শনিবার, ৯ মে ২০২৬
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
কেসিসির তিন মেয়র প্রার্থী

সম্পদে শীর্ষে খালেক, আয়ে মধু, শিক্ষায় আউয়াল

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী (বাঁ থেকে) তালুকদার আব্দুল খালেক, শফিকুল ইসলাম মধু ও মো. আব্দুল আউয়াল। ফাইল ছবি
  আওয়াল শেখ, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  আওয়াল শেখ, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৩ ২১:৪৩

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আব্দুল খালেক স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে আছেন। তবে খালেকের থেকে প্রায় তিন গুণ বার্ষিক আয় বেশি জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধুর। অন্যদিকে সম্পদ ও আয়ে পিছিয়ে থাকলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় বাকি দুই প্রার্থীর থেকে এগিয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘হলফনামার তথ্য যাচাই-বাছাই করে সাতজনের মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা ২১ মের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারবেন। ২৫ মের মধ্যে যে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। ২৬ মে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ১২ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

সম্পদ বেড়েছে তালুকদার আব্দুল খালেকের

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এই হিসাবে গত পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৯ টাকার।

২০২৩ সালের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৪ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ১৭০ টাকা, চারটি ব্যাংকে জমা ১ কোটি ১৮ হাজার ১৩৪ টাকা, সঞ্চয়পত্র ১০ লাখ টাকা, পোস্টাল এফডিআর ১৮ লাখ টাকা, লেক্সাস ব্র্যান্ডের গাড়ি ৪৪ লাখ টাকার, মাইক্রোবাস ১৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮১ টাকার, এসি-টিভি-ফ্রিজ-ওভেন ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার ও খাট-সোফা-টেবিল-চেয়ার-আলমারি ৭ লাখ ১২ হাজার টাকার।

বর্তমানে তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৩ বিঘা কৃষিজমি। এ ছাড়া ক্রয় করা ৩ দশমিক ২১ একর কৃষিজমি ও ৩ কাঠা অকৃষি জমি। যার মোট মূল্য ২৮ লাখ ২১ হাজার টাকা। জমিসহ একটি বাড়ির অর্ধেকের মালিকও খালেক, যার মূল্য ২ কোটি ১২ লাখ টাকা।

হলফনামা মতে, বর্তমানে তালুকদার আব্দুল খালেকের বছরে আয় কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যাংকের সুদ থেকে আয় ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা, মেয়র পারিতোষিক ও ভাতা থেকে আয় ২৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতায় তালুকদার আব্দুল খালেক বিএ পাস। তার বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল ৯টি। এর মধ্যে চারটিতে অব্যাহতি ও পাঁচটিতে খালাস পেয়েছেন।

বার্ষিক আয় বেশি শফিকুল ইসলাম মধুর

তিন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক আয় করেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। বছরে তার আয় ৯০ লাখ টাকা। যার মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে আয় হয় ১ লাখ ৮৬ হাজার ও ঠিকাদারি ব্যবসা থেকে ৮৮ লাখ টাকা।

তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ও ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড খুলনা শাখায় ৩ কোটি টাকার এফডিআর, একটি গাড়ির মূল্য সাড়ে ২৩ লাখ টাকা, ১৪ ভরি স্বর্ণ, ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী, দেড় লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ১৫ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদ রয়েছে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় চার কাঠা জমি ও চারতলা বাড়ি, টুটপাড়া মৌজায় শূন্য দশমিক ১৩৭২ ও শূন্য দশমিক ১২৪৪ একরের দুটি জমি; যার সর্বমোট মূল্য ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ব্যাংকঋণেও তিনি শীর্ষে রয়েছেন। মধুমতি ব্যাংক খুলনা শাখায় তার ঋণের পরিমাণ ৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। নিজেকে তিনি স্বশিক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

শিক্ষায় সবার ওপরে মো. আব্দুল আউয়াল

বৈধ হওয়া তিন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষায় সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি কামিল পাস (বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান)। তবে সম্পদ ও অন্য সবকিছুতে পিছিয়ে রয়েছেন। তিনি পেশা হিসেবে লিখেছেন জামি’আ রশিদিয়া গোয়ালখালী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সাধারণ ব্যবসায়ী।

