প্রকল্পের জন্য দেয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্ব থামাতে গেলে পাল্টা উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে নিজের পিস্তল তাক করেন এমপি। তবে এমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেছেন তিনি।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের বারান্দায় এই ঘটনা ঘটে। এদিন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল।
এমপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া যুবলীগ নেতার নাম আলমগীর বাদশা। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
আলমগীর বাদশা বলেন, ২০১৯ সালে এমপির নামে মসজিদ, রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছে থেকে বরাদ্দ দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন এমপি। আমার কাছে থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। আমিই তাকে দিয়েছিলাম। যাতে উন্নয়ন কাজগুলো হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ আজও দিতে পারেননি এমপি রেজাউল করিম। আমার দেয়া টাকাও ফেরত দেননি।
‘আজ সামনাসামনি দেখা হলে তাকে বললাম, আপনি যে টাকাটা নিলেন, ফেরত দিবেন না? এ কথা বলার পরেই তিনি আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বলেন কিসের টাকা, কোনো টাকা নেই।’
যুবলীগ নেতার দাবি, এ সময় তাকে ধাক্কা মারতে থাকেন এমপি। ফারুক নামে তার এক সঙ্গী লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে তিনি বের হন। চার বছর আগের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল বলে শুনতে পান।
তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) রেজাউল করিম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিতে উপজেলা পরিষদে যাই। এ সময় সেখানে আলমগীর বাদশা এমপিকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
চেয়ারম্যানও হামলা করতে আসলে এমপি আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেন। পিস্তল তো নেয়া হয়েছে আত্মরক্ষার জন্য।’
হট্টগোলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তবে বগুড়া জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা থেকে এমপি বাবলুর নামে একটি পিস্তল নিবন্ধনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভোরের আলো ফুটতেই দুধ জ্বাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমীর চন্দ্র ঘোষ। খাঁটি দুধে তৈরি করেন ক্ষীরসা, প্যারা সন্দেশ ও রসমালাই। এরপর কাঁধে ভার মিষ্টি ভর্তি পাত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের পথে। দিনভর ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি বিক্রি করেন। এভাবেই কেটে গেছে তার জীবনের তিন দশক। রসমালাইয়ের অনন্য স্বাদ আর মানুষের ভালোবাসা তাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
আক্কেলপুর পৌরশহরের হাস্তাবসন্তপুর ঘোষপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সমীর চন্দ্র ঘোষের এই পেশা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তার বাবা-দাদাও একইভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি করতেন। তবে মিষ্টান্ন জগতে তাদের তেমন পরিচিতি না থাকলেও নিজের পরিশ্রম, সততা ও স্বাদের গুণে সমীর চন্দ্র অর্জন করেছেন বিশেষ সুনাম।
প্রতিদিন ভোরে মিষ্টি তৈরির কাজ শেষ করে তিনি বের হন। জয়পুরহাট নিজ জেলার পাশাপাশি বগুড়ার ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত যান। সারাদিন হাঁটাহাঁটি শেষে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। এই আয়েই চলে তার সংসার।
সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি। এটি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। অনেকেই অন্য কাজ করতে বলেন। কিন্তু এই পেশার প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো, মানুষ আমার হাতে তৈরি মিষ্টি খুঁজে বেড়ায়। অনেকেই আমার রসমালাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, এখন বড় বড় মিষ্টির দোকান হয়েছে। তারপরও গ্রামের মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখেন। খাঁটি দুধ দিয়ে নিজের হাতে মিষ্টি তৈরি করি বলেই হয়তো তারা এত ভালোবাসেন।
আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, সমীর বাবুর রসমালাইয়ের স্বাদ ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছি। এখনো সেই আগের স্বাদ আছে। তিনি আমাদের গ্রামে আসার দিন অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা সাথী রানী বলেন, বাজারের অনেক মিষ্টি খেয়েছি, কিন্তু সমীর দাদার রসমালাইয়ের মতো স্বাদ পাই না। তিনি এলে পরিবারের সবার জন্য মিষ্টি কিনি। আত্মীয়দের বাড়িতেও নিয়ে যাই।
বগুড়ার দুঁপচাচিয়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, সমীর চন্দ্র বহু বছর ধরে আমাদের এলাকায় আসছেন। তার মিষ্টির মান ভালো, দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই তিনি এলে আমরা মিষ্টি কিনতে ভিড় করি।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ফেরিওয়ালাদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। আধুনিক বিপণিব্যবস্থা ও বড় বড় মিষ্টির দোকানের ভিড়েও সমীর চন্দ্র ঘোষ এখনো কাঁধে মিষ্টির পাত্র তুলে হাঁটছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। তার এই পথচলা শুধু জীবিকার সংগ্রাম নয়, বরং একটি পারিবারিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রচেষ্টা। তার হাতে তৈরি ক্ষীরসার মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মিশে আছে তিন দশকের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ রোজী আক্তার কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লার বর্তমান জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান-কে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোজী আক্তারের এ নিয়োগের মাধ্যমে তিনি কুমিল্লা জেলার ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। তাঁর নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনসহ জেলার বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর তিনি কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
অন্যদিকে, বিদায়ী জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত চিকিৎসক সুকান্তর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দায়িত্ব অবহেলা এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি নিয়মিত না খোলায় স্থানীয় দরিদ্র রোগীরা দিনের পর দিন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দেখা যায়, ক্লিনিকের চারপাশ ও সামনের অংশ বন-জঙ্গলে ভরে গেছে। ক্লিনিকের পরিবেশ দেখে মনে হয় দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো দাপ্তরিক কাজ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। এমনকি নিয়মিত অফিস যে হয় না, তার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে পুরো ভবন জুড়ে।
ক্লিনিকে ওষুধ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও টিপনা পশ্চিমপাড়া মসজিদের ইমাম শহিদুল সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। সরকারিভাবে যে সমস্ত ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, তা আমাদের না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। এছাড়া চিকিৎসকের আচরণও সন্তোষজনক নয়। আমরা এর সঠিক প্রতিকার চাই।
ক্লিনিকের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানান স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এরশাদ সরদার। তিনি বলেন, "সুকান্ত ডাক্তার ক্লিনিক ঠিকমতন খোলেন না। ক্লিনিকের সামনে বন-জঙ্গলে ভরে গেছে, দেখে মনে হয় গতকালও কোনো অফিস হয় নাই। সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে পারে না।
চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়া ফারুক সরদার নামের আরেক রোগী সরাসরি চিকিৎসকের ফাঁকিবাজির চিত্র তুলে ধরে বলেন, উনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। ক্লিনিকে রোগী বসিয়ে রেখে উনি পাশের চায়ের দোকানে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করেন। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাই। এমন চিকিৎসকের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের গাফিলতি আড়াল করতে অজুহাত দেখিয়ে বলেন, "ক্লিনিক বন্ধ রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। ডুমুরিয়ায় সরকারি বিভিন্ন মিটিং ও জরুরি দাপ্তরিক কাজের চাপ থাকার কারণে মাঝে মাঝে ক্লিনিকে বসতে একটু দেরি হয়।" তবে স্থানীয়রা তাঁর এই বক্তব্যকে স্রেফ 'তালবাহানা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কাজল মল্লিক বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের"টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। সরকারি চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
খুলনা সিভিল সার্জন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনায় কোনো প্রকার শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ এ ক্লিনিকের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও দায়িত্ববান চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকার তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বাহিনীটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে।
কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির সামনে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৭ জুন) ছাগলনাইয়ায় ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজকুঞ্জরা গ্রামে যোবায়ের হোসেন পারভেজকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পারভেজ ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ছিলেন। অনেকেই বলছেন তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পারভেজের বাবা আবু তাহের দাবি করেন, প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভেজের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একটি দোকানে মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পারভেজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি যুবলীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানতে পেরেছি।
ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ফেনীর ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম কাজল (৩৫)। তিনি তিন সন্তানের জননী এবং ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।
জানা গেছে, নিহত কাজলের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সিলোনীয়া মাদরাসা এবং মেজো ছেলে তালবাড়িয়া মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাতে কাজল তার মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘরে একাই ছিলেন। গভীর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের উপরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কাজলের হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান।
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে সংকেত অমান্য করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির সময় ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।
এ সময় কোস্ট গার্ড ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ফায়ার করে।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে।
এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরেক ডাকাতকে আটক করা হয়। পরে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
