গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান।
ভোটের পরদিন শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।
আজমত উল্লা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ইভিএমের ত্রুটির কারণে অনেকে ভোট দিতে পারেননি। রেজাল্ট যা হয়েছে, আমি তা মেনে নিয়েছি। যিনি বিজয়ী হয়েছেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি (জায়েদা) কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে সেটা যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে সহযোগিতা করব।’
পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে আজমত উল্লা বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
‘নৌকা নয়, ব্যক্তির পরাজয় হয়েছে’ ভোটে জয়লাভের পর জায়েদা খাতুনের ছেলে ও তার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলমের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আজমত বলেন, ‘কথাটি স্ট্যান্ডবাজি। আমি নৌকার প্রার্থী, আমার পরাজয় মানে নৌকার পরাজয়।’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগের আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অভিযান চালালেও, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমি দখলকারী চক্র ও অসৎ স্বার্থান্বেষী মহল অভিযানকে থামিয়ে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য, বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ঢালাওভাবে গাছ কাটার সংখ্যা বাড়িয়ে বলা এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হলেও, গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের চরম অসংগতি ও দখলদারদের আসল চক্রান্ত।
গাছের সংখ্যা ও চাঁদার দাবিতে অসংগতির পাহাড়
উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে সোরগোল তোলে যে অভিযানে ১,২০০টি ফলন্ত মালটা ও কমলা গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। তবে ঘটনার তীব্রতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও মোথা গণনায় দেখতে পায়, কেটে ফেলা গাছের প্রকৃত সংখ্যা ৬২৫টি। অর্থাৎ জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে তথ্যের চরম অতিরঞ্জন করা হয়েছে।
একইভাবে চাঁদা না দেওয়ার কারণে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে—এমন মনগড়া অভিযোগ তোলে দখলদার আলীম উল্ল্যা ও তার পরিবার। কিন্তু অনুসন্ধানে তাদের নিজ নিজ বক্তব্যের মধ্যেই একাধিক হাস্যকর বৈপরীত্য ধরা পড়ে।
আলীম উল্ল্যার নিজের দাবি, চাঁদার অঙ্ক ছিল ৫ লাখ টাকা।
আলীম উল্ল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দাবি করেন, বন বিভাগ তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল।
আলীম উল্ল্যার পিতা মহেব উল্লা সম্পূর্ণ নতুন গল্প ফাঁদে দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৩ দফায় ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, পরিবারটি দাবি করে তারা গত ৩ বছর ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া ও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের কাছে নিপীড়িত হচ্ছে এবং নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছে। অথচ দাপ্তরিক রেকর্ড বলছে—প্রীতম বড়ুয়া কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র ৭ মাস এবং অর্জুন কান্তি দস্তিদার ১৭ মাস আগে। পরবর্তীতে জেরা করা হলে মহেব উল্লা নিজেই স্বীকার করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে তারা কখনোই কোনো টাকা দেননি। এমনকি যার মাধ্যমে টাকা হস্তান্তরের দাবি করা হয়েছিল, সেই ভাগিনা আব্দুস সালাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, টাকা লেনদেনের পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।
মূলত উচ্ছেদ অভিযানটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার গুরুতর অপরাধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলীম উল্ল্যা সরকারি খাসিয়া ও বাঙালি ভিলেজারদের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমির বাইরে গিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করেন। সেখানে তিনি টিলা কেটে পুকুর নির্মাণ ও ফিসারি বানান।
সম্প্রতি তারা বনের ভেতর মাটি কেটে আরও একটি বিশাল গর্ত খনন শুরু করলে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের নেতৃত্বে টহল দল বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদারেরা বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে বনকর্মী শাহিনুর আলম গুরুতর আহত হন এবং আসামিরা বনকর্মী শাহ আলমের সাথে থাকা সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলার এই গুরুতর লঙ্ঘনের পর বন আইনে মামলা হয় এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের প্রায় ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পানের বরজ, রিসোর্ট ও অন্য বাণিজ্যিক কাজে জবরদখল হয়ে আছে। বিশাল এই বনাঞ্চল পাহারায় জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল—যেমন আদমপুর বিটের ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর বনভূমি রক্ষায় আছেন মাত্র একজন বিট কর্মকর্তা ও চারজন বনপ্রহরী।
এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদম্য সাহসিকতার সাথে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েই কামারছড়া, আদমপুর ও কুরমা বিট থেকে কয়েক একর সংরক্ষিত জমি উদ্ধার, অবৈধ টিনের ঘর ও পানের বরজ ধ্বংস এবং চা বাগানের ক্ষতি বাবদ ৯ লাখ ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
ঘটনার সুরাহায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) আশরাফুর রহমান জানান, সরেজমিনে ভুক্তভোগী, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে এলাকার সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় বন সম্পদ রক্ষা করা কোনো একক বিভাগের বিষয় নয়, এটি সার্বজনীন জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য ও বানানো চাঁদার নাটক সাজিয়ে তাদের মানসিকভাবে কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখাই এখন সময়ের দাবি।
