নানা হিসেব-নিকেশ ও জল্পনা-কল্পনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জিতে বিজয়ের হাসি হেসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। এই পদে হেভিওয়েট প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে নগর ভবনের চাবি পেলেন তিনি। ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তি ইমেজ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই জায়েদার বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
বিপরীতে আলোচনা চলছে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। নানা বিচার-বিশ্লেষণ আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে মোটাদাগে উঠে আসছে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল, দলীয় বিভাজন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় ভূমিকার কথা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লার পরাজয়ের নেপথ্যের নানা কারণ।
অন্তঃকোন্দল ও বিভাজন
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন শুরু হয়েছে এক যুগ আগে। দীর্ঘদিনেও এর রেশ টানা যায়নি। উল্টো এক পক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত থাকতো অধিকাংশ সময়। এর রেশ পড়েছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দল থেকে বহিষ্কার হন মেয়র পদে থাকা জাহাঙ্গীর আলম। এক পর্যায়ে তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এসময় বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ছিলেন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের ওপরও খড়গ নেমে আসে। শোকজ করা হয় পদধারী দুই শতাধিক নেতাকে। পরে জাহাঙ্গীরের অনুসারী কারও আর স্থান হয়নি দলের কোথাও। দলের বহু ত্যাগী নেতা-কর্মীও রয়েছেন এমন তালিকায়। দলীয় কোন্দল আঘাত করে তৃণমূল পর্যন্ত।
এমন অবস্থায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে চলে আসে। তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকার ‘ব্যাজ’ পড়লেও গোপনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করেন। এমন অভিযোগে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও দলের তিনজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে আটজন নেতা-কর্মীকে। এছাড়া পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই দলীয় কোন্দল ও বিভাজন।
ব্যাজ নৌকার, ভোট ঘড়িতে
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে নৌকার কর্মীদের আধিক্য থাকলেও দিনশেষে সেখানে জয়ী হয় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ঘড়ি প্রতীক। মূলত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীই নৌকার লোক বেশে ভোট দেন জায়েদা খাতুনকে। ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ঘরছাড়া করা হয় অনেককে। তবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য জায়েদা খাতুনের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কৌশল হিসেবে গলায় নৌকার ব্যাজ ও হাতে নৌকার ভোটার স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর এই কৌশলের কাছে হেরে যান আজমত উল্লা খান।
অতি আত্মবিশ্বাস
জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারা নিশ্চিত ছিলেন চাপের মুখে জাহাঙ্গীর নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাবেন, তবে শেষ পর্যন্ত নানা চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি জাহাঙ্গীর। এছাড়া ভোটারদের ওপরও নৌকার বাইরে ভোট না দিতে হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়নন পেলেই জয় নিশ্চিত—এমন ধারণায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। যার প্রভাব পড়ে ব্যালট বাক্সে।
প্রচারণায় পরিকল্পনার অভাব
নগরের বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। মহানগরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। বিচ্ছিন্নভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালান। রাস্তা-ঘাটে দায়সারা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের ঘরে পৌঁছায়নি নৌকার বার্তা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫৭টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় তারা নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকেই বিএনপির ভোট পেতে নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছিলেন, একাই নানা পথসভায় বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতি, নগর ভবনের দুর্নীতি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ নগরে সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনায় ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ, শুধু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তার একই ধরনের বক্তব্যে নাখোশ ছিলেন নগরীর অনেক মানুষ। প্রচারণায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতেও কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি আজমত উল্লা খান।
আবেগী ভোট জায়েদার পক্ষে
নারী প্রার্থী জায়েদা খাতুন প্রচারণায় নেমে আজমত উল্লা খানের এলাকা টঙ্গীতে প্রবেশে বারবার বাধার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রচারণায় বাধা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নন্দিত বাংলা সিনেমা ‘আম্মাজান’র শিরোনাম গান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। অনেকেই মনে করেন, এই গানে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারীরা। তাই আবেগী ভোটাররা রায় দেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।
নারীদের ভোট জায়েদার ভোট বাক্সে
নগরের ভোটারদের মতে, সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার প্রায় ১২ লাখ। এর অর্ধেক ভোটারই নারী। প্রথমবারের মতো এই সিটিতে একজন বয়স্ক নারী মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং ছেলের জন্য মায়ের সংগ্রামে আকৃষ্ট হন নারী ভোটাররা। বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন জায়েদা খাতুন। এছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তেমন কোনো ব্যতিক্রম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফলে অধিকাংশ নারী ভোটার রায় দিয়েছেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।
