ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে স্থানীয়রা। বন বিভাগ বলছে, আইন অমান্য করেই এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। তাই ফাঁদটিতে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি কিংবা মৃত্যু হলে তার দায়ভার স্থানীয়দেরই নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হাতির আক্রমণে একের পর এক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এ ছাড়া হাতি তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করে। হাতির এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই প্রাণ হারানোর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র বসবাস করছেন। এমন অবস্থায় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ বসানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তের বারাকপাড়া এলাকায় হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া উপজেলার লামছাপাড়া, ডাকিয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, গাবরাখালী, গলোইভাঙা, কড়ইতলী গ্রামেও বাঁশের খুঁটিতে জিআই তার টানিয়ে এসব ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী নিজ নিজ এলাকায় টাকা তুলে সীমান্ত এলাকা থেকে আনুমানিক ৭০০-৮০০ গজ দূরে জিআই চিকন তার দিয়ে দুই লাইনবিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে এই ফাঁদে হাতির কোনো ক্ষতি হবে না। এই ফাঁদে জেনারেটরের মাধ্যমে আর্থিং দেয়া হয়। এর ফলে জিআই তারে হাতি স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক লাগবে। এতে হাতি ভয় পেয়ে চলে যাবে। তাছাড়া এই জিআই তারে পলিথিন বেঁধে দেয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকে দেখেই হাতি চলে যায়, আর যেন কাছে না আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাতি অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হাতির আক্রমণে ধান, সবজি, কলাবাগান, ঘরবাড়ি নষ্টসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে ফাঁদ তৈরি করেছে। কিলোমিটারপ্রতি এই ফাঁদ তৈরিতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার।
এ বিষয়ে গাজীরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শুনেছি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা হাতি তাড়াতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। তবে কে বা কারা করেছে, তা কেউই স্বীকার করে না। বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও গ্রামবাসী কারও কথাই শুনছে না।’
ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট (হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ীর অংশ) কর্মকর্তা মাজাহারুল হক বলেন, ‘ওই এলাকায় হাতি তাড়াতে সরকারিভাবে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি করা হয়নি। স্থানীয়রা আমাদের নির্দেশনা অমান্য করেই জিআই তার দিয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করেছে। এই ফাঁদে হাতির মৃত্যু হতে পারে। যদি ফাঁদে পড়ে কোনো হাতির ক্ষতি হয়, তার দায় স্থানীয়দেরই নিতে হবে। বন বিভাগ এর দায়ভার নেবে না। তবে শিগগিরই এসব ফাঁদ অপসারণ করার ব্যবস্থা করা হবে।’
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গোপালপুরে দুই কিলোমিটারজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২৫ কিলোমিটার সৌরবিদ্যুতের ফাঁদ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাযুক্ত গাছ লাগানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলেই বন্য হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমে আসবে। তবে সীমান্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরির বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করা হয়ে থাকে, তা হলে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
টেস্ট পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিন মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে একবুক প্রত্যাশা নিয়ে এসএসসির লড়াইয়ে নেমেছিল ১৮ লাখেরও বেশি প্রাণ। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সেই সব প্রস্তুতি আর স্বপ্নের বিপরীত এক বিবর্ণ ছবি ফুটে উঠল দেশজুড়ে। উল্লাসের বদলে ছড়িয়ে পড়ল গভীর হতাশা; সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে ইংরেজি ও গণিতে। বিগত প্রায় দুই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা খাত মুখ থুবড়ে পড়ল এবার। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ায়নি, বরং পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের জরাজীর্ণ কঙ্কালটিকে আবার উন্মোচিত করে দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এই ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় তিনি বলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এত দিন ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে পুনর্নিরীক্ষণ করা হতো, যেখানে কেবল উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল বা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো ভুল ছিল নাকি সেটা দেখা হতো। নতুন করে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হতো না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম পাসের হার এতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ২০০৭ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২০২১ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশে। কিন্তু সেখান থেকে ধারাবাহিক পতনে এবার মাধ্যমিক পেরোনোর সূচক নেমে এসেছে অর্ধেকের কিছুটা ওপরে। একই সঙ্গে ধস নেমেছে সর্বোচ্চ মেধা তালিকার সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে দেখা গেছে, বরাবরের মতোই ফলাফলে আধিপত্য বজায় রেখেছে মেয়েরা। পাসের হার ও সর্বোচ্চ নম্বর—উভয় ক্ষেত্রেই তারা ছেলেদের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে। অন্যদিকে বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা, আর ফলাফলের তালিকায় সবার নিচে ঠেকেছে ময়মনসিংহ। এছাড়া সাধারণ বোর্ডের তুলনায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান ছিল আরও করুণ। এমনকি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতকের ঘর পেরিয়ে গেছে, যেখানে বিদেশে থাকা কেন্দ্র থেকেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে কারিগরি বোর্ডে আগের বছর কোনো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান না থাকলেও এবার সেখানেও বড় ধস নেমেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার অংশ নেয় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাস করাদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছাত্রীরা।
১১টি বোর্ডের ফলাফলে সবার ওপরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং তলানিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। তবে শুধু সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব কষলে ফলাফলে সবার নিচে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
ফলাফলের এই সূচক কেবল এক বছরের নম্বরপত্র নয়, বরং দেশের শিক্ষা খাতের ভিত্তি কতটা মজবুত—তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দিচ্ছে। এই চরম পর্যুদস্ত অবস্থার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে গণহারে ফেল করা। বিষয়টি নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এই দুটি বিষয়ে আটকে যায়। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা কিংবা প্রশ্নপত্রের কাঠিন্য দিয়ে এত বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার দায় এড়ানো যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক এবং বর্তমান সৃজনশীল কারিকুলামের অন্যতম রূপকার অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান এই সংকটকে শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নির্বাচনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ফরম পূরণ করলো। এরপর আরও তিন মাস সে প্রস্তুতি নিল। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষায় এসে এক-দুই বা তার বেশি সাবজেক্টে ফেল করলো? কেন ফেল করলো, কীভাবে এটা সম্ভব?
তিনি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে শিক্ষকদের অবহেলা ও প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করে আরও যোগ করেন, কারিকুলামে যেভাবে শেখানোর কথা, সেভাবে শেখালে কেউ ফেল করার কথা নয়। প্রথমত, কারিকুলাম নামমাত্র মানে; দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তারা মানসম্মত উপায়ে ক্লাসে পড়াতে পারেন না। আর সবশেষ যে সমস্যা তা হলো শিক্ষকরা বেতন-ভাতা কম পাওয়ায় নিজ পেশায় মনোযোগ কম দেন। এতে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়াতেও তারা অবহেলা করেন। এ কারণে প্রস্তুতির ব্যাপক ঘাটতি নিয়েই এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় বসে হোঁচট খাচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা ফেল করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। থেমে যাচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন।
বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিতের শিক্ষক আশরাফ উদ্দীন তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেন শ্রেণিভিত্তিক দুর্বলতার চিত্র। তিনি বলেন, আর্টসের শিক্ষার্থীরা বরাবরই গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বল থাকে। এটা আমার শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তবে এবার খুব বেশি খারাপ করেছে। এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে এই শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার বাইরে বেশি সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারে তাদের সময় বেশি কাটছে। এ কারণে গণিত ও ইংরেজির মতো তুলনামূলক কঠিন বিষয়ে তারা মনোযোগ দিয়ে পড়ছে না। মানবিক বিভাগের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর টার্গেটই থাকে কোনোমতে এ দুটি বিষয়ে পাস করা। ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে এ দুটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। অনেকটা সেই প্রবাদের মতো, যেখানে বলা হয়েছে, পচা শামুকে পা কাটে বেশি।
সামগ্রিক এই বিপর্যয়ের বিষয়টি স্বীকার করে নিচ্ছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার তো মানবিকে সমস্যাটা বেশি। ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদেরও সমস্যা আছে। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো মাদ্রাসায়। যারা খারাপ করলো, তারা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল কেন তা খতিয়ে দেখা হবে। কীভাবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে করতে একগুচ্ছ সংশোধনী এনে আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিং (বৈধতা) করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল আর বিলবোর্ড কোন সাইজের হবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ—এ পাঁচ আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহেমদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি ইসির অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’
গত জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পাসের পরে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ইসি। এর আগে গত জুনে আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, এ নিয়ে মতামতও নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য এবার নতুন করে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে।