আধুনিক মহানগর গড়ে তুলতে ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনাসহ নগর উন্নয়নে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। এটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটে বাড়তি কর আরোপ না করে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন মহানগর বাস্তবায়নে গত রোববার বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে এই বাজেট পেশ করা হয়।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা. পপি খাতুন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সচেতন নাগরিকসহ প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাজেট ঘোষণায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বাজেটে সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রথমবারের মতো মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্নিমাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাতমাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হাওর ও দুর্গম অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
গত রোববার সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় নিয়োগ দেওয়ার মতো শিক্ষক খুব কম পাওয়া যায়। এজন্য আমাদের অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক দিতে হয়। তবে অন্যান্য এলাকাতেও ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে। ফলে কিছু দুর্গম এলাকায় শিক্ষক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। আমরা এই সংকটের টেকসই সমাধানে কাজ করছি, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।’
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরুর দিকে কিছু ভুলত্রুটি ধরা পড়ায় নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হয়েছে। খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে। তাদের অনুমোদনের পরেই খাবার স্কুলে যাবে। শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা কারখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন (সারপ্রাইজ ভিজিট) করবেন এবং খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। স্কুলে খাবার পৌঁছানোর পর তা পরীক্ষার জন্য মায়েদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাবার ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় তথ্য বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়ম মেনে চলা এলাকাগুলোতে বর্তমানে ‘জিরো ত্রুটি’ নিশ্চিত করা গেছে। এরপরেও কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা হয়। এতে সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।
সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।
সোমবার দুপুরে জেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ৫৯ বিজিবির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘সীমান্ত ডিজিটাল স্কিল সেন্টার’-এর অধীনে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কেরামত আলী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কেরামত আলী বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে তাদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক এবং শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামুল হক। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও প্রশিক্ষণার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমান্তবর্তী এলাকার ২৫ জন বেকার যুবককে এক মাসব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা মোবাইল সার্ভিসিং পেশায় আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকার যুবসমাজকে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
যে বয়সে শিশুর কান্না থামে মায়ের আদরে, আর হাসি ফুটে ওঠে বাবার কোলজুড়ে—সে বয়সে খেলাধুলার আনন্দ নয়, ছোট্ট আমির হামজার কপালে জুটল নিথর স্তব্ধতা। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে ১১ মাসের অবোধ শিশু আমির হামজার এই করুণ পরিণতি কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করে দেয়নি, কাঁদিয়েছে পুরো এলাকাকে।
সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতোই আদরের সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার পাশে রেখে গিয়েছিলেন মা সাবিকুন নাহার। ভেবেছিলেন, একটু পর সন্তান জেগে উঠে তার কাছেই কোল বাড়াবে। কিন্তু মা যখন ফিরলেন, দেখতে পেলেন বিছানা খালি। কোলে নেওয়ার মতো সেই অবোধ শিশুটি আর নেই। শুরু হয় চারদিকে মাতম আর আকুল খোঁজ।
কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর যখন শিশুটির সন্ধান মিলল, ততক্ষণে সব শেষ। বাড়ি থেকে প্রায় ১১০ ফুট দূরে ঢাকনাবিহীন এক সেপটিক ট্যাংকির জমাট অন্ধকারে ভেসে উঠল ১১ মাসের ফুটফুটে শিশুটির নিথর দেহ।
‘আমার সোনা তো হাঁটতেও শেখেনি সঠিকভাবে, সে কীভাবে এতদূরে যাবে? কে আমার কোল খালি করল?’— বুকচাপা কান্নায় এ প্রশ্নই বারবার করছিলেন শোকস্তব্ধ মা সাবিকুন নাহার।
মাত্র ১১ মাসের একটি অবোধ শিশু একা একা এতটা পথ পাড়ি দিয়ে সেপটিক ট্যাংকিতে পড়তে পারে না—এ সত্য বুঝে নিতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের আকুল দাবি, এটি স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং কোনো হিংস্রতার নির্মম বলি হয়েছে এই শিশুটি। শিশুর বাবা সাব্বির হোসেন জানান, অতীতে তাদের পরিবারে আগুন দেওয়া এবং হুমকির মতো নানা ঘটনা ঘটেছে। সেপটিক ট্যাংকির খোলা ঢাকনা কি তবে শুধু অসাবধানতা, নাকি কোনো অপরাধ ঢাকবার নির্মম সুযোগ?
