শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩

গাজীপুরে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত যারা

প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ২২:২৮

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোটে পরাজিত করে গাজীপুরের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন।

নির্বাচনে ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুস সালাম আহমেদ আব্বাস, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মনির হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহিন মোল্লা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী আতাউর, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দবির সরকার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামান তুলা, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার আহমেদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল আলম (তপন), ১০ নম্বর ওয়ার্ডে খলিলুর রহমান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সনজিৎ বাবু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আব্বাস উদ্দীন খোকন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম সরকার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম আলতাব হোসেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ফয়সাল আহমাদ সরকার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু সাঈদ মণ্ডল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল কাদির মণ্ডল, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাহীন আলম, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন বাদল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ছবদের হাসান, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম রিপন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাহবুবুর রশীদ খান শিপু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুর রহমান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হান্নান মিয়া হান্নু, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে জাবেদ আলী জবে, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাসান আজমল ভূইয়া, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজাহান মিয়া সাজু, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আলমাস মোল্লা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে মীর ওসমান গনি (কাজল), ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইকবাল হোসেন মোল্যাহ, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাশেদুজ্জামান জুয়েল, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মনিরুজ্জামান, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুল হাসান বিল্লাল, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে এম কে নজরুল ইসলাম বিকি, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন মোল্লা, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালেদুর রহমান রাসেল, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাজহারুল ইসলাম দিপু, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ আলম রিপন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল ইসলাম, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল উদ্দিন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে সফি উদ্দিন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমির হোসাইন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী আবু বকর সিদ্দিক, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আমজাদ, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে সোলায়মান হায়দার, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল হোসেন মোল্লা, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হাশেম, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়াস উদ্দিন সরকার।

সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ১৯ জন নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে পারভীন আক্তার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদা আক্তার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইসরাত জাহান শিল্পী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাসলিমা নাসরিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে লিপি আক্তার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তানিয়া আক্তার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রীনা সুলতানা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আফসানা আক্তার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাসেরা সুলতানা বেবী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়েশা আক্তার, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সালেমা খাতুন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে হাসনা হেনা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিরিন আক্তার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হোসনে আরা সিদ্দিকা, ১৫ ফেরদৌসি জামান ফিরু, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে হামিদা বেগম, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিনা আক্তার, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কেয়া শারমিন ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাখি সরকার।

বিষয়:

নির্বাচিত

সড়কে নিহত উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার পরিবারের পাশে বাহিনীর ডিজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গত ৫ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মীরসরাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তার এই অকালমৃত্যুতে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তৎকালীন সময়ে দাফন ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ তাৎক্ষণিক ৭৫,০০০ টাকা দেওয়ার পর এবার তার ব্যাংকের ঋণের বোঝা শোধ করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয় বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পক্ষ থেকে নিহত উপজেলা কর্মকর্তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন পলির হাতে ২,৫৮,০৭৪ টাকার আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন। এই অর্থ দিয়ে প্রয়াত মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বকেয়া থাকা ঋণ পরিশোধ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা ও বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পরিচালক এনামুল খাঁন। মহাপরিচালক মহোদয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সব সুবিধা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করাসহ ভবিষ্যতেও বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

জনগণের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো সেবা নয়, সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন পিপিপি মডেল চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়, দায়িত্ব উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে সব সময় সব জনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে, ফলে জনচাহিদা পূরণ ও উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক এক সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জলপথের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন এবং ওয়াসাসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য উদ্ভাবনী পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং এলাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দুটি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভুক্ত। এ দুই ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলের চমচম বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ছীব: টাংগাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাংগাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে।

টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। যেমন টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে গোপালপুরের একটি অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও চমচম নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি আনারসের কথাও বলেছিলেন। টাঙ্গাইলের এই চমচমকে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।

চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে এ শিল্পে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ির বিদেশে প্রচুর কদর রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে তাঁতিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা শাড়ি তৈরি করেন, তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যে তাঁতিরা এই কাজ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে একটি তাঁতি সমাবেশ করব। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টির মতো ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও বিভিন্ন আধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য, যারা স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত নানা জালিয়াতিতে জড়িত ছিল।

পাসপোর্ট ব্লক ও ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে কঠোর সতর্কতা জারি থাকায় তারা দেশত্যাগ করতে ব্যর্থ হয় এবং দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর পুলিশ তাদের আটক করে।

চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে সিআইডিসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যুক্ত রয়েছে এবং জব্দকৃত ডিভাইসসমূহ পরীক্ষার পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

তালের মৌসুমে জমজমাট গ্রামবাংলা, পিঠা-পায়েসে উৎসবের আমেজ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

৬ ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এই দেশে একেক ঋতুতে একেক রকম খাবারের ধুম পড়ে গ্রামগঞ্জের মানুষের। তা আবার প্রাচীণকাল থেকেই। এখন বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাস শরৎকাল। এ সময় তালগাছ থেকে ধপধপ করে পাকা তাল পড়ছে। গাছ থেকে যখন পাকা তাল পড়ে তখন একরকম ধপধপ শব্দ হয়। যে শব্দ কানে আসলেই বুঝা যায় তালগাছ থেকে তাল পড়েছে।

প্রাচীণকাল থেকে ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখে তেরা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তেরা উপলক্ষে পাকা তাল দিয়ে তালের পিঠা, তালের বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা করা হয়। প্রাচীণকালের এই তেরা উৎসব এখনো ধরে রেখেছে গ্রামগঞ্জের মানুষ। যাদের তালগাছ রয়েছে তারা ঘুম থেকে জেগে ভোরেই তালগাছ তলা থেকে তাল কুড়িয়ে নিয়ে আসে। আর যাদের তালগাছ নেই তারা হাট-বাজার থেকে তাল কিনে এনে সহজ পক্রিয়ায় তাল চিপে রস বের করে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে গুড় অথবা চিনি, দুধ ও গরম মশলা দিয়ে পাতিলে তুলে জ্বাল করে নেয় রাঁধুনিরা। এরপর সুস্বাদু তালের পিঠা, তালের বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে। তালের ২টি জাত রয়েছে। তা হচ্ছে গ্রাম্য ভাষায় মহিষা তাল ও দুধা তাল। মহিষা তাল দেখতে কালো রঙের বড় আর দুধা তাল দেখতে লালটে রঙের একটু ছোট।

নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারের তাল বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, আমি প্রতিদিন গ্রাম থেকে তাল কিনে এনে বাজারে বিক্রি করি। এতে কিছু টাকা আয় হয়। গাছপাকা ছোট তাল ১০-১৫ টাকা, মাঝারি তাল ২০-২৫ টাকা ও বড় তাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আর হয়তো কয়েকদিন বাজারে তাল বিক্রি করতে পারব। এরপর তালের সিজন শেষ হয়ে যাবে।

নন্দীগ্রাম থানা রোডের বাসিন্দা অসিম কুমার রায় জানান, নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজার থেকে ৬০ টাকা দিয়ে ৩টি তাল কিনেছি। সেইসব তালের রস দিয়ে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে খেয়েছি। তালের পিঠা ও তালের বড়া খেতে খুব মজা লাগে। তেরা উপলক্ষেও বাসায় তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করা করা হবে। গৃহিণী সীমা রাণী জানান, তাল দিয়ে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে খেতে খুব ভালো লাগে। তাই প্রতিবছর আমি তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে থাকি। তা বাসার সবাই খায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও তাল বেশ উপকারী। তালে আছে ভিটামিন বি, তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তাল ফল হিসেবে বড় হলেও বাজারমূল্য খুবই কম।


নির্বাচিত

হাওরে পানির নিচ থেকে চলছে মাটি পাচার: ধ্বংসের মুখে অষ্টগ্রামের পরিবেশ ও কৃষি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের বাঘাইয়া গোনার হাওরে বর্ষায় অথৈ জলরাশির আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাটি পাচারকারী চক্র। আইনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড় পন্টুনে বসানো এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে পানির তলদেশ থেকে অবিরত কাটা হচ্ছে উর্বর পলিমাটি।

সংগৃহীত এসব মাটি দ্রুত বড় বড় বাল্কহেডে বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ট্রাক বা ট্রলার ব্যবহৃত হলেও বর্ষার এই সময়ে গভীর জলের সুযোগ নিয়ে নৌপথকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে এই চক্রটি।

​ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৫ ধারা অনুযায়ী জলাশয় বা কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য।

