রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
২০ আষাঢ় ১৪৩৩

হাতি তাড়াতে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, নির্বিকার বন বিভাগ

হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সীমান্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৩ ২২:৩৬

ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে স্থানীয়রা। বন বিভাগ বলছে, আইন অমান্য করেই এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। তাই ফাঁদটিতে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি কিংবা মৃত্যু হলে তার দায়ভার স্থানীয়দেরই নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণে একের পর এক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এ ছাড়া হাতি তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করে। হাতির এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই প্রাণ হারানোর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র বসবাস করছেন। এমন অবস্থায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায় হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া উপজেলার লামছাপাড়া, ডাকিয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, গাবরাখালী, গলোইভাঙা, কড়ইতলী গ্রামেও বাঁশের খুঁটিতে জিআই তার টানিয়ে এসব ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী নিজ নিজ এলাকায় টাকা তুলে সীমান্ত এলাকা থেকে আনুমানিক ৭০০-৮০০ গজ দূরে জিআই চিকন তার দিয়ে দুই লাইনবিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে এই ফাঁদে হাতির কোনো ক্ষতি হবে না। এই ফাঁদে জেনারেটরের মাধ্যমে আর্থিং দেয়া হয়। এর ফলে জিআই তারে হাতি স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক লাগবে। এতে হাতি ভয় পেয়ে চলে যাবে। তাছাড়া এই জিআই তারে পলিথিন বেঁধে দেয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকে দেখেই হাতি চলে যায়, আর যেন কাছে না আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাতি অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হাতির আক্রমণে ধান, সবজি, কলাবাগান, ঘরবাড়ি নষ্টসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে ফাঁদ তৈরি করেছে। কিলোমিটারপ্রতি এই ফাঁদ তৈরিতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার।

এ বিষয়ে গাজীরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শুনেছি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা হাতি তাড়াতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে কে বা কারা করেছে, তা কেউই স্বীকার করে না। বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও গ্রামবাসী কারও কথাই শুনছে না।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট (হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ীর অংশ) কর্মকর্তা মাজাহারুল হক বলেন, ‘ওই এলাকায় হাতি তাড়াতে সরকারিভাবে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি করা হয়নি। স্থানীয়রা আমাদের নির্দেশনা অমান্য করেই জিআই তার দিয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। এই ফাঁদে হাতির মৃত্যু হতে পারে। যদি ফাঁদে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি হয়, তার দায় স্থানীয়দেরই নিতে হবে। বন বিভাগ এর দায়ভার নেবে না। তবে শিগগিরই এসব ফাঁদ অপসারণ করার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গোপালপুরে দুই কিলোমিটারজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২৫ কিলোমিটার সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাযুক্ত গাছ লাগানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলেই বন্য হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমে আসবে। তবে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরির বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করা হয়ে থাকে, তা হলে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সভ্যতার সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত। মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ উদ্যোগ সভ্যতার চলমান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কখনো জাতিগত, কখনো ধর্মীয়, কখনো ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি।

তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনো সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি - শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে।

তিনি তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।


নির্বাচিত

অবহেলা-দুর্নীতি করলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুত। আমি বদলিতে বিশ্বাস করি না। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কোনো অনিয়মকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না। শনিবার (৪ জুলাই) নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোও আধুনিকায়ন করা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরই একটি বিপ্লবের সূচনা করতে চায় সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এবারের বাজেট শুধু টাকার বাজেট নয়, এটি আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

পিরোজপুরে নজরুল বর্ষ উদযাপনের সমাপনীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ সমাজকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, সাম্য ও মানবিক আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রহিমা খাতুন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ।

পুরস্কার বিতরণী শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীদের আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও চেতনার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ নিলে ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের টেন্ডার দেওয়া হবে না। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘মার্কেট ও হকারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই মশক নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ ও লার্ভানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব স্থানে নিয়মিত পৌঁছানো কঠিন।

এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।


নির্বাচিত

বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামাল আর নেই

বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষক প্রয়াত শাহেদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষীয়ান সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামাল মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর সিকদার মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের পর তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (৪ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

কবি সুফিয়া কামালের ছেলে শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


নির্বাচিত

মৃত্যুর ১৫ দিন পর দেশে এলো প্রবাসী শফিউল আলমের কফিনবন্দি লাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মৃত্যুর ১৫ দিন পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৪ জুলাই) সৌদি আরব থেকে একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী শফিউল আলমের মরদেহ পৌঁছায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন।

