শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মিয়ানমারকে ফায়দা লুটতে দেবে না ঢাকা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তর। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:১৩

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চায় মিয়ানমার। এ কারণেই দেশটি সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। তবে সেই ফাঁদে পা দেবে না বাংলাদেশ। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সীমান্ত ইস্যুর সমাধানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায় ঢাকা। প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম। এই বার্তাই ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় সব দেশের মিশনপ্রধানদের ডেকে জানিয়েছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম। তবে সে বৈঠকে যোগ দেয়নি মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে পরিচিত দেশ চীনের কোনো প্রতিনিধি। বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখেনি ঢাকা।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের সাহায্য চেয়েছি। যাতে মিয়ানমার এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে। আমরা কোনোভাবেই এতে জড়িত হতে চাই না। রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার অজুহাতের সুযোগ মিয়ানমারকে দিতে চাই না।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে কিংবা আরও অবনতি হলে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়েও জানতে চান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত কূটনীতিকেরা।

বৈঠকে অংশ নেয়া একজন কূটনীতিক বলেন, যেহেতু প্রায় সব দেশের মিশনপ্রধানেরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাই সবার কথা বলার সুযোগ ছিল না। তবে কয়েকজন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান মিয়ানমারে চলমান সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হতে থাকে বা পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয়, আবারও সীমান্তে মিয়ানমারের মানুষ প্রবেশ করে তখন বাংলাদেশ কী করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো মানবিক সহায়তা প্রয়োজন আছে কি না? এ ছাড়া এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে কি না—সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

বৈঠক সূত্র বলছে, জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আর কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ। সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আর অবশ্যই মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত ইস্যুটি জাতিসংঘে উপস্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাবে বাংলাদেশ।

আগের দিন (সোমবার) আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের ব্রিফ করে ঢাকা। তারও আগে কয়েক দফায় ডাকা হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে। এ বিষয়ে খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে প্রাণহানি ঘটেছে এবং যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি আগেই মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে জানোনো হয়েছিল।

খুরশেদ আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলাম আপনারা অ্যাকশন নেন যাতে কোনো ধরনের গোলা আমাদের দেশে না আসে। পরে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকে অনুরোধ করেছি মিয়ানমারকে বোঝাতে।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের বলেছি, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। এমন কিছু করিনি যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের জনগণের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, ধানখেতে যেতে পারবে না, ঘর-বাড়িতে থাকতে পারবে না- এটা তো চলতে দেওয়া যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যারা এসেছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। আমরা যে চরম ধৈর্য দেখাচ্ছি, কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। তারা বলেছেন, নিজেদের কর্তৃপক্ষকে তারা বিষয়গুলো জানাবেন। ভবিষ্যতে যদি কিছু করণীয় থাকে বিশেষ করে যদি জাতিসংঘে কোনো কিছু করণীয় থাকে তাহলে এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারের আচরণ এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে। বাংলাদেশ পশ্চিমে, দক্ষিণে মিয়ানমার আর্মি, উত্তরে আরাকান আর্মি। তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার কথা না, যদি কেউ ইচ্ছে করে না করে। এই সংঘাতে আমাদের জড়ানোর যে প্রচেষ্টা তাতে আমরা জড়িত হব না।’

খুরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যাতে করে মিয়ানমার বুঝতে পারে এ রকম একটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করা তাদের জন্য যেমন বিপজ্জনক তেমনি বাংলাদেশও এটা ভালোভাবে নেবে না।’

চীনের অংশ না নেয়াকে ভালোভাবে দেখছে না ঢাকা

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাকা এই বৈঠকে চীনের অংশ না নেয়াকে ভালোভাবে দেখছে না ঢাকা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের নোটিশে মিশনপ্রধানদের ডাকা হলেও প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন। চীনের কোনো প্রতিনিধিকে আমরা পাইনি। গুরুত্বপূর্ণ কাজে রাষ্ট্রদূত ব্যস্ত থাকতেই পারেন, কিন্তু তিনি চাইলে কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারতেন। সেটা না পাঠানোয় আমরা একটু অবাকই হয়েছি।’

