বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওয়াসা ভবনে পানি থই থই

মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াসা ভবনের নিচতলায় পানি ছিল। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৩ ১৯:৫৭

কাপ্তাই লেকের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে পানি উৎপাদনে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে। পানির জন্য হাহাকার করা ওয়াসার দুয়ারেই এবার চলে এসেছে পানি। তবে এই পানি স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তিই বাড়িয়েছে সংস্থাটির। কেননা, এই পানির কারণে ওয়াসা ভবনে প্রবেশই যে কঠিন হয়ে গেছে!

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কাটতে না কাটতেই গত সোমবার মধ্যরাতে নগরীজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। সেই বৃষ্টির রেশ পড়ে ওয়াসাতেও। অন্যান্য জায়গা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যায়। তবে মঙ্গলবার সকালেও ওয়াসাতে হাঁটু সমান পানি জমে ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় তখনো পানি জমে আছে। কয়েকজন কর্মচারী পানি সরানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বের করার জায়গা না থাকায় তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। পানির কারণে পুরো নিচতলা স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। সিঁড়িগুলোও কাদা পানিতে ময়লা হয়ে গেছে।

কর্মচারীরা দৈনিক বাংলাকে বলেন, সকালে জেট পাম্পের (এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পানি সরানোর মেশিন) সহায়তায় বেশির ভাগ পানি সরিয়ে ফেলছি। তবে এখনো কিছু পানি জমে আছে।

পানির কারণে ওয়াসাতে সেবা পেতে আসা গ্রাহক ও সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মিটারের বিষয়ে সেবা পেতে আসা চকবাজার এলাকার গ্রাহক মনজুর আলম মজা করে বলেন, ‘ওয়াসা বেশ কিছু দিন ধরে আমাদের পানি দিতে পারছে না। অথচ এখানে তো পানি থই থই করছে।’

ওয়াসা ভবনের এই নিচতলায় একদিকে বিক্রয় বিভাগ ও অন্যদিকে ব্যাংকের শাখা রয়েছে। তবে এসব কার্যালয়ের প্রবেশমুখে উঁচু করে প্রতিরোধ দেয়াল দেয়ায় পানি প্রবেশ করতে পারেনি।

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, প্রায় চার দশক আগে নির্মিত ওয়াসা ভবনটি একসময় উঁচু ভূমির ওপরেই ছিল। কিন্তু গত এক দশকে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের সড়কগুলো কয়েক দফায় উঁচু করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টি হলেই পুরোনো বেশির ভাগ ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে।

বৃষ্টি হলে তাই নিয়মিত ওয়াসা ভবনের নিচতলাও জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অবশ্য পাশেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ তলার নতুন ভবন নির্মাণ করছে ওয়াসা। এর মধ্যে ভিত্তিসহ পাঁচতলা পর্যন্ত ভবন উঠে গেছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে সেই ভবনে ওয়াসার বেশির ভাগ দপ্তর নিয়ে যাওয়া হবে।

ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ছয় মাস পর নতুন ভবনের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে সেখানে দপ্তরগুলো নিয়ে যাওয়া হবে। তখন ভোগান্তি আর থাকবে না।’

বিষয়:

নির্বাচিত

দৌলতপুরে ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২১
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।

গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।’

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্ছ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আনন্দে ভাসছে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু একজন দলীয় নেতা নন, তিনি একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন বর্ষীয়ান নেতা। তার মতো অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ জানতে চাইলে একমত হয়ে জেলার মানুষ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের গর্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই।” রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে তাই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত নিজ জেলার মানুষ।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মনোনয়নকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

মিষ্টি বিতরণ আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং পরিবারভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রাম ইএসডিও ট্রেনিং সেন্টার জলেশ্বরী মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

