বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

হাতি তাড়াতে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, নির্বিকার বন বিভাগ

হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সীমান্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৩ ২২:৩৬

ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে স্থানীয়রা। বন বিভাগ বলছে, আইন অমান্য করেই এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। তাই ফাঁদটিতে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি কিংবা মৃত্যু হলে তার দায়ভার স্থানীয়দেরই নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণে একের পর এক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এ ছাড়া হাতি তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করে। হাতির এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই প্রাণ হারানোর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র বসবাস করছেন। এমন অবস্থায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায় হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া উপজেলার লামছাপাড়া, ডাকিয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, গাবরাখালী, গলোইভাঙা, কড়ইতলী গ্রামেও বাঁশের খুঁটিতে জিআই তার টানিয়ে এসব ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী নিজ নিজ এলাকায় টাকা তুলে সীমান্ত এলাকা থেকে আনুমানিক ৭০০-৮০০ গজ দূরে জিআই চিকন তার দিয়ে দুই লাইনবিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে এই ফাঁদে হাতির কোনো ক্ষতি হবে না। এই ফাঁদে জেনারেটরের মাধ্যমে আর্থিং দেয়া হয়। এর ফলে জিআই তারে হাতি স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক লাগবে। এতে হাতি ভয় পেয়ে চলে যাবে। তাছাড়া এই জিআই তারে পলিথিন বেঁধে দেয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকে দেখেই হাতি চলে যায়, আর যেন কাছে না আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাতি অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হাতির আক্রমণে ধান, সবজি, কলাবাগান, ঘরবাড়ি নষ্টসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে ফাঁদ তৈরি করেছে। কিলোমিটারপ্রতি এই ফাঁদ তৈরিতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার।

এ বিষয়ে গাজীরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শুনেছি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা হাতি তাড়াতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে কে বা কারা করেছে, তা কেউই স্বীকার করে না। বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও গ্রামবাসী কারও কথাই শুনছে না।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট (হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ীর অংশ) কর্মকর্তা মাজাহারুল হক বলেন, ‘ওই এলাকায় হাতি তাড়াতে সরকারিভাবে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি করা হয়নি। স্থানীয়রা আমাদের নির্দেশনা অমান্য করেই জিআই তার দিয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। এই ফাঁদে হাতির মৃত্যু হতে পারে। যদি ফাঁদে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি হয়, তার দায় স্থানীয়দেরই নিতে হবে। বন বিভাগ এর দায়ভার নেবে না। তবে শিগগিরই এসব ফাঁদ অপসারণ করার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গোপালপুরে দুই কিলোমিটারজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২৫ কিলোমিটার সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাযুক্ত গাছ লাগানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলেই বন্য হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমে আসবে। তবে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরির বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করা হয়ে থাকে, তা হলে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয়:

ডেঙ্গু টেস্টে অতিরিক্ত ফি আদায় হাসপাতাল সিলগালা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, সাভার

ডেঙ্গু টেস্টে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও সাধারণ ফ্রিজে রক্ত সংরক্ষণসহ নানা অভিযোগে সাভারের আশুলিয়ায় একটি হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দ্বীপ জেনারেল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুর রহমান ও সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা অভিযানে অংশ নেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা জানান, হাসপাতালটি ডেঙ্গু টেস্টে সরকার নির্ধারিত ফি ৩০০ টাকার পরিবর্তে সাধারণ রোগীদের কাছে থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছিল। এ ছাড়া সাধারণ ফ্রিজে রক্ত সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট পাওয়ার অভিযোগে হাসপাতালটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ সিলগালা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


তিন মাস সাজার ভয়ে পালিয়ে ছিলেন ৪০ বছর

প্রতারণা মামলায় মো. আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ঝালকাঠি

একটি প্রতারণা মামলায় ১৯৮৩ সালে তিন মাসের সাজা হয়েছিলো মো. আনোয়ার হোসেন নামে ২৭ বছর বয়সী এক যুবকের। রায় ঘোষণার পর থেকেই আসামি ছিলেন পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার ৪০ বছর পর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা পুলিশ।

