বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
১২ চৈত্র ১৪৩২

গাজীপুরে কেন হারল নৌকা

বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড়। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৩ ২২:১৫
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ২২:০৮

নানা হিসেব-নিকেশ ও জল্পনা-কল্পনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জিতে বিজয়ের হাসি হেসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। এই পদে হেভিওয়েট প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে নগর ভবনের চাবি পেলেন তিনি। ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তি ইমেজ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই জায়েদার বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

বিপরীতে আলোচনা চলছে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। নানা বিচার-বিশ্লেষণ আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে মোটাদাগে উঠে আসছে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল, দলীয় বিভাজন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় ভূমিকার কথা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লার পরাজয়ের নেপথ্যের নানা কারণ।

অন্তঃকোন্দল ও বিভাজন
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন শুরু হয়েছে এক যুগ আগে। দীর্ঘদিনেও এর রেশ টানা যায়নি। উল্টো এক পক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত থাকতো অধিকাংশ সময়। এর রেশ পড়েছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দল থেকে বহিষ্কার হন মেয়র পদে থাকা জাহাঙ্গীর আলম। এক পর্যায়ে তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এসময় বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ছিলেন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের ওপরও খড়গ নেমে আসে। শোকজ করা হয় পদধারী দুই শতাধিক নেতাকে। পরে জাহাঙ্গীরের অনুসারী কারও আর স্থান হয়নি দলের কোথাও। দলের বহু ত্যাগী নেতা-কর্মীও রয়েছেন এমন তালিকায়। দলীয় কোন্দল আঘাত করে তৃণমূল পর্যন্ত।

এমন অবস্থায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে চলে আসে। তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকার ‘ব্যাজ’ পড়লেও গোপনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করেন। এমন অভিযোগে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও দলের তিনজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে আটজন নেতা-কর্মীকে। এছাড়া পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও পাওয়া যায়।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই দলীয় কোন্দল ও বিভাজন।

নির্বাচন চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্র পরির্দশন করেন আজমত উল্লা খান। ছবি: ফোকাস বাংলা

ব্যাজ নৌকার, ভোট ঘড়িতে
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে নৌকার কর্মীদের আধিক্য থাকলেও দিনশেষে সেখানে জয়ী হয় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ঘড়ি প্রতীক। মূলত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীই নৌকার লোক বেশে ভোট দেন জায়েদা খাতুনকে। ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ঘরছাড়া করা হয় অনেককে। তবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য জায়েদা খাতুনের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কৌশল হিসেবে গলায় নৌকার ব্যাজ ও হাতে নৌকার ভোটার স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর এই কৌশলের কাছে হেরে যান আজমত উল্লা খান।

অতি আত্মবিশ্বাস
জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারা নিশ্চিত ছিলেন চাপের মুখে জাহাঙ্গীর নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাবেন, তবে শেষ পর্যন্ত নানা চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি জাহাঙ্গীর। এছাড়া ভোটারদের ওপরও নৌকার বাইরে ভোট না দিতে হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়নন পেলেই জয় নিশ্চিত—এমন ধারণায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। যার প্রভাব পড়ে ব্যালট বাক্সে।

প্রচারণায় পরিকল্পনার অভাব
নগরের বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। মহানগরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। বিচ্ছিন্নভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালান। রাস্তা-ঘাটে দায়সারা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের ঘরে পৌঁছায়নি নৌকার বার্তা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫৭টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় তারা নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকেই বিএনপির ভোট পেতে নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছিলেন, একাই নানা পথসভায় বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতি, নগর ভবনের দুর্নীতি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ নগরে সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনায় ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ, শুধু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তার একই ধরনের বক্তব্যে নাখোশ ছিলেন নগরীর অনেক মানুষ। প্রচারণায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতেও কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি আজমত উল্লা খান।

আবেগী ভোট জায়েদার পক্ষে
নারী প্রার্থী জায়েদা খাতুন প্রচারণায় নেমে আজমত উল্লা খানের এলাকা টঙ্গীতে প্রবেশে বারবার বাধার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রচারণায় বাধা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নন্দিত বাংলা সিনেমা ‘আম্মাজান’র শিরোনাম গান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। অনেকেই মনে করেন, এই গানে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারীরা। তাই আবেগী ভোটাররা রায় দেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।