অ্যাকসেস প্রকল্প উদ্যোগে ১২ ও ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ হেলভেটাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের বাস্তবায়ন করে। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি'র বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক সহায়তা করে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই সমাধান নিশ্চিতকরণ অ্যাকসেস প্রকল্পের প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের আগে-পরবর্তী সময়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তৈরি করা। প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস, স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিসীমা নির্ধারণ এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারে কমিটির ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মৌলিক ধারণা, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা-দায়িত্ব এবং বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া।

দ্বিতীয় দিনে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে সতর্ক সংকেত ব্যবহারের কৌশল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭জন সদস্য প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষক বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার-ডি আর আর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের জয় প্রকাশ, অফিসার-ডি আর আর এন্ড এনবিএস,টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর মিল্টন কুমার সরকার এবং ইএসডিও- এ্যাকসেস প্রজেক্ট অপারেশন ম্যানেজার গোলাম ফারুক।


নির্বাচিত

স্বাস্থ্যখাতে দলীয়করণের কুফল এখনো পোহাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

গত প্রায় দেড় যুগে স্বাস্থ্যখাতে দলীয়করণের যে কুফল, এখনো তার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবলের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কত দ্রুত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক জনবল সঠিক জায়গায় দেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার বিষয়টি শুধু ফেনীর চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র। অনেক জেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। ফেনীর এসব পদ পূরণের বিষয়টি নোট নিয়েছি, ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।

দেশের স্বাস্থ্যখাতে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এবারের বাজেটে এ খাতে ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জিডিপির দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, এবার তা বেড়ে জিডিপির ১ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার কাজ করছে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট কাটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণাও চালু রাখতে হবে, যাতে নরমাল ডেলিভারিকে আরও উৎসাহিত করা যায়।

এদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, স্ক্যানু, আইসিইউ, ডেঙ্গু বিভাগ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জালাল উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সোহরাব হোসেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন, সহকারী আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন, ব্যাহত কৃষিশিল্প

* জেনারেটরে বাড়ছে উৎপাদন খরচ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতির কারণে নওগাঁয় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পকারখানায় কমে গেছে উৎপাদন। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করলেও এতে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

ধান-চাল উৎপাদনের জন্য পরিচিত নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০টির বেশি চালকল রয়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতের ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলে গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন সচল রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চালকলটির মালিক দ্বিজেন ঘোষ বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর আসে। জেনারেটর চালাতে ডিজেল লাগছে। এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেলের খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে কখনো কখনো কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

নওগাঁ বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর ফিরছে। এতে কারখানার উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের বাড়তি খরচের কারণে সারাক্ষণ তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

শুধু শিল্পকারখানা নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক বলেন, ‘আগস্টের শুরু থেকেই তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। প্রতিদিন ভোরে হোটেল খোলার পর রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এদিকে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ।

নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের অপারেটর ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘সারাদিনে ছয়-সাত ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। লোডশেডিং না থাকলে যে জমিতে সেচ দিতে দুই ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। বিদ্যুতের অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে ধান বাঁচানোই কঠিন হয়ে যাবে।’

ধামইরহাট উপজেলা সদর বাজারের থানা মোড় এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর মালিকও সব সময় সরবরাহ দিতে পারছেন না। প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা নেওয়ার চুক্তি থাকলেও এখন পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।’

নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌর এলাকা, বদলগাছী ও পত্নীতলার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। জেলার বাকি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় পিক ও অফ-পিক আওয়ার মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া বলেন, ‘তাদের সমিতির অধীনে মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।


নির্বাচিত

কুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে সংবর্ধনা প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস অর্জন করা ঝিনাইদহের কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের আহার রেস্টুরেন্টে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ আকবর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলামের ছেলে। কুয়েটে তার এই কৃতিত্বে পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘আসিফ আকবরের এ সাফল্য ঝিনাইদহের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।’ তার এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শাহজাহান আলী, আকুল উদ্দিন, আব্দুর রহমান, জাহিদুজ্জামান সেলিম, নাসির উদ্দিন, আনিছুর রহমান মিলনসহ এসএসসি-৯৩ ব্যাচের অন্যান্য সদস্যরা।