সাজাপ্রাপ্ত ২৭ বছরের সেই যুবক এখন ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন নলছিটি পৌরসভার নাংঙ্গুলী এলাকার মোহম্মদ মমিন উদ্দিন ওরফে মন্তাজ মিয়ার ছেলে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আতাউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেনের নামে ১৯৮৩ সালে ঢাকার সূত্রাপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় সামরিক আদালত (মার্শাল কোর্ট) তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি পালিয়ে ছিলেন।

আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি আতাউর।

বিষয়:

দে‌শের মানুষ অধিকার ফি‌রে পাওয়ার সংগ্রাম কর‌ছেন: আব্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব‌্যু‌রো

এই দে‌শের মানুষের অধিকার ফি‌রে পাওয়ার সংগ্রাম কর‌ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকার কিছু মানুষ‌কে হত‌্যা কর‌তে পার‌বে, গুম খুন গ্রেপ্তার করতে পার‌বে, কিন্তু গণতন্ত্রকামী মানু‌ষের জোয়ার ঠেকা‌তে পার‌বে না’

মঙ্গলবার রাত ১০ টায় বিএন‌পির খুলনা বিভাগীয় রোড মার্চ সমাপনীতে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারি পোশাক পরা ভাইয়েরা ম‌নে রাখ‌বেন এই দে‌শের মানু‌ষের ট‌্যা‌ক্সের পয়সায় আপনা‌দের বেতন হয় আপনার অস্ত্র কেনা হয়। মানু‌ষের কথা না ভে‌বে সরকা‌রের দালা‌লি কর‌বেন? ক‌য়‌দিন পর দেখবেন সরকার আপনা‌দের টিস‌্যুর মত ব‌্যবহার কর‌ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঝিনাইদহ থে‌কে খুলনা পর্যন্ত শিশু কি‌শোর বৃদ্ধ সবার মুখে একটাবই কথা শেখ হা‌সিনার পতন। খুলনা বা‌গেরহাট ও সাতক্ষীরায় আজ‌কের সমা‌বে‌শে আসার সময় নেতাকর্মী‌দের ওপ‌রে হামলা হ‌য়ে‌ছে। প্রশাসন দে‌শের মানু‌ষের সেবক শাসক না। একবার ভাবুন দেশটা আমাদের সক‌লের, আমা‌দেরই আমা‌দের দেশ‌কে বাঁচা‌তে হ‌বে। দে‌শের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার কর‌তে হ‌বে।’

ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু বলেন, ‘দ‌লের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম‌্যান তা‌রেক রহমান গত ২২ আগস্ট যে চূড়‌ান্ত আন্দোলন ঘোষণা ক‌রে‌ছেন সেই আন্দোলনের মাধ‌্যমে এই স্বৈরাচারী সরকা‌রের পদত‌্যাগের প‌রে এক‌টি জাতীয় সরকার গঠন ক‌রে স্বাধীন নির্বাচন ক‌মিশন গঠন ক‌রে দে‌শে সুষ্ঠু নির্বাচন হ‌বে। জনগ‌ণের সরকার প্রতিষ্ঠা হ‌বে। তা‌রেক রহমান বীরের বে‌শে বাংলা‌দে‌শে ফির‌বেন।’

এর আগে রাত ৯ টার দিকে খুলনা শিববাড়ী মোড়ে পাবলিক হল চত্ত্বরে এসে পৌঁছায় রোড মার্চ। দুপুর থেকে সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এসে উপস্থিত হয়। পশ্চিমে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, উত্তরে নিউমার্কেট ও দক্ষিণে তেতুল তলা মোড় পর্যন্ত নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় রোড মার্চ শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় মাগুরায় পৌঁছায়। এরপর যশোর মুরলী বাবুর মোড়, অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় পথসভা করে খুলনা পৌঁছায় রোড মার্চ, খুলনার ফুলতলা ও দৌলতপুরে পথসভার পর খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পাবলিক হল চত্ত্বরে পৌঁছায়। রাত পৌনে ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবশের কার্যক্রম শুরু হয়।


ভূ-রাজনীতিতে বিএনপি ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা: তথ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:১৩
রাজশাহী ব্যুরো