নারীদের ভোট জায়েদার ভোট বাক্সে
নগরের ভোটারদের মতে, সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার প্রায় ১২ লাখ। এর অর্ধেক ভোটারই নারী। প্রথমবারের মতো এই সিটিতে একজন বয়স্ক নারী মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং ছেলের জন্য মায়ের সংগ্রামে আকৃষ্ট হন নারী ভোটাররা। বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন জায়েদা খাতুন। এছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তেমন কোনো ব্যতিক্রম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফলে অধিকাংশ নারী ভোটার রায় দিয়েছেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।

গাজীপুর সিটির নতুন মেয়র জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা

আওয়ামীবিরোধী ও বিএনপির ভোট
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। দলীয় সরকারের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। যদিও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নেয়নি। ভোটের আগে রনির চাচা গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ভোটারদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে খোলা চিঠি দেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ভোট বাড়াতে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়েছেন এসব ভোটারকে। বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ওই দলের সমর্থক ভোটাররাও রায় দিয়েছেন নৌকার বিপক্ষে, জায়েদার ব্যালটে।

এছাড়া আওয়ামী লীগবিরোধী বিচ্ছিন্ন ভোটও পড়েছে নৌকার বিপক্ষে।

কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল অনেকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও কেন্দ্রগুলোর কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অধিকাংশই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটিতে ছিলেন। এ নিয়ে কমিটি গঠনের পরই অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র কমিটিতে রাখা হয়নি। এছাড়া কেন্দ্র কমিটির জন্য বরাদ্দ খরচের টাকারও সুষম বণ্টন হয়নি। লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার এনে না টানিয়ে ফেলে রাখারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিশ্রমী তরুণদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়করা অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এসব বিষয়ে গত ১৯ মে দৈনিক বাংলায় ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর কেন্দ্র কমিটি নিয়ে অসন্তোষ কাটাতে তোড়জোড় চলে। তবু হার এড়াতে পারেননি আজমত উল্লা খান।

যা বলছেন প্রার্থী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক
গাজীপুর সিটিতে পরাজয়ের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দলের অনেকেই প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে, গোপনে অবস্থান নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। এছাড়া বিরোধী দলের ভোটও গিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে। নানা কারণে এখানে আমাদের পরাজয় হয়েছে। তবে পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ কী, তা আমরা তদন্ত করে বের করবো।’

শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন। নিশ্চয়ই দল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’


লঞ্চের তলা ছিদ্র, বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের জুরাছড়ি-রাঙামাটি নৌপথে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের তলা ছিদ্র হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার পাগুজ্যেছুরি এলাকায় পৌঁছালে লঞ্চটি পানির নিচে থাকা একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়, যার ফলে দ্রুত লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এই আকস্মিক ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় লঞ্চটি দ্রুত তীরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় এবং সেখানে সকল যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অন্য একটি নৌযানের ব্যবস্থা করে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চটিকেও রাঙামাটি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে নিশ্চিত করেছেন, পানির নিচে লুকিয়ে থাকা গাছের সাথে সংঘর্ষই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সৌভাগ্যবশত, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।


সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেফালী সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সিনিয়র শিক্ষক কাজি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিক্ষার্থী আব্দুল মহসিন আহনাফ এবং গীতা পাঠ করেন মাধব রায়। অনুষ্ঠান শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির।

সিনিয়র শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ও ফৌজিয়া আক্তার-এর যৌথ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক কাজল মালাকার, বিপ্লব নন্দী, মাহমুদুর রহমান, সুপ্রভা সরকার, সুলতানা রোকেয়া পারভীন, মো: আশফাকুর রহমান, মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, মো: এমদাদুল ইসলাম, অসীম কুমার সিংহ, মহিম লাল নাথ, দিলরুবা বেগম, সহকারী শিক্ষক রফিকুন্নার, তানজিমা জামান, নুসরাত জাহান কান্তা, সৌরভ দাস, দিবা শাখার সিনিয়র শিক্ষক আবুল খায়ের, মো: শওকত হোসেন, মীর্জা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, আবু নছর মোহাম্মদ সুফিয়ান, আক্তার হোসেন, মুক্তা তালুকদার, মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন, বাদন চন্দ্র বর্মণ, সহকারী শিক্ষক কুমারী শিল্পী রানী কর, বিভাস রঞ্জন দাস, মোহাম্মদ; সাইদুল হক, জাহিদুল হক প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই চিত্রাঙ্কন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


যানজট নিরসনই প্রথম অগ্রাধিকার: ৬ মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস- কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিন প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে একগুচ্ছ যুগোপযোগী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদ-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, কুমিল্লা নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঈদের আগেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এখন থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে।

নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে খাল খনন বিষয়ে কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ইতোমধ্যে নগরের ছয়টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পাবলিক টয়লেট স্থাপন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে সচেতনতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ১০ জন নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।

অতীত কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগেও তিনি নগরবাসীর সেবায় কাজ করেছেন এবং চানপুর খাল খননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে ৪৪৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করেছেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন।

মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে মানুষ মশারি ছাড়াই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে কুমিল্লা নগরের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”


আমার একমাত্র সোনার ছেলেকে ছেড়ে কিভাবে থাকবো, স্বজনদের আহাজারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আমান সোনার ছেলে চলে গেলো। আমার চাঁদের মতন ছেলেকে ছেড়ে আমি কি করে থাকবো? সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে। আমার একমাত্র ভাইটাও চলে গেলো। আমার মা টাকেও হারিয়ে ফেললাম। এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে আর্তনাদ করছে দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের স্বজন ডাঃ ইসরাত জাহান রুবা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজবাড়ী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়।

একই পরিবারের নিহত তিনজনরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর ৮ নং ওয়ার্ড লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), রেহেনা আক্তারের ছোট ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) ও রেহেনা আক্তারের নাতি রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বির ও ডাঃ ইশরাত জাহান রুবার ছেলে তাজবীর (৭)। নিহত আহনাফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষার্থী ছিলো।

নিহত আহনাফ এর বড় বোন ও নিহত তাজবীরের মা ডাঃ ইশরাত জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কেমনে করে বাঁচবো তোরে ছাড়া (তাজবীর), আমি কেনো আগের দিন আমার বাচ্চাটারে নিয়ে গেলাম না, তাহলে আমার বাচ্চাটা বেঁচে যেত। আমার ছোট ভাইটাও চলে গেলো।

তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা আসতেছে এজন্য আমি বাসায় রান্না করছিলাম।

আমি কিছুই জানতাম না।সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার মা আর নেই। আমার ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।পরে জানতে পারলাম আমার ছোট ভাই ও আমার একমাত্র সন্তানও মারা গিয়েছে। সন্তানের লাশ রাতে শনাক্ত করেছিলাম, আর ছোট ভাইয়ের লাশ আজ সকালে পেয়েছি। আমার মা এর লাশ রাতেই গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেয়েছিলাম।

তিনি সন্তান ও ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যায় তখন আমার ছেলে বলছিলো মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা তুমি, সে বলল মামার কাছে ঘুমাবো। আমার ছেলের মামাও নেই....আমার ছেলেও নেই এখন। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে। আমার এত ভালো ভাই আমার, আমাদের এত সুন্দর সংসার, আমরা দুই বোন ডাক্তার।

নিহত শিশু তাজবীরের চাচা আতাউল গণি মুক্তাদির বলেন, আমার ভাতিজারা ঢাকায় মিরপুরে থাকে। ওর বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে সে সুদানে রয়েছে। আমার ভাতিজার মা একজন চিকিৎসক। আনার তাজবীর ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে শ্রেণীতে পড়ে। আমার ভাতিজা ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছিল দাদা বাড়ি ও নানা বাড়িতে ঈদ করতে। ঈদ শেষ করে গতকাল বিকেলে আমার ভাতিজা তার নানী, খালা ও মামার সাথে ঢাকায় ফিরছিলো। তাদের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে তাজবীরের খালা বেঁচে ফিরে আসলেও বাকিরা মারা গেছে। আমার ভাতিজা আমাদের বংশের প্রদীপ ছিলো। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম।


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস: কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদরে সংর্বধনা ও আলোচনা সভা

আপডেটেড ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫১
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জরে কোটালীপাড়া উপজলো প্রশাসনরে আয়োজনে বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে সংর্বধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠতি হয়ছে।

বৃহস্পতবিার (২৬ র্মাচ) দুপুর ১২টায় কোটালীপাড়া শল্পিকলা একাডমেী প্রাঙ্গনে আয়োজতি এ অনুষ্ঠানে সভাপতত্বি করনে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক।

অনুষ্ঠানরে শুরুতইে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক প্রশাসনরে অন্যান্য র্কমর্কতাদরে নিয়ে উপস্থতি বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে ফুল দয়ে উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানান।

উপজলো পল্লী উন্নয়ন অফসিার আবু তাহরে হলোলরে সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখনে কোটালীপাড়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো: রয়িাদ হোসনে, উপজলো বএিনপরি সভাপতি এস এম মহউিদ্দনি, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার দাড়য়িা, পৌর বএিনপরি সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়য়িা এবং বীর মুক্তযিোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জবদে আলী তালুকদার, আতয়িার রহমান মোল্লা, মোদাচ্ছরে হোসনে ঠাকুর, নরন্দ্রেনাথ বাড়ৈ আলাউদ্দনি তালুকদার ও শখে আব্দুল মান্নান।

আলোচনা সভায় মুক্তযিোদ্ধারা আবগেঘন কণ্ঠে তাদরে রণাঙ্গনরে স্মৃতচিারণ করনে। তারা বলনে, “১৯৭১ সালে জীবনরে ঝুঁকি নয়ি আমরা যে স্বাধীনতা ছনিয়ি এনছে, তা ছলি একটি র্মযাদার্পূণ, বষৈম্যহীন ও মানবকি রাষ্ট্র গঠনরে স্বপ্ন। আজ সইে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে নতুন প্রজন্ম—এটাই আমাদরে সবচয়ে বড় র্অজন।”

আলোচনা সভা শষে উপজলো প্রশাসনরে উদ্যোগে ৩’শ ৫১ জন মুক্তযোদ্ধাকে উপহার সামগ্রী তুলে দওেয়া হয়।


নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে পাহাড়ারদের বেঁধে রেখে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ কাচুটিয়া এলাকায় নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরীদের বেঁধে রেখে সেখান থেকে থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকার দল।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৭টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়ারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করা হয় । খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেনদ পুলিশ।

পাওয়ার গ্রিডে কর্মরত প্রকৌশলী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভাষ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মূল ফটকে শব্দ হলে পাহারাদার শফিকুল ইসলাম গেট খুলে দেন। এসময় ওত পেতে থাকা ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে থাকা চারজন পাহারাদারকেও অস্ত্রের মুখে এক জায়গায় জড়ো করে।

ডাকাত দল পাহারাদারদের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পর গ্রিড থেকে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ আর কোনো শব্দ না পেয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাহারাদার সোহাগ অনেক চেষ্টার পর তার বাবা শফিকুলের বাঁধন খুলে দিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে শফিকুল বাকিদের মুক্ত করেন।

দুষ্কৃতকারীরা তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছিল। পাহারাদাররা ঘরের পর্দার স্ট্যান্ড ব্যবহার করে কৌশলে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর তারা অন্যের ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯-এ কল করেন এবং ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড থেকে ৩৬৮টি ব্যাটারি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা) এবং ২ হাজার মিটার তামার তার (মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা) সহ সর্বমোট ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০জনকে আসাসী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।


বিজয় দিবসে বরিশালে উন্মুক্ত যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এ আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত চার ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষ জাহাজে প্রবেশ করে কাছ থেকে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।

হাটখোলা এলাকার অভিভাবক নিজাম উদ্দিন বলেন, শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নৌবাহিনী সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

জানা গেছে, বানৌজা অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ২৬ পিসিএস শ্রেণির অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এটি খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫০.৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৭.৫ মিটার। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল।

নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে জাহাজটি দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান এবং জাটকা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


মহান স্বাধীনতা দিবস: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান ধর্মমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।


রাজেশ্বর গ্রামে শতবর্ষ ছুঁইছুঁই সম্প্রীতির গঙ্গাস্নান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান উৎসব। প্রায় ৯৫ বছর ধরে কুলু বংশের নিজস্ব জমিতে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয়দের কাছে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।

প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গঙ্গাস্নান দেখতে ও অংশ নিতে রাজেশ্বর গ্রামে ভিড় জমায়। একসময় এই উৎসবে বহু দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটলেও বর্তমানে সে তুলনায় উপস্থিতি অনেকটা কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

উৎসবকে ঘিরে আগে মাটির পুতুলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সামগ্রীর দোকান বসতো, যা ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্রও অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

পুষ্প রানী কুলু বলেন, “এই গঙ্গাস্নান আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই আয়োজন। আগে অনেক বেশি লোকসমাগম হতো, মেলা জমজমাট থাকতো। এখন সেই পরিবেশ কিছুটা কমে গেছে, তবুও আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।"

পূজারী দুলাল চক্রবর্তী বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির একটি মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন, একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"

আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই গঙ্গাস্নান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তারা আশা করছেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো উৎসবের জৌলুস ফিরে আসবে।


পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা: শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে যথাযথ মর্যাদায় ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

‎​বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী,জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, "আজ আমরা যে স্বাধীন পরিচয় নিয়ে কথা বলছি, তার সবটুকুই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। আপনারা লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছি"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই একই চেতনা ধারণ করে বর্তমান প্রজন্ম জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

‎​সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসন আমলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ যে নতুন পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখনকার মূল লক্ষ্য।

‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত,জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ জহিরুল হক,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক (বীরপ্রতীক),বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুনান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এর গর্বিত সন্তান গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও শেষে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


সাতক্ষীরার তালায় ‘সেচ পানির’ তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

তীব্র সেচ পানির সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষক। চলতি মৌসুম বৃষ্টিপাত না হওয়া হুমকির মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে অন্যদিকে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক।

ইরি-বোরো চাষী ইবাদুল সরদার বলেন, ‘আমার সেচ পাম্পে পানি ওঠছে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির ১৫ হাত নিচে পাম্প বসিয়ে সেচের পানি উত্তলোন করছি।

মনজুরুল গোল্দার বলেন,"পানির স্তর কুড়ি হাত নিচে নেমে গেছে। কোন কোন বিলে ৩০ থেকে ৪০ হাত নিচে নেমেছে। ফলে অতিরিক্ত ডিজেল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পানি ওঠছে না।’

জব্বার শেখ বলেন, বৃষ্টি না হওয়া ধানের রোগ বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ধান খাটো হওয়া,মরা শীষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিঘা প্রতি উৎপাদন কমে আসে। সেই সাথে ছত্রাক জনিত রোগ ব্লাষ্ট লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

মোসলেম খা বলেন, ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। ধানের শীষ বের হচ্ছে। মৌসুম শেষ করতে আমার ২০ থেকে ৩০ কেজি ডিজেল লাগবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে তালা সদর অবস্থিত মের্সার মিলিনিয়াম উইরেকা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী বলেন,"জেলায় সীমিত পরিসরে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।"

তবে খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২০ -৩০ টাকা বেশি দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্রকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন,"চলতি মৌসুমি ২০ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের এই সংকট নিরসনে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শয়ন (২৪) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শয়ন ওই ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মৃত টিপু মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় হাটে ব্যবসা করতেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী ছিলেন।

জানাযায়, রাতে শয়ন জোড়গাছা পূর্বপাড়ার টগরের স-মিল এলাকায় যান। সেখানে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রুমিন বলেন, আমি বগুড়া শহরে থাকি। ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি শয়নকে মর্গে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমরা এখনও কিছু জানি না। তবে এখানে এসে জানতে পেরেছি, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তার সঙ্গে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল এমন তথ্যও আমাদের জানা নেই।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লালন হোসেন জানান, শয়নের বুকের নিচে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সারিয়াকান্দি থানার তদন্ত পরিদর্শক নুর আলম বলেন, জোড়গাছা এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।


নান্দাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আপডেটেড ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২৪
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবেস-তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খাঁন চৌধুরী উপস্থিতিতে ও নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে চন্ডীপাশা সরকারি হাই স্কুল খেলার মাঠে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে এবং মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জনাব ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরিপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

দুপুর ১২টায় নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে নান্দাইলবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


banner close