শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

জায়েদাকে অভিনন্দন আজমতের, চাইলে সহযোগিতাও করবেন

জায়েদা খাতুন ও আজমত উল্লা খান
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ১৭:৪৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান।

ভোটের পরদিন শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।

আজমত উল্লা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ইভিএমের ত্রুটির কারণে অনেকে ভোট দিতে পারেননি। রেজাল্ট যা হয়েছে, আমি তা মেনে নিয়েছি। যিনি বিজয়ী হয়েছেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি (জায়েদা) কোনো ধরনের সহযোগিতা চাইলে সেটা যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে সহযোগিতা করব।’

পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে আজমত উল্লা বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘নৌকা নয়, ব্যক্তির পরাজয় হয়েছে’ ভোটে জয়লাভের পর জায়েদা খাতুনের ছেলে ও তার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলমের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আজমত বলেন, ‘কথাটি স্ট্যান্ডবাজি। আমি নৌকার প্রার্থী, আমার পরাজয় মানে নৌকার পরাজয়।’


শীতের সবজিতে ভরপুর বাজার, তবুও দাম বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর স্থানীয় কাঁচাবাজার শীতের সবজিতে ভরপুর হলেও দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। এ সময় বছরের অন্য সময়ের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এসব সবজি। কিন্তু বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি এলেও বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো তদারকি না থাকায় ইচ্ছেমতো চড়া দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও এখনো সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিক হবে সবজির দাম।

শনিবার নীলফামারী জেলা শহরের কিচেন মার্কেট, উকিলের মোড়, সাহেব বাজার, কালিতলা বাজার, নতুন বাজার, ডালপট্টি বাজার ও বাদিয়ার মোড়সহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বেলালের মোড় ও কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা পেঁপে ২০, গোল বেগুন আকার ভেদে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা টাকা। দেশি শসা ৪০-৪৫, করলা, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পটল, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এদিকে গাজর ১২০, শিম ৮০, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ৮০-১০০, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কিচেন মার্কেটের পাইকারি বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, যখন ফসল বিক্রি করি, তখন আড়তদাররা একচেটিয়া ব্যবসা করে। সারা বছর রোদেপুড়ে উৎপাদন করে বাজারে এসে আড়তদারদের কাছে জিম্মি হতে হয়। আজকে (শিনিবার) ৪০ কেজি (এক মণ) গোল বেগুন ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলাম, আর এই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি হবে ৮০-৯০ টাকায়। প্রতি কেজিতে আমার লোকসান হলো ৪৫ টাকা। এসব দেখা এবং বলার কেউ নেই।

ওই মার্কেটে সবজি কিনতে আসা ফারাবি আকতার বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। আর কৃষক ও ভোক্তা বরাবরই ঠকছে।

জেলা শহরের খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক দাম একটু বেশি। তবে কয়েক দিন পর সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

জেলা শহরের সাহেব বাজারে সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, এখন শীতের সবজি মাত্র ওঠা শুরু হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে এই দাম থাকবে না। এছাড়া ঘাটতি তো আছেই। ফলে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এদিকে লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, কুমড়ো শাক, মুলা শাক, পালং শাক, ধনেপাতাসহ সব সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

অপরদিকে বাজারে রুই ও কাতল আকারভেদে ২৬০ থেকে ৩০০, কৈ, তেলাপিয়া মাছ ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। সরপুঁটি ১০০-১২০, শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৭০০-৭৫০ টাকা, মোয়া মাছ ২৫০-৩০০ টাকা। শোল মাছ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকারভেদে মাগুর ৩৫০-৪০০ টাকা, গোঁতা মাছ ১,১০০ থেকে ১,২৫০ ও টাকি মাছ ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হামিদ পোলট্রি হাউসের মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, পোলট্রির বাজার স্বাভাবিক রয়েছে, সোনালি খুচরা প্রতি কেজি ২৫০, বয়লার ২৬০, রিজেক্ট প্যারেন্ট ২৮০ ও লাল লেয়ার ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।


নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগর ও নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার

সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃপক্ষের অভিযানের জোড়ালো উদ্যোগ নেই
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

আমতলী-তালতলী উপজেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ম্যানেজ করে বঙ্গোপসাগর ও উপকুলীয় পায়রা নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে দেদারসে জাটকা ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা।