ভূ-রাজনীতিতে বিএনপিকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা বলে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘লাফালাফি করে আপনারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন? যারা বাতাস দিয়ে দিয়ে আপনাদের লাফাচ্ছে, তারা আপনাদের দুধ দেবে না। ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা যেমন দুধ পায় না, আপনারাও দুধ পাবেন না। সুতরাং অতো লাফালাফি করে লাভ নেই। আজকে ভূ-রাজনীতিতে আপনারা (বিএনপি) হচ্ছেন ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পাঠানপাড়া শিমুলতলা মোড়ে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ সালেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তখন বলেছিল, নির্বাচন করলেও এক মাস টিকবে। আমরা পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিলাম। ২০১৮ সালেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। নির্বাচন করার পর বিএনপি বলেছিল, টান দিয়েই ফেলে দেব। টান দিতে গিয়ে তারাই রশি ছিড়ে পড়ে গেছে। আমরা আজকে পৌনে ৫ কিংবা ৫ বছর ক্ষমতায় আছি। এখন বিএনপি কী বলছে? বলছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারে, কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। অতো সহজ না!’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কী বলছে? ফাইনাল খেলা আগামী (অক্টোবর) মাসে। আমরা ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুত আছি। যুবলীগ প্রস্তুত আছে। আমরাও ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি, কোথায় খেলবেন ফাইনাল খেলা বলুন, আমরা সেখানে যাবো। আমরা সেই ফাইনাল খেলায় আওয়ামী লীগ যাব না, যুবলীগকে পাঠাব। আমরা আমাদের ফার্স্ট টিম পাঠাব না, সেকেন্ড টিম পাঠাব। প্রয়োজনে মহিলা আওয়ামী লীগকেও পাঠাব। ওদের সঙ্গে আগে খেলেন। তারপর আওয়ামী লীগ আপনাদের সঙ্গে খেলবে।’

বিএনপির উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তবে বিএনপিকে অনুরোধ জানাব, ফাইনাল খেলার আগে আপনাদের খেলোয়াড়রা, আপনাদের দলে থাকে কি না, নাকি দলবদল করে ফেলে সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন। ফাইনালের আগেই যদি আপনাদের খেলোয়াড়রা দলবদল করে ফেলে তাহলে ফাইনাল খেলতে পারবেন না।’

বিএনপির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিশ্ব বেহায়ারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে টেনে ধরতে চায়। আর বিএনপি দেশকে বিশ্ব বেহায়াদের হাতে তুলে দিতে চায়। দেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের পর্যায়ে নিযে যেতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, তখনো দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তখন ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর এসে চোখ রাঙিয়েছিল। সেই চোখ রাঙানির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বুকের রক্ত ঢেলে সমস্ত ষড়যন্ত্র-চোখ রাঙানিকে উপড়ে ফেলে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। আজকেও কেউ কেউ চোখ রাঙায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক জিয়া আবার হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন তৈরি করবেন। সারাদেশে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়েছিল, এবার পাঁচ হাজার জায়গায় বোমা হামলা হবে। রাজশাহীর বাগমারায় বাংলা ভাইয়ের উত্থান হয়েছিল, এবার সারাদেশে বাংলা ভাই হবে। বাংলাদেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তানের পর্যায়ে চলে যাবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে নানান কথা। তারা কাকে ভিসা দেবে না দেবে সেটি তাদের ব্যাপার। এটি নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। এটি তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। দেখলেন না, ভারতে জো-বাইডেন কীভাবে সেলফি তুললো। আবার নিউইয়র্কে কীভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানালো। সেখানেও ছবি তুললো। আসলে ছবিই তো কথা বলে। ভিসানীতি একটি বিচ্ছিন্ন বিষয়।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কথায় উদ্বিগ্ন হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিসানীতির আওতায় গণমাধ্যমও আসবে। আমাদের দেশের গণমাধ্যম অত্যন্ত স্বাধীন এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করে। আমাদের দেশের গণমাধ্যম অত্যন্ত শক্তিশালী। শক্তিশালী স্বাধীন গণমাধ্যম সবসময় গণতন্ত্রের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সুতরাং আপনারা অন্য কাকে (আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি নেতা) ভিসা দেবেন না দেবেন কিছু আসে যায় না। তবে কেন গণমাধ্যমের ওপর ভিসানীতি কার্যকর হবে, সেটি আমার বোধগম্য নয়। গণমাধ্যমের সঙ্গে সাংবাদিক, কলামিস্ট আছেন তারা মনে করছেন, এটি আমাদের স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ। অন্য কোনো দেশ আমাদের স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়। এটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মেনে নিতে পারে না।’