আওয়ামীবিরোধী ও বিএনপির ভোট
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। দলীয় সরকারের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। যদিও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নেয়নি। ভোটের আগে রনির চাচা গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ভোটারদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে খোলা চিঠি দেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের ভোট বাড়াতে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়েছেন এসব ভোটারকে। বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় ওই দলের সমর্থক ভোটাররাও রায় দিয়েছেন নৌকার বিপক্ষে, জায়েদার ব্যালটে।
এছাড়া আওয়ামী লীগবিরোধী বিচ্ছিন্ন ভোটও পড়েছে নৌকার বিপক্ষে।
কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল অনেকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও কেন্দ্রগুলোর কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অধিকাংশই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটিতে ছিলেন। এ নিয়ে কমিটি গঠনের পরই অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র কমিটিতে রাখা হয়নি। এছাড়া কেন্দ্র কমিটির জন্য বরাদ্দ খরচের টাকারও সুষম বণ্টন হয়নি। লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার এনে না টানিয়ে ফেলে রাখারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিশ্রমী তরুণদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়করা অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এসব বিষয়ে গত ১৯ মে দৈনিক বাংলায় ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর কেন্দ্র কমিটি নিয়ে অসন্তোষ কাটাতে তোড়জোড় চলে। তবু হার এড়াতে পারেননি আজমত উল্লা খান।
যা বলছেন প্রার্থী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক
গাজীপুর সিটিতে পরাজয়ের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দলের অনেকেই প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে, গোপনে অবস্থান নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। এছাড়া বিরোধী দলের ভোটও গিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে। নানা কারণে এখানে আমাদের পরাজয় হয়েছে। তবে পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ কী, তা আমরা তদন্ত করে বের করবো।’
শুক্রবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন। নিশ্চয়ই দল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
ঢাকার সাভার পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়ায় চোর ও ডাকাতের উপদ্রব বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রোববার (৭ জুন) গভীর রাতে উত্তরপাড়ার নৈশপ্রহরীরা সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারধর করে। খবর পেয়ে সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে অভিযোগ না থাকায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা সাধারণত বাড়ির বারান্দা বা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাসার সদস্যরা জেগে উঠলে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়।
উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়ির নিচ তলার রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তার মা মনোয়ারা বেগমের শয়নকক্ষ থেকে এক লাখ টাকা, দুটি সোনার কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই এবার বিষয়টি পুলিশকে জানাইনি এবং কোনো অভিযোগও করিনি।’
একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা আজিজুর রহমানের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ফরহাদ হোসাইনের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ফরহাদ জানান, চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা তার মামাতো বোন রুমির কক্ষের দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে।
তিনি আরও জানান, এরপর ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিন ভরি রুপা, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ফরহাদ হোসাইন বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সোমবার (৮ জুন) পর্যন্ত মামলা রুজুসহ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, ‘অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উত্তরপাড়ার মসজিদের পাশের হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও গ্রিল কেটে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে সাভার লাইব্রেরির মালিক হোসেন আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে নেপাল চন্দ্র সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পাঁচ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
নেপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি বারান্দার গ্রিল কাটা এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত গ্রিল কেটে তাদের বাড়িতে ঢুকে তার মা জাহানারা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
রিপনের অভিযোগ, ‘ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ তদন্তে আসেনি।’
সন্দেহভাজন চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এএসআই এনামুল হক জানান, চোর সন্দেহে আটক করার পর এলাকাবাসী তাদের মারধর করে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সোমবার (৮ জুন) ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কৌশল, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যরা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
