বাগেরহাটের চিতলমারীতে আব্দুল জব্বার শেখ (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়ছে। ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাজীব শেখ (২৬) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত পোনে ১০টার দিকে উপজেলার গোড়া নালুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত রাজীবকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আব্দুল জব্বার শেখ চিতলমারী উপজেলার বড়বাক এলাকার আব্দুল হক শেখের ছেলে। আর রাজিব শেখ উপজেলার গোড়া নালুয়া এলাকার মো. তৈয়ব শেখের ছেলে।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. মুক্তি বিশ্বাস জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আব্দুল জব্বার শেখ ও রাজীব শেখ নামে দুই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে আব্দুল জব্বার শেখ মারা যান এবং রাজীব শেখকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদরাসাছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আব্দুল জব্বার ও রাজীবের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারী গোড়া নালুয়া এলাকার ডাবলু মুন্সির ছেলে দেলোয়ার মুন্সীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান জানান, নারীঘটিত বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সেই সাথে হাওরজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বন্যার আশঙ্কা।
জানা যায়, কালনী নদীর পানির লেভেল ২.৪৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা প্রাক-বর্ষা বিপৎসীমার (৫.৩৫ মিটার) ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী ইটনা স্টেশনে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.১৪ মিটার এবং চামড়াঘাট স্টেশনে ধনু নদীর পানি ২.৭৫ মিটারে অবস্থান করছে। পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কম থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক পানি বৃদ্ধির কারণে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা ঘর থেকে বের হতে না পারায় কোনো কাজ পাচ্ছেন না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারে উনুন জ্বলছে না, ফলে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই দশা হাওরের জেলেদেরও। বৈরী আবহাওয়া এবং তীব্র স্রোতের কারণে জেলেরা নদী বা হাওরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। জাল-নৌকা গুটিয়ে বসে থাকায় তাদের দৈনিক আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
নদী ও হাওরের পানি এখনো পুরোপুরি বিপৎসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম না করলেও আকস্মিক ঢল ও বৃষ্টির ধারাবাহিকতায় তীরবর্তী মানুষ গবাদিপশু এবং ঘরবাড়ি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে। দ্রুত সরকারি বা বেসরকারিভাবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছালে হাওরবাসীর দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, হাওরের নদ-নদীতে প্রতিদিন পানি বাড়ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং এই মুহূর্তে বড় কোনো বন্যার সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নেই। তবে যেহেতু প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই যেকোনো সময় বন্যার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া ৪২১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ পাহাড়ায় খাগড়াছড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পর্যটকবাহী ১০১টি ছোট-বড় যানবাহনের একটি বহর সাজেক থেকে বাঘাইহাট হয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
খাগড়াছড়ি ও সংলগ্ন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবল বৃষ্টির ফলে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি ও রাস্তার পানি কিছুটা কমে আসায় আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এই উদ্ধার কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়, যেখানে পর্যটকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই বহরটি বিদায়ের পর বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় আর কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।
উদ্ধারকৃত পর্যটকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সেনাবাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সহযোগিতার ফলেই তারা কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই গন্তব্যে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন যে, পর্যটকরা খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর পর যেন কোনো অসুবিধায় না পড়েন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন, সেজন্য স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আষাঢ়ের শেষভাগে এসে আকাশভাঙা বৃষ্টি আর ভারতের ত্রিপুরা হতে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীতে প্রবল পানির তোড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির উচ্চতায় নদী তীরবর্তী পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা বর্তমানে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় রাত পোহালেই লোকালয় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন লাখো মানুষ।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যদিও তা এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবে ক্রমাগত ঢলের ফলে যেকোনো সময় তা লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি বছরই নদী ভাঙনের ফলে তাদের কৃষিজমি, গবাদিপশু এবং মৎস্য ঘের হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।
সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ফেনী জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গত মানুষের জন্য ৮০টি স্থায়ী ও ১৪৪টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলায় নৌকার সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম জানিয়েছেন যে, বর্তমানে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার ১৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল ও ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির জেরিক্যান, তেরপল, লাইফ জ্যাকেট, রেইনকোট এবং টর্চলাইটের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য ও ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিন পাঠানো হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক সর্বস্তরের জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান যে, সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাউবো-এর পক্ষ থেকে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো চিহ্নিত করে জরুরি মেরামতের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মাঝে মেঘ কেটে শান্ত পরিস্থিতির অপেক্ষায় রয়েছেন ফেনীর নদীপাড়ের মানুষ।