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় মহানগর ও জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শাম্স পরশ। মহানগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। জেলা যুবলীগ সভাপতি মো. আবু সালেহর সঞ্চালনায় সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। অনুষ্ঠানে আরও অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু।

এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, জেলার সভাপতি অনিল কুমার সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াদুদ দারা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-০৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মনসুর রহমান, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা।


কক্সবাজার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন সমীক্ষা প্রকল্পের পরামর্শ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের চুক্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের (সিএসসি) মধ্যে কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের পরামর্শ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে সেলট্রন ইএমএস এবং এহসান খান আর্কিটেক্টস।

মঙ্গলবার চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কউক-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মাদ নুরুল আবছার, এনজিপি এনডিসি, পিএসসি, বিএন (অব.), লে. কর্নেল মো. খিজির খান, সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল তাহসিন বিন আলম, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স এবং উপ নগর পরিকল্পনাবিদ ও “কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. তানভীর হাসান রেজাউল।

এছাড়া সিএসসি-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিএসসি-এর ডিরেক্টর (প্ল্যানিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ও “কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল সাদেক মাহমুদ।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়ণাধীন “কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পটির আওতায় কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলা (চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ) এবং সমুদ্র সৈকত এলাকাসহ মোট ৬৯০.৬৭ বর্গ কিলো মিটার এলাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান এবং কক্সবাজার জেলার ২৪৯১.৮৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জন্য স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া টেকসই যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পাহাড়, বন, জলাশয় ও সমুদ্র অঞ্চল সংরক্ষণ, সমুদ্র সৈকতের নির্দিষ্ট সীমানা সংরক্ষণ, অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা অপসারণ, জল ও স্থলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দূষণ প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা নিশ্চিতকরণ, আবাসন ব্যবস্থা বিষয়ক পরিকল্পনা, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন ও ভূমিক্ষয় রোধকরণ করা হবে।

প্রকল্পটি ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর মোট ১৭৪.৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। গত ১২ জানুয়ারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল এপ্রিল ২০২১ হতে জুন ২০২৫ পর্যন্ত।

বিষয়:

১৭৭ শিক্ষার্থীকে নোয়াখালী জেলা পরিষদের বৃত্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী জেলা পরিষদের উদ্যোগে গরিব ও মেধাবী ১৭৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলার ৯টি উপজেলা থেকে বাছাই করে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি দেয়া হয়।

জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধান শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি বখতিয়ার শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মঞ্জু, জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদুর রহমান শিপন, মো. মহিউদ্দিন ও মো. আতিক উল্লাহ সুজন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীদের যে বৃত্তি দেয়া হয়েছে এটা তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য। আজকে মেধার ভিত্তিতে তারা যে পুরস্কার পাচ্ছেন, আগামী দিনে তারা আরও এগিয়ে যাবেন, আরও ভালো রেজাল্ট করবেন। জেলা পরিষদ বৃহৎ একটা প্রতিষ্ঠান। আমরা যেন আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারি। আমরা চাই এভাবে মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে, যাতে এই মেধাবীরা আগামী দিনে সুন্দর স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনেও আমাদের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাছাই করে এসএসসি সম্মান পরীক্ষার্থীদের নগদ ৫ হাজার টাকা এবং এইচএসসি শিক্ষার্থীদের নগদ ৬ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক এ আর আজাদ সোহেল, যুগ্ম সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানসহ জেলা পরিষদের সদস্যরা।

বিষয়:

ভিসানীতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভাবছে না: ইসি আনিছুর

বুধবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:৩৩
প্রতিনিধি, গাজীপুর

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নির্বাচন কমিশনের ভাবনার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ভিসানীতি নিয়ে ভাবছে না কমিশন। ভিসানীতি নিয়ে ভাববার বিষয় সরকারের। সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নভেম্বরে আর আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হবে।’

বুধবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস আয়োজি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগামী নভেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের অন্যতম দুইটি দায়িত্বের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আমরা ইতিমধ্যে করে ফেলেছি। আমাদের জাতীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখের মধ্যে করতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যথা সময়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবো। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন।’