তিনি চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর উপায় হলো উদ্যোক্তা উন্নয়ন। সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রকল্প কার্যক্রমের সূচনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, এলাকা-ভিত্তিক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নির্বাচন, সদস্যদের অংশগ্রহণ ও শ্রমের মূল্যায়ন, লভ্যাংশ বণ্টন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ, সদস্যপদ ত্যাগ অথবা সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন সঞ্জীবন প্রকল্পের সদস্যপদ, সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালনা কাঠামো, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ পদ্ধতি এবং আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে টিএমএসএস-এর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে টিএমএসএস-এর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
এছাড়াও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সঞ্জীবন প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা, সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায় এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সহায়তা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনা প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সম্যক ধারণা প্রদান করে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সঞ্জীবন প্রকল্পকে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে প্রকল্পকে একটি টেকসই ও জনকল্যাণমুখী মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে গ্যাস চুরির ঘটনায় একটি কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স টিম। চোরাই বাইপাস লাইন করে বৈধ সংযোগের আড়ালে অবৈধভাবে বাইপাস গ্যাস লাইন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস চুরি করে আসছিল বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলীম রাসেল।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সোমবার (৮ জুন) হাইটেক ট্যানারি নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরুর পর অবৈধ চোরাই বাইপাস লাইন শনাক্ত হয়।
অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে দেখা যায় প্রস্তাবিত নতুন বৈধ শিল্প সংযোগের আড়ালে অবৈধ বাইপাস গ্যাস লাইনটি চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইপাস গ্যাস লাইনটি ভূগর্ভস্থ আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে কারখানার স্বত্বাধিকারী মুজাফফর হোসেন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলিম রাসেল জানান, এ ঘটনায় শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিতাসের ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের সহযোগী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, দীর্ঘ এক ঘন্টা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অবৈধ সংযোগ নিয়ে কারখানাটিতে বয়লারসহ বিভিন্ন ড্রায়ার, লেদার স্প্রে প্রিন্টিং মেশিন ব্যবহার করা হতো। বৈধ গ্যাস লাইনের আড়ালে রাইজারের গোড়ার প্রায় চার ফুট গভীরে আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে বিভিন্ন সাইজের জিআই ও এমএস পাইপ দিয়ে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই বাইপাস করে গ্যাস ব্যবহার করা হতো এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানায়। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার গ্যাস চুরি হতো বলে জানান তিনি।
দুপুর ১২টায় খুলে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সোমবার (৮ জুন) সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের কোটি কোটি ভোক্তা এবং প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে এই আবেদন।’
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য দোকান, মার্কেট ও শপিংমলকে কেন্দ্র করে লখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ব্যাবসায়িক ব্যয়, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার বর্তমান সিদ্ধান্ত দেশের খুচরা ব্যবসার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
‘অনেক ক্রেতা কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় কেনাকাটা করতে পারেন না এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। ফলে দোকান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হন। এতে ব্যবসার পরিমাণ কমে যায়, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা করা এবং সাধারণ জনগণের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি যে, সরকারের বিবেচনায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ১২টা বা সরকারের উপযুক্ত মনে হওয়া যেকোনো সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সকল দোকান, শপিং মল, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমোদন প্রদান করা হোক।’
চিঠিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে; সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে; সাধারণ জনগণ সুবিধাজনক সময়ে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন; দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, অন্যথায় বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন, যার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে।
পরিবেশ রক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক অভিনব উদ্যোগ সর্বত্র ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে ‘বৃক্ষ ও বই’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ জুন) দপুরে উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এ বই বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উদ্যোগে অন্তত ৫টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা করেছে, তাদের সেই পরিবেশবান্ধব কাজের উপহারস্বরূপ ২টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলো ছিল পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ এর নিজের রচিত। তাঁর এই অনন্য উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গাছ লাগানোর মতো একটি ভালো কাজের জন্য সরাসরি পুলিশ সুপারের লেখা বই উপহার পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও অনুপ্রেরণার।
