ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে স্থানীয়রা। বন বিভাগ বলছে, আইন অমান্য করেই এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। তাই ফাঁদটিতে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি কিংবা মৃত্যু হলে তার দায়ভার স্থানীয়দেরই নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণে একের পর এক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এ ছাড়া হাতি তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করে। হাতির এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই প্রাণ হারানোর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র বসবাস করছেন। এমন অবস্থায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ বসানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায় হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া উপজেলার লামছাপাড়া, ডাকিয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, গাবরাখালী, গলোইভাঙা, কড়ইতলী গ্রামেও বাঁশের খুঁটিতে জিআই তার টানিয়ে এসব ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী নিজ নিজ এলাকায় টাকা তুলে সীমান্ত এলাকা থেকে আনুমানিক ৭০০-৮০০ গজ দূরে জিআই চিকন তার দিয়ে দুই লাইনবিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে এই ফাঁদে হাতির কোনো ক্ষতি হবে না। এই ফাঁদে জেনারেটরের মাধ্যমে আর্থিং দেয়া হয়। এর ফলে জিআই তারে হাতি স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক লাগবে। এতে হাতি ভয় পেয়ে চলে যাবে। তাছাড়া এই জিআই তারে পলিথিন বেঁধে দেয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকে দেখেই হাতি চলে যায়, আর যেন কাছে না আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাতি অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হাতির আক্রমণে ধান, সবজি, কলাবাগান, ঘরবাড়ি নষ্টসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে ফাঁদ তৈরি করেছে। কিলোমিটারপ্রতি এই ফাঁদ তৈরিতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার।
এ বিষয়ে গাজীরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শুনেছি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা হাতি তাড়াতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে কে বা কারা করেছে, তা কেউই স্বীকার করে না। বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও গ্রামবাসী কারও কথাই শুনছে না।’
ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট (হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ীর অংশ) কর্মকর্তা মাজাহারুল হক বলেন, ‘ওই এলাকায় হাতি তাড়াতে সরকারিভাবে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি করা হয়নি। স্থানীয়রা আমাদের নির্দেশনা অমান্য করেই জিআই তার দিয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। এই ফাঁদে হাতির মৃত্যু হতে পারে। যদি ফাঁদে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি হয়, তার দায় স্থানীয়দেরই নিতে হবে। বন বিভাগ এর দায়ভার নেবে না। তবে শিগগিরই এসব ফাঁদ অপসারণ করার ব্যবস্থা করা হবে।’
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গোপালপুরে দুই কিলোমিটারজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২৫ কিলোমিটার সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাযুক্ত গাছ লাগানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলেই বন্য হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমে আসবে। তবে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরির বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করা হয়ে থাকে, তা হলে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। সর্বশেষ টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে সাত বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। ফলে এ এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দিনের পর দিন বছরের পর বছর।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে এটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সৃস্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগীর জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সড়কের মুরাদনগর উপজেলাধীন বাকী অংশেরও একই অবস্থা।