শফিউল আলম সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির হাট খাদেমপাড়া গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন সৌদি আরব সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর।

তার মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। যে মানুষটি বছরের পর বছর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটির নিথর দেহ দেশে ফিরবে— এমন বাস্তবতা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিউল আলম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী একজন মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং অসহায়দের সহযোগিতা করতেন।

এলাকাবাসী বলেন, ‘শফিউল ভাই আগামী মাসে দেশে আসবেন বলে পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিল। সন্তানরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে শোকে।’

নিহত শফিউল আলমের মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার শ্বশুর সৌদি আরবে মারা যান। দূতাবাসের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর উপজেলার মাদাম বিবির হাট খাদেম পাড়ায় মরহুম শফিউল আলমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে আধুনিক ও  টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সড়কের পাশে দুর্গন্ধ ছড়ানো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আধুনিক ও টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মাদারীপুর পৌরসভা প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুকে সাথে নিয়ে এর উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আহম্মেদ মো. ফিরোজ ইলিয়াস, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (সাবেক) নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম-আহবায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী, কৃষকদল নেতা অহিদ খান, স্বেচ্ছাসেকদল নেতা শাহাদাত হোসেন সহ গণমাধ্যম কর্মী এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাদারীপুরের সদরের ঝাউদি ইউনিয়নের চরব্রাম্মন্দিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পৌরসভার অনুকূলে হস্তানকৃত প্রায় তিন একর জায়গায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই ডাম্পিং ষ্টেশনটির কাজ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত মাদারীপুর পৌরবাসী জনাকীর্ণ জায়গায় সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন, তার থেকে পৌরবাসিকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই এই ডাম্পিং ষ্টেশনের কাজটি উদ্বোধন করা হলো, এটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে মানুষের আর দূর্গন্ধ সহ্য করতে হবে না ও নানাবিধ রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাবে।

পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল যাতে মানুষ ভোগ করতে পারে সেজন্য মাদারীপুর পৌরসভা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়াসহ উপস্থিত সবাইকে এমন উন্নয়ন কাজের সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।


নির্বাচিত

নিরাপদ টেকনাফ গড়তে বাহারছড়া অপহরণ স্পটে হবে পুলিশ চৌকি

* রোহিঙ্গাদের অবাধে বিচরণ বন্ধে নানা সিদ্ধান্ত * যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) কক্সবাজারের টেকনাফে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাহারছড়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এলাকাটিকে সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের দখলমুক্ত করতে দ্রুত সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

সভা শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধীরা যাতে সহজে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে জন্য কার্যকর আইনগত উদ্যোগও নেওয়া হবে।’

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের অবৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত, মোবাইল আর্থিক সেবার অপব্যবহার বন্ধ এবং অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের তালিকা তৈরি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সভায় টেকনাফকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’র মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নিরাপদ খুলনা চাই ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব শেখ ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সংগঠনের উপজেলা আহ্বায়ক মো. শাহজাহান জোমাদ্দার, মাদক নির্মূলে একাট্টা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ডুমুরিয়াকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’-এর খুলনা জেলা সভাপতি সরদার বাদশা বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানের এবং নিরাপদ সড়ক চাই’র সভাপতি মো. শাহজান জমাদার তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘মাদকের অভয়ারণ্য ডুমুরিয়াতে হতে দেওয়া হবে না। যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ সময় পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান, নিরাপদ খুলনা চাই’র জেলা সভাপতি সরদার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ওলিয়ার রহমান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, খুলনা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুজ্জামান বাবলু, রঞ্জন সরদার মো. ওলিয়ার রহমান, অ্যাড. মমিনুর রহমান নয়ন, বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান, আজিজুর রহমান মোড়ল, ডুমুরিয়া বাজার কমিটির সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান, হাফেজ মতিয়ার রহমান, মাওলানা তৌফিকুল রহমান, নুর মোহাম্মদ শেখ ও মো. ফারুক শেখসহ প্রমুখ।


নির্বাচিত

শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদী ভাঙন ঝুঁকিতে ৯৭ কোটি টাকার সেতু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুর একটি পিলার ও সংযোগ সড়কের অতি কাছ পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৫৫০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ২০২৩ সালে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে নির্মাণের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আড়িয়াল খাঁ নদের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

