রাজধানীর নারিন্দায় মূল্য প্রদর্শন না করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অপরাধে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক তদারকিমূলক অভিযানে এসব জরিমানা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল। তিনি দৈনিক বাংলাকে জানান, গেন্ডারিয়ার নারিন্দা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, তানয়ীম সুইটস এন্ড বেকারী নামের প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। এছাড়া, খাদ্যদ্রব্যের লেবেলে উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য লেখা নেই। অপরদিকে ফ্রিজে এই চেম্বারে কাঁচা মাংস ও খোলা অবস্থায় কেক সংরক্ষণ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারী সামগ্রী প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো জানান, দৈ এর পাত্রে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না দেয়ার অপরাধে সৌরভ মাঠাঘরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ করার অপরাধে পপুলার মেডিকেল হলকে ২০ হাজার টাকা ও একই অপরাধে ক্যাপিটাল হাসপাতাল ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। তাদের আর কোনো সারা শব্দ না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা এবং একই কক্ষের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শ্বশুড়ের সাথে অভিমান করে তার ছেলের বউ কন্যাশিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে সুরতহালে তাই মিলেছে। তবুও আরও কোনো কারণ থাকতে পারে কি না সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে গত ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলায় প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই ভিড় করছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। কেউ গাছের চারা দেখছেন, কেউ পছন্দের গাছ কিনছেন, আবার কেউ ঘুরে দেখছেন মেলায় থাকা নানা পণ্য।
জেলা বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে ফুলের গাছসহ নানা ধরনের গাছ ও কৃষি সংশ্লিষ্ট পণ্য। গাছের বৈচিত্র্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে চারা পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ দেখা গেছে।
মেলায় ঘুরতে আসা এক আশরাফ আলী নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘প্রতি বছরই বৃক্ষমেলায় আসি। এখানে অনেক ধরনের গাছ একসঙ্গে পাওয়া যায়। নিজের বাড়ির জন্য কয়েকটি ফল ও ফুলের গাছ কিনেছি। গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবারের অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছি।’
ফারুক হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘মেলায় এসে অনেক নতুন জাতের গাছ দেখলাম। পরিবেশের জন্য গাছ লাগানো খুবই জরুরি। তাই পছন্দের কয়েকটি চারা কিনে নিয়েছি। মেলার মাধ্যমে মানুষ গাছ লাগানোর প্রতি আরও আগ্রহী হবে বলে মনে করি।’
সামাজিক বন বিভাগ ঝিনাইদহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি করা। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে সহজে ভালো মানের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও খালি জায়গায় গাছ লাগাতে পারেন, সে বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
গত ৩১ জুলাই শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, সামাজিক বন বিভাগ যশোর অঞ্চলের বিভাগীয় কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এম এ মজিদ।
বর্তমান সরকার ১৮ কোটি জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে। বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে গিয়েছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। এই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার দিন-রাত কাজ করছে। একটি দেশের মেরুদণ্ড ধ্বংস করতে এবং পরনির্ভরশীল করতে যা যা করা দরকার, তার সব করে গিয়েছে বিগত সরকার। বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি ১৪টি এতিমখানা ও ৭টি সমাজকল্যাণ সংস্থার সরকারি অনুদানের ৩০ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এসব কথা বলেন।
এ সময় পুতুল আরও বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্য ব্যক্তিরাই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনে অর্জন- বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। সরকার পরিবর্তন হলেও পথে পথে আতঙ্ক আর নাম বদল শুরু হতো। প্রতিষ্ঠান দখল হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে বিএনপি দেশে পাহারা দিয়েছে, যেন আর কোনো লাশ না পড়ে। বর্তমান সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, শহর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, সাবেক ভিপি শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলেট, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন মিন্টুসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এলএনজি সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা।
গ্যাস সংকটের কারণে জেলার ৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় অনেক এলাকায় মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের মাধ্যমে রান্না করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহে এমন বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জেলা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) আওতাধীন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকই বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছেন।
কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকেই বাসায় গ্যাস নেই। রান্নাবান্না নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
পাইকপাড়ার বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, ‘সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। নাশতা ও রান্না করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচও হচ্ছে। কতদিন এ সমস্যা থাকবে, তা বুঝতে পারছি না।’
এদিকে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরাও। মো. সোহেল মিয়া নামে এক সিএনজিচালক বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছি না। গাড়ি চালাতে না পারলে আমাদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ে যাব।’
একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক গাড়ি এসে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদেরও কাজ বন্ধ।’