অভিযান শেষে সুন্দরবনের আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর ডাসার উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় বিচিত্রা হালদারের কন্যা পিতৃহীবনলতা হালদার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে ১৮ বছর ধরে গাছের সাথে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও নবগ্রামের শশিকর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারে কাছ থেকে আলাদাভাবে জানা যায়, তার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবার বিষয়টি তাদের নজরে এলে যথাক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন কার্যালয় দপ্তর হতে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চালু করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, সরকারিভাবে তার সুচিকিৎসা সহায়তার জন্য উক্ত পরিবারের অভিভাবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার বিবরণে মানসিক প্রতিবন্ধী বনলতার বৃদ্ধা মা বিচিত্রা হালদার, তার দুই ভাই ও দুই বৌদি জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে বনলতা সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিল, স্কুলে যেত, লেখাপড়া করত কিন্তু হঠাৎ করে পেটে প্রচণ্ড ব্যাথার জন্য ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলে তার পেটে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং এতে সে অনেকটা সুস্থ্য হয়েও উঠলেও তার মধ্যে ক্রমান্বয়ে অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়।
পরবর্তীতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রথম-প্রথম তাকে খোলামেলা রাখা হলেও পাগলামি বেড়ে যাওয়ায় পরে তাকে গাছের সাথে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। সেই থেকে বনলতা হালদার দেড় যুগ তথা ১৮ বছর যাবৎ খোলা আকাশের নিচে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অসহায় ও গরিব পরিবারটির আশা সরকারিভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা করা হলে পিতৃহারা বনলতা সুস্থ্য হয়ে
আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এবং পরিবারের সবার সীমাহীন কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যাবে। এছাড়াও তারা সমাজের বিত্তবান সহ সবাইকে তার সুচিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ করেছেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে সুপারিশ এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজটি লাভ করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে পরীক্ষার ফলাফলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ ও তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে সংকটে পড়তে হবে।’
তারা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের মরদেহ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।
হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সিফাত একাই মা ও তিন বোনের মরদেন নিয়ে হোমনায় পৌঁছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়জনদের হারানোর শোকে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।
জানাযার নামাজে উপস্থিত হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও সিফাতের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচ তলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহীনূর আক্তার, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান মেঝো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ফেনীতে বর্ণাঢ্য র্যালি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মাদকের ভয়াবহতা ও এর কুফল রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী এলাকা এবং দেবীডুবা ইউনিয়নের দাড়ারহাট তেলীপাড়া এলএলপি, দাড়ারহাট ডাক্তারপাড়া ও সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দাড়ারহাট ও তেলীপাড়া এলাকার প্রতিরক্ষা কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে।
তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, ‘এ কাজ জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হবে। তাই কাজের মান সঠিকভাবে বুঝে নেবেন এবং তদারকি করবেন। কোথাও যেন প্রকল্প এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে কাজ না করা হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
এ সময় তিনি করতোয়া নদীতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
নওগাঁর ধামইরহাটে মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে প্রথমে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা ৬৭টি বছর বয়সি আনজুমান আরার নামে কিছু জমিজমা রয়েছে। ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন শামীম হত্যার উদ্দেশে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনজুমান আরা চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলে গত ১৪ জুন পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয় বলে গত ২৪জুন করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নজরে আনা হলে তার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতামাতার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় চৌদ্দশত বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
১লা হতে ১০ মহররম পর্যন্ত এই আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র শাহাদত স্মরণে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ি হতে এক শোক মিছিল বের করা হয়।
শোক মিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বলেন: ‘কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুসলমানদের জন্য এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। কারবালার আদর্শ মুসলমানদের অন্যায় ও মিথ্যার সাথে আপোস না করা এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেতনা জাগ্রত করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল কোনো ক্ষমতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন সংগ্রাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আজ বিশ্বজুড়ে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই কারবালার চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শাহাদাতের পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটুকুও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে আশুরার চেতনা বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে এসে শেষ হয়। এই শোক মিছিলে বিপুল সংখ্যক শিয়া মুসলিম নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
সমগ্র মিছিল পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-টাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিরুল হাসান।