বর্তমানে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নয়াবাজার এলাকায় নদীতে তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্রোতের আঘাতে নদীতীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বর্ষা মৌসুমেও একই এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন ভাঙন সেতুর একটি মূল পিলারের ১০০ ফুটেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম সরদার বলেন, ‘গত বছর বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচের অনেক জায়গা ভেঙে যায়। এবারও একইভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সেতুই নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের আগে কিংবা পরে প্রয়োজনীয় নদীশাসন (রিভার ট্রেনিং) এবং স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ না করায় প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লিটন চৌধুরী সেতুই নয়, এর সংযোগ সড়ক এবং নয়াবাজারের একাংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই সেতু রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।’


নির্বাচিত

জাতীয় জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যয় থামেনি সরকারের

* মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৭০ লাখ টাকা * মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে মিলের যন্ত্রপাতি * চার বছর ধরে কর্মহীন জাতীয় জুট মিলের হাজারো শ্রমিক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল , সিরাজগঞ্জ

উৎপাদন নেই, তবুও থেমে নেই ব্যয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮ কোটিরও বেশি, অথচ উৎপাদন থেকে সরকারের কোনো আয় নেই। এদিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে, আর কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো শ্রমিক।

একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত জাতীয় জুট মিলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। জেলার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আজ বন্ধের তালায় বন্দি। ফলে শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিলটি দ্রুত চালুর দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় নর্দান পিপলস জুট মিল। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কওমি জুট মিল, পরে যা জাতীয় জুট মিল নামে পরিচিতি পায়। একসময় প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হতো। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

দীর্ঘদিন লাভজনকভাবে চললেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে ২০০৭ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও সংকট কাটেনি। পরে ২০২০ সালের ১ জুন লোকসান, ঋণের বোঝা ও কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে আবারও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ ২০ বছরের জন্য মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই ২০২৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

জাতীয় জুট মিল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলটির নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয়করণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই বারবার বন্ধের মুখে পড়েছে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, দ্রুত মিলটি চালু করা গেলে যেমন হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে, তেমনি পাটচাষিরাও তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও ফিরে পাবে নতুন গতি।

সাবেক শ্রমিক রতন আলী বলেন, মিল চালু থাকাকালে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতেন। বর্তমানে ঘটকালি ও সামান্য কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে।

আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, জুট মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। মিল বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন অস্থায়ী কাজ করে কষ্টে দিন কাটছে। মিল পুনরায় চালু হলে পুরনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বিশা শেখ বলেন, জাতীয় জুট মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জেলার অর্থনীতি, পাটচাষি ও হাজারো শ্রমিকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মিলটি চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় জুট মিলের মজদুর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মিলটি পুনরায় চালু করা। এতে শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় অর্থনীতি সবাই উপকৃত হবে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বাচ্ছু বলেন, জাতীয় জুট মিল জেলার অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় শুধু হাজারো শ্রমিকই কর্মহীন হননি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালু করা। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পাটচাষিরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সিরাজগঞ্জের অর্থনীতিও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চার বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা জাতীয় জুট মিল এখন শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, জীবিকা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার এক বড় পরীক্ষার নাম। এখন প্রশ্ন একটাই নতুন লিজের মাধ্যমে কি আবারও ঘুরবে জাতীয় জুট মিলের উৎপাদনের চাকা, নাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরেই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে?


নির্বাচিত

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প পরিদর্শন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শনিবার (৪ জুলাই) খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউসে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউস চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে তীব্র গরমে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে গত কয়েক দিন ধরে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন, বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ ফেলে ছুটছেন গাছের ছায়ায় কিংবা কোনো ঠাণ্ডা আশ্রয়ে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজারগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে রিকশা-ভ্যানের ভিড় লেগে থাকে, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকজন চালক দেখা যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে সকাল ও বিকালের অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখছেন।

স্থানীয় এক ভ্যানচালক বলেন, ‘রোদের মধ্যে ভ্যান চালাতে গেলে শরীর যেন পুড়ে যায়। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই দুপুরে কাজ বন্ধ রেখে গাছের নিচে বসে থাকি।’

কৃষি শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম। মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম সময় কাজ করতে হচ্ছে তাদের, ফলে দৈনিক আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। একজন কৃষি শ্রমিক বলেন, ‘আগে সারা দিন মাঠে কাজ করতাম, এখন গরমের কারণে দুপুরের পর আর মাঠে থাকা যায় না। রোজগার কমে গেছে অনেকটাই।’

নির্মাণ শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপাকে। ঝুঁকি নিয়েই অনেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জীবিকার তাগিদে, তবে ঘন ঘন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে অতিরিক্ত রোদে কাজ না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তাদের জন্য বিশ্রামাগার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. সামিউজ্জামান জানান, আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান আগামী ২-৩ দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।


নির্বাচিত

banner close