তার বার্ষিক আয় ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ও মাদ্রাসার শিক্ষকতা থেকে ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ আছে নগদ ৬ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে শুধু নিজের নামে ৩ দশমিক ৫৭ শতক অকৃষি জমি। তার নামে কোনো মামলা নেই।


৩৭ লাখ টাকার ভবনে নেই সিঁড়ি! 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ৪ বছর আগে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দুই তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন। তবে ভবনটির দোতলায় ওঠার জন্য তৈরি করা হয়নি কোনো সিঁড়ি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো পড়ে আছে অকার্যকর অবস্থায়। বাধ্য হয়ে নিচতলায় গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, দোতলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণে জেলা পরিষদ থেকে ৪ দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৩৭ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও অত্যাবশকীয় অবকাঠামো—দোতলায় ওঠার সিঁড়ি—নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় ক্লাস চললেও দ্বিতীয়তলা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে নিচতলায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা পাঠদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও থাকে না। দোতলায় কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি না থাকায় তা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু ভবন সংকটই নয়—বিদ্যালয়ে নেই খাবার কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাশাপাশি খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, ‘জেলা পরিষদের বরাদ্দে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সিঁড়ি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে হয়তো। এককালীন বরাদ্দ হলে এটা ঘটত না। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়—তা যেন ব্যবহারযোগ্য হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন একটি স্কুল ভবন তৈরি হলো তার কোনো সিঁড়ি থাকবে না এটা কেমন কথা? তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করবে এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ!


তিন সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন স্বামী–স্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দোহার প্রতিনিধি

ঢাকার দোহারের বিলাশপুর রাধানগর গ্রামে আগুনে পুড়ে স্বামী–স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গতকাল গভীর রাতে হঠাৎ আবদুস সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম দম্পতির বাড়িতে আগুন লাগে। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এই দম্পতি তিন সন্তানকে নিরাপদে ঘর থেকে বের করেন। তবে নিজেরা আর বের হতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই তাঁরা মারা যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোর চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। টিন ও কাঠ দিয়ে বানানো পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সালাম ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনাটি কী নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১০৮ রোগী, মৃত্যু ২ শিশুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল বিভাগে হাম রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে ১০৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৬১ জন রোগী বাড়ি ফিরেছেন। এ সময় হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেবাচিমে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৩ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত একদিনে ১১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া শিশুদের একজন মোহাম্মদউল্লাহ (১০ মাস)। তার বাবার নাম মো. আব্বাস। বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাদারা এলাকায়। গত ৫ মে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৮ মে তার মৃত্যু হয়।

অপর শিশুটির নাম আয়শা (৭ মাস)। তার বাবার নাম ইলিয়াস। বাড়ি পটুয়াখালীর পাগলা এলাকায়। গত ১ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৯ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানান, দুই শিশুই গুরুতর নিউমোনিয়া ও হাম রোগে আক্রান্ত ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৩ জন, পটুয়াখালীতে ২৪ জন, ভোলায় ১০ জন এবং বরগুনায় ১১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ৪ হাজার ৪৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম পাওয়া গেছে। একই সময়ে ২৮ জন সন্দেহজনক এবং ৩ জন নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৪ হাজার ৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৩ হাজার ৫৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, কাশি, শরীরে লালচে দানা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।


কর্ণফুলীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কর্ণফুলী উপজেলায় কোরবানির পশু নিয়ে জমে উঠেছে প্রস্তুতি। গবাদিপশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার খামারিরা। তবে এবার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কর্ণফুলীতে কোরবানির জন্য দেড় হাজারের বেশি ছোট-বড় খামারে প্রায় ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও বিপুলসংখ্যক পশু দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে— ১৪ হাজার ৫২টি ষাঁড়, ৫ হাজার ৮৪৩টি বলদ, ১ হাজার ৯৪৩টি গাভী, ১ হাজার ৬৩৫টি মহিষ, ৮ হাজার ৩৬০টি ছাগল এবং ৫৮৬টি ভেড়া। গত বছর এ এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৯৬০টি। সে হিসাবে চলতি বছরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পশুপালনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ জন কর্মী নিয়মিত খামারিদের সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া কোরবানির পশুর হাটে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খামারেই পর্যাপ্ত পশু উৎপাদন হওয়ায় এবার সরবরাহ বেশি থাকবে বলে আশা করছি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য ও ভালো মুনাফা পাবেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির পশুর হাট দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ হাটকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এতে যানজট, জনভোগান্তি ও অনিয়ম কমবে।” তিনি আরও জানান, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। চাঁদাবাজি ও জাল টাকা প্রতিরোধে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্ণফুলীর ফকিনীরহাট, ফাজিলখাঁর হাট, কলেজবাজার ও মইজ্জ্যারটেকসহ স্থানীয় হাটগুলোতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে এবং দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র খামারি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “বছরজুড়ে যত্নে লালন-পালন করা পশু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছি। যদিও পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু আসতে শুরু করেছে। তবুও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্।”

