সময় গড়ালেও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা পরিষ্কার করছিলেন না বর্তমান মেয়র আরিফুল হত চৌধুরী। কখনো বলছিলেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, কখনো আবার বলছিলেন এলাকাবাসীর কথা ভেবে নির্বাচনে যাবেন তিনি। সব মিলিয়ে বেশ ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছিলেন। অতঃপর নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে শনিবার রেজিস্ট্রারি মাঠে এক সমাবেশে ঝেড়ে কাশলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য। বিকেলে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে এক নাগরিক সভায় তিনি জানালেন, ‘প্রহসনের এ নির্বাচনে’ অংশ নেবেন না তিনি।
২০ মে সমাবেশ করে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কথা অবশ্য আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন আরিফুল। তাই শনিবারের এই সমাবেশ ঘিরে আগ্রহ ছিল সবার। দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থল রেজিস্ট্রারি মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন নানা শ্রেণির মানুষ। মিছিল নিয়েও আসেন অনেকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে মেয়র বলেন, এই মুহূর্তে সিলেট তথা সারা দেশেই নির্বাচনী কোনো পরিবেশ নেই। আপত্তি সত্ত্বেও সিলেটে ইভিএমে ভোট গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। অথচ সিলেটের মানুষ ইভিএমের সঙ্গে একেবারে অপরিচিত। এখানে ইভিএম নিয়ে আসাই ভোট ডাকাতির ইঙ্গিত। বর্তমান নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ভোট চায় না। তারা ডিজিটাল ভোট ডাকাতি চায়।
আরিফুল হক বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপির নীলনকশার অংশ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনে রদবদল শুরু হয়েছে। একটি প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আমার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ রকম অবস্থায় আমি নির্বাচনে যেতে পারি না। আমি বিএনপির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমি প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থী হব না।’
বর্তমান মেয়র আরিফুল হক এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না এ নিয়ে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা-কল্পনা। আরিফুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচন নিয়ে তার আগ্রহও প্রকাশ পায়। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিল। এ অবস্থায় দল আর নির্বাচন- এই দুটির মধ্যেই একটিকে বেছে নিতে হতো মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। অবশেষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলে থাকার ঘোষণাই দিলেন আরিফুল।
শনিবারের নাগরিক সভায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার অস্থিমজ্জায়। ছাত্রজীবনে জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। আজীবন বিএনপিই হবে আমার শেষ ঠিকানা।’
মেয়র আরিফুল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমার বাসায় গিয়ে আমাকে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ করছেন। তাদের ‘এতিম অবস্থায়’ ফেলে না যাওয়ার অনুরোধ করছেন। আমি তাদের সবার কাছে, এই নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। তবে মেয়র না থাকলেও এই নগরবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে, সব ভালো কাজে এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমি সব সময়ই থাকব।’
নগরবাসীকে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আসলে নির্বাচন নয়, এটি প্রহসন। তাই আমার দলীয় নেতা-কর্মীসহ সব নাগরিককে এই নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাই। দয়া করে আপনারা কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।’
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে এ পর্যন্ত আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ মে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
জানা গেছে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গাড়িগুলো সরবরাহ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩টি জিপের প্রতিটির ইঞ্জিনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৫০০ সিসি। এগুলোর প্রতিটির আনুমানিক বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি টহল পিকআপের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম পড়বে ৪৮ লাখ টাকার মতো।
প্রসঙ্গত, সরকারি খরচ কমানোর অংশ হিসেবে গত ৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক পরিপত্র জারি করে সব ধরনের যানবাহন কেনা স্থগিত করেছিল।
‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই গাড়িগুলোর খরচ বহন করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে এই প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায়। শুরুতে এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে প্রকল্পের ব্যয় ২০৭ কোটি টাকা কমিয়ে ৮২৭ কোটি টাকা করা হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ প্রকল্পের আওতায় র্যাবের জন্য মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ইতোমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন এবং ১০১টি সরঞ্জাম কেনা সম্পন্ন হয়েছে।
আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে জাহাজটি বন্দর জেটিতে নোঙর করেছে। বহুজাতিক নৌ মোতায়েন কর্মসূচি ‘আইওএস সাগর ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস আলী হায়দার’ সেটিকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বন্দরে নিয়ে আসে। বন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় জাহাজটিকে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে স্বাগত জানানো হয়।
সফরকালে ‘আইওএস সাগর’-এর অধিনায়ক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, নৌবহর কমান্ডার এবং ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন ভারতীয় নৌ সদস্যরা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের নৌ সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, জাহাজ পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং ভারতীয় জাহাজে একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর এই সফর ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশী প্রথম) নীতির একটি প্রতিফলন। এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদারির মেলবন্ধন আরো দৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজটি পুনরায় সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেবে।
উপকূলবর্তী খুলনার কয়রায় বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেছেন স্থানীয় তরুণ ও পরিবেশকর্মীরা। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় ইয়ুথ ল্যাব ও ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার যৌথ উদ্যোগে কাটকাটা গ্রামের নিকটবর্তী নদীর চর ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘জলবায়ুর সুবিচার, উপকূলবাসীর অধিকার, জীবাশ্ম জ্বালানি রোধ করি, সৌর ও বায়ু শক্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ি,’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মূল দাবি ছিল—বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
ইয়ুথ ল্যাবের কয়রা প্রতিনিধি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ অঞ্চলে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি।
ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের প্রতিনিধি নিরাপদ মুন্ডা বলেন, ‘জলবায়ুর সুবিচার উপকূলবাসীর অধিকার। তিনি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।’
এ সময় সুব্রত মুন্ডা, মনিরুল ইসলাম, সবুজ, সঞ্জয় বাইন, জাকি, আমিনুর ইসলাম ও নয়ন মন্ডলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বাস্তবায়িত আশ্রয়ণ প্রকল্প নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ডেরায় পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে প্রকৃত অসহায়দের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ঘর ভাড়াটে, দখলকারী ও মাদক কারবারীদের দখলে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্বজন, সচ্ছল ও প্রবাসী পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেয়। ১৫৯টি পরিবারের বসবাসের কথা থাকলেও গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক উপকারভোগী এলাকা ছাড়লে তাদের ঘরগুলো প্রতিপক্ষরা দখল করে নেয়।
বর্তমানে অনেক ঘর ভাড়া দেওয়া, তালাবদ্ধ রাখা কিংবা টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুটি প্রকল্পে মোট ১৫৯টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১৯টি সেমিপাকা ও ৪০টি টিনশেড। মাত্রাই ইউনিয়নের কাঁটাহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৮টি ঘর বর্তমানে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রকল্পটি এখন মাদক কারবারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহিরাগতদের দখলে থাকা ঘরগুলোতে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছে। একই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত রোকেয়া বেগম, রজ্জব আলী ও ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, মাদকসেবী ও তাদের সহযোগীরা অনেক ঘর জবর-দখল করে রেখেছে।
এ ছাড়া ৫৫ নম্বর ঘরের উপকারভোগী নুরনবী-কুলসুম দম্পতিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করার অভিযোগ রয়েছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
উদয়পুর ইউনিয়নের বিনইল ও উত্তরপাড়ায় আশ্রয়ণ ঘরগুলোতেও বহিরাগতদের আড্ডা, মাদকসেবন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, বিনইলে দুটি ঘর ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। শ্রীপুর আশ্রয়ণে স্বচ্ছল প্রবাসী পরিবারের বসবাস এবং অনেক ঘর তালাবদ্ধ থাকার চিত্রও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জিন্দারপুর, ঘাটুরিয়া ও বাদাউচ্চ আশ্রয়ণে থাকা ৬৩টি ঘরের অধিকাংশ ভাড়া বা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পাইকপাড়া ও লকইর আশ্রয়ণের প্রায় ২২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০টি ঘরের উপকারভোগীরা জেলা শহরে বসবাস করছেন, আর বাকিগুলো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনী পীরপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। এখানে ১৫৯টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৮০টি ভাড়াটিয়াদের দখলে। কর্মসংস্থানের অভাবে উপকারভোগীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ঘরগুলো খালি পড়ে থেকে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে। আর প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। ঘুষের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, অনেক স্থানে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় ক্ষেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষায় পানি জমে, দেয়াল ফেটে যায় এবং রাতে মাদক কারবারীদের উৎপাত বেড়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অনেক ঘরের দেয়ালে ফাটল, ছাউনি চুঁইয়ে পানি পড়ে, আবার সুপেয় পানির সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার অভাবে আশ্রয়ণের ঘরগুলোতে এখন বসবাসের পরিবেশ নেই।’