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই বলেছি আমরা সুষ্ঠু অবাধ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাই। সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।’

বিএনপি নির্বাচনে না আসলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিক মাঠেই সমাধান হবে, এটা আমাদের কিছুই বলার নেই। আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা, জাতির প্রত্যাশা ‘

বিএনপিকে ডেকে সংলাপ করার সময় নেই উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সবসময়ই স্বাগত জানায়, যখন ইচ্ছা ওনারা যদি মনে করেন আমাদের সাথে কথা বলবেন আমরা তখনই কথা বলতে রাজি। আমাদের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে ডেকে সংলাপ করার মতো সময় নেই। আমাদের একদিন কমছে, কাজ বাড়ছে। যেকোন রাজনৈতিক দল যদি মনে করে আমাদের সাথে আলোচনা প্রয়োজন আছে রাত, দিন, সকাল যখন তারা মনে করবে তখনই আমাদের কাছে আসতে পারে। আলোচনার জন্য আসতে পারে, তবে সংলাপ মানে বৈঠকী সংলাপ হবে না।’

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিবো। এবার একটু দীর্ঘসময় নিয়েই তফসিল দিতে চাই। এতে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে আমাদের পর্যন্ত অনেক কাজ তাড়াহুড়ো করে করতে হয়। গত নির্বাচনের রাতে ব্যালট পাঠানোর কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্গম এলাকা ছাড়া কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট সকালে পাঠানো হবে। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, দ্বীপাঞ্চলে নির্বাচনের সরঞ্জাম আগের রাতে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যালট পাঠানো হবে।’

গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম হুমায়ুন কবীর, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান, গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচ এম কামরুল হাসান, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা।


শাহজালাল মাজারের উন্নয়নে সিসিকের বৃহৎ প্রকল্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবাশীষ দেবু, সিলেট

সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাজার এলাকাকে আরও বেশি দর্শনার্থী, মুসল্লি ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাস হয়েছে। এবার শুধু অর্থ ছাড়ের অপেক্ষা। প্রকল্পের আওতায় দুই একর জমি অধিগ্রহণ, বহুতল পার্কিং প্লেস নির্মাণ, কবরস্থান সংস্কার, নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার এবং ৫০টি বাথরুম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিসিক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবাসিক হল নির্মাণ করা হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের প্রধানতম আকর্ষণ হযরত শাহজালাল মাজার। সব ধর্মের মানুষের কাছে এটি পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী মাজার জিয়ারত করতে আসেন। সিলেটে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও একবার মাজার এলাকা ঘুরে যান। মাজারের জালালি কবুতর, পুকুরের বড় বড় গজার মাছ, কিংবা শাহজালালের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ফলে প্রতিদিনই ভিড় লেগে থাকে মাজার এলাকায়। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের গাড়ি মাজারের সড়কে যত্রতত্রভাবে পার্কিংয়ের কারণে এই এলাকায় সব সময় যানজট লেগেই থাকে।

এ ছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে রাতে যারা মাজারে আসেন, তাদের গাড়িতে বা খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাতে হয়। বাথরুম সুবিধাও যথেষ্ট নয়। ফলে ওরস বা এ রকম কোনো আয়োজনে মাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী জড়ো হলে সবাইকে পড়তে হয় বিপাকে।

সিসিকের কর্মকর্তারা জানান, ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়ায় নগরের কেউ মারা গেলে শাহজালাল মাজার কবরস্থানেই তাকে দাফন করতে চান মৃতের স্বজনরা। কিন্তু কবরস্থানের জায়গা ছোট হওয়ায় এই চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাজার কর্তৃপক্ষকে। নগরবাসীর এই চাওয়ার বিষয়টি বিচেনায় নিয়ে গৃহীত প্রকল্পে দরগাহ কবরস্থানকে সংস্কার করে এর পরিসর বাড়ানো হবে।

একই সঙ্গে এলাকার ভেতরে একটি প্রাচীন মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় তারাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। এই মাদ্রাসার জন্যও নির্মিত হবে বৃহৎ আবাসিক ভবন।

