলেন, আমরা সদরের বালু ইজারা নিয়েছিলাম। আমাদের বালু কেটে বিক্রি করতে দিচ্ছে না। আমরা এজন্য বিভিন্ন মালিকের নিজস্ব জমির বালু কেটে বিক্রি করছি। আমরা গাড়ি প্রতি চারশো থেকে পাঁচশত টাকা পাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তাদের কিছু বললে বিভিন্নভাবে হুমকি হয়রানি করে। এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। এলাকাবাসী কয়েকবার গেয়েছিলাম তবুও তিনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। যারা বালু বিক্রি করছে, তারা সদরের কিছু বালু ইজারা নিয়েছিল। সেটা স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা রাস্তা না থাকায় বিক্রি করতে পারছে না। তবে এভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে , মাঝেমধ্যে কেউ আটক করলে তাদের ওই ইজারা নেওয়ার বালুর স্লিপ দেখায় কিন্তু ওই বালু এখনও কাটতে পারেনি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, এখানে রাস্তা ঘাটের খুব বাজে অবস্থা, চলাচল করার মতো না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছি। সারারাত ট্রলি গাড়িতে বালু নিয়ে যায়, গাড়ির শব্দে ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করায় আমাদের কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙন দেখা যায়, এভাবে তীর কাটলে আবাদি জমিসহ নদীতে সব ভেঙে যাবে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির বিষয়টি জানলাম, এটি আমি দেখব।


ফরিদপুরে কুমার নদী পুনখনন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে নাব্যতা হারানো কানাইপুর বাজার সংলগ্ন কুমার নদী পুনঃখনন শুরু হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ওই এলাকায় মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ সময় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিএনপি সরকার কাজ করে জনগণের জন্য। আর তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই জনকল্যানে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নারীদের জন্য বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বলেন, আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি আগামী জুন মাসের বাজেটের পর থেকেই এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ,মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকী মিতুল,ব্যবসায়ী চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ প্রমুখ।


১৫ বছর ধরে  শিকলবন্দী ২৪ বছরের তরুণী মিতু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে। ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিতু। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় সর্ব সময় । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো, যা তার সাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়েছে। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধী

মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়—এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে লোহার শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।

মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় ৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে।

দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কারণে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলেছি এবং আমরা আশা করছি অতি শিগগিরই উনাকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা দিবো এবং আমাদের যে হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম রয়েছে যে মেডিসিন গুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা নিবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার দৈনিক বাংলা প্রতিবেদককে অবগত করে বলেন আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে। দেখার পরে যে ধরনের সহযোগিতা বা কি করলে ভালো হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করবো আমরা।


banner close