শেষে কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করেন।


নির্বাচিত

তেরখাদায় বিএনপি নেতা ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মো. ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও সর্বস্তরের জনগণ। বুধবার (১২ আগস্ট) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও নানা ধরনের হয়রানি করা হয়েছে। ফরিদ মোল্লাও ওই সময় রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা টিএনটি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পশ্চিম কাটেংগা এলাকার মো. ফরিদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি কৃষক দলের সাবেক সভাপতি এবং ছাত্রদলের নেতাও ছিলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি ফরিদ মোল্লার মুক্তির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা পর্যালোচনা করে প্রত্যাহার এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, বিএনপি নেতা মোল্লা মাহাবুবুর রহমান, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ুন কবির ও মো. বিল্লাল হোসেন বক্তব্য দেন।

এ সময় যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, অহিদ শেখ, কৃষক দল নেতা সাবু মোল্লা, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, মহিলা দল নেত্রী রূপালী বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফরিদ মোল্লার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তার মুক্তির দাবি অব্যাহত থাকবে। পরে নেতাকর্মীরা ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


নির্বাচিত

দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার সতর্কবার্তা ও ৫ দিনের পূর্বাভাসে এই তথ্যাদি জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করে সাবধানে চলাচল করার কঠোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

‘মন্ত্রীর জুতা টানছে পুলিশ’ প্রচারণা অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত: পুলিশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘মন্ত্রীর জুতা টানছে পুলিশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচারণাকে সম্পূর্ণ অসত্য, অবান্তর ও কল্পনাপ্রসূত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।

সংস্থাটির মতে, পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পুলিশের দেয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়, গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সদর থানাধীন বাহারছড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। একই মসজিদে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জও (ওসি) জুমার নামাজ আদায় করতে যান।

মসজিদে প্রবেশের সময় ওসি তার নিজের জুতা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নামাজ শেষে নিজের জুতা হাতে নিয়েই মসজিদ থেকে বের হন। এ সময় মসজিদের প্রবেশপথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতাও রাখা ছিল। সেই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ওসি কর্তৃক মন্ত্রীর জুতা বা স্যান্ডেল বহন করার যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

পুলিশের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, পুলিশকে ছোট ও হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।


নির্বাচিত

বোমাতঙ্কে বাড়ছে শঙ্কা

* সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার * সাভারে বোমা নিষ্ক্রিয়ের সময় বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা * বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, আতঙ্ক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২৭
বিশেষ প্রতিবেদক 

মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তু উদ্ধারের পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের মতো চরম জনবহুল পয়েন্টগুলোতে ফেলে রাখা ব্যাগ নিয়ে একের পর এক বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকায়। যদিও ডগ স্কোয়াড ও সিটিটিসির পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো জর্দার কৌটা কিংবা ময়লা-আবর্জনা হিসেবে ‘ফ্লস অ্যালার্ম’ বা মিথ্যা আতঙ্ক প্রমাণিত হয়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু রাজধানীর সেই উদ্বেগের আগুনে ঘি ঢালল সাভার-আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার এবং বরিশালের জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। সাভারে বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও কোডেড মেসেজ উদ্ধার হওয়ায় পুরো ঢাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’। একদিকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি—সব মিলিয়ে মেগাসিটির ব্যস্ত রাজপথ থেকে শিল্পাঞ্চল জুড়ে এক অজানা শঙ্কা থমকে দিয়েছে নাগরিক জীবনকে।

এদিকে, সাভারের সাদাপুর এলাকার মসজিদের মাঠে পাওয়া কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটিকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি জনশূন্য করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা ব্যবসায়ী নিবীর হোসেন বলেন, ‘এত শক্তিশালী বোমা, তা জানা ছিল না। যখন নিষ্ক্রিয় করা হয়, তখন বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠেছে। এটা অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা।

