চট্টগ্রামের চন্দনাইশের কাঞ্চননগরে পাহাড়ের বনজ-ফলদ গাছ ধ্বংস করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দুটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে একটি হলো জোয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন আহমেদ রোকনের এসএবি নামক ইটভাটা।
গত সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে ইটভাটা দুটি গুঁড়িয়ে দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিমরান মোহাম্মদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক উর্মি সরকার।
জানা যায়, হাইকোর্টের রায় অমান্য করে প্রভাবশালীদের মদদে টিকে ছিল ইটভাটা দুটি। প্রশাসন বারবার অভিযান চালিয়েও তাদের অবাধে কৃষি জমি ও পাহাড় কাটা এবং ফলদ বাগান উজাড় করার ধংসযজ্ঞ থামাতে পারছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২১ মে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এলিনা খান পরিবেশ ধ্বংসকারী এসব অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে চন্দনাইশের কাঞ্চননগরে অভিযানে নামে।
এলিনা খান পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর ক্ষতিকর এসব ইটভাটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে দোষীদের নামমাত্র জরিমানা করে বৈধতা দানের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ওই আইনি নোটিশ দেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক, চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওসি বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহসান হাবিব (৪৬) নামের এক ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে শেরপুর গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান হাবিব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ধনারুহা গ্রামের আবেদার রহমানের ছেলে। তিনি শেরপুর ষ্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসাবে কর্মরত ছিলেন
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চান্দাইকোনা এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে বের হওয়ার সময় আহসান হাবিব রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক থামানোর পর পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বাস ট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি তার ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইছ উদ্দিন জানান, বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে রাত ১টার দিকে পারাপারের সময় খাদিজা খাতুন (৩৯) নামের এক নারী প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এছাড়া রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের দশ মাইল এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরো চারজন আহত হয়েছেন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন জানান, লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আইন অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে থাকাকালীন সামিকুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। রাত ১২টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে পৌঁছানো হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন ভোরের দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ সামিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, “সামিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডাযাবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেলে ভর্তিও ছিলেন।” তিনি আরও জানান যে, সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পরপরই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে পুলিশ স্কোয়াডের মাধ্যমে রংপুরে পাঠানো হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে বিএনপির একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই কার্যালয়টি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, দুর্বৃত্তরা শেষ রাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে, যার ফলে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুসহ উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ছবি ভস্মীভূত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সময় নিকটস্থ একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রহরী হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ খলিল জানান, ফজরের নামাজের আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য মারধরের হুমকি দেয় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি কার্যালয়টিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। এই নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, “রাতের আঁধারে আমাদের কার্যালয়ে হামলা করে বিএনপিকে ভয়ভীতি দেখানোর দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। নবনির্বাচিত এমপি দিপু ভুঁইয়ার বিজয়কে যারা মেনে নিতে পারেনি, তারা এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে।” রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পরাজিতরা ষড়যন্ত্র করলেও আমরা উসকানিতে পা দেব না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন জানিয়েছেন যে, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, “তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে তালাকপ্রাপ্তা বিবি জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জহুরাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার তাঁর স্ত্রী জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক প্রদান করেন।
উক্ত মানবিক সহায়তা প্রদানকালে ফেনী-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, মশিউর রহমান বিপ্লব, আবু তালেব, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, ফেনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, সদস্য আহসান সুমন এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, “ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই নারীকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে, তা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা ভুক্তভোগী এ পরিবারের পাশে থাকব। পরবর্তীতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