সচিব আখতার আহেমদ জানান, খসড়া যেভাবে প্রকাশ হয়েছিল, প্রায় একই রকম রাখা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিমার্জন-সংযোজন হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পোস্টার বাদ দিয়ে প্রচারণার অন্য বিষয়গুলো রাখা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এসব নির্বাচনে পোস্টার বাদ দিয়ে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউপি ভোটে প্রতি ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিমাপে একটি করে; উপজেলা ভোটে সর্বোচ্চ ২০টি ও জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞায় অন্যদের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখার পাশাপাশি এআইয়ের অপব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার খরচও দেখাতে হবে নির্বাচনী ব্যয়ে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মাইকে প্রচারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনার কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সার্কিট হাউস, রেস্টহাউস ও ডাকবাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে সব আচরণবিধিতে।
নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি বিলবোর্ডের আকার-আয়তন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচার সামগ্রী হবে সাদা-কালো রঙের। ভোটের প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী—
ব্যানারের সর্বোচ্চ আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট, হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি)। ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের মধ্যে হতে হবে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি নয়।
জীবন্ত প্রাণী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না। ফেস্টুন, হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখবিহীন, পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না প্রচার সামগ্রীতে।
২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে এবার নতুন করে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে। প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধে সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ তালিকায় মেয়রের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের (দলীয় প্রশাসক নিয়োগ হলো এবার) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটের প্রচারণায় থাকতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে যুক্ত হবে।
প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার বিষয়ে দুপুর ২টার আগে ও রাত ৮টার পরে নিষেধ ছিল। ছয় ঘণ্টা মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার করা যেত। এবারও ছয় ঘণ্টা রেখেছে মাইকের ব্যবহার; সে ক্ষেত্রে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে।
আগে বিলবোর্ড ব্যবহারই নিষিদ্ধ ছিল। এবার প্রতি ওয়ার্ডে বিলবোর্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড নয়। প্রচারে একের বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানটি বিধিতে যুক্ত করা হয়েছে এবার।
উপজেলায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের সাইজের ব্যবহার একই ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রয়েছে। ইউনিয়নপ্রতি একটি, পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি ও পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি ও পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প হবে না।
পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। মাইকে ও ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। সিটির প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থী।
নির্বাচনী ক্যাম্প আগের মতোই প্রতি থানায় একটি করে থাকতে পারবে মেয়রের। জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। জেলা পরিষদের নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল। এর মধ্যে ৭৯টি এন্টি পার্সোনেল মাইন ও ১৭টি এন্টি ট্যাংক মাইন ছিল। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থল এসব মাইন উদ্ধার করে বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ির মাথাভাঙা নদীর পাড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিষ্ক্রিয় করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল বেতবাড়িয়া গ্রামে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ করে। পরে উদ্ধার করা এসব বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম।
বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ি গ্রামে অবস্থিত মাথাভাঙা নদী পাড়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানে সেনাবাহিনীর চৌকস দল উদ্ধার হওয়া মাইন গুলো নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে এঅঞ্চলের এক কিলোমিটার এলাকা বিকট শব্দে কেপে উঠে।
তথ্য নিশ্চিত করে গাংনী থানার ওসি তদন্ত শিমুল বিশ্বাস বলেন, আমাদের এই উদ্ধার অভিযান আজকের মত শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য গত শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাইনসদৃশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। বস্তুগুলোর কয়েকটিতে ইংরেজিতে MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2 লেখা রয়েছে। ওই দিন বস্তুগুলো কর্ডন করে পাহারা দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পাঠানোর জন্য শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। পরে যশোর সেনানিবাসে যোগাযোগ করে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
সেনানিবাস থেকে একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেই টিম অভিযান পরিচালনা করে।