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্তের জন্য চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচার হয়তো আইনের নিয়মে হবে, আসামিরাও হয়তো সাজা পাবে, কিন্তু লালপুর গুচ্ছগ্রামের সেই কুঁড়েঘরে যে ফুটফুটে হাসিটি চিরতরে মুছে গেল—তা কি আর কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? অবোধ শিশু আমির হামজার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সমাজের নিরাপদে বেঁচে থাকার আকুতির ওপর এক বিষণ্ণ প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ আহরণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হবে। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং মৎস্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হ্রদের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়া এবং মাছের প্রজনন কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে না পৌঁছানোয় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাছের বংশবৃদ্ধির স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকার, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্য সেবায় নানা অনিয়মের কারণে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাগুরায় ৩টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়া ও পিটিআই পাড়ায় অবস্থিত ইবনে সিনা ক্লিনিক, পলি ক্লিনিক এবং সাইন্স ল্যাব ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মাগুরা সিভিল সার্জন শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাগুরায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর সাবেক ছাত্রদল নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি সহ চারজনকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। সোমবার বিকাল তিনটায় বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এদের সনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের একজন হত্যাকাণ্ডের আগের থেকেই নিহত শান্তর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলো। আটককৃতদের বাড়ী বাগেরহাট সদরের মির্জাপুর এলাকায়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত চেম্বার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে ছুরি দিয়ে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ফেলে রাখে, পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নাটোরে পথচারীদের মাঝে দুই হাজার গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে এবং জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়েছে। সোমবার সকালে নাটোরের কানাইখালি এলাকায় এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই কর্মসূচি হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল।
এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক ডিউক।
সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও নিরাপদ নাটোর গড়ে তুলি। পরিবেশ রক্ষায় তরুণের পাশাপাশি সকল স্তরের নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ জানান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দশ হাজার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
বিনামূল্যে মানসম্পন্ন চারা পেয়ে পথচারী, রিকশাচালক ও পথচারী সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তিনগুণ ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচা মরিচের। তাছাড়াও প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। স্বস্তি নেই মাছ ও মুরগির মাংসের দোকানেও। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
জীবননগর উপজেলার উথলী বাসস্ট্যান্ডে সাপ্তাহিক কাঁচা বাজারে গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়ে। সবজির দাম বেড়ে যাওয়াতে কমে গেছে ক্রেতাদের সংখ্যা। বাজার ঘুরে দেখা যায় বেগুন ৬০-৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম তিনগুণ বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটল ও ধেড়সের দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা, ৪০ টাকার শশার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা, কলা ও মিষ্টিকুমড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, পেপে ১০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা, রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, ছোট সাইজের লাউ ৫০-৬০ টাকা পিচ বিক্রি হচ্ছে, তাছাড়াও শাকের আঁটিতে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে।
তবে আলু, পেঁয়াজ, আমড়া, করোলা, ওলসহ কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের বাজারে তেলাপিয়া মাছ ১৭০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোনা মাছ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। দেশি প্রজাতির মাছগুলো ৮০০-১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় বয়লার মুরগীর দাম ১৬০-১৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ৪০০ ও সোনালী মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে হঠাৎ করে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যার কারনে দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ক্রেতারা অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের আয় রোজগার বাড়েনি। সবজির বাজারে আসলে পকেটের টাকা ফুরিয়ে গেলেও বাজারের ব্যাগ ভর্তি হচ্ছে না। বাজারে এসে সব টাকা সবজি কিনতে চলে গলে মুদি মালামাল কিনব কিভাবে?