গ্যাসনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে সংকটে। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছি না। ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’
বিজিডিসিএল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আবাসিক পর্যায়ে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় সরবরাহ নেই। কখন নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিজিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
হঠাৎ সৃষ্ট এ গ্যাস সংকটে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করলেও নওগাঁর রানীনগরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, ডিলারের দোকানে সার থাকলেও নির্ধারিত দামে তা মিলছে না। বস্তাপ্রতি ৩৫০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সার উত্তোলন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত যথাযথ নজরদারি না থাকায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান ও জরিমানা করা হলেও অভিযানের পরদিনই আবার আগের দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে রানীনগরে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণের শুরুতেই সারের বাড়তি দাম কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রানীনগর উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন এবং বিএডিসির ১৯ জন সার ডিলার রয়েছেন। চলতি আগস্ট মাসে বিএডিসির মাধ্যমে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিসিআইসির ডিলাররাও বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। ফলে সরকারি হিসাবে সারের পর্যাপ্ত মজুত ও বরাদ্দ থাকার পরও কেন কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলার আবাদপুকুর বাজারের মুন্না ট্রেডার্স থেকে সার কেনা এক কৃষক বলেন, ‘তিনি পাঁচ বস্তা সার কিনেছেন। দোকান থেকে ৫ হাজার ৭৫০ টাকার মেমো দেওয়া হলেও তার কাছ থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’ অভিযান হওয়ার পরও বেশি দাম নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপি ১ হাজার ৬৮০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঝুরা পটাশ ১ হাজার ১২০ টাকা এবং ডিএপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা কিনলে দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকারি দামের সঙ্গে বাজারদরের এই ব্যবধান কৃষকদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
খানপুকুর বাজারের মেসার্স সোনার বাংলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সবুজ হোসেন বলেন, ‘চায়না ডিএপি ১ হাজার ৪৪০, দেশি ডিএপি ১ হাজার ৩৮০, পটাশ ১ হাজার ১৩০ এবং ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’ তিউনেশিয়ার টিএসপি ১ হাজার ৯০০ এবং মরক্কোর টিএসপি ১ হাজার ৭২০ টাকায় কিনতে হয় বলেও জানান তিনি। তিনি নিজেকে সাব-ডিলার দাবি করে বলেন, ‘কীটনাশক বিক্রির পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদার কারণে সার রাখতে হয়। এতে তেমন লাভ হয় না।’
আবাদপুকুর বগারবাড়ি এলাকার এক সাব-ডিলার জানান, আবাদপুকুর থেকে সার আনার সময় প্রতি বস্তায় প্রায় ২০ টাকা গাড়ি ভাড়া পড়ে। ১০ টাকা লাভে সার বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় কেনা দামেই সার বিক্রি করতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রানীনগরের ফটিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম ফটিক বলেন, ‘উপজেলায় সারের সংকট নেই। তবে বাইরে থেকে সার কেনার কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ তিনি ডিএপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান।
রানীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই।’ তিনি সব ডিলারকে সরকারি মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন।’ কোনো ডিলার বেশি দামে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
রানীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার শাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ কামাল বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘রানীনগরে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই।’ কৃষকদের বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারের কাছ থেকে মেমো নিয়ে সার কেনার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো ডিলার বেশি দাম নিলে কৃষকদের কৃষি বিভাগে অভিযোগ করার আহ্বান জানান।
সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০, ডিএপি ১ হাজার ৫০ এবং এমওপি ১ হাজার টাকা। কৃষকদের দাবি, শুধু অভিযান বা জরিমানা নয়, নিয়মিত বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি ভর্তুকির সুফল সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে।
জয়পুরহাটে আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে।
পাঁচবিবির বটতলী বাজারে বেসরকারি সংস্থা এসডিএসের কার্যালয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থা এসডিএস’ (SDS)-এর যৌথ উদ্যোগে মোট ৬০০ জন উপকারভোগীর মাঝে এসব গরু হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ট্রেনিং অফিসার ডা. এসএম খুরশিদ আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, সাহাদাত হোসেন, এসডিএস সংস্থার সভাপতি গুলশান আরা গ্যালিন, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মনজুরে মওলা পলাশসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, গরু পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। মূলত কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের রিপোর্টার এবং দৈনিক বাংলা বরিশাল বিভাগীয় প্রধান তারিকুল ইসলাম তুহিন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসা এই সংবাদকর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
জানা গেছে, গত মাসের ২১ জুলাই রাতে ভাটিখানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পথে বাইকের সামনে বৃদ্ধ একলোককে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
পরে গুরুতর আহত তুহিনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আহত সাংবাদিক তুহিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম তুহিন একজন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদকর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আমরা সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তার পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘একজন কর্মরত সাংবাদিকের অসুস্থতা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো গণমাধ্যম পরিবারের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তার চিকিৎসা ও সুস্থতার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।’
