বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জায়েদাকে অভিনন্দন আজমতের, চাইলে সহযোগিতাও করবেন

জায়েদা খাতুন ও আজমত উল্লা খান
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ১৭:৪৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান।

ভোটের পরদিন শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।

আজমত উল্লা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ইভিএমের ত্রুটির কারণে অনেকে ভোট দিতে পারেননি। রেজাল্ট যা হয়েছে, আমি তা মেনে নিয়েছি। যিনি বিজয়ী হয়েছেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি (জায়েদা) কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে সেটা যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে সহযোগিতা করব।’

পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে আজমত উল্লা বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘নৌকা নয়, ব্যক্তির পরাজয় হয়েছে’ ভোটে জয়লাভের পর জায়েদা খাতুনের ছেলে ও তার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলমের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আজমত বলেন, ‘কথাটি স্ট্যান্ডবাজি। আমি নৌকার প্রার্থী, আমার পরাজয় মানে নৌকার পরাজয়।’


নির্বাচিত

সুনামগঞ্জে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

সুনামগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল হকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বুড়িস্থল এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত ২৬ জুলাই বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির পাঁচ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত সাইফুল হক প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের বাইরে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে অপরাধীকে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সোপর্দ করে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ রঞ্জন দাশ। যুবদল নেতা আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শামসুদ্দিন, সহকারী শিক্ষক নাঈমা সুলতানা, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


নির্বাচিত

সোনারগাঁয়ে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ১৫ জন আহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী টিকাও দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, মো. লিটন, ফয়সাল, শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমান, মিনহাজুল ইসলাম, আব্দুল হাই, এক বৃদ্ধ নারী (অজ্ঞাত) এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ ১৫ জন।

এদিকে হঠাৎ করে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ওই তিন গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম শিয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে একের পর এক পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে কামড়ে দেয়। শিয়ালগুলো হঠাৎ করে বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কে ঘুরে বেড়িয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আক্রমণ করে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

আরেক আহত মো. লিটন বলেন, ‘শিয়ালগুলো খুবই হিংস্র ছিল। একজনকে কামড়ে দৌড়ে গিয়ে আবার অন্যজনের ওপর হামলা করছিল। সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা মিলে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।’

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’


নির্বাচিত

বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে নৌকার হাটে, বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

কয়েকদিনের টানাবর্ষণ ও উজানের পানির চাপে নাটোরের গুরুদাসপুর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই ও নন্দকুজা নদীর পানি আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এ পানি চলনবিলাঞ্চলে প্রবেশ করায় সেখানও পানি টইটুম্বুর। এতে চলনবিলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ও মাছ ধরার প্রধান মাধ্যম ডিঙি নৌকার চাহিদা, তৈরি ও কেনা বেচায় ধুম পরেছে।

সরেজমিনে চলনবিলাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নৌকার মোকাম গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষাকে ঘিরে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্তসময় পার করছেন। ভৌগোলিক সুবিধা ও কাঠের সহজলভ্যতার কারণে হাটের দক্ষিনাংশে অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি কারখানায় সারা দিন হাতুড়ি, লোহা, করাত ও প্লেনশিট কাটার মেশিনের শব্দে মুখরিত কর্ম এলাকা।

শিমুল, ইউক্যালিপটাস, মেহগিনি, কাঁঠাল, আম, বট ও নিমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকাগুলো সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে সড়কের ধারে। ক্রেতারা এসে আকার, কাঠের মান ও কারিগরির ভিত্তিতে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

জানগেছে, সপ্তাহের দুই দিন শনি ও মঙ্গলবারে এ হাটে বিক্রি হয় শত শত নৌকা। নৌকা কেনা বেচায় নিয়োজিত ব্যবসায়ী, মিস্ত্রি ও ক্রেতার হাকডাকে মুখরিত নৌকা হাটি। নৌকা ক্রয়ে সুফল পাচ্ছেন পানিবন্দি চলনবিলের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন কৃষক ও জেলেদের মাছ ধরার প্রধান উপকরণ নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কারিগররা। অন্যদিকে মহাজনরা আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাঠ সংগ্রহ করে বর্ষার অপেক্ষায় থাকে নৌকা বিক্রির পসড়া সাজিয়ে।