​স্থানীয় কৃষকদের মতে, জমির উপরিভাগের এই উর্বর পলিই মূলত ফসলের প্রাণ। এ ধরনের নির্বিচারে মাটি উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি গভীর গর্তে পরিণত হচ্ছে এবং চিরতরে হারাচ্ছে উর্বরতা, যা আসন্ন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিকাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত এই খননকাজের কারণে হাওরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম ও দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননক্ষেত্র মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় কৃষক সমাজকে সুরক্ষার স্বার্থে এই বেপরোয়া মাটি পাচার অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, বর্ষার পানিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই নির্দিষ্ট পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে সাইবার সেলের তৎপরতায় উদ্ধার ৩০টি হারানো মোবাইল ফোন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে কেশবপুরের মৃৎশিল্প

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে মাটির হাঁড়ি, পাতিল, সরা, কলস, জগ, মগ ও থালা-বাসনের ছিল ব্যাপক ব্যবহার। রান্নাঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা কাজে মাটির তৈরি সামগ্রী ছিল মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। সময়ের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের সামগ্রী। ফলে কেশবপুরে বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে।

তবু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি মাটির তৈরি পণ্যের কদর। কেশবপুরের স্থানীয় বাজারে এখনো ছোট-বড় প্রায় শতাধিক ধরনের মাটির সামগ্রীর বেচাকেনা হচ্ছে। হাঁড়ি, পাতিল, প্লেট, মগ, ফুলদানি, টব, জগ থেকে শুরু করে পয়সার ব্যাংক—বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছেন মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাজারের প্রবীণ মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ী ব্রু দাস পাল জানান, প্রায় ৮০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার দোকানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ ধরনের মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার পয়সার ব্যাংক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দামের বিশেষ পানি খাওয়ার জগও রয়েছে। দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ঝিলে সরা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হয়।

তিনি জানান, এসব মাটির সামগ্রীর বড় একটি অংশ যশোরের দায়তলা থেকে পাইকারি দরে আনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও কিছু পণ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিবহন, দোকান পরিচালনা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে দিনে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতে হচ্ছে।

কাঁচামালের সংকটেও বিপাকে কারিগররা, মৃৎশিল্পের প্রধান কাঁচামাল মাটি। কিন্তু উপযুক্ত দোআঁশ ও এঁটেল মাটি এখন আগের মতো সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে চড়া দামে মাটি কিনে আনতে হচ্ছে কারিগরদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মাটির তৈরি পণ্যের দাম।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমেও রয়েছে বাড়তি সমস্যা। রোদ না থাকায় মাটির তৈরি পণ্য শুকানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অথচ বর্ষাকালে মাটির তৈরি কিছু নির্দিষ্ট পাত্রের চাহিদা থাকে বেশি।

কেশবপুরে বর্তমানে আলতাপোল পালপাড়া ও ব্রহ্মকাটি—এই দুই গ্রামে বংশপরম্পরায় পাল ও কুমার সম্প্রদায়ের মানুষ মৃৎশিল্প ধরে রেখেছেন। কিন্তু পেশাটির আয় কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আর মৃৎশিল্পে আগ্রহী হচ্ছেন না। জীবিকার তাগিদে কেউ অন্য পেশায় যাচ্ছেন, কেউবা শহরমুখী হচ্ছেন। ফলে কারিগর সংকটও ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে।

প্লাস্টিকের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা পাশের দোকানদার রতন পাল বলেন, ‘প্লাস্টিকের সামগ্রী তুলনামূলক সস্তা, সহজে বহনযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মাটির পাত্রের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে মাটির পণ্যের বাজারও আগের মতো নেই।’

শখ ও পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে মাটির পণ্যতবে মাটির পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ডুমুরিয়া থেকে কেশবপুর বাজারে মাটির সামগ্রী কিনতে আসা হাবিবুল্লাহ জানান, নিত্যব্যবহারের জন্য নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক হওয়ায় তিনি মাটির তৈরি প্লেট ও মগ কিনছেন।

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঘর সাজানোর নান্দনিক প্রবণতার কারণে মাটির তৈরি ফুলদানি, টব, মগ, প্লেটসহ বিভিন্ন পণ্যের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক নকশা, মানসম্মত পণ্য ও বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় করা সম্ভব। যার কারণে পৃষ্ঠপোষকতা চান মৃৎশিল্পীরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার বলেন, ‘মৃৎশিল্প গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার চাপে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়া কাম্য নয়। মৃৎশিল্পীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব মাটির পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।’

কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি কেশবপুরের লোকজ ঐতিহ্যেরও অংশ। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে এই শিল্পকে আধুনিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে হবে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং মাটির পণ্যের প্রচার ও বাজারজাতকরণে উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা জরুরি।’

হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আধুনিক সামগ্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মাটির পণ্যের বাজার ধরে রাখা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে মাটির সামগ্রীর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সময়োপযোগী নকশা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা।

মৃৎশিল্পীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত কাঁচামালের সরবরাহ এবং স্থায়ী বাজার নিশ্চিত করা গেলে কেশবপুরের হারিয়ে যেতে বসা এই লোকশিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। অন্যথায় প্লাস্টিকের অব্যাহত দাপট আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা কুমারদের এই পেশা একদিন শুধু স্মৃতির পাতাতেই ঠাঁই নিতে পারে।


নির্বাচিত

১৩ বছরের সংগ্রামে পুরস্কার পেলেও ঘর মেলেনি সুমীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

এক হাতে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কারের ক্রেস্ট, অন্য হাতে জীবিকার জন্য সেলাইয়ের কাজ। ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সুমী বেগম। কিন্তু তাঁর নিজেরই নেই থাকার মতো একটি ঘর। একমাত্র ছেলে সৌরভকে নিয়ে এখনো বাবার সংসারেই দিন কাটছে তাঁর।

সুমীর জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল ১৩ বছর আগে। তখন তাঁর কোলে ছিল মাত্র তিন মাসের শিশু। নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেও সুমী আর বিয়ে করেননি। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন একের পর এক বছর।

সেই তিন মাসের শিশু সৌরভ এখন ১৩ বছরের কিশোর। শেরপুরের নকলা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে। ছেলের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নিজের জীবনকে নতুন করে সাজিয়েছেন সুমী।

নকলা পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সুমী এখন বাবার ঘরেই ছেলেকে নিয়ে থাকেন। তাঁর বাবা ফারুক মিয়া অটো চালান। নিজের সংসার চালাতেই তার আয় শেষ হয়ে যায়। নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তার।

ফারুক মিয়ার সংসারে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে সুমী ও নাতি সৌরভ—সব মিলিয়ে ছয়জন। সংসারে অভাবের কারণে সুমীর নিজের ও ছেলের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা হয়নি।

অভাবের সংসারে বাবার ওপর চাপ কমাতে কয়েক বছর আগে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন সুমী। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়ে নিজের খরচ, ছেলের পড়াশোনা ও সংসারে সহযোগিতা করতে হয় তাকে। ফলে নিজের একটি ঘর নির্মাণের কথা ভাবার সুযোগও হয়ে ওঠে না।

তবে নিজের অর্জন নিয়ে হতাশ নন সুমী। পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি। কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে এই স্বীকৃতিই আমাকে সাহস দেয়। ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করার শক্তি পাই।’

সুমীর কাছে ছেলের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। সীমিত আয় দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সেই স্বপ্নের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কার্যক্রমে ‘নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে’ ক্যাটাগরিতে নকলা উপজেলায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হন সুমী বেগম।

পুরস্কারটি তার ১৩ বছরের সংগ্রামের স্বীকৃতি। কিন্তু স্বীকৃতি পাওয়ার পরও তাঁর জীবনের মৌলিক চাহিদা—একটি নিরাপদ ঘর—অপূর্ণই রয়ে গেছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, 'এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'


নির্বাচিত

সারা দেশে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যায়-অত্যাচার ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বাপর যুগে এই পবিত্র তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগের শেষদিকে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। তার জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ভক্তরা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দিরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, নামযজ্ঞ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক ভক্ত উপবাস থেকে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় অংশ নেন। দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;

‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা:

‎ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।

‎‎এ উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী গীতাপাঠ, পূজা-অর্চনা, আরতি, কীর্তন, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন।‎

‎উদ্বোধন শেষে বোরহানউদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন চন্দ্র রক্ষিত ও সাধারণ সম্পাদক বিল্টু চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই আশ্রম মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

‎‎অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল, উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ণ কর্মকার, সহ-সভাপতি গোপাল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক নীল রতন দে-সহ বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‎‎আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ মানবকল্যাণ, সত্য, ন্যায় ও শান্তির শিক্ষা দেয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