বলায় চন্দ্র রবিদাসের ভাষ্য, কাজ না থাকায় না খেয়ে থাকতে হয়। আশরাফ আলী বলেন, ‘এখানে থাকলে জীবিকা নেই, না থাকলে ঘর নেই, সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে রয়েছেন।’
পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেশ কিছু নলকূপ চুরি হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা জানান, স্থাপিত নলকূপগুলোর বেশিরভাগই চুরি হয়ে গেছে, অবশিষ্ট পানিতেও আয়রনের আধিক্য থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। নতুন করে নলকূপ স্থাপন করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের চুরি না ঘটে, সেজন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে জবর-দখল, ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মাদকসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মাহনা এলাকায় বড় বিল- কাত্রা খাল পুন খননের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় কৃষকরা। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মাহনা এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, স্থানীয় কৃষক মো. মনির হোসেন, জাকির মোল্লা, রমজান মোল্লা, আব্দুল হাই, আব্দুল হক, রফিকুল মোল্লা, মোতালিব ভূইয়া, শহিদুল্লাহ মোল্লা, রুস্তুম আলী, কিরণ মিয়া, মনিরুজ্জামানসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাহনা গ্রামের পাশ দিয়ে বড় বিল হতে কাত্রা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা একটি খাল আছে। খালটি ফকির ফ্যাশন সহ অন্তত ৮-১০টি কোম্পানী বালু দিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলেছে। খালটি ভরাট থাকার কারনে পানি নামতে পারতেছে না। যার ফলে কয়েক বছর যাবৎ কৃষকেরা জমি চাষ করতে পারছে না।
খাল ভরাট থাকার কারনে এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে পানি না নামার কারণে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। খালটি পুনরুদ্ধার করে খননের দাবিতে ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের কাছে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করা হয়ছে।
কিন্তু এতেও কাজ না হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা মিলে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে পোষা প্রাণীদের জন্য বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং র্যাবিস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে এসে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিয়ে যান।
চাকসু এজিএস বলেন, ‘ইদানিং ক্যাম্পাসে পাগলা কুকুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তাই ক্যাম্পাসের কুকুর ও বিড়ালদের ফ্রি ভ্যাকসিনেশনের এই উদ্যোগ।’ এ কাজে সহযোগিতা করেছেন ওয়ান হেলথ ইয়ং ভয়েস, বাংলাদেশ।
উদ্যোক্তারা বলেন, ‘নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে র্যাবিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব এবং প্রাণী ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়।’
১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে ইয়ুথনেট গ্লোবালের আয়োজনে বরগুনায় জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছেন শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে।
সমাবেশে রঙিন ব্যানার ও পোস্টার হাতে তরুণদের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা। ‘ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই’, ‘জীবাশ্ম মুক্ত বাংলাদেশ চাই’, ‘সৌর শক্তি বাড়াও, দূষণ কমাও’, ‘আমার ভবিষ্যৎ, আমার অধিকার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
বক্তারা বলেন, ‘জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
তাদের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, ডিজেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে লোডশেডিং বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে।
এই প্রেক্ষাপটে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি।’
তাদের মতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
ইয়ুথনেট গ্লোবাল-বরগুনা জেলার জেলা সমন্বয়কারী বনি আমিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে উন্নত দেশগুলোকে বাংলাদেশকে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘জলবায়ু ঋণ’ মওকুফের দাবি জানান তিনি।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহামুদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশ আজ ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে ন্যায্য ও দ্রুত রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আর কোনো বিকল্প নেই।’
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়নে স্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নেই।