জানা গেছে, পান্নারপুল-নহল চৌমুহনী-বাখরাবাদ সড়কটি একসময় পেট্রোল বাংলার অধীনে ছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার লাখো মানুষ অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই যাত্রী বহনকারী অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখন্দে পড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে মালামাল পরিবহনের পিকআপ ভ্যান। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত পুরো সড়কের একই অবস্থা। মানুষ প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছে, কিন্তু তাদের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারছি না। দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের কারণেই সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কের একটি অংশ দেবিদ্বারের হলেও সংস্কার প্রকল্পটি মুরাদনগর উপজেলার আওতায় হয়েছে। আমাদের জানা মতে, কাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী বলেন, পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারও কাজের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্ষার পরপরই কাজ ধরবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল নড়াইল পৌর এলাকার মানুষ। নাগরিক অসচেতনতা, অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা দালানকোঠা, বাড়ি-ঘর ও রাস্তা নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট, খালের মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া কিংবা খালগুলো ভরাট করে এক্সক্যাভেটর যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ, সার্ভিস ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে থাকা, নিয়মিত খালগুলো পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়রের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডিডিএলজি মো. নাজমুল হুদা।
আধুনিকীকরণ কালিদাস ট্যাঙ্ক (পুকুর) পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন নড়াইল পৌর ভবন। জেলা হেড কোয়ার্টারে পৌরসভার অবস্থান হলেও এখানকার নাগরিকদের শুধু অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা ছাড়া জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে নেই কোনো উন্নতমানের আবাসিকসহ খাবার হোটেল, নেই ভালো মার্কেটসহ বিপণিবিতান, খেলাধুলার উপযুক্ত মাঠ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই নাকাল অবস্থা। প্রতি বছর এই অচলাবস্থার মধ্যে জীবন কাটাতে হয় নাগরিকদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর এলাকার ১২টি ছোট-বড় খাল চিত্রা এবং কাজলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল। সেগুলো কালেভদ্রে ভরাট করে দখল হয়ে যাওয়ায় পৌর বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে হাঁটু পানি উঠছে। জমে থাকা পানি থেকে দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে। পোকামাকড় কিলবিল করছে। ড্রেন এবং বাথরুমের ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে ঘরে ঢুকছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তারা ওই পরিবেশের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহের পাশে বসবাসকারী সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশীষ হাজরা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখিল দাস, সরকারি চাকরিজীবী এসআই শংকর কুমার, অরুন শীলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে এ পাড়া তলিয়ে যায়। এই পাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।’
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাক মাহাবুবুর রশিদ লাবলু ও সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এক দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানিতে সয়লাব। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খাটের উপরে তুলে রেখে তার ওপরই রান্নাবান্না-খাওয়া দাওয়া ও রাত যাপন করতে হচ্ছে। পাশের পুকুর থেকে মাছ ভেসে ঘরে প্রবেশ করছে। মাছের সঙ্গে ভেসে আসছে বাথরুমের ময়লা-আবর্জনাও। নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।’ তারা বলেন, ‘নড়াইল পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তেও নাগরিদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পৌরসভা নামেই তাল পুকুর, ঘটি ডোবে না।’
মাছিমদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল করিব টুকু বলেন, ‘টানাবৃষ্টিতে আমার এলাকার চারপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। পোকামাকড়ের সঙ্গে রাত কাটাতে হচ্ছে। সর্দি-কাশিসহ বাচ্চাদের নানা ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এ মতিন বলেন, ‘নড়াইল পৌর এলাকায় ছোট বড় ১২টি খাল ছিল। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খালের সিংহভাগই দখল ও ভরাট করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বর্ষার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।
শহরের প্রবীণ ব্যক্তি ছামি মোল্যা বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার মেয়ররা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে। নগর উন্নয়নে বিদেশি সংস্থা থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সেগুলো কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা-তো দায়িত্ব পালনে গড়িমসি দেখাবেই। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়েও তারা ব্যর্থ।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কবে মুত্তি পাব আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে?’
নবনিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) পরিচালক মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি এক সপ্তাহও হয়নি। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতার চিত্র ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সামান্য বৃষ্টিতে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক এভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বেশিরভাগ ভরাট করা হয়েছে। যতটুকু আছে তা ময়লা-আর্বজনায় ভরা। পানি বের হতে পারে না। চেষ্টা করব পৌর নাগরিকদের ভালো লাখার।’ তবে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে উৎসবমুখর পরিবেশে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডস্থ মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জহির রায়হান হল মাঠে এসে শেষ হয়। এবারের মেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
র্যালি শেষে জহির রায়হান মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা।
অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (আমির) ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরা হক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গাছ শুধু আমাদের পরিবেশই রক্ষা করে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ রোপণ করতে হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চারার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য গাছের পরিচর্যাবিষয়ক পরামর্শের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
মরুভূমির তপ্ত বালু আর তীব্র রোদে যে খেজুরের ফলন হয়, সেই সুস্বাদু ও দামি বিদেশি খেজুর এখন ফলছে বাংলাদেশের মাটিতে। একসময় যে উন্নত জাতের খেজুর পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা সফলভাবে চাষ করে পাবনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা খেজুর। বিস্তীর্ণ মাঠে যেন এক টুকরো মধ্যপ্রাচ্যের আবহ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গয়েশপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন সাইফুল ইসলাম হিরুক। প্রথমে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। শুরুতে এই উদ্যোগে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন।
অনেকেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর ফলানো অসম্ভব। কিন্তু হিরুক থেমে যাননি। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০টি গাছের এক সমৃদ্ধ খেজুর বাগানে। হিরুকের এই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুর।
এর মধ্যে রয়েছে— আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ই খেজুরসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় জাত। উদ্যোক্তা জানান, প্রতিটি জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেক গাছ থেকে উন্নতমানের ‘সাকার’ বা চারা উৎপন্ন হচ্ছে, যা দিয়ে নতুন করে বাগান সম্প্রসারণ করা সম্ভব। বাগানে খেজুরের বাম্পার ফলন দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ। কেউ আসছেন শখের বসে ছবি তুলতে, আবার কেউ আসছেন হিরুকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নতুন বাগান গড়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে। পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘লোকমুখে শোনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই নিজের চোখে দেখতে এসেছি। এসে তো আমি অভিভূত! আমরা জানতাম খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয়। এখন দেখছি আমাদের পাশেই হচ্ছে। আমার নিজেরও এখন একটা বাগান করার শখ জাগছে।’
একদন্ত এলাকার স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন বলেন, ‘মরুভূমির খেজুর যে আমাদের দেশের মাটিতেও এত সুন্দরভাবে জন্মাতে পারে, হিরু ভাই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এলাকার যুবকদের জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা।’
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সফল চাষি সাইফুদ্দিন হিরুক বলেন, ‘শখের বশে যখন শুরু করি, তখন অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আজ যখন গাছে ফল এসেছে, তখন মনের ভেতর অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করছে। সরকারি সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা পেলে এই বাগানকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সঠিক পরাগায়ন এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নত জাতের বাণিজ্যিক খেজুর চাষ বিপুল সম্ভাবনাময়।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হিরুক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তার এই সাফল্য দেখে জেলার আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই অর্থকরী ফসল চাষে এগিয়ে আসবেন।’
জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলি আহমদ, জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম কবির, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা, জেলা তথ্য অফিসার পাভেল দাস, জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আউয়াল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল প্রমুখ। তা ছাড়া সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী পাঁচ আগস্ট জুলাই শহীদ দিবস ও আগামী ১৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথভাবে মাগুরায় পালিত হবে। এ উপলক্ষে ওই দিন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে।
দিবসটি পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই শহীদ আন্দোলন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলনে মা হারিয়েছে তার সন্তান, পিতা হারিয়েছে তার সন্তান এবং দেশ হারিয়েছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের। ৫ আগস্টের স্মৃতি দেশ ও জাতি কোনোদিন ভুলবে না।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘বিল ডাকাতিয়া’র ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে শৈলমারী স্লুইসগেট (সুইচগেট)। গত রোববার (১২ জুলাই) ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার উপস্থিত থেকে এই স্লুইসগেটটি উন্মুক্ত করেন।