‎‎উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজনান্দয়ালী নিতাই গৌড় গোপাল সেবাশ্রমে গীতা পাঠ দিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। দুপুর ৩ টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন অন্তে নিতাই গৌড় গোপাল সেবাশ্রম থেকে শুরু হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাত দোহা ন্যাংটা বাবার আশ্রম প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় শতাধিক মতুয়া সংঘ ঢোল বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে শহর মাতিয়ে তোলে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ,মাগুরা কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক বাবু মোহন লাল রায়, জন্মাষ্টমীর উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাড প্রদ্যুৎ কুমার সিংহ,মাগুরা জেলা মতুয়া মিশনের সভাপতি চারণ কবি শ্রী গোরাচাঁদ সরকার , হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী মনোরঞ্জন সরকার ও শ্রী শ্রী ন্যাংটা বাবার আশ্রমের সভাপতি লিপিকা দত্ত। ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শ্রী চিন্ময়ানন্দ দাস বাবাজি মহারাজ চঞ্চল গোসাই, বাটিকা ডাঙ্গা রাধা বিনোদ সেবাশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শ্রী ভবানন্দ দাস বাবাজি মহারাজ ও সাহাপাড়া শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ অচ্যুত অদ্বৈত দাস ব্রহ্মচারী। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি মাগুরা। বিকাল সাড়ে তিনটায় ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলায় নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির চত্বর থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের মহানাম কীর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শেষে সেখানে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

এসব অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেহেদী মোর্শেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম-আহাবায়ক মো. সোহেল পারভেজ, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইণ্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. মাহবুব উর রহমান, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি মন্দিরের সভাপতি অক্ষয় কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গতকাল শুক্রবারের কর্মসূচিতে শহরের শ্রী শ্রী শিব মন্দির, মিলনপল্লী, বাড়াইপাড়া মন্দির, যোগমায়া এবং সনাতন গীতা সংঘ, শারদাঞ্জলি ফোরাম, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রণ্ট, হিন্দু মহাজোট, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য ফ্রণ্টসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্য এবং সাধারণ ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা জানান, মন্দির কমিটির আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শনিবার সকালে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকায় শ্রী শ্রী গৌরী শংকর সোসাইটির আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুলু বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায় যেন নিজেদের দুর্বল মনে না করে, সেজন্য তাদের ধর্মীয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গৌরী শংকর সোসাইটির উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সোসাইটির সম্পত্তি সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এত বড় সম্পত্তি ফেলে রাখলে তা দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য নতুন কমিটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

লালমনিরহাটের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী সিন্ধুমতী দিঘিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেখানে দুর্গা, কালী ও শিব মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী হীরালাল রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার রায় এবং হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি শ্রী গুরু চরণ রায়সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ।

পৌর শহরের কালিবাড়ি মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন। ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও ভক্তদের নানা আয়োজনে শোভাযাত্রাটি মিলন মেলায় পরিনত হয়।

এ সময় বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পরিমল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কুশল রাজ পাল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ব-খ্রিস্ট্রান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু এবং জেলা শাখার সভাপতি দীপক রঞ্জন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাস, চন্দন কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও অংশ নেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে জন্মাষ্টমীর আনন্দ-উৎসবে সামিল হন।

শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র ও ধর্মীয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। টাঙ্গাইল শ্রীশ্রী কালীবাড়ির আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

এর আগে সকালে শ্রীশ্রী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু শ্যামল হোড়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লব।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রী কালীবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শ্রীশ্রী কালীবাড়ি কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান কেন্দ্রীয় আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির থেকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় সাজসজ্জা ও বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে অংশ নেন। এ সময় পুরো শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বরগুনা প্রতিনিধি : জেলায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সার্বজনীন শ্রীশ্রী মদন মোহন জিউর মন্দির ও আখড়াবাড়ী মন্দিরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শোভাযাত্রা বের হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।

সার্বজনীন আখড়াবাড়ী কমিটির সভাপতি শ্রী দিলীপ কর্মকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইশতিয়াক আহমেদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম সালেহ ফারুক, বরগুনা চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন নাইব, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আতাউর রহমান বাবুল।

সভা পরিচালনা করেন, সার্বজনীন শ্রীশ্রী মদন মোহন জিউর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কর্মকার।

এ অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, আমরা এমন একটা দেশ গড়বো যেখানে সব মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আখড়াবাড়ি মন্দিরে এসে শেষ হয়।