সহায়তা প্রদান শেষে আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তার স্বামী আমাদের দলের কেউ নন। তবুও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে থাকা। আগামীতেও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার তাগিদে বিএনপি এই পরিবারের প্রতি ভবিষ্যতে আরও সমর্থন ও সহায়তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ফাহিম হাসান নামের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিম বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। ফাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হোক।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফাহিম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তনয় তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ফাহিম গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, অভিযুক্ত তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল।
নিহতের রাজনৈতিক অবস্থান ও পূর্ববর্তী ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফাহিমের বোনের স্বামী মো. সেতু মিয়া জানান, ‘এর আগে তনয় তাকেও ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ ছিল।’ ব্যক্তিগত শত্রুতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে ককটেল তৈরির সময় এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ভোররাত পাঁচটার দিকে ইউনিয়নের পাঠাপাড়া গ্রামের একটি বসতবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে সংশ্লিষ্ট বাড়িটির ইটের দেয়াল ধসে পড়েছে এবং চালের টিন কয়েকশ ফুট দূরে ছিটকে গেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহ মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিতে কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, পাঠাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. কালামের বাড়িতে গোপনে ককটেল তৈরির কাজ চলছিল। কাজ চলার এক পর্যায়ে সেখানে হঠাৎ করে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজনের প্রাণহানি ছাড়াও আরও তিনজন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। আহতরা হলেন পাঠাপাড়া গ্রামের মিনহাজ (৫২), বজলুর রহমান (২০) এবং রানীহাটি এলাকার মো. শুভ (২০)। বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চরবাগডাঙ্গা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। সদর থানার ওসি জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ওই বাড়িতে ককটেল তৈরির পেছনের কারণ এবং এর সাথে কারা জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সড়কের চৌরাস্তামোড় এলাকায় এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে। নির্বাচনী ডিউটি সম্পন্ন করে ২৩ জন সদস্যকে বহনকারী একটি বাস গন্তব্যে ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের রেলিংয়ে উঠে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মো. আব্দুল জব্বার নামের এক আনসার সদস্য, যার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এবং তিনি চট্টগ্রামে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনায় বাসে থাকা আরও বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম বিএনএস হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং সাতজন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কর্তব্যরত অবস্থায় সহকর্মীর এমন অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি নিহত সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য যে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে ৫ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি আনসার সদস্য নিয়োজিত ছিলেন, যাদের মধ্য থেকেই একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আব্দুল জব্বার দায়িত্ব পালন করছিলেন। মূলত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে। জানা গেছে, ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি।
আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, যে কোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রহমতের বিল এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটকরা হলেন, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে নুরুল আমিন (৩২), রহমতের বিল গ্রামের আহমেদের ছেলে জানে আলম (৩৫) ও কক্সবাজার সদর পৌরসভার শফিক আহমদের ছেলে সোহেল রানা (২৬)।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একে-২২ রাইফেল, একটি দেশীয় পিস্তল, দুটি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৮৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, দুটি কার্তুজ এবং দুটি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কবি রজনীকান্ত সেনের ভাষায়, ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।’ আবহমান গ্রামবাংলার বাসা তৈরির যে নিখুত কারিগর, কবির কালজয়ী ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার নায়ক সেই বাবুই পাখি শিল্পের বড়াই করতেই পারে।
তবে তাল গাছের সল্পতা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বাবুই পাখি নিজেই আজ অস্তিত্ব সংকটে। কালের বিবর্তনে নেই শিল্পের বড়াই। তাই আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রামবাংলার জনপদ।
অথচ মাত্র কবছর আগেও গ্রাম্য মেঠো পথ কিংবা প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে তাল গাছের পাতায় পাতায় উুঁকি দিত মন ভুলানো বাবুই পাখি ও দৃষ্টিনন্দন বাসা। তবে এখন চিরচেনা সেই ছায়া সুনিবিড় গ্রামাঞ্চলেই বাবুই পাখি চোখে মেলানো ভার। মেঠোপথ বেয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও চোখে পড়েনা ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখি।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা থেকেও বাবুই পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। বহুদিন চোখে পড়েনা তাল গাছের পাতায় পাতায় ঝুলে থাকা নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির বাসা। আর তরুণ প্রজন্ম যেন থমকে আছে বইয়ের পাতায়। নাম শুনলেও অধিকাংশেরই পাওয়া হয়নি চোখে দেখার সাধ।
