সময় গড়ালেও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা পরিষ্কার করছিলেন না বর্তমান মেয়র আরিফুল হত চৌধুরী। কখনো বলছিলেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, কখনো আবার বলছিলেন এলাকাবাসীর কথা ভেবে নির্বাচনে যাবেন তিনি। সব মিলিয়ে বেশ ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছিলেন। অতঃপর নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে শনিবার রেজিস্ট্রারি মাঠে এক সমাবেশে ঝেড়ে কাশলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য। বিকেলে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে এক নাগরিক সভায় তিনি জানালেন, ‘প্রহসনের এ নির্বাচনে’ অংশ নেবেন না তিনি।
২০ মে সমাবেশ করে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কথা অবশ্য আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন আরিফুল। তাই শনিবারের এই সমাবেশ ঘিরে আগ্রহ ছিল সবার। দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থল রেজিস্ট্রারি মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন নানা শ্রেণির মানুষ। মিছিল নিয়েও আসেন অনেকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে মেয়র বলেন, এই মুহূর্তে সিলেট তথা সারা দেশেই নির্বাচনী কোনো পরিবেশ নেই। আপত্তি সত্ত্বেও সিলেটে ইভিএমে ভোট গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। অথচ সিলেটের মানুষ ইভিএমের সঙ্গে একেবারে অপরিচিত। এখানে ইভিএম নিয়ে আসাই ভোট ডাকাতির ইঙ্গিত। বর্তমান নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ভোট চায় না। তারা ডিজিটাল ভোট ডাকাতি চায়।
আরিফুল হক বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপির নীলনকশার অংশ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনে রদবদল শুরু হয়েছে। একটি প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আমার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ রকম অবস্থায় আমি নির্বাচনে যেতে পারি না। আমি বিএনপির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমি প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থী হব না।’
বর্তমান মেয়র আরিফুল হক এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না এ নিয়ে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা-কল্পনা। আরিফুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচন নিয়ে তার আগ্রহও প্রকাশ পায়। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিল। এ অবস্থায় দল আর নির্বাচন- এই দুটির মধ্যেই একটিকে বেছে নিতে হতো মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। অবশেষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলে থাকার ঘোষণাই দিলেন আরিফুল।
শনিবারের নাগরিক সভায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার অস্থিমজ্জায়। ছাত্রজীবনে জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। আজীবন বিএনপিই হবে আমার শেষ ঠিকানা।’
মেয়র আরিফুল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমার বাসায় গিয়ে আমাকে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ করছেন। তাদের ‘এতিম অবস্থায়’ ফেলে না যাওয়ার অনুরোধ করছেন। আমি তাদের সবার কাছে, এই নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। তবে মেয়র না থাকলেও এই নগরবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে, সব ভালো কাজে এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমি সব সময়ই থাকব।’
নগরবাসীকে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আসলে নির্বাচন নয়, এটি প্রহসন। তাই আমার দলীয় নেতা-কর্মীসহ সব নাগরিককে এই নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাই। দয়া করে আপনারা কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।’
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে এ পর্যন্ত আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ মে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এই আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানদার। দোকানে থাকা মুদি মনোহারি আসবাবপত্র সবই পুড়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন মিন্টু দত্ত নামের ডিজেল অকটেন পেট্রোল ব্যবসায়ী।
মিন্টু দত্তের শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইউনিটে তাকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরাতন এই বাজারটির বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। পুরাতনের বাজারটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত বলেও জানা গেছে। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি যারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন তাদেরকে যেন সহযোগিতা করা হয়। আর দোকান মালিকদের দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও তারাও সহযোগিতা চান। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- বিল্টু দত্তের ডিজেল অকটেন ও পেট্রোল দোকানে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। মিন্টু দত্তের দোকানে মজুত থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার ডিজেল অকটেন পেট্রোল পুড়ে গেছে। পাশে ইমদাদুল বিশ্বাসের দোকানে থাকা এলপি গ্যাস, চাউল নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। নুর ইসলামের মুদি দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার মুদি মনোহারী পণ্য, মধুসূদন দত্তের প্রায় ২৫ লাখ টাকার মুদি পণ্য, সুজনের হোটেলে ৫০ হাজার আর নগদ ৫০ হাজার মোট ১ লাখ টাকা, লালনের ফলের দোকানের ৫০ হাজার টাকা, সুভাষ কুন্ডুর চালের দোকানে থাকা লাখ টাকার চাল, দুর্গা মন্দির, বিদ্যুতের মিটার তার, ডিস লাইনের ট্রান্সমিশন তারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গোপালের ফলের দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ফল, বিষ্ণুর দোকানের প্রায় ২০ হাজার টাকার মত মুদি মনোহারী, মজরউদ্দিনের দোকানের মুদি মনোহারীর প্রায় ১০ হাজার টাকা, একটি দুর্গা মন্দির, মেহেরের কাচামাল আর অস্থায়ী বেশ কয়েকটি কাঁচামালের দোকানের প্রায় ১ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব পাওয়া গেছে। এর বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্থানীয় এনজিও থেকে লোন এনে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুজন জানান, হোটেল ব্যবসা করে কোনরকমে দিন পরিচালনা করতেন তিনি। তার যতটুকু সম্পদ ছিল, সবটুকুই আগুনে পুড়ে গেছে। সেই সাথে পুড়ে গেছে আমার স্বপ্ন।
ফল ব্যবসায়ী লালন জানান, বাজারের সবচেয়ে ছোট ব্যবসায়ী আমি। আমার দুই টাকা ক্ষতি মানেই কোটি টাকার সমান। এখন আমার সংসার চালানো আর কিস্তি চালানো দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। আমি এখন কী করবো। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, আমি যেন আবার কোনরকম ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে বেঁচে থাকতে পারি।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে আমরা জেলায় পাঠাবো। সহযোগিতা আসলে আমরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাটা পৌছে দিব। আপনারাও সহযোগিতা করবেন।
এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছেন, হরিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতাসহ স্থানীয় নেতারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনাগামী যাত্রীবাহী বাস টেকেরহাট এক্সপ্রেসএর সঙ্গে বরিশালগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইক্রোবাসের চালক মো. রিপন ও যাত্রী মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৮)-কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইলিয়াস হোসেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা আ. ওয়াহিদের ছেলে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত অপর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। সড়ক থেকে যান দুটি সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর মহাদেবপুরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১১ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বেলজিয়ামের দাতা সংস্থা কারামা সলিডারিটি অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সোশ্যাল এইড এর ডিরেক্টর ফিন্যান্স এন্ড এডমিন মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলম প্রমুখ।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ৫ লিটার তেল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি গুড়া দুধ, সেমাই ৪০০ গ্রাম, খেজুর ১ কেজি ও ৩০ পিচ ডিম।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম নকিবুল ইসলাম নাকিব (১৪)। সে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল এলাকার আবুল বাশার মাস্টারের একমাত্র পুত্র এবং ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১২ মাইল বালুরঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৪টার দিকে নাকিব তার বন্ধু সায়েম ও খালাতো ভাই জুনায়েদকে নিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। তারা প্রথমে একটি খালি ডিঙি নৌকায় করে নদীর এপার-ওপার ঘুরতে থাকে। পরে সকলে মিলে নদীর কিনারায় গোসল শুরু করে।
জুনায়েদ জানান, বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি ও সায়েম গোসল শেষ করে উপরে উঠে আসেন। কিন্তু নাকিব নদী থেকে না উঠতে পেরে আরও গভীর পানিতে চলে যায়। সাঁতার না জানার কারণে সে ডুবতে শুরু করে। সায়েম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে জুনায়েদের চিৎকারে আশপাশের জেলেরা ডিঙি নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা সায়েমকে উদ্ধার করতে পারলেও নাকিব ততক্ষণে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর।
নাকিবের চাচা মাসুদ করিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাতিজা তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কখনো ভাবি নাই। পুরো পরিবার ও এলাকাতে এখন শোকের মাতম চলছে।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেশিনের ফর্মা বানানোকে কেন্দ্র করে দুই ওয়ার্কশপ মালিকের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত ও একজন যুবক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মধ্য খলাপাড়া গ্রামের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও সিকদার ওয়ার্কশপ মালিকদের মধ্যে মেশিনের ফর্মা তৈরি করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী ভাই ভাই ওয়ার্কশপের মালিক সজীব মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির মোহাম্মদ হবি সিকদার এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হবি সিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সজীব মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদুল ইসলাম মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বলি হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার রহমতপুর এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। কুয়েতে এক মিসাইল হামলায় মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (২৮) নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত জাহেদ হোসেন রহমতপুর এলাকার কামাল দফাদারের ছোট ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কুয়েতের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হওয়া এক মিসাইল হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে থাকা সহকর্মীরাই প্রথম তার পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের ভগ্নিপতি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েত সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিসাইল হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার পরপরই সহকর্মীদের কাছ থেকে আমরা জাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’
পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে জাহেদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহেদ নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় এই নিয়ে সন্দ্বীপের দুই প্রবাসীর প্রাণহানি ঘটল। এর আগে গত রোববার বাহরাইনে ইরানের হামলায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল মহসিন ওরফে তারেক (৫২) নিহত হন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই উপজেলার দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে সন্দ্বীপে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গায়েব হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুমন কুমার দাস নামের ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক।
অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শহরের খানজাহান আলী সড়কের ব্যাংক শাখা পরিদর্শন করে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে বলে জানান বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন। ঘটনা জানাজানির পর বিকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরীও ব্যাংক পরিদর্শন করেছেন।
পূবালী ব্যাংকের ওই শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত। সেখানে তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনিরুল আমিন বলেন, ‘লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে। দুটি চাবির একটি গ্রাহকের কাছে, অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তার কাছেই ছিল, যা ছাড়া গ্রাহকের লকার খোলা সম্ভব নয়। এখানে তিনি কী রেখেছিলেন, তার কোনও ঘোষণাও ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়া ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের বাড়ি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করে আসছেন। সুমন কুমার দাস বলেন, ‘ব্যাংকে আমার একটি লকার আছে। সেখানে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই, স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার একটি বাক্সে জমা রাখি। গত বুধবার বাড়িতে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেজন্য ব্যাংকে এসে লকার খুলে দেখি কোনও স্বর্ণালঙ্কার নেই। লকার খালি। আমি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি। তারা তদন্ত করছে।’
এদিকে, ব্যাংকের লকার থেকে গ্রাহকের রাখা মালামাল খোয়া গেছে—এমন খবর পেয়ে লকার ব্যবহারকারী অনেক গ্রাহকই ব্যাংকে ছুটে আসেন। তারা তাদের লকার খুলে দেখেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের লকার থেকে থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে স্পষ্ট হওয়া যাবে বিষয়টি। তবে লকারটি আমরা সুরক্ষিত পেয়েছি। ব্যাংকের সুরক্ষিত লকার থেকে কীভাবে বিপুল পরিমাণ অলঙ্কার খোয়া গেলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মোল্লাকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুর মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা ও ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি সুজনের জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে কামরুজ্জামান নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলেও তিনি না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তার লাশ উদ্ধারের খবর দেয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১১টার আগেই কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. নূরে আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জুনিয়াদহ ইউনিয়নে নিবন্ধিত ১০০ জন জেলের জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৫। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন জেলে তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। বিতরণ শীটে সংশ্লিষ্ট জেলেদের স্বাক্ষর বা টিপসইও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামঘর থেকে চাল বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
যেসব জেলে চাল পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—
আব্দুর রশিদ (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০২৯), আব্দুস সামাদ (পিতা: কলিমদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩১), রাকিব (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩২), মো. রাজা (পিতা: মৃত আব্দুল মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৪), কালু মণ্ডল (পিতা: নকিম উদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৭), আব্দুল মালিথা (পিতা: রহিম মালিথা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৯), হাইদার (পিতা: ইউনুস মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৬৫), মিনারুল (পিতা: ফয়েজ মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৮৮), জাহাঙ্গীর আলম (পিতা: হেলাল সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১২), নুর ইসলাম (পিতা: আজের প্রামাণিক, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১৫), সাইদুর রহমান (পিতা: অজিত মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩২), কুদ্দুস মোল্লা (পিতা: রহমত মোল্লা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩৯), সাজদার সরদার (পিতা: রুকচাঁদ সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৪১) এবং মিলন হোসেন (পিতা: নিজাম মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ২৭০৯৬৩৬)। প্রত্যেক জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ কেজি চাল।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আলী বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মেম্বাররা গুদাম থেকে চাল বের করেছে বলে শুনেছি। তবে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দির টেক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
অভিযানকালে আলাউদ্দির টেক এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন শেখ (৪৩), পিতা কুতুব উদ্দিন, সাং কলাপাটুয়া, কালীগঞ্জকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা মোতাবেক একটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে মোট ১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং কোনো কারাদণ্ড প্রদান করা হয়নি।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথিতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানান, ‘তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যায়।’
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স জানান, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢোকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে অভিযান দিয়েছিল। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেওয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরমিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়। পরে ওখান থেকে আসার পথে স্থানীয় লোকজন বলছিল যে লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল ওই লোকটা স্টকে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।’
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই জেলে বহরের মধ্যে সংঘর্ষে চার জেলে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রের আঠারবাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হিরু বয়াতি (৪০) ও জসিম গাজী (৩২)। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আমির হোসেন (৪০), কবির (৩৮), ইব্রাহিম (৪০) ও বাবু (২৩)।
জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় অপর একটি ট্রলার তাদের পাতা জালের ওপর দিয়ে ওঠে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ট্রলার মালিক মনির আকনের অভিযোগ, জালের ওপর দিয়ে ট্রলার ওঠায় প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষের জেলেরা লোহার পাইপ, শিকল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে আরও কয়েকটি ট্রলার এসে তাদের ট্রলার ঘিরে ফেলে জেলেদের ওপর মারধর শুরু করে। এ সময় লোহার টুকরা ও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। হামলার একপর্যায়ে হিরু বয়াতি ও জসিম গাজী সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট জাল কেটে নিয়ে গেছে।
ফিরে আসা জেলেদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে এফবি মুন্না, এফবি মক্কা মদিনা ও এফবি জায়েন খান নামে তিনটি ট্রলার ছিল। এসব ট্রলারের মালিকদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা এলাকায়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সাগরে থাকা অন্য ট্রলার দিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।’
প্রকৃতি মানেই বৈচিত্র্য আর বিস্ময়। আর সেই বিস্ময়ের ডালি নিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে ডানা মেলেছে এক বিরল ‘হলুদ শিমুল’। লাল শিমুলের চেনা আবহে এই হলদে আভা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে যেমন দোলা দিচ্ছে, তেমনি কৌতূহলী করে তুলছে সাধারণ মানুষকে। মৌলভীবাজারের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ এলাকায় গেলেই এখন চোখে পড়বে ১০ ফুট উচ্চতার এই পাতাঝরা গাছটি। ডালজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য উজ্জ্বল হলুদ ফুল। শীতের বিদায় আর ফাল্গুন-চৈত্রের আগমনে এই হলুদ শিমুল যেন পুরো এলাকাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে।
সাধারণত শিমুল বলতেই আমাদের চোখের সামনে লাল রঙের ছবি ভেসে ওঠে। তাই হলুদ রঙের শিমুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। দর্শনার্থী পায়েল আহমেদ বলেন, ‘সব সময় লাল শিমুলই দেখে আসছি। হলুদ শিমুল নিজের চোখে দেখব কখনো ভাবিনি। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।’ একই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন কলেজ শিক্ষার্থী সাম্মী আক্তারও।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ—এই তিন রঙের শিমুলের চারারোপণ করা হয়েছিল। পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার এই গাছে ফুল ফোটে। ভবিষ্যতে এমন আরও দুর্লভ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এ বিষয়ে গবেষক ও লেখকদের মতে, গড়ন ও আকৃতিতে লাল শিমুলের মতো হলেও এই হলুদ রং অত্যন্ত বিরল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘এটি প্রকৃতির বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ। এই ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে যথাযথ সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন।’
শিমুল তলায় এখন শুধু ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি নয়, বরং হলুদ শিমুলের স্নিগ্ধতা প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে অন্যরকম এক প্রশান্তি বিলিয়ে দিচ্ছে।