সাধারণ ডিঙি নৌকা ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায় এবং প্লেনসিটযুক্ত বিভিন্ন আকারের নৌকা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারখানার মালিক ইয়ারুল, শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মনিরুল, আমিরুর বলেন, কাঠ, লোহা, প্লেনশিটসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের চাহিদা পূরণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

কারিগর আলাউদ্দীন,পরিতোষ, আব্দুল মজিদ ও মাসুদ মোল্লা জানান, গত বছর পানি কম থাকায় নৌকার বিক্রি ছিল অনেক কম। এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকা প্রতি মজুরি এক হাজার টাকা। এ হাটে শিমুল, আম, মেহগিনি, ইউক্যালিপটাস কাঠের নৌকার কদর বেশি।

পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের আক্কেল, তাড়াশ উপজেলার লালুয়া মাঝিরা গ্রামের মোতালেব হোসেন, গুরুদাসপুরের রুহাই গ্রামের হাসিনুর, চাটমোহর উপজেলার চরনবীন গ্রামের সাইদ জানান, তারা বিলপাড়ের কর্মজীবী মানুষ। বর্ষা মৌসুমে তাদের হাতে কাজ থাকে না। আবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়ত করতে হয় নৌকায়। মাছ ধরে বাড়তি আয় ও পারাপারের জন্যই তারা ডিঙি নৌকা কিনতে এসেছেন। তাদের অভিযোগ গত বছরে তুলনায় এবার নৌকার দাম বেশি।

ব্যবসায়ী শিবলু ফকির জানান, এবছর চলনবিলে আগাম পানি প্রবেশ করায় নৌকার চাহিদা বাড়ছে। সাধারণ মানের ১০-১২ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ১২-১৫ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। আর প্লেনশীটের তৈরি নৌকা ক্রয় করতে ক্রেতাদের গুনতে হবে বাড়তি আরও ৩ হাজার টাকা। প্রতিটি নৌকা ৫০০ টাকা লাভে তারা বিক্রি করছেন। গত বছরের তুলনায় শ্রমিক, কাঠ ও নৌকা তৈরির প্লেশিটের দাম কাড়তি। এ কারণে নৌকাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

এ হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম নিঠু বলেন, চাঁচকৈড় হাটের নৌকার সুনাম চলনবিলজুড়ে। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটবারে গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি নৌকা বিক্রি হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাজারেও কমবেশি নৌকা বিক্রি হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা ফার্নিচার পট্টি মালিক সমিতির সভাপতি শামীম বলেন, ‘চাঁচকৈড় হাটের দক্ষ কারিগরদের তৈরি ডিঙি নৌকার সুনাম দির্ঘ দিনের। মঙ্গল ও শনি হাটবার ছাড়াও অন্যদিনগুলিতে চলনবিলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন ডিঙি নৌকা কিনতে। তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত নৌকা কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি থাকেন।


নির্বাচিত

দূষণে মৃতপ্রায় তালার শতবর্ষী বোস দীঘি, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বোস নামক দীঘিটি দূষণের কবলে ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার জনসাধারণের। শতবর্ষী দীঘিটি উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে অবস্থিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৩.১০ একরের উপরে অবস্থিত এই দীঘি সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ভরে আছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে দীঘিতে পানি নেই বললেই চলে। যেটুকু পানি আছে দেখতে কালো তৈল বর্ণ। না য়ায গোসল করা, না যায় হাত মুখ ধৌত করা। সরকারি দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে মসজিদ, গ্রাম্য বাজার, পানি শোধনাগার।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের জায়গায় অবস্থিত এই জলাশয় এখন মশা এবং বিষাক্ত সাপের বিচারণ স্থল।

স্থানীয় গাজী টি স্টোরের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব গাজী বলেন, ‘এই জলাশয়ের পানি দিয়ে চা তৈরি করতাম। দূষিত হওয়ায় এখন করা সম্ভব হয় না।’

মতিয়ার সরদার বলেন, ‘আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ এখান থেকে রান্না করার কাজে পানি নিতে আসতো। এখন তারা জার (কেনা পানি) কিংবা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য একদিকে অর্থের অপচয় সেই সাথে অধিকাংশ টিউবওয়েলর পানিতে আর্সেনিক থাকায় স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের দৈনন্দিন কাজে জলাশয়ের পানির প্রয়োজন অপরিহার্য।

