মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

হাঁস চুরির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা আটক

ফাইল ছবি
প্রতিনিধি, নেত্রকোণা
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, নেত্রকোণা
প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৩ ২১:৫৩

নেত্রকোণার বারহাট্টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলীর ছেলে খোরশেদ মিয়ার খামারের হাঁস চুরির অভিযোগে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরাকোণা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার অলি বিশ্বাসকে (৪৩) আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোণা সদর উপজেলার বেতাটি বাজার থেকে ফকিরের বাজার ফাঁড়ির পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি নেত্রকোণা সদর উপজেলার পাঁচপাই গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টার কর্ণপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলীর ছেলে খোরশেদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃষি কাজের পাশাপাশি হাঁসের খামার করে হাঁস পালন করছিলেন। গত শনিবার রাতে খোরশেদ মিয়ার হাঁসের খামার থেকে প্রায় সাড়ে সাত শ হাঁস চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় খোরশেদ মিয়া বারহাট্টা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পেয়ে বারহাট্টার ফকিরের বাজার ফাঁড়ির পুলিশ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার বেতাটি বাজার থেকে ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অলি বিশ্বাসকে আটক করে।

এ ঘটনায় খোরশেদ মিয়া বাদী হয়ে অলি বিশ্বাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন। চুরি হওয়া হাঁসগুলো মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারিনি পুলিশ।

বারহাট্টার ফকিরের বাজারের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাজেদুল ইসলাম জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলীর ছেলে খোরশেদ মিয়ার হাঁসের খামার থেকে হাঁস চুরির ঘটনায় অলি বিশ্বাসকে বেতাটি বাজার থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চুরি যাওয়া হাঁসগুলো উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে, এ নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল হক খান মিলকী জানান, অলি বিশ্বাসকে পুলিশ আটক করেছে শুনেছি। তবে কেন আটক করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন কুমার সাহা জানান, হাঁস চুরির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। একজনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অলি বিশ্বাস ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কি না আমার জানা নেই। যেহেতু তার বাড়ি নেত্রকোণা সদর উপজেলায়।


এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন, হবে নতুন নীতিমালা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ার পর এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আসবে এবং কোনগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হবে না—নীতিমালায় তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিটি খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের খাতা পুনরায় দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি জানান।

আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিলন বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা বা অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের মাধ্যমে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তবে এবারের অভিজ্ঞতায় বিপুলসংখ্যক আবেদন আসায় এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

খাতা পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতিও যাচাই করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোনো পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

সরকারের নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নযোগ্য হবে এবং কোন ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হবে না—তা স্পষ্ট করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়নের কারণে কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে সম্ভাব্য দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর লক্ষ্য থাকবে।


নরসিংদীতে বন্ধ মিলের পেটে ১০০ টন গম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সালমা সুলতানা, নরসিংদী

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানায় তালা ঝুলছে দীর্ঘদিন ধরে—অথচ কাগজপত্রে সেই ভূতুড়ে মিলের পেতেই চালান হয়ে গেল বিপুল পরিমাণ সরকারি গম! নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বন্ধ একটি ফ্লাওয়ার মিলের নামে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দিয়ে তা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অচল মিলে সরকারি সম্পদ বরাদ্দের খবর চাউর হতেই নরসিংদী খাদ্য দপ্তরে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, চলছে একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর মহোৎসব।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তালিকাভুক্ত চারটি ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে গম ভাঙিয়ে সমপরিমাণ ফলিত আটা সরকারি গুদামে জমা নিয়ে থাকে। এই তালিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠান কারারচরের ‘মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল’। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চলতি বছরের ৭ জুন থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে ঈদুল আজহার সময় থেকেই কারখানাটির সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