অভিযোগ রয়েছে মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ীরা তাদের দাদন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সোনাকাটা ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর, ফরাজীসহ স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা তিন দপ্তরকে ম্যানেজ করেই জেলেদের দিয়ে জাটকা ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। জাটকা ইলিশ শিকার করলেও তিন দপ্তর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, গত পহেলা নভেম্বর থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশ ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিন দপ্তরকে ম্যানেজ করায় তারা জাটকা ইলিশ শিকারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আরও অভিযোগ রয়েছে, দায়সারা অভিযান পরিচালনা করলেও তারা আগেই দাদন ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জেলেদের কাছে অভিযানের খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে জেলেদের আটকানো কঠিন হচ্ছে। আমতলী-তালতলী উপজেলায় ১৩ হাজার ৬৯৯ জন জেলে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূল তালতলী ও আমতলী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৮ হাজার জেলে ইলিশ শিকার করছেন। ওই জেলেরা অবৈধভাবে ২.৬ ইঞ্চি (৬.৫ সেমি) ফাঁসের জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। দাদন ব্যবসায়ীদের প্রভাবে জেলেরা সাগরে নির্ভয়ে অবৈধ ফাঁসের জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। মাঝে মধ্যে ফকিরহাট কোস্ট গার্ড, নিদ্রা নৌ-পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য অফিস নাম মাত্র দু’একটি অভিযান পরিচালনা করলেও সাগর ও নদীতে জেলেদের খুঁজে পায় না তারা। এগুলো তাদের লোক দেখানো অভিযান বলে জানান স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফকিরহাট বাজারের বিএফডিসি ঘাট, আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ টন জাটকা ইলিশ ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করছেন।

শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, তালতলীর ফকিরহাট, আশারচর, নিশানবাড়িয়া, নিন্দ্রা সকিনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে জেলেদের শিকার করা জাটকা ইলিশ আড়তদার (দাদন) ব্যবসায়ী পরিবহন করছে।

স্থানীয় ছত্তার ফকির ও ইলিয়াস বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরা জাটকা ইলিশ শিকারে জেলেদের বাধ্য করছেন। জেলেরা তাই ইলিশ শিকার করছে।

তালতলী উপজেলার ফকিরহাটের জুয়েল ও শাহীনসহ কয়েকজন জেলে বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি, তাই তাদের টাকা পরিশোধ করতেই জাটকা ইলিশ শিকার করছি। তারা আরও বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করছেন।

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মজিবর ফরাজী বলেন, জেলেরা নিজেরা নিজেরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ মাছ শিকার করছে। এখানে আড়ত ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

তালতলী নিদ্রা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা সাগর-সংলগ্নৎ নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কিন্তু কতটা জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নে জবাব দিতে পারেননি তিনি।

তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন অনুপস্থিত ছিলাম, ফলে সাগর ও নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে পারিনি। তাই জেলেরা নদীতে অবৈধ ফাঁসের জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ শিকার করেছে।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার তন্ময় কুমার দাশ বলেন, বরাদ্দ না থাকায় পায়রা নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনার করতে পারছি না। এই ফাঁকে জেলেরা কিছু জাটকা ইলিশ শিকার করছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেবক মণ্ডল বলেন, কোনো মতেই জাটকা ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিপণন করতে পারবে না। এর সাথে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য সনদ ছাড়াই পশু জবাই, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অ্যানথ্রাক্স ভাইরাস আতঙ্কে কসাই ও ক্রেতারা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই যত্রতত্র নিজেদের ইচ্ছেমতো জবাই করা হচ্ছে গরু ও ছাগল। এ বিষয়ে কোনো প্রকার কার্যক্রম ও নেই উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে কসাই ও ক্রেতারা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, এ উপজেলার সব চেয়ে বড় পশুর হাট পিংনা ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ পশুর হাট। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পশু আসে এই হাটে। অনেক অসাধু কসাই (মাংস বিক্রেতা) বেশি লাভের আশায় অসুস্থ গরুগুলো কম দামে কিনে বিভিন্ন স্থানে জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