স্থানীয় ১০৬ বছর বয়স রজব আলী গল্দার বলেন,‘পার্শ্ববর্তী খলিশখালী গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার গোপাল বোস এলাকার সুপেয় পানি সংকট লাঘবের জন্য দীঘিটি খনন করেন। সেই থেকে জলাশয়টির নাম বোস দীঘি। ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তি হলে পূর্ব বাংলা সরকার দীঘিটি সরকারি বলে ঘোষণা করে। এই সুদীর্ঘ সময়ে দীঘির কোন সংস্কার করা হয় নাই। ফলে ভরাট ও দূষণের কারণে আজ মৃত অবস্থা।

মাগুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জি এম শাহীন আলম বলেন, ‘সস্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সরেজমিনে দীঘিটি পরিদর্শন করেন।’

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি সর্ম্পকে তিনি অবগত আছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

কোটালীপাড়ায় কৃষক কার্ড হালনাগাদ কাযক্রম পরিদর্শনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান।

হালনাগাদ ডাটাবেজের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা ও সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ১২৮০ কৃষক পরিবারের চলছে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম।

গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিনব্যাপী মাচারতারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান। পর্যবেক্ষণকালে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা ও এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কৃত্তিবাস পান্ডে।

জানা যায়, কান্দি ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাচারতারা, গজালিয়া, আমবাড়ী, হিজলবাড়ী, ভেন্নাবাড়ী, তালপুকুরিয়া ও বানারঝোড় গ্রামের মোট ১ হাজার ২৮০টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও কৃষক কার্ড হালনাগাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

ইতোমধ্যে ধারাবাশাইল ব্লকের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই ব্লকে ১ হাজার ৪০২ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, সারা দেশে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকদের এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শাল্লা উপজেলায়ও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগদ অর্থ, কৃষকদের ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়, আবহাওয়া বার্তা ও বাজারের তথ্য প্রাপ্তি, চাষকৃত ফসলের চিকিৎসাসহ এসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন স্মার্ট কৃষক কার্ডধারীরা।


নির্বাচিত

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহারে নজরদারির দাবি

* বিলে কাজ শেষ, মাঠে কাজ বাকি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

নওগাঁর রাণীনগরে কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাথমিকের ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকাগুলো উত্তোলনের পর শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে।

কাজ সম্পন্ন না করেই সম্প্রতি ২ জুন উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দের মোট ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো চলছে মেরামত সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ। আর কোন কোন বিদ্যালয়ে তরিঘরি করে কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পিইডিপি-৪ এর আওতায় রাণীনগর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী- কাজ সম্পন্ন করে সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু এই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম উপজেলায় থাকাকালীন সময়ে ১০টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকা আগেই কাজ সম্পন্নের ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তোলন করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম অবসরে চলে যাওয়ার দিন গত ২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকাগুলো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রেবেকা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।

জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন বিদ্যালয়ে জুন মাসে কাজ শুরু করে তরিঘরি করে জুন মাসেই কাজ শেষ করা হয়েছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো কাজ চলমান রয়েছে।

সচেতন মহল বলছে, কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির শামিল।

জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চন্দন কুমার প্রামানিক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ সম্পন্নের বিল ভাউচার জমা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কাজ হয়েছে না হয়নি সেই জবাব শিক্ষা কর্মকর্তাই দেবে।

কাজের আগে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অবসরে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. রেবেকা সুলতানা বলেন, বরাদ্দের টাকাগুলো শিক্ষা অফিসের পিইডিপি-৪ এর অ্যাকাউন্টে রয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত যে বিদ্যালয় কাজ সম্পন্ন করেছে, তাদের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে। আর যারা এখনো কাজ সম্পন্ন করেনি কাজ সম্পন্ন করলে তাদের বিল দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

মাগুরায় বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার

* আইফোনসহ ৩৫টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত আইফোনসহ ৩৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম।

পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন মাসসহ বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ৩৫টি মোবাইল ফোন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খাইরুল হাসান, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, ফেসবুকসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি, অনলাইন জুয়া দমন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।’

