নানা হিসেব-নিকেশ ও জল্পনা-কল্পনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জিতে বিজয়ের হাসি হেসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। এই পদে হেভিওয়েট প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে নগর ভবনের চাবি পেলেন তিনি। ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তি ইমেজ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই জায়েদার বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
বিপরীতে আলোচনা চলছে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। নানা বিচার-বিশ্লেষণ আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে মোটাদাগে উঠে আসছে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল, দলীয় বিভাজন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় ভূমিকার কথা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লার পরাজয়ের নেপথ্যের নানা কারণ।
অন্তঃকোন্দল ও বিভাজন
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন শুরু হয়েছে এক যুগ আগে। দীর্ঘদিনেও এর রেশ টানা যায়নি। উল্টো এক পক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত থাকতো অধিকাংশ সময়। এর রেশ পড়েছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দল থেকে বহিষ্কার হন মেয়র পদে থাকা জাহাঙ্গীর আলম। এক পর্যায়ে তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এসময় বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ছিলেন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের ওপরও খড়গ নেমে আসে। শোকজ করা হয় পদধারী দুই শতাধিক নেতাকে। পরে জাহাঙ্গীরের অনুসারী কারও আর স্থান হয়নি দলের কোথাও। দলের বহু ত্যাগী নেতা-কর্মীও রয়েছেন এমন তালিকায়। দলীয় কোন্দল আঘাত করে তৃণমূল পর্যন্ত।
এমন অবস্থায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে চলে আসে। তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকার ‘ব্যাজ’ পড়লেও গোপনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করেন। এমন অভিযোগে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও দলের তিনজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে আটজন নেতা-কর্মীকে। এছাড়া পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই দলীয় কোন্দল ও বিভাজন।
ব্যাজ নৌকার, ভোট ঘড়িতে
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে নৌকার কর্মীদের আধিক্য থাকলেও দিনশেষে সেখানে জয়ী হয় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ঘড়ি প্রতীক। মূলত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীই নৌকার লোক বেশে ভোট দেন জায়েদা খাতুনকে। ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ঘরছাড়া করা হয় অনেককে। তবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য জায়েদা খাতুনের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কৌশল হিসেবে গলায় নৌকার ব্যাজ ও হাতে নৌকার ভোটার স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর এই কৌশলের কাছে হেরে যান আজমত উল্লা খান।
অতি আত্মবিশ্বাস
জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারা নিশ্চিত ছিলেন চাপের মুখে জাহাঙ্গীর নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাবেন, তবে শেষ পর্যন্ত নানা চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি জাহাঙ্গীর। এছাড়া ভোটারদের ওপরও নৌকার বাইরে ভোট না দিতে হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়নন পেলেই জয় নিশ্চিত—এমন ধারণায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। যার প্রভাব পড়ে ব্যালট বাক্সে।
প্রচারণায় পরিকল্পনার অভাব
নগরের বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। মহানগরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। বিচ্ছিন্নভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালান। রাস্তা-ঘাটে দায়সারা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের ঘরে পৌঁছায়নি নৌকার বার্তা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫৭টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় তারা নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকেই বিএনপির ভোট পেতে নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছিলেন, একাই নানা পথসভায় বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতি, নগর ভবনের দুর্নীতি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ নগরে সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনায় ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ, শুধু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তার একই ধরনের বক্তব্যে নাখোশ ছিলেন নগরীর অনেক মানুষ। প্রচারণায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতেও কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি আজমত উল্লা খান।
আবেগী ভোট জায়েদার পক্ষে
নারী প্রার্থী জায়েদা খাতুন প্রচারণায় নেমে আজমত উল্লা খানের এলাকা টঙ্গীতে প্রবেশে বারবার বাধার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রচারণায় বাধা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নন্দিত বাংলা সিনেমা ‘আম্মাজান’র শিরোনাম গান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। অনেকেই মনে করেন, এই গানে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারীরা। তাই আবেগী ভোটাররা রায় দেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।
নারীদের ভোট জায়েদার ভোট বাক্সে
নগরের ভোটারদের মতে, সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার প্রায় ১২ লাখ। এর অর্ধেক ভোটারই নারী। প্রথমবারের মতো এই সিটিতে একজন বয়স্ক নারী মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং ছেলের জন্য মায়ের সংগ্রামে আকৃষ্ট হন নারী ভোটাররা। বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন জায়েদা খাতুন। এছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তেমন কোনো ব্যতিক্রম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফলে অধিকাংশ নারী ভোটার রায় দিয়েছেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।
আওয়ামীবিরোধী ও বিএনপির ভোট
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। দলীয় সরকারের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। যদিও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নেয়নি। ভোটের আগে রনির চাচা গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ভোটারদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে খোলা চিঠি দেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ভোট বাড়াতে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়েছেন এসব ভোটারকে। বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ওই দলের সমর্থক ভোটাররাও রায় দিয়েছেন নৌকার বিপক্ষে, জায়েদার ব্যালটে।
এছাড়া আওয়ামী লীগবিরোধী বিচ্ছিন্ন ভোটও পড়েছে নৌকার বিপক্ষে।
কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল অনেকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও কেন্দ্রগুলোর কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অধিকাংশই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটিতে ছিলেন। এ নিয়ে কমিটি গঠনের পরই অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র কমিটিতে রাখা হয়নি। এছাড়া কেন্দ্র কমিটির জন্য বরাদ্দ খরচের টাকারও সুষম বণ্টন হয়নি। লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার এনে না টানিয়ে ফেলে রাখারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিশ্রমী তরুণদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়করা অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এসব বিষয়ে গত ১৯ মে দৈনিক বাংলায় ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর কেন্দ্র কমিটি নিয়ে অসন্তোষ কাটাতে তোড়জোড় চলে। তবু হার এড়াতে পারেননি আজমত উল্লা খান।
যা বলছেন প্রার্থী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক
গাজীপুর সিটিতে পরাজয়ের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দলের অনেকেই প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে, গোপনে অবস্থান নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। এছাড়া বিরোধী দলের ভোটও গিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে। নানা কারণে এখানে আমাদের পরাজয় হয়েছে। তবে পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ কী, তা আমরা তদন্ত করে বের করবো।’
শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন। নিশ্চয়ই দল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
পাবনা শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে, প্রমত্তা পদ্মার কোলঘেঁষে অবস্থিত নিভৃত পল্লী হিমায়েতপুর। সবুজে ঘেরা শান্ত-স্নিগ্ধ এই জনপদেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক পুণ্যভূমি—শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, বরং এর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী আর আধ্যাত্মিক আবহের কারণে এই আশ্রম এখন পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
যুগপুরুষোত্তম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত চিকিৎসক, দূরদর্শী দার্শনিক এবং মানবধর্মের প্রচারক। তার স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রমে পা রাখলেই চোখে পড়ে আধুনিক ও ধ্রুপদী স্থাপত্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। বিশেষ করে রাতের আলোয় যখন প্রধান মন্দিরটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়, তখন সেখানে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। মন্দিরের গম্বুজ আর নিপুণ কারুকাজ করা দেওয়ালগুলো আধুনিক আলোকসজ্জার ছোঁয়ায় পর্যটকদের বিমোহিত করে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে ফেলতে ছুটে আসেন এই আশ্রমে। আশ্রমের বিশাল খোলা প্রাঙ্গণ আর সারি সারি গাছপালায় ঘেরা পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে অনাবিল শান্তি এনে দেয়। স্থানীয়দের মতে, গোধূলি লগ্নে যখন আকাশের নীলিমায় মন্দিরের চূড়াগুলো ফুটে ওঠে, তখন এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শনার্থীরা জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পাবনা জেলার অন্যতম প্রধান এই দর্শনীয় স্থানটি এখন স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আশ্রম এলাকাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন। এই উন্নত ব্যবস্থাপনাই পর্যটকদের বারবার এখানে আসার প্রেরণা জোগায়।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই আশ্রমটি পাবনার গৌরবে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। আপনি যদি যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আর নান্দনিকতার খোঁজে বের হতে চান, তবে হিমায়েতপুরের এই সৎসঙ্গ আশ্রম হতে পারে আপনার পরবর্তী সেরা গন্তব্য।
রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বাখরাবাদ ও কুচাইতলী এলাকায় মসলার মিল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ ভালো মরিচের সঙ্গে মিশিয়ে গুঁড়া করার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, ভালো মরিচের সঙ্গে অধিক পরিমাণ নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ মিশিয়ে মসলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘আল-আমিন ফুড গ্রেইন মসলার’ মিলকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নোংরা ফ্লোরে মরিচ ও হলুদের গুঁড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
এ ছাড়া বাসি খামি সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দায়ে ‘বাখরাবাদ মাটির হাড়ি’ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া, স্যাম্পল কালেক্টর মো. নাজমুস সাকিব এবং অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বাঁধ সংস্কার ও শোভাবর্ধন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার, বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে ভরাট, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন এবং নির্ধারিত প্রস্থ কমিয়ে দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ৫ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গঙ্গাচড়া তিস্তা বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ শোনেন।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম-এর নাম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসে।
জানা গেছে, চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং।
