র্যাব হেফাজতে নওগাঁর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের (৪০) মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তার ছেলে, ভাই, মামা, বাড়িওয়ালা এবং দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল।
সোমবার বেলা ৩টা থেকে তদন্ত দলের সদস্যরা তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলে বের হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সার্কিট হাউস চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক মন্টু ও তার ভাই সুলতান মাহমুদ। তদন্ত দলের আমন্ত্রণে আসা অন্যদের তখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।
নাজমুল হক বলেন, ‘জেসমিনকে আটকের পর নওগাঁ হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন কী কী ঘটেছে তার বর্ণনা আমাদের কাছ থেকে শুনেছেন। এ ছাড়া জেসমিনের বাসা থেকে জেসমিন ও মামলার বাদী এনামুলের মধ্যকার বিভিন্ন অঙ্কের টাকা লেনদেনের কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত দলের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে যে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে, আশা করছি, তারা নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।’
জেসমিনের ভাই সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আটকের আগে আমার বোন সুস্থ ছিলেন। র্যাব আটকের পর অসুস্থ হন এবং তাদের হেফাজতে চিকিৎসা চলা অবস্থায় মারা যান। এ জন্য আমি র্যাবকেই দায়ী মনে করি। আশা করি, প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হবে।’
হাইকোর্টের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খানকে। কমিটি সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, নওগাঁর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নওগাঁর পুলিশ সুপারের মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
র্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের একটি দল ২২ মার্চ সকালে জেসমিনকে আটক করে। স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক মো. এনামুল হকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নিয়েই র্যাব এ অভিযান চালায়। আটকের পরের দিন ২৪ মার্চ সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন মারা যান।
জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। ওপরে তপ্ত সূর্য, নিচে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে হাঁসফাঁস জনজীবন। আর এই তীব্র গরমে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। জেলা সদরসহ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তার মোড় ও পর্যটন এলাকাগুলোতে এখন দারুণ কদর বেড়েছে মৌসুমি এই ফলের। গরমে একটুখানি স্বস্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় করছেন তালশাঁসের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। এতে করে গরমের তীব্রতায় যেমন বেড়েছে এই ফলের চাহিদা, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহরের সিলেট রোড, শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট রোড এবং কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে ভ্যানগাড়ি ও ফুটপাতে অস্থায়ী স্টল সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে এই কচি তালশাঁস বিক্রি। তীব্র গরমে ক্লান্ত পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ ক্ষণিকের স্বস্তির খোঁজে এখানে এসে ভিড় করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয় এই ব্যবসা। গ্রামাঞ্চল থেকে সরাসরি আস্ত তাল পাইকারি দরে কিনে এনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কেটে কেটে বিক্রি করা হয়। একটি তালে সাধারণত ৩ থেকে ৪টি শাঁস পাওয়া যায়। স্থান ও আকারভেদে তালের শাঁসের দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে; খুচরা মূল্যে প্রতি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকা। আস্ত তাল ছোট হলে ৩০ টাকা এবং বড় হলে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা গ্রামের গৃহস্থদের কাছ থেকে আকার ও তালের সংখ্যাভেদে একটি গাছের ফল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় কিনে থাকেন। পাইকারিতে প্রতি পিস তাল ১০ থেকে ২০ টাকায় কেনা পড়ে।
শ্রীমঙ্গল শহরের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘গরম বাড়ার পর থেকে বিক্রি অনেক বাড়ছে।’ উকিলবাড়ি রোড এলাকার আরেক বিক্রেতা জমসেদ আলী জানান, প্রতিদিন তিনি ২০০ থেকে ২৫০টি তাল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, জেলা শহরের সেন্ট্রাল রোডের বিক্রেতা আব্দুস সামাদ জানান, পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে প্রতিদিন তার ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে।
কৃত্রিম বা রাসায়নিকযুক্ত পানীয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সতেজ এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। মৌলভীবাজারে ঘুরতে আসা বিভিন্ন পর্যটকরা তালশাঁস খেয়ে বলেন, ‘গরমের এই সময়টায় প্রায় প্রতিদিনই তালশাঁস খাই, পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাই।
রিকশাচালক শহিদ মিয়া বলেন, ‘দুপুরের কড়া রোদে রিকশা চালাইয়া যখন জান যায় যায় অবস্থা, তখন দুই-তিনটা তালের শাঁস খেলে শরীরটা অনেক ঠাণ্ডা হয়, কলিজা জুড়ায়।’ গৃহিণী নাজমিন আক্তার ও ব্যবসায়ীর শাহেদুল ইসলাম জানান, কৃত্রিম কোমল পানীয় থেকে শিশুদের জন্য এই ফল অনেক নিরাপদ। এর ভেতরের মিষ্টি পানি ও নরম শাঁস শিশুদের শরীরকে সতেজ ও ঠাণ্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গরমের এই সময়ে কৃত্রিম পানীয় বর্জন করে বেশি বেশি প্রাকৃতিক ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাজেদুল কবির বলেন, ‘তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা এই তীব্র গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ এবং বি-কমপ্লেক্স। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা কমায় এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।’