অথচ এই সম্পূর্ণ অচল ও বিদ্যুৎহীন মিলটির অনুকূলে গত ১৩ জুলাই প্রায় ১৯ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ১০০ মেট্রিক টন ওএমএস-এর গম বরাদ্দ দেওয়া হয় (বিলি আদেশ বা ডিও নং-০১০৪৫৩, সিডিভি নং-২৬২৭-০০০৩২৮৫৬৮৪)। বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করেন নরসিংদী সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না এবং ডিও গ্রহণ করেন মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া। সচল অন্য তিনটি মিল থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বার্থে একটি বিদ্যুৎহীন বন্ধ কারখানায় এত বড় চালান পাঠানো হলো, তা নিয়ে জনমনে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলে বিপাকে পড়ে জেলা খাদ্য দপ্তর। অনিয়ম ও থলের বিড়াল আড়াল করতে ২৬ জুলাই তড়িঘড়ি করে একটি আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং-১৩.০১.৬৮০০.০০০.০০০.৫৭.০০০৯.২৫.৬২৮)। উক্ত আদেশে মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলের নামে থাকা অবশিষ্ট ৭৬.৬০০ মেট্রিক টন গমের উপবরাদ্দ বাতিল করে বাকি তিনটি সচল মিলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রশাসনিক দায় এড়াতে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।

সরেজমিনে কারারচরস্থ মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে ভুতুড়ে অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘আমার মিলে বিদ্যুৎ না থাকায় আমি অন্য মিল থেকে গম পেষন করে সরকারি গুদামে জমা দিয়েছি।’ তবে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজস্ব মিলের বাইরে অন্য কোথায় গম ভাঙানো হলো এবং আদৌ পুরো ১০০ টন গম পেষন হয়েছে নাকি কালোবাজারে বিক্রি করে হিসাব মেলানো হয়েছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পুরো কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে দায় এড়িয়ে যান নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। কাগজপত্র আমার কাছে আসলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি, বাকি সব কাজ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না অবশ্য জানান, মিল বন্ধের বিষয়ে মালিক আমাদের আগে অবহিত করেননি। তদন্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সত্যতা মিলেছে, তবে বরাদ্দকৃত ১০০ মেট্রিক টন গমের আটা তারা গুদামে জমা দিয়েছেন।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্যশস্য তুলে নেওয়ার ঘটনাটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি কর্মকর্তা ও মিল মালিকের সুপরিকল্পিত আর্থিক দুর্নীতি। সরকারি গম নিজস্ব মিলে না ভাঙিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ধরনের গম চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


বিদেশি সিগারেটের চোরাইপথ শাহ আমানত

* বাহক ধরা, অধরা হোতা * দুবাই-শারজাহ-আবুধাবি থেকে যাত্রী লাগেজে আসে চালান * ১০ বছরে বারবার ধরা পড়লেও হোতারা আড়ালেই
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালউদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তিন যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সময় লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। জব্দ সিগারেটের বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। তিন যাত্রী—ফেনীর ছাগলনাইয়ার মঈনুল আবেদীন, আব্দুল মান্নান ও ফেনী সদরের নুরুল আলম রিয়াদ—এর ব্যাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন পাওয়া যায়। পাশাপাশি মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হয় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আটক পণ্য কাস্টমসের হেফাজতে গেলেও তিন যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একদিনের এই ঘটনা তাই শুধু ‘৩৬ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ’-এর খবর নয়। গত প্রায় এক দশকের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মেলালে এটি শাহ আমানত বিমানবন্দরকে ঘিরে বিদেশি সিগারেট চোরাচালানের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্যাটার্নেরই নতুন উদাহরণ।

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেটের বড় চালান আটকের খবর নিয়মিত এসেছে।

২০১৭: ডিসেম্বরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ২৫৮ কার্টন (মূল্য ১৫ লাখ টাকা) এবং সেপ্টেম্বরে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে ২৬০ কার্টনে ৫২ হাজার শলাকা সিগারেট (মূল্য ২০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।

২০১৯: আগস্টে দুবাই থেকে আসা তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৮১৪ কার্টন এবং শারজাহ থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর নামে আনা ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার সিগারেট আটক হয়। নভেম্বরে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের ২৯ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন (মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা) উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ, একাধিক যাত্রীকে ব্যবহার করে বড় চালান ভাগ করে আনার প্রবণতা দেখা যায়।