পরিবারের সদস্যরাও দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তারা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইতিবাচক অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা তাদের মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার তিন রাস্তার মোড়ে গত চার বছর ধরে বিরাজ করছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন হাঁটু সমান নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারও মানুষ।
বছরের পর বছর জমে থাকা পচা পানিতে সড়কটি নষ্ট হয়ে এখন প্রায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর প্রাত্যহিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। তবে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা দৈনন্দিন যাতায়াতকে রূপ দিয়েছে চরম দুর্ভোগে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়শই তাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মনোহরপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,
দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আমরা এক প্রকার পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। জলাবদ্ধতার পানি দূষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু। এতে শরীরে চুলকানিসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও ঘা-পঁচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাস জানান, শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা সবসময় শঙ্কিত থাকেন। অনেকেই সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী খমেনি বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, ফলে চরম অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরের এই স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যেমন ধ্বসে পড়ছে, তেমনি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দীর্ঘ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
সড়কটির করুণ দশা ও জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মৌলভীবাজারের পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। শহরের বাইরে নিরাপদ স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন এবং শহরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় দ্রুত স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গলের ময়লা ফেলার জন্য শহরের বাইরে খাস বা সরকারি জমি খোঁজা হচ্ছে। সেখানে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ শ্রীমঙ্গলে আসবেন। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি জানান, এসব নির্বাচন আয়োজনে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথ বৈঠকে বসে নির্বাচনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাজ চলাকালীন জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে দেখে সেফটি টিমের সদস্যরা তা পরীক্ষা করতে যান। এ সময় আকস্মিকভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান প্রাথমিকভাবে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বাকিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। দুর্ঘটনার কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় (শিপইয়ার্ড) স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ১০ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সংলগ্ন সাগর উপকূলে অবস্থিত মো. লোকমানের মালিকানাধীন ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামক শিপইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ জাহাজের অভ্যন্তরে তেলের ট্যাংকি পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকরা নিচে নামলে হঠাৎ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন হতাহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম এই বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। আহত শ্রমিকদের সঠিক নাম-পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে।
দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল, বিমানবন্দরের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করা এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ১২৯.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪.১৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা—ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটি হবে ১ লাখ ৩৮.৬৮৫.৭৬ কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পর ব্যয়ের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। সংশোধিত এই ব্যয়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমানে একমাত্র চালু মেট্রোরেলের মোট ব্যয়ের প্রায় চারগুণ।
২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদিত ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২,৫৬২ কোটি টাকা। তখন বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও ৯ বছর বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে, প্রকল্পের জাপানি ঋণের পরিমাণ ১১৬.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৯,৪৫০.৩২ কোটি টাকা থেকে ৮৫,৫৩৫.৫৬ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৬৮.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩,১১১.১১ কোটি টাকা থেকে ৩৫,২৫৮.৫৭ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের এই নতুন খরচের হার ডিএমটিসিএলের আগের প্রাক্কলনের চেয়েও অনেক বেশি। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রকল্প ব্যয় ৮৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯৬,৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। কিন্তু এখন তা আরও বাড়ানো হলো।
ডিএমটিসিএল এবং পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি দর হাঁকানোই মূল প্রাক্কলন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির ফলেও খরচ বেড়েছে।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল রুটের এই বিশালাকার প্রকল্পটিকে ১২টি পৃথক কন্ট্রাক্ট প্যাকেজে (সিপি-০১ থেকে সিপি-১২) ভাগ করা হয়েছে। এই ১২টি প্যাকেজের মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭,৬৫৫.৬৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে সর্বশেষ ঠিকাদারদের দরপ্রস্তাব ও সংশোধিত প্রাক্কলনে দাঁড়িয়েছে ৮০,০৯৯.৭৯ কোটি টাকায়।
