দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসনের এই নির্বাচন আয়োজনের আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেন পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনের। দেশের নির্বাচনব্যবস্থার দায়িত্বভার গ্রহণের পরই কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের আয়োজন করে বর্তমান কমিশন। সে যাত্রায় সহজে উতরে গেলেও দ্বাদশ ভোটের আগে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে চোখ রয়েছে দেশি-বিদেশি সবার। যদিও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এ ভোটে অংশ নিচ্ছে না।
সিটি করপোরেশন হওয়ার পর গাজীপুরে তৃতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। যার ফলে ক্ষমতাসীনদের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের অনেকগুলো মানদণ্ড পূরণ করলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শেষ পর্যন্ত আইনানুগভাবে নির্বাচন কমপ্লিট হলেও কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, বিদেশিদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক হবে না বলে মনে করেন সাবেক এক নির্বাচন কমিশনার।
তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার সেসব প্রস্তুতি তারা নিয়েছে, তারা সফল হবে বলে আশাবাদী। আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থী জয়ে আশাবাদী হলেও মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর। ভোট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ও শাহনুর সরকার শাহনুরের এবং জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নিয়াজ উদ্দিনের। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফ্রন্ট ও জাকের পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে খুশি।
একনজরে গাজীপুর
গাজীপুর সিটির বাসিন্দারা আজ বৃহস্পতিবার তাদের সিটির নগরপিতা নির্ধারণ করতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএমে) ভোট গ্রহণ হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ও কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা, যা ঢাকা থেকে মনিটর করবে কমিশন।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮০। যার মধ্যে ৩৫১ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ১২৯ কেন্দ্রকে সাধারণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ৪৮০টি ভোটকেন্দ্রে বসবে ৪ হাজার ৪৩৫টি সিসি ক্যামেরা। ভোটে ব্যবহার হবে চার হাজার ইভিএম। এতে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন পুরুষ ও ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন নারী। এ ছাড়া ১৮ জন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।
নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদের প্রার্থীরা হলেন মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, নৌকা প্রতীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা), ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ ও হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মেয়র পদে ভোটে মূল লড়াই হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের মা স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের সঙ্গে। বাকিরা মূলত লড়াইয়ে না থাকলেও থাকছেন ভোটের মাঠে।
ভোট ঘিরে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো নগরীকে। নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪১টি হলেও স্থানীয় সরকারের এ ভোটে অংশ নিচ্ছে না ৩৬ রাজনৈতিক দল। ভোটে দলীয়ভাবে লড়ছে মাত্র পাঁচটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তারা হলো আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টি ও গণফন্ট্র।
শহরজুড়ে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় মহানগরীর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্যকে উদ্দেশে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।
ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই সম্মিলিতভাবে গাজীপুরে একটি মডেল নির্বাচন উপহার দিতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সবাই। নির্বাচন উপলক্ষে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়ের চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো নগরী। কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার যেসব কথা প্রচলন রয়েছে, সেসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আমরা সবাই সজাগ দৃষ্টি রেখেছি। যদি এমন কিছু আমাদের নজরে পড়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা গাজীপুরবাসীকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দিতে চাই।’
গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৭৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন। সেখানে র্যাবের ৩০টি টিম থাকবে। বিজিবির প্রায় ১৩টি প্লাটুন থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স পুলিশের ১৯টি ও মোবাইল টিম হিসেবে ৫৭টি টিম থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জনের ফোর্স থাকবে। অর্থাৎ প্রচুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা না হয়।’
আচরণবিধি মানাতে মরিয়া ছিল ইসি
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ভীতিমূলক বক্তব্য দেয়ায় ভোটের এক দিন আগে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। শুরুতে দফায় দফায় সতর্ক ছাড়াও শোকজ করেও আচরণবিধি মানাতে পারেনি কমিশন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও প্রার্থী- কেউ আমলে নেননি ইসির নির্দেশনা। গাজীপুরের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে দুই দফায় শোকজ করার পর ইসিতে এসে তিনি জবাব দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেই পার পেয়েছেন।
নির্বাচনে সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন টেবিল ঘড়ি মার্কা নিয়ে। তিনি প্রচার চালাতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু প্রতিকার মেলেনি। উল্টো কমিশন বলছে, তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পায়নি। এ জন্য ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন জায়েদা খাতুন। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণসহ সাত দফা দাবি জানিয়ে কূটনীতিকদের চিঠিও দিয়েছেন তিনি।
কারও শঙ্কা কারও আশা
নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কোনো বাধা-বিপত্তির শিকার হননি গাজীপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণফন্ট্রের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধা-বিপত্তি পাই নাই। ইভিএম এবং ভোটদান নিয়ে কোনো শঙ্কা নাই।’
নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো আছে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম নিয়াজ উদ্দিন। গাজীপুরের ভোটারদের মধ্যে ভয়-শঙ্কা আছে জানিয়ে সংসদের বিরোধী দলের এই প্রার্থী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু বিগত নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই ভোট নিয়ে সবাই শঙ্কিত।’
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান ভোটে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আশা শতভাগ। আমরা আশা করি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট হবে।’
নির্বাচনী পরিবেশ ভালো দেখছেন জাকের পার্টির প্রার্থী রাজু আহাম্মেদ। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব সুন্দরভাবে কাজ করেছি। ভালো ভোট হবে আশা প্রকাশ করছি।’
গাজীপুর সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ভালো। কোনো শঙ্কা-আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত ভালো। অসুবিধা দেখছি না। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের ভাতিজা শাহ নূর ইসলাম ওরফে রনি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র প্রার্থী ছিলেন হাসান উদ্দিন। তার ভাতিজা সরকার শাহ নূর ইসলাম ওরফে রনি এবারের ভোটে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। শাহ নূর ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম সরকারও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।
শাহ নূর ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার এজেন্টরা ভয় পাচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করছে। অনেকের বাসায় হামলা করছে। নৌকার এজেন্ট ছাড়া কোনো এজেন্ট ২৫ তারিখ থাকতে পারবে না বলে হুমকি দিচ্ছে।’ কমিশনে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কমিশনকে ওইভাবে কোনো অভিযোগ দিই নাই। পরিবেশ প্রতিকূলে চলে গেছে। সুষ্ঠু ভোটের শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।’
গাজীপুরের সর্বশেষ নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন। তার প্রতীক টেবিল ঘড়ি। তার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক সাময়িক বরখাস্ত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আছে। ভোটের দায়িত্বে যেসব এজেন্ট রয়েছে তাদের বাড়িছাড়া করছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে চাই।’ এসব বিষয়ে কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘কার কাছে বিচার দেব?’
ট্রায়ালে সফল হওয়ার আশা কমিশনারদের
প্রতিটি নির্বাচনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনের প্রতিটি পদক্ষেপেই সুতীক্ষ্ণ নজর রাখছি আমরা। বৃহস্পতিবারের গাজীপুর সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভোটের দিনও আমরা সরাসরি সিসি ক্যামেরায় এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব।’
ইভিএমকে স্বচ্ছতার প্রতীক উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, ‘ভোটার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার প্রয়োগের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আমাদের নির্দেশনা রয়েছে, সেই সঙ্গে সবার সহযোগিতাও দরকার। আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইভিএমে ভোট দিতে ভোটারদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের জন্য দক্ষ কারিগরি টিমও থাকবে। আশা করি কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই সুন্দরভাবে সবাই ভোট দিতে পারবেন।’
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ভোট পর্যন্ত নির্বাচনে বিধিবিধান প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কঠোর ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আছে ও থাকবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি এবং ছাড় দেয়া হবেও না। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের তলব করার নজির স্থাপন করা হয়েছে এবং একজন কাউন্সিলরের প্রার্থিতা বাতিলও করা হয়েছে। আমাদের বার্তা স্পষ্ট- আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছি, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং নির্বাচনে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা করলে কোনো ধরনের ছাড় নেই। আশা করছি, আমরা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে যাচ্ছি। গাজীপুরসহ পাঁচ সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে।’
দ্বাদশ ভোটের আগে গাজীপুর সিটি ভোটকে অনেকেই ট্রায়াল ভোট বলছেন। সেই ট্রায়াল ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি আছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি। প্রত্যেকেই যাতে এজেন্ট দেয়। কেই যদি না দিতে পারে সেই অভিযোগ করে বেশি।’ সুষ্ঠু-সুন্দর ভোট করার জন্য যা যা করা দরকার, সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে এই কমিশনার বলেন, ‘আশা করি সুন্দর ভোট হবে। ট্রায়ালে সফল হব।’
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এই পরিস্থিতিতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নওগাঁয় মাদকাসক্ত ছেলের মারধরে বাবা মহাতাব সরকার (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে নওগাঁ শহরের বনানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে সুমন পলাতক রয়েছে। নিহত মহাতাব সরকার পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন।
থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছেলে সুমন গত কয়েক বছর আগে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংসারে প্রায় ঝগড়া হতো এবং অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকাসক্তের কারণে গত এক বছর আগে সুমনকে রেখে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চলে যায়। কয়েকদিন আগে সুমা বাড়িতে আসে। আবারও ঝগড়া হয়। সুমন রাগ করে রোববার রাত ১২ টার দিকে তার বাবার কাছে শুয়ে পড়ে। সুমনের ঘুম আসছিলো না দেখে বাবা মহাতাব সরকার দোয়া পড়ে তার ছেলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে আরো রেগে যায় সুমন। এক পর্যায়ে তার বাবার হাত ধরে জোর করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরে কয়েকটি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে সুমন পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে ঘাতক সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৭৮ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশে তাদের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে ওই তারিখেই যোগদান করতে হবে। কেউ নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগ দিতে সম্মত নন বলে ধরে নিয়ে নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, সেই তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে। দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৩ হাজার ২২৯ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়।