কুড়িগ্রাম জেলার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার একেবারেই শূন্য। জেলাটিতে এ বছর মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। সামগ্রিক ফলাফলের মাঝে এই চারটি বিদ্যালয়ের এমন হতাশাজনক চিত্র স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার চরম দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের মতে, ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, ছাত্রদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের শহরের স্কুলে চলে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষক না থাকায় প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই রকম। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পাথরডুবি বালিকা বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে সেখানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। একইভাবে সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূলত শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পাঠদানে গাফিলতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকার পরও কেন এমন শূন্য পাসের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১০ আগস্ট) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের (বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চা শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চা শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠকে চা শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা চা খাতের সার্বিক অগ্রগতিতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. কাজি মুজাফার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের বহিঃনোঙরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারি আটক। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় সোমবার মধ্যরাত ৩ টায় অপারেশন সমুদ্র প্রহরায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত প্রদান করা হলে বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল। কোস্ট গার্ডের দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাদকের এই বৃহৎ চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। ওই সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত ইয়াবা, বোট ও আটককৃত মাদক কারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ব্র্যাক ব্যাংকের পেছনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মিলন বেপারিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া বিকেএস উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে ব্রাক ব্যাংকের পেছনে থেকে মিলন বেপারিকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, মিলনের বেপারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে মানিকগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে এবং তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ফকির বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। একদিকে ছিলেন বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানি এবং অন্যদিকে ছিলেন মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীন। এই পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকার একটি মুদি দোকানে মাসুম ও তার সহযোগীরা অবস্থান করার সময় প্রতিপক্ষ বিজয় ও সবুজের নেতৃত্বে একদল লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। এই সশস্ত্র হামলায় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে ছাত্রদল নেতা মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।
মুদি দোকানে চালানো এই আকস্মিক হামলায় মাসুম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা অন্যরাও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গুলিবিদ্ধ মাসুমের অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ ৯ দিন পর সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, হামলার ঘটনার পরপরই নিহত মাসুমের ভগ্নিপতি বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে এবং জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাসুমের মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সংস্কারের অভাবে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন বেহাল। কোথাও পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত, কোথাও জমেছে কাদা-পানি। আবার কোথাও সংস্কারকাজ শুরু হলেও নানা অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে প্রকল্প। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থায় যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
জামশা ইউনিয়নের বাংগালা বাজার-মাটিকাটা প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলেও অভিযোগের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলী। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
কাজ শুরুর পর সড়কের দুই পাশের এজিংয়ে পুরোনো ইটের সঙ্গে নতুন ইট ব্যবহার করে ব্রিক স্যালভেজ করার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের মানিকনগর থেকে সিরাজপুর অংশের প্রায় ১১ কিলোমিটারও বেহাল। অধিকাংশ জায়গায় পিচ, ইট, বালু ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কার হলেও মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ।
সিংগাইর সদর থেকে সাভারে যাতায়াতের বিকল্প ও বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত ভূমদক্ষিণ-খাসেরচর-ভাটিরচর সড়কটিও কয়েক বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল। প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও বড় গর্ত। বিশেষ করে খাসেরচর বাজার থেকে ভাটিরচর পর্যন্ত অংশ প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, সাহরাইল-শোল্লা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল মোল্লাবাড়ি থেকে শোল্লার খতিয়া ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহাল অবস্থায় কৃষকদের ফসল পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও।
সড়কটির নিয়মিত ব্যবহারকারী মোস্তফা কামাল ফখরুল, ইসমত আরা ও সোলাইমান দেওয়ান বিকাশ বলেন, ‘এটি পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম একটি সড়ক। অথচ সড়কের বেহাল দশার কারণে আমরা মারাত্মক সমস্যায় ভুগছি।’
সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, ‘ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যেসব কাজ বন্ধ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের টেন্ডার ও চুক্তি বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্ধ প্রকল্পগুলো পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয়পর্বের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, জোর করে নাচানো, ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসিয়ে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে ছবি ও ভিডিও ধারণের নির্দেশ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি। বেশিরভাগই বিভাগের সভাপতির হস্তক্ষেপে সমাধান করে দেয়। এদিকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।
ওরিয়েন্টেশনের দুই দিন পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্নভাবে হয়রানির করা হয়েছে বলে অভিযোগ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের। প্রথম ধাপে ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়ে সবাইকে কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। পরিচয় দিতে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ ও অপমান করা হতো। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০-৮০ বার পর্যন্ত পরিচয় দিতে বাধ্য করা, কখনো রাত ১টা বা দেড়টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন বলে জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে জিয়া মোড়ে ডেকে তাদের লাইব্রেরির ছবি তোলা, ল্যাম্পপোস্ট গণনা এবং ভুল হলে পুনরায় পাঠানোসহ বিভিন্ন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। ক্লাস প্রতিনিধিকে হলের নাম ভুল বলায় সব ছাত্রী হলের সামনে সেলফি তুলতে বাধ্য করা হয় এবং পরে আরেক শিক্ষার্থীসহ তাকে জোর করে নাচানো হয়। রাত দেড়টায় তাদের ছাড়া হয়। পরবর্তীতে সিনিয়রদের ডাকে না যাওয়ায় দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ১৭ শিক্ষার্থীকে ‘মীর মুগ্ধ সরোবরে’ ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হয়।
কুষ্টিয়া শহর ও পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয় নবীন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এক শিক্ষার্থীকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং অন্যজনকে ১০ ধরনের হাসি দিতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া অশ্লীল বাক্য বলিয়ে ভিডিও ধারণ ও সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি- এক নারী শিক্ষার্থীকে এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে, ‘সিনিয়ররা ডাকলে দেখা করো না, কথা শোনো না, পরে রেপ হলে কী করবা’—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে বিরোধের জেরে নবীনদের ক্লাসে গালিগালাজ ও অপমান করায় কয়েকজন কেঁদে ফেলেন। আল-ফিকহ্ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর মন্তব্যের পর বিষয়টি আপস হলেও, একই বর্ষের ৩ জন এক নবীনকে ধূমপানে বাধ্য করা, রাত ১টা পর্যন্ত আটকে রাখা ও ছাত্রী বন্ধুদের ফোন করে চা খেতে ডাকার নির্দেশ দেন।
পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরিচয়পর্বের নামে তাদের গালিগালাজ, রাতে ডেকে নেওয়া ও মোবাইল পরীক্ষা করা হতো। এ ছাড়া ফাইন্যান্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগেও পরিচয়পর্বের নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগ না দিতে অভিযুক্তদের পক্ষে সহপাঠী জিসানের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং সিনিয়রদের নাম না দিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানান নবীন শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্তরা ব্যাচের অন্যদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে চেনাতেই নবীনদের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনাসহ বারবার পরিচয় নেওয়া ও কড়া ভাষায় বকাঝকা করা হয়েছে।
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিভাগের সব শিক্ষক মিলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুতি করে জমা দিয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র্যাগিংয়ের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নবীনদের ‘পরিচয় শেখানোর’ নামে যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এত প্রচারণার পরও সংশ্লিষ্টতা পেলে ছাড় দিবে না প্রশাসন।’
ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ না এলেও কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো নিয়ম নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো র্যাগিং ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও গৌরবময় অর্জনের চিত্র দেখা গেছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস ও শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে এই মেধা ও সাফল্যের পাশাপাশি দেশের কিছু প্রান্তে দেখা গেছে শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র—যেখানে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখতে পায়নি। সার্বিক ফলাফলেই ফুটে উঠেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈচিত্র্য ও কিছু অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ।
নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা
সালমা সুলতানা, নরসিংদী: নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস বরাবরের মতো এবারও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে দেশসেরা ফল লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং শতভাগ পাসের পাশাপাশি ৩৮২ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানান, সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বয় এবং কঠোর পরিশ্রমই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সাফল্যের ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবারও তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কঠোর শৃঙ্খল, নিয়মিত অধ্যয়ন ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিকে এই অর্জনের পেছনে মূল কারণ বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল এস এম ফয়সল। উল্লেখ্য, ফেনী জেলায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,১৩৯ জন।