এসব ঘটনায় বোমা আতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ২ আগস্ট সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে’ রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আশুলিয়ায় একটি প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত কিংবা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি-না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

গত পাঁচ থেকে ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে নাশকতা ও এ ধরনের অপরাধের হার অনেক কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়।

আগস্ট মাসে বিশেষ সতর্কতা কেন জারি করা হয়েছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কিছু রাজনৈতিক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে সার্বিক আতঙ্কের সূচনা ঘটে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সন্ধান পাওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত বিএমডব্লিউ ছাতার ভেতরে টাইমিং সার্কিট, সালফার, বিয়ারিং বল ও তারকাঁটা যুক্ত প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের আইইডি উদ্ধার করা হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আনসার সদস্যদের সতর্কতায় মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে ছাতাটি শনাক্ত হয়। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটি নিষ্ক্রিয় করে। তবে নিষ্ক্রিয়করণের স্প্লিন্টারের আঘাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।

এরপর গত ১ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের লিফটের পাশে পরিত্যক্ত একটি লাল ব্যাগ দেখে পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। প্রায় ৫২ মিনিট স্টেশনের স্বাভাবিক ট্রেন ও যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, কেবল জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া যায়। একইদিন দুপুর ১টার দিকে ফার্মগেট স্টেশনের পিলারের কাছে পরিত্যক্ত একটি চটের বস্তা কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তেজগাঁও থানা পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম হাত দিয়ে (হ্যান্ড এন্ট্রি) পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে বস্তায় কেবল সাধারণ বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ছিল।

পরপর এসব ঘটনার পর গত ৩ আগস্ট ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা কাঁধে, হাতে কিংবা ট্রলিতে বড় ব্যাগ ও বস্তা নিয়ে তল্লাশি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন। সচিবালয় স্টেশনের স্ক্যানার বন্ধ ছিল।

ফার্মগেট স্টেশনের এমআরটি পুলিশের এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত হ্যান্ড ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে না থাকায় এবং যাত্রীদের ভিড়ে দীর্ঘ লাইন এড়াতে সবাইকে নিয়মিত তল্লাশি করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী মো. সেলিম ও তুলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তার এই ঘাটতি যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ জীবনহানি ঘটাতে পারে।

সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৭টি বোমা উদ্ধার: ঢাকার পরিস্থিতি যখন থমথমে, ঠিক তখনই উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে (৩০ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭টি বোমার সন্ধান মেলে। গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে বেঞ্চে ফেলে রাখা একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার আকৃতির টাইমারযুক্ত বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে নিষ্ক্রিয় করে।

এরপর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি হ্যালো বাইকে করে এসে তিন ব্যক্তি ‘জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ’-এর পাশে একটি ড্রাম ফেলে সটকে পড়ে। চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন এগোলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি ড্রাম খুলে কোরআন শরিফ, কাপড় ও ডায়েরির নিচে স্কচটেপে মোড়ানো একটি ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা এবং একটি রিমোট কন্ট্রোল দেখতে পান। বোমা ও রিমোটের গায়ে লাল কালিতে ‘R1’ কোডেড সংকেত লেখা ছিল।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে এটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুরে র্যাব, এনএসআই, সিটিটিসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪টি পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার সব বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট মেলায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।

বরিশাল জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ: সাভারের ঘটনার পরপরই বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মূল ফটকের কাছে ঘটিত হয় ককটেল বিস্ফোরণ। বিকট বিস্ফোরণে আদালতের বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন, সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বিচারিক কার্যক্রম।

এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে আইনমন্ত্রীর সফর বানচাল ও সমাজে ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সিআইডি ও ডিবি ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়ো ও প্লাস্টিকের টুকরো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে। বিএমপি কমিশনার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি তাজা বোমা।

সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার, বরিশাল আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজধানীতে তৈরি হওয়া একের পর এক ‘বোমাতঙ্ক’ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ : মতিঝিলে প্রস্তুত আইইডি উদ্ধার কিংবা মিরপুর ও ফার্মগেটে বর্জ্য ও পান-জর্দার কৌটা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। উগ্রবাদী বা দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি বড় হামলা চালাতে না পারলেও মেট্রোরেল স্টেশন বা জনবহুল এলাকাগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে। একে তারা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার এক ধরনের ‘লজিস্টিক সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

পুনর্গঠন ও কোডেড সংকেত: সাভারে ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা, ১৪টি পাইপ বোমা এবং জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও বোমার গায়ে ‘R1’ কোডেড সংকেত পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়া (Re-grouping) এবং নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ‘R1’ সম্ভবত কোনো বিশেষ সেল, কোড নাম অথবা একযোগে হামলার সংকেত (Signal) হিসেবে কাজ করছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ঝিমিয়ে পড়া নজরদারি: মতিঝিলের ঘটনা এবং তৎপরবর্তী সময়ে ফার্মগেট, মিরপুর ও সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে স্ক্যানার বিকল থাকা বা পর্যাপ্ত তল্লাশি ছাড়া মালামাল নিয়ে প্রবেশের চিত্র উঠে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের গণপরিবহন মেট্রোরেলে বিমানবন্দরের মতো শতভাগ স্ক্যানিং ও আর্চওয়ে প্রোটোকল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। পুলিশি নজরদারিতে ঢিলেমি থাকলে উগ্রবাদীরা সাধারণ বস্তা বা ট্রাভেল ব্যাগে করে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের বিস্ফোরক বহন করে বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কেবল ‘ফলস অ্যালার্ম’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে রাজধানীর সিসিটিভি নেটওয়ার্ক জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় আধুনিক টেকনোলজি এবং পর্যাপ্ত এমআরটি পুলিশ দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ১ আগস্টের মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের ব্যাগ ও বস্তায় কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, এগুলো স্রেফ ‘ফলস অ্যালার্ম’। মতিঝিলের ২৪ জুলাইয়ের আইইডির সঙ্গে এই দুই ঘটনার সরাসরি কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র মেলেনি। তবে জনবহুল স্থানে নাগরিকদের সচেতনতা প্রশংসনীয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মতিঝিল ও অন্যান্য স্থানের নাশকতার পেছনে কারা আছে তা শনাক্ত করা হচ্ছে। নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে সরাসরি ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, সাভারে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর ধরন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। বোমার উৎস, তৈরির উদ্দেশ্য এবং উদ্ধার জেএমবির লিফলেট ও ‘R1’ সংকেতের নেপথ্য বের করতে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার গুরুকে ধরার জন্য যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি): কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, বরিশালের জজ আদালতে ককটেল নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে সিআইডি ও ডিবি কাজ করছে।


নির্বাচিত

জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আটটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ চারটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১২ আগস্ট) কমিটির ২৫তম সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে সৃষ্ট জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তিনটি পৃথক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মোট আটটি কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে হংকং ঝেনইউ শিপিং থেকে দুই কার্গো, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে দুই কার্গো, চীনের চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দারাব ইনকরপোরেটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে।

এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় ‘জিনাই, সুতিয়া ও কাঁচামাটিয়া নদীর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ’ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘এসএসপিরিট’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অ্যানড্রয়েড ট্যাব কেনার একটি প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিটি।

সভায় অনুমোদিত চারটি প্রস্তাবের মধ্যে তিনটি এলএনজি আমদানিসংক্রান্ত এবং অপর দু’টি প্রস্তাব নদী খনন ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ট্যাব কেনা সংক্রান্ত বলে জানানো হয়।


নির্বাচিত

দেশে ১২ দিনে ১৩ লাশ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগস্ট মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে বুধবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মরদেহ পাওয়া যায়।