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাইবার অপরাধ দমন এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাগুরা জেলা পুলিশ।


নির্বাচিত

সাটুরিয়ায় প্রকল্পে অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৯ জুলাই) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থটি সরকারি তহবিলে জমা দেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অধীনে সাটুরিয়া ও বালিয়াটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত কাজ শতভাগ সম্পন্ন করতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। ফলে বরাদ্দের অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১১ মে বিকালে গাজীখালী নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। নির্ধারিত কাজ শেষ করে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


নির্বাচিত

‘ক্লিন নড়াইল’ প্রকল্পে বাড়ছে দুর্ভোগ, বিকল্প স্থানান্তরের দাবি এলাকাবাসীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩৩
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

”ক্লিন নড়াইল-ড্রিম নড়াইল”। এটি শহরের ময়লা-অবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রকল্পের একটি প্লাটফর্ম। এই প্রকল্পের দুগর্ন্ধে এলাকার মানুষ এখন বিরক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে এলাকার মানুষ দাবি জানিয়েছেন। তারা ময়লা-আবর্জনা দুগন্ধ থেকে বাচতে চায়।

নড়াইল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে স্থাপিত নড়াইল পৌরসভা। ৮০ দশকে দ্বিতীয়শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। দেরিতে হলেও নড়াইল পৌর এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গড়ে তোলা হয় ‘ক্লিন নড়াইল, ড্রিম নড়াইল’ নামে একটি প্রকল্প। যার কাজ হলো শহরের প্রতিটি বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে একটি নির্দ্দিষ্ট স্থানে জমা করা। বি আই আর ডি (বোর্ড ফর ইন্টিগ্রেটেড রুলার ডেভেলপমেন্ট) নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা যৌথভাবে এ কাজ দেখভাল করার কথা।

নাগরিকদের প্রয়োজনের তাগিদে যে কথা সেই কাজ । ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকেই কাজ শুরু হয় । কাজের শুরুতে জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের নতুন বাস টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বি আই আর ডি, এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করে। ময়লা-আবর্জনা বহনের জন্য ১৩টি ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করা হয়। টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে আশপাশের বাসিন্দাসহ টার্মিনালে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের রাত যাপনে দুর্বিসহ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে শহরের রাস্তা প্রশস্ত করণ কাজ শুরু হলে ওই গর্ত থেকে ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর সেতুর পশ্চিম পাশ বেছে নিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে সেখানেই ময়লা আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ময়লার দুগর্ন্ধে সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দাদেরও একই অবস্থা শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে,নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর এলাকায় পৌর ভাগাড় বানিয়ে সেখানে শহরের যত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসির অভিযোগ সেতুর পশ্চিম পাশে ময়লা-আবর্জনা আর পূর্বপাশে শুকরের মলমূত্রের দুগর্ন্ধে কৃষি জমিতে কাজ করা যায় না। মাছের ঘেরে খাবার দিতে অসুবিধা হচ্ছে। কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনসহ খাল-বিলে মাছ মারা ও ধরা যায় না। তাদের দাবি ভাগাড় এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দিন।

সীতারামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন,যারা এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনুমতি দিয়েছেন তারা হয়তো সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখেননি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমন করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় বানিয়ে দিলেন বোধগম্য হয় না । তিনি দাবি করেন,দ্রুত এখান থেকে ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দেবেন ।

মুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য অজিত কবিরাজ বলেন, এখানে ময়লার ভাগাড় করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি । নড়াইল-যশোর সড়কের সীতাররামপুর গ্রামের মাছের ঘের সংলগ্ন ভাগাড় বানিয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যে কারণে এলাকাবাসীর বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন,ময়লার দুগর্ন্ধে এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষীদের কাজ করতে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে । অন্য কোন ফাকা স্থান বেছে নিয়ে সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় নির্মাণে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

জানতে চাইলে নড়াইল পৌর প্রশাসক মো.নাজমুল হুদা বলেন এ বিষয়ে এলাকাবাসি অথবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কেউ কোন আবেদন করেনি। আবেদন পেলে বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। তাছাড়া অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে অন্যত্র ফাকা স্থান দেখে ভাগাড় নির্মাণে পরিকল্পনা করা হতে পারে।