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে চীন কিছু সহায়তা করেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশের বন্ধু নয়। মনে রাখতে হবে, চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় অংশীদার। মিয়ানমারের ৭৫ শতাংশ অস্ত্রের সরবারহকারী চীন। ঢাকার কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অংশ না নিয়ে চীন নিজেদের অবস্থান আরো স্পষ্ট করেছে। মানে ঢাকার এই ব্রিফিং চীন পছন্দ করছে না।

একসময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক বলেন, এখন বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুটি আলোচনায় আনা। বিশেষ করে ‘ইউনাটিং ফর পিস রেজুলেশন’ আনতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘে উপস্থিত চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বসে এ বিষয়ে আলোচনাও করা ‍উচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পাশাপাশি মিয়ানমার এখনই না থামলে বাংলাদেশ যে উচিত শিক্ষা দেবে সেটা বোঝানোর জন্য হলেও সীমান্তে কিছু সেনা মজুত করার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়ালিউর রহমান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উল্টো দোষ চাপাল মিয়ানমার

এদিকে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে সীমান্তে মর্টার হামলার দায় আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ওপর চাপিয়েছে মিয়ানমার সরকার। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ‘ঘাঁটি’ থাকার অভিযোগ তুলে সেগুলোর তদন্ত ও অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেছে।

গত সোমবার নেপিদোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনজুরুল করিম খান চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উ জাউ ফিউ উইন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে অব্যাহতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীদের পরিখা ও ঘাঁটি থাকার তথ্য গত ৭ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানোর কথা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে এক্ষেত্রে সরেজমিনে তদন্ত এবং সেসব স্থাপনা ও ঘাঁটি ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের আহ্বান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করে ঢাকা। পরদিন সোমবার আসিয়ান দেশের রাষ্ট্রদূতদের পরিস্থিতি জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৫
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ভোমরা, কাকডাঙ্গা, মাদরা, সুলতানপুর ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) মাদক চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ২৩ বোতল মদ, ৭০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ৫৮৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লেসহ ঔষধ, শাড়ি ও কমমেটিকস সামগ্রী আটক করে।

ভোমরা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ দল মেইন পিলার ৩ হতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন শ্মশান ঘাট ও ফলমোড় নামক স্থান হতে ৩৮,৫৬০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, জিরা ও ফুসকা আটক করে। মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল

কলারোয়া থানাধীন উত্তর ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৪০ হাজার -টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির কলারোয়া থানাধীন ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শার্টের পিস আটক করে। মাদরা বিওপির কলারোয়া থানাধীন তেঁতুলতলা মাঠ নামক স্থান হতে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে। সুলতানপুর বিওপির কলারোয়া থানাধীন আমবাগান নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়া হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস এর ১৪ আরবি কলারোয়া থানাধীন বড়ালী নদীরপাড় নামক স্থান হতে ২০,৪৪,০০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক করে।

সর্বমোট তেইশ লক্ষ দুই হাজার টাকা মূল্যের মাদক চোরাচালানী মালামাল জব্দ করে। এবিষয়ে মাদক ও চোরাচালান আইনে মামলা হয়েছে বলে বিজিবি সুত্রে জানাযায়।


ফরিদপুরে যুবদল নেতাকে হাতুরী দিয়ে পিটিয়ে আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাতুরী ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বেরিবাঁধ এলাকায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পাঞ্জু মেম্বার, সজীব, সুজন গংদের সাথে বিরোধ চলছিল মো. বদর উদ্দিন বেপারীর। বিরোধের জেরে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন বেপারীর ছেলে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বাড়ী ফিলছিলেন। এসময় পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে সজীব, তামীম, সোহানসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন লোহার রড, হাতুরী, রামদা, ছ্যান নিয়ে জাহাঙ্গীরের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা হাতুরী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জাহাঙ্গীরকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীরা এসময় জাহাঙ্গীরের কাছে থাকা দোকানের সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। রক্তাক্ত অবস্তায় জাহাঙ্গীরকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে জাহাঙ্গীর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতা বদর উদ্দিন বেপারী জানান, জমি নিয়ে পাঞ্জু মেম্বারের সাথে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে আমার ছেলের উপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া আমার ছেলের কাছে থাকা রড, সিমেন্ট বিক্রির সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

হামলার শিকার যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতে বাড়ী ফেরার পথে পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে আমার উপর হামলা হয়। হামলাকারীরা হাতুরী, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমাকে মারাত্বক ভাবে আহত করে।

পাঞ্জু বেপারীর ভাই হেলালুদ্দিন জানান, আমাদের জায়গা জোরপূবক দখলে নিতে গেলে তাদের বাঁধা প্রদান করা হয়। এ নিয়ে আমার ভাইকে মারপিট করলে পরবর্তীতে মারামারি হয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


লামায় লাকড়ি বোঝাই গাড়ি খাদে পড়ে প্রাণ গেল ২ জনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা ( বান্দরবান)  প্রতিনিধি 

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক ২০০ ফুট পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী- লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইয়াংছা কালিরঝিরির বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাক চালক মো. আলমগীর (৩৫) ও পোয়াংবাড়ীর বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৪৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাত ৮ টার দিকে লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় কারো কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি দুইটি অপমৃত্যু রুজু করা করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪, জুমার নামাজের পর দাফন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এসব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতদের মধ্যে বরসহ তার পরিবারের নয়জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ মোংলার শেহালাবুনিয়া গ্রামে পৌঁছায়। অন্যদিকে কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু)–এর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান (সাব্বির)–এর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নবদম্পতিসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন।

পথিমধ্যে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) ও তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহত হয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।

জানা গেছে, বর আহাদুর রহমান মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান পরিচালনা করতেন। কনে মার্জিয়া আক্তার কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত উম্মে সুমাইয়ার শ্বশুর আবদুল আলীম বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তারা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতিও মারা গেছে।’

শুক্রবার সকালে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেছেন। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। বাড়ির ভেতরে পরিবারের চার নারী সদস্যের মরদেহ রাখা হয়েছে এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ।

নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার জানান, আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে মরদেহগুলো রাখা হয়েছে। গোসল শেষে একে একে নয়জনকে খাটিয়ায় তোলা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।


ঝিনাইদহে বিশ্ব কিডনি দিবসে র‌্যালি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি-মানুষের যত্নে বাঁচাও ধনণী’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে বিশ্ব কিডনি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ক্যাম্পস কিডনি ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের পক্ষ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এতে সংস্থাটির মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাত বিন শরিফ, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখকরে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।


নন্দীগ্রামে দুই দোকান মালিককে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে আইন অমান্য করায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ ও দুই দোকান মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম দক্ষিণপাড়া এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ করেছেন।

পরবর্তীতে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্যাকেটজাতকরণ ব্যতীত খোলা অবস্থায় লাচ্ছা-সেমাই বিক্রয়ের অপরাধে ফটিক কনফেকশনারি ও সোহাগ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জামিল উদ্দিন। সহযোগিতা করেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, ‘আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’


বান্দরবানে অফিস সময়েও স্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে তালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে নির্ধারিত অফিস সময়েও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দিনের পর দিন তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তথ্য ও সেবা নিতে প্রায়ই মানুষ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় অফিসে এসে গেইটে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। জনসেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ও হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিস কার্যালয়ের মূল ফটকে প্রতিবারই তালাবদ্ধ ও যোগাযোগেরমাধ্যম না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী অপর অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কর্মচারী -কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকায় তাদের দপ্তরের নামে আসা অধিকাংশ চিঠি এখানে দিয়ে যায় বাহকরা।’

বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রৌফ কার্যালয়ের মুল ফটকে তালা বদ্ধ করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তাদের কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে এমনটা করেছেন।’

প্রশ্নের জবাবে জনবল বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং মূলফটকে যোগাযোগের নম্বর স্থাপনের জন্য দোকানে প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। তবে তার দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।


মৌলভীবাজার: সবুজ পাহাড় আর প্রকৃতির টানে পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘের ছোঁয়া আর ঝরনার গর্জন—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্যে ঘেরা মৌলভীবাজার এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন সবুজ প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে। পাহাড়, চা-বাগান, হাওর-বিল, জলপ্রপাত ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য।