আগের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করেন উত্তীর্ণরা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন রিটকারীরা। গত বছরের ৭ নভেম্বর রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দেওয়ার রায় দেন আপিল বিভাগ।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দশক পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জনকে ও গত ১৩ মে আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু। নিহতদের মধ্যে ১৩৪ জন মোটরসাইকেলের আরোহী বা চালক, যা মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে ৯টি নৌদুর্ঘটনায় ৭ জন এবং ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী (২০.৭৭ শতাংশ) এবং ৫৭ জন চালক ও সহকারী (১৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, থ্রি-হুইলারের যাত্রী ১১২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোট ৭১৩টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৫৭টি মোটরসাইকেল, ১৪১টি থ্রি-হুইলার, ১১৬টি বাস, ১০৭টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ২৮টি পিকআপ, ১৬টি মাইক্রোবাস, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৪টি অ্যাম্বুলেন্স, ৪২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন, ৭টি রিকশা, ৪টি বাইসাইকেল এবং ৩০টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। এছাড়া ভোরে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং রাতে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে রয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য, চারজন শিক্ষক, দুইজন সাংবাদিক, একজন চিকিৎসক, তিনজন প্রকৌশলী, চারজন আইনজীবী, একজন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ব্যাংক ও বিমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, চারজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ছয়জন পোশাক শ্রমিক, পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক, দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এসব দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন সমন্বয়ে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।
কক্সবাজারে আছে এমন এক আধুনিক প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা, যেখানে পরিত্যক্ত পলিথিন বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে টেকসই আসবাবসহ নানা মূল্যবান পণ্য। যা পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন বাজার। এটি এই সেক্টরের প্রথম কারখানা। কারখানাটি এরই মধ্যে সর্বমহলে সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পলিথিন–প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি মাইলফলক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটক ও বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এক সমীক্ষার তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরে দিনে প্রায় সাড়ে ৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হয়। এর মধ্যে একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বা পলিথিন, পণ্যের মোড়ক, পলিপ্রোপিলিন এবং পাতলা পলিথিন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো পুনঃপ্রক্রিয়া করা খুবই কঠিন এবং এর কোনো বাজার মূল্য নেই। কক্সবাজারের এই রিসাইক্লিং কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চসহ মজবুত খুঁটি।
ইউনাইটেড নেশনস অফিস অর প্রজেক্ট সার্ভিসেজের বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর মেইসন সালাম বলেন, এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে এবং নারীদের ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংক–ইউএনওপিএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া (প্লিজ) প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্র্যাক কক্সবাজারকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই রি–সাইক্লিং কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারী, এসব বর্জ্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে এখানে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়কারী মিলে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, এই রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানাটি ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস’র সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম। কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই জেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে ব্র্যাক। প্লিজ প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ায় প্লাস্টিক দূষণের গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।
৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় ২০০ কেজি পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এখানে রয়েছে দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি), সোলার পাওয়ার জেনারেশন সিস্টেম, ফায়ার সেফটি সিস্টেম, একটি ইলেকট্রিক সাবস্টেশন এবং ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা।
এই কারখানাটি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি খাল–বিল ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জেলা থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। রোগী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত, মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় আমাদের ডাক্তার নার্সদের সহযোগিতায় হামকে আমরা চতুর্দিক থেকে একটা পেরিফেরির ভেতরে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছি। একেবারে নির্মূল কোনও পৃথিবী করতে পারে নাই, লন্ডনের উদাহরণ দিলাম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরেই ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ এবং উড়ন্ত মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে কোনও রোগী স্যালাইনের সংকটে না পড়েন এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