স্থানীয় বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, গরমের এই তীব্রতা আরও কিছুদিন বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা ও বিক্রি আরও বাড়বে। জ্যৈষ্ঠের এই ফল একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ক্লান্তি দূর করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপার্জনে যোগ করেছে এক নতুন গতি।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী সব ধরনের মৎস্য আহরণের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর এক যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ করেছে।
কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে পটুয়াখালী সদর থানায় টোল প্লাজাসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া একটি সন্দেহভাজন যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় যৌথ দল। এ সময় বাসটি থেকে আনুমানিক ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৪,০০০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ এবং ১,৮০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে বাসের ড্রাইভার ও হেল্পারদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জব্দকৃত সমস্ত মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়ায় সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং ট্রেনের বিলম্বের কারণে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড্ডার মোড় এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়।
যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তের কড্ডার মোড় এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। বাস ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকে বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ভাড়ার অস্বাভাবিক চাপও তাদের সমস্যায় ফেলেছে।
চন্দ্রা এলাকার একটি গার্মেন্টে কর্মরত যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও তিনি এখনো গাড়ি পাননি। তিনি বলেন, ‘ট্রাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া চাইছে, বাসে ৭০০-৮০০ টাকা। কিন্তু ব্যাগ থাকায় অনেক বাস নিতে চাইছে না।
একই স্থানে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার কথা জানান আরেক যাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘মিরপুর যাওয়ার জন্য সকাল থেকে বসে আছি। এখন ভাড়াটা বিষয় না, সিটই পাওয়া যাচ্ছে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে কড্ডার মোড় এলাকায় শত শত যাত্রী একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েন।
যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও গতি ছিল ধীর।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ঢাকায় পৌঁছাতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে, সেখানে এবার যাত্রা অনেক দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। পাবনার বেড়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রী খাইরু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকাল ৯টায় রওনা দিয়ে যমুনা সেতু পার হলাম বিকেল ৪টার দিকে। এখনো ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিশ্চিত নয়।’
ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া ও দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রেলপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। কিছু ট্রেন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে।’
জামতৈল স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী শামছুল আলম জানান, ট্রেন ধরতে দুপুরের পর থেকে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বিলম্বের কারণে ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসটির মূলত যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে সেটি দ্রুতগতিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ঢালায় সজোরে আঘাত করে। এর ফলে ফেরির ঢালা ভেঙে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ঘাটে বা ফেরি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, তা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো অব্যবস্থাপনা বা ত্রুটি তাঁদের নজরে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার কারণেই ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আজ একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বাসে অনেক সময় অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রী থাকার কারণে তাদের নামানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও প্রশাসন এই নিয়মটি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে পার করার এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসের চালক ও হেলপার সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের অসতর্কতা কিংবা ফিটনেসের কোনো সমস্যা ছিল কি-না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে।
দেশজুড়ে যখন মধুমাসের ফল লিচুর সুবাস ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু চাষিদের চোখে-মুখে চরম বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছিল এবং চাষিরা লাভের বড় স্বপ্ন বুনেছিলেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তীব্র তাপপ্রবাহ আর অনাবৃষ্টি সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। কড়া রোদের কারণে গাছে থাকা লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
সারাদেশের মধ্যে দিনাজপুরের পরেই লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী। বর্তমানে এই উপজেলায় রসালো বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের ধুম চলছে। ঈশ্বরদীর বৃহৎ লিচুর হাট জয়নগরে গিয়ে দেখা যায়, পাকা টকটকে রসালো লিচুর ডালি নিয়ে সারি সারি চাষি বসে আছেন। তবে বাজারের এক কোণায় লক্ষ্য করা গেছে রোদে চামড়া পুড়ে যাওয়া কালচে লিচুর স্তূপ।