অধিকাংশ ক্রেতারা সবজির দাম বৃদ্ধিতে বাজার সিন্ডিকেটকে দায়ী করে প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান।
২৩০০ একরের সবুজ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস দিন দিন যেন সমতলে রূপান্তর হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পাশেই কাটা হচ্ছে পাহাড়। দোতলা ভবন নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছেন। পাশেই পড়ে আছে উপড়ে ফেলা গাছের শিকড় এবং নির্মাণযন্ত্র।
জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ভবনটি নির্মাণ করছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে ভবনের একটি অংশ নির্মাণ করা হবে। এ ধাপের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) অনুযায়ী, পাহাড়ি জায়গা বা টিলার আয়তন যাই হোক না কেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা বা মোচন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত—যেকোনো মালিকানাধীন পাহাড়ই এই আইনের আওতাভুক্ত। এ ছাড়া পাহাড় না কেটে কেবল পাহাড়ি জমিতে ভবন নির্মাণ করতে চাইলেও ৫,০০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ’ (EIA) করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরকে আমরা চিঠি দিয়ে অবগত করেছি, তারপর কাজ শুরু করেছি। ৫ হাজার বর্গমিটারের কম হওয়াতে আমরা অনুমতির প্রয়োজন মনে করছি না।’
তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পাহাড় কাটতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’-এর সভাপতি অনিক সরকার বলেন, ‘পাহাড় কেটে প্রশাসন খুবই বাজে কাজ করেছে। প্রশাসন যথাযথ জবাবদিহি না করলে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে পাহাড় কাটা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পুরোটাই পাহাড়ঘেরা, ভবন নির্মাণ করতে হলে কিছুটা তো ছাঁটতেই হয়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন আছি এবং সুরক্ষার জন্য পাশে একটি দেয়াল নির্মাণ করব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি। আর ৫ হাজার বর্গমিটারের কম জায়গায় ভবন করলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আদিল বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করা মোটেও উচিত হচ্ছে না। এমনিতেই চবিতে প্রায়ই পাহাড় ধস হচ্ছে, এমনকি কাটা পাহাড়ের দিকেও সম্প্রতি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের উচিত বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরিবেশবিদদের সাথে আলোচনা করে টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাঙালী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে করা ড্রেজিং প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ উত্তোলিত বালু এখন খোলা আকাশের নিচে হরিলুটের শিকার হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং রহস্যজনক অকর্মণ্যতার সুযোগে দিনে-দুপুরে ও রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ। ফলে একদফা নদী ড্রেজিংয়ের সুফল যেমন ভেস্তে যেতে বসেছে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাঙালি-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদীর সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের অধীনে ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় মোট ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২১৭ কিলোমিটারের মধ্যে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ অংশ কেটে বাঙালি নদীর ২৪ কিলোমিটার সফলভাবে ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়।
খননকালে নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত বালু ও মাটি তীরবর্তী এবং দূরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে বিশাল বিশাল ‘ডাইক’ বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগ উত্তোলিত এসব বালু পর্যায়ক্রমে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় করা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিলামে স্থবিরতা: সরকার নির্ধারিত বালু বিক্রি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৭ সদস্যের একটি ‘জেলা মাটি/বালি নিলাম কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়। এই শক্তিশালী কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এছাড়াও কমিটিতে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, এই নিলাম কমিটি ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে নিলাম আহ্বান করে সরকারের বিপুল রাজস্ব অর্জনে সফল হয়েছিল। তবে বিপত্তি ঘটে ২০২৫ সালের ২২ মে তারিখের পর। উক্ত তারিখের পর রাজস্ব শাখার ৬৩৮ নম্বর স্মারকে ঘোষিত নিলাম বিজ্ঞপ্তির অবশিষ্ট থাকা ৯টি প্যাকেজ এবং সেনাবাহিনী থেকে নতুন করে হস্তান্তর করা ৩টিসহ মোট ১২টি প্যাকেজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর আর কোনো অজানা কারণে নিলাম দরপত্র আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জের ডাইক এলাকাগুলো সরজমিনে ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে, তা এক কথায় ভয়াবহ। উন্মুক্ত স্থানে কোনো প্রহরা বা তদারকি না থাকায় পুরো এলাকা এখন স্থানীয় বালু খেকো সিন্ডিকেটের দখলে।