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: সনাতন সম্প্রদায়ের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গাজীপুরের টঙ্গীতে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে টঙ্গীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শুভযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী বাজার সার্বজনীন শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমল রায়, জনকল্যাণ কমিটির সভাপতি দেবেন্দর দত্ত, যুব কমিটির সভাপতি বিক্রম রায়, সাধারন সম্পাদক লিটন দাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ টঙ্গী পূর্ব থানা সভাপতি শ্রী নারায়ণ রায় বাবুসহ থানা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ।

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া সার্বজনীন শীব মন্দিরে পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির এর আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এলাকার সনাতনী হিন্দু ধর্মালম্বীরা একত্রিত হয়ে মাঙ্গলিক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বেড় করেন ।

বর্ণাঢ্য র‌্যালীটি তেতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালী টি সার্বজনীন শীব মন্দির গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালি, আলোচনা সভায় অংশ নেন তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন রঞ্জু তেঁতুলিয়া বিএনপি

যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া তেঁতুলিয়া পুজা, উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি.হিরা কান্ত রায়, পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির

সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র, পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সদস্য বিধান চন্দ্র রায় শ্রী কাঞ্চনদেব অন্যান্যরা।এ সময় সনাতনী ধর্মালম্বীরা নেচে,গেয়ে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেন। প্রতি বছরের ন্যায় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে পালন করে আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র্র মাসের কৃষ্ণপরে অষ্টমি তিথিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন।

সনাতন ধমালম্বীদের বিশ্বাস, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত্ত হয়েছিল-তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানব কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠাতার জন্য মহাবতার ভগবান শ্র্রী কৃষ্ণের আর্বিভাব ঘটেছিল। আর সে কারণে যুগে যুগে তিনি পৃথিবীতে আর্বিভাব হয়ে দুষ্টের দমন করে ছিলেন।

ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গলাচরণ, পূজার্চনা, প্রার্থনা, শোভাযাত্রা, ধর্মালোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর পূজা, প্রার্থনা ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন বাবর। প্রধান আলোচক হিসেবে রাধা মদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভূত নন্দলাল গোস্বামী, বিশেষ আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশ ও সমাজ হিন্দু-মুসলমান সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে। ইসলাম ধর্মে কোনো গোঁড়ামির স্থান নেই, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষাই দেওয়া হয়েছে। হযরত ওমর (রা.) এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ আমাদের অন্যায় ও অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী অন্যায় বা হয়রানির শিকার হলে আমরা সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াব। সুন্দর ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাইতে শেখায়। মথুরায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান প্রমাণ করে ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও মানুষের আসল সৌন্দর্য নিহিত ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতিতে। 'ধর্ম যার যার, দেশ সবার'—এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, অনিয়ম, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'—এই নীতিতে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও চর্চা করার পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। আমাদের সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতেও তাদের সকল ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারে এবং কেউ যেন কোনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেই সার্বিক সহায়তা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহমান কাল ধরে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। আজকের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অবতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুষ্টের দমন এবং শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবানদের রক্ষা করা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ একসাথে অংশ নিয়েছিল, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও স্বৈরাচার উৎখাতে সকলে ঐক্যবদ্ধ ছিল। শ্রীকৃষ্ণের বাণী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সমর্থন বজায় রাখবে।

বগুড়া প্রতিনিধি: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহানগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। এতে বগুড়া সদর ও পৌর এলাকার কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষ নানা সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে আনন্দ প্রকাশ করে।

শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ।

ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার রায়, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, বগুড়া মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সাধারণ সম্পাদক সুজিত জয়সোয়াল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলোক রায়।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন (অডিটোরিয়াম) প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত শত মানুষ অংশ নেন। অনেকে নানা ঐতিহ্যবাহী সাজে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ভক্তিমূলক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি ও জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নব কুমার দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ। এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শামীম রেজা মোল্লা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মূল শিক্ষা হলো সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির প্রতিষ্ঠা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও অসহিষ্ণুতা দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নব কুমার দেবনাথ বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও মানবিক শিক্ষা অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অন্যায়, অবিচার ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই ধরাধামে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়।

শ্রীমঙ্গল সার্বজনীন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে পরিষদের সভাপতি শংকর বণিক সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।

পরে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্তরা অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে এবং উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত ছিলেন।

শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সবার মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজঘাট ও ফুলছড়া চা-বাগানে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা, কীর্তনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে চা-বাগানের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও বিপুলসংখ্যক ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পৌর কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। এ উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভক্তদের উপস্থিতি। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, ন্যায়, সত্য, মানবতা ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার শিক্ষা তুলে ধরেন। তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও কর্ম শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর আদর্শ থেকে মানবসমাজ শান্তি, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবিকতার শিক্ষা নিতে পারে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্ম ও অন্যায়ের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মতিথি জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন।

অনুষ্ঠানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ গুন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রলয় কুমার বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ভাবেশ চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক বাবু মলয় কুমার দেবসহ বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক ও বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহিনুর রহমান (শাহিন)। তিনি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উৎসবকে আনন্দমুখর ও সার্থক করে তোলায় সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় ভাঙ্গুড়ার মেদা কালীবাড়ী মন্দিরে উদযাপিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় আয়োজনে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা সহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিনটি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ধর্মীয় পতাকা এবং বেলুন উড়িয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনার উদ্ধোধন করেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোকাই মারমা। উদ্ধোধন শেষে আনন্দ র‍্যালিটি খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে এসে শেষ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ, খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি ধনা চন্দ্র সেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এম এন আবছার সহ শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ-বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি শাখার সিনিয়র সদস্য বৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সনাতন ধর্ম একটি প্রাচীন ধর্ম। দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য প্রায় ৫ হাজার ২৫২ বছর আগে দ্বাপরযুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এক যুগ সন্ধিক্ষণে বসুদেবের স্ত্রী দেবকীর গর্ভে কংসের কারাগারে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এবং অত্যাচারী কংসের হাত থেকে শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মানুষদের বাঁচাতে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। শুধু সনাতন ধর্ম নয়, জগতের সবার কল্যাণে তিনি কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে অত্যাচারী কংস'কে শ্রীকৃষ্ণ হত্যা করেন।

এছাড়াও জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ির সদর ও বিভিন্ন উপজেলার মন্দির থেকে ব্যানারে আনন্দ র‍্যালি প্রদর্শনীতে ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।

চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপিত হয়েছে। সকালে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে শিশু-কিশোররা রাধা, কৃষ্ণ, কংস ও বসুদেবসহ বিভিন্ন চরিত্রে সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেয়, যা উৎসবে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এ ছাড়া বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে গতকাল জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শহরের শালতলা শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করবেন, প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।’ অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ গুরুসেবানন্দ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিমসহ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহারে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী ও পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীলিপ সাহাসহ কয়েক হাজার ভক্ত।


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ পরিদর্শন করলেন প্রতিনিধি দল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রযুক্তি গ্রাম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অতিথিরা এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে প্রযুক্তি গ্রামের আওতায় এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফায়েল প্রধান, ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মোঃ মাসুদ রানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষি-জলবায়ু, মাটি ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের সমস্যাভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও চাহিদাকে গবেষণা পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

কাজিম মাস্টারের বাগান দেখে ফলচাষে উদ্বুদ্ধ তরুণরা

* বাড়ির আঙিনায় শতাধিক ফলের সমাহার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

কাজিম উদ্দিন মাস্টার। আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গ্রামে পরিচিত। শিক্ষকতার পাশাপাশি সে এখন সফল ফলচাষি। বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন দেশী বিদেশী বাহারি ফলের সমরোহ। ফল গাছের নতুন নতুন জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করাই তাঁর নেশা। তাঁর বাড়ির আঙিনা যেনো ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর ফল বাগান মাঝে মধ্যে পরিদর্শনে আসেন ও গবেষণা করেন। নিজেকে সুস্থ্য রাখতে সৃজনশীল চিন্তায় তিনি বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে শতাধিক দেশী-বিদেশী ফলদ গাছের সবুজ আবরনে সেজেছে পরিপূর্ণ নৈপুণ্যতায়। গ্রামের ভিতরে এ যেনো এক ব্যতিক্রমী ফলের উদ্যান।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহার অনন্তপুর গ্রামে মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় তার ফুল ও ফলের বাগানের নাম ‘মাস্টার বাড়ি মিশ্র ফল বাগান’। বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. কাজিম উদ্দিন। ২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয় হেলও বিষন্নতায় ভোগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে তিনি প্রথমে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত ১৭ শতাংশ জমিতে বাগান করে ফুল ও ফলের সাথে নিবীড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী বিদেশী ফল গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে থাকেন বাগানে। বাড়ির আঙিনায় শখের ফল বাগানে সাফল্যতায় তিনে বাড়ির আশপাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তোলেছের বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা, লেবু ও বারি জাতের কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান। গ্রামের মানুষের কাছে এখন কাজিম উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকের পাশাপাশি ‘আর্দশ কৃষক’ হিসেবে বেশ পরিচিত।