যেমন— রামপুরা স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের কাজের জন্য (প্যাকেজ সিপি-০৪) মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫,৩৩০.২০ কোটি টাকা। পরে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ১৩,২৬৬.৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র আহ্বান করা হলে জাপানের টোকিউ-এমআইএল জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১৪,৯৮৮.০৭ কোটি টাকা দরপ্রস্তাব করে।
একইভাবে নদ্দা স্টেশনের উত্তর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের (সিপি-০৬) মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪,৬০৪.৮০ কোটি টাকা। কিন্তু জাপানের নিশিমাতসু-টোডা জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১০,৮২১.৯১ কোটি টাকায় দরপ্রস্তাব দেয়।
সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বলছেন, জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে শর্ত থাকে যে পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে জাপান থেকেই। পরবর্তীতে ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে দরপত্রের শর্ত তৈরি করে, যাতে প্রকারান্তরে কেবল জাপানি ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারে।
কাগজে-কলমে দরপত্র উন্মুক্ত বলা হলেও ঘুরেফিরে সেই একই দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানই শীর্ষ দরদাতা হিসেবে উঠে আসে। ফলে প্রক্রিয়াটি কার্যত একটি সীমিত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, যা নতুন বা বিকল্প কোনো যোগ্য ঠিকাদারদের অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করেছিল জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন एजेंसी (জাইকা)। সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই মূল ডিপিপিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি পরামর্শকরা তাদের প্রাক্কলন সংশোধন করে বিভিন্ন অংশের খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার ধারাবাহিকতায় জাপানি ঠিকাদাররাও বেশি দর হাঁকাতে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিস্তারিত নকশায় প্রকল্পের চাহিদা ও ব্যয় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি; আর এই ত্রুটি ও নকশাগত ঘাটতির কারণেই মূলত প্রকল্পের ব্যয় এতটা বেড়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির এই বিশাল প্রস্তাব ও ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে জানতে প্রকল্পের পরিচালক মো. সারওয়ার উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। পরবর্তীতে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যাপক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদসহ সর্বসাধারণের প্ল্যাটফর্মে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্ধারণ এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি নিয়ে এখনই খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতাহীনভাবে নির্ধারিত ব্যয় ভবিষ্যতে বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে এবং তখন এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে যে ব্যয় নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার ভিত্তি কতটা শক্ত এবং তা আদৌ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে এসেছে কি না—এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ এসব ব্যয় মূলত প্রাক্কলনের ওপর নির্ভর করছে, যা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রাখে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্কিংয়ের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা উচিত।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যয় নির্ধারণ, প্রকল্পের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়—এসব বিষয় সতর্কভাবে विश्लेषण করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা করেছে, তাদের মাধ্যমেই যদি পরবর্তীতে ব্যয় বাড়ে, তাহলে সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তগুলো সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠিন সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০২৪ সালে হওয়া মেট্রোরেলের দরপত্র এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে ব্যয়ের এক অস্বাভাবিক ব্যবধান উঠে এসেছে।
তাতে দেখা যায়, ভারতের পাটনায় প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৪০.৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা সৌদি আরবের রিয়াদে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এই ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে প্রতি কিলোমিটারে ২২৬.৭৪ মিলিয়ন থেকে ২৫৩.৬৩ মিলিয়ন ডলারে—যা ভারতের পাটনার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি এবং রিয়াদ বা দুবাইয়ের চেয়েও অনেক চড়া।
জাপানি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের বাজেট বাড়ার প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অপর একটি মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল বাজেট ৫৪,৬১৮.৯৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫,৫০৩.৭৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে (ব্যয় হ্রাস পেয়েছে ২,২১৭.৬৭ কোটি টাকা)।
বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার এবং এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে বিমানবন্দর রুটটি (১৯.৮৭২ কিমি) সম্পূর্ণ পাতাল এবং এতে ১২টি স্টেশন থাকবে। অন্যদিকে পূর্বাচল রুটটি (১১.৩৬৯ কিমি) আংশিক উড়াল ও আংশিক পাতাল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে ৭টি উড়াল ও ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত সিপি-১ প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ১১টি প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
জাপানি ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে টেনে নামাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ডিএমটিসিএল এবং সড়ক পরিবহন বিভাগ জাইকা ও জাপানের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এমনকি বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও জাপান সফর করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
আগামী ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে ইতোমধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফর্মার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব আরও জানিয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব বদ্ধপরিকর।