অভিভাবকরা বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে। তারা বলেন, পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।
এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান, অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই পুলিশ সুপারের এই ‘বৃক্ষ ও বই’ মডেলটি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”
পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান একটি উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা আট দিন পুরো শহরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমারটি সচল হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকটা কমে এসেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক এবং ছুটিতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী বাইপাস সড়কের উপকেন্দ্রে ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার অধিক শক্তিশালী একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এই ইউনিটটি পুরোদমে চালু হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে এসি ও লিফট বন্ধ থাকায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সেবার মান বিঘ্নিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই বিশেষ ট্রান্সফরমারটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বিশালাকার ট্রান্সফরমারটি আনা হয়। এটি উপকেন্দ্রে নিতে সড়ক বিভাগের সহায়তায় ডিভাইডারের অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার বিকেলে এটি চালু করা হয়। ওই সময় প্রচণ্ড তাপদাহ ও পর্যটকের আধিক্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি নেই। তবে জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে শহরে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৬ ও ৭ জুন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দামুড়হুদার বড়বলদিয়া, সুলতানপুর ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত অবৈধ মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৫ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১৪ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ১টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য চিৎড়ি বাবুর সহযোগি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাজী রাফসান মাহমুদ চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- খুলনা মহানগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬ টা হতে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৯ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানা ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ৫ জন, লবণচরা থানা ১ জন, হরিণটানা থানা ৬ জন, খালিশপুর থানা ৪ জন, দৌলতপুর থানা ২ জন, আড়ংঘাটা থানা ৭ জন এবং খানজাহান আলী থানা ৫ জন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের চিৎড়ি বাবুর সহযোগি এবং খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ(৩০), ১০ জন মাদক কারবারি এবং ১ জন চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কেএমপি।
গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ দমন এবং শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই গ্যালারির পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেই মৌলভীবাজারের রাজনগরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চটকদার ঘটনা! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের 'আঁঁতুড়ঘর' ছেড়ে চিরশত্রু আর্জেন্টিনার শিবিরে যোগ দিয়েছেন ইমরান খান নামের এক যুবক। আর এই ঐতিহাসিক দলবদলকে স্মরণীয় করে রাখতে তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা!
শনিবার (৬ জুন) রাজনগর উপজেলায় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ছোটবেলা থেকেই হলুদ জার্সি আর সাম্বার জাদুতে মজেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলেসাওদের একের পর এক ভরাডুবি আর নিতে পারছিলেন না তিনি। দল পরিবর্তনের পর আবেগাপ্লুত ইমরান জানান, "কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ কোথাও ব্রাজিল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে বুকভরা আশা নিয়ে বসি, আর দিনশেষে হতাশ হয়ে ফিরি। আর কত সহ্য করব? তাই এবার সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে নাম লেখালাম।"
শনিবার সকাল থেকেই রাজনগরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে আর্জেন্টিনা দলের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি চলে ইমরানকে বরণের প্রস্তুতি। শত শত সমর্থকের উপস্থিতিতে ড্রাম আর বাদ্যযন্ত্রের তালে ইমরানকে দুধ ঢেলে গোসল করানো হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দাবি, "ব্রাজিল সমর্থন করার যে দুঃখ বা কষ্ট ছিল, দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে তা ধুয়ে-মুছে তাকে খাঁটি আর্জেন্টাইন বানানো হলো।"
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনগরের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার,
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম বকুল। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নাচ-গান, ভুভুজেলা আর রঙ-বেরঙের পতাকায় পুরো রাজনগর যেন রূপ নেয় এক টুকরো বুয়েনস আইরেসে।
‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’-এর অ্যাডমিন ফুয়াদ আহমদ মুরাদ বলেন, "বিশ্বকাপের আগে আমাদের উন্মাদনা তো ছিলই, তবে একজন ব্রাজিল সমর্থকের আমাদের শিবিরে চলে আসা এবং তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনাটি পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।"
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ। কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, তা জানা যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে। তবে মাঠের খেলা শুরুর আগেই রাজনগরের এই দুধ-গোসলের গল্প যে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা 'টক অব দ্য কান্ট্রি' হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য!