শাহজালাল মাজারের অবস্থান নগরের ১নং ওয়ার্ডে। সিলেটে সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী বলেন, ‘মাজার এলাকাকে ঘিরে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে মাজারের যেমন সৌন্দর্য বাড়বে তেমনি দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং মাজারে মরদেহ দাফন নিয়ে জটিলতাও দূর হবে। এ ছাড়া সড়কের শৃঙ্খলাও আসবে।’

তিনি জানান, মাজারে আগত যেসব নারী-পুরুষ খোলা ময়দানে রাত যাপন করেন, তাদের আর খোলা জায়গায় ফুটপাতে থাকতে হবে না। দর্শনার্থীর জন্য বড় থাকার জায়গা এবং তাদের জন্য ৫০টি বাথরুম নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের জন্য গেট এলাকায় দুই একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

এ প্রকল্প প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, ‘এই প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় পেলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল মাজারকে মানিকপীর (র.)-এর মাজারের মতো সংস্কার করা হবে। মাজারের মূল ফটকে একটি বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং জোন গড়ে তোলা হবে। যাতে মাজারে আসা লোকজনের গাড়ি আর রাস্তায় না থাকে। এই ভবনের পাশেই গড়ে তোলা হবে আরেকটি ভবন। যেখানে থাকবে কমিউনিটি হল। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবাসিক ভবনও তৈরি হবে এ প্রকল্পের আওতায়।

বিষয়:

কালিয়াকৈরে নদীর স্রোত গিলে খাচ্ছে সড়ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলার লতিফপুর জোড়া সেতু থেকে টান-কালিয়াকৈর সেতু পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও মানুষ চলাচল করেন। কালিয়াকৈর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে এটি অন্যতম। এ সড়ক দিয়ে প্রায় দশ গ্রামের ৫০ হাজার লোকজন সব সময় চলাচল করেন। গত রোববার আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে ২০০ ফুট রাস্তা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওই ২০০ ফুট সড়কের মধ্যে দুই থেকে তিন ফুট করে পশ্চিমাংশে দেবে খাটাখালী নদীতে পড়ে গেছে। এতে বড় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা ছোটখাটো রিকশা ও ভ্যান চলাচলও করতে পারছে না। এমনকি মোটরসাইকেল চলাচল করতেও এখন সমস্যা হচ্ছে। এতে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র লতিফপুর এলাকাটি। এক কথায় বলা যেতে পারে কালিয়াকৈর উপজেলার রাজধানী লতিফপুর। লতিফপুর গ্রামটিকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবেই ধরা হয়। কারণ এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস, পৌরসভা, থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাব-রেজিস্টার অফিসসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। এ কারণে উপজেলার অন্য সব এলাকা থেকে বেশি মানুষের চলাচল লফিতপুর অঞ্চলে। যার সুবাদে ওই রাস্তা দিয়ে সব শ্রেণি- পেশার মানুষ চলাচল করেন। লতিফপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন, কালিয়াকৈর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, গোলাম নবী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, কালিয়াকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ওই পথ ধরেই স্কুল কলেজে যাওয়া-আসা করে।

এখন সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে চলাচল করছেন আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। কারণ আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশ করার একমাত্র রাস্তা এটি। এ ছাড়া এই সড়কটি দিয়ে লতিফপুর, লতিফপুর (বাগানবাড়ি), জানের চালা, পিরেরটেকী, লালটেকী, টান-কালিয়াকৈর, কালিয়াকৈর, সৈয়দপুর, গাবতলী, মাদ্রাসাপাড়াসহ প্রায় ১০ গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি লোকজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী চলাচল করেন। এতে খাটাখালী নদীর স্রোতে ওই সড়কটি দেবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে হাজারও মানুষকে। এসব কারণে এ সড়কটি অতিদ্রুত মেরামত করা সময়ের দাবি।

আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী স্বর্ণা, নাদিয়া ইসলাম ও তাজমিম জানায়, এ রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তাদের চলাচল করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সঠিক সময়ে কলেজে আসতে সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি আগে কলেজের মেইন ফটকে আসত। কিন্তু এখন গাড়িতে উঠতে এক কিলোমিটারের মতো হাঁটতে হয়। এখানে রিকশায় করেও আসা যাচ্ছে না। এই ভাঙা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের দাবি এ সড়কটি তাড়াতাড়ি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক জুঁই রানী, খন্দকার নাছির, সোহেল রানা, শাহ আলম সরকারসহ অনেকই বলেন, ‘আমরা আগে বাচ্চাদের স্কুল গেটের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসতে পারতাম। এতে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে কোনো টেনশন করতে হতো না। এখন এই সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় গাড়ি দূরে রেখে বাচ্চাদের হাঁটিয়ে নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এখন সড়কটি এত বেশি ভেঙেছে যে, কোনো রিকশা এখান থেকে চলাচল করতে পারছে না।