হাটে যেখানে ভালো মানের সেরা বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এই বিবর্ণ লিচুর দাম মিলছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
লিচু চাষি নাজমুল হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল কাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে লিচু শুধু কালচে হচ্ছে না, গাছ থেকে ঝরেও পড়ছে। এই দাগি লিচুর কোনো ক্রেতা নেই, বাধ্য হয়ে খরচের টাকা তুলতে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর প্রমানিক বলেন, ‘হঠাৎ এই তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা বাজারে লিচুর আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
‘নিজের আঙিনা নিজে পরিষ্কার রাখি’‘সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ি’ —এই প্রতিপাদ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পিরোজপুরে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পুকুরটির ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জনসাধারণের কাছে এটি ‘হুজুরের বাড়ির পাশের পুকুর’ হিসেবে পরিচিত। পৌরসভা এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বহু মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় জলাশয়টি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমরা পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এটি পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি”।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় শক্তি। নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলার সবকটি পুকুর পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করবো”।
পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেলা পরিষদ প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।তারা বলেন এই পুকুরটি পরিষ্কার হলে প্রায় এক হাজার পরিবার পুকুরের পানি ব্যবহার করে উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ অভিযানের আওতায় পিরোজপুর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট ১১২টি পুকুর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পরিষ্কার করা হবে।
একসময় মনের ভাব প্রকাশ করা এবং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। আর সেই চিঠি আদান প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিল লাল রঙের পোস্ট বাক্স। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই দেখা যেত ডাক বিভাগের এসব পোস্ট বাক্স। মানুষ প্রিয়জনের খোঁজ খবর নিতে সুখ দুঃখের কথা ও জরুরী বার্তা পৌঁছে দিতে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্স ব্যবহার করত। মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল চিঠি।
আর সেই হাতে লেখা চিঠি হলুদ খামে ভরে আঠা লাগিয়ে মুখ বন্ধ করে ফেলা হত লাল রঙের পোস্ট বাক্সে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারে চিঠি লেখার প্রচলন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আগের মত পোস্ট বাক্স এখন আর দেখা যায় না। যা দুই একটা দেখা যায় সেগুলোর করুন অবস্থা।
চিঠির আদান-প্রদান মানব সভ্যতার খুবই প্রাচীন একটি যোগাযোগ পদ্ধতি। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া এবং মিশর অঞ্চলে লিখিত বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। তখন মাটির ফলক, প্যাপিরাস বা অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে চিঠির প্রচলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সংগঠিত ডাক ব্যবস্থার সূচনা হয় প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। প্রাচীনকালে বাংলায় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা ছিল যার নাম ছিল "পাইরা ডাক " ব্যবস্থা।
পরবর্তীতে মানুষের প্রয়োজনে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্সকে বেছে নেওয়া হয়। আধুনিক ডাক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রায় ২৫০০ বছর আগে। বর্তমানে সেটাও এখন বিলীনের পথে। আগে পোস্ট বাক্সে হাত দিলে থরে থরে উঠে আসতো চিঠি। একজন পোস্টম্যান কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে সাইকেলে করে চিঠি গুলো পৌঁছে দিতেন ঘরে ঘরে। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি লেখার সেদিনগুলি।
তাইতো কালের সাক্ষী হয়ে অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে মাগুরা সদরের প্রধান ডাক ঘরের সামনে লাল পোস্ট বাক্স টি। আবার কিছু কিছু এলাকায় ডাক বাক্স সংরক্ষণ করা হয়েছে ঐতিহ্যের স্বারক হিসেবে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় পোস্ট বাক্স ছিল মানুষের আবেগ অনুভূতি প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। ডাক পিয়োনের অপেক্ষায় দিন গুণতেন অনেকেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পোস্ট বাক্সের গুরুত্ব কমে গেলেও এটিকে দেশের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা মনে করেন, পুরনো পোস্ট বাক্স গুলো সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের পুরাতন যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং অতীতের স্মৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে।
মাগুরার প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মুকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রযুক্তির কারণে এখন চিঠি লেখা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অফিসিয়ালি কিছু চিঠি কাউন্টারে জমা হয় কিন্তু পোস্ট বাক্সে সাধারণ চিঠি আসার কথা থাকলেও তেমন একটা আসে না।
