বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া

মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:৪৪

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

মরিয়ম মান্নানের মায়ের এই ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। এর মধ্যেই রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা খুলনার দৌলতপুর থানার এসআই লুৎফুল হায়দার তাকে উদ্ধারের বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ওসি আব্দুল ওহাব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খুলনায় পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি দল রাত ২টার দিকে রহিমা বেগমকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানায় পৌঁছায়।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন দৌলতপুর থানায় রহিমা বেগমকে নিয়ে আসার পর উদ্ধার অভিযান বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান এবং সেখানেই ছিলেন।

মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আপাতত তাকে ভিকটিম সেন্টারে রাখবো, এবং পিআইবি চাইলে তাদের কাছে হস্তান্তর করব। রহিমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কথা বললে হয়তো আমরা জানতে পারতাম তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন বা কী ঘটনা ঘটেছে। আরো জিজ্ঞাসা করে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত জানা যাবে।'

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ বছর আগে খুলনার সোনালী জুট মিলে চাকরি করতেন কুদ্দুস মোল্লা। তখন তিনি পরিবার নিয়ে রহিমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় রহিমার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুদ্দুসের পরিবারের। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো।
পুলিশ রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার আগের কল রেকর্ডের সূত্র ধরেই তদন্তে নামে। সেখান থেকেই জানতে পারে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে তার অবস্থান। তবে এই সময় তিনি পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

দৌলতপুর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার মেয়েরা অপহরণের নাটক সাজান। রহিমা আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় যেকোনো নারীর মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করার পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছিলেন তার মেয়েরা।’

এর আগে গত শুক্রবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা একটি মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করেছিলেন মরিয়ম মান্নানসহ রহিমা বেগমের তিন মেয়ে।

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন রহিমার ছেলে মো. মিরাজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর রহিমা অপহরণ মামলা পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। এদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এই মাত্র।’

পরদিন সকালে নিখোঁজ রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

এ সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান তার মায়ের ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে এটাই আমার মা।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফুলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মোতালেব চৌধুরী শুক্রবার বলেন, ‘মরিয়মের মায়ের বয়স ৫৫ বছর। আমরা যে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করেছি, তার আনুমানিক বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছর মনে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় মরদেহটি তার মায়ের নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির পরনে তখন গোলাপি রঙের সালোয়ার; গায়ে সুতির ছাপা গোলাপি, কালো-বেগুনি ও কমলা রঙের কামিজ এবং গলায় গোলাপি রঙের ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘মরিয়ম মান্নান ওই মরদেহটি তার মা রহিমার দাবি করলেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে মরদেহ শনাক্তে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করা প্রয়োজন।’


ঢাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ, চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর–শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ–ছিনতাই চক্রের ৯ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।

পুলিশের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে সাদমান সাকিব রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। আসার পর তিন থেকে চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল আনতে বাজারে যান ওই সময়টায় তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। বিশেষ করে যারা একা থাকত তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। তিনিসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ফজলুল করিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


নারী কারারক্ষীর সঙ্গে কথোপকথন ভাইরাল: কিশোরগঞ্জের জেল সুপার স্ট্যান্ড রিলিজ

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১৯:৪৩
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

নারী কারারক্ষীর সঙ্গে অনৈতিক প্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. দিদারুল আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) কারা অধিদপ্তরের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে মো. দিদারুল আলমকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কারা প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কারাগারের হসপিটালাইজড প্রিজনার্স সিকিউরিটি ইউনিটের কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল করিমকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এক নারী কারারক্ষীর সঙ্গে জেল সুপার দিদারুল আলমের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

অডিওটিতে তিনি ওই নারী সহকর্মীর সঙ্গে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


কাপাসিয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক সিদ্দিকী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী (বার. এট-ল) পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে এসে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে কাপাসিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিদর্শন করতে আসলে তাঁকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জেলা পরিষদ কর্তৃক কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনে আসেন প্রশাসক মহোদয়। সকাল ১০ টায় কাপাসিয়া সরকারি ডাকবাংলোয় পৌঁছালে তাঁকে প্রথমে অভ্যর্থনা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, আকরাম হোসেন রিপন, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আনিসুল ইসলাম, তপন বিশ্বাস প্রমুখ।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর আগমনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে আসেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু,

বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, বিএনপি নেতা মীর মাসুদ করিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মতিউর রহমান মতি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, মহিবুর রহমান, মোঃ ফরিদ শেখ, আ ন ম সফিকুল ইসলাম জেকি, ছাত্রদল নেতা সোহাগ প্রমুখ। পরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করেন।


ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশ: চকরিয়ার ওসি মনির হোসেন কে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চাকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)'র বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি, কক্সবাজারের এসপিকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিশেষত দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে, ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি চকরিয়া থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনার জন্য চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির পরিচয়, ছবি কিংবা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যা দ্বারা তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তা আইন, মানবাধিকার এবং ভিকটিম সুরক্ষার নীতিমালার পরিপন্থি। হাইকোর্ট বিভাগ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ভিকটিমদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থি, ভিকটিমের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী এবং দায়িত্বহীন আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এবিষয়ে চাকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের ছবি চকরিয়া পুলিশ স্টেশন নামে একটি ফেইসবুক আইডিতে প্রকাশিত হয়েছে জানতে পেরেছি। এই যদি হয়ে থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক। আমি এখনো দেখিনি দেখে জানাচ্ছি।


খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১৮:১৫
খুলনা ব্যুরো

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার করা মানুষ খেকো সেই কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে কুমিরটিকে স্থানান্তর করা হয়।

জানতে চাইলে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

হস্তান্তরকালে খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল বুধবার (০৩ জুন) সকালে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