ওই সড়কের কয়েকজন চালক জানান, এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এখান থেকে অনেক ছাত্রছাত্রীসহ হাজারও মানুষ চলাচল করেন। এ সড়ক ভেঙে যাওয়ায়, আমরা এখন গাড়ি চালাতে পারছি না। অনেক দূর ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তাটি ঠিক করা খুবই জরুরি।

আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামীকাল থেকে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে।’

কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সম্ভবত সড়কটি ভেঙে গেছে। তবে বিষয়টি জানামাত্র আমাদের একটি টিমসহ ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেখানে পরিদর্শন করেছেন। তবে সড়কটির ভাঙা অংশ খুব শিগগিরই মেরামত করা হবে।’

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘রাস্তাটি নদীর স্রোতে ভেঙে গেছে জানতে পেরেছি। যেহেতু এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি পরিদর্শন করা হবে। পরে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিষয়:

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার রাতে পৌর শহরের সুমিরদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম সাদিয়া খাতুন (২৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, স্ত্রী সাদিয়া পরকীয়ায় আসক্ত, স্বামীর এমন সন্দেহ থেকে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো। এরই জেরে গতকাল সোমবার রাতে সাদিয়া তার বাবার বাড়ি মেহেরপুরের পিরোজপুর থেকে নিজ বাড়িতে আসে। এরপর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদিয়াকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন আনোয়ার হোসেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার করলে পালিয়ে যান আনোয়ার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।


দর্শনার্থীর খরা কাটাল রোমিও-জুলিয়েট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীর আনোয়ার আলী, রংপুর

দেড় বছর আগে মাঘের শীতে রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার একমাত্র খাঁচায় বন্দি বাঘিনী ‘শাওন’ মারা যায়। এর প্রভাব পড়ে দর্শনার্থীদের ওপর। বাঘশূন্য উদ্যানে একসময় কমতে থাকে বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীর ভিড়। তবে দর্শনার্থীর সেই খরা কাটিয়ে তুলছে সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে বাঘজুটি রোমিও-জুলিয়েটকে। ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের রংপুরে আনার খরব ছড়িয়ে পড়ার পর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় এখন শিশু-কিশোরসহ নানা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, রোমিও-জুলিয়েট নামে বাঘ দুটি আসার পর এখানকার আয়ও বেড়েছে।

চার বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে বাঘ দেখতে আসা নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রজত আলী বলেন, ‘মেয়ের বাঘ দেখার বায়না বহু দিনের। রংপুর চিড়িয়াখানায় তিন মাস আগেও এসেছিলাম কিন্তু তখন বাঘের খাঁচা শূন্য ছিল। এবার একসঙ্গে দুটি বাঘ আসার খবর পেয়ে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ঘুরতে এলাম।’

সবুজ রঙের খাঁচার গ্রিল নেড়ে দুই সন্তানকে বাঘের বিবরণ দিচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন। কথা হলে তিনি বলেন, ‘করপোরেট চাকরি। পরিবারকে বাইরে নিয়ে ঘোরার তেমন সময় পাই না। আগে নিয়মিত স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রংপুর চিড়িয়াখানায় আসতাম। কিন্তু এখানে বাঘসহ অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেড় বছর ধরে আসা হয় না। একসঙ্গে দুটি বাঘ আনার খবর পেয়ে আমরা এসেছি।’

শুধু রজত আলী ও আসলাম উদ্দিনই নয়, তাদের মতো নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার একমাত্র খাঁচায় বন্দি বাঘজুটি রোমিও-জুলিয়েটকে দেখতে ভিড় করছেন।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি এই চিড়িয়াখানায় একটি মাত্র বাঘিনী ছিল। যার নাম ছিল শাওন। ২০০৩ সালের ৩০ জুন শাওন নামের এই বাঘিনীর জন্ম হয়েছিল ঢাকার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। সে হিসাবে মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১৮ বছর ৭ মাস। বার্ধক্যের কারণে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাওনের মৃত্যু হয়। বাঘ সাধারণত ১৫ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