এর ফলে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হলো, যা স্থানীয় লাখো মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রশাসনের তৎপরতা, স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। স্থানীয় জনগণের কষ্ট লাঘব এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
শাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ঘটনাস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন:পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বকুমার সেন, খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১: আব্দুর রহমান তাযকিয়া, প্রকৌশলী, যিনি কারিগরি ও জলকপাট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদারকি করেন।
রুদাঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ কৃষক সমাজ।
খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার একটি বিশাল অংশজুড়ে বিল ডাকাতিয়া বিস্তৃত। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত পলি ভরাট এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই বিলে কৃত্রিম বন্যা বা স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং শত শত মৎস্য ঘের ভেসে যায়, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শৈলমারী স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার ফলে বিলে আটকে থাকা অতিরিক্ত পানি পশুর বা শিবসা নদীতে নেমে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাময়িক গেট খোলার পাশাপাশি শৈলমারী নদী ও খালের পলি অপসারণ (ড্রেজিং) করা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বই কেবল জ্ঞানের আধারই নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের নির্ভরযোগ্য বাহক। একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়, মননকে বিকশিত করে এবং মানুষকে আলোকিত জীবনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল। অর্থাৎ, মানসিক সুস্থতা, আত্মিক বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম আশ্রয়স্থল একটি গ্রন্থাগার।
এই দর্শনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বইপাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’কে আরও আধুনিক ও পাঠকবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে। বইপাঠের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে পুলিশ সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়তে পারেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগে যুগে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার মানুষের মেধা, মনন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। মানুষের মানসিক সুস্থতা ও আত্মিক বিকাশে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, পুলিশিং অত্যন্ত ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। তারপরও আমি আমার সহকর্মীদের সবসময় বলি, সুযোগ পেলেই বই পড়ুন। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে বইয়ের সঙ্গে সময় কাটান। একটি ভালো বই শুধু জ্ঞানই বাড়ায় না, এটি একজন মানুষকে আরও বিচক্ষণ, মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ সদস্য গড়ে তুলতেও বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লাইব্রেরির সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন, বইয়ের সংগ্রহ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি বইপাঠের অভ্যাসও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বই মানুষকে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায় এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বাজারে মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলার পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় মরিচ বিক্রি হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে খুচরা বাজারে দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫৯৫ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মরিচ রোপণের পর দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা না মেলায় এবং তীব্র তাপদাহের কারণে অনেক গাছ শুকিয়ে যায়। অনেক জমিতে গাছে মরিচও কম ধরে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণে ফলন ব্যাহত হয়। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাছগুলো আবার সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জাব্বার ও সোহেল বলেন ‘বর্তমানে বাজারে মরিচের দাম ভালো। তবে গাছে মরিচ তুলনামূলক কম ধরেছে। দাম যদি ১০০ টাকার ওপরে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আমরা ভালো লাভ করতে পারব।
আরেক কৃষক আকবর হোসেন বলেন, মরিচ লাগানোর পর দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছিল। এখন কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাছগুলো আবার সতেজ হয়েছে। সামনে ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার তারাগুনিয়ায় কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে একই দিন সকালে সেখানে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। একদিনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হোসেনাবাদ কাঁচাবাজারে খুচরা পর্যায়ে মরিচ ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বাজারের ক্রেতা আকিজ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচের দাম বেড়েছে। তবে ১০০ টাকার নিচে হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। এর আগে আমরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনেছি।’
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরিসহ এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে বর্তমান দাম বজায় থাকলে উৎপাদন খরচের প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন বলেন, ‘কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে দৌলতপুরে মরিচের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মরিচ চাষে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন দৌলতপুরের কৃষকরা। তবে ভোক্তাদের প্রত্যাশা, উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মরিচের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।
অবরোধের ফলে সড়কের দুইধারে অসংখ্য যানবাহন আটকা পরে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় দুপুর দুইটার দিকেও অবরোধ চলছে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সোমবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।
এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকস্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরেও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয়নি।
আলিফ আরো বলেন-সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করছি।
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ চলছে পুরোদমে। তার অংশ হতে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল চরে একটি বিশাল গাছ। দূর থেকে তাকালেই মনে হবে, সবুজ প্রকৃতির বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার বিশাল এক পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আজুগরা ও জামতৈল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিকে ঘিরেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় প্রথম আকাশি-সাদা রঙে সাজানো হয়েছিল গাছটি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও নতুন করে রঙ করা হয়েছে সেটি।
এই আয়োজনের পেছনে নেই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক অর্থায়ন। স্থানীয় প্রবীণ, তরুণ ও কিশোররা যার যতটুকু সামর্থ্য, ঠিক ততটুকু অর্থ দিয়েছেন। কেউ ৫ টাকা, কেউ ১০ টাকা, কেউ ৫০ বা ১০০ টাকা করে সহযোগিতা করেছেন। সবার ছোট ছোট অবদান মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাছটিকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে।
শুধু একটি গাছ নয়, এলাকার পরিবেশও যেন ফুটবলের রঙে রঙিন। বিভিন্ন সড়কে উড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। এক রিকশাচালক নিজের জীবিকার বাহনটিকেও সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। বিশ্বকাপ এলেই এলাকায় বসে খেলা দেখার আয়োজন, আড্ডা ও নৈশভোজে মেতে ওঠেন সব দলের সমর্থকরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে শুধু মাঠের খেলায়, বাস্তবে নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফুটবল আমাদের আনন্দের উৎসব। আমরা যে যার পছন্দের দলকে সমর্থন করি, কিন্তু সম্পর্কের জায়গায় কোনো বিভেদ নেই। বিশ্বকাপ এলে পুরো এলাকা উৎসবের গ্রামে পরিণত হয়।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন বলেন, আর্জেন্টিনা আমাদের আবেগের নাম। সেই ভালোবাসা প্রকাশ করতেই ২০২২ সালে প্রথম গাছটিকে রঙ করি। এবার বিশ্বকাপে আবারও নতুন করে সাজানো হয়েছে। এই আয়োজন কারও একার নয়, এলাকার সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ ও শ্রম দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা চাই, এই গাছ ফুটবলপ্রেম আর সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে থাকুক।
আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে নিজের রিকশা সাজানো চালক বলেন, রিকশাই আমার জীবিকা। কিন্তু আর্জেন্টিনা আমার ভালোবাসা। তাই নিজের রিকশাটাকেও প্রিয় দলের রঙে সাজিয়েছি। যাত্রীরাও রিকশা দেখে ছবি তোলেন, ভালো লাগে। বিশ্বকাপ এলেই অন্যরকম আনন্দ কাজ করে।
হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের আর্জেন্টিনা হয়তো কখনো জানবে না বেলকুচির এই গাছটির গল্প। তবে আকাশি-সাদা রঙে মোড়া এই গাছটি প্রমাণ করে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের ভালোবাসা, আবেগ আর সম্প্রীতির এক অনন্য ভাষা।
চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম-২০২৬ এবং ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি-২০২৬-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মানের সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশের অগ্রগতি, সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। সম্মেলনে উপস্থাপিত তার মূল প্রবন্ধে তিনি স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিং ব্যবস্থার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নাবিক ও সামুদ্রিক পেশাজীবী তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিকুলাম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষ নাবিক তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রবিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও পরিচিত করবে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় রাহাত ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগ্রামগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন।
পুলিশ জানায়, ফেনী থেকে কুমিল্লাগামী মদিনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সুয়াগাজী এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সিডিএম পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মদিনা পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ এবং সিডিএম পরিবহনের বাসটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় সিডিএম পরিবহনের যাত্রী ইমরান গাজী (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং ফজলুল হক গাজীর ছেলে।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আবদুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বর্ষণের করাল গ্রাসে দেশের বন্যা পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, অন্যদিকে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের আকাশে ঘনীভূত হচ্ছে নতুন দুর্যোগের মেঘ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সব শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলার ৫৯টি উপজেলা এখন সম্পূর্ণ বন্যাপ্লাবিত। বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার। আর সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার।
এদিকে, ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে অতিভারি বর্ষণের কারণে দেশের অন্তত ১১টি জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম সম্পর্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য সব জায়গায় অ্যান্টিভেনম পৌঁছানো হচ্ছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলে এখনো কলেরা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণ বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি: দেশের ১১টি বন্যাদুর্গত জেলায় জরুরি উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ বিতরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, দুর্গম অঞ্চলে আকাশপথে বিমান বাহিনীর মাধ্যমেও ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌঁছানো হচ্ছে।
বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি: দেশে বর্তমানে ৫টি স্টেশনে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব বা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বার্তায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৫টি স্টেশনে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো—বান্দরবানে সাঙ্গু নদী (বান্দরবান ও দোহাজারী স্টেশন), সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।
এ অবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব বা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। এসব অঞ্চলগুলো হলো-দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা। উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা।
সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় চলমান এই বন্যায় এ পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। এর মধ্যে কেবল পর্যটন নগরী কক্সবাজারেই পাহাড়ধস ও বন্যার তোড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।
কক্সবাজারে নামছে পানি, কাটছে না দুর্ভোগ: টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত কক্সবাজারের রামু। পাঁচ দিন পর কমতে শুরু করেছে পানি। তবে ঘরে কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া রান্নার চুলা, জ্বালানির সংকট, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি হাজারো পরিবার। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।
রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার বন্যাকবলিত বাসিন্দা হামিদুল হাসান বলেন, ‘চার দিন ঘরে রান্না করতে পারিনি। শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে দিন কেটেছে। এখন পানি নামলেও ঘরে কাদা, চুলা নষ্ট, জ্বালানি নেই। তাই রান্নাও করতে পারছি না। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।’
হামিদুল হাসানের মতো একই ধরনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন কচ্ছপিয়ার দোছড়ি এলাকার সিরাজুল হক, চাকমারকাঠার মকসুদ, মিঠাছড়ির করিম সিকদার ও রশিদ আহমদ। তাদের ভাষ্য, কয়েক দিন পানিবন্দি থাকার পর পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। ঘরে কাদা জমে আছে, অধিকাংশ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে, রান্নার চুলা অকেজো। বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র। অথচ এখন পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কিছু ত্রাণ বিতরণ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক দুর্গত পরিবার এখনো কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। ব্যক্তি উদ্যোগে এবং কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করলেও বাস্তব চাহিদার তুলনায় তা খুবই সামান্য।
রামুর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, ফতেখাঁরকুল, জোয়ারিয়ানালা ও ঈদগড়। এসব এলাকার অনেক বসতবাড়ি এখনো আংশিক পানির নিচে। কোথাও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
দুর্গত বাসিন্দাদের দাবি, প্রতীকী ত্রাণ বিতরণের পরিবর্তে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে ইউনিয়নভিত্তিক পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, রান্নার জ্বালানি এবং পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলমান সংকট আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে নদনদীর পানি এখনো উচ্চ অবস্থানে থাকায় নতুন করে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত। দুর্গম এলাকাগুলোতেও দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন মহাবিপদ: নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরেভারতের আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরের বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার: সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলিতে এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের তোড়ে সুনামগঞ্জের শক্তিয়ারখলা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আগামী ২ দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের ভয়াবহ চিত্র: খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ক্ষত এখনো শুকায়নি। চার ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম এখনো পানির নিচে প্লাবিত হয়ে আছে। প্রায় ৩০ হাজার পানিবন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ভুগছেন। প্রাথমিক হিসাবে, কেবল মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
মৌলভীবাজারের ধীরগতি: মৌলভীবাজারে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও রাজনগর উপজেলার অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামে এখনও পানি জমে আছে। পানি অত্যন্ত ধীরগতিতে নামার কারণে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি: এই দুই পার্বত্য জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও দুধকুমারের হুংকার: ৫ জেলায় লাল সতর্কতাউত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের নদ-নদীগুলোর রূপও রুদ্র হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা জেলাসমূহ: আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে।
হুমকির মুখে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম: এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী এবং গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার চরম শঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী এবং উপদাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে যাদুকাটা, ভুগাই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের সারিগোয়াইন ও ভুগাই-কংস নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা আমনের বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না, যা দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ও পার্বত্য অঞ্চল: পানি নামলেও কাটেনি ক্ষত, ঘরে ফিরছে মানুষদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পানি নামার সাথে সাথে ভেসে উঠছে ধ্বংসের বড় বড় চিহ্ন।