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কায় দেশের সকল সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সংস্থাটির আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির বিবরণে জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে শক্তি হারিয়ে লঘুচাপ হিসেবে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি ক্রমশ আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় উপকূলীয় এলাকা ও বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের শিল্প খাত শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ভালো না হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। তাই শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে সরকার আশাবাদী আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘গিয়ার্ড আপ’ বা পুরোপুরি প্রস্তুত।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় বৈঠকেই সমাধান হয়েছে। আর যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো সরকার বিবেচনা করবে। আমরা চাই আমাদের শিল্পগুলো ভালো করুক। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে শিল্পখাত ভালো করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামীদিনের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান অনেকটাই শিল্পের ওপর নির্ভর করছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা চলবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করতে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডি-রেগুলেশন) করেছে। এরপরও যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ তিনজনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী।
তালিকায় আরও আছেন—সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।
এছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন—মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মোৎ. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম।
সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় আছেন—মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
টানা অতিবর্ষণে রাঙামাটিসহ পার্বত্যাঞ্চলে দুর্যোগ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। ভারি বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় ১ শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে আরও দুই শিশু এবং চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলে অনেক ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ বাসিন্দারা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ২৬৫ জন অবস্থান করছেন। আশ্রয় নেওয়া সবাইকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১০০টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাপ্তাইয়ে ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বিলাইছড়িতে ৩৭টি এবং নানিয়ারচরে ২টি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, উপজেলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া এক বহিরাগত ব্যবসায়ী বুধবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নতুন করে অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা (পিতা: অলা চাকমা) গত ৭ জুলাই নদী পারাপারের সময় স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫: টানা চার দিনের ভারি বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় ১ শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান, মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)। অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড়ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়করে উপর পাহাড়ধসে পড়ে, সড়কধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকান পাঠ, সরকারি বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবীর প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবী মানুষ। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহ পালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা। এদিকে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদেরকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুযো©গ কবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর নাগাদ মাতামহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়। টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড়ধসে আরো মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর চারটার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের উপর পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আক্রান্তদের উদ্ধার করেন। ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য মারা যান। এদিকে একই রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড়ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হন। ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মত ঘরবাড়ি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানায়, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানি বন্দি হয়েছে ১০০০ পরিবার। ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক। এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড়ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা© মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড়ধসে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদেরকে যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তায় নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড়ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রসহ বন্যা কবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা ঘাট ভেঙেচুরে তছনছ হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত চুড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়ায় পাহাড়ধসে দুই জনের মৃত্যু :
কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত এক কিশোরীর নাম রুমি আক্তার (১৫)। সে মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের কন্যা এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর শিশুর নাম মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। সে একই এলাকার আবদুল মজিদের পুত্র এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা সর্ম্পকে একে অপরের চাচাতো জেঠাতো ভাইবোন।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে । আমার এলাকায় একটি কিশোর ও একটি শিশুর পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা।
চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে মো. ইশতিয়াক নামে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান সর্দ্দারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইশতিয়াক ওই এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন বলেন, ইশতিয়াক সকালে খেলতে বের হয়েছিল, দুপুরের দিকে ঘরে না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানির মধ্যে দেখতে পান তাকে। সেখান থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় ৩টি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইফুল ইসলাম জানান, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ও বিকালের দিকে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত ৩টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ পচে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাশগুলো মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির হতে পারে। উদ্ধারকৃত লাশগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা পাঁচ দিনের ভারিবর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। পৌর এলাকার কোচপাড়ায় ঘর হারিয়েও ভিটেমাটি আকড়ে পড়ে আছেন ৭৫ বছরের আনোয়ারা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টানা পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে চকরিয়া পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের কোচপাড়া এলাকায়। নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা।
চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এক একটি ঘর। তবুও ভিটে ছাড়তে নারাজ আনোয়ারা কোচপাড়ায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি বসবাস করছেন। বিগত বন্যায় তাঁর একটি ঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলমান বন্যায় তীব্র স্রোতে তার বর্তমান ঘরটিরও এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো ঘরটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে।
এমন ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ঘর ছাড়তে রাজি নন এই বৃদ্ধা। ভাঙনকবলিত ঘরের বাকি অংশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঠায় বসে আছেন তিনি। অশ্রুসিক্ত চোখে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘যে বসতভিটায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছি, চোখের সামনে তা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এই ভিটেমাটি নিজের চোখে দেখেই মরতে চাই, তবুও এখান থেকে যাব না।’
হুমকিতে দুই হাজার পরিবার, ইতোমধ্যে গৃহহীন অনেকেই স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কোচপাড়া এলাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে অন্তত তিনশ পরিবার সরাসরি মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। এবারের ও পূর্ববর্তী বন্যার থাবায় ইতোমধ্যে এই এলাকার বহু মানুষ তাদের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দিন দিন ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় নদীপাড়ের মানুষদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান:
নদীর তীরবর্তী এলাকার সকল বাসিন্দাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্থানে অবস্থান নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ বা দুর্যোগকালীন সুযোগ-সুবিধা আসা মাত্রই তা দ্রুততম সময়ে বানভাসি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু সতর্কবার্তা বা আশ্বাসে তাদের সংকটের সমাধান হচ্ছে না। মাতামুহুরী নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এই মুহূর্তে জরুরি পুনর্বাসন ও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে ভবিষ্যতে শুধু সিটি বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে আন্তঃজেলা বাস পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে গুলিস্তানের বাসটার্মিনালও নদীর ওপারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সায়েদাবাদ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়নি। যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে এটি বাসের গ্যারেজ ও ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। অথচ একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করা।’
তিনি জানান, টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত প্রতিটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাসটার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষমাণ রাখতে পারবে। এর বেশি বাস রাখা যাবে না।
যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম বলেন, ‘রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও সুবিধা বাড়ানো হবে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আগে সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার বা ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘এবার আর অবৈধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, সায়েদাবাদকে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
‘ক্লাইমেট অ্যাকশন: জলবায়ু পরিবর্তন—আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬। পরিবেশ সুরক্ষাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, পিরোজপুরের যৌথ উদ্যোগে জেলা সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ ‘আব্দুর রাজ্জাক - সাইফ মিজান স্মৃতিসভা কক্ষে’ এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করতে আগামী বছর থেকে ‘পরিবেশ পদক’ প্রদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় যারা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন, তাদের আমরা আগামী বছর থেকে পরিবেশ পদক দিয়ে সম্মানিত করব। এছাড়া আমাদের নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। আমি ইতোমধ্যে নিয়মিত দখল উচ্ছেদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যাতে কৃষিনির্ভর এই অর্থনীতিতে কৃষি বিপ্লব সম্ভব হয়।”
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা ও নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। আমরা কতটুকু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছি, তার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের পরিবেশের ভবিষ্যৎ।”
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের চাপে পিষ্ট না করে তাদের মানসিক বিকাশে পরিবেশবান্ধব ও আনন্দদায়ক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস. এম. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, পিরোজপুরের সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র ঢালী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সবশেষে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পিরোজপুর গড়ার লক্ষ্যে তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই সবুজায়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১ টায় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে মহাপরিচালক বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ করেন। একইসঙ্গে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন সকল জোন, স্টেশন ও আউটপোস্টে সমন্বিতভাবে বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচি পালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্র ও উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও কোস্ট গার্ডের জাতীয় দায়িত্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত নৌযান চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন ভৈরব বাজার লঞ্চঘাট, আশুগঞ্জ কার্গোঘাট এবং ভৈরব ফেরী ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে চলমান এবং মুরিংকৃত নৌযানের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেহেরু নিগার তনু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ০৯ টি নৌযানকে সর্বমোট ৫৫,০০০/- ( পঞ্চান্ন হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উপ-পরিচালক, নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আশুগঞ্জ -ভৈরব বাজার নদীবন্দর; বন্দর ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সুপারভাইজারগণ, আনসার সদস্যবৃন্দ এবং নৌ পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।