মাগুরায় সেরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা: জেলায় ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস এবং ৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়ে জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে মাগুরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৬.৮২ শতাংশ (৮৭ জন জিপিএ-৫) এবং মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পাসের হার ৭৮.৭৩ শতাংশ (৬৮ জন জিপিএ-৫)। সভাপতি পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমকে এই ফলাফলের ভিত্তি হিসেবে আখ্যা দেন।
ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গৌরবময় সাফল্য
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: জেলার ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় চলতি বছরও চমৎকার ফলাফল বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে পাসের হার ৯০.১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক এই সাফল্যের জন্য প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কঠোর তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
প্রবীর মহন্ত, বগুড়া: জেলায় প্রতিবারের মতো এবারও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে শীর্ষে উঠে এসেছে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়; যেখানে ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করার পাশাপাশি ১৮৪ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ৩৪৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পাবলিক স্কুল থেকে ৩৫৭ জনের মধ্যে শতভাগ পাস ও ২৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বগুড়া জিলা স্কুলে ২২৪ জনের মধ্যে ২২৩ জন পাস (১৭৫ জন জিপিএ-৫) এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪১৮ জন পাস (৩২৪ জন জিপিএ-৫) করেছে। বগুড়া জেলায় মোট পাসের হার ৭২.৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪,৪৭৮ জন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
মো. আল আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ): উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় দেখা গেছে। উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ জন এবং মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি, মোবাইলে আসক্তি এবং অ-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনজনিত ক্ষোভকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার এসএসসিতে ৪৬.৯৪ শতাংশ এবং দাখিলে ৩৮.২১ শতাংশ।
ভাঙ্গুড়ায় মাগুড়া মাদ্রাসায় ১৯ জনই অকৃতকার্য
মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা): উপজেলার মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ পাসের হার শূন্য শতাংশ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকট এবং শিক্ষকদের পাঠদানে অনীহাকে স্থানীয়রা দায়ী করছেন। একই উপজেলার লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকেও ২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অপহরণ অভিযোগের মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বছর বয়সি এক শিশুকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। এ ঘটনায় রবিউল মোল্যা (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে মাগুরা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর থানাধীন বরুনাতৈল গ্রামের জারিয়া আক্তার গত রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কান্নারত অবস্থায় পুলিশ সুপার, মাগুরার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে অভিযোগ করেন, তার ১৩ বছর বয়সি শিশুকন্যাকে অপহরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার, মাগুরা অপহৃত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে দায়িত্ব দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ্ শিবলী সাদিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নির্দেশনায় সিসিআইসি, মাগুরার এসআই (নি.) অজয় দাসের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর রাত ৩টার দিকে মাগুরা জেলা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের অভিযোগে মাগুরা সদরের বরুণাতৈল গ্রামের বাদশা মোল্যার ছেলে রবিউলকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার শিশু ও আটক ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল আমনের বীজতলা। এতে চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃষকরা। পরে সরকারি প্রণোদনা ও নিজেদের উদ্যোগে নতুন করে বীজতলা তৈরি করেন তারা। এখন সেই বীজতলার চারা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪৯ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।
আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আমনের চারা রোপণ চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। পানিতে ভেজা জমিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে এবার ভালো ফলনের আশায় তারা মাঠে নেমেছেন। তবে চাষাবাদের বাড়তি খরচ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ।
জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম তিন কানি (১২০ শতক) বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রতি কানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। প্রতি কানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও তার ধারণা, ৬০ আড়ির বেশি ফলন পাওয়া কঠিন হবে।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি (২০০ শতক) বর্গা জমিতে সাদা পানজা ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি কানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় চাষ করে লাভ হচ্ছে না। বরং লোকসান হচ্ছে।’ এরপরও অন্য কোনো কাজ না জানায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকরা আবার আমন চাষে ফিরতে পেরেছেন।’