১৯ সেপ্টেম্বর লাল কাপড়ে মোড়ানো লোহার দুটি খাঁচা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে রংপুরে আনা হয় রোমিও-জুলিয়েটকে। ঢাকঢোল পিটিয়ে বরণ করা হয় রোমিও-জুলিয়েট নামের বাঘ দুটিকে। সাড়ে ৩টার সময় রংপুর চিড়িয়াখানায় রোমিও-জুলিয়েটের শুভাগমন ও জন্মদিন উপলক্ষে খাঁচার সামনে সেদিন কেক কাটাও হয়। এর পরই বহু দিনের শূন্য খাঁচা পূর্ণ করে দুই বছর বয়সী এ টাইগারজুটি।

চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর আম্বার আলী তালুকদার বলেন, ‘চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের প্রধান দৃষ্টি থাকে বাঘের প্রতি। কিন্তু র্দীঘদিন চিড়িয়াখানায় বাঘ না থাকায় একসময় কমতে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা। ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ দুটি নিয়ে আসা হয়। বাঘ দুটির নাম রোমিও-জুলিয়েট হওয়ায় দর্শনার্থীদের বেশি টানছে। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এই বাঘজুটিকে দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করছেন।’

উল্লেখ্য, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুরে একটি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে রংপুর চিড়িয়াখানাটি গড়ে ওঠে। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৯২ সালে খুলে দেয়া হয়। প্রায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানাটিতে ৩৩ প্রজাতির ২৬০টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমু পাখি, উটপাখি, বানর, কেশওয়ারি, গাধা, ঘোড়া, ভাল্লুক উল্লেখযোগ্য।

বিষয়:

গাইবান্ধায় মধ্যরাতে ইউপি সদস্য খুন

আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:১১
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চুরি ঠেকাতে নিয়োগ করা প্রহরীদের সঙ্গে বিতণ্ডার জেরে মধ্যরাতে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে খুন করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাদশা মিয়া ওই গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে ও বেতকাপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, পাপুল নামে এক যুবক এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে তাকে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নেতার আরও দুই ভাই।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) দীবাকর অধিকারী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ওই এলাকায় রাতে আশঙ্কাজনক হারে চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন যুবককে প্রহরী (পাহারাদার) নিয়োগ করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, জরুরি কারণ ছাড়া রাত ১০টার পর অযাথা ঘোরাফেরা করা যাবে না। কেউ অযাথা ঘোরাফেরা করলে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় নেয়া হবে।

স্থানীয়ভাবে এমন সিদ্ধান্তের পর সোমবার রাত ১২টার পর নয়নপুর গ্রামের মোসলেম আকন্দের (ভোলা) ছেলে পাপুল আকন্দকে পেয়ে খায়রুল নামে এক প্রহরী (পাহারাদার) পথরোধ করেন এবং এত রাতে বাইরে থাকার কারণ জানতে চায়। এ সময় আটকানোর বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ওয়ার্ড সদস্য বাদশা মিয়াসহ অন্যরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সেখানে উপস্থিত হন। এতে বাদশা মিয়ার সঙ্গে পাপুলের তর্ক বাধে। পরে উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পাপুল তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে বাদশা মিয়ার বুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। বাদশা মিয়ার ভাই স্বপন ও সবুজ এগুতে গেলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় পাপুল।

পরে স্থানীয়রা গুরত্বর আহত বাদশা মিয়াসহ তিনজনকেই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) উদয় কুমার সাহা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল মণ্ডল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি (তদন্ত) দীবাকর অধিকারী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত পাপুল আকন্দকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। মামলা করা হবে।


কর্ণফুলী মডার্ন ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কর্ণফুলী মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপি। গত শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কর্ণফুলী ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, ১১ মডার্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শহিদ আতাহার হোসেন, কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হালিম, চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডক্টর আশিক মাহমুদ, কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক মো. শহিদ আতাহার হোসেন, বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার। বিজ্ঞপ্তি


banner close