মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২১ মাঘ ১৪৩২

গাজীপুরে কেন হারল নৌকা

বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড়। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৩ ২২:১৫
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ২২:০৮

নানা হিসেব-নিকেশ ও জল্পনা-কল্পনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জিতে বিজয়ের হাসি হেসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। এই পদে হেভিওয়েট প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে নগর ভবনের চাবি পেলেন তিনি। ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তি ইমেজ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই জায়েদার বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

বিপরীতে আলোচনা চলছে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। নানা বিচার-বিশ্লেষণ আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে মোটাদাগে উঠে আসছে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল, দলীয় বিভাজন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় ভূমিকার কথা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লার পরাজয়ের নেপথ্যের নানা কারণ।

অন্তঃকোন্দল ও বিভাজন
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন শুরু হয়েছে এক যুগ আগে। দীর্ঘদিনেও এর রেশ টানা যায়নি। উল্টো এক পক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত থাকতো অধিকাংশ সময়। এর রেশ পড়েছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দল থেকে বহিষ্কার হন মেয়র পদে থাকা জাহাঙ্গীর আলম। এক পর্যায়ে তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এসময় বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ছিলেন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের ওপরও খড়গ নেমে আসে। শোকজ করা হয় পদধারী দুই শতাধিক নেতাকে। পরে জাহাঙ্গীরের অনুসারী কারও আর স্থান হয়নি দলের কোথাও। দলের বহু ত্যাগী নেতা-কর্মীও রয়েছেন এমন তালিকায়। দলীয় কোন্দল আঘাত করে তৃণমূল পর্যন্ত।

এমন অবস্থায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে চলে আসে। তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকার ‘ব্যাজ’ পড়লেও গোপনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করেন। এমন অভিযোগে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও দলের তিনজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে আটজন নেতা-কর্মীকে। এছাড়া পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও পাওয়া যায়।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই দলীয় কোন্দল ও বিভাজন।

নির্বাচন চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্র পরির্দশন করেন আজমত উল্লা খান। ছবি: ফোকাস বাংলা

ব্যাজ নৌকার, ভোট ঘড়িতে
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে নৌকার কর্মীদের আধিক্য থাকলেও দিনশেষে সেখানে জয়ী হয় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ঘড়ি প্রতীক। মূলত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীই নৌকার লোক বেশে ভোট দেন জায়েদা খাতুনকে। ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ঘরছাড়া করা হয় অনেককে। তবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য জায়েদা খাতুনের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কৌশল হিসেবে গলায় নৌকার ব্যাজ ও হাতে নৌকার ভোটার স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর এই কৌশলের কাছে হেরে যান আজমত উল্লা খান।

অতি আত্মবিশ্বাস
জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারা নিশ্চিত ছিলেন চাপের মুখে জাহাঙ্গীর নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাবেন, তবে শেষ পর্যন্ত নানা চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি জাহাঙ্গীর। এছাড়া ভোটারদের ওপরও নৌকার বাইরে ভোট না দিতে হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়নন পেলেই জয় নিশ্চিত—এমন ধারণায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। যার প্রভাব পড়ে ব্যালট বাক্সে।

প্রচারণায় পরিকল্পনার অভাব
নগরের বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। মহানগরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। বিচ্ছিন্নভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালান। রাস্তা-ঘাটে দায়সারা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের ঘরে পৌঁছায়নি নৌকার বার্তা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫৭টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় তারা নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকেই বিএনপির ভোট পেতে নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছিলেন, একাই নানা পথসভায় বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতি, নগর ভবনের দুর্নীতি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ নগরে সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনায় ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ, শুধু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তার একই ধরনের বক্তব্যে নাখোশ ছিলেন নগরীর অনেক মানুষ। প্রচারণায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতেও কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি আজমত উল্লা খান।