চিকিৎসকদের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা-প্রোটোকল বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সভায় এক পর্যায়ে শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি, ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার এসব কর্মসূচি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বদলি হওয়া ডিআইজি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি রাইহান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে ঢাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের নতুন ডিআইজি করা হয়েছে।
অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে তিন পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। এতে সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মাদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এবং ফরিদপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে গ্রেপ্তার হওয়া ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে প্রায় ২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে ওই নারীকে পুলিশ আটক করেছিল। মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েকদিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেছিলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার (৫ জুলাই) থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ, মংলা পাইলট হাউস, ড্রেজার বেইজ, রূপসা ফেরিঘাট, খুলনা শিপইয়ার্ড লি. তদুপরি খুলনা ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ও শনিবার (৪ জুলাই) এলাকার যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুবিধাদি দেখতে এ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
পরিদর্শনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম পর্ব) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ইয়ার্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যক্রমের গুণগত মান, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন), অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর), এবং বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কুমিল্লার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজী আক্তারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, কুমিল্লা জেলা কমিটি।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার সফল কর্মজীবন এবং কুমিল্লা জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সফল নেতৃত্ব কামনা করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতাদের শুভেচ্ছা ও সম্মাননার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ তিনি জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সেবার মানোন্নয়নে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি ও দৈনিক বাংলা পত্রিকার কুমিল্লা দ. জেলা প্রতিনিধি মো. তরিকুল ইসলাম তরুণ, সহসভাপতি বাবর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মারুফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ কুমিল্লা জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা একটি সেতুর অভাবে নিজেদের গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বি এল বাড়ি আলহাজ আবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও গুমানি নদীর কারণে বিদ্যালয়টিতে সহজে যাতায়াত করতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টি পুরন্দপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানি নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছোট খেয়া নৌকা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হতে পারে না। এর পরিবর্তে তারা পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা ফরিদপুর উপজেলা সদরের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে।
স্থানীয়দের জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে খেয়া নৌকায় পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দমকা হাওয়া কিংবা বৈরী আবহাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে নিজ গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে পুরন্দপুর ঘাটে দেখা যায়, ছোট খেয়া নৌকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নদী পারাপার করছে। সামান্য বাতাসেই নৌকাটি দুলে উঠলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন সরদার বলেন, ‘এই খেয়া পার হয়ে পুরন্দপুরসহ আশপাশের গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফরিদপুর উপজেলা সদর ও পাবনা জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে অনেককে বিকল্প পথে অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদীর এক পাশে অবস্থিত এরশাদনগর হাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নদীর অপর পাড়ের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে আসেন। আধুনিক যুগে একটি সেতুর অভাবে আমাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা লতিফুল হাসান চঞ্চল বলেন, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। শুধু বিদ্যালয় নয়, ইউনিয়নের সরকারি হাসপাতালটিও বিদ্যালয়সংলগ্ন পাড়ে অবস্থিত। যাতায়াতের সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুমানি নদীর ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চেক ডিজ অনার মামলায় খুলনার একটি আদালত নসরুল জামান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামি রূপসা উপজেলার চর রূপসার বাসিন্দা রশিদ মোড়লের ছেলে। তিনি একজন জমি ব্যবসায়ি।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে খুলনার যুগ্ম মহানগর ২য় আদালতের বিচারক মো: বেল্লাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মো: কামরুজ্জামান পলাশ। রায় ঘোষণার সময় আসামি নসরুল জামান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন।
আইনজীবী পলাশ জানান, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর জমি ক্রয় করে দেওয়ার কথা বলে কাজী মাইনুর ইসলামের কাছ থেকে ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় জমি ব্যবসায়ী নসরুল জামান। জমি কিনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জমি ব্যবসায়ী গত ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আল আরফা ইসলামী ব্যাংক গল্লামারী শাখার একটি চেক প্রদান করেন, যার নং ১২৭৯২১১। চেকটি ব্যাংকে দিলে সেটি ডিজ অনার হয়। একই বছরের ১ মার্চ আইনজীবীদের মাধ্যমে আসামিকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেটি তিনি ৪ মার্চ গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খালিশপুর আদালতে বাদী একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং ছিল সিআর ১২১/২৪। একই বছরের ১৪ নভেম্বর একই আদালতে আসামি নসরুল জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়্। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক হয়।