ইতোমধ্যে গবাদিপশুর মাধ্যমে সংক্রমিত মারাত্মক রোগ অ্যানথ্রাক্স পশুর পাশাপাশি মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্রবিহীন অসাধু কসাই যেন কোনো অসুস্থ পশু জবাই করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মাংস ক্রেতা মনি মিয়া, মেহেদী হাসান বাধন, আমজাদ হোসেনসহ একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতের আঁধারে বা খুব ভোরে এসব গরু-ছাগল জবাই করা হয়। অন্য জায়গায় জবাই করে ভ্যানের মাধ্যমে মাংস বাজারে আনা হয়। কেমন গরু-ছাগল জবাই হচ্ছে, সেটা অসুস্থ নাকি সুস্থ ছিল সেটাও আমাদের জানার বা দেখার সুযোগ নেই। জবাই করাটাও কী ইসলামিকভাবে হুজুর দিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত জায়গা বা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে হচ্ছে কিনা। সেটাও জানি না। অনেকে আবার মাংসের সাথে ফ্রিজের মাংস মিশিয়ে বিক্রি করেন। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কসাইরা যেন অধিক লাভের আশায় অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২৫ জন কসাইকে নিয়ে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। তবে সমস্যা হলো পৌরএলাকা বা ইউনিয়নগুলোতে স্বীকৃতিকৃত বা অনুমোদিত কোনো কসাইখানা নেই। এই সুযোগে বিভিন্ন বাজার বা মোড়গুলোতে গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি হচ্ছে।


রূপপুর পারমাণবিকে রেডিয়েশন এরিয়ায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা (ঈশ্বরদী) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) এলাকায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ কৌশল আয়ত্তে আনতে ফায়ার ফাইটারদের জন্য ১৪ দিনব্যাপী একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানান ট্রেনিং ডিভিশনের উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান। গত ১০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন-সাইট ফায়ার ফাইটারদের জন্য রেডিও–রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, বিস্ফোরক ও অগ্নি-বিপজ্জনক এলাকায় অগ্নিনির্বাপন’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনব্যাপী মোট ৮০ ঘণ্টার গভীরতাপূর্ণ কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ কৌশল, নিরাপত্তা নীতি, বিকিরণমাত্রা পর্যবেক্ষণ, ডোজিমিটার ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

প্রশিক্ষণের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং উপপ্রধান মো. মনিরুজ্জামান। কোর্স সমন্বয়ে সহায়তা করেন ফায়ার সেফটি বিভাগের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান মনিরুজ্জামান জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে মোট ২৩ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১ জন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ৩ জন লিডার, ১৫ জন ফায়ার ফাইটার এবং ৪ জন ড্রাইভার (ফায়ার ফাইটার)। সবাই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২ জন ফায়ার ফাইটারের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিকিরণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।


তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার উপজেলার কেন্দ্রীয় চত্বরে ‘সচেতন তাহিরপুরবাসী’ ও ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলনের’ যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মোছায়েল আহমদ। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন ঐক্যবদ্ধ তাহিরপুরের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান এবং হাওর রক্ষা আন্দোলনের তাহিরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক নাসরুম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, সুজনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ, সচেতন তাহিরপুরবাসীর আহ্বায়ক সুহেল আলম, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল আলিম ইমতিয়াজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল হাসান রাসেল, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাজন আহমদ আসাদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

তাহিরপুর উপজেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাওরপাড়ে অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হলে তারা দক্ষ হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারত। আমরা কোনোভাবেই চাই না এই কেন্দ্রটি তাহিরপুর থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, আমাদের হাওরাঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। এখানে ভালো কোনো শিক্ষা কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ তাহিরপুরে নির্ধারিত কেন্দ্রটি অজানা কারণে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাহিরপুরেই টিটিসি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) আওতায় এই ৫০টি টিটিসি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে তোলা এবং বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য ছিল। তাহিরপুরে এই কেন্দ্র স্থাপন হলে হাওরাঞ্চলের হাজারও তরুণ-তরুণী উপকৃত হতো।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুনর্বহাল এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।


ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ দফা দাবিতে চিনিকল শ্রমিকদের কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

চার দফা দাবিতে বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও চিনিকলের জামতলাতে শ্রমিকদের সাথে নিয়ে গেট মিটিং শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস।

চার দফা দাবি উল্লেখ করে এই শ্রমিক নেতা বলেন, মৌসুমি শ্রমিক কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ ও কানামনা শ্রমিক কর্মচারীদের স্ব স্ব পদে নিয়োগ দিতে হবে। শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যূনতম ৭০০ টাকা হাজিরা দিতে হবে। মজুরি কমিশন শ্রমিকদের ১৫% বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। শুক্রবার ছুটির দিন, কাজ করলে ৮ ঘণ্টার ওটি দিতে হবে।

আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আন্দোলনের প্রথম দিনে গেট মিটিং ও সংবাদ সম্মেলন শেষে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদর থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে দাবিনামা প্রদান। এর পরের কর্মদিবসগুলোতে প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল ও ঘণ্টা অনুসারে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন এই শ্রমিক নেতা। এছাড়া গেট মিটিং এ বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য রুহুল আমিন, ঠাকুরগাঁও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন খান রতন প্রমুখ।


মাগুরায় চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর আঙুল কর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী গৃহবধূ রিমা খাতুনের ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলেছে শিকদার, ফারুক শিকদার, মিঠুন শিকদার ও হবিবর সিকদার নামের কয়েক দুর্বৃত্ত।

রিমা খাতুন মাগুরা সদর উপজেলার রাওতাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আরিফ হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ওই গৃহবধূর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। রিমা খাতুন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার সকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রিমা খাতুনের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে রিমা খাতুনের ডান হাতের মধ্যমা আঙুলের মাথা কেটে পড়ে যায়। এছাড়া শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও জখমের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় এলাকাবাসীরা তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুই সন্তানের জননী রিমা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ির উপর ওদের লোভ ছিল, প্রায় বলত বাড়ি ছেড়ে দিতে। আমারা বাড়ি না ছাড়লে আবার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় হামলা করে বলে জানান ওই গৃহবধূ।

এ নিয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। তবে রিমা খাতুনের পক্ষ থেকে কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। তারা যদি মামলা করতে চায় অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।


রেল খাতে ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে: ফাওজুল কবির খান

সড়কের চাপ কমাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ২০ শতাংশ রেল ও নৌপথে নিতে হবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো 

রেল ও সড়ক খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপচয় আর অযৌক্তিক প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, রেল খাতে ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক পদ সৃষ্টি করে দুর্নীতির পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ বা কোচ নেই—কারণ এসব জায়গায় দুর্নীতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তার মতে, শুধু সড়ক ৮ লেন থেকে ১০ লেন করলেই যানজট কমবে- এ ধারণা ভুল। সড়কের ওপর চাপ কমাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের অন্তত ২০ শতাংশ রেল ও নৌপথে নিতে হবে।

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে সড়ক ভবনে সড়ক বিভাগ ও রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, বিভিন্ন সরকার বড় বড় রেললাইন নির্মাণ করেছে, কিন্তু সেগুলো কাজে আসেনি। সারাদিনে একটি ট্রেন চলে, আর যাত্রী হয় কেবল ১৫–২০ জন। শুধু সড়ক নয়, রেলপথ ও নদীপথকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে মাল্টিমডেল পরিবহনব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজন রয়েছে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ব্যক্তিগত পছন্দ–অপছন্দ বা রাজনৈতিক নির্দেশনায় আর কোনো সড়ক হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ইটনা–মিঠামইন সড়কের কথা বলেন। ১০ হাজার কোটি টাকার এই সড়ক পরিবেশ, কৃষি ও মৎস্য সম্পদে ক্ষতি করেছে, কিন্তু গাড়ি চলে অতি সামান্য। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে এ ধরনের ফরমায়েশি সড়ক আর করা যাবে না।

সন্দ্বীপে তার নিজ এলাকায় রাস্তা করার দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ‘নানার বাড়ি পিঠা খেতে যাওয়ার জন্য রাস্তা হবে না’ এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেকোনো প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যুক্তি থাকতে হবে।

পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বড় প্রকল্প নিয়ে আশা তৈরি হলেও প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। মাতারবাড়িতে নেওয়া সড়ক প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ৪৭৬ কোটি টাকা—যা দেশের জন্য অস্বাভাবিকভাবে ব্যয়বহুল।

সীমান্ত সড়ক পরিদর্শনের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত। একই অর্থ দিয়ে হাসপাতাল বা রাস্তা কোনটি বেশি প্রয়োজন, তা বিবেচনা করতে হবে।