মাগুরা প্রধান ডাকঘরের একাউন্টেন্ট কামরুজ্জামান জানান, এখন বেশি রেজিস্ট্রি চিঠি আসে। সাধারণ চিঠি আসে না। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মনের ভাব আর আগের মতো প্রকাশ হয় না।আগে যেমন মানুষ অনেকদিন পর পর চিঠির মাধ্যমে একে অপরের খবর নিত এখন আর সেগুলো হয় না। হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় আগের মত মানুষে মানুষে সেই আন্তরিকতা এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।
বর্তমানে শিশুদের কাছে ডাক বাক্স সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলতে পারেনা এটা কি। তাই স্থানীয়দের দাবি, হারানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মাগুরার ডাকবাক্স সহ অন্যান্য জায়গার ডাকবাক্স গুলো নতুন করে সংরক্ষণ করা হোক। যেন নতুন
প্রজন্মরা এটা দেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী -৬ (হাতিয়া) আসনের সাংসদ হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান,রিফাত ও মাহিম সেইফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেইফ করছি। তখন তাদের সব গুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করছি। তার কারণে হান্নানের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সাথে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে তার অনুসারীদের আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, তার ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।
ছাত্রদল নেতা গাফফার অভিযোগ করে আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোন বক্তব্য না দেয়। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।
হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মি করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সে গুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারিনা। আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব। পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে। যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কি করতে পারে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার, ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙ্গে যায়। কে মারছে কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাস চাপায় স্বামী স্ত্রীসহ অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার ( ৫ জুন ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুলতলা গ্রামের ফজিলা খাতুন (৪৫), তার স্বামী মোতালেব সরকার (৫৫) এবং অটোভ্যান চালক নরুল হক (২৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিহত দম্পতির মেয়ে তামান্না খাতুন (১৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন নিহত হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা এক্সপ্রেস বাসের সামনে গিয়ে পড়ে। মূহূর্তে বাসটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে তিন যাত্রী নিহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আহত হয় তামান্না খাতুন নামে এক যাত্রী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাড়ে ৭শ কেজি নকল কিটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে। নকল কিটনাশক তৈরী ও মজুদের দায়ে এক নারীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের প্রামানিকপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহির উদ্দিনের ভাই প্রামানিকপাড়ার মো. ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫) ও ছেলে নুর মোহাম্মদ নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে নকট কিটনাশক তৈরী করে বিভিন্ন কোম্পানীর মোড়কে বাজারজাত করে আসছে। এই খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার আরেফিন সিদ্দিকের তথ্যানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা অভিযান চালান।
এসময় ওই বাড়িতে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় হাতে নাতে সাজেদা বেগম কে বালি, ইটের গুড়া ও রং দিয়ে নকল কিটনাশক তৈরী করা অবস্থায় পাওয়া যায়। একইসাথে ঘরে প্যাকেটজাতকৃত ৩০০ কেজি আর বস্তায় রাখা খোলা অবস্থায় সাড়ে ৪০০ কেজি নকল কিটনাশক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সাজেদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট। আর জব্দকৃত নকল কিটনাশক নিয়ে আসে কৃষি বিভাগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ মূলত: মহির মেম্বারের প্রশ্রয়ে তার ভাতিজা অটোচালক নুর মোহাম্মদই এই কিটনাশক তৈরী করে বিক্রি করেন। অভিযানকালে সে বাড়িতে থাকলেও প্রশাসন শুধু তার মায়ের কথা অনুযায়ী জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তাদের তৈরি নকল কিটনাশক ব্যবহার করে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন। এর সাথে সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠিত কিটনাশক ও সার ব্যবসায়ী জড়িত। প্রশাসন তথা কৃষি বিভাগ বিষয়টা জানলেও মূল হোতাদের ধরছেন না আর ধরলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। পাশাপাশি নকল কিটনাশকগুলো নদীতে ফেলে এবং মোড়কগুলো আগুনে পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত কিটনাশকগুলেঅ বসুনিয়াপাড়া ব্রিজের নিচে খরখরিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্যাকেটকৃতসহ অব্যবহৃত অবস্থায় প্রাপ্ত মোড়কগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মুলত: আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এখানে সম্পূর্ণ নতুন করে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। আর এগুলো এখনো বাজারে যায়নি। তাই কৃষকের হাতেও যায়নি এবং কোন প্রকার ক্ষতিই হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নকল কিটনাশকে মূলত: কোন প্রকার রাসায়নিক বা কিটনাশকের কোন উপাদান নাই। শুধু বালু, ইটের গুড়া আর রং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই এগুলো নদীতে ফেলায় কোন দূষণ হওয়ার আশঙ্কা নেই। সেকারণেই সেগুলো নদীতে ফেলে নষ্ট করা হয়েছে। পরিবেশ দূষনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্যাকেটগুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে আরও বেশি ক্ষতি হতো।
অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, নকল কিটনাশক তৈরির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে একজন নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত খোলা ও প্যাকেটজাত নকল কিটনাশক জব্দ করে কৃষি কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা এগুলো ধ্বংস করার কথা। তবে খোলা জায়গায় পলিথিনের মোড়ক পোড়ানো বা নকল কিটনাশক নদীতে ফেলা দেওয়া ঠিক হয়নি।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (ঠেলে পাঠানোর) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ—এমন অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।’
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট হতে আজ সকাল সারে ৯ টার দিকে এসবি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির রেলিং ভেঙে নদীতে পরে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া হতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট - ১৫-৫৬৪৯।
করবী অক্সফাম নামের একটি ছোট ফেরিতে ওঠার সময় ওই বাসটি থেকে সকল যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয় বলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাসটিতে থাকা সহকারী (হেলপার) সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের উপর পড়ে যায়। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটি সহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বেরিয়ে সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ২ ঘন্টা পর বেলা পৌনে ১২ টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরি ঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি ৭ নং ঘাটের পন্টুনে দাড়িয়ে একজনের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান এসবি পরিবহনের ওই বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যান্যরা বাসটি হতে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির রেম বা ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম নিজের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বলেন, "আমি ও আমার পরিবার সকাল ৭টার সময় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে এস বি পরিবহনের এই বাসে চড়েছিলাম। যদিও বাসটি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি মহান আল্লাহ্ পাক স্বয়ং পুলিশ পাঠিয়েছে যে আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিতে।
আমরা নামার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে গেছি, কারণ ওই সময় বাসে চালক ছাড়া কোনো যাত্রী ছিলেন না।"
বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন জানান, বাসটিতে মোট ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ওঠেন ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সকল যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রানহানির হাত থেকে আমরা বেঁচে যাই।
গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট হতে সকাল সোয়া ৭ টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ি। এর আগে বাসের ইন্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যায়। এ ছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোন লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। পরে স্হানীয়রা আমাকে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাদের দুজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এদিকে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্হলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসি'র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ সালাউদ্দিন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্হিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্ট সহ সকল যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করব এভাবেই ফেরিতে উঠা-নামার আগে বাস হতে সবাই নেমে যাবেন।
বেলা পৌনে ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদের সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটিকে টেনে উপরে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এর ভেতরে কোন মানুষ ছিল না বলে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ডুবিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কের পৃথক দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা, শিশুসন্তান ও চালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশহর এলাকা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশ্বর এলাকায়। কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসার মিয়া তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সরাইল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি দ্রুতগামী মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে চালকসহ একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অটোরিকশা চালক মাহবুব, যাত্রী জোসনা বেগম ও তার পাঁচ বছরের ছেলে আশরাফুলের মৃত্যু হয়। আহত কাউসার মিয়া ও তার চার বছরের মেয়ে আদিবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সকাল ৬টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া বাজার এলাকায় প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. অলি মিয়া (৫৫), তিনি সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বরইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সরাইল বিশ্বরোডগামী অটোরিকশাটিতে থাকা অলি মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে। তবে ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির চালক ও সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই দুটি দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।