১২-১৪ বছর আগেও এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তার ধারের প্রতিটি তাল গাছ আর খেজুর গাছেও দেখা যেত দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা।
অভিজ্ঞ জনদের ধারণা, বছরের পর বছর নির্বিচারে তালগাছ নিধনে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সংকট, ফসলি জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এ অঞ্চল থেকে বাবুই পাখি বিলুপ্তির কারণ।
সাধারণত বাবুই পাখির অর্ধেক বাসা তৈরির পর স্ত্রী সঙ্গীর সম্মতি নিয়ে ৪ থেকে ৫ দিনে সম্পূর্ণ বাসা প্রস্তুতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দৃষ্টিনন্দন বাসা তৈরি করে থাকে। শুরুতেই তারা বাসার নিচের অংশে দুটি গর্ত রাখে। আর বাসা প্রস্তুত সম্পূর্ণ হলে এক দিকের গর্ত বন্ধ করে সেখানে ডিম রাখার উপযোগী করে তোলে। আর অপর দিকের গর্তটি দিয়ে বাসার ভেতরে যাতায়াত করে।
তবে স্ত্রী সঙ্গীর বাসা অপছন্দ হলে অর্ধেক কাজ ফেলে রেখে নতুন করে বাসা তৈরি করে। এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতে ঘর আলোকিত রাখতে জোনাকি ধরে নিয়ে বাসায় রাখে। সকাল হলেই তা আবার ছেড়ে দেয়।
একটি পুরুষ বাবুই পাখি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। এ কাজে তারা খড়, ঝাউ, তালপাতা, কাশ ও লতাপাতা ব্যবহার করে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম বাবুই পাখির প্রজননের সময়। স্ত্রী বাবুই পাখির তা দেওয়ার দু’ সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
তবে তিন সপ্তাহের মাথায় বাবুই পাখির বাচ্চা বাসা ছেড়ে উঁড়ে যায়। বিশ্বে ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখির দেখা মিললেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি এবং বাংলাসহ মাত্র ৩ প্রজাতির দেখা মেলে। এর মধ্যে আবার দাগি এবং বাংলা এ দুই প্রজাতির বাবুই পাখি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে দেশি বা বাংলা বাবুই এখনো দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা মনে করেন, উপজেলায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখির শৈল্পিক নিদর্শনের অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি। বাবুই পাখির অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ওই সকল পাখি শিকারিদের আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সচেতনতা ছাড়া পাখি তথা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সম্মিলিতভাবে নিজ নিজ এলাকায় সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার পূর্বাচল নীলা মার্কেট এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নীলা মার্কেট চত্বরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই মার্কেটের দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি রেস্টুরেন্ট ও ২টি মুদি দোকান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানগুলোর ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং নগদ টাকাসহ অধিকাংশ মালপত্র আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর সোয়া ৫টার দিকে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
দ্রুত চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পূর্বাচল আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করে এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এরই মধ্যে আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোটে এক জামায়াত নেতার মালিকানাধীন মৎস্য প্রজেক্ট থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও জিআই পাইপ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাঙ্গলকোটের পেড়িয়া ইউনিয়নের মগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের নিকটবর্তী ‘আল বাশারাত মৎস্য প্রজেক্ট’ থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম, ফুয়েল পেপার, সিলেকশন পাথরসহ দুই শতাধিক খালি জর্দার কৌটা এবং শতাধিক জিআই পাইপ। এই মৎস্য প্রজেক্টের মালিক হলেন ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামুন। স্থানীয়রা জানান যে, গত কয়েকদিন ধরে কিছু লোক এই প্রজেক্টে বস্তা নিয়ে যাতায়াত করছিল এবং বুধবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে করে কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর সন্দেহবশত তারা প্রজেক্টের পরিত্যক্ত ভবনে গিয়ে এসব সরঞ্জাম দেখতে পান।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালগুলো জব্দ করে। তবে এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নোমান দাবি করেছেন, “যুব বিভাগের নেতা মামুনের সম্পদ দেখে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাকির।” নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে যৌথবাহিনী জিআই পাইপসহ বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে এসব সরঞ্জাম ককটেল তৈরির কি না তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করালে বলা যাবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।”
রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোট কেনার সময় সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে হাতে-নাতে আটক করে দুই দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চালের দোকানে ভোটারদের অর্থ প্রদানকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায় যে, উক্ত এলাকায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিলি করে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় এলাকাবাসী তাকে আটকে রাখেন এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিকভাবে এই কারাদণ্ড প্রদান করেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন