মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

মিয়ানমারকে ফায়দা লুটতে দেবে না ঢাকা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তর। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:১৩

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চায় মিয়ানমার। এ কারণেই দেশটি সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। তবে সেই ফাঁদে পা দেবে না বাংলাদেশ। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সীমান্ত ইস্যুর সমাধানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায় ঢাকা। প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম। এই বার্তাই ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় সব দেশের মিশনপ্রধানদের ডেকে জানিয়েছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম। তবে সে বৈঠকে যোগ দেয়নি মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে পরিচিত দেশ চীনের কোনো প্রতিনিধি। বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখেনি ঢাকা।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের সাহায্য চেয়েছি। যাতে মিয়ানমার এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে। আমরা কোনোভাবেই এতে জড়িত হতে চাই না। রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার অজুহাতের সুযোগ মিয়ানমারকে দিতে চাই না।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে কিংবা আরও অবনতি হলে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়েও জানতে চান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত কূটনীতিকেরা।

বৈঠকে অংশ নেয়া একজন কূটনীতিক বলেন, যেহেতু প্রায় সব দেশের মিশনপ্রধানেরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাই সবার কথা বলার সুযোগ ছিল না। তবে কয়েকজন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান মিয়ানমারে চলমান সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হতে থাকে বা পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয়, আবারও সীমান্তে মিয়ানমারের মানুষ প্রবেশ করে তখন বাংলাদেশ কী করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো মানবিক সহায়তা প্রয়োজন আছে কি না? এ ছাড়া এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে কি না—সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

বৈঠক সূত্র বলছে, জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আর কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ। সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আর অবশ্যই মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত ইস্যুটি জাতিসংঘে উপস্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাবে বাংলাদেশ।

আগের দিন (সোমবার) আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের ব্রিফ করে ঢাকা। তারও আগে কয়েক দফায় ডাকা হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে। এ বিষয়ে খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে প্রাণহানি ঘটেছে এবং যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি আগেই মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে জানোনো হয়েছিল।

খুরশেদ আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলাম আপনারা অ্যাকশন নেন যাতে কোনো ধরনের গোলা আমাদের দেশে না আসে। পরে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকে অনুরোধ করেছি মিয়ানমারকে বোঝাতে।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের বলেছি, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। এমন কিছু করিনি যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের জনগণের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, ধানখেতে যেতে পারবে না, ঘর-বাড়িতে থাকতে পারবে না- এটা তো চলতে দেওয়া যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যারা এসেছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। আমরা যে চরম ধৈর্য দেখাচ্ছি, কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। তারা বলেছেন, নিজেদের কর্তৃপক্ষকে তারা বিষয়গুলো জানাবেন। ভবিষ্যতে যদি কিছু করণীয় থাকে বিশেষ করে যদি জাতিসংঘে কোনো কিছু করণীয় থাকে তাহলে এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারের আচরণ এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে। বাংলাদেশ পশ্চিমে, দক্ষিণে মিয়ানমার আর্মি, উত্তরে আরাকান আর্মি। তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার কথা না, যদি কেউ ইচ্ছে করে না করে। এই সংঘাতে আমাদের জড়ানোর যে প্রচেষ্টা তাতে আমরা জড়িত হব না।’

খুরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যাতে করে মিয়ানমার বুঝতে পারে এ রকম একটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করা তাদের জন্য যেমন বিপজ্জনক তেমনি বাংলাদেশও এটা ভালোভাবে নেবে না।’

চীনের অংশ না নেয়াকে ভালোভাবে দেখছে না ঢাকা

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাকা এই বৈঠকে চীনের অংশ না নেয়াকে ভালোভাবে দেখছে না ঢাকা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের নোটিশে মিশনপ্রধানদের ডাকা হলেও প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন। চীনের কোনো প্রতিনিধিকে আমরা পাইনি। গুরুত্বপূর্ণ কাজে রাষ্ট্রদূত ব্যস্ত থাকতেই পারেন, কিন্তু তিনি চাইলে কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারতেন। সেটা না পাঠানোয় আমরা একটু অবাকই হয়েছি।’

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে চীন কিছু সহায়তা করেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশের বন্ধু নয়। মনে রাখতে হবে, চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় অংশীদার। মিয়ানমারের ৭৫ শতাংশ অস্ত্রের সরবারহকারী চীন। ঢাকার কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অংশ না নিয়ে চীন নিজেদের অবস্থান আরো স্পষ্ট করেছে। মানে ঢাকার এই ব্রিফিং চীন পছন্দ করছে না।

একসময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক বলেন, এখন বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুটি আলোচনায় আনা। বিশেষ করে ‘ইউনাটিং ফর পিস রেজুলেশন’ আনতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘে উপস্থিত চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বসে এ বিষয়ে আলোচনাও করা ‍উচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পাশাপাশি মিয়ানমার এখনই না থামলে বাংলাদেশ যে উচিত শিক্ষা দেবে সেটা বোঝানোর জন্য হলেও সীমান্তে কিছু সেনা মজুত করার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়ালিউর রহমান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উল্টো দোষ চাপাল মিয়ানমার

এদিকে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে সীমান্তে মর্টার হামলার দায় আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ওপর চাপিয়েছে মিয়ানমার সরকার। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ‘ঘাঁটি’ থাকার অভিযোগ তুলে সেগুলোর তদন্ত ও অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেছে।

গত সোমবার নেপিদোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনজুরুল করিম খান চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উ জাউ ফিউ উইন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে অব্যাহতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীদের পরিখা ও ঘাঁটি থাকার তথ্য গত ৭ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানোর কথা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে এক্ষেত্রে সরেজমিনে তদন্ত এবং সেসব স্থাপনা ও ঘাঁটি ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের আহ্বান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করে ঢাকা। পরদিন সোমবার আসিয়ান দেশের রাষ্ট্রদূতদের পরিস্থিতি জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


জুলাইযোদ্ধা সুরভীর জামিন মঞ্জুর

আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় যোদ্ধা তাহমিনা জান্নাত সুরভীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই পোস্টে জানানো হয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেছেন।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।


খেজুরের ‘রস’ প্রেমিদের জন্য আছেন একজন শহিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকৃতিতে এখন শীতের তীব্রতা। আর এ শীতের সকালে এক গ্লাস রসের স্বাদ নিতে কার না ভাল লাগে। শীত আসলেই খেজুর রস খেতে শিশির ভেজা সকালে দূরদূরান্তে বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যায় রস ভোজন প্রেমীরা। শীতকে উপেক্ষা করেই ভোর সকাল কিংবা রাতে খেজুর বাগানে ছুটে যান রসের স্বাদ নিতে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর ইট-পাথরের নগরে এখন রসও প্রায় না পাওয়ার মতো। রসপ্রেমী বিশুদ্ধ রস খুঁজে ফেরে। তেমনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রসপ্রেমীরা আসেন বিশুদ্ধ রস পান করতে। আর মো. শহিদ মোল্লা নামের এক গাছি রস প্রেমীদের রসের চাহিদা মেটাচ্ছেন। তার বাগানের রসের টানে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এসে ভিড় করছেন। অথচ তিনি মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান।

শহিদ মোল্লা বয়স ৪৬। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মৃত বজলুর রহমান মোল্লা ছেলে তিনি। তিনি গত ৭/৮ বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে খেজুর বাগান ক্রয় করে খেজুর রসের মৌসুমি ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এ বছর তিনি সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকার ১০ শতাংশ জমির খেজুর বাগান ক্রয় করেছেন। ৫০ হাজার টাকায় এ বাগান কেনেন। মৌসুমি চুক্তিতে ক্রয়কৃত বাগানটিতে ২৭টি গাছ রয়েছে। সেই গাছগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫ লিটার রস নামিয়ে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেন। তার এ বাগানে প্রতি লিটার রস বিক্রি করছেন ১৫০-১৬০ টাকায়।

শহীদ মোল্লার খেজুর বাগানে গিয়ে দেখা যায় রস প্রেমীরা তার রস কিনতে ভীড় করছেন। জানা যায়, ভোরে ক্রেতারা মটর সাইকেল যোগে এসে তার বাগান থেকে টাটকা বিশুদ্ধ রস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রস কিনতে আসেন মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার এলাকার ইমরান হোসেন জানান, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দিনে দিনে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের হামছাদি গ্রামে এমন খেজুর রস পাওয়া যাবে সেটা ভাবিনি। এখানের রসটা অনেক মজা। আর কোন প্রাণী যেন রসে মুখ না দিতে পারে তারা সেই ব্যবস্থাও তারা করেছে দেখলাম। চোখের সামনেই রস সংগ্রহ করায় তারা বিশুদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত থাকেন। সেই সঙ্গে বাদুড়ের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি হাঁড়ি ঢেকে রাখা হয়।

বন্ধুদের নিয়ে সঙ্গে নিয়ে রস পান করতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলো যুবক রাকিবুল। তিনি জানান, সোনারগাঁওয়ে রস পাওয়া যাবে খবর নিয়ে রায়েরবাগ থেকে এসেছিলাম। তবে আমরা অবেলায় আসার কারণে আজ পাইনি। অন্য কোন একদিন সময় অনুযায়ী আবারও আসবো।

গাছি মো. শহিদ মোল্লা জানান, হামছাদী এলাকার স্থানীয় রাকিব নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তার সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকায় খেজুর বাগানটি কিনেছি। ডিসেম্বর হতে রস নামানো শুরু করে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরও ১ লাখ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। প্রতিদিন ২ বেলা গাছ থেকে রস নামাই। ভোর সকাল আর রাত ৯ টায়। প্রতি লিটার ১৫০-১৬০ টাকা দামে বিক্রি করি।

তিনি জানান, আমাদের বাগানে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ রসের জন্য আসেন। কিন্তু আমি তাদের চাহিদা মতো রস দিতে পারছি না। এখানে খেজুর বাগান সংখ্যা কম থাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই তিন মাসের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। ডিসেম্বর হতে গাছের পরিচর্যায় আমি এবং আমার পার্টনার কাজ করছি।

কৃষি কাজের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস হতে সাহায্য কিংবা পরামর্শ পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কৃষি অফিসের কাউকে চিনি না এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারিনি।

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, আমরা নিয়মিত খেজুর বাগানের কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। মূলত বর্তমানে প্রনোদনা কম কম রয়েছে। তবুও আমরা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।


মুন্সীগঞ্জে ভিডিপি দিবস পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

‘শান্তিশৃঙ্খলা উন্নয়ন নিরাপত্তা সর্বত্র আমরা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মুন্সীগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট অজিত কুমার দাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আলমগীর চৌধুরী, শ্রীনগর আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মৃধাসহ উপজেলা, ইউনিয়নের সকল ভিডিপি, দলনেত্রী ও আনসার সদস্য।

এ সময় জেলা কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার বলেন, ‘আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


জিলাপি বিক্রি করে মাসে আয় ৪০ হাজার টাকা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

জিলাপি, পিয়াজু আর সিঙ্গাড়া বিক্রি করে মাসে আয় করেন ৪০ হাজার টাকা। তরুণ এই উদ্যোক্তার নাম আসাদ আলী (২৮)। বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ গ্রাম। সিংড়া-বারুহাস রাস্তা-সংলগ্ন বিয়াশের চার মাথায় আছে তার দোকান। এখানেই বিক্রি করেন মুখরোচক খাবার জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া।

প্রতিদিন দোকানেই তৈরি করেন এসব খাবার। খাবারের গুণগত মান ভালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় অনেক দূরের ক্রেতারা আসেন এখানে। মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানসহ সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানে আসাদের জিলাপি এখন সবার কাছে পরিচিত নাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিয়াশের চার মাথার দক্ষিণ পাশে একটা লম্বা টেবিল, দুটো বেঞ্চ, ১টা চেয়ার, ১টা মাটির চুলা আর মাথার ওপরে কালো পলিথিনের ছাউনি। এই হলো সাদামাটা আসাদ আলীর দোকান। এখানেই মাটির চুলোয় গরম তেলে জিলাপি ভাজেন আসাদ। সকালে ভাজেন জিলাপি আর বিকালে ভাজেন পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা সাদামাটা ও জরাজীর্ণ এই দোকানেই বেচাকেনা হয় আসাদের সেই মুখরোচক খাবার জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

আসাদ বলেন, ‘আগে শ্রমিকের কাজ করতাম। চার বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। সব কিছু নিজের হাতেই তৈরি করি। তবে সিঙ্গাড়া ও পিয়াজুর চেয়ে বেশি বিক্রি হয় জিলাপি। মূলত জিলাপি থেকেই আমার আয় হয় বেশি।’ আসাদ জানান, ১ কেজি জিলাপি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৯০ টাকা। বিক্রি করি ১৪০ টাকায়। খরচ বাদে কেজিপ্রতি লাভ থাকে ৫০ টাকা। জিলাপির পাশাপাশি সিঙ্গাড়া ও পিয়াজু বিক্রি করি। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার বিক্রি হয়। খরচ বাদে প্রতিদিন আয় ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা।

আসাদ জানান, ছুটিছাটা বাদে মাসে গড়ে আয় হয় ৪০ হাজার টাকার ওপরে। ছোট ব্যবসা নিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

আসাদের দোকানে জিলাপি কিনতে আসা তানজিল ইসলাম ও মনতাজুর রহমান নামের দুই ক্রেতা বলেন, ‘আমরা কোম্পানিতে জব করি। প্রায় দিনই মার্কেট শেষ করে এখানে গরম গরম জিলাপি খাই। আসাদ ভাইয়ের জিলাপি যেমন মচমচে তেমনি সুস্বাদু।’

বিয়াশ চার মাথার ব্যবসায়ী মৃদুল হাসান জানান, আসাদ আগে শ্রমিকের কাজ করত। তিন কী চার বছর আগে এ ব্যবসা শুরু করছেন তিনি। সকাল-বিকাল অনেক ক্রেতার ভিড় লেগে থাকে তার দোকানে। খাবারের গুণগত মানও ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এ জন্য তার দোকানের খাবার সবাই পছন্দ করেন।


গাংনীতে ফসলি জমিতে ৪৫টি অবৈধ ইটভাটা

গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ফের চিমনি নির্মাণ করে উৎপাদন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি  

মেহেরপুরের গাংনীতে সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ৪৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। আইন লঙ্ঘন করে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এসব ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব ভাটার একটিরও কোনো বৈধতা কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও ইটভাটা তদারকি করার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব থাকলেও রহস্যজনক নীরবতার কারণে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে এই উপজেলার দুটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তবে অভিযানের কিছুদিনের মধ্যেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ করে পুনরায় নতুন চিমনি নির্মাণ করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেন ইটভাটা মালিকরা। এমনটি অভিযোগ ওই অঞ্চলের মানুষের।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-তে বলা হয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা অর্থাৎ জিগজ্যাগ ক্লিন, হাইব্রিড হফম্যান ক্লিন, ভার্টিক্যাল শফট ক্লিন, টানেল ক্লিন বা অনুরোপ উন্নততর কোনো প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা অনুমতি নিতে হবে।

গাংনী উপজেলার কোনো ইটভাটার বৈধতা না থাকলেও বীরদর্পে চলছে তাদের কার্যক্রম।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কিনে ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে ভাটায় এনে ইট তৈরি করছেন। আশপাশ এলাকার আবাদি জমির উর্বরতা হ্রাসসহ বিভিন্ন প্রজাতিয় ফলদ, বনজ গাছপালাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ট্রলি দিয়ে মাটি বহনের ফলে রাস্তাগুলো ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এসব রাস্তা প্রায় প্রতি বছর মেরামত বাবদ খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। ধুলোবালির কারণে রাস্তায় গাড়ি কিংবা হেটে গেলে রুমাল চেপে যেতে হয়।

লাইসেন্সবিহীন তাদের এসব ইটভাটার চারপাশে মজুত করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মণ কাঠ।

ভাটাতে কাঠ পোড়ানোর ফলে চিমনি দিয়ে প্রচণ্ড বেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আর সেই ধোঁয়া স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বসতি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, চর্ম, হাপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এলাকার গাছপালাও মরে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ নষ্ট করে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। বেশির ভাগ ইটভাটা রয়েছে গাংনী থানা রোড, হাড়িয়াদহ রোড, হিজলবাড়িয়া রোড, পোড়াপাড়া,বামন্দী, কাজিপুর রোড, মটমুড়া, বামন্দী, আকুবপুর, বাওট, নওদাপাড়া, তেরাইলসহ উপজেলার অন্তত ৪৫টি ইটভাটা রছেছে। এসব ভাটায় কোনোটিরই লাইসেন্স বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই।

অলিনগর গ্রামের পথচারী শেরমান বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটা তো দূরের কথা, চলাচল করাই কষ্টকর। ইটভাটায় মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে রাস্তায় পুরু মাটির স্তর জমেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।’

বামন্দী গ্রামের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ আছে। আমার জমির চারপাশে চারটি ইট ভাটা রয়েছে। মাঠে থাকা সব ড্রাগন গাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। ফল ধরছে না। আমি কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিলে তারা জানিয়েছে ইটভাটার কারণে এখানে ফল ধরছে না। আমার তো লক্ষটাকার ক্ষতি হয়ে গেল।’

আরেক কৃষক সাঈদ আলী বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই মুরগির খামারের চারপাশে অর্ধশতাধিক নারিকেল গাছ ছিল। বছর তিনেক আগেও ফুল আসত ফল ধরত না। গত বছর সব ইটভাটা অধিকাংশ ইটভাটা বন্ধ থাকাই সব গাছে ফল ধরেছে। আসলে ইটভাটার ধোঁয়া যে গাছের জন‍্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে আমি তা নিজ থেকে বোঝতে পেরেছি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন গত দশ বছর যে সকল গাছে নারিকেল ধরেনি। গত বছর সেসব গাছেও নারিকেল ধরেছে। এর একটাই কারণ গত বছর ভাটা বন্ধ ছিল।’

গাংনী উপজেলা বন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে সহযোগিতা করা হয়।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটায় মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।’

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর মেহেরপুরের সহকারী পরিচালক শেখ মেহেদি কামাল জানান, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তবে দ্রত অভিযান চালানো হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে উপজেলাব‍্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। দুটি ইটভাটার চিমনি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।’


নেত্রকোনায় মাদকবিরোধী ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা  প্রতিনিধি

মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নেত্রকোনায় হয়ে গেলো মাদকবিরোধী ভলিবল টুর্নামেন্ট । নেত্রকোনা শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মাঠে এই খেলার আয়োজন করে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন ও নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফর উল্ল্যাহ্ কাজলের সভাপতিত্বে ও নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাদিস আল আমিনের ধারাভাষ্যে ভলিবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম , জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক, জেলা ক্রীড়া অফিসার সেতু আক্তার প্রমুখ।

অন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , সাংবাদিক ভজন দাস, সাংবাদিক হাফিজ উল্লাহ চৌধুরী আলিম , কবি ও সাংবাদিক সৈয়দ সময়, সাংবাদিক এ, বি, চৌধুরী নাদিম, ক্রীড়া কর্মী সৈয়দ কামরুল হুদা ভুট্টো, সংগঠক শাহনুর কবির মুন্না মাস্টার। এ ছাড়া মাদকাসক্ত নিরাময় কর্মী কামাল হোসেন, মাহবুব আলম ও মামুন।

মাদক কে না বলুন এবং খেলাধূলায় মনোনিবেশ করতে অভিভাবক ও সকলকে আহ্বান জানান অতিথিরা। দুদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় দিন ব্যাটমিন্টন টুর্নামেন্ট হবে । ভলিবল টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ করে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ভলিবল টিম , মদন ভলিবল টিম, পাছাট ভলিবল টিম ও আটপাড়ার তেলিগাতী লিপটন ভলিবল একাডেমি । টুর্নামেন্টে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মত ।


বাকৃবিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক বই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি  

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার স্মরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) একটি শোক বই খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সোনালী দলের উদ্যোগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন করিডোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এই শোক বই রাখা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোক বইয়ে সই করেন।

আগামী তিন দিন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য এই শোক বই উন্মুক্ত থাকবে।


শীতে কাঁপছে ত্রিশাল, গরম কাপড় কিনতে ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে জনপদ। প্রকৃতির এই বৈরী রূপ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে শীতবস্ত্র কেনার ধুম। চড়া দামের ভিড়ে শোরুম ছেড়ে সাধারণ মানুষের প্রধান গন্তব্য এখন ত্রিশাল পৌরশহরের ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো।

সরেজমিনে ত্রিশাল পৌর শহরের মেইন রোড়, জামে মসজিদ রোড় ঘুরে দেখাগেছে, রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে বসেছে শীতবস্ত্রের ভ্রাম্যমাণ দোকান। রঙ-বেরঙের জ্যাকেট, সোয়েটার আর কম্বলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও দেখা যাচ্ছে এখান থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাপড় বেছে নিতে। এছাড়াও পৌরশহরের সানাউল্লাহ মার্কেট, হুমায়ুন সিটি কমপ্লেক্স, রাজমণি মার্কেট, আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান মার্কেট সহ বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে উপচে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার করতে আসা রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কয়েকদিন ধরে যে ঠান্ডা পড়ছে, সোয়েটার ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। বড় দোকানে কাপড়ের যে আগুন দাম, আমাদের মতো মানুষের সেখানে যাওয়ার সাধ্য নেই। এখানে দুই-তিনশ টাকায় ভালো গরম কাপড় পাওয়া যায়।

গৃহিণী শামীমা আক্তার এসেছেন সন্তানদের জন্য কানটুপি ও মোজা কিনতে। তিনি জানান, ‘ফুটপাতের দোকানে অনেক সময় খুব ভালো মানের বিদেশি কাপড় পাওয়া যায়। একটু সময় নিয়ে খুঁজলে বড় শোরুমের চেয়েও টেকসই জিনিস এখানে কম দামে মেলে।

বিক্রেতারা জানান, নভেম্বর মাসে বেচাকেনা কম থাকলেও গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। এবার কাপড় কিনতে খরচ বেশি পড়লেও আমরা ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে দাম রাখার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে শিশুদের কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় সর্দি, কাশি ও হাঁপানিসহ নানা ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশু ও বৃদ্ধদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আর সেই সতর্কতা থেকেই মানুষ এখন ভিড় জমাচ্ছেন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। স্থানীয়দের মতে, ত্রিশালের এই ফুটপাতের বাজারগুলো কেবল কেনাকাটার কেন্দ্র নয়, বরং নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের শীত নিবারণের একমাত্র ভরসাস্থল। রাত যত বাড়ছে, শীতের তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ততই বাড়ছে।


ঝিনাইদহে ভিডিপি দিবসে বর্ণাঢ্য রালি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

'সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ' এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা আনসার ভিডিপি অফিস প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য রালি বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে আলোচনা সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জেলা কমান্ড্যান্ট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আমিন উদ্দিন, শৈলকুপা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, মহেশপুরের সহিদুল ইসলাম, হরিণাকুন্ডুর হাসিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সেসময় বক্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নির্বাচন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভিডিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।


বুড়িচংয়ে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বাঁধাকপির ভালো ফলন হয়েছে। শীতের শুরু থেকেই আগাম চাষ করায় এখানকার কৃষকরা এবার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো লাভের আশা করছেন। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়াই এই সাফল্যের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন কৃষকরা।

এলাকায় বর্তমানে কৃষকরা নিড়ানি ও নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় অনেক সময় লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে এবার সেই শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তারা। ভালো ফলন হওয়ায় লোকসান নয়, বরং লাভবান হবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন কৃষকরা।

বাম্পার ফলনের উদাহরণ হিসেবে রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের কৃষক ফজর আলীর ছেলে আক্কাসের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি চলতি মৌসুমে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপির চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। আক্কাসসহ একাধিক কৃষক জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা দিনরাত মাঠে কাজ করছেন, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষকরা জানান, বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ চাষাবাদের খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে তা সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। কখনও কখনও কীটনাশকের উচ্চ মূল্য ও বাজারে দাম কম থাকলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ায় সে ঝুঁকি কম।

আক্কাস জানান, তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন এবং উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচের দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘শীতকালে বাঁধাকপির জন্য এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া খুবই উপযোগী। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে আগাম চাষ করায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। এবার তারা ভালো লাভ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও বলছেন, চলতি মৌসুমে বাঁধাকপির ফলন ভালো হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।


বরিশালে মার্চ ফর হাদি, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে বরিশালে মার্চ ফর হাদি হয়েছে । সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা বারোটার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ টাউন হল থেকে ছাত্র জনতার ব্যানারে মার্চ ফর হাদি শুরু হয়।

পরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এর আগে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। তাদের এ দাবি দ্রুত পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের একজন অগ্রসেনানী। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত মূলহত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, একাত্তরে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে একই অবস্থা হবে। বক্তারা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচারের দাবি করেন। নতুবা তাদের এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


রামুতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান,বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এস এম জাফর, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগড় এলাকায় গোপন একটি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ ৫ জানুয়ারি সোমবার ভোর রাতে ঈদগড় পানিশ্যাঘোনা পাহাড়ে একটি দুর্গম এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, লোহাজাত সামগ্রী ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের আগেই কারখানার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রামু থানা ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া

বলেন, “অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বেশ কিছুদিন পরে রামু থানা পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রামু থানার গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় ।

সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় সন্ধানে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


তীব্র শীতে মানবতার উষ্ণতা: আনসার-ভিডিপির শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জন্য মানুষ—এই মানবিক চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্লবী এলাকার ষোল বিঘা বালুর মাঠ ময়দানে শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে ১,০০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তীব্র শীতে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি আনসার ও ভিডিপির মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক জনাব আসাদুজ্জামান গনি বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কেবল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।”

আনসার–ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্য-সদস্যা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রকৃত অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছায়—সে লক্ষ্যে স্বচ্ছতা, সমন্বয় ও দ্রুততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বগুড়া, জামালপুর, ভোলা ও লালমনিরহাট জেলায় মোট ৬,০০০টি কম্বল বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ভিডিপি সদস্য-সদস্যা, তাদের পরিবারবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অসহায় জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বগুড়া ও জামালপুর জেলায় কম্বল বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংকটময় সময়ে আনসার বাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে ভালোবাসা ও মানবতার উষ্ণ স্পর্শ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়াও, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বস্তিবাসীদের দুর্দশার সঙ্গে যখন শীতের প্রকোপ যুক্ত হয়, তখনও আনসার বাহিনী মানবিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। এ উপলক্ষে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৯০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়, যা সংকটকালে বাহিনীর দায়িত্বশীল ও মানবিক অবস্থানের স্পষ্ট প্রতিফলন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা নির্বাচন, দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, উপযুক্ত উপকারভোগী বাছাই এবং সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপির আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সমগ্র কার্যক্রমে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় ছিল ঢাকা মহানগর আনসার ও নগর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি)। অনুষ্ঠানে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।


banner close