জেলার ৯২টি চা-বাগানের সবুজ সমারোহ, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, গর্জনধ্বনিময় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেকসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা মিলিয়ে মৌলভীবাজার এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই চায়ের রাজ্যে একবার এলে মন চায় বারবার ফিরে আসতে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়-টিলা আর চা-বাগানের সতেজ সবুজ পাতার মায়া যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীকে সহজেই আকৃষ্ট করে। এখানে এসে পর্যটকেরা খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি।

জেলার শতাধিক পর্যটনস্থলের মধ্যে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা।


কুষ্টিয়া দৌলতপুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মলেজান বেগম (৬৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মলেজান বেগম উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের মৃত এলাহী হোসেনের স্ত্রী। ​

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মলেজান বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই পরিবারের অগোচরে বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতেন। গত তিন দিন আগে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিলগাথুয়া এলাকার মাথাভাঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, নদী পার হতে গিয়ে বা অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

​এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।


আমতলীতে তরমুজের ভালো ফলন, চাহিদাও বাড়ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা আমতলীতে শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই জমে উঠেছে তরমুজের বাজার। প্রখর গরম আর মাহে রমজানের কারণে ইফতারির টেবিলে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামের কারণে এবার লাভের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমতলীতে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষি বিভাগ মনে করছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রতিদিন আমতলী থেকে ট্রাক ও ট্রলিভর্তি তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি। উপজেলার কুকুয়া এলাকার কৃষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১৮ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে থাকা ফল বিক্রি হলে মোট বিক্রি ৫০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

একই উপজেলার চাওড়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ১২ বিঘা

জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজারে যে দাম রয়েছে, তাতে খরচ বাদ দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার আশা করছেন। আবার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম জানান, অল্প জমিতে তরমুজ চাষ করেও ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

আমতলীর নতুন বাজার ও চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকান ও আড়তজুড়ে তরমুজের স্তূপ। স্থানীয় আড়তদার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আকারভেদে ছোট ও মাঝারি তরমুজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় তরমুজ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যেও তরমুজের চাহিদা চোখে পড়ার মতো।

দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, রমজানে ইফতারে তরমুজ না থাকলে যেন তৃপ্তি আসে না। দামও মোটামুটি সহনীয়, তাই মাঝে মাঝে কিনে নিচ্ছি।

পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময়ে তরমুজ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিয়া রহমান বলেন, তরমুজে প্রচুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে এ ফল বেশ কার্যকর।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ধানের পর এই অঞ্চলে তরমুজ এখন গুরুত্বপূর্ণ ফসল হয়ে উঠেছে। রমজানের কারণে বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা এবার ভালো লাভ করবেন বলে আশা করছি।

রমজানের বাজারে তরমুজের এমন জমজমাট বেচাকেনা শুধু কৃষকের অর্থনীতিতেই নয়, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাতেও এনে দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।


কাঁকড়া চাষের উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে পাথরঘাটা উপজেলায় কাঁকড়া চাষিদের মাঝে উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ)- অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কাঁকড়া চাষিদের মধ্যে বিভিন্ন উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেছে।

প্রতি উপকারভোগী সদস্য ১৮০ হাত সুপারির গড়া, একটি ডিজিটাল মিটার স্কেল, একটি পিএইচ ও অ্যামোনিয়া টেস্ট কিট, ২০০ গজ বেষ্টনি জাল, ৬টি কাঁকড়ার খাঁচা, একটি ফিড ট্রেসহ ৯টি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

এই উপকরণগুলো কাঁকড়া চাষিদের টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাঁকড়া চাষে সহায়তা করবে। স্থানীয় জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঁকড়া চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে অবদান রাখবে যা আরএইচএল প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা উপ-সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী, কোডেক জিসিএফ-আরএইচএল প্রজেক্টের আবু বকর ছিদ্দিক, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শেখ, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম খোকন।


কাপাসিয়ায় গণহত্যা, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম সভাপতিত্ব করেন ।

অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যোবায়ের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. সামসুদ্দীন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গণি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব মো. মফিজ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বেলাল হোসেন সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একেএম আতিকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আরিফ সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২

বাগেরহাটের রামপালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১১ সদস্যসহ মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে আসছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজন প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ২ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ শেষে বর্তমানে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


banner close