বক্তারা রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড, সোলার সেচে প্রণোদনা এবং নবায়নযোগ্য প্রকল্পে সরকারি জমি ব্যবহারে পিপিপি মডেল চালুর আহ্বান জানান।
তরুণরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে কৃষি নির্ভর মেহেরপুরে আর্থিক মুনাফার আসায় জেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গবাদিপশু পালনকারি খামারিরা।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত গবাদিপশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর লক্ষ্যে দিনরাত গবাদিপশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা ।
গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় অতিতের চেয়ে এবছর পশুর বাড়তি দাম না পেলে লোকশানে পড়তে হবে তাদের।
আর সেই সাথে ভারতীয় পশু এদেশে প্রবেশ করলেতো কোনো কথায় নেই। একেবারে লোকশানের বোঝাই চাপা পড়তে হবে তাদের। তাই ভারতীয় পশু যাতে দেশে না প্রবেশ করে সে দাবি তাদের প্রশাসনের কাছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।
এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯।
এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি।
জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করার প্রস্ততি নিচ্ছেন খামারিরা।
ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন।
খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী।
খামারগুলোতে দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোও পারিবারিকভাবে গরু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
জেলার খামারগুলোতে নেপালী, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, পাকিস্তানি ও হরিয়ানা জাতের উন্নত গরু দেখা যাচ্ছে। খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হলে দেশের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব।
গরু চাষি হোসনেয়ারা বলেন,আমার বাড়িতে দশটি গরু রয়েছে। যেগুলো এবার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য তুলবো। বছরজুড়ে ধারদেনা করে তাদের লালনপালন করেছি। তাদের ঘিরেই আমাদের সকল স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়ন হবে যখন তাদের ন্যায্য মূল্য পাবো। এখনো দুশ্চিন্তায় আছি যদি ভারত থেকে গরু আসে। আর আমরা যদি দাম না পাই। তাহলে সব শেষ।
আরেক গরু চাষি বাওট রাজধানী পাড়ার সাহেব আলী জানান, বিগত কয়েক বছর এমনিই গরুতে লোকশান হয়েছে। তারপর এবছরো আটটি গরু লালনপালন করেছি। আর এবারও যদি লোকশানের মুখ দেখি তাহলে সব শেষ। আমাদের এক-একটি গরুর ঔজন হিসেবে বলতে গেলে মন প্রতি খরচ হয়েছে ২৮ হাজার টাকা করে। তা যদি ৩২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করি তাহলে খাটা খাটনি লস হবে। তাই ভালো দাম পেতে হলে দেশে উৎপাদিত গরুর উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। দেশের বাহির থেকে গরু আমদানি হলেই সব শেষ।
গরু খামারি আসলাম হোসেন বলেন,আমরা বাজার থেকে যেসকল গো খাদ্য কিনতে পাই তার প্রতিদিন দাম বাড়ছে। তা দেখার কেউ নেই। আবার বাজারে বিক্রি করতে গেলেও খরচের বিপরীতে দাম মেলে না। আমরা পুরো বছরজুড়ে অপেক্ষা করি এই কোরবানির ঈদের জন্য। বছর জুড়ে কোন খোঁজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ সামনে আসলেই ভারত থেকে গরু আসে, এটা আমাদের মাথায় ঢুকে না। কারন ভারত থেকে গরু আসা মানেই আমাদের লস।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রাণিসম্পদে ভরপুর একটি জেলা। এ জেলায় প্রায় সাত লাভ গরু ছাগলসহ বিভিন্ন পশু রয়েছে।
এখানে ছোট-বড় এক হাজার খামারির পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ছাগল পালন করা হয়। জেলায় এবছর প্রায় পৌনে দুই লাখ পশু কোরবান উপযোগী করে প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।
এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় নব্বই হাজার পশু। বাকী ৮০ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে। মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। তাই চোরাকারবারিরা যেনো গরু আনতে না পারে সেজন্য প্রশাসনসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগ সজাগ রয়েছে।
আজ ৯ মে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় ও রক্তভেজা দিন। ৫৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা মিলে গজারিয়ায় চালিয়েছিল এক পরিকল্পিত ও বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ।
১৯৭১ সালের এই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে যখন মসজিদের মিনারে ফজরের আজান ধ্বনিত হচ্ছিল ঠিক তখনই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেলুচ রেজিমেন্টের প্রায় ১০০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায় গজারিয়ার ১০টি গ্রামে। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জনপদে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বিচারে হত্যা করা হয় প্রায় ৩৬০ জন নিরীহ মানুষকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, আগের দিন ছিল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মিলাদ ও ইবাদত শেষে ভোরের তন্দ্রাচ্ছন্ন গজারিয়াবাসী তখন গভীর ঘুমে।
রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আলো জানান, এই গণহত্যার পেছনে ছিল স্থানীয় রাজাকারদের নীল নকশা। এর আগে গজারিয়া হাই স্কুলে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়েছিল। সেই খবর রাজাকার খোকা চৌধুরী, সাম চৌধুরী ও গফুর চৌধুরীদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় পাক বাহিনীর কাছে। রাজাকার ফালু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর চিনিয়ে দিলে শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। সেদিনের সেই বর্বরতায় গোসাইরচর, নয়নগর, বালুরচর, বাঁশগাঁও জেলেপাড়া, ফুলদী, নাগের চর, কলসেরকান্দি, দড়িকান্দি ও গজারিয়া গ্রামে কান্নার রোল পড়ে যায়। পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন ও তার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষ।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে নিহতদের দাফন করার মতো পুরুষ মানুষও গ্রামগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ওমর ফারুক আখন্দ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষের আর্তচিৎকার আর রক্তে চারপাশ এক বীভৎস রূপ নিয়েছিল। লাশের জাতপাত না খুঁজে তলাপাতা, পুরোনো শাড়ি বা চাদর পেঁচিয়ে এক গর্তে অনেককে মাটিচাপা দিতে হয়েছিল সেদিন।’
বহু লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফুলদী ও মেঘনা নদীতে যা পরে শকুন আর কাকের খাদ্যে পরিণত হয়। এই গণহত্যার পৈশাচিকতা স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থেও। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ (অষ্টম খণ্ড) এবং মুনতাসীর মামুনের ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’-এ গজারিয়ার এই বিভীষিকাময় ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিক ও গবেষক শাহাদাত পারভেজ জানান, ১২ মে ১৯৭১-এ ব্রিটিশ কূটনীতিক কে. ডব্লিউ. হ্যাজেলের পাঠানো এক গোপন টেলিগ্রাম বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, পাকিস্তানি বাহিনী গজারিয়ার গ্রামগুলো মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে নিহতের সংখ্যা ৫০০-এর বেশি হতে পারে। যুবকদের টার্গেট করে হত্যার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল সে টেলিগ্রাম বার্তায়।
স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও গজারিয়ার সেই বধ্যভূমিগুলো আজও রয়ে গেছে অরক্ষিত। নিহত ৩৬০ জনের মধ্যে মাত্র ১৩০ জনের পরিচয় নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোর অবস্থা আরও করুণ।
নয়নগর গ্রামের শহীদ পরিবারের সদস্য কমলা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বাবা আর ভাইকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। মা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো সহায়তা আমাদের ভাগ্যে জোটেনি।’
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শস্যভাণ্ডারখ্যাত বিল বেলায় টানা প্রবল বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যেখানে মাঠজুড়ে পাকা ধানের সোনালি আভা আর ম-ম গন্ধ কৃষকের মনে ছড়িয়ে দিয়েছিল আনন্দ ও স্বপ্নের আলো, সেখানে এখন চারদিকে শুধু পানি আর পানি। ডুবে গেছে কৃষকের কষ্টের ফসল, আর সেই সঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের বছরের আশা-ভরসাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক পানির নিচ থেকে ধান কাটতে ও তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফসলের কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা চড়া মূল্যে শ্রমিক এনে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বৃষ্টির আগে যেখানে একজন শ্রমিকের হাজিরা ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকায়।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি বহন করেও তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সরকার প্রতি কেজি বোরো ধানের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও নানা শর্ত ও জটিলতার কারণে অধিকাংশ কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় রাইস মিল ও পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি ধান মাত্র ২২ থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে শ্রমিকের চড়া মজুরি ও ধানের কম দাম—সব মিলিয়ে তারা এখন দিশেহারা। তাদের দাবি, সরকার দ্রুত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ালে অনেকেই কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট।
কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে সরকারি ধান ক্রয়, প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
পিরোজপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। শুক্রবার (৮ মে) দিনব্যাপী তিনি এসব প্রকল্প সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধান প্রকৌশলী পিরোজপুরে নবনির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনসহ চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নির্মাণশৈলী ও গুণগত মান যাচাই করেন। এসময় তিনি কাজের স্থায়িত্ব ও মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় প্রধান প্রকৌশলীর সাথে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেদ হুসাইন, বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস, পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান।
এছাড়াও অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধান প্রকৌশলী পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় তিনি প্রকল্পের গতিশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অবকাঠামোগত মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।"
এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে পরিবেশবান্ধব করতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা তাকে চলমান প্রকল্পগুলোর কারিগরি দিক ও বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন শেষে প্রধান প্রকৌশলী পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে একটি ফলজ ও একটি বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি বলেন, "টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। প্রতিটি সরকারি দপ্তরের উন্মুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা উচিত, যাতে আমরা একটি সুন্দর ও সবুজ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারি।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্টাফ অফিসার ফারিবা হালিম অরিন।
রাজশাহীর রাস্তাঘাট, ফুটপাত, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত সর্বত্র ঝুলছে টেলিফোন, ইন্টারনেট, ক্যাবল টিভি এবং বিদ্যুতের অসংখ্য তার। এই ঝুলন্ত তার গুলো শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, বরং প্রতিনিয়ত জীবননাশের আশঙ্কা তৈরি করছে।
রাজশাহী নগরীর আনাচে-কানাচে ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেগুলো দখল করছে বিদ্যুতের খুঁটি। প্রতিটি এলাকাতেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।
রাজশাহী শহরের আকাশের দিকে তাকালে এখন দেখা যায় না নীল আকাশ, দেখা যায় নগরজুড়ে শুধু তারের জঙ্গল। দিন হোক বা রাত, আলোয় ঝলমল করছে রাজশাহী শহর। নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চতায় এগিয়ে গেলেও, নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।
নগরজুড়ে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তার, ডিশ ও ইন্টারনেট লাইনের জট এবং নিচু গাছের ডালে এখন ফায়ার সার্ভিসের মতো এই জরুরি সেবার কার্যক্রমেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সড়ক পরিষ্কার করলেই হবে না, বহুতল ভবনগুলোতে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সাহেববাজারের আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমার দোকানের ওপর দিয়ে এত তার গেছে যে আকাশই দেখা যায় না। অনেক জায়গায় রাস্তা সরু, বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না। আগুন লাগলে দমকল কীভাবে আসবে এই চিন্তা সবসময় থাকে।
শহর উন্নত হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। সরু রাস্তায় আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস ঢোকার সুযোগই নেই। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের গাড়িটি ২২তলা পর্যন্ত আগুন নেভাতে সক্ষম। এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া। তবে শহরের ঝুলন্ত তারগুলো আমাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। তারগুলো অপসারণ করা না হলে কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আশপাশের রাস্তা গুলো অনেক ক্ষেত্রে সরু, যা তাদের কাজের জন্য বড় সমস্যা। এছাড়া বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেটের তার অপরিকল্পিতভাবে ঝুলছে। পরিকল্পনার মাধ্যমে এগুলো মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া গেলে সমস্যা অনেকটাই কমবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে এই ধরনের তার ভূগর্ভস্থ করা হয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়, যা বাংলাদেশেও বাস্তবায়ন জরুরি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের চাহিদা যৌক্তিক। তারা যদি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমরা খুব দ্রুত ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে অপরিকল্পিত তারগুলো কীভাবে সুশৃঙ্খল করা যায়, সে বিষয়ে কাজ শুরু করব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সূর্যকিরণ। সূর্য যেমন তার আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করে, তেমনি রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বাঙালির মনন ও সংস্কৃতিকে আলোকিত করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন প্রকৃত মানবতাবাদী ও কৃষকদরদি মানুষ। তিনি কখনোই জমিদারদের প্রচলিত আচরণে কৃষক-প্রজাদের সঙ্গে আচরণ করেননি।”
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। “শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
দুপুর থেকেই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ব্যানার, ফেস্টুন ও আলপনায় সাজানো হয় পুরো এলাকা। উন্মুক্ত মঞ্চে পরিবেশিত হয় গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ। তবে এবার সেখানে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলার আয়োজন ছিল না।
কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী শ্রেহা খাতুন বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাইল হোসেন বলেন, “অনেকদিন ধরেই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি দেখার ইচ্ছা ছিল। জন্মজয়ন্তীর এই আয়োজন ও পরিবেশ সত্যিই দারুণ লাগছে।”
অঞ্জলি রাণী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বাঙালির চেতনারও অংশ। তাঁকে ঘিরে গবেষণা ও পাঠচর্চা বাড়াতে কুঠিবাড়িতে গবেষণাগার ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন জরুরি।”
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।