বিলুপ্ত ডাইক: সাঘাটার দোহাইল-১ ও দোহাইল-২ ডাইকের শতভাগ বালু লুট হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে ডাইক বা সরকারি বালুর কোনো চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ট্রাক্টরে করে লুটপাট: দাঙাবাড়ী ও কিংকরপুর ডাইক থেকে প্রতিদিন ‘কাকড়া’ (স্থানীয় ট্রাক্টর) বোঝাই করে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে সরকারি বালু। স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোতেও কোনো ভয়ডর ছাড়া এসব বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির পেটে কোটি টাকা: সাঘাটার পাকুরতলা, কিংকর এবং গোবিন্দগঞ্জের পারসোনাইডাঙা ডাইকগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় চলতি বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও নদীর তীব্র তোড়ে কোটি কোটি টাকার বালু পুনরায় নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ দখলের পাঁচতারা: কোনো কোনো খালি বা আংশিক খালি ডাইকে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গাছপালা রোপণ ও ঘাস চাষ শুরু করেছে। এমনকি তারা ডাইকের জমিকে নিজস্ব মালিকানাধীন দাবি করে স্থায়ী দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগের তীর মূলত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুনের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, পাউবো কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা একাধিকবার নিলামের প্রক্রিয়া সচল করার অনুরোধ নিয়ে এডিসির (রাজস্ব) দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন সচিব পর্যায়ের রেফারেন্স দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি, উল্টো তটস্থ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্টদের।
কমিটির ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতার রূপ স্পষ্ট হয় অন্য সদস্যদের বক্তব্যে। এলজিইডিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যোগদানের পর বালু নিলাম সংক্রান্ত কোনো সভাতেই আহ্বান পাননি। একই সুর সাঘাটা ইউএনও আশরাফুল কবীরের কণ্ঠেও।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত এডিসি (রাজস্ব) আল মামুনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুম মিটিংয়ের অজুহাতে সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা ও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষক মোনারুল ইসলাম বলেন, ট্রাক্টর ভরে দিন-রাত বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাধা দিলে আমাদেরই ভয় দেখানো হয়। প্রশাসন সব দেখেও অন্ধ সেজে আছে। ড্রেজিং করে লাভ কী হলো যদি বালুই চুরি হয়ে নদী আবার ভরাট হয়ে যায়?
বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা-৫) আব্দুল ওয়ারেস বলেন, ‘সরকারি সম্পদ এভাবে হরিলুট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি সরাসরি দায়িত্বশীলদের অবহেলার প্রমাণ। এর পেছনে কারা জড়িত তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি সম্পদ চুরির পেছনে যারাই দায়ী থাকুক, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন নিলাম বন্ধ রাখা হলো তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
নদী বাঁচানোর নামে শত কোটি টাকা খরচে উত্তোলিত বালু যদি সিন্ডিকেটের পকেটে যায় কিংবা পুনরায় নদীতে ভেঙে পড়ে, তবে তার চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অপচয় আর হতে পারে না। গাইবান্ধাবাসীর দাবি—অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত ভেঙে অবিক্রীত ১২টি প্যাকেজের দ্রুত উন্মুক্ত পুনঃনিলাম করতে হবে এবং লোপাট হওয়া কোটি টাকার বালু উদ্ধারে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
খুলনার বটিয়াঘাটায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে এ মামলার অপর এক আসামিকে খালসা দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪ আদালতের বিচাররক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- খুরশিদ আলম, সালাম ও খায়রুল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছাকাছি ঘোরাঘুরির সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এর পর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তারা একাধিক আঘাত করতে থাকে। রেজাউলের ছোট ভাই ঠেকাতে এলে তাকেও তারা আঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সূত্রটি আরও জানায়, এ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোটভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ঝালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কলম বক্সের ছেলে আ: ছালাম ও ছালাম শেখের দুই ছেলে মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার কালাবাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করেন।
সূত্রটি আরও জানায়, পৈর্তৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর উঠানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে খুরশীদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে রেজাউলের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে। এ সময় রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
গত ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পারিদর্শক গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।