বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাবার সামনে পা পিছলে ট্রেনের নিচে ছেলে

নিহত হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:২০

নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

২১ বছর বয়সী ইমতিয়াজ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর এলাকার অ্যাডভোকেট ইসাহাক আলীর ছেলে। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার শেখ জিয়াউদ্দিন বাবলু জানান, শনিবার সকালে ঈশ্বরদী থেকে ছেলেকে নিয়ে কমিউটার ট্রেনে চড়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট ইসাহাক আলী। ট্রেনটি আব্দুলপুর জংশনে দাঁড়ালে ইমতিয়াজ নাশতা করতে ট্রেন থেকে নামেন। পরে ট্রেনটি ছেড়ে দিলে ইমতিয়াজ দৌড়ে ট্রেনের হাতল ধরে উঠতে গিয়ে পা পিছলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


ভূমি সেবা অটোমেশনে হয়রানি কমবে, বাড়বে স্বচ্ছতা: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে জনগণ ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে, ফলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমিমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে জানানো হয়, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সিস্টেমস’ চালুর ফলে পেপারলেস কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়, দালাল নির্ভরতা হ্রাস, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, ক্যাশলেস ভূমি সেবা, রেকর্ড হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড হোল্ডিং সমন্বয় এবং শতভাগ অনলাইন পেমেন্টের আওতায় ভূমি সেবা নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র এবং নীলফামারী সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম সিদ্দিকুর রহমান বক্তব্য দেন। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সাইনবোর্ড শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে তাফালবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত চালরায়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশেই তাফালবাড়ি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। প্রতিদিন এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ শিক্ষার্থী যাতায়াত করলেও সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো স্পিড ব্রেকার না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। একই স্থানে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল জোমাদ্দার বলেন, “এখানে গাড়ির গতি অনেক বেশি থাকে। ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন রাস্তা পার হয়। আমরা বহুবার স্পিড ব্রেকারের দাবি তুলেছি, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, স্কুল ছুটির সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা প্রয়োজন।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অঞ্জলি রানি বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। একটি ছোট উদ্যোগ অনেক বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


পল্লবীতে সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধে এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণের দখল হওয়া জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট এলাকায় ঢাকা-১৬ আসনের এমপি আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদের এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যুগ্ম কমিশনারসহ পুলিশ সদস্যরা। উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে প্রায় ১২টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছে। দুপুরের পর আবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে সরকারি জমি প্রায়ই ৫০ বিঘা দখল করে রাখা হয়েছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।


সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার সিদ্ধান্ত বিবেচনায় রয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোঃ মাইনুল হক, সৈয়দপুর, নীলফামারী প্রতিনিধি

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।তিনি বলেছেন,দেশের যেসব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বেশি,সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হবে।উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে সৈয়দপুরের কৌশলগত গুরুত্ব থাকায় এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বুধবার (২০ মে) সকাল ৯টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ অবতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান,প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।একইসঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পর শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন,দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।শিল্প,বাণিজ্য ও যোগাযোগের সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ হওয়ায় সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার,সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার শাহিন,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু,যুবদল আহ্বায়ক তারিক আজিজ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী জুবায়ের ও তারিকুল ইসলাম তারিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী সড়কপথে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।


স্কুলের ক্লাসরুমে প্রধান শিক্ষকের ‘সংসার’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সেখানে ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘর বানানোর অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলকে স্তম্ভিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ ও সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষটিকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। সেখানে রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, খাট-বিছানাসহ যাবতীয় গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশের জন্য এই বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু কোমলমতি শিশুদের ক্লাসরুমকে এভাবে হোটেল আর শোয়ার ঘর বানানোয় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে মুখ খোলেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক শ্রেণিকক্ষটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “যা হওয়ার হয়ে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সব সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি জানার পরপরই দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষার আলো ছড়ানোর পবিত্র প্রাঙ্গণে এমন বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত দখলদারিত্বের ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এখন প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন।