২০২০: জানুয়ারিতে ৫১২ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ কার্টন ও ৯টি সোনার বার, এবং সেপ্টেম্বরে ৯৫ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

২০২১: আগস্টে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকেই ২৫২ কার্টন মন্ড, ডানহিল ও ৩০৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়।

২০২২: জুলাইয়ে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এপ্রিলে ১৩৭ কার্টন এবং নভেম্বরে ফ্ল্যাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে ১১০ কার্টন ও অন্য চালানে ৮ লাখ ৮০ হাজার শলাকা সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

২০২৩: স্বর্ণের বার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের পাশাপাশি দুবাইয়ের এক যাত্রীর কাছে ২ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়—যা মূলত ‘ব্যাগেজ পার্টি’ নেটওয়ার্কের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

২০২৪: ফেব্রুয়ারিতে এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইটে ৭৩৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২৪৫ কার্টন ছিল পরিত্যক্ত।

২০২৫: জুলাইয়ে দুবাই থেকে আসা ৩ যাত্রীর কাছ থেকে ৫৭০ কার্টন সিগারেট ও ৩০টি মোবাইল (মূল্য ৬০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।

২০২৬: বছরের শুরু থেকেই একের পর এক চালান ধরা পড়ছে—জানুয়ারিতে ৪৪০ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৭০ কার্টন ও ১৫টি মোবাইল, মার্চে ৪২৯ কার্টন, এপ্রিলে ৬৩০ কার্টন ও ৫টি স্মার্টফোন, মে মাসে মোট ৩,০৪৩ কার্টন (দুটি চালানে), জুনে ১,৭০০ কার্টন (৬৯৬টি পরিত্যক্ত), জুলাইয়ে ২৩৫ কার্টন এবং ১৭ আগস্টে মোট ১,৮০২ কার্টন (১,০২০টি পরিত্যক্ত) সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

দুবাই-চট্টগ্রাম, শারজাহ-চট্টগ্রাম, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবুধাবি-চট্টগ্রাম ও মাসকাট-চট্টগ্রাম রুট চোরাচালানের প্রধান উৎস হিসেবে বারবার উঠে এসেছে।

বড় বাণিজ্যিক কার্গো হিসেবে না এনে প্রবাসীদের লাগেজে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আনা হয়, যাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে।

বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কায় বা কাস্টমস এড়িয়ে যেতে লাগেজ ফেলে রেখে কেটে পড়ে বাহকরা। এর ফলে পণ্যের সঙ্গে বাহকের সরাসরি যোগসূত্র অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি হয়। সিগারেটের সঙ্গে দামি স্মার্টফোন, প্রসাধনী ও স্বর্ণ একত্রে পাচার করা হয়।

কোটি টাকার পণ্য আটক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহকদের (যাত্রীদের) কেবল মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

যারা শুধু বাহক বা প্রবাসে সামান্য টাকার বিনিময়ে ব্যাগ বহন করেন, তারা ধরা পড়লেও পেছনে থাকা মূল অর্থদাতা, সিন্ডিকেট বা দেশীয় আমদানিকারকরা সব সময় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজ, লাগেজ ট্যাগ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট এবং ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক বা মূল নেটওয়ার্ক পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো গভীর তদন্তের অভাব দৃশ্যমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান কার্যকর—বারবার চালান আটক হওয়া তারই প্রমাণ। তবে এক দশক ধরে একই ঘটনা ঘটার কারণ হলো তদন্ত কেবল পণ্য জব্দ ও যাত্রী শনাক্ত/সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এই চোরাচালান বন্ধ করতে হলে বাহকের বদলে মূল হোতা এবং পণ্যের চালানের বদলে অর্থের লেনদেন ধরে তদন্ত চালানো জরুরি।


ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মোহাম্মদ রাজন (৩৫) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারাগার সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারারক্ষী মোহাম্মদ রাজীব জানান, রাজন কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর ৯২৩০/এ। তার বাবার নাম মৃত নুরুল ইসলাম। তবে কোন মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’


রাজপথে মোদি বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং সরব ভূমিকার পর এবার আন্দোলনকে রাজপথে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভিতরের প্রতিবাদ কতটা জনমানসে প্রভাব ফেলেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তা কতটা সাড়া জাগাতে পেরেছে, এবার সেই হিসাবই কষতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এ লক্ষ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। কিন্তু সংসদের বাইরে সেই আন্দোলনের প্রতিফলন কতটা দেখা গেছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, শুধু সংসদে সরব থাকলেই হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে রাজপথেও ধারাবাহিক আন্দোলন প্রয়োজন।

এই লক্ষ্যেই ছাত্রসমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের পুনেতে কংগ্রেসের ছাত্রদের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং প্রয়াগরাজে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আগামী দিনেও এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কংগ্রেসের হিসাব, ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি নীতি নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তার প্রভাব রাজপথে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়োগের মতো বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে আরও একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির অর্থ নিয়ে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। ফলে অযোধ্যাকে ঘিরে যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি।

রামমন্দিরের প্রণামির অর্থ নিয়ে অভিযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখার সম্ভাবনাই এখন প্রবল। ফলে অযোধ্যার এই অভিযোগকে সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে চাইছে। কংগ্রেসের পরিকল্পনা শুধু উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ডসহ হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলের লক্ষ্য, স্থানীয় অভিযোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনকে যুক্ত করা। তবে সামনে রয়েছে উৎসবের মরশুম। ফলে কখন, কোথায় এবং কীভাবে কর্মসূচিগুলো করা হবে, তা নিয়েই এখন কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা চলছে। আগামীকাল বুধবারের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সংসদের ভিতরের প্রতিবাদকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, সেই সমালোচনাকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে পারলেই তার রাজনৈতিক সুফল মিলবে। তাই সংসদের লড়াইয়ের পর এবার রাজপথে নিজেদের শক্তি কতটা বাড়াতে পারে কংগ্রেস, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ২০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুক না পেয়ে গরম পানি ঢেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. সানাউল্লাহের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য জানান। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক।

এদিন কারাগারে আটক সানাউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি সানাউল্লাহ যৌতুক চেয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে যৌতুক না পেয়ে ২০০৬ সালের ২ মে গরম পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেন। পিংকির ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় পিংকির বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। মামলার বাদী এতে নারাজি দাখিল করেন। পরে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।


ভোলায় বিনামূল্যে কোস্ট গার্ডের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (১৭ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার ব্যবস্থাপনায় ভোলার সদর থানাধীন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৯৬ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’


মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে: মৎস্যমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে।’

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎকরণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাছ বর্তমানে কী সমস্যায় আছে, আগামী দিনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, মানুষের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের চাহিদা-এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে পারলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের জন্য পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজননকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ খায় তা নয়, যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে সে দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।’

চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’

মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খননকাজ হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।’

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইর বিজ্ঞানীরা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।


৮ মাসে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ ও অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের আওতাধীন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বিওপির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটার গান। এ ছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চবিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


খুলনায় ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিয়াকত (৫৩) নগরীর গগনবাবু রোডের নিবাসী। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে মৃত্যু ১৩-তে উন্নীত হলো। নতুন করে আরও ১৫৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৪৮ জনে উন্নীত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিভাগে নতুন ভর্তি ১৫৩ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

জেলাভিত্তিক নতুন ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনার সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ০ জন, যশোরে ২০ জন, ঝিনাইদহে ০ জন, মাগুরায় ০ জন, নড়াইলে ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে গত ১৩ আগস্ট প্রথম ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়। সোমবার আরও ৪ জন ভর্তি হলো।

এদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৫৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৫৬ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ছাড়া এ পর্যন্ত অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৩৮ জনকে। চলতি বছর এ বিভাগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এর মধ্যে ১০ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও খুলনা জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বাগেরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ১০ জনের মধ্যে ৪ জন রয়েছে খুলনার।

বিভাগের হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ভর্তির মধ্যে রয়েছে খুলনায় ১৭২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন, বাগেরহাটে ৬৮ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, যশোরে ৩৫ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন, মাগুরায় ৭ জন, নড়াইলে ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন।

জানতে চাইলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘মৃত লিয়াকত ১৬ আগস্ট ভর্তি হয়েছিলেন। তার ডেঙ্গুসহ কিডনি জটিলতা ও নানা উপসর্গ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে পৃথক ইউনিট খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।’


চলনবিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় জলপথে নৌকা চালিয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক তারে লগির স্পর্শ লেগে মো. ফরহাদ আলী (৪৫) নামের এক খড় ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের শওড়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন চলনবিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরহাদ আলী সিংড়া উপজেলার কাউয়াটিকড়ী গ্রামের বাসিন্দা আতাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মৌসুমি খড় (স্থানীয় ভাষায় ‘পোয়াল’) ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা তাদের সংরক্ষিত বোরো ধানের খড় বিক্রি করেন। এ সময় ফরহাদ আলীর মতো ব্যবসায়ীরা বিলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে খড় কিনে নৌকায় করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন।

প্রতিদিনের মতো সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালেও ফরহাদ আলী শওড়াবাড়ি এলাকা থেকে বোরো ধানের খড় কিনে নৌকায় বোঝাই করে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিলে জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় তার হাতে থাকা নৌকা চালনার লগিটির (বাঁশের লাঠি) সাথে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের স্পর্শ লাগে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে নৌকার ওপর গড়িয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সিংড়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


তাহিরপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা  

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ তাহিরপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহযোগিতায় উপজেলা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে যুক্তিতর্কে অংশ নেয় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এবারের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘প্রতিরোধ নয়, দমনই দুর্নীতি নির্মূলের কার্যকর উপায়।

বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় উপজেলার মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতায় আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং বালিজুরী হাজি এলাহীবক্স উচ্চবিদ্যালয় রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ ছাড়া পক্ষে ও বিপক্ষে দুজন শিক্ষার্থীকে সেরা বক্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

বিতর্কের প্রতিযোগিতায় মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন রতন মিশ্রি সুপ্তি রানী সরকার জাহানারা বেগম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পিংকি তালুকদার, সহকারী শিক্ষক দক্ষিণ কুল এসই এস ডি পি মডেল উচ্চবিদ্যালয় নুরুল আমিন সহকারী শিক্ষক বালিজুরী হাজি এলাহীবক্স উচ্চবিদ্যালয় ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুবেল আহমেদ, উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নিঝুম রায় প্রান্ত, উপসহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়।

আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র দে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধি অনন্ত দেবনাথ।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও মিডিয়াকর্মী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা বাড়াতে হবে। বিতর্কের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

পরে অতিথিরা আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয় সততা স্টোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


ভারতে চিকিৎসাধীন গাজীপুরের দুই বন্ধুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন গাজীপুরের দুই বন্ধু। চিকিৎসা অবস্থায় মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ গ্রহণ করে দেশে ফিরিয়ে আনেন ভারতে থাকা আরেক বন্ধু। গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে আনা হয়।

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) ও কালীগঞ্জের কাপাসিয়া এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০) গত ১৫ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান। পরে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সূত্র জানায়, বিল্লাল মাঝি গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসা অবস্থায় মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে মারা যান মো. হাবিবুর রহমান। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হাবিবুর রহমান স্ট্রোকজনিত জটিলতায় এবং বিল্লাল মাঝি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুজনের মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদের বন্ধু মো. আবু নাহিদ (৪৫) মরদেহ দুটি গ্রহণ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিল্লাল মাঝির মরদেহ এবং ৭টা ৩০ মিনিটে হাবিবুর রহমানের মরদেহ দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছায়। পরে ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশ বিজিবির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একসঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া দুই বন্ধুর মরদেহ শেষ পর্যন্ত আরেক বন্ধুর হাত ধরে দেশে ফেরার ঘটনায় স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই মো. তারিখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


banner close