“দলটি কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে এবং এটিকে ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় ও প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে,” বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে, বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুরের কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তীর্থস্থানে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুকুর থেকে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সোমবার (০১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন পুকুরে গোসল করার সময় ৮ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে তাকে জলের নিচে টেনে নিয়ে যায়।

পরে, মঙ্গলবার (০২ জুন) ভোরে মন্দির সংলগ্ন পুকুরের মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েন।


খুলনায় রাশেদ হত্যা: কিলিং মিশনে থাকা তিন যুবক গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি ইমরান পলাতক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা নগরীর লবণচরা থানার এলাকার আলোচিত রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করছে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।

এর আগে গত রাতে নিহতের বাবা আনিছুর কাজী বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ।

লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে নিহত রাশেদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করেন। যারা এ হত্যা মিশনে অংশ নিয়ে ছিল। বাকী ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রাতে এ মামলার এজাহার নামীয় তিনজন আসামিকে খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

নিহতের ভাই রাইসুল কাজী বলেন, মাদক কারবারি ইমরান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে রাশেদ বিয়ে করে। যা নিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এর আগে একবার আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইমরান। সে সময় পরিবারের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরও থেমে থাকেনি ইমরান। একের পর এক পরিকল্পনা করতে থাকে রাশেদকে হত্যার জন্য।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালেও এমন একটি ফাঁদ পাতে ইমরান। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ছোট ভাই খুন হয়।

তিনি আরও বলেন, ফার্মেসীতে দুঘর্টনায় তাদের এক বন্ধু আহত হয়েছে বলে নাটক সাজায়। যে রাস্তায় আমার ছোট ভাই রাশেদের যাওয়া নিষেধ সেই রাস্তায় রাশেদকে ডেকে নেয় তারই ছোট ভাই মুসা গাজী। সেখানে নেওয়ার পর ইমরানকে খবর দেয় উপস্থিত থাকা একটি গ্রুপ। রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর শেষ সময় মিরাজ নামে এক যুবক ফোন করে রাশেদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানায়। ভাই আহতের ঘটনা শুনে আমি লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটায় উপস্থিত হই।

সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ তাকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু কোপানোর সময় কেউ তাকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি। পুলিশ রাতে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা সকলে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।

এদিকে বুধবার (০৩ জুন) দুপুরের পর রাশেদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আছরের নামজের পর জানাযা শেষে মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।


জীবননগরে পারদ ছুঁলো ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: তীব্র গরমে ব্যাহত জনজীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৩ দিন) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা জুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।

প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।

প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।


কাপাসিয়ায় দিনব্যাপী ‘গ্রাম আদালত’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় 'গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন' বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৩ জুন) সকালে পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

"অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে-চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১ টি জেলার মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও অফিস কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাশ ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন শামীম, আব্দুল কাইয়ুম, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আকরাম হোসেন রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিব খানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় জানানো হয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানজী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারে মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।

দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১'শ ২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


চকরিয়ায় আইনজীবীর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর  পেটে বন্দুক ঠেকিয়ে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টুর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

আজ বুধবার (৩ জুন) ভোর চারটার দিকে পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু।ডাকাতির দিন তিনি পৌরসভার বাটাখালীস্থ তাঁর নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলেন। তাঁর দুই সন্তান ও ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সে সুবাদে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে । এরপর বাড়িতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, তাঁর সন্তান ও গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ নগদ টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমি চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালীস্থ নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলাম। আমর দুই পুত্রসন্তানও বাড়ির বাইরে ছিলো। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে ডাকাতদল আমার বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এ এসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতদের সনাক্ত পূর্বক দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেন। এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান।


পটুয়াখালীর লোহালিয়ায় গ্রামবাসীর সাথে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরীর মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন ) সন্ধ্যায় পাজাখালী গ্রামে তার নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় লোহালিয়া ইউনিয়নের অনেক সম্মানিত ও রাজনীতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সবসময় আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকবো। আমি লোহালিয়া ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, মডেল ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি


বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে|
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়| র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা|
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা|
সেসময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি জন¯^াস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি| বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা| পাশাপাশি তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান বক্তারা|
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন|



মহেশপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)| আটককৃক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামসুল মন্ডলের ছেলে|
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৪১-আর থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাঙ্গা বেনাপোড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে|
অভিযানকালে মো. রফিকুল ইসলামকে তার ঘাসক্ষেত থেকে আটক করা হয়| এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়|
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|


প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে জীবনযুদ্ধে আজগর আলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী আজগর আলী (৫৮) জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই সংগ্রাম করে চলেছেন।

ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার দুই পা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে চলাফেরা করতে হয় বেয়ারিংয়ের তৈরি একটি গাড়িতে ভর করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো থেমে থাকেননি।

আজগর আলীর মা-বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই। চার ছেলে নিয়ে তার সংসার। দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে শারীরিক অসুবিধার কারণে সেই দোকানটি তার মেজো ছেলে পরিচালনা করছেন। নিজেও একটি ছোট সবজির দোকান দিয়ে সংসারের আয়-রোজগারে সহযোগিতা করছেন। তবে ব্যবসা সবসময় ভালো যায় না। কোনো কোনো দিন প্রায় ৫০০ টাকার মতো লাভ হয় বলে জানান তিনি।

আজগর আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছি। পরিবারকে নিয়ে কোনো রকমে চলছি। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার পেলে আমার চলাফেরা অনেক সহজ হতো। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি কিনতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমার অনেক উপকার হবে।"

তার চার ছেলের মধ্যে দুইজন এখনও পড়াশোনা করছে। একজন মাধ্যমিক এবং অপরজন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর সরদার বলেন, “আজগর আলী অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে পরিবার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষ তার পাশে দাঁড়াক, যাতে তার জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হয়।"

স্থানীয়দের মতে, কঠিন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আজগর আলীর জীবনসংগ্রাম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে তার দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।


banner close