এগুলোর মধ্যে সিলেটের নিজ বাড়িতে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, রাজধানীর সবুজবাগে নারীর খণ্ডিত মাথা এবং মাদরাসার বদ্ধ কক্ষে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। খুন, গুম, নদী বা নর্দমায় লাশ ফেলে দেওয়া থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার শিকার—সব মিলিয়ে গত ১২ দিনের ১৩টি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

সিলেট নগরীর একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও কাজের মেয়ের গলা কাটা মরদেহ পাওয়া গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন- ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার দারুল উলুম মাদরাসা থেকে মঙ্গলবার ১১ বছর বয়সি ছাত্র হুসাইন কাজীর (১১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি পড়তে না চাওয়ায় জানালার গ্রিলের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তবে একটি শিশুর এমন মৃত্যুর পেছনে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার কক্ষের জানালার গ্রিলের সাথে হুসাইনের ফাঁস লাগানো মরদেহ পাওয়া যায়।

রক্তাক্ত নিরাপত্তাকর্মী

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় টাটা কোম্পানির একটি সার্ভিসিং সেন্টার থেকে মো. আব্দুর রহমান (৫৫) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চব্বিশ টিউবওয়েল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রাত ৮টার দিকে সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে আব্দুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নদীতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

বগুড়ায় করতোয়া নদীতে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলার পর গোসলে নেমে নিখোঁজ হন জয়নুল আবেদীন কলেজের শিক্ষার্থী মুহিব হাসান শ্রাবণ (১৯)। মঙ্গলবার রাতে আলো স্বল্পতার কারণে ডুবুরি দলের উদ্ধারকাজ বন্ধ থাকায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব নিয়ে স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবন্ধী নারীর লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খালের ব্রিজের নিচ থেকে বুদ্ধি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী রঙ্গ খাতুনের (৩৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়করভাবে, ‘কোনো অভিযোগ না থাকার’ কারণ দেখিয়ে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কর্ণফুলীতে বস্তাবন্দী নারী

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে গত ১ আগস্ট বস্তাবন্দী এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার জুতো, পোশাক ও কানের দুল দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

বুকে ছুরিবিদ্ধ প্রবাসী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিলে টর্চলাইটের আলোয় মাছ ধরতে গিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে খুন হন দীর্ঘ দিন পর দেশে ফেরা সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেন (৩০)। বুকে ছুরিবিদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তিনি একই গ্রামের শিবলু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ দিন সৌদি আরবে থাকার পর প্রায় ছয় মাস আগে তিনি দেশে ফিরেলেন।

বন্ধ গোডাউনে গলিত লাশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিনের বন্ধ একটি গোডাউন থেকে শনিবার এক ব্যক্তির গলিত ও দুর্গন্ধযুক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, ১০-১৫ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় ওই গোডাউনে চুরির সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চারতলার সিঁড়ির নিচে স্কুলছাত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোডে নিজ ভবনের নিচ তলা থেকে শুক্রবার রাতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আনিসুর রহমানের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। জমিজমা বিরোধের জেরে পূর্ববর্তী এক হত্যা মামলায় তার বাবা আসামি হওয়ায় পরিবারটি সেখানে ভাড়া থাকত। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে পুলিশ।

নারীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার একটি নর্দমা থেকে বৃহস্পতিবার এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করা হয়। নিহতের চুলে সোনালি রং, হাতে ট্যাটু এবং কানে দুল থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তার পরিচয় বা শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শীতলক্ষ্যায় ভাসমান যুবক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে রোববার রাতে আনুমানিক ২৭ বছর বয়সি এক অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের নাম-পরিচয় বা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


নির্বাচিত

২৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২৩ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে চারটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা পদ ও কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকার হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্‌দাছ্‌ছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা বিপিএতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে ঢাকা এসবির পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার এবং পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এপিবিএনের পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং র‍্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে এবং খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া পৃথক আরও দুটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, উপপুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আরও ১০ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


নির্বাচিত

banner close