শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোটে পরাজিত করে গাজীপুরের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন।
নির্বাচনে ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুস সালাম আহমেদ আব্বাস, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মনির হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহিন মোল্লা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী আতাউর, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দবির সরকার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামান তুলা, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার আহমেদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল আলম (তপন), ১০ নম্বর ওয়ার্ডে খলিলুর রহমান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সনজিৎ বাবু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আব্বাস উদ্দীন খোকন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম সরকার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম আলতাব হোসেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ফয়সাল আহমাদ সরকার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু সাঈদ মণ্ডল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল কাদির মণ্ডল, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাহীন আলম, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন বাদল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ছবদের হাসান, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম রিপন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাহবুবুর রশীদ খান শিপু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুর রহমান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হান্নান মিয়া হান্নু, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে জাবেদ আলী জবে, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাসান আজমল ভূইয়া, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজাহান মিয়া সাজু, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আলমাস মোল্লা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে মীর ওসমান গনি (কাজল), ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইকবাল হোসেন মোল্যাহ, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাশেদুজ্জামান জুয়েল, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মনিরুজ্জামান, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুল হাসান বিল্লাল, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে এম কে নজরুল ইসলাম বিকি, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন মোল্লা, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালেদুর রহমান রাসেল, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাজহারুল ইসলাম দিপু, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ আলম রিপন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল ইসলাম, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল উদ্দিন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে সফি উদ্দিন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমির হোসাইন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী আবু বকর সিদ্দিক, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আমজাদ, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে সোলায়মান হায়দার, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল হোসেন মোল্লা, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হাশেম, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়াস উদ্দিন সরকার।
সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ১৯ জন নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে পারভীন আক্তার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদা আক্তার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইসরাত জাহান শিল্পী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাসলিমা নাসরিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে লিপি আক্তার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তানিয়া আক্তার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রীনা সুলতানা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আফসানা আক্তার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাসেরা সুলতানা বেবী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়েশা আক্তার, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সালেমা খাতুন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে হাসনা হেনা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিরিন আক্তার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হোসনে আরা সিদ্দিকা, ১৫ ফেরদৌসি জামান ফিরু, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে হামিদা বেগম, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিনা আক্তার, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কেয়া শারমিন ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাখি সরকার।
বাংলাদেশ সফররত ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার (৫ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং মহাপরিচালকের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় ওমানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে বাংলাদেশ থেকে মৎস্য খাতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ব্যাপারে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু-ইকোনমি উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, অবকাঠামো এবং বিদ্যমান জনবলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামস্থ 'বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি'র প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ও কোর্স কারিকুলাম সম্পর্কেও ওমানের প্রতিনিধিদলকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে এবং তারা সুনামের সাথে বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জেলে বা ডেকহ্যান্ড, স্কীপার, মৎস্য প্রকৌশলী এবং অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে বিশেষায়িত ডিপ্লোমাধারীদের ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।
এছাড়াও, তিনি প্রতিনিধিদলকে দেশের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম মেরিন ফিশারিজ একাডেমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্যাডেট ও ডিপ্লোমাধারীদের দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সভা শেষে ওমানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতের কারিগরি মান এবং জনবলের দক্ষতার বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মন ওরফে হীরেন (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮) নামে ভ্যানের এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মন মহাদেবপুর উপজেলার মগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে। আহত পরেশ চন্দ্র বর্মন একই গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হীরেন ভ্যানে করে পরেশকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত অ্যাম্বুলেন্স পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক ও যাত্রী সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নীরেন চন্দ্র বর্মনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পরেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলার মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে উপজেলার সোহাগপুর ও গোড়াই এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রির অভিযোগে সোহাগপুর বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে গোড়াই এলাকার মোল্লা ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ৫ হাজার টাকা এবং গোড়াই ওয়াল সেতুর নিচে অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রির অভিযোগে তিন ফল বিক্রেতাকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্যাকেটে ফুটো, কোথাও দুধ জমে দইয়ের মতো—এমন অবস্থায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে দুধ পান করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা ও খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দুধ পরীক্ষা করা হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের ভাষ্য, গতকাল সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকরা। আবার কিছু প্যাকেটের দুধ জমাট বেঁধে দইয়ের মতো হয়ে থাকতে দেখা যায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। শিক্ষকরা দুধ বিতরণ না করার কথাও বলেন। দুধের প্যাকেটের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে ওই কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।
পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসেন মনোয়ার হোসেন। শিক্ষকরা দুধ নিয়ে আপত্তি জানালেও তিনি নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং এতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের কারও পেট ব্যথা, কারও মাথা ঘোরা, আবার কারও খিচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর একে একে আরও শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘দুধ বিতরণের সময়ই কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু দুধ দইয়ের মতো দেখতে পান তারা। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। দুধ বিতরণ না করার জন্যও বলা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসে নিজে দুধ পান করে শিক্ষার্থীদেরও তা পান করতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. বিমল দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা। তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন।
ইউএনও বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখেছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষা করতে ঢাকায় পাঠানো হবে। পরীক্ষায় কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মতো শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচিতে বিতরণের আগেই দুধের প্যাকেটে ত্রুটি চোখে পড়ার পরও কেন তা শিক্ষার্থীদের পান করতে দেওয়া হলো—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। দুধের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।
শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎও নির্মাণ করেন। সেই শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানেই দেশজুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬। সোমবার (৫ অক্টোবর) মাগুরা থেকে মৌলভীবাজার, গাজীপুর থেকে পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া থেকে ময়মনসিংহ—বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় র্যালি, আলোচনা সভা, গুণী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেসকোর শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এবারের আয়োজন। বাংলাদেশেও ৫ অক্টোবর দিবসটি এখন নিয়মিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ।
মাগুরা: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকব্বীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মামুনুর রশীদ। সভায় শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কুমিল্লার মুরাদনগর: উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে নজরুল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরির কাজও করতে হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মৌলভীবাজার: জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, শিক্ষকরা সমাজ পরিবর্তনের মূল কারিগর। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া: আলোচনা সভার পাশাপাশি পাঁচজন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের এসব শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে উপজেলা এলাকায় র্যালি হয়।
গাজীপুরের শ্রীপুর: বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ৩২ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। আয়োজকেরা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের যেন মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রায় ৭০০ শিক্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া: উপজেলা পরিষদ চত্বরে শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা হয়। বক্তারা জানান, জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ শিক্ষকসমাজের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। এবারের নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয়ভাবে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: চৌরাস্তা বাজারের তেতুলতলা থেকে র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সহস্রাধিক শিক্ষক অংশ নেন। পরে মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে সম্মাননাও দেওয়া হয়।
পঞ্চগড়ের বোদা: উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নীলফামারী: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র্যালি বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষার প্রধান কারিগর শিক্ষক। তাদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নয়ন জরুরি। অনুষ্ঠানে গুণী ও প্রবীণ শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম এবং নীলফামারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আফজালুল হক নান্নুকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা: উপজেলা চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় ইউএনও আমিরুল আরাফাত বলেন, মেধাভিত্তিক ও আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য। শিক্ষকদের পেশাগত সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও: উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মওলানা সামছুল হুদা পাঁচবাগী হলরুমে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আইসিটিনির্ভর কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠপরিকল্পনা ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
দেশের এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে—শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু পাঠ্যক্রম বা প্রযুক্তির উন্নয়নে সম্ভব নয়; শিক্ষকের মর্যাদা, নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আয়োজন তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিক্ষকতার মর্যাদা পুনর্বিবেচনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যয়েরও প্রকাশ।
কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা ও পানি দেওয়া। কেউ চারা তুলছেন, কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা গাড়িতে তুলে দিতে। শীতের আগমুহূর্তে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে এখন চলছে সবজির চারা বিক্রির ব্যস্ত মৌসুম।
ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে এই কর্মব্যস্ততা। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সমেশপুরের চারা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে এখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা চারা কিনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটছে।
চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন কৃষকদের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। তবে কৃষি অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
চাষিরা জানান, মূল মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে চারা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহ এবং মাটি পরীক্ষা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো শুনেছেন। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।
বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে পাবনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সভায় পাবনা জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনবান্ধব পুলিশিং এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জনবান্ধব, পেশাদার ও সেবামুখী পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডার ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার বিকল্প নেই।’ অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) আরজুমা আক্তারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁর আত্রাইয়ে ছাগলে সিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মিম হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের কিল-ঘুষিতে ইয়াছিন আলী (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াছিন আলী ওই গ্রামের গরিবুল্লা মণ্ডলের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের ছেলে সারোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সময় পরিবারের সবাই আহসানগঞ্জ বাজারে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে মিম হোসেনের ছাগল তাদের লাগানো সিমগাছের পাতা খাচ্ছিল। এ নিয়ে তার বাবার সঙ্গে মিমের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে মিম তার বাবাকে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াছিন আলীকে উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সারোয়ার হোসেনের অভিযোগ, মিম তার বাবার বুকে জোরে আঘাত করে কিল-ঘুষি মারায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলম বলেন, ‘বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