খামারিদের প্রধান দাবি, বাজারে পশুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। তাদের মতে, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকলে তারা লাভবান হবেন।

কর্ণফুলী ডেইরী ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ ছালেহ জহুর বলেন, আশা করা যাচ্ছে স্থানীয় খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু সরবরাহ থাকায় শেষ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।



মেহেরপুরের ১৪০০ কেজির কালু যাবে রাজধানীর হাটে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা বাবু, মেহেরপুর প্রতিনিধি 

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুর গাংনীতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে কালু নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়।

প্রায় ১৪"শ কেজি গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নিজ ও অন‍্য জেলার নানা বয়সী মানুষ।

গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের বাসিন্দা মালোয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়ির বিশাল দেহের ষাঁড়টি দেখতে।

তবে ষাঁড়টি নিজ সন্তানের মত লালন-পালন করে বড় করেছে তার স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন।

কালো ও হালকা লাল রঙের মিশেলে গড়া পাকিস্তান শাইহিয়াল জাতের গরুটির শক্তপোক্ত গঠন সহজেই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

গৃহবধু হোসনেয়ারার দাবি, শাইহিয়াল জাতের ষাঁড়টির বতর্মান ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি বা ৩৫ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন তার বাড়িতে। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন।

তিনি আরো জানান,কালু জন্ম নেয়ার পর থেকে আড়াই বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো বড় করা হয়েছে।

কোনো ধরণের ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া,খৈল,ছেলটি গুড় খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে।

গরুটির পেছনে বতর্মানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রেতা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে গেছেন। তবে দামে দরে মেলেনি। আমার দাবি কালুর সাড়ে ৭ ফিট লম্বা,আর উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। আর খুব শান্ত সভাবের। আমরা এবার কালুকে নিয়ে ঢাকায় যাবো। তবে উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করে দেবো।

প্রতিবেশি আতিয়ার রহমান বলেন, হোশনেয়ারা খুব পরিশ্রমী একটা মেয়ে। ওর স্বামী বিদেশে থাকে অথচ তার বাড়িতে এখন এগারোটা গরু আছে। সব গুলো সে লালন পালন করে। তবে সব গরুগুলোর মধ‍্যে কালো লাল রংয়ের মিশ্রিত বিষাল ষাঁড়। আর তার নাম রেখেছে কালু। ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন লোক আসছে।

শাহাজান আলী বলেন, আমি ও ভাইয়ের সাথে মালোয়েশিয়াই থাকি ঈদ করতে ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। আমার বড় ভাবি আড়াই বছর ধরে কালুকে নিজের সন্তানের মত পেলে বড় করেছে। আমার আসা দশদিন হবে,সে কালুকে খাওয়ানো, গোসল করানো, গরম লাগলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা সবই করে। তার ভালোবাসার মূল‍্য অর্থ দিয়ে হবে না।

আরেক প্রতিবেশি হাফিজ আলী বলেন, আমাদের এই এলাকায় কালুর মত এতো বড় ষাঁড় আর দ্বিতীয়টি নেই। আমাদের এলাকায় বড় গরুর চাহিদা কম থাকাই,ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থিকে। যে কারনে ভালো দাম পেতে কালুকে ঢাকার হাটে তুলবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।

এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯।

এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে।


হাওর থেকে আমদানি হওয়া ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক 

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৪:৪৪
রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

চলতি বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চল থেকে আসা নতুন ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। ভৈরবের মোকামে আধা পচা ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে আড়ৎদার ও ধানের বেপারিরা।

ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওর থেকে আসা নৌকা বোঝাই করা নতুন ধান শ্রমিকরা মাথায় করে নামাচ্ছেন। মোকামে পর্যাপ্ত ধানের ক্রেতা না থাকায় কয়েক হাজার ধানের বস্তা স্তুপে স্তুপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে হাওরাঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি। এসব ধানের জমি থেকে কৃষকরা ধান কাটার পর বিক্রির জন্য বন্দরনগরী ভৈরব বাজারে নিয়ে আসছে। বৈশাখের শুরুতেই নতুন ধানের দাম অর্ধেক কমে গেছে। দাম কমের কারণে কৃষক ও ধানের বেপারিরা হতাশ।

ভৈরবে প্রতিমণ নতুন ধান বিক্রি হয়েছে ৭৮০/৮০০ টাকায়। অথচ একমাস আগে এখানে প্রতিমণ পুরাতন ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিবছর নতুন ধান বাজারে আমদানি হলে দাম কিছুটা কমে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেক দাম কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় আড়ৎদাররা।

জানা যায়, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটা শুরু হলে এসব ধান ভৈরব বাজারে আমদানী হয়। তবে গতবারের তুলনায় ভৈরবের আড়ৎতে ধানের আমদানি কমেছে। হাওরের কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার ৩০টি উপজেলা এলাকা থেকে ট্রলারযোগে কৃষকরা ধান নিয়ে ভৈরবের আড়ৎগুলিতে আমদানী করে থাকে। আড়ৎদারা কৃষকের ধান ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে। বিগত বছর থেকে এবার ধানের দাম বেশী কমে গেছে বলে জানায় কৃষকরা। গত বছর বৈশাখের শুরুতে প্রতিমণ ধান ৯০০/১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিস্ত এবার শুরুতেই ৭৮০/৮০০ টাকা। নতুন ধানের দাম এত কম হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। কৃষকরা বলছে এত কম দাম থাকায় ধানের উৎপাদন ব্যয় উঠে আসবে না।

অষ্টগ্রামের কদমচাইল এলাকা থেকে নৌকা বোঝাই করে ধান বিক্রির জন্য ভৈরব মোকামে আসছেন মনির মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের নৌকায় দুই হাজার বস্তা নেয়া যায়। কিন্তু উজানের পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানের আমদানি কম। মাত্র এক হাজার বস্তা ধান নিয়ে ভৈরব মোকামে বিক্রি করতে আসছেন। কিন্তু বাজারে ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছি না।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, আমি ধান কাটার পর ১০০ মণ ধান ট্রলারে ভৈরবে আমদানী করার পর ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এত কম দামে ধান বিক্রিতে উৎপাদন খরচও উঠবেনা। একই কথা বলেন সুনামগঞ্জ থেকে আসা কৃষক রফিক মিয়া। তিনি ২০০ মণ ধান আমদানী করে ৭৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে এখন হতাশ।

ভৈরব বাজারের আড়ৎদার আলী হোসেন বলেন, হাওরে উজানের পানিতে ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় মোকামে ধানের আমদানি কম। তবে সেসব ধান মোকামে আমদানী হচ্ছে তা বেশি ভাগই আধাপচা ও ভেজা ধান। কৃষকরা ধান কাটার পর আধা কাচা ধান নিয়ে আসে। মিলাররা কাচা ধান চাল করলে পরতা হয়না। এই কারণে ধানের দাম কম। তবে একমাস আগে পুরাতন ধানের দাম ১৪০০ টাকা মণ ছিল স্বীকার করেন তিনি। ভৈরবে প্রতিদিন ট্রলারে হাজার হাজার মণ ধান হাওর থেকে আমদানী হচ্ছে বলে তিনি জানান। এসব ধান আশুগঞ্জ, মিরকাদিম, নর্থবেঙ্গলসহ স্থানীয় রাইস মিল মালিকরা ক্রয় করছে।