নির্বাচিত

পাঁচ বছরে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার বিশাল পরিবর্তন হবে: প্রকৌশলী তুহিন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধ

ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের দল বিএনপিকে আল্লাহ যদি রহমত দেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হাল ধরেছেন, তাতে ইনশাআল্লাহ তার নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছর পর দেখবেন, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার একটা বিশাল পরিবর্তন হবে।”

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নীলফামারীর মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের মসজিদ ও একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কতক্ষণ ঘুমান, আমরা নিজেরাও জানি না। ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা নিজে কাজ করেন। সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয়ে যান। রাত ১১টা-১২টায় বাসায় ফেরেন। তিনি হেঁটে মন্ত্রণালয়ে যান। সকালবেলা চেক করেন, ৯টার মধ্যে কোন মন্ত্রী অফিসে আসলেন, কোন মন্ত্রী আসলেন না। এই শ্রমটা আমাদের দরকার। এরকম লিডারশিপ আমাদের দরকার, আমাদের দেশের মানুষের জন্য।”

তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে যখন জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের কার্ড দিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন কিন্তু তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলেছেন, মনে আছে? আজকে এগুলো বাস্তব। ফ্যামিলি কার্ডের গোটা নীলফামারী জেলায় রিক্রুটমেন্ট চলছে। কয়েকটি ইউনিয়নে, কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে অনেকে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে গেছেন। এখন আপনারা বাস্তবে থাকবেন, নাকি হাওয়ায় জান্নাতে যাবেন, সেটি আপনারাই বিবেচনা করুন।”

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মো. গোলাম মাজেদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম ও তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।


নির্বাচিত

সারা এ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন মিন্টুর ইন্তেকাল

ছবি: মরহুম আনোয়ার হোসেন মিন্টু
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারা এ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন মিন্টু গত ২৭/০৭/২০২৬ইং তারিখে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। মরহুমের পরিবারবর্গ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া প্রার্থী।


নির্বাচিত

সুগন্ধি চালের দামে রেকর্ড, ছয় মাসে বেড়েছে ৫৭ শতাংশ 

* রপ্তানিকারক, চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের মতবিরোধ চরমে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোজনরসিকদের পাতে সৌরভ ছড়ানো সুগন্ধি চাল এখন সাধারণ ক্রেতার জন্য এক অধরা বিলাসিতা। গত ছয় মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। যে চাল চলতি বছরের শুরুতে প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১৪০ টাকায়, খুচরা বাজারে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২১৫ থেকে ২২০ টাকায়। চালের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ‘কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি’ কাজ করছে নাকি ‘রপ্তানির প্রভাব’—তা নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ।

রাজধানী থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম—সবত্রই এক চিত্র। পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ছয় মাসে খোলা ও প্যাকেটজাত সব ধরনের সুগন্ধি চালের কেজিপ্রতি দর বেড়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আগে কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২১৫–২২০ টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ২০০ টাকায় (রূপচাঁদা ২০০ টাকা, প্রাণ/চাষী/ফ্রেশ/এরফান ১৯০ টাকা, ইস্পাহানি ১৭৫ টাকা)। চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় ঠেকাছে।

বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা সুগন্ধি চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে বিক্রি নেমে এসেছে তলানিতে।

সুগন্ধি চালের এই রেকর্ড দামের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে রপ্তানিকারক, চালকল (মিল) মালিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যকার চরম মতবিরোধ।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বাজার অস্থির হতে শুরু করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শতপ্রাধিক প্রতিষ্ঠানকে চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রপ্তানির সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়াতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক সমিতি এ অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি—দেশে বার্ষিক সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র ৪ লাখ টন। উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৬ লাখ টন।

রপ্তানিকারকদের বক্তব্য, গত এক মাসে মাত্র ২ হাজার টনের মতো চাল বিদেশে গেছে। ছয় লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুই হাজার টন চাল রপ্তানিতে বাজারে সংকট তৈরির কথা নয়। কিছু অসাধু মিল মালিক চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে চালকল মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নওগাঁর চালকল মালিকদের দাবি, বিশ্ববাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম উভয়ই চড়া। ফলে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি উইং) আয়েশা আক্তার বলেছেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদনের কারণে দেশীয় বাজারে কী প্রভাব পড়ছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা বিশ্লেষণ করে দেখবে এবং পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, সুগন্ধি চাল জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের তালিকায় পড়ে না বলে সরকার সরাসরি এর দর নির্ধারণ করে দেয় না। মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী এটি পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা তৈরি হলেই দেশীয় বাজারে দাম বেড়ে যায়।