মৌলভীবাজারে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে দুর্নীতি প্রতিরোধ, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী উত্তম চর্চা গড়ে তুলতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর আয়োজনে জেলা সদরের এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় হবিগঞ্জের উপপরিচালক মো. এরশাদ মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

কর্মশালায় মৌলভীবাজার জেলার সকল উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।


বরিশালে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। এর মধ্যে শুধু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা গেছে ২৬ জন।

বুধবার (২০ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মৃত দুই শিশু হলো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মনিরুজ্জামানের সাড়ে চার মাস বয়সী ছেলে আলী আজগর এবং পটুয়াখালী সদরের হাজীখালী এলাকার রাহাত গাজীর তিন মাস বয়সী ছেলে মুয়াজ। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শেবাচিম হাসপাতালে নতুন করে ৫৫ জন হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০৪ জন রোগী।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৪১ জন রোগী।

এদিকে রোগীর চাপ সামলাতে শেবাচিম হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৪ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৮৩ জন রোগী।

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও একটি হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ত্রিশালে ডিআইজির মাঠ ও মঞ্চ পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগমনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ বুধবার দুপুরে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ এবং ঐতিহাসিক নজরুল মঞ্চ পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া।

এদিন দুপুরে তিনি অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে আসেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। মাঠ ও মঞ্চ পরিদর্শন ছাড়াও তিনি অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্থান ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া নানা পদক্ষেপের বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়ার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, ত্রিশাল সার্কেল) ইসরাফিল হাসান,ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদসহ জেলা ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


আমতলীতে জরাজীর্ণ ভবনে ভবিষ্যৎ গড়ার অনিশ্চিত পাঠশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাশিমুল হক রিমন, আমতলী প্রতিনিধি

বিদ্যালয় ভবনের বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের গায়েও খসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে পাঠদান।

এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি ভবন। দীর্ঘ ৬০ বছরেও ভবনগুলোর বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আমতলী শহরের প্রাণকেন্দ্রে থানা সড়কের পাশে শিক্ষানুরাগী সাবেক এমএলএ (এমপি) মরহুম মফিজ উদ্দিন তালুকদার ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৬৬ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল ভবনে বর্তমানে একটি হলরুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। ছাদের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা ধসে পড়েছে। অধিকাংশ দরজা-জানালা ভাঙা ও নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।

মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে ১৯৭২ সালে নির্মিত দুই কক্ষের একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভবনটিতে তালা ঝুলছে। পাশের দোতলা টিনশেড বিজ্ঞানাগারটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ায় বিজ্ঞানাগারের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯৮৭ সালে নির্মিত তিন কক্ষের একটি ভবন, ২০০৪ সালে নির্মিত দুই কক্ষের আরেকটি ভবন এবং ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা পাঁচ কক্ষের ভবনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। দরজা-জানালা খুলে গেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা ভবনটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবনের দোতলায় উঠতে চায় না।

প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর জন্য বরাদ্দ দুটি টিনশেড ঘরও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা নিজেদের উদ্যোগে কোনো রকম মেরামত করে সেখানে বসবাস করলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই গেছে।

বিদ্যালয়টির চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে অবাধে গবাদিপশু বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে বিদ্যালয় মাঠে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে। শহরের প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও সুমাইয়া শিমু বলে, “ভবনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাইরা বলে, “বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা ও পোশাক ভিজে যায়। ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবীর বলেন, “ছয়টি ভবনই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

জেলা শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবনের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


কয়রায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালিত 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা প্রতিনিধি

অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার কয়রায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ পালিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। কয়রা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে শোভাযাত্রাটি র‍উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে প্যারেড পরিদর্শন ও ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিআরডিপির চেয়ারম্যান এফ এম মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আহাদ, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনু,তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ফায়ার সার্ভিস শুধু আগুন নেভানোর কাজই করে না, বরং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার আওতায় আনতে হবে, তাহলেই ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্টেশন অফিসার মোঃ আঃ আহাদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস জরুরি সেবা, উদ্ধার অভিযান, পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বহুমুখী দায়িত্ব পালন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় তারাগঞ্জ বাজারে ওয়াটার রিজার্ভার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, সচেতনতামূলক প্রচারণা, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে শেবাচিমে উত্তেজনা, স্বজন-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সাথে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুর এক স্বজনসহ দুইজনকে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেধম মারধর করে আটকে রাখে। পরে হাসপাতাল পরিচালক, মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষমা চেয়ে- মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পায় আটকে থাকা দুই ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নবজাতক ওয়ার্ড সূত্রে জানাগেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারের বাসিন্দা উজ্জল দে’র ৭ দিনের কন্যা সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তাকে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর পরপরই স্বজনরা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলেন। যা নিয়ে সাদা ইউনিফর্ম পরিহিতো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে স্বজনদের বাকবিতান্ডাও হয়। এর কিছুক্ষন পরে মেডিক্যাল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী এসে জয়দেব নামে মৃতের এক স্বজনকে মারধর করে, সেই ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামুন নামে আরেক যুবকও মারধরের শিকার হন। পরে তাদের হাসপাতালের নীচতলার জরুরী বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

যদিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেন, মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সকালে ও বিকেলে ওয়ার্ড থাকে এবং এর ওপর আইটেম থাকে। আইটেম দিয়ে বের হওয়ার সময় মৃত শিশুর বাবা তার স্বজনদের আমাদের আটকে রাখতে বলেন। তার অভিযোগ ভূল চিকিৎসার জন্য শিশু সন্তানটি মৃত্যুবরণ করেছে।

তিনি বলেন, মৃতের স্বজনরাআমাদের আটকানোর চেষ্টাকালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাফরোন ও ব্যাগ ধরে টান দেন। সেইসাথে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সদেরও হেনস্থা করেন।

অপর শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন বলেন, নবজাতক ওয়ার্ডের পাশে আমাদের একটি ক্লাশ রুম ছিল, যেখান থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোলের বিষয়টি শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সেখান থেকে যাওয়ার সময় একটা লোক আমাদের কারও হাত এবং কারও ওড়না, আবার কারও ব্যাগ ধরে টান দেন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। এরপর আমরা আত্মরক্ষার্থে সেবিকাদের সহায়তায় একটা রুমে আশ্রয় নেই, এরপর দুই ছেলে ব্যাচমেট এসে তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করে। কিন্তু সে তাদেরও মোবাইল ভাংচুর করে, পরে ইউনিফর্ম লুকিয়ে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে আসি।

তবে শিশুর বাবা উজ্জল জানান, সন্ধ্যার পরে তার সন্তানের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে যান তারা। ওইসময় রুমে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ছিল, তারা এসে শিশুকে মৃত ঘোষনা করলে, তার মামা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়ে। এসময় তিনি ইন্টার্ন চিকিৎসকেদর ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করলে তাকে এবং অপর আরেক ব্যক্তিকে মারধর করে।

মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস বলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তার মামা হয়তো মুখে কিছু বলেছে কিন্তু কারও গায়ে হাত দেয়নি। তারপরও তাকে শিক্ষার্থীরা মারতে মারতে নীচে নিয়ে গেছে। যদি আমার ভাই কোন ভূল করে থাকে তাহলে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি, আমাদের মাফ করে দেন। সন্ধ্যায় ৬ টা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত এখানে মৃত সন্তানকে নিয়ে বসে আছি, আমাদের যেতে দিন।