২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় মাল্টা গাছের বাগান করার মাধ্যমে তার ফলগাছে প্রেম হয়ে উঠে। এরপর থেকে শুরু। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় ফল বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারমাসি আঠা বিহীন কাঁঠাল, অষ্ট্রোলিয়ার বারমাসি হলুদ মাল্টা, সাদা জাম,রামবুটান, মিষ্টি তেতুল, সৌদি খেজুর, রুবি লঙ্গান, ভ্যালেজ, মুন্ড্রপ, গ্রীন লং ডিক্সন,দাসোনিয়া, মার্সেল ফোর্স, চয়ন, কারডিনাল, আল ফনস, দোবস্কি, বাই কুনুর আঙ্গুর, আনার- ই শাহী, বিদেশী থার্টি ওয়ান, ট্রান্সফিগারেশনসহ ৩০ এর অধিক জাতের আঙ্গুর, চেঙ্মাই, মিয়াজাকি, কিউজাকি, কিংঅফ চাকাপাত, বারি ৪, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, ব্যানেনা, কাটিমনসহ ২০ এর অধিক জাতের আম রয়েছে।

এছাড়াও এভকাডো, কাট বাদাম, শরিফা, অস্ট্রেলিয়ান মাল্টা, মিশরীয় মাল্টা, বারি-১, ভিয়েতনামি১২ মাসি মাল্টা, করমচা, বারোমাসি কদবেল, বারোমাসি আমড়া, মিশরিয় আনার, পাকিস্তানি আনার রয়েছে। ফিলিপাইনি লাল ও কালো আখ, চেরি ফলের গাছও রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির পাশে বাণিজ্যিক ভাবে ১ একর জমিতে কলম্বো ও সিডলেস লেবু, প্রায় ৩ একর জমিতে মাল্টা ও ১৫ শতক জমিতে ভিয়েতনামি ও বারি ৪ জাতের কাঠাল বাগান গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকাসড়কের পাশে পাহাড়ি লাল মাটিতে সুন্দর একটি টিনসেট বাড়ি। বাড়িটির নাম মাস্টারবাড়ি। কাজিমুদ্দিন মাস্টারের বাড়ি গ্রামের যে কাউকে বললেই দেখিয়ে দেয়। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মির্জা মো. মিনহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষকই নয়, আদর্শ ফলচাষি। তিনি আত্মীয় স্বজনদের উপহার হিসেবে ফল ও ফলের চারা উপহার দেয়। তার পরামর্শে অনেকে বাণিজ্যিক ফলের বাগান করেছেন। বাড়ির আঙিনায় তার বাগনটি যেন এক ফলের উদ্যান।

মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের ভাষ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পরও বিষন্নতায় ভোগছিলাম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান করে নিজেই পরিচর্যা করি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন শিক্ষিত সৌখিন কৃষক। কৃষির প্রতি তার অনেক আগ্রহ। নতুন ধরণের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তার বাড়ির আঙিনা যেন ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।


নির্বাচিত

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করতে করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ধর্ম বর্ণের উর্দ্ধে এক সাথে থাকবো এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো। এজন্য আপনাদের (হিন্দু ধর্মাবলম্বী) সবাইকে আমার প্রয়োজন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি নাটমন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের একে অপরের পাশে থেকে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা কোন অন্যায় মেনে নিবনা এবং কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবনা। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে একটা হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর শক্তি ও অনুপ্রেরণা।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আপনার সকলের ভালোবাসায় ও সহযোগীতায় সংসদে যেতে পেরেছি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী। কাজের মাধ্যমে আমার সেই ঋণের বোঝা কমাতে চাই। আমরা মানিকগঞ্জে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলন মেলার মতো বসবাস করছি। সবাইকে এই মিলন মেলা ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমাদের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের যে ঐক্য আছে, শক্ত হাতে সেটা ধরে রাখতে হবে। যাতে কোন অশুভ শক্তি আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।

এসময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি তাপস পাল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রনব শিকদার দুলাল, সহ-সভাপতি অর্নিবান পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালিপদ ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি রঞ্জিত দে ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরকার।

এরপর শহরের শহীদ রফিক সড়কে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বনার্ঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

banner close