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় একটি ব্রীজ কয়েক বছর ধরে হেলে পড়ে থাকলেও নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটি পারাপার করছেন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রবল বর্ষণে ছড়া থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে পাশাপাশি থাকা দুটি ব্রীজ সাঙ্গু নদীর দিকে হেলে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে ব্রীজের উপর পশ্চিম পাশে ঢালায় করে অস্থায়ীভাবে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও ব্রীজটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজালিয়া–পুরানগড়–শীলঘাটা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি সহস্রাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। তবে ব্রীজটি হেলে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট আকারের ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, “এলাকার কৃষকেরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। আগে ট্রাকে করে সহজেই এসব পণ্য বাজারে পাঠানো যেত। কিন্তু ব্রীজ হেলে পড়ার কারণে ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ছোট যানবাহনে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ না হলে কৃষকেরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুহাম্মদ ফিরোজ আলম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ধোপাছড়ি ও শীলঘাটার দিকে বেকারির পণ্য পরিবহন করি। হেলে পড়া ব্রীজ পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয়, বুঝি ব্রীজসহ গাড়িটি সাঙ্গু নদীতে পড়ে যাবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।”
আরেক অটোরিকশাচালক আবদুল জলিল বলেন, “নিয়মিত এই সড়কে গাড়ি চালাই। ব্রীজের ওপর উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ব্রীজ পার হতে হয়। এটি আমাদের জন্য চরম দুর্ভোগ। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ করে চরম ভোগান্তি থেকে স্থানীয়দের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা হেলে পড়া ব্রীজটি অপসারণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, “গত বছর নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারসহ ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গতকাল (৬ জুন) উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ গ্রামের সেরাজ প্রামাণিকের ছেলে শরিফুল ইসলাম খবির (৩৭), মৃত আবেদ আলীর ছেলে মামুন সরদার (৩৩), নজরুল প্রামাণিকের ছেলে এসার প্রামাণিক (২৪), রুহুল আমিনের ছেলে তুষার খন্দকার (২৫), ও উল্লাপাড়া উপজেলার আইলের উপর গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্লার ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৬),
অভিযান সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে এই ৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের "ক" সার্কেলের উপ-পরিদর্শক মো: আছাদুল হক বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করেছেন।
তাড়াশ থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৬ জনের হদিস মিলছে না।
গেল রাতের কোন এক সময় তাদেরকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় বিএসএফ না বাংলাদেশের বিজিবি তাদেরকে সরিয়ে নিয়েছে তা নিয়ে তৈরী হয়েছে এক প্রকার ধুয়াশা।
জানা গেছে, শনিভার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জনকে প্রতিরোধ করে বিজিবি। বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন অপচেষ্ট ব্যর্থ হয়েছে। ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জন ভারতে ফিরে যেতে না পেরে অবস্থান নেয় কাটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডে।
দুই পরিবারের ৬ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ জন শিশু ছিল। সীমান্ত মাঠে পাট ক্ষেতের পাশে তারা শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে। বিজিজি ও গ্রামবাসী তাদের জন্য শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করে। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে তাদের কোন খোঁজ নেয়নি। এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাক বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। নিরুপায় হয়ে তারা মাঠের মধ্যেই রাত যাপনে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বিজিবির সাথে পাহারা করে গ্রামের লোকজন। এর পরে রাত তিনটার দিকে ৬ জননে আরও পাওয়া যানি। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে না ভারতে ফেরত গেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়ার সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা জানান, রাত ৩টার পর থেকে তাদেরকে আর সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে- বিএসএফ তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে।