যশোরে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে (১৯) প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ মিলেছে। প্রেমিকসহ চারজনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের কোতোয়ালি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেছেন ওই তরুণী। এ মামলায় শুক্রবার সকালে প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন যশোর সদরের জগহাটি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও তরুণীর প্রেমিক মোহাম্মদ সাকিব (২০), একই গ্রামের সাজুল ইসলামের ছেলে বাচ্চু (৪০) ও কমলাপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মহাব্বত (১৯)। তবে পলাতক রয়েছেন অপর আসামি জগহাটি গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে আজিমুল (২৭)।
যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা ওই তরুণী মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন, মোহাম্মদ সাকিবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই যুবক তাকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে আনেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর একটি ক্ষেতে নিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রেমিকসহ চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে যশোর কোতয়ালী থানায় নেয়া হয়।
যশোর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ সাকিব নামে এক যুবকের ফেসবুকে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েটি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। প্রেমিক ও তার বন্ধুরা মিলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মেয়েটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। মামলার এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে আগামী রবিবার (২৯ মার্চ) একটি উচ্চপর্যায়ের সভা আহ্বান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। সরকার মূলত সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
আগামী রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে আরও উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। মূলত গত ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যেসব জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করাই এই সভার মূল উদ্দেশ্য।
সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করছে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় ঢাকার যানজট নিরসন এবং দেশের সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলার অভাব দূর করতে এই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে অভিযানে দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ভারত থেকে পাচারের সময় ৪ লিটার অকটেন জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল দুপুরে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৫৩/এমপি সংলগ্ন কান্দিরপাড়া এলাকায় একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুই বাংলাদেশি চোরাকারবারি- মিঠুন মন্ডল (৩৫) ও শহীদ হোসেন (২৫)-কে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২০ বোতল মদ, ৪০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
এছাড়া, রাত ১টার দিকে প্রাগপুর বিওপির আওতাধীন গরুরা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৪ কেজি ভারতীয় কারেন্ট জাল ও ৪ লিটার অকটেন তেল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার ৫২০ টাকা।
পরবর্তীতে ভোর ৪টার দিকে প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া বিওপির পূর্ব বিলগাথুয়া মাঠে আরেকটি অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল ফেনসিডিল সিরাপ ও ৩৬০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকার বেশি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানায়, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। দেশের নিরাপত্তা ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পাম্পে মিলছে না অকটেন, পেট্রোল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মোটরসাইকেল চালকরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে শহরের ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন ও মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে তেল সরবরাহের মেশিনে টাঙানো রয়েছে ‘অকটেন, পেট্রোল নেই তাই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।’ এসময় মোটরসাইকেল চালকেরা তেল নিতে এসে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক সবুজ আহমেদ, ভৈরবের দুটি তেলের পাম্পে তেল আনতে গিয়ে দেখি তাদের নাকি অকটেন, পেট্রোল নাই সেজন্যই তারা কোন মোটরসাইকেল চালকদের তেল দিচ্ছে না। তারা বলছে দুইদিন পর থেকে নাকি পাম্পে তেল পাওয়া যাবে না।
আরেক মোটরসাইকেল চালক মোবারক হোসেন বলেন, পাম্পে নাকি অকটেন, পেট্রোল নাই তাদের কাছে নাকি ডিজেল রয়েছে। এখন কি তাহলে আমরা ডিজেল আর কেরোসিন দিয়ে মোটরসাইকেল চালাব।
অপু মিয়া বলেন, দুদিন ধরে যদি অকটেন, পেট্রোল না পায় তাহলে তো আমাদের বাইক ঘরে রেখে পায়ে হেটে চলাচল করতে হবে।
তেল ছাড়া তো আর বাইক চালানো যাবে না৷ সরকার যেন দ্রুত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করে সেই দাবি জানান তিনি।
ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারি জালাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে আমাদের পাম্পে অকটেন, পেট্রোল শেষ হয়েছে। সেজন্যই আমরা গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করতে পারছি না। আশা করছি রোববার থেকে ডিপো থেকে অকটেন, পেট্রোল সরবারাহ পাবো তারপর গ্রাহকদের তেল দিতে পারব।
মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জিসান আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত পর্যন্ত আমাদের পাম্প থেকে যে পরিমাণ অকটেন, পেট্রোল ছিল তা গ্রাহকদের দিয়েছি। আজ সকালে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তেল দিতে পারছি না। আমরা নারায়ণগঞ্জের ডিপোতে গত বৃহস্পতিবারেই অকটেন, পেট্রোলের জন্য পে-অর্ডার জমা দিয়েছি।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত পর্যন্ত পাম্পগুলি হতে গ্রাহকদের অকটেন, পেট্রোল দেয়া হয়েছে। আজকে তাদের কাছে অকটেন, পেট্রোল সংকট রয়েছে। তবে সেইসব পাম্পগুলিতে নিয়মিত নজরদারি করছেন বলে তিনি জানান।
মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় আমতলীতে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে আহত ব্যবসায়ী সোহাগ হাওলাদার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কুকুয়া-গাজীপুর সড়কের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। এতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেয়।