আবেগী ভোট জায়েদার পক্ষে
নারী প্রার্থী জায়েদা খাতুন প্রচারণায় নেমে আজমত উল্লা খানের এলাকা টঙ্গীতে প্রবেশে বারবার বাধার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রচারণায় বাধা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নন্দিত বাংলা সিনেমা ‘আম্মাজান’র শিরোনাম গান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। অনেকেই মনে করেন, এই গানে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারীরা। তাই আবেগী ভোটাররা রায় দেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।

নারীদের ভোট জায়েদার ভোট বাক্সে
নগরের ভোটারদের মতে, সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার প্রায় ১২ লাখ। এর অর্ধেক ভোটারই নারী। প্রথমবারের মতো এই সিটিতে একজন বয়স্ক নারী মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং ছেলের জন্য মায়ের সংগ্রামে আকৃষ্ট হন নারী ভোটাররা। বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন জায়েদা খাতুন। এছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তেমন কোনো ব্যতিক্রম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফলে অধিকাংশ নারী ভোটার রায় দিয়েছেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।

গাজীপুর সিটির নতুন মেয়র জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা

আওয়ামীবিরোধী ও বিএনপির ভোট
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। দলীয় সরকারের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। যদিও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নেয়নি। ভোটের আগে রনির চাচা গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ভোটারদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে খোলা চিঠি দেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ভোট বাড়াতে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়েছেন এসব ভোটারকে। বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ওই দলের সমর্থক ভোটাররাও রায় দিয়েছেন নৌকার বিপক্ষে, জায়েদার ব্যালটে।

এছাড়া আওয়ামী লীগবিরোধী বিচ্ছিন্ন ভোটও পড়েছে নৌকার বিপক্ষে।

কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল অনেকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও কেন্দ্রগুলোর কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অধিকাংশই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটিতে ছিলেন। এ নিয়ে কমিটি গঠনের পরই অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র কমিটিতে রাখা হয়নি। এছাড়া কেন্দ্র কমিটির জন্য বরাদ্দ খরচের টাকারও সুষম বণ্টন হয়নি। লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার এনে না টানিয়ে ফেলে রাখারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিশ্রমী তরুণদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়করা অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এসব বিষয়ে গত ১৯ মে দৈনিক বাংলায় ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর কেন্দ্র কমিটি নিয়ে অসন্তোষ কাটাতে তোড়জোড় চলে। তবু হার এড়াতে পারেননি আজমত উল্লা খান।

যা বলছেন প্রার্থী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক
গাজীপুর সিটিতে পরাজয়ের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দলের অনেকেই প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে, গোপনে অবস্থান নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। এছাড়া বিরোধী দলের ভোটও গিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে। নানা কারণে এখানে আমাদের পরাজয় হয়েছে। তবে পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ কী, তা আমরা তদন্ত করে বের করবো।’

শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন। নিশ্চয়ই দল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’


নড়াইলে রোটারি চক্ষু হাসপাতাল উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রাম। গ্রামের কুল ঘেষে বয়ে চলেছে চিত্রা নদী। নদীর তীরে মসজিদ মন্দিরের মাঝে স্থাপিত হলো বাংলাদেশ রোটারি চক্ষু হাসপাতাল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথি হয়ে হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করেন দেশ বরেণ্য রোটারিয়ান পিজিডি কেএম জয়নুল আবেদীন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে নয়, সেবাই হবে এই হাসপাতালের প্রথম শর্ত। হাসপাতালের এক পাশে মসজিদ অন্য পাশে মন্দির। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য স্থাপন করা এই জেলার হাসপাতাল হবে দেশ সেরা। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে। নড়াইলকে তুলে ধরতে হবে অন্য এক উচ্চতায়।

তিনি বলেন, ‘দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবার যুক্ত হলো চক্ষু হাসপাতাল। দেশের কোথাও দেখা যায় না এমন দৃশ্য।’ আবেগ ঘণ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘অন্তরে মানবতা না থাকলে, প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে নিজেও ভালো থাকা যায়। এসো বন্ধুর বন্ধনে আবদ্ধ হই।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নড়াইলে এই রোটারি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রোটারিয়ান পিজিডি প্রকৌশলী এম, এ ওহাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মতিন,পটুয়াখালি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রোটারিয়ান ডা. এসএম আবুল হাসান, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল আলম, সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক, ডা. আশীষ কুমার সাহা প্রমুখ।


দেবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ক্লিনিক কর্মীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

দেবীগঞ্জে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় শ্রী সমেস চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবীগঞ্জ–বোদা মহাসড়কের পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সমেস পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই

এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে। পেশায় তিনি দেবীগঞ্জের ‘মায়ের হাসি ক্লিনিক’-এ কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রী সমেস। এ সময় পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে পৌঁছালে একটি বালু বোঝাই দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং ট্রাকটি তাকে রাস্তার সঙ্গে পিষে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা জানান, ওই স্থানে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অবিলম্বে ওই স্থানের স্পিড ব্রেকার অপসারণ বা সঠিকভাবে সংস্কারসহ নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।


আমতলীতে একই রাতে দুই সরকারি কার্যালয়ে চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলায় একই রাতে দুটি সরকারি কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে সংঘটিত এ

ঘটনায় সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ফুটেজ অনুযায়ী, চোরেরা অফিস ভবনের দক্ষিণ পাশের গ্রিল ভেঙে আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসে প্রবেশ করে। এরপর তারা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীর কক্ষসহ মোট তিনটি

কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, গভীর রাতে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। এতে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই রাতে আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী

প্রকৌশলীর কার্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি কক্ষের তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এলোপাথাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। তবে কার্যালয়ে নগদ অর্থ না থাকায় তারা কিছু চুরি করতে পারেনি বলে জানান উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহাগ মিয়া।

দুটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমতলী থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণসহ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কার্যালয়গুলোর রাতকালীন নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


পরমাণু শক্তি কমিশনের সদস্য হলেন হাসিনুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমানকে কমিশনের সদস্য (পরিকল্পনা) (চলতি দায়িত্ব) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এর আগে তিনি কমিশনের পরিচালক (ভৌত বিজ্ঞান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে (BAEC) যোগদানের পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে হাসিনুর রহমান নিউক্লিয়ার ইন্সট্রুমেন্টেশন, এনার্জি অ্যানালাইসিস এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন এবং প্রকল্পটির উপপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট নির্বাচন, ডিজাইন নির্বাচন, সাইট ও ডিজাইন লাইসেন্স অর্জন, জেনারেল কন্ট্রাক্ট আলোচনা ও চূড়ান্তকরণ, কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। বর্তমানে তিনি Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization (CTBTO)-এর বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনের অংশ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি), মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশসহ বহু দেশ সফর করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মো. হাসিনুর রহমান। তিনি ১৯৬৭ সালে পাবনা জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।


নির্বাচনে অপসাংবাদিকতা রোধে দিনাজপুরে প্রেস কাউন্সিলের কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপসাংবাদিকতা রোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার নিয়ে দিনাজপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা সার্কিট হাউস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ​তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং নির্বাচনের স্পর্শকাতর সময়ে ভুয়া খবর (ফেইক নিউজ) প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। ​প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।

অপসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশাকে কলঙ্কিত করে না, বরং গোটা গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। ​উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার সাদিয়া আফরিন শেফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার বজনাব মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম) ​কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) জনাব মো. আব্দুস সবুর। তিনি অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ও আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে।’

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সব ধরনের তথ্যগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং সুস্থ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এই কর্মশালায় দিনাজপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।


টঙ্গীতে রিভলবারসহ যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিভলবারসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ (বিভাগ) গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার থেকে রিভলবারসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম ইজাজুল ইসলাম (৪০)। সে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলা দায়ের শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার গার্লস স্কুল সড়কে অবৈধ অস্ত্র আদান প্রদানের তথ্য পায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজাজুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।পরে তার কাছ থেকে একটি রিভলবার জব্দ করা হয়।

রাতেই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানারে ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে গেছে।’


 ‘খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫
ইবি প্রতিনিধি

স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।

র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, নিরাপদ খাদ্যে তার সমতুল; ভেজালমুক্ত খাদ্য, সুস্থজাতি, নিরাপদ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য; ভেজালকে ‘না’ বলুন, নিরাপদ খাদ্য বেছে নিন; জাঙ্ক ফুড বর্জন করি, স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ি; খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আয়নুল হক আকন্দ। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীও ছিলেন।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ বছর ‘নিরাপদ খাদ্য হোক সবার জন্য সুস্থতার নিয়ামক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেজালমুক্ত, ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই তিন স্তরের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। নিরাপদ খাদ্য বলতে শুধু ভেজালমুক্ত খাবার নয়, বরং সঠিক স্যানিটেশন ও হাইজেন মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।’

এ ছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে HACCP, GMP ও ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তিনি ভেজাল খাদ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সীতাকুণ্ডে রিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে রিকশার গ্যারেজ থেকে এক মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আব্দুর রহমানের রিকশা গ্যারেজ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিকশা মিস্ত্রির নাম সবুজ (২৫)।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় ধাতব পদার্থের আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ । সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মহিনুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থেকে হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।


কেশবপুরে এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৩
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে মাসিক এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ সভা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কেশবপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি সকল এনজিওকে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।

দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাসেবা পৌছে দিতে এনজিওদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

সভায় মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থা-এর পরিচালক জুবায়ের হাসান রাকিব সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। সংস্থাটি ২০২১ সালে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার স্লোগান: ‘আমরা মানুষের সেবা করি– আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য’। তারা বন্যার্তদের সহায়তা, অসহায় শিশুদের শিক্ষা, নারী পাচার প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং দরিদ্র কৃষকের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক খালিদ হাসান, সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, মায়া পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মিলন হোসেন, ভাব-এর ফিল্ড অফিসার কামরুজ্জামান রাজু, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির বুলবুল ইসলামসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা।


৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের ২ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই।

আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, ‘দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিল তার। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারী তার অফিসে নেই। আজকে শুনানী না হয় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।’

এ সময় আন্দোলকারীরা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এ সরকার পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পায় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করেই ঘরে ফিরবে। দ্রুত দাবি না মানলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলকারীরা হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নো পে-স্কেল নো ইলেকশন। আমরা কোন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করব না। আমরা কোন ভোট দেবো না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’

আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, ‘আমাদেরকে আশ্বাসের নামে মুলা দেখানো হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার কমিশন গঠন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে কেন এ সরকার কমিশন গঠন করলো। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে বসানো হয়েছে। আবারো যদি বৈষম্য করেন তাহলে একইভাবে টেনেহেঁচড়ে নামাবে মানুষ।’

আন্দোলকারীদের ৭ দফার মধ্যে আছে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি।


বারি―র নতুন মহাপরিচালক ড. আতাউর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারিকৃত আদেশ বলে তিনি বারি’র মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর আগে ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি’র পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি নিয়মিতভাবে

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

তিনি জাপানের কিউসু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ যোগদানের উদ্দেশ্যে নেপাল, ভারত, ভূটান, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্টেলিয়া ও মালেশিয়া ভ্রমণ করেছেন।

এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক জার্নালে নিয়মিতভাবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৬৭ সালে দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ২ সন্তানের জনক।


নবীনগরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা: দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

দুর্নীতি প্রতিরোধে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের পুরনো হলরুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা হয়। এবারের বিতর্কের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য’।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ দল নির্ধারণ করা হয়। এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ক ও খ গ্রুপের বাছাই পর্ব হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুপ্রকারের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ হোসেন শান্তি।

শুরুতেই উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, মোশাররফ হোসেন ও আশিষ কুমার গুহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্বাস উদ্দিন হেলাল।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।


ভেড়ামারায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃমি সাম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। এতে আরোও ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডা. গাজী আশিক বাহার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত। ৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় সরকারি দপ্তর ছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তাদের স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে কৃষি ও কৃষকের ফসল উৎপাদনের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও হাইব্রীড জাতের নানা ফসল প্রদর্শন করা হয়েছে।


banner close