এদিকে শিক্ষার্থীরা শিশুটির মামাসহ দুজনকে আটকে রাখার খবরে হাসপাতাল পরিচালক ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা আটক দুজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সেইসাথে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন চান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা জানিয়েছেন, ছাত্র আর রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ যাদের কাছ থেকে পাবো, তার সূত্র ধরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে. এম. মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি উভয়পক্ষের সাথে বসে সমাধান করা হয়েছে। আমরা চাই এখানে যারা পড়ালেখা করছে তারা যেন স্বাভাবিকভাবে ইউনিফর্ম পড়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সেইসাথে রোগীদেরও যেন ঠিকভাবে চিকিৎসা হয়। সমস্যা আমাদের অনেক রয়েছে, ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে এবং ধৈর্য্য ধরতে হবে।


প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চবির আলাওল হল অফিসে তালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম ভূইয়া, চবি প্রতিনিধি

হল প্রভোস্টের বিতর্কিত আচরণ ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের অফিসকক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে হলটির ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে হলের নিচতলার অফিসকক্ষে তালা লাগানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে হলটির ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুন্নবী বলেন, ১৫ দিন হলো দায়িত্বে বসেছেন নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরি। তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, হল সংসদের সাথে কোনো প্রকার মিটিং হবে না, কারণ এই মিটিংগুলোতে নাকি চা-নাস্তার খরচ হয়, যার কোনো বাজেট নেই।

হল সংসদের অভিযোগ, নতুন এই প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করছেন না। তাদের দাবি, ডাইনিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার দেখা করার পরে, পর্যায়ক্রমে আবার সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আমাদের সম্পাদকদের চিনতে পারেন না এবং কথা শুনতে আগ্রহ দেখান না।

এ বিষয়ে হল সংসদের অন্যান্য সম্পাদকের অভিযোগ, প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া কোনো ক্লাব কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না এবং ছোটোখাটো সমস্যাগুলোরও সমাধান হচ্ছে না। এছাড়া, তিনি (প্রভোস্ট) সারা রাত হলে অবস্থান করলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় না দিয়ে পরদিন সকালেই হল ত্যাগ করেন। দায়িত্বে বসার ১৫ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে তবু হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সাথে মিটিংয়ে বসেন না প্রভোস্ট।

জিএস নুরুন্নবী আরো যোগ করেন, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ঠিকাদার এবং স্টাফদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্টাফদের সাথে মিসবিহেভ (বাজে আচরণ) করার কারণে তারাও প্রভোস্টের কথা শোনে না এবং প্রভোস্টের হুকুম ছাড়া আমাদের কোনো কথা শোনে না, কাজ করতে চায় না। এই প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও প্রভোস্টের আচরণের প্রতিবাদে ছাত্ররা হলের অফিসকক্ষে তালা লাগিয়েছে।

বেলা ১২টার দিকে যোগাযোগ করলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরি বলেন, আমি এখন কথা বলতে পারব না। মিটিংয়ে আছি। আপনি পরে যোগাযোগ করেন বলে ফোন রেখে দেন।


দেবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার ডিএসবি সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ ফরিদ, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ফরিদুল ইসলাম নামে এক ডিএসবি সদস্য। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এশিয়ান মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই স্থানে পাপরী রানী রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশু ট্রাক চাপায় নিহত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাকটি আটক করে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালায়। এসময় কয়েকটি যানবাহনেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানায় কর্মরত তিনজন ডিএসবি সদস্য ঘটনাস্থলে যান। তাদের মধ্যে দুইজন মরদেহের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম ট্রাকটি যেখানে আটক রাখা হয়েছিল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সড়ক অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা আরেকটি ট্রাক ভাঙচুরের চেষ্টা করলে ফরিদুল ইসলাম দূর থেকে একটি ছবি তোলেন এবং থানার ডিউটি অফিসারকে ফোনে পরিস্থিতি জানান। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ রায়ের ভাইয়ের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন যুবক তার ওপর চড়াও হয়। তারা তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসময় ফরিদুল ইসলাম নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানালেও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আহত অবস্থায় ফরিদুল ইসলাম পুলিশের গাড়ির কাছে গেলে অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বপূর্ণ সাহা বলেন, “রাত ১০টা ২০ মিনিটে ফরিদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথাতেও আঘাত পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




banner close