জানা গেছে, উপজেলার কুকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ মৃধার দুই ছেলে অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা স্থানীয়দের ওপর নির্যাতন চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ মাদক বিক্রিতে বাধা দেন মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ডের বিকাশ ব্যবসায়ী সোহাগ হাওলাদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার (১৮ মার্চের পরবর্তী সোমবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহাগ তার দোকান বন্ধ করে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে কুকুয়া গ্রামের সরদার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা অমিত ও শিমুলসহ তাদের সহযোগীরা তার মুখমণ্ডল ও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় এবং তার সঙ্গে থাকা সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহতের স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, আমার স্বামী মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো তার জ্ঞান পুরোপুরি ফেরেনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘লাউয়াছড়া ২৬ কিলোমিটার ম্যারাথন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬ টায় উপজেলার সবুজ প্রকৃতি আর পাহাড় ঘেরা সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত দৌড়বিদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের মনোরম পরিবেশ দিয়ে দৌড়বিদরা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যপানে এগিয়ে যান। কমলগঞ্জ রানার্স-এর আয়োজনে এবং রাজকান্দি রানার্স-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ম্যারাথনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পেশাদার ও অপেশাদার অসংখ্য দৌড়বিদ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগরি ছিল ২৬ কিলোমিটার (মূল ইভেন্ট), ১০ কিলোমিটার ও ৫ কিলোমিটার।
পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করেন কমলগঞ্জ রানার্স গ্রুপের সমন্বয়ক সৈয়দ জামাল হোসেন, এবাদুর রহমান ও ফয়সল আহমেদ। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন রাজকান্দি রানার্স গ্রুপের সমন্বয়ক সোলেমান হাসান, মো. জাকির হোসেন ও মঞ্জুর হাসান।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতেই এই ম্যারাথনের আয়োজন। স্বাধীনতা দিবসের ভোরে এমন সুস্থ শরীরচর্চামূলক আয়োজন স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিযোগিতা শেষে নির্ধারিত সময়ে দৌড় সম্পন্নকারী (ফিনিসার) বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এসময় আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে দৌড়বিদদের উৎসাহিত করেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলার আত্রাই নদের ওপর কালনা-বিষ্ণুপুর সেতু নির্মাণকাজ প্রায় আট বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ এখন পর্যন্ত সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। বাকি ৩৫ শতাংশ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা জানেন না কেউ। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় প্রতিদিন নদী পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্র জানায়, নদপাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করতে ও ভোগান্তি কমাতে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২৬২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ পায় আইসিএল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটি নির্মাণের জন্য চুক্তিমূল্য ধরা হয় ২৯ কোটি টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে। কিন্তু মেয়াদ শেষের প্রায় সাড়ে ৩ বছর পরও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ধীরগতিতে চলছিল। এর মধ্যে সেতুটির ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে লাপাত্তা। দীর্ঘ সময়েও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো শ্রমিককে সেতু নির্মাণের কাজ করতে দেখা যায়নি। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কিছু নির্মাণসামগ্রী। সেতু নির্মাণের জন্য সাতটি স্প্যান করার কথা। সেখানে নদের মাঝে ফাঁকা রেখে দুই পাশে করা হয়েছে পাঁচটি স্প্যান। সেতুর ওপরের ছাদের কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করায় এখনো কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন হলো কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছে। এভাবে কাজ করলে কবে শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারবেন না।’
সালেক মিয়া বলেন, ‘আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। গ্রামের অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে অন্তত ১২-১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি হলে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে পারব।’
স্কুলশিক্ষার্থী আঁখি আক্তার বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ঝুঁকি নিয়ে নদ পারাপার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আবার অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। সেতুটি দ্রুত হলে আমরা সঠিক সময়ে ক্লাসে যেতে পারতাম।’
মহিষবাথান এলাকার কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর আগে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু শেষ হওয়ার কোনো নাম নেই। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ হলে আশপাশের কয়েক গ্রামের উৎপাদিত ফসল সহজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার সিহাব হোসেন বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কাজের মেয়াদ শেষ হওযায় পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈকত দাস বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজে গতি আসেনি। নির্ধারিত মেয়াদের অনেক সময় পার হয়ে গেছে। প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।’
সাধারণ মানুষের দুর্গতি লাঘবে রাষ্ট্র প্রতিদিন জ্বালানি তেলের পেছনে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে যশোরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদফতর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনও পরিকল্পনা করেনি। জনগণের দুর্ভোগ কোনও কারণে যাতে না বাড়ে; সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএনপি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।”
দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পূর্ণ সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকা হয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। কিন্তু আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। বর্তমান সরকার এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও বর্তমান সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারি, সেটির কাজ শুরু করেছি। আমরা মনে করছি, এভাবেই কম বেশি সংকটের মধ্য পরিচালিত হবে।”
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নাগরিকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে এই কর্মসূচি শুরু হলেও বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত হকদাররা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য হলো, “আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত লোকেরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই যাদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তারাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়।”
সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মগুরুদের সম্মানি চালুর পাশাপাশি আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। অনুষ্ঠানে ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী বাজারে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে ৩৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টা ৫০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয় ৩৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্টান পুড়ে যাওয়ায় এতে করে অন্তত ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কসমেটিকস, কাপর, জুতা, সেলুন, ফার্মেসী ও স্বর্ণের দোকার রয়েছে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। আগুন লাগার দেড় ঘন্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সার্বিক সহযোগী করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাজারে পানির উৎসের সংকটের কারনে অগ্নিনির্বাপণের কাজ ব্যাঘাত ঘটে। নতুন বোয়ালখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর জানান, "আগুনে আমাদের ৩৫ টি দোকান পুড়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীর ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।"
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া জানান, " রাত ৩ টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা যোগ দেই। দেড় ঘন্টার প্রচেষ্টায় ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার শিবপুর গ্রামে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমির হামজা মুন্সীকে (২৩) গুলি করে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র যুবক। নিহত আমির হামজা পড়াশোনার পাশাপাশি খুলনার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের মতে, বিকাল ৪টার দিকে হেলমেট পরিহিত ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা নিজেদের পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে পাশের খালের পাড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ঘাতকরা তার মাথায় গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সী এবং চাচা বাচ্চু মুন্সী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা ধারণা করছেন, খুলনায় কর্মরত থাকাকালীন কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পরপরই চিতলমারী থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য যে, বাগেরহাটের এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই প্রথম কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ মোল্লাহাটে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তারও সাত দিন আগে অপর এক ব্যবসায়ী কর্মচারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।
একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছে। চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুতগামী একটি স্টারলাইন পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক জামাল হোসেন প্রাণ হারান। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম, মেয়ে লাবিবা আক্তার এবং শিশু পুত্র সাইফের মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানিয়েছেন, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি থানায় আনা হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের এই সন্ধ্যায় এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মহাসড়কে দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণে তদারকি আরও জোরদার করা হবে।
রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের জুরাছড়ি-রাঙামাটি নৌপথে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের তলা ছিদ্র হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার পাগুজ্যেছুরি এলাকায় পৌঁছালে লঞ্চটি পানির নিচে থাকা একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়, যার ফলে দ্রুত লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এই আকস্মিক ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় লঞ্চটি দ্রুত তীরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় এবং সেখানে সকল যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অন্য একটি নৌযানের ব্যবস্থা করে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চটিকেও রাঙামাটি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে নিশ্চিত করেছেন, পানির নিচে লুকিয়ে থাকা গাছের সাথে সংঘর্ষই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সৌভাগ্যবশত, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেফালী সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সিনিয়র শিক্ষক কাজি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিক্ষার্থী আব্দুল মহসিন আহনাফ এবং গীতা পাঠ করেন মাধব রায়। অনুষ্ঠান শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির।
সিনিয়র শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ও ফৌজিয়া আক্তার-এর যৌথ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক কাজল মালাকার, বিপ্লব নন্দী, মাহমুদুর রহমান, সুপ্রভা সরকার, সুলতানা রোকেয়া পারভীন, মো: আশফাকুর রহমান, মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, মো: এমদাদুল ইসলাম, অসীম কুমার সিংহ, মহিম লাল নাথ, দিলরুবা বেগম, সহকারী শিক্ষক রফিকুন্নার, তানজিমা জামান, নুসরাত জাহান কান্তা, সৌরভ দাস, দিবা শাখার সিনিয়র শিক্ষক আবুল খায়ের, মো: শওকত হোসেন, মীর্জা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, আবু নছর মোহাম্মদ সুফিয়ান, আক্তার হোসেন, মুক্তা তালুকদার, মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন, বাদন চন্দ্র বর্মণ, সহকারী শিক্ষক কুমারী শিল্পী রানী কর, বিভাস রঞ্জন দাস, মোহাম্মদ; সাইদুল হক, জাহিদুল হক প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই চিত্রাঙ্কন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে একগুচ্ছ যুগোপযোগী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদ-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঈদের আগেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এখন থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে।
নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে খাল খনন বিষয়ে কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ইতোমধ্যে নগরের ছয়টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পাবলিক টয়লেট স্থাপন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে সচেতনতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ১০ জন নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।
অতীত কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগেও তিনি নগরবাসীর সেবায় কাজ করেছেন এবং চানপুর খাল খননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে ৪৪৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করেছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন।
মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে মানুষ মশারি ছাড়াই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে কুমিল্লা নগরের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”