আত্রাই থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে দুপুরে মরদেহের সুরতহাল করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি প্রাক্কলিত দর সমন্বয় না করায় খুলনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদর বহাল রেখে এসব কাজ করলে লাভ তো দূরের কথা, বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু এ ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি যুক্ত। কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংক ঋণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম ব্যাপক বেড়েছে। অথচ সরকারি এস্টিমেটে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।’
সমিতির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আগামীকাল ৭ অক্টোবর।
ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ঠিকাদারের হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে ১৫০ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা।
একইভাবে পাথরের দাম গত বছর টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদেই তা ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম প্রতি হাজারে ৯-১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২-১৩ হাজার টাকা হয়েছে। কয়লার দাম টনপ্রতি ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা এবং বালুর দাম প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা হয়েছে।
শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্মাণসামগ্রী ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অথচ সরকারি দর নির্ধারণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান এস্টিমেটে কাজ করলে ঠিকাদারদের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।’ তা না হলে আগামীকাল ৭ অক্টোবরের টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাওর জনপদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম পুরোনো প্রতিষ্ঠান কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারী ডিগ্রি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র কয়েকজন। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও দুজন শিক্ষক অবসরে গেলে স্থায়ী শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিনজনে নেমে আসবে।
১৯৯১ সালে হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে রোটারিয়ান প্রকৌশলী ইমদাদুল হক কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। সরকারিকরণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও শিক্ষকসংকটের কারণে সেই প্রত্যাশা এখন অনেকটাই ম্লান।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সরকারিকরণের পর অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট নয়টি শিক্ষক পদ সৃজন করা হয়। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে দুজন প্রভাষক, ইংরেজিতে একজন, ইতিহাসে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক এবং দর্শনে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক রয়েছেন।
তবে অধ্যক্ষসহ পাঁচজন শিক্ষক ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। মৃত্যুজনিত কারণে ইংরেজি বিষয়ের স্থায়ী পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে আরও দুজন আগামী জানুয়ারির মধ্যে অবসরে যাবেন।
ফলে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম কীভাবে চালু রাখা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে খণ্ডকালীন ও অতিথি শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের সম্মানীসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, হাওর অঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।
শিক্ষা জাতীয়করণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারী ডিগ্রি কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বাদ মাগরিব রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এমজিএইচ গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। ১৯৩৪ সালে জন্ম নেওয়া এম গাজিউল হক দেশের নৌপরিবহন অবকাঠামোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন এম গাজিউল হক। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৬ সালে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচালিত হতো।
১৯৮০ সালে বার্ডস বাংলাদেশ ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রামভিত্তিক নৌপরিবহন কোম্পানি অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেডে অংশীদার হিসেবে যোগ দেন।
প্রায় এক দশক পর অংশীদারের সঙ্গে মিলে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান মার্স্ক লাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মার্স্ক বাংলাদেশ লিমিটেড গঠন করেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নৌপরিবহনের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল এম গাজিউল হকের।
১৯৯৩ সালে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
১৯৯২ সালে তাঁর ছেলে আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এম গাজিউল হকের নামের আদ্যক্ষর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়।
বর্তমানে ২৬টি দেশে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে। লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, আতিথেয়তা, অর্থায়ন ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবসায়িক জীবনে নৌপরিবহন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া এম গাজিউল হকের মৃত্যুতে ব্যবসায়ী অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, মূল্যায়ন ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কারণ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। আমি নিজেও ১৭ বছর শিক্ষকতা করেছি। তাই শিক্ষকতার সঙ্গে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।
সোমবার (অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষকদের। তাদের সঠিকভাবে তৈরি করা, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। শিক্ষকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো কাজ করছে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে সাড়ে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। এর বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও কয়েক লাখ শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত আছেন। তাদের সঠিক অবস্থান, মর্যাদা, বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে সামাজিক সম্মানসহ সবকিছু সঠিক জায়গায় নিতে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এ মহড়ায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়।
মহড়ায় বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা এবং ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগরামের ধারা ১৬.২.৫.২ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অন্তর বিমানবন্দরে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন, জাহানারা ক্লিনিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।
মহড়ার কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন লাগার বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানায়। এরপর এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে অবহিত করে।
জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের কেন্দ্রীয় লাইন অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে। পরে এটি রানওয়ের বাম দিকে ছিটকে ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় বেবিচক ও অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিমান খাতের নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসন্ন আইকাও অডিটকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
এ ছাড়া ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল সমানভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।