দরপত্র অনুযায়ী বাঁধ ভরাটের কাজে ৭০ শতাংশ মাটি ও ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণ ব্যবহারের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে শুধুই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই তিস্তা নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলার দায়ে ঠিকাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের পাদদেশ থেকেই মাটি কেটে উপরে ভরাট করা হচ্ছে। এতে বাঁধের নিচে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া দরপত্রে বাঁধের প্রস্থ ১৪ ফুট রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা ১০ ফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। কাজের স্থানে কোনো প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকায় ব্যয়, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে নিচে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। শুধু বালু দিয়ে কাজ করলে বাঁধ কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’ আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘দরপত্রে ১৪ ফুট রাস্তার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় ১০ ফুট করা হয়েছে। এতে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্ষায় পানি বাড়লে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে যাবে। এখনই যদি ঠিকভাবে কাজ না হয়, পরে বড় বিপদ হবে।’
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, ‘আশরাফ চেয়ারম্যান, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম এরা সবাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত। আশরাফ চেয়ারম্যান ও খতিবর আলীর নেতৃত্বেই বালু উত্তোলন করে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাঁধের কাজে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’ এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ যেন মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তিস্তা তীরবর্তী বেশ কয়েকটি জনপদ বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যশোরের কেশবপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস–২০২৬ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদদের স্মরণ এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। এ জন্য সকল দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর থানার তদন্ত ইনস্পেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস দুটি পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্মসূচি পালনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার সজীব সাহা, কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু তালেব, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা রিজাউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাষ্টার রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
সভায় দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রিপন মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপন মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা। তিনি জানান, গত সোমবার (৯ মার্চ) রাত থেকে রিপন নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে চকসালন এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, রিপনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিনে-দুপুরে এক গৃহবধূকে অপহরণ চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আন্তজেলা অপরাধচক্রের তিন সদস্যকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহরণ চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ মার্চ ভোরে কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মো. মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বটতলা বাজারে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী নারী ধস্তাধস্তি করে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় (মামলা নং–০৭, জিআর–১৯/২৬) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু সরাসরি তদন্ত তদারকি করেন, তাদের নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এর নেতৃত্বে একটি টিম মাঠে নামে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করি। গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)।
অভিযান সফল করার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানান, ‘এটি একটি অত্যন্ত দুঃসাহসিক অপরাধ ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রমজানের ভোরে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে তারা ওই নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল। তারা এই প্রাইভেটকারটি ব্যবহার করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সস্তা হোটেলে অবস্থান করত এবং সুযোগ বুঝে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।’
শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘আমাদের টিম অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে আগেরও অনেক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।’
সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জাকির, কাওছার ও জসিমের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাদের পলাতক সহযোগী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার এসআই এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ পুলিশের একাধিক সদস্য এই সফল অভিযানে অংশ নেন। পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নীলফামারীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ‘ট্যালেন্টপুল বৃত্তি’ অর্জনকারী ২৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পরিষদ। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথ দেখাবে। তাদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাইম হাসান খান ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান,জেলার বিভিন্ন উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে উত্তীর্ণ ২৬৪ শিক্ষার্থীকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিতে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে জেলা পরিষদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ফলে সমাজ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক তায়বুল হক। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় মানুষ পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বক্তৃতাকালে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভিক্ষার হাতকে কর্মের হাতে রুপান্তর করছে ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ।
এদিনের আয়োজনে সাতাশটি অভাবী পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থসহ সর্বমোট দুই লাখ টাকার বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিশেষ এক মুহূর্তে প্রধান অতিথি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে পঁচিশতম সেলাই মেশিনটি একজন সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দেন।
সংগঠনের সভাপতি ফয়জুল হক বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও সদস্য আসাদুজ্জামান দারার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাসিম আনোয়ার জাকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সোহরাব আল হোসাইন তানভীর, ফেনী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলাল ও সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান জালাল উদ্দিন বাবলু।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী ডেভলপমেন্ট কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী এবং স্থানীয় ফেনীর সময় এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন লায়ন হাজী দ্বীন মোহাম্মদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ওসমান গনি রাসেল, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী এবং ডেফোডিল স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আরও বিপুল পরিমাণের অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগরের খুলশীতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যৌথ বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, পিস্তলের ৩০টি ম্যাগাজিন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ১ হাজার ১১৩টি গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানে ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত এলাকাটিতে নজরদারি রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে জানিয়ে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলামত অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
ডিআইজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারগুলো রয়েছে। অভিযানে সেসব ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটিতে অপরাধীরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের কথা জানান ডিআইজি।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) মিলে মোট ১৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি ক্যাম্প, অন্য আরেকটি ক্যাম্প আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্পটিতে র্যাব, আরআরএফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) ও এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ২৩০ জন সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন, আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিজিবির কর্মকর্তারা।
সাবেক সচিব মো. আমিনুল ইসলামকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, আমিনুল ইসলাম চুক্তিতে এক বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম গত রোববার (৮ মার্চ) পদত্যাগ করেন। এরপর সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পরদিনই সেখানে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হল।
বিসিএস-৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এক সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছিলেন। তবে মূলত তিনি কাজ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে। তার আগে এক সময় কক্সবাজারের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুগ্মসচিব থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়া আমিনুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলায়। ২০০৫ সালে তাকে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসে একটি অজগর সাপ দিনমজুর পরিবারের একটি ছাগল গিলে খেয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বন-সংলগ্ন ভোলা নদীর চরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবক ফোরকান হাওলাদার জানান, ওই গ্রামের দিনমজুর সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল প্রতিদিনের মতো ভোলা নদীর চরে ঘাস খেতে যায়। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ছাগলটি বাড়িতে ফিরে না আসায় সোহরাব সেটি খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ দেখতে পান। এরই মধ্যে সাপটি ছাগলটি আস্ত গিলে ফেলে।
খবর পেয়ে কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় অজগরের পেটে ছাগল থাকার দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহরাব ফরাজী জানান, সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি তার সখের ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর জানান, ছাগল গিলে ফেলার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাপটি সুস্থ হলে দ্রুতই তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে একটি সচেনতা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর অলটারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট আফাদ এর আয়োজনে তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে এই সভা হয়।
কার্তিক চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রাণী, ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ, বেলগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, শিফট্টার সোচ্চার ফোকাল রেশমা সুলতানা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও শিক্ষাগত নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। তারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নজরদারি জোরদার করার ওপরও জোর দেন।
সচেতনতা সভায় ইমাম, পুরোহিত, কাজি, ঘটক, ইউনিয়নের নারী-পুরুষ জনপ্রতিনিধি, কিশোরী, যুবক, অভিভাবক, শিক্ষকসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর একটি ইলেকট্রিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর চক্রটি দোকানের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা ছাড়াও প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের দি ইলেকট্রিক জোন নামের দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
দোকান মালিক ও মাইজদী ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গত সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে আমি ও আমার কর্মচারীরা বাসায় যাই। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আমার দোকানের পেছনের দুটি দরজা ভাঙা দেখতে পাই। চোরের দল দোকানের পেছনের দরজা ভেঙে ও তালা কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ দুই হাজার দুইশ আশি টাকা, প্রায় তিন লাখ টাকার সুপার স্টার ও পলি ক্যাবলস কোম্পানির বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনায় দোকান মালিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ওই চক্রটিকে সনাক্ত করতে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কাজ করছে।