উদ্বৃত্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সুগন্ধি চালের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা মূলত তদারকির অভাব ও কারসাজিরই ইঙ্গিত দেয়। বিশ্ববাজারের অজুহাতে স্থানীয় বাজারকে এভাবে জিম্মি করা ঠেকানো না গেলে এটি কেবল সাধারণ ভোক্তাদেরই ভোগাবে না, বরং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কৃষি-রপ্তানি খাতকেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।


নির্বাচিত

হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে গবেষণাটি করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।

গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। এছাড়া ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে আরও ৩২টি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক বাজেট ব্যবহারের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাত্র ১১ শতাংশ আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ফলাফল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উত্তরদাতাদের দৃষ্টিতে অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

বিশেষ করে যেসব পরিচালন খাতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেসব খাতে ব্যয় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তরসংক্রান্ত খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, পছন্দের লোককে কাজ দিতে টেন্ডারে এমন অবাস্তব শর্তজুড়ে দেয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। যেমন—পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ট্রানজ্যাকশনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কয়জন ব্যবসায়ী এই শর্ত পূরণ করতে পারবে? এটি করা হয় মূলত প্রতিযোগিতা সীমিত করে পছন্দের পাত্রকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য।

স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। অথচ যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে কোনো প্রস্তুতিই (রেডি সেটআপ) ছিল না। কেন কেনা হয়েছিল? কারণ, প্রতি মেশিনে ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা লাভ ছিল। যার একটি পড়ে আছে ফরিদপুরে, অন্যটি খুলনায়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কারিগরি লোকবল ছাড়াই এক্স-রে ও অন্যান্য প্রযুক্তির সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভাঙারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।

টেস্ট বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খুলবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন আর কমিশন খাবেন, রোগী আসলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে—এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো মনিটর করা হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত চার বছরে যেখানে হামের টিকা দেয়ার কথা ছিল, তারা টিকা সংগ্রহ করেনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ইউনিসেফ যখন অনুরোধ করেছে, তখনও তারা টিকা কেনেনি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর যখন হাম দেখা দিয়েছে, বর্তমানে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের ৯৯ শতাংশই আনভ্যাকসিনেটেড। তাই এই টিকাদান কর্মসূচিকে এখন আরও বেগবান করা হয়েছে এবং সম্প্রতি আরও ১ লাখেরও বেশি নতুন শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ আমল থেকে একটি বিদেশি কোম্পানি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ডায়ালাইসিসের বাজার দখল করে রেখেছিল। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার এখন নিজস্ব উৎস থেকে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। ফলে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং অত্যন্ত কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবে। এ ছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

দেশের নারী ও সাধারণ মানুষের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মানুষের অসচেতনতার বিষয়টি উল্লেখ করে যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ প্রদান করা হবে। এটি আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে দৈহিক মাপ (উচ্চতা, ওজন), ডায়াবেটিস, রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং মেশিনের সাহায্যে রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষা করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষকর্মী এবং নারীদের কাছে নারী কর্মী যাবেন।

মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না, জেলে নিতে পারবে না। আপনি যদি সৎ হন, অডিটে অনৈতিক টাকা চাইলেই দেয়া বন্ধ করুন এবং সরাসরি আমার কাছে আসুন। পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমি নিজে তা ফেস করব।

হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির হার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে সন্তানসম্ভবা মা এলে পরিবারকে ভয় দেখিয়ে (যেমন—সিজার না করলে মা বা বাচ্চা মারা যেতে পারে) সিজারিয়ান অপারেশনে বাধ্য করার যে প্রতারণামূলক ব্যবসা চলছে, তা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিট ও তদারকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লেবার রুম, লেবার চেয়ার কিংবা নবজাতককে হিট দেয়ার ন্যূনতম আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই অপারেশন চালিয়ে যাওয়া অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ অনেকে।


নির্বাচিত

banner close