ভৈরব চেম্বারের সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ বলেন, ধানের দাম বেশী কমে গেছে। তবে সরকার ধান ক্রয় শুরু করছে এবং শুকনা ধান আমদানী হলে কয়েকদিনের মধ্য দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি আরো বলেন এবার শুরুতেই ধানের দাম কম, তাই কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম জানান, হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ধান কেটে কাচা ধান বিক্রি করতে ভৈরবে নিয়ে আসে। তবে এবছর টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আধা পচা, আধা কাচা ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। তাই কৃষক দাম কম পাচ্ছে। শুকনা ধান হলে দাম আরও বেশী পেত। তবে একমণ ধান উৎপাদন করতে ৫০০/৬০০ টাকা কৃষকের খরচ হয়। সরকারি ভাবে কৃষকদের নায্য মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে সেখানে ধানের নায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। কাজেই কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানান তিনি।


দর্শনার বেগমপুর ইউপিতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন চক্রের সন্ধান, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন। অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৭ মে ২০২৬ তারিখে, যখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চিনেন না। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।



টাঙ্গাইলে উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজারে সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটলের ঘটনা ঘটেছে।বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফাটলের মাত্রাও।আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাসাইল উপজেলা (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলী বাসাইল উপজেলার সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী ভায়া প্রাইমারী স্কুল সড়কে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে।৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতু বিগত ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল নির্মাণ কাজ শুরু হয়।প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল।পরে সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন,এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয় নাই।রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না।হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে।যার কারণেই ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর বলেন,সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে।সড়কে ভালো মতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল।ভালো মতো মাটি পেটানো হলে এমনটা হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা ননী গোপাল সরকার বলেন,রাস্তার কাজ দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে।রাস্তা দিয়ে কি চলাচল করা যাবে আরও কয়েকদিন গেলে।যদি বৃষ্টি হয় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না।রাস্তা ধসে যাবে।যদি ভালোভাবে কাজ করতো এমনটা হতো না।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলীর ম্যানেজার নুর নবী বলেন, আমাদের রাস্তার পাশে ব্লক রাখা ছিল। ব্রীজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল।অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে যেতে পারিনি।বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি।ব্রীজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়।নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে।ব্রীজের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বোঝাই ট্যাফিক গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় রাস্তার কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছে।যেখান দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন,বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রীজের কাজ চলমান রয়েছে।ব্রীজের সংযোগ সড়কে কিছু অংশ ব্লক বসানো হয়নি।অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে।যার জন্য ব্রীজের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা গেছে।এই ব্রীজের কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী। তাদের সাথে কথা হয়েছে,তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দিবে।ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজের এখন পর্যন্ত টাকা প্রদান করা হয়নি।যে জায়গা গুলোতে সমস্যা হয়েছে,তারা মেরামত করে দিবে।


টঙ্গীবাড়ীতে ৫ শতাধিক রোগীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু শেখ ফারুকের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৫ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন মেডিসিন, শিশু, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলা, চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ টুটুল ঢালী এবং গাইনি ও মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সনোলজিস্ট ডা. ফেরদৌসী আউয়াল।

অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলি নান্টু মাদবর। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


পাইকগাছায় আঙুর চাষে তরুণ কৃষকের ব্যতিক্রমী সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খুলনার পাইকগাছায় আঙুর চাষে সফলতা অর্জন করেছেন এক তরুণ কৃষক। তার এই উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী তৈয়েবুর রহমান অল্প জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের চাষাবাদকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাত্র তিন শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে তিনি দেখিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে প্রতিকূল পরিবেশেও লাভজনক কৃষিকাজ সম্ভব।

তৈয়েবুর রহমান জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র দুটি আঙুর গাছ লাগিয়েছিলেন। আশাতীত ফলন পাওয়ায় প্রায় আট মাস আগে আরও ২০টি গাছ জিও ব্যাগে রোপণ করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে এক কেজি বা তারও বেশি ওজনের আঙুরের থোকা ধরেছে, যা স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জিও ব্যাগ ব্যবহারের ফলে গাছের শিকড় সুরক্ষা, মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা এবং সেচ নিয়ন্ত্রণ সহজ হওয়ায় লবণাক্ত মাটির ক্ষতিকর প্রভাব কমেছে। এছাড়া ট্রেলিস পদ্ধতিতে গাছ চাষ করায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত হচ্ছে, যা ফলনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