নতুন কালুরঘাট সেতুর কাজ চলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর গতিপথ দ্রুত বদলায়, তাই পরিকল্পনা নিতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অতীতে নিচ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে না পারায় অনেক সেতু পুনরায় ঠিক করতে হয়েছে। কালুরঘাট সেতু নদী শাসনের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৩৭৫ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছি। তাই এক-দুই হাজার কোটি টাকাকে ছোট করে দেখা যাবে না।’ জমির বহুমুখী ব্যবহার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি পাওয়া এখন সহজ নয়; তাই সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী, হিসাব–নিকাশ করে।

সভায় তিনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমানো এবং সময়মতো কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন।


ঢাকায় ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভূমিকম্প

*ভবন নির্মাণে অনিয়ম, অত্যধিক জনসংখ্যা *দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা *ধসে পড়তে পারে ৪০% ভবন 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ছয় দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকার ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা আছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এতে প্রশ্ন উঠছে, ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা নেই?

ফলে আবার ঢাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিধিমালা অমান্য করে তৈরি বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবনের ভিড়ে নিরাপদ জায়গা কোথাও আছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ফল্ট লাইনের অবস্থান দুর্যোগ মোকাবিলায় অনুকূলে থাকলেও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং অত্যধিক জনসংখ্যা শহরটিকে এক জটিল সমীকরণের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

কোন এলাকা কতটুকু নিরাপদ তা বুঝতে হলে দুইটি দিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এক. শহরের ভূতাত্ত্বিক গঠন। দুই. শহরের অবকাঠামো।

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই। বেশিরভাগ অংশ, বিশেষ করে উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটি। যেটি বেশ শক্ত। কিন্তু মোঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ পিরিয়ড, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উত্তর দিকে এবং বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে শহর খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। তখন এই লাল মাটি ‘অকুপাইড’ হয়ে যায়। এরপর শহর বাড়তে শুরু করে পূর্ব-পশ্চিমে। সেখানে নরম পলিমাটি এবং জলাশয় ছিল যা ভরাট করা হয়েছে।

আখতার জানান, শুধু যদি ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করা হয়, তাহলে মধুপুরের লাল মাটির একই গড়নের যেসব এলাকা রয়েছে যেমন রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও ইত্যাদি এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কিন্তু শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর ঢাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্ভর করছে না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলছেন, ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি নয়- এটা বলা মুশকিল। যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত।

লাল মাটির এলাকায় ভবন, তাও কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

শক্ত মাটির এলাকাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এর প্রথম কারণ, সেইসব এলাকায় বহু পুরোনো ভবন রয়েছে যেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। পর্যবেক্ষণের অভাবে সেগুলোও এখন অনিরাপদ।

আরো একটি কারণ উল্লেখ করে মি. হুমায়ুন বলেন, সেসব এলাকায় এমন ভবন আছে যেগুলোর অনুমোদন ছিল হয়তো দুই বা তিন তলার জন্য, কিন্তু পরে সেগুলো বহুতলে রূপান্তরিত হয়েছে। ফাউন্ডেশন দুই তলার, কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে সাত তলা। এগুলো অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নতুন যেসব ভবন তৈরি হচ্ছে তাতে করা হচ্ছে অনিয়ম, ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের কাঁচামাল। তাতে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে তৈরিই হচ্ছে না।

ঢাকার ৯০ শতাংশ ভবন বিল্ডিং কোডের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বলে রাজউকের পরিসংখ্যানের কথা সম্প্রতি উল্লেখ করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তবে গত ২১ নভেম্বর পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পের পর রাজউক জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত কিছুদিনে কয়েক দফায় ভূমিকম্প হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে জরিপ চালিয়ে ঢাকায় ৩০০টি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।

ভরাট করা জায়গায় ভবন মানে কি অনিরাপদ: ঢাকার বিভিন্ন দিকে ডোবা ও জলাশয় ভরাট করে কিছু এলাকা গড়ে উঠেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, আফতাবনগর এরকম প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। মধুপুরের লাল মাটির মতো প্রাকৃতিকভাবে শক্ত মাটি নেই এখানে। তাই এ ধরনের এলকায় ভবন তৈরির আগে সেখানকার মাটি বহুতল ভবন ধরে রাখার মতো সক্ষমতায় প্রস্তুত করে নিতে হবে, বলছেন আনসারী।

মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই শহরটি চারদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা। মাঝে গামলার মতো শহরটি ৪০-৫০ মিটার মাটি দিয়ে ভরাট করা এবং সেখানেই গড়ে উঠেছিল নগর।

১৯৮৫ সালে সেখানে আট দশমিক এক মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় এবং ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে মারা যায় ১৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ।

গবেষণায় উঠে আসে, সেখানকার মাটি ভরাট করার সময় মানা হয়নি ‘গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট টেকনিক’।


নির্বাচন বানচালে ভারত থেকে আসছে অস্ত্র!

*লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা *বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে আনা হচ্ছে ছোট ছোট অস্ত্র *সীমান্তের ১৮ পয়েন্ট দিয়ে অস্ত্র আসার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা *বেশি আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লা ও কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে ভারত থেকে আনা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। দেশের বিভিন্ন সীমান্তের অন্তত ১৮টি পয়েন্ট দিয়ে আনা হচ্ছে এসব আগ্নেয়াস্ত্র। ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় রাউণ্ড গুলি জব্দ করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।
বিজিবি জানিয়েছে, কড়া নজরদারির পরও সীমান্তের ফাঁক গলে দেশে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লা, কক্সবাজার সীমান্ত বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি অঞ্চল আর সাগরপথ দিয়েও অস্ত্র নিয়ে আসা হচ্ছে। এসব সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ছোট ছোট অস্ত্র আনা হচ্ছে। তবে এসব অস্ত্র যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবিকে সীমান্তে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে বিজিবি সদর দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকেও সব সীমান্তের কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গুলি করে হত্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিটি ঘটনায় ব্যববহৃত হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে গত ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে সন্ত্রাসী তারেক সাইদ মামুনকে হত্যা এবং চট্টগ্রামে আরেক সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সন্ত্রাসীরা এত আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় পাচ্ছে: পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, সীমান্তের অন্তত ১৮টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এছাড়া লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় এমন তিনটি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এই তিনটি অস্ত্র উদ্ধারে সন্ধানদাতাকে পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। অস্ত্র তিনটির নাম লাইট মেশিনগান (এলএমজি)। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনী ব্যবহার করে। লুটের পর এই অস্ত্র তিনটি কার কাছে রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তিত গোয়েন্দারা।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় সারা দেশের থানা ও কারাগার থেকে পাঁচ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে চার হাজার ৪০৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মারাত্মক অস্ত্রসহ এক হাজার ৩৪২টি অস্ত্র এখনো উদ্ধারের বাইরে। সাধারণ অস্ত্র নিয়ে তেমন চিন্তা না থাকলেও মারাত্মক অস্ত্রগুলো নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা।
গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই গণভবন, সংসদ ভবনসহ চারটি স্থাপনায় নিরাপত্তায় থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ৩২টি অস্ত্র লুট হয়। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এসএমজি, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল ও এলএমজি। এসব অস্ত্র সাধারণ অস্ত্র নয়। এগুলো প্রশিক্ষিত লোক ছাড়া কেউ চালাতে পারে না। এরপরও এসব অস্ত্র ফেরত না দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই অস্ত্রগুলো কাদের কাছে রয়েছে, চিহ্নিত করে উদ্ধার করতে গিয়ে কূল-কিনারা পাচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
এসব অস্ত্র প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারও হচ্ছে। তবে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনো কোথাও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বিজিবি ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে আমরা সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী সীমান্তে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।
গোলাম কিবরিয়া আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সীমান্তে রাতদিন আমরা দায়িত্ব পালন করছি। রাতে নাইটভিশন গগলস ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইনোকুলার দিয়েও সীমান্তে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, শুধু গত অক্টোবর মাসেই বিজিবি চারটি পিস্তল, একটি রিভলভার, তিনটি মর্টারশেল, ছয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড, তিনটি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক, দুটি ডেটোনেটর এবং সাতটি অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার মতে, মোট চোরাচালানের ৪০ শতাংশ ধরা সম্ভব হয়, ৬০ শতাংশ ধরা সম্ভব হয় না। ফলে উদ্ধারের চিত্র থেকে কী পরিমাণ অস্ত্র দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়।
বিজিবির কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ভারত থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মাস ধরে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদের চোরাচালানরোধে সীমান্তে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছে বিজিবি। তবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবের অভিযানে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রেলওয়ে স্টেশনে আটটি বিদেশি পিস্তল ও বিস্ফোরক জব্দ করে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়। গত ৩০ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামের রাউজানে অভিযান চালিয়ে এক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে ১০টি বন্দুক, একটি এয়ারগান, ১৫টি কিরিচ, চারটি রামদা, ১১টি কার্তুজ, চারটি কার্তুজের খোসা, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, আটটি লাঠি ও ১৮টি আতশবাজি, মাদকসহ দুজনকে আটক করে র‌্যাব। একই দিন রাতে ঢাকার আশুলিয়ার গাজীরচটের মাটির মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ৩৩ রাউন্ড শটগান ও পিস্তলের কার্তুজ, চারটি দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সম্প্রতি র‌্যাব সদস্যরা নরসিংদীর রায়পুরায় অভিযান চালিয়ে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেন।


মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ফেসবুক পোস্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’

তারেক রহমান আরও লেখেন ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাঁদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এভারকেয়ার হাসপাতালে গত রোববার থেকে ভর্তি আছেন খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধায়নে তাঁর চিকিসা চলছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমি রাত ২টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তাররা ম্যাডামকে নিবিড় পর্যবেক্ষনে চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

শুক্রবার মহাসচিব জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সংকটময় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সূত্র: বাসস


বাংলাদেশের নাম বাংলাদেশ থাকলে জামায়াত কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না: ফজলুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশই থাকে, তবে জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

শুক্রবার বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তৃতায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে অপমান-অবমাননা করা হয়েছে। “কালকেও আমাকে প্রচণ্ড বকা দেওয়া হয়েছে। কেন এসব বলা হচ্ছে, আমি বুঝি না,” যোগ করেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশ থাকে, তবে জামায়াত কোনোদিন ক্ষমতায় যেতে পারবে না। কারণ আল্লাহ মোনাফেকদের ফেভার করেন না। এই কথাগুলো বললেই তারা আমার বক্তব্য কাটছাঁট করে দেখায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত। তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকছে। যারা এ ধরনের কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি।”

তিনি বলেন, জামায়াত ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। “তারা বলে ৪৭ সালে নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, ২৪ সালে শেষ যুদ্ধটা হয়েছে আর ৭১ সালে শুধু একটা গণ্ডগোল হয়েছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “তিন দিন অপেক্ষা করেছি। দেখি কেউ প্রতিবাদ করে না। দলও চুপ। তাই জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বলেছি, রাজাকার-আলবদরের বংশধরেরা, এখনো বেঁচে আছি রে। মুক্তিযুদ্ধ আছে, থাকবে। মুক্তিযুদ্ধকে শেষ করতে চাইলে আরেকটা রাজনৈতিক লড়াই হবে।”

ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য আমি সম্মান বয়ে আনতে পারি নাই, আপনাদের জন্য একটা টাইটেল এনেছি৷ সেই টাইটেলটা হলো, আমি হইলাম ফজা পাগলা। যে হারামজাদারা আমাকে এই টাইটেলটা দিয়েছে তাদের নামটা হলো, স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। তাদেরকে যদি ভোট দেন, তাহলে আপনারা আমার মৃতদেহই পাবেন। তাদেরকে কি ভোট দেবেন? দেবেন?’

নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাপ-দাদার নাম নাই এমন লোকজন আমার নাম বিকৃত করে।

ফজলুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে কয়েকটি অস্ত্র চুরি করেছে, এসব দিয়ে ফজলু রহমানকে হত্যা করলেও মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবে না।’ যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমি সেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আমি মুক্তিযুদ্ধ বেইচ্ছা ভাত খাইনা'।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।


বরগুনায় সাত শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিএনপিতে যোগদান

আপডেটেড ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:০৪
বরগুনা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ৫৪ বছরের বঞ্চনা ঘুচে যাবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এ নীতি অর্থাৎ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাদের জান-মালের নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী পৌরসভার জেলে পাড়ায় স্থানীয় বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। বরগুনা-০২ আসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংষ্কারের ৩১ দফাকে সমর্থন জানিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সাত শতাধিক হিন্দু ধর্মাবালম্বী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। যোগদান অনুষ্ঠানে তারা এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রত্যায় ব্যক্ত করেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।

বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র মোঃ শাহজাহান কবির, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শফিকুজ্জামান মাহফুজ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল ইসলাম জুয়েল, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফয়জুল মালেক সজীব, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লাহ সানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


banner close