তৈয়েবুর বলেন, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন। ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে আঙুর চাষের বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। শুরুতে উপকূলীয় এলাকায় আঙুর চাষ সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকলেও পরে সফলতা পান।

তিনি আরও জানান, এর আগে স্কোয়াশ চাষে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

এই উদ্যোগে গত বছর জমির ভাড়া, জিও ব্যাগ, শ্রমিক খরচসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তৈয়েবুর। প্রথম বছর হওয়ায় তিনি আঙুর বিক্রি না করে স্থানীয়দের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আগামী মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এইচএসসি পাস করার পর তৈয়েবুর নিজ গ্রামের দেড় বিঘা জমিতে “তৈয়েবা নার্সারি” নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। পাশাপাশি ধান ও মৌসুমি ফসলও চাষ করেন। একসময় আর্থিক কষ্টে পরিবার চালাতে হলেও বর্তমানে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।

এদিকে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের কৃষক তৌহিদুল ইসলামও তিন জাতের আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন। তার বাগানও স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তৈয়েবুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ধরনের কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কৃষককে এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহিত করা হবে।


মেহেরপুরে বালিবাহী লাটাহাম্বার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু, চালক আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মেহেরপুরে বালিবাহী স্যালোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বার চাকায় পিষ্ট হয়ে সানজিদা আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে করমদী গ্রাম-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর দুর্ঘটনায় জড়িত লাটাহাম্বা ও এর চালককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামের ভ্রাম্যমাণ ছিট-কাপড় ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা আক্তার সকালে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে যাচ্ছিল। এসময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বালিবাহী স্যালোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বা তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে স্থানীয়রা চালক ও গাড়িটি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

গাংনী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


রাস্তা দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগের দোসর আহম্মদ আলীর বিরুদ্ধে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৩:২০
 আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দোসর ও নলতা ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী ব্যক্তি স্বার্থে জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তার অংশ নিজের জায়গা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। পূর্বে সরকারি উদ্যোগে সেখানে ইটের সোলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরকারি বরাদ্দে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মার্কেট নির্মাণের সময় রাস্তার কিছু অংশ দখল করে আহমদ আলী এতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরে রাস্তা নির্মাণ শুরু হলে নিজের স্বার্থ রক্ষায় তিনি এটিকে ব্যক্তিগত জমি দাবি করতে থাকেন।

সেলিম হোসেন বলেন, জনগণের জন্য রাস্তা তৈরি হয়েছে এতে আমাদের সবার সুবিধা। কিন্তু আহম্মদ মেম্বর ব্যক্তি স্বার্থে এটিকে নিজের জায়গা বলে দাবি করছেন।

মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. কবির হোসেন বলেন, সে কখনো কারো ভালো চায় না। জনগণের সুবিধার কাজেও বাধা সৃষ্টি করছে।

নুরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তা হলে জনগণের সুবিধা, আমাদের সবার সুবিধা। আমাদের চাওয়া ছিল রাস্তা হোক। ওনার নিজের জমির জায়গা তো আছেই, তারপরও রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ করছেন।

স্থানীয় এক হোটেল মালিক বলেন, এ রাস্তা হলে আমাদের সবার সুবিধা হবে। কিন্তু মেম্বরের কী সমস্যা তা আমার জানা নেই।

কাজলা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী আমলে বিচার করার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে রায় দিতো। আমার কাছেও ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় আমার শালিশ করেনি।

আরেক ভুক্তভোগী কাজলা গ্রামের নাজমুল বলেন, আমি রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আহম্মদ মেম্বর আমাকে কার্ড দেয়নি।

এ বিষয়ে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, এটি জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। রাস্তার জায়গা দখল করে উনি ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করছিল যাহা মানুষের সমস্যা হতো কিন্তু জনগণের স্বার্থে সরকারি অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা দখল করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে আহম্মদ আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। আজ শনিবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসা সেবা, জরুরি বিভাগ এবং বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা ও কার্যকারিতার খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। পরে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শয্যাপাশে যান, তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সরকারি ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না তা সরাসরি রোগীদের কাছ থেকে শোনেন।

ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী, ত্